#গুপ্ত_প্রেমের_সুপ্ত_পিয়াসা” 🖤|১৪|
#শার্লিন_হাসান
অবন্তীর হলুদের রাতে আতশবাজি ফোটানো, হৈহল্লোরে মেতেছে ছাদের মানুষজন। ঈশিতা তৃপ্তির রুমে আসেন। তখন তৃপ্তি মুখ গোমড়া করে পড়ার টেবিলে বসেছিল। ঈশিতা এসে জিজ্ঞেস করে, “হলুদে যাবেনা?”
“ইলমাকে বলো। আমার ভালো লাগছেনা।”
“কেন ফুল পাওনি তাই?”
“এরকম কিছুনা। যাও প্লিজ।”
কথাটা বলে ঈশিতাকে ঠেলে রুম থেকে বের করে দেয় তৃপ্তি। ঈশিতা মেয়ের কার্যকলাপে মৃদু হাসে। বেরুতে আদনানের মুখোমুখি হয়। আদমাম ঈশিতাকে দেখে পাশ কাটিয়ে সোফায় গিয়ে বোসে। ঈশিতা ইলমার রুমেই যাচ্ছিল। কিন্তু ইলমা তখন লিভিং রুমে আসে। ঈশিতা তাকে দেখে বলে, “হলুদে যাবেনা?”
“তৃপ্তি কোথায়?”
“রুমে। শাড়ি পড়বেনা?”
ইলমা খানিক চুপ থেকে জবাব দেয়, “ফুল হলে শাড়ি পড়তাম। এখন দেখি গাউন পড়ে যাব।”
ইলমার কথায়, ঈশিতা জবাব দেয়, “হলুদে শাড়ি পড়ে যেও। সুন্দর লাগবে।”
কথাটা বলে চোখ দিয়ে আদনানকে ইশারা করে। ইলমা আদনানের দিকে তাকায়। সে ফোন স্ক্রোল করছে। কিন্তু ফুলের কথা বলার সাহস নেই তার। এমনিতে গতকাল যা করলো। না জানি ধমক একটা দিয়ে বসিয়ে রাখে। ইলমাকে চুপ থাকতে দেখে ঈশিতা ফিসফিস করে বলে, “বলো?”
“আরেহ, ধমক দিবে। লাগবেনা ফুল।”
কথাটা জোরেই বলে ইলমা। আদনান ভ্রু কুঁচকে তাকায় ইলমার দিলে। ইলমা দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরায়। আদনান ইলমার মুখশ্রী একবার পরখ করে। ঈশিতা প্রস্থান করে। তখন তৃপ্তি এসে বলে, “ইলমা যাবিনা?”
“যাবনি।”
“ভাইয়াকে বল, ফুল এনে দিতে।”
কণ্ঠস্বর খাদে নামিয়ে বলে তৃপ্তি। ইলমা চোখ রাঙিয়ে বলে, “আমাকে বলছিস কেন? তুই বল?”
“গতকাল যা বলেছে। এখন লাস্ট চান্সে তুই। বলে দেখ প্লিজ। আইহোপ তোর কথা রাখবে।”
তৃপ্তির এহন কথায় ইলমা পুনরায় চোখ রাঙায়। তৃপ্তি ঠেলতে থাকে। আদনান ওদের কান্ড আঁড়চোখে দেখছে আর মিটমিট হাসছে। তৃপ্তির জোরাজুরিতে ইলমা বাধ্য হয়ে আদনানের সামনে আসে। মাথাটা নিচু করে বলে, “বাইরে যাবা?”
“কেন?”
আদনান জেনেও না জানার ভাণ করছে। কণ্ঠস্বর কিছুটা রাগ দেখায়। ইলমা আদনানের রাগ মিশ্রিত জবাবে খানিক বিরক্ত হয়। তবুও তৃপ্তির কথার জন্য লজ্জাশরম ত্যাগ করে কোমল মিশ্রিত শীতল কন্ঠে বলে “আমার ফুল লাগবে। তুমি এনে দিবে?”
