শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(৬)

0
30

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা(৬)
….
রেয়ানশ চৌধুরী সকালে গার্ডেন এ বসে বসে মেয়ের কথা ভাবছিল , তখুনি তার পিএ ফোন করলো ।রেয়ানশ চৌধুরী অবাক হলেন , রাকিবুল ইসলাম রেয়ানশ চৌধুরীর পিএ তার আপাতত মিশর এ থাকার কথা , এবং কথা ছিল সে রেয়ানশ চৌধুরীর সাথে দুদিন কোনো যোগাযোগ করবে না ।

বেশি চিন্তা না করে ফোনটা রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে উচ্ছাস এর শব্দ পাওয়া গেলো , রেয়ানশ চৌধুরী কথা বলতে যেন ভুলে গেলেন ।

– আসসালামুআলাইকুম স্যার আমি রাকিব , আপনার সকল শত্রুদের নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে গতকাল রাতে । এতটাই নৃশংস যা দেখে যে কারোর রুহ কেঁপে উঠবে । আমাদের কাজটা অজানা শুভাকাঙ্ক্ষী করে দিয়েছে স্যার, আপনি নিজ রাজ্যে ফিরতে পারবেন।পাখি মামুনি কেও খুঁজে বের করবো আমরা খুব শীঘ্রই।

রেয়ানশ চৌধুরী সেখানে সময় ব্যায় করলেন না , তিনি তৈরি হতে চলে গেলেন, এই বিশাল রাজপ্রাসাদ এর মতো বাড়িটায় থাকা বড়ো দুই ভাইয়ের থেকে বিদায় নিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে চললেন ঢাকার উদ্দেশ্যে। বরিশাল তার জন্মস্থান তবে এই জায়গা টিকে যেন তিনি চিরবিদায় দিতে চাচ্ছেন, আর কখনোই ফিরে আসার চিন্তা ভাবনা তাকে ছুঁলো না। অশ্রুসিক্ত নয়নে বিদায় নিলেন বড়ো ভাইদের থেকে ।

যাত্রাপথে নিজের পিএ এর সাথে খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হলো তার বিষয়টি তার মেহবুবা প্রজেক্ট টা নিয়ে ।রেয়ানশ চৌধুরী যদিও এটি নিয়ে কোনো ভাবনা চিন্তা করতে চায়নি কিন্তু রাকিবুল ইসলাম একজন দায়িত্ববান পিএ এর কাজ করেনি এই কাজের মাধ্যমে সে যেন চৌধুরী পরিবারের আরো কাছের লোক এর একজন হয়ে উঠেছে ।

রাকিবুল ইসলাম – স্যার আপনার মেয়ে যেই জায়গা থেকে নিখোঁজ সেখানের এমপি হলো নওশাদ মির্জা।………………. ভেবে দেখুন স্যার আমি সঠিক ই বলছি আপনি ভেবে বলবেন আমিও ভেবেই বলেছি জানি আপনি মানসিক ভাবে একটু অন্যমনস্ক হয়ে আছেন মামুনির জন্য তবে এর থেকে ভালো রাস্তা হতে পারে না । রাজনীতির পাওয়ার সবচেয়ে বড়ো পাওয়ার ।

রেয়ান চৌধুরী কিছুক্ষন ভাবলেন তারপর রাকিবুল ইসলাম এর মতামত কে সম্মান জানালো – আমি তোমার সিদ্ধান্ত কে সম্মান জানাচ্ছি রাকিব , আমার সাদি কে কোনোমতে কিছু বুঝতে দিও না ।আমি সব সামলে নেব । আপাতত কায়রো তুমি সামলে নাও ।

