শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (১২)

0
31

#শূন্য_অর্থ_পূর্নতা (১২)


– এই তুই হাসছিস কেন সাইকোর মতো? ভয় লাগছে না? তোকে আমি মেরে ফেলতে পারি এই মূহুর্তে।

নওশাদ বুকে হাত গুজে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকালো রেয়ান চৌধুরীর দিকে , রেয়ান চৌধুরী নওশাদ এর মনোভাব বুঝতে চেষ্টা করলো । গোল্ডেন রিভলবার টা হাতে নিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে বললো- আমি ইতালিতে ছিলাম আরোও বহু বছর আগে ।তুই সেটা জানলি কীভাবে।

নওশাদ ঝট করে কৌশল এ রেয়ান চৌধুরীর হাত থেকে রিভলবার টা নিয়ে নিলো , রেয়ান চৌধুরী বিস্ফোরিত নয়নে তাকালো।
– এটা? এটা আমার টেকনিক, তুই কীভাবে জানলি?

নওশাদ মুচকি হেসে বললো – শিখেছি তো আপনার থেকেই ।

এরপর রিভলবার টা রেয়ান চৌধুরীর পেছনে দাঁড়ানো একজন গার্ড কে শ্যুট করে দিলো ।সবাই কেঁপে উঠলো ।
নওশাদ দাতে দাত চেপে বললো- বেইমান আমার পছন্দ না ।
রেয়ান চৌধুরী রেগে বললো- কি বলতে চাইছো তুমি? কে তুমি? আমার মেয়ের পেছনে কেন পড়েছো , তোমার তো স্ত্রী সন্তান আছে ।

কথাগুলো বলে আবার ঠান্ডা গলায় বললো- আর একেই বা কেন মেরেছো ও তোমার সাথে কি বেইমানি করলো ?

নওশাদ রিভলবার টা রেয়ান চৌধুরীর দিকে এগিয়ে দিয়ে ঠাট্টার স্বরে বললো- পাঁচ বছর যাকে ট্রেনিং করিয়েছিলেন তাকেই ভুলে গেলেন ? মাই ডিয়ায় মাফিয়া লিডার। স্মৃতিশক্তি এতো দূর্বল কবে থেকে হলো?
এরপর কথা ঘুরিয়ে বললো ,
আর বেইমানি তো আমার সাথে করেনি করেছে আপনার সাথে । আপনার সাথে বেইমানি করা আর আমার সাথে করা সমান কথাই।

রেয়ান চৌধুরীর মুখটা শুকিয়ে এলো , এই ছেলেকে জীবনেও দেখেছে বলে মনে হচ্ছে না । হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়তেই চমকে উঠলো সে ।
– তুমি? তুমি আর্থার।

নওশাদ সেভাবেই উত্তর দিল – জি শশুর আব্বু, নিক নেইম ছিল ওটা । আপনাকে মিস করেছি এতোগুলো বছর।

রেয়ান চৌধুরী গম্ভীর গলায় বললো – কি চাও?ভুলেও আমার পরিচয় যেন কেউ না যানে, ভেবেছিলাম তুমি মারা গিয়েছো , আফসোস হয়েছিল যদিও। আমার ছেলেমেয়েদের কাছে আমি সাধারন মানুষ।আমি সবকিছু ছেড়ে দিয়েছি।

নওশাদ – কি চাইবো আবার , আপনার মেয়েকে চাই ,বিয়ে দেবেন না আমার সাথে?

রেয়ান চৌধুরী হেসে ফেললো- পাগল পেয়েছো আমাকে ? তোমার বাচ্চা মেয়েও আছে একটা ।
নওশাদ গম্ভীর হয়ে বললো- নূর আমার মেয়ে নয় ।আর নাবিলা নামের মেয়েটাও আমার স্ত্রী না সেটা আপনাকে আমি পরে খুলে বলবো ।

রেয়ান চৌধুরী কিছু বলবে তার আগেই নওশাদ অদ্ভুত একটা কথা বললো – জিজ্ঞেস করবেন না আপনার থেকে হারিয়ে গিয়ে আমি কোথায় ছিলাম?