ইলমার এই আবদারটা আদনানের কাছে ভীষণ আদুরে লেগেছে। কোন জবাব না দিয়ে, ইলমার চোখের ঘন পাপড়িতে একদৃষ্টিতে তাকায়। তখন তৃপ্তি ইলমাকে বলে, “চলে আয়। মনে হয় আনবেনা।”
ইলমা মাথা নাড়িয়ে চলে আসে। আদনান কোন প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। দু’জন মনে মনে আদানের ভাবকে তুলোধোনা করছে। সাথে আদনানের মেজাজের গুষ্টি উদ্ধার করছে।
দু’জনে ব্যর্থ মনে শাড়ির দিকে তাকাচ্ছে। মেরুণ রঙের শাড়ি দু’টো খাটের একপাশে পড়ে আছে। তৃপ্তি ইলমাকে বলে, “এই চুল ছাড়বি আজকে।”
“নাহ্। বাজে লাগবে।”
“এই চুপ। তোর চুল মাশাআল্লাহ হাঁটু ছুঁয়েছে। বাজে লাগবে কেন?”
“খোঁপা করবনি।”
“নাহ্। চুল ছাড়বি।”
“ভূতে ধরবে।”
“ধরুক। তোর খোলাচুল দেখার শখ ভাই। তেমন একটা ভাগ্য হয়না।”
তৃপ্তির কথা শেষ হতে ইলমা চুলে ক্লিপটা খোলে। সাথে সাথে একগুচ্ছ কাজল কালো ঝরঝরে চুল হাঁটু অব্দি নেমে যায়। তৃপ্তি ইলমার চুলের দিকে তাকিয়ে বলে, “কেশবতী। তোর জামাই তোর চুল দেখলেই ফিদা হয়ে যাবে।”
“এরপর?”
“মাশাআল্লাহ বলবে।”
তৃপ্তির কথায় ইলমা খানিক আসে। চুলগুলো বাঁধতে, বাঁধতে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। হুট করে দরজার পাশ থেকে কারোর সরে যাওয়া নজরে আসে। ইলমা ঘুরে দাঁড়ালে, কাউকেই দেখতে পায়না। পরক্ষণে ভাবে হয়ত চোখের ভুল। কে আসবে এখানে?
তৃপ্তি পায়চারি করছে আর ইলমাকে বলছে, “ভাইয়া সত্যি ফুল এনে দিবে?”
“না।”
“শ্লার! ইতার বউটা যাতে রিনাখান হয়। তখন বুঝবে মজা।”
“যদি ভদ্র হয়?”
“মেয়েটার কপাল পুড়বে। আদনানের অত্যচার সহ্য করতে হবে।”
“আহারে। মেয়েটা যে কী কপাল পোড়া।”
ইলমার কথায় তৃপ্তি বলে, “মেয়েটা ভাগ্যবতীও। পিওর ভালোবাসা পাবে।”
“এতো প্রেম করেছে, এখন বলছিস বউকে পিওর ভালোবাসা দিবে?”
“ও তো টাইমপাসের প্রেম করে। সিরিয়াস কিছুনা। ভালো তো বাসবে বউকে।”
তৃপ্তির কথায় ইলমা জবাব দেয়না। ফোন হাতে বন্ধুমহলে আড্ডা শুরু করে।
প্রায় বিশ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর আদনান দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বলে, “ভেতরে আসব নাকী তোরা বাইরে আসবি?”
আদনানের কথায় তৃপ্তি ইলমার দিকে তাকায়। ইলমা জবাব দেয়, “ভেতরে আসো।”
আদনান বিরক্তি নিয়ে বলে, “বাইরে আয়। আমি যাব না।”
“তাহলে ঢঙ করে অনুমতি নিলে কেন?”
তীব্র ঝাঁঝালো কন্ঠে প্রতিবাদ করে ইলমা। আদনান রুক্ষ গলায় জবাব দেয়, “ঠেকা আমার না তোদের।”
“বা’জে লোক।”
“তাতে তোর বাপের কী?”