……
হুর রুমেই বসে ছিল তখনি একজন স্টাফ আসলো , দড়জা নক করে ভেতরে আসার অনুমতি চাইলো ,হুর অনুমতি দিতেই মেয়েটা সাথে আরোও দুটি মেয়েকে সাথে করে অনেকগুলো প্যাকেট নিয়ে ভেতরে ঢুকলো ।হুরের হাতে একটি ধরিয়ে দিয়ে বললো – ম্যাম এটা পড়ে দ্রুত রেডি হয়ে নিন , দুঃখিত আমি আপনাকে চয়েজ করার সুযোগ দিলাম না ,সময় খুব সীমিত।
স্যার আপনাকে দেখা করতে বলেছেন অতি দ্রুত।

হুর এই স্যার সম্বোধন করা মানুষ টা যে নওশাদ তা বুঝতেই মুখটা ভয়ঙ্কর ভেবেই চুপসে গেলো ।কাঁপা হাতে প্যাকেট টা নিলো এরপর সেটা পরে তৈরি হয়ে নিলো ।
কালো ফ্লোর অবধি লম্বা গাউন, সুন্দর একজোড়া হাতমোজা সাথে ম্যাচিং হিজাব,নিকাব ।
হুর অবাক হলো ,যে লোকটা তাকে দুদিন আগেও ভয়ঙ্কর রকমের অশ্লীল পোশাক পরতে দিয়েছিল সেই লোকটা তার পর্দা কে সম্মান করছেন।
বোকা হুর ভাবছে নওশাদ হয়তো ওকে এসব দিয়েছে পরতে ।

হুর কখনোই কোনো পুরুষ এর সামনে বেপর্দা হয়ে যাবে না তাই নিজেকে কালোতে মুড়িয়ে নিল ।টানা টানা হরিনের মতো সুন্দর তবে সবুজ মনির চোখ দুটো দৃশ্যমান রইলো।

হুর ধীরে ধীরে মেয়েটার সাথে নওশাদ এর রুমের দিকে এগুতে লাগলো , বুকের ধুকপুকানি ক্রমেই বেড়ে যাচ্ছে।হুর জানে একটা ভুল পরিচয় এ নওশাদ এর সাথে তার বিবাহ সম্পন্ন হয়েছে তবে এটা আদেশও কার্যকর হয়েছে কিনা হুর শিওর না ।তার মুখ খুলে দুটো কথা বলার সাহস নেই ।

এমন ভয়ঙ্কর খুনী ! যে ইচ্ছে করলে হুরকেও মেরে ফেলতে পারে ,হুরের ও প্রানের ভয় আছে ,ফুলের মতো বেড়ে ওঠা মেয়েটা দুনিয়া সম্পর্কে কিছুই জানা নেই তার ,তার পরিবার তার সামনে যতটুকু তুলে ধরেছে ততটুকুই কেবল তার জানা ।

নওশাদ এর রুমের সামনে যেতেই স্টাফ টা মাথা নিচু করে রুমের দড়জা খুলে দিয়ে বললো- স্যার! ম্যাম কে নিয়ে এসেছি।

নওশাদ এর গম্ভীর কন্ঠস্বর ভেসে এলো – ভেতরে পাঠিয়ে দাও ।

হুর কাপছে ,সে কিছুতেই যাবে না , এতোদূর এসে বেঁকে বসেছে , উল্টো ঘুরে যেতে নিলো । একপ্রকার পালিয়ে যেতে নিল ।মেয়ে স্টাফ টা ভয়ঙ্কর ভীত চোখ নিয়ে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইলো । কিন্তু হঠাৎ ঝড়ের বেগে একজোড়া হাত খপ করে হুর কে ধরে টেনে নিয়ে গেলো ভেতরে ।
স্টাফ বুঝলো তার কাজ শেষ তাই সে নিজের কাজে চলে গেলো ।

দড়জা টা বন্ধ করে হুরের দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ,হুর ভয়ে চোখ বন্ধ করে আছে , হাতদুটো দিয়ে জামার খানিক অংশ শক্ত করে চেপে ধরলো। হুর চোখ খিঁচিয়ে বন্ধ করে আছে কিন্তু কোনো ঝড় তুফান না আসতে দেখে প্রথমে এক চোখ খুললো ,দেখলে মনে হবে হয়তো কাউকে চোখ মারছে ।

