শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১৫)

0
29

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(১৫)

“দোদদদোস্ত , এইবার তো শান্তিতে থাকতে দে , আমি তোকে কিছু করেছি?”
হঠাৎ ইয়াদ নওশাদ এর কাছে গিয়ে কাদো কাদো হয়ে বললো ।
নওশাদ ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো – তোর বউটা খুব ভালো রে নওশাদ, যাহ ছেড়ে দিলাম, কিন্তু ঐ মেয়েটা ক্লাবে আমার রুমে ভুলে এসে পড়েছিল, তারপর মিডিয়া কে খবর , এসবকিছু তুই করেছিস সত্যি বলবি, আর ওর বাবা যে আসলে রেয়ান চৌধুরী এটা জেনেই এসব করেছিস , বল নাহলে এবার তোর বউকে আমি আরেকজন এর সাথে বিয়ে দিয়ে দেব”

ইয়াদ ফট করে বলে ফেললো – দেখ আর্থার তুই আমার বাড়িতে থাকছিস খাচ্ছিস একটু দয়া করা উচিত, তুই আমাকে মারতে চেয়েছিলি সেটা কিন্তু কিছু মনে করিনি ”
এরপর চোরা চোখে চেয়ে বললো- না মানে এসব আমিই করেছিলাম ।

নাবিলা চিল্লিয়ে উঠলো – ইয়াদ এসব কি? আপনি আমাকে ঠকিয়েছেন ? তার উপর আমাকে অবিশ্বাস করে ফালতু কথাগুলো বলেছিলেন । আপনার জন্য আমি আমার সন্তান কে ছেড়ে এসেছি।

আর্থার রূপী নওশাদ সামনে কাঁচের টেবিলটার উপর দুই পা উঠিয়ে দিলো , নাবিলার দিকে তাকিয়ে বললো- এই বাটপার এর সাথে থাকার চেয়ে না থাকাও অনেক ভালো চলে যাও তুমি ওকে ছেড়ে।

নাবিলার চোখে পানি এসে পড়েছে , সে গিয়ে আর্থার এর পায়ের কাছে বসে পড়লো , করুন কন্ঠে বললো- আপনি নওশাদ না অর্থার আমি জানিনা, আমাকে আমার মেয়ে ফেরত দিয়ে দিন প্লিজ, ওকে সেদিন দেখার পর আমি এক মূহুর্তের জন্য শান্তিতে থাকতে পারিনি । আমার কলিজাটা কেউ যেন খুবলে খেয়েছে এরকম মনে হচ্ছে। আমাকে ইয়াদ যেতে দেয়নি , ওনার শর্তের জন্য আমি যেতে পারিনি, আমার যাওয়ার কোনো জায়গা নেই ভাইয়া। আমার মা একজন লোভী সে কখনোই আমাকে জায়গা দেবে না ।

আর্থার ভয়ঙ্কর দৃষ্টিতে নওশাদ এর দিকে তাকালো – ওকে চেনো তুমি? ও আস্ত একটা হারামি, কতগুলো মেয়ের সাথে যে রুম ডেট করেছে হিসেব নেই , ও তোমাকে বিয়ে করেছে তুমি ভোলাভালা মেয়ে দেখে।আমি তার সুযোগ নিলাম মাত্র।ওকে মারতে চাইলাম মরলো না পালিয়ে বেঁচে গেলো , তারপর আবার তোমাকে বিয়ে করলো আমাকে ফাঁসানোর জন্য কারন আমার এই প্ল্যান টা ভুলক্রমে ও জেনে গিয়েছিল ।

একটা ছবির খাম এগিয়ে দিলো নওশাদ, নাবিলা কাঁপা কাঁপা হাতে সব দেখলো , ছবিগুলো হাত থেকে পড়ে গেলো , ভাঙ্গা গলায় বললো -আপনারা দুজন দেখতে সেইম কীভাবে, আমাকে ইয়াদ বলেছিল পৃথিবীতে একই রকম দেখতে সাতজন মানুষ হয় , কিন্তু এতো মিল কীভাবে?