আদনামের কথায় ইলমা তর্জনী নাচিয়ে বলে, “কথায় কথায় বাপ টানলে খবর আছে।”
“আয়, দেখি কী খবর করতে পারিস। একশ একবার বাপ টানব। তাতে কার বাপের কী?”
“ত্যাড়া কোথাকার।”
ইলমা,আদনানের ঝগড়ায় তৃপ্তি কপাল চাপড়ায়। দু’টো শান্তিতে থাকতে পারেনা। সামান্য বিষয় নিয়েও ঠোকাঠুকি। কিন্তু ঝগড়া গুলো শোনতে তৃপ্তির ভালোই লাগে। ইলমা, তৃপ্তি লিভিং রুমে আসতে আদনাম ফুলের ব্যাগ ইলমার দিকে এগিয়ে দেয়। ইলমা ব্যাগের দিকে তাকিয়ে বলে, “এতো ফুল?”
“বেশি হলে দিয়ে দে, উপরের ফ্লাটের মেয়েগুলোকে দিয়ে আসি।”
“আরে, নারী দরদি সমাজসেবক।”
ইলমার কথায় আদনান ধমকে বলে, “প্রেমিকনারী উল্টাপাল্টা বলবিনা। তোদের মেয়েদের ঢঙয়ের শেষ থাকেনা। ফুল না এনে দিলেও সমস্যা। এনে দিলেও ন্যাকামী, ‘এতো ফুল।’ তোর বাপের টাকায় ফুল আনিনি, নিজের টাকায় এনেছি।”
“এই কথায় কথায় বাপ টানবেনা।”
ধমকে বলে ইলমা। তখন তৃপ্তি বলে, “তোমার আইফোনটা দিও। পিক তোলব আমি আর ইলমা।”
“দেব শর্তে।”
আদনানের কথায় তৃপ্তি এবং ইলমা দুজনে হা হয়ে যায়। আদনান জীবনেও নিজের ফোন কারোর হাতে দেয়না। পিক তোলতেও না। তার রুমেও তেমন কাউকে ঢুকতে দেয়না। দরজা একটা লক করে রাখে আজীবন। এমনকি বাইকের পেছনেও কাউকে বসায় না। কিন্তু হুট করে ফোন দিতে রাজী হয়েছে, তাও শর্তসাপেক্ষে। বিষয়টা সত্যি চিন্তার। আদনানের কথায় ইলমা বলে, “কী শর্ত?”
“চুল ছেড়ে হলুদে যেতে পারবিনা। বেডা মানুষের আশেপাশে যেতে পারবিনা। মেয়েমানুষ ব্যতীত অন্য কারোর সাথে কথা বলতে পারবিনা। হলুদে গিয়ে ঢঙ,ন্যাকামী কোনটাই করতে পারবিনা। এসব রুলস মানলে আমার আইফোন দিয়ে আজকে যতখুশি পিক তোলতে পারবি।”
আদনানের শর্ত শোনে ইলমা তৃপ্তির দিকে তাকায়। তৃপ্তি চোখ দিয়ে ইশারা দিতে ইলমা জবাব দেয়, “এসব শর্ত মানা ব্যপারনা।”
“এই তো। ভদ্র ভাবে চলবি, যাতে লোকে খারাপ না বলে।”
“আচ্ছা।”
“যা, দেরি হয়ে যাবে।”
আদনানের কথায় ইলমা,তৃপ্তি ফুল নিয়ে ইলমার রুমে যায়। মূলত গহনা বানানোর জন্য। রুমে এসে ফ্লোরে ফুলগুলো ব্যাগ থেকে বের করে ইলমা। আদনান অনেকগুলো ফুল এনেছে। বলা যায় তাঁদের প্রয়োজনের চেয়েও তিনগুণ বেশি ফুল। ইলমা তৃপ্তির দিকে তাকিয়ে বলে, “তোর ভাই একটা পাগ’ল।”
“আসলেই। কীভাবে টাকা নষ্ট করা যায় সেই ধান্দা।”
“বড়লোকি মন তার। দেখিস না কত মেয়ে সেখানে জায়গা পায়।”
“ভাইয়ার রাগ বেশি হলেও মন ভালো।”
তৃপ্তির কথায় ইলমা মৃদু হেঁসে বলে, “হয়ত!”