হুর এক চোখ মেলেই দেখলো নওশাদ তার খুব কাছে দাঁড়িয়ে পকেটে হাত গুজে তার দাঁড়িতে হাত বুলাচ্ছে।
হুর আবারো চোখ বন্ধ করলো ,এই লোকটাকে দেখলো তার হৃৎপিন্ড লাফাতে শুরু করে , হুরের মনে হচ্ছে তার হৃৎপিন্ড তার কাছে থাকতে চায় না
বেরিয়ে গিয়ে এই পচা লোকটার সামনে থাকতে চায় ।

– চোখ মেলো ।
হুর একপা পিছিয়ে গিয়ে চোখদুটো আরোও শক্ত করে রাখলো যেন এটাই তার প্রধান কাজ এখন।
– চোখ মেলো মেয়ে নাহলে এক থাপ্পড় এ সব দাঁত খুলে পড়ে যাবে ।

হুর ফট করে চোখ মেললো । খুব শখের দাঁত তার ,তার মা বলে হুরের হাসি নাকি খুব সুন্দর, বিশেষ করে দাঁতগুলোর জন্য নাকি আরোও সুন্দর হয়।

হরের চোখের দিকে নজর আটকে গেলো নওশাদ এর ,কী ব্যাপার? মেয়েটা কি লেন্স লাগিয়েছে? গতকাল বা তার আগে তো খেয়াল করেনি সে !

হুর চুপচাপ থম মেরে দাঁড়িয়ে আছে ,কি করবে ও এটা করা আচ্ছা লোকটা তাকে এমন ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে যেন যে কোথাও বোমা মেরে পালিয়েছে হুর ।
নওশাদ – তো তুমি বলেছিলে তোমার নাম কী যেন ? চৌধুরী হুর মেহের ?
হুর ফট করে উত্তর দিল – মেহবুবা চৌধুরী হুর ।

নওশাদ হুরের দিকে তাকালো না গিয়ে সোফায় বসলো পায়ের উপর পা তুলে- হ্যাঁ , বিশ্বাস করলাম যাও । তারপর বলো বাড়ি কোথায়?

হুর – কায়রো ।

নওশাদ বিরক্ত হয়ে বললো- এই মেয়ে কায়রো কোথায় তার চিনো তুমি? জীবনে নাম শুনেছো?
হুর এবার খানিকটা অবাক সুরে বললো- কেন চিনবোনা ! কায়রো , মিশরের রাজধানী।
নওশাদ – বোকা পেয়েছো আমাকে? তুমি বাংলাদেশ এ কি করছো? আর তোমার বয়স বলেছো উনিশ, ফাইজলামি পাইছো? বেয়াদব উনিশ বছরে কেউ এইচএসসি পরীক্ষা দেয়?

হুর ভয় পেয়ে পিছিয়ে গেলো ,এই বান্দা তার কিছুই বিশ্বাস করছে না ,ও কি বলবে বুঝতে পারছেনা ,থমথমে মুখে বললো- দুঃখিত আমি এইচএসসি পরীক্ষা দিয়ে , কায়রোর একটি ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয়েছিলাম।

নওশাদ এর ইচ্ছা করলো নিজের গালে নিজের থাপ্পড় দিতে – মুখ খুলো মেয়ে!
হুর তড়িৎ বেগে দুপা পিছিয়ে অস্ফুট স্বরে বলল- কেন ? কেন মুখ খুলবো ? আপনি এমন শয়তান এর মতো করছেন কেন? আপনি কি আমাকে মেরে ফেলতে চান? আমি কিছু করিনি কতবার বলবো ।