আর্থার বাঁকা হাসলো – মেকআপ এর জাদু জানো? উন্নত প্রযুক্তি! পুরোপুরি দেখতে সেইম না হলেও প্রায় সেইম বাকিটুকু জাদু।

বলেই নওশাদ এর পা বরাবর গুলি করে দিলো , নওশাদ নিচে হুমড়ি খেয়ে পড়লো , ব্যাথায় চিৎকার করে উঠল – কুত্তার বাচ্চা আমার খেয়ে আমাকেই মারতে চাস? জানোয়ার তোকে আগেই মারা উচিত ছিলো ,ক্ষমা চাইছি শালা ক্ষমা করতেও বাঁধে তোর?বাল কোন জন্মে পাপ করছিলাম যে তোর মতো হারামির সাথে দেখা হয়েছিল।

আর্থার এর হাসি পেলো ,- গর্দভ একটা পাপ তুই এই জন্মেই করেছিস । নির্বোধ কোথাকার ছাগলের মতো চিল্লিয়েই যাস সারাজীবন।

নাবিলা ভয়ে একপা পিছিয়ে গেলো , আর্থার নাবিলার দিকে এগিয়ে আসলো ধীর পায়ে নাবিলা ভয়ে পেছাতে শুরু করলো ।
আর্থার মুচকি হাসলো – আরে নাবিলা বেবি পেছাচ্ছো কেনো? তোমার মতো ভোলাভালা আপদ এর জন্য সোসাইটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।কাছে এসো তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দেই ।

নওশাদ রূপী আর্থার কে দেখতে ভয়ঙ্কর লাগছে বেগুনী চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে গেছে – আসো আসো কাছে আসো তোমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো সারপ্রাইজ দেবো আমি ।

নাবিলা ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো , নওশাদ রূপী আর্থার নাবিলার চুলের মুঠি ধরে টেনে আনলো সামনে রাগে হিসহিস করে বললো- দুধের ধোঁয়া তুলসি পাতা তুমি? , নারী জাতের কলঙ্ক, মা হিসেবে কলঙ্ক , সেদিন বিয়ের আগে নওশাদ এর সাথে বেড শেয়ার করতে বাঁধেনি যখন তখন বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে এতো অনিচ্ছা ছিলো কেন? ভাগ্যিস নূর তোদের বিয়ের পরের জন্ম হওয়া মেয়ে নাহলে ঐ মেয়ে যদি অবৈধ হতো আমিই ওকে মেরে ফেলতাম।

নাবিলা কান্না করছে ছাড়া পাওয়ার জন্য কিন্তু নওশাদ চুলের মুঠি আরোও শক্ত করে ধরেছে , এরপর একটা তীক্ষ্ণ ইনজেকশন নিয়ে নাবিলার শরীর এ পুশ করে দিলো ।
– তুমি আর কখনোই মা হতে পারবে না।নূরের বাচ্চা মনের অভিশাপ মনে করো এটা ।
কথাটা বলে হো হো করে হাসতে লাগলো নওশাদ রূপী আর্থার এরপর দৌড়ে গিয়ে রক্তাক্ত নওশাদ এর সামনে দাঁড়ালো হাসতে হাসতে বললো- তোর বউ কে তো আমি মির্জা ভিলাতেই রাখিনি তাহলে নূর আমার বাচ্চা কি করে হবে রে , এই দেখ ডিএনএ রিপোর্ট, নূর তোর মেয়ে আমিই তোকে মিথ্যা বলেছিলাম ।
বলেই আবারো পাগলের মতো হাসতে লাগলো আর্থার। নওশাদ অবাক হয়ে ডিএনএ রিপোর্ট দেখলো , অনুশোচনা করার সুযোগ দিলো না আর্থার ডান হাতে আরেকটা গুলি করে দিলো।

– তোদের মারবো না আমি , আমার আর কয়েকটা দিন ই লাগবে তারপর তোরা মির্জা ভিলায় চলে যাস , তোকে এভাবে মেরেছি কেন জানতে চাস? বলবো না আমি ।তবে জেনে রাখ এই এমপি পদ টা তুই কখনোই পাবি না ।কারন জানার কোনো দরকার নেই এতো সাসপেন্স সহ্য করতে পারবিনা তুই , টপকে যাবি ।

….
“পাপাআআআ’

চিৎকার দিয়ে হুর লাফ দিয়ে ঘুম থেকে উঠে পড়লো , সবকিছু মনে পড়তেই মাথার হিজাব খামচে ধরলো , চিৎকার করে কাদতে শুরু করলো ।ওর সব মনে পড়ে গিয়েছে,এই কয়দিন ঠিকমতো ঔষধ খাওয়াতে সব ধীরে ধীরে মনে পড়ছিল।এখন পুরোটাই মনে পড়ে গিয়েছে।