আদনান সোফায় বোসে ফোন থেকে পিকচার ডিলিট করছে আবার হাইড করছে। মূলত মেয়েদের সাথে যেসব পিকচার আছে সেগুলোর কিছু ডিলিট আর কিছু হাইড রেখেছে। উঠে রুমে এসে ফোনটা চার্জে বসিয়ে ব্যালকনিতে যায় আদনান। আজকে মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে।
রাতের ডিনারটা করেই ইলমা এবং তৃপ্তি রেডি হতে বসেছে।
ঈশিতাকে ডেকে এনে ইলমা শাড়ি পরে। সে নিজের শাড়ি নিজে পড়তে পারেনা। যত চেষ্টাই করে, কুঁচি ঠিক হয়না,আঁচল উল্টা পড়ে। কোন ভানেই তাল করতে পারেনা সে। ইলমা তৃপ্তি সেম ভাবে শাড়ি পড়ে। দু’হাতে বেলি ফুলের গাজরা সাথে খোঁপাতেও ফুল দেয়।
ইলমা কানে ঝুমকা পড়ে। গলার স্বর্নের চেইনটা আর চেঞ্জ করেনি। চোখে আইলাইনার,কপালে টিপ। হালকা লিপস্টিক। উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ মুখে হালকা সাজে মায়াবী লাগছে তাকে।
তাঁদের চার ভাইবোনের মধ্যে ইলমা উজ্জ্বল শ্যামলা। সে তার বাবার গায়ের রঙ পেয়েছে তবে চেহারা পুরোটাই মায়ের পেয়েছে। আদনান,তৃপ্তি, ইজাজ তারা দাদী এবং বাবা-মায়ের মতো ধবধবে ফর্সা। শুধু ইনান শেখ এবং ইলমার গায়ের রঙ একই। সেটাও উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ।
ইলমা দু’টো গোলাপ হাতে নেয়।
দু’জন তৈরি হয়ে বাইরে আসতে আদনানকে খাবার টেবিলে দেখতে পায়। বাকীরা সোফায় বসা। ফাইজা আশেপাশেও নেই। সবার আগে বা পরে সে খাবার খায়। সবাই যখন বসে কথা বলে আশেপাশেও আসেনা সে। তৃপ্তি এবং ইলমাকে দেখে ফরিদা পারভীন বলেন, “সাবধানে যাইস। কোন ছেঁড়ার দিকে তাকাবিনা।”
ফরিদা পারভীনের কথায় ইলমা আদনানের দিকে তাকায়। বিড়বিড় কীে বলে, “তোমার বলতে হবেনা। তেমার নাতি যেই রুলস দিয়েছে তোমার থেকেও দ্বিগুণ।”
ইনান শেখ মেয়েকে দেখে জিজ্ঞেস করেন, “ফুল এনেছ কখন?”