হুরের গলা ক্রমশ ভেঙ্গে আসছে । নওশাদ রেগে ধমকে বললো- মুখের উপর এই লাগিয়েছিস সেটা ,খোল আর তোর চোখের লেন্স খুলে ফেল।আমাকে ফাঁসানোর শাস্তি আজ তোকে দিয়ে ছাড়বো ।

হুর জীবনেও নিজের মুখ খুলবে না ,আর ওর চোখের লেন্স খুলতে বললো ,ও লেন্স পাবে কোথায়? কান্না গলায় আটকে আসলো । নওশাদ নিজেই উঠে এসে ওর নিকাব এর ফিতা খুলে দিল ।হুরের কান্না ভেজা মুখ টা চোখের সামনে দেখে নওশাদ এর মন চাইলো ঠাটিয়ে চড় মাড়তে, কোনোকালেই নওশাদ এর ব্যাবহার ভালো ছিল না সেখানে হুরের সাথে কতদূর ই বা ভালো ব্যাবহার করবে ও।

টেনে ওয়াসরুমের সামনে নিয়ে গিয়ে বললো- সাবান দিয়ে মুখটা ঘসে ঘসে ধুয়ে আসবি ।যাহ দৌড় দে ,নাহলে খবর আছে ।
হুর ফ্যাচফ্যাচ করে কাদতে কাদতে তাই করলো । এবার নওশাদ একট তোয়ালে ছুড়ে বললো- ভালো করে মুখ মুছে চোখের লেন্স তুলে ফেল।

হুর মুখ মুছে কাঁপা কাঁপা গলায় বলল – লেন্স কোথায় পাবো , আমার চোখে আমি লেন্স ব্যাবহার করি না ।
নওশাদ – তারমানে চোখদুটো আসল ।
হুর মাথা উপরনিচ ঝাঁকালো ।

নওশাদ হুরের দিকে তাকিয়ে গভীর চিন্তায় মগ্ন হয়ে বললো- সুলতানা তুই তো আসলেই সুন্দর, ভাবছিলাম কিছু মেখে এসেছিস ‌।তোরে দেখেও বাংলাদেশি লাগছে না ।যাহ সব বিশ্বাস করলাম।

হুর পিটপিট করে তাকালো নওশাদ এর দিকে , নওশাদ চমৎকার হেসে নিজ জায়গায় গিয়ে বসলো ।- আমার সুন্দর মেয়ে একদম পছন্দ না , আমার সামনে আসবিনা, যতদিন না আমি শিওর হচ্ছি তুই সত্যি বলছিস তুই এখানে বন্দী।
হুর করুন কন্ঠে বললো- আমাকে মাম্মা পাপার কাছে যেতে দিন না ,আমি মাম্মা পাপাকে ছাড়া থাকতে পারি না ।
নওশাদ ঠোঁট কামড়ে হেসে বললো- এদিকে এসো ।
হুর গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে গেলো। নওশাদ হুরের নিচু করে রাখা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো- সুলতানা তোমাকে তো বিয়ে করেছি,তা এখন কি করবে তুমি?
হুর গভীর চিন্তায় পড়ে গেলো খাটের একপাশে আনমনে বসে পড়লো , সেভাবেই বললো- আপনার তো বউ আছে ! আমি থেকে কি করবো ? আমার পাপা বলেছে আমার জন্য রাজপুত্র এনে দিবে আপনার মতো রাক্ষস না ।

কথাটা বলে হুর জীভ কাটলো , নওশাদ ওর দিকেই তাকিয়ে আছে ,হুর চুপচাপ উঠে দাঁড়ালো এরপর দড়জার কাছে গিয়ে বললো – আমি যাচ্ছি।

দ্রুত দড়জা খুলে বেরিয়ে গেলো হুর।

এদিকে নওশাদ হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে আছে ,মেয়েটা কি ওকে অপমান করে গেলো ?
রাগে চোয়াল শক্ত হয়ে এলো , এরপর আবার অনুমতি না নিয়েই পালিয়ে গেলো । নওশাদ জানে হুর কখনোই এখানে থেকে পালাতে পারবে না । পুরোপুরি বিশ্বাস সে করেনি হুরকে তাই আরেকটু বাজিয়ে নিতে চাইলো ।