হুর কান্না করতে করতে বললো- এটা আমি কি করে ফেললাম? এই খুনিটাকেই বিয়ে করে ফেললাম, আল্লাহ আমাকে বাঁচাও এখানে থেকে ।

হুর আশেপাশে তাকিয়ে দেখলো গোছগাছ করা একটা রুম, কাউকে দেখা যাচ্ছে না ,হুর ভয়ে কাঁপছে ,বিয়ে তো হয়েগেছে এখন কি করবে ও বুঝতে পারলো না, কোনোমতে কান্না থামালো ,বসে বসে চিন্তা করতে লাগলো কি করবে ।এই রুমটা এতো ভয়ঙ্কর লাগছে কেন ওর কাছে বুঝতে পারলো না।

রুমের দড়জা ধাক্কা দিয়ে খুলতে চাইলো , দুহাতে সজোরে ধাক্কা দিতে গেলো আর ঠাস করে সামনের দিকে পরতে নিলো ।কারন কেউ একজন দড়জা টা খুলে দিয়েছে ।হুর মুখ থুবড়ে পড়লো লোকটার প্রশস্ত বুকে ।

তাকিয়ে দেখলো কালো আলখাল্লা মতোন কিছু তড়িৎ বেগে দূরে সরে এসে বুঝলো এটা ওর সদ্য বিবাহিত বর।
কোনো আলখাল্লা না বরং একটা কালো শেরওয়ানি পড়া।হুর তাকাতেই নওশাদ ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলো- এভাবে ব্যাঙের মতো লাফালাফি করছো কেনো মেয়ে ?

হুর মনে মনে ভাবলো একে বুঝতে দেওয়া যাবেনা যে ওর সব মনে পড়ে গিয়েছে জানতে পারলে যদি আটকে রাখে? অত্যাচার করে ।

– ঐ রুমের মধ্যে কেউ নেই তাই ভয় পাচ্ছিলাম। আমার রুমে সবসময় আইভি থাকতো তো তাই ।

আর্থার ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলো- এই আইভি টা কে?

হুর মিনমিন করে বললো- আমার পাখি ।

আর্থার – ওহ ।রুমে চলো ।

হুর চমকে উঠলো – কেন?

আর্থার গম্ভীর গলায়- বাসর করবো চলো ।
হুর থতমত খেয়ে গেলো , শুকিয়ে যাওয়া ঠোঁট জিভ দিয়ে ভিজিয়ে নিলো একবার – ছিঃ ছিঃ এসব কি বলছেন নির্লজ্জের মতো ।

আর্থার – কেন এখানেই বাসর করতে চাও । ইডিয়েট রুমে চলো‌ ।

হুর ভীতো্ হয়ে রুমের মধ্যে প্রবেশ করলো ,এখোনো ভয়ে কাঁপছে ।

হুর – চলুন নামাজ পড়ে নেই ।

নওশাদ থমকে গেলো নামাজ পড়বে!

রেগে হুরের দিকে এগিয়ে এলো , কষিয়ে একটা থাপ্পর মারলো হুরকে ,হুর ছিটকে পড়লো দূরে ।
আর্থার ভয়ঙ্কর ভাবে ওর দিকে এগিয়ে আসলো , হিজাব ধরে টান দিতেই হুরের মুখে আঘাত লাগলো ।
নওশাদ রূপী আর্থার রাগে ফসফস করতে করতে বললো- তোকে বিয়ে করেছি প্রতিশোধ নিতে , একদম কোনো অধিকার ফলাতে আসবিনা।আর নামাজ! আমি কোনো নামাজ পড়বো না তুই পড়।

হুরের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়তে লাগলো , ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলো – আপনি আমার সাথে এমন করছেন কেন? আমি আপনাকে কি করেছি? আমার উপর প্রতিশোধ কেন নিতে চান ?

নওশাদ রূপী আর্থার হুর কে আরোও একটা থাপ্পর মারলো যার ফলে ছিটকে গিয়ে ড্রেসিং টেবিলের কাঁচের উপর পড়লো হুর ।

চলবে কি?
রেসপন্স করবেন পরের পর্ব পেতে ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here