রেয়ান চৌধুরী – সেটা আমি জেনে কি করবো ! বেঁচেই তো আছো।

নওশাদ বোকা বোকা মাথা নাড়িয়ে বললো- তাই তো কেন জানবেন,আর আমিই বা কেন বলবো মিসেস ইয়াসমিনা আল-হাদাদ চৌধুরীর কাছে ছিলাম।থাক বলবো না ।
কথাটা বলেই শিষ বাজাতে বাজাতে দড়জার কাছে চলে গেলো নওশাদ।পিছু ফিরে রেয়ান চৌধুরীর বিস্ময়ভরা মুখের দিকে তাকিয়ে বললো – মুখে মশা ঢুকে যাবে তো ,মেয়েকে রেডি করে রাখবেন পরশু আসছি ।গুড বাই ।

….
সাদা ব্লেজার গায়ে জড়িয়ে কথাগুলো ভাবছিল নওশাদ,টাই ঠিক করে গার্ডস দের নিয়ে বের হলো প্রথমে । পেছনের গাড়িতে মেহেরিন মির্জা আসছে ।
নওশাদ হাতে ফোন নিয়ে কিছু একটা টাইপ করে কাউকে ম্যাসেজ দিলো ,ভ্রুদ্বয় কুঁচকে আছে । কিছুক্ষন এর মধ্যে আয়ান দৌড়ে এলো ।হাপাতে হাপাতে ড্রাইভিং সিটে বসে পড়লো এরপর গড়গড় করে বললো ।
– বস ঐ লোকটাকে মেরে ফেলেছে ও যার হয়ে কাজ করে । আপনার ভাবনা মতোই কাজ হচ্ছে।আমি ওকে প্রশ্ন করছিলাম তখনই মেরে ফেললো । ভেবেছিলাম শালাকে গরম পানিতে গোসল করাবো ।

নওশাদ কিছু বলছেনা দেখে আয়ান চুপ মেরে গেলো ,নাহলে দেখা যাবে ওর মুখেই টেপ মেরে দিল ।

হুর মহলে পৌঁছে আয়ান গাড়ি পার্ক করে বাহিরে চলে গেলো ,ও আগেই বলে রেখেছে প্রথমে যাবে না ভেতরে ,যদি ঐ রেয়ান চৌধুরীর সাথে সংঘর্ষ লাগে তবেই যাবে ।কি ভয়ঙ্কর মেজাজ এর মানুষ রেয়ান চৌধুরী সেটা ও সেদিন ই দেখেছে ।
দোয়া কালাম পড়ে বাইরে চলে গেলো , সিগারেট খায়না প্রায় দুঘন্টা,না খেলে এখন পটল তুলবে আয়ান।


– তুমি এখন তোমার বাড়ি ফিরতে পারো হুমায়রা, কিন্তু যদি কোনো চালাকির চেষ্টা করেছো তো আমি ভুলে যাব যে তুমি নওশাদ মির্জার বোন । আমার নজর তোমাকে সারাক্ষণ দেখবে ।

হুমায়রা কেঁপে উঠল ম্যাসেজ টা পড়ে ,না সে মির্জা ভিলায় যেতে চায় না , সেখানে গেলে মনে হয় চারদিকে মৃত্যু অপেক্ষা করছে ।সে এই জায়গায় ভালো আছে । কিন্তু ? নাহ আর ভাবতে পারলো না।

আরেকটা ম্যাসেজ এলো , হুমায়রা সেটা দেখে আরোও ভয় পেয়ে গেলো – এখন তোমার সামনে একটা গাড়ি আসবে সেটায় উঠে পড়বে,সোজা মির্জা ভিলায় চলে যাবে । ওখানে ওই বাচ্চার দেখাশোনা করা তোমার কাজ ।

হুমায়রা তাই করলো ওকে যা করতে বলা হলো ।
সোজা মির্জা ভিলায় গিয়ে থামলো গাড়িটা, হুমায়রা নিজের রুমে চলে গেলো সোজা , তার এখন ফ্রেশ হ্ওয়ার খুব দরকার।গত তিনবছর ধরে এই বোঝা আর নিতে পারছেনা ও ।ওর পরিবার থেকেই ওকে দূরে সরিয়ে রাখলো ।
কেন?
ফ্রেশ হয়ে ডাইনিং এ গিয়ে খাবার খেয়ে নিলো ,এটা অস্বাভাবিক কিছু না যে এখানে কেউ নেই ।সে আগেই জেনেছে নওশাদ এর বিয়ের জন্য কেউ বাড়িতে নেই ।
কিন্তু এই সময়ে কেন তাকে আসতে বলা হলো?