….
হুর বেরিয়ে গেলো ,পা টিপে টিপে ড্রয়িংরুমে চলে গেলো , সেখানে সে এর আগে একটা টেলিফোন করেছিল।হুর ভাবতে ভাবতে সেটার কাছে গিয়ে আরোও খুশি হলো ,পাশে একটা ফোন রাখা ছিল।
সৌভাগ্যবশত সেটা লক করা ছিল না ।হুর সেটা নিয়ে দ্রুত ওর পাপার নাম্বার এ ডায়েল করলো ।

কিছুক্ষন এর মধ্যে রিসিভ ও হয়ে গেলো ।
হুর কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বললো- পাপা !

রেয়ানশ চৌধুরী চমকে উঠলো ,তার প্রিন্সেস! অজানা নাম্বার থেকে ফোন করেছে !
রেয়ানশ চৌধুরী – প্রিন্সেস তুমি কোথায় ? পাপাকে বলো এখুনি নিয়ে আসছি
তিনি কান্না করে দিলেন।
হুর কান্না করতে করতে বললো- পাপা একটা রাক্ষস আমাকে আটকে রেখেছে ,মেরে ফেলবে আমাকে ,উনি একজন এমপি….

আর কিছু বলার আগেই কেউ ফোনটা কেড়ে নিল হাত থেকে ।হুর তাকিয়ে দেখলো নওশাদ।হুরের মাথা ঘুরে উঠলো ।লোকটা রক্তচক্ষু নিয়ে তাকিয়ে আছে ।
হুর সেখানে থেকে পাশ কাটিয়ে দৌড়ে ড্রয়িংরুমে থেকে বাহিরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়ে গেলো ।
সে এখানে কোনোমতেই থাকবেনা , নওশাদ ওর পিছুপিছু গেলো ,রাগ তার বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে, অবাধ্যতা একদম পছন্দ নয় । ভেবেছিল মেয়েটাকে ছাড় দেবে তবে সেটা আর দিবে না ।

হুর সেখানে যেতে যেতে একটা ফল কাটার ছুরি হাতে তুলে নিয়ে পিছু ঘুরলো , এরপর রেগে আচমকা নওশাদ এর গায়ে চালিয়ে দিল ।এতো দ্রুত সব ঘটে গেলো নওশাদ এর বুঝতে সময় লাগলো কী হয়েছে !
নওশাদ হুরের হাত শক্ত করে চেপে ধরলো ,মেয়েটা এতো বোকা কেন ? এদিকে নওশাদ এর শরীর রক্তে ভেসে যাচ্ছে যা দেখে হুরের মাথা ঘুরিয়ে উঠলো ,তার উপর গালে একটা শক্তপোক্ত পুরুষালি হাতের থাপ্পড় তাকে ফ্লোরে ফেলে দিলো ।
হুর কান্না করতে করতে বললো- আপনাকে আমার পাপা ছাড়বেনা মিস্টার এমপি ।আমি তাদের রাজকন্যা, আমার ভাই আপনাকে কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলবে ,ছেড়ে দিন আমাকে।আমি বোকা হলেও আমার পরিবার এর একজন মানুষ ও বোকা না ।

নওশাদ হুরের গলা চেপে ধরে বলল – কোন রাজার মেয়ে তুই আমি দেখে নেব ,চল আমার সাথে আমার বউ না তুই ,আজ থেকে আমার সাথেই থাকবি , প্রতিদিন তোর সামনে একেকটা খুন করবো । নিজের আসল রূপ দেখিয়ে দিলি ,তূই তো আসল শয়তান।

কথাগুলো বলে হুরকে টানতে টানতে নিজের রুমে গিয়ে আটকে রেখে দিল ।

…..

মেহেরিন মির্জা ছেলের এমন কান্ড দেখে কিছু বলতে পারলো না , নওশাদ বেরিয়ে যেতেই হুরকে সেই রুম থেকে বের করে নিয়ে আসলো ,কাঁদতে কাঁদতে অবস্থা খারাপ হুরের ।
তার খারাপ লাগলো , সুন্দর মেয়েদের প্রতি তারও যে একটা ঘৃনা জমে আছে সেটা সে অস্বীকার করবে না ।তার ছোটো মেয়ের বয়সী দেখে মায়া করছে সে এর বেশিকিছুই না ।তার ছোট মেয়েটা যে তাদের থেকে দূরে আছে ,হুরের বয়সী বলা যায় ।
সুরকে খাবার দেওয়া হলেও সে খেলো না ঘাপটি মেরে বিছানায় শুয়ে থাকলো দড়জা আটকে ।

মেহেরিন মির্জা অন্যদিকে হুরের উপর একটা তীব্র রাগ নিয়ে বসে রইল,তার ছেলের শরীর এ আঘাত করেছে মেয়েটা কতো সাহস! নাবিলার থেকেও ভয়ঙ্কর নয়তো?

….

অন্ধকার ঘর একজোড়া তীক্ষ্ণ চোখ মিডিয়ায় ছড়িয়ে যাওয়া সেই ছবিগুলো দেখছিল যা ইতিমধ্যেই অনলাইন মাধ্যম থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়েছে ।
লোকটা একটা লাল মার্কার নিয়ে নওশাদ এর মুখে লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে দিলো ।
লোকটা বিড়বিড় করে রেগে বলতে লাগলো – এবারেও বেঁচে গেলি নওশাদ,তবে আমি তোকে ছাড়বো না । কোনোমতেই না ,এই মেয়েটা তোর বউ কীভাবে হয়ে গেলো আমি বুঝলাম না ।
অন্ধকার রুম থেকে বেরিয়ে লোকটা নিজের গন্তব্যে যাত্রা শুরু করলো কিন্তু তখুনি একটা অত্যন্ত সুন্দরী রমনী এসে লোকটাকে জড়িয়ে ধরলো ।
লোকটার মুখে হাসি ফুটে উঠলো , নওশাদ এর প্রথম ধ্বংসের কারন তার কাছেই আছে অতি যত্নে ।

মেয়েটা লোকটার বুকে আলতো করে মাথা রেখে বললো- আমি সেখানে কাল যাচ্ছি ।আপনি মানা করবেন না ।আমি আমার আপনার সংসার সুন্দর করে সাজাতে চাই ।
লোকটা মিথ্যা হেসে বললো- কেন নয় প্রিয় ,তবে তোমার রুহের কথা ভুলে যেতে হবে ।তাকে কখনোই আমার কাছে কোনো দাবি নিয়ে আসতে দেখলে আমার চেয়ে খারাপ কেউ হবে না।

মেয়েটাও প্রতিউত্তর এ মুচকি হেসে বললো- কেউ আসবে না , নতুন সদস্য আসবে , আপনার আর আমার অংশ । আমাদের ভালোবাসার চিহ্ন।

লোকটা মেয়েটাকে সরিয়ে দিলো এরপর নিজ কাজে বেরিয়ে গেলো সপ্ন বুনতে থাকা এক ভয়ঙ্কর মানবী কে রেখে ।

মিহিকা রোজা- Black Rose
লিখতে পারছিনা, খুব কষ্ট হচ্ছে কেন যেন ।খারাপ হয়েছে জানি । আপনারা হতাশ হয়েছেন কি? রিচেক দেইনি ভুল হলে মাফ করবেন।

চলবে,,,,,,
রেসপন্স করবেন।আমি আর কিছুই বলবো না ১ হাজার না হ্ওয়া ওবধি কোনো পর্ব আসবে না । রেসপন্স করার দায়িত্ব আপনাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here