….
আয়ান মনের সুখে সিগারেট টানছিলো আর রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছিল, তখনই কেউ এসে সামনে দাঁড়ায়,আয়ান তাকিয়ে দেখলো জগিং স্যুট পড়া আহিয়া দাঁড়িয়ে আছে সামনে ।
– গান্জাখোর দের এলাকা না এটা মিস্টার। ভদ্র সভ্য মানুষ দের বসবাস এখানে।
আয়ান ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে সিগারেট এ আরেকটা টান দিয়ে বললো- আরে জ্ঞান মাতা আপনি এখানে,সরি সরি জ্ঞনী খালা হবে ।

আহিয়া আশেপাশে থেকে একটা ইট কুড়িয়ে নিয়ে আসলো ,আজ এর মাথা ফাটাবে নিশ্চিত।
আহিয়া: আজ তোর মাথা ফাটিয়ে দেখবো ঘিলু আছে না গোবর আছে । বেয়াদব একটা . সেদিন বলেছিলাম তোকে দেখে নেব ।

আয়ান ফিচলে হেসে তার নীল পাঞ্জাবির বোতাম খুলতে লাগলো – কোথায় দেখবে মেয়ে ,এই রাস্তায় দেখতে চাও?
আহিয়া বিষম খেলো ,- ছিঃ ।

আয়ান জিভে কামড় দিলো ,এই বায়ু দুষণ হ্ওয়ার আর সময় পেলো না ? বিকট শব্দ করে আয়ান বায়ু দুষণ করেছে ।
কাশি দিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ালো , মিচকা হাসি দিয়ে বললো – তোমার নাম আহিয়া তাই না সুন্দরী মেয়ে ।

আহিয়া কিছু বললো না,জায়গা ত্যাগ করতে উদ্যত হলো ।
তখনই আয়ান বললো- আহিয়া সারাদিন থাকো তুমি ঘুমাইয়া ,
আর অসময়ে পাদ দেও ঠাস ঠাস করিয়া ।

আয়ান কথাটা বলে আবার বললো- ছি ছি মেয়েরা এতো জোড়ে পাদ দেয় জানতাম না ।খালা তোমার বিয়ে যায় সাথে হবে সে বড়ো সৌভাগ্যবান পারফিউম লাগবে না ।

বলেই উল্টো ঘুরে শিষ বাজাতে বাজাতে চলে গেলো । আয়ানের মতে ,মান ইজ্জত বাঁচানো ফরজ তাতে কোনো সুন্দরী মেয়ে ফেসে গেলেও দোষ নাই।

আহিয়া হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ,আয়ান ওকে এগুলো কি বলে গেলো ।

এরপর হাতের ইট টা নিয়ে আয়ানের পিছে দৌড় লাগালো – গাধার বাচ্চা গাধা আজকে তোকে আমি মেরে মেরে তেলাপোকা কে খাওয়াবো ।

আয়ান ও উল্টো দৌড় দিলো , কিন্তু আহিয়ার ছুড়ে মারা ইট টা সোজা গিয়ে ওর পশ্চাৎ দেশে আঘাত করলো ।বেচারা সেখানে ধরেই দৌড়ে হুর মহলে প্রবেশ করলো ।
এদিকে আয়ান কে হুর মহলে প্রবেশ করতে দেখে আহিয়া থেমে গেলো ।ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষন তাকিয়ে উল্টো ঘুরে চলে গেলো ।

….
আহিয়া হুর কে ইংরেজি ,বাংলা পড়াতো এই পনেরো দিন ধরে পড়িয়েছে ,সেই সুবাদে আজ ওর হুর মহলে দাওয়াত।ও হুরকে খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিলো ।
আয়ান কে ধাওয়া করার বিশ মিনিট পরেই ও এখানে এসেছে ।পাশেই ওদের বাড়ি ।
হুর কে সাজিয়ে,ও আইভির সাথে দুষ্টুমি করতে শুরু করলো ।

এদিকে মেহেরিন মির্জা কিছু বুঝতে পারছেন না , এখানে কেন এসেছেন সেটাও ওকে নওশাদ বলেনি । শুধু বলেছে ঘটনার সাথে তাল মেলাতে ।
সেখানে উপস্থিত হলো ইয়াসমিনা চৌধুরী।কালো শার্ট,সাদা লং কোর্ট,কালো ফর্মাল প্যান্ট আর ম্যাচিং হিজাব।যে হিল টা পড়েছে তার শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
মেহেরিন মির্জা অবাক হয়ে সেদিকে তাকিয়ে রইল।এটা হুরের মা তবে ! নীলাভ সবুজ রাঙা চোখ দিয়ে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে সবকিছু দেখলেন ।তবে নওশাদ কে দেখে মুচকি হাসলেন যা রেয়ান চৌধুরীর হজম হলো না।

সাদিক আরো আগেই সবার সাথে পরিচিত হয়েছে তারও নওশাদ কে পছন্দ হয়েছে ।কোনো আপত্তি নেই ।

নওশাদ ইয়াসমিনা চৌধুরীর দিকে তাকিয়ে প্রতিউত্তর এ মুচকি হাসলো যেন বহুদিনের চেনা , নওশাদ এর চোখে ভেসে উঠলো গতকাল দুপুরে ইয়াসমিনার সাথে তার সাক্ষাৎকার,,

দুজন মুখোমুখি হয়ে অনেক কথাই বলেছিল । তবে মূখ্য কথা ছিল এটা
ইয়াসমিনা চৌধুরী প্রতিবার এর মতোই রাগী স্বরে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকি বললো – তোমার নাটকীয় বিয়ের কাহিনী শেষ শুনে ভালো লাগলো ।
নওশাদ – আপনার মেয়ের জন্য ই তো করেছি ।

ইয়াসমিনা চৌধুরী নওশাদ এর দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসলো ,গায়ের কোর্ট টা ভালোভাবে জড়িয়ে নিলেন এরপর উঠে দাঁড়িয়ে যেতে উদ্যত হলেন , যেতে যেতে বললো- আমার মেয়ে ছোট ডিয়ার , তাই বিয়ের চিন্তা বাদ দাও ।এখোনো সময় আছে ।নিজেকে গুছিয়ে নাও ,মেয়ে বড়ো হলে দেব ।

নওশাদ পায়ের উপর পা তুলে একটু শব্দ করেই বললো- চিন্তা করছেন কেন ডিয়ার ইমিনা মাস্টার আপনার মেয়েকে ফিটার কিনে খাওয়ানোর পয়সা আমার কাছে আছে ।

ইয়াসমিনা রক্তচক্ষু নিয়ে তাকালো নওশাদ এর দিকে – ইডিয়েট, দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পুষেছিলাম আমি ।

নওশাদ হেসে ফেললো- শাশুড়ি মা আপনি ভুলে যাচ্ছেন দুধ কলা দেননি আমাকে , দিয়েছিলেন সিদ্ধ সবজি আর ঘাসপাতা ।

চলবে ,,,,
#মিহিকা_রোজা
সবাই মন্তব্য করবেন,নাহলে লিখতে পারবো না । রেসপন্স করবেন সবাই।

গত পর্বে রিয়েক্ট করে আসুন যারা করেননি,অনেক কম রিয়েক্ট ছিল।অনেক কম ছিল।আপনারা যারা ভালোবাসেন রিয়েক্ট করবেন।
পর্ব:১১
https://www.facebook.com/61573741746335/posts/122169710012791391/?app=fbl

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here