বাকীরাও তাকায়। তৃপ্তি তখন জবাব দেয়, “ভাইয়া এনে দিয়েছে।”
বাকীরা আঁড়চোখে আদনানকে দেখছে। আদনান সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের মতো করে খাবার খেয়ে শেষ দেয়। হাত ধুয়ে, পানি পান করে রুমে যায়। চার্জ থেকে ফোনটা খোলে বাইরে আসে। তৃপ্তির দিকে ফোন বাড়িয়ে দিয়ে বলে, “যা বলেছি মনে থাকে জেনো।”
তৃপ্তি মাথা নাড়ায়। ইলমার হাত ধরে বেরিয়ে যায়। আদনান আর সেখানে থাকেনি। সোজা রুমে চলে আসে। বেশি ভালো মানুষদের পাশে বসতে নেই, নাহলে তাঁদের বাতাস লেগে শরীরে চুলকানি শুরু হতে পারে।
তৃপ্তি ইলমা আসতে দেখে সাজানো অবন্তীকে। একদম পরী লাগছে। তাদের রিলেটিভিট আছে বটে। শিমুল এবং তাজবিহাকে দেখে তৃপ্তি, ইলমা তাঁদের কাছে যায়৷ কিছুক্ষণ কথাবার্তা বলে তৃপ্তি এবং ইলমা ছনি তোলতে যায়। এককোনায় দাঁড়িয়ে ইলমা ছবি তোলছে। তার ক্যামরাম্যান তৃপ্তি। একপর্যায়ে তৃপ্তি আশেপাশে তাকিয়ে বলে, “কেউ নেই। প্লিজ চুল ছাড়া একটা পিক তোল। অনেক সুন্দর লাগবে।”
সাথে সাথে ইলমা জবাব দেয়, “না। আদনান দেখলে বকবে।”
“তোর হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে,ওর ফোন থেকে ডিলিট মেরে দেব।”
শিমুল, তাজবিহা আসতে তৃপ্তি তাঁদের বলে, “পাশাপাশি দাঁড়াও, ইলমাকে যাতে বাইরে না দেখা যায়।”
তিনজন পাশাপাশি দাঁড়াতে, ইলমা নিজের খোঁপা ছেড়ে দেয়। দীঘল কুন্তল কোমড় ছাড়িয়ে সেই কেশ। ইলমার ছবি তোলা শেষ হতে চুল খোঁপা করে নেয়। তারপর তৃপ্তি ছবি তোলে। অবন্তীকে হলুদ দিয়ে স্টেজে ছবি তোলে দু’জন।
সাড়ে বারোটার মাঝেই আবার বাসায় চলে আসে ইলমা এবং তৃপ্তি। তৃপ্তি শাড়ি পড়ে হাসফাঁস করছে। সেজন্য এসেই ফ্রিজ থেকে পানির বোতল নিয়ে রুমে চলে যায়৷ ইলমা আদনানের ফোন হাতে রুমে আসে। ছবিসব হোয়াটসঅ্যাপে দিয়ে আদনানের গ্যালারী থেকে ডিলিট করে দেয়। পুনরায় রুম থেকে বেরোয় সে। বেশি দেরি করলে আবার না আদনান রেগে যায়। ফোন দিয়ে এসে চেঞ্জ করতে পারবে। সেই ভেবে আদনানের রুমের দরজায় নক করে ইলমা। দুই তিনবার নক দিতে আদনান এসে দরজা খোলে। শাড়ি পড়া মৃদু এলোমেলো ইলমাকে নজরে আসে আদনানের। শ্যামকন্যার চোখের দিকে দৃষ্টিপাত করতেই জেনো গভীর সমুদ্র দেখতে পায়। অন্যরকম সুন্দর সেই চোখজোড়া। আদনান সেই গভীর চোখে নিজের চোখের মিলনে বেশিক্ষণ ডুবতে পারেনি। নিজের সর্বনাশের ভয়ে দৃষ্টি সংযত করে নেয়। সামনে তাকিয়ে বলে, “রুলস ঠিকঠাক মেনেছিস তো?”
“হুম।”
ইলমার জবাবে আদনান ভ্রু কুঁচকে বলে, “দেখিস মিথ্যা বলিস না, সব খবর আমার কাছে আছে।”
“বললাম তো, রুলস মেনেছি।”
খানিক বিরক্তি নিয়ে কথাটা বলে ইলমা। আদনান চোয়াল শক্ত করে বলে, “এই বালের মেজাজ দেখাবিনা।”
“তোমার কথাবার্তা এমন কেন?”
“সেটা জেনে তোর কাজ নেই।”
কথাটা বলে ইলমার হাত থেকে ছো মেরে ফোনটা নিয়ে,মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয় আদনান। ইলমার রাগ হয় প্রচুর। সেজন্য দরজায় লা’থি বসাতে যায়, তখন আবার আদনান পুনরায় দরজা খুলেছিল যার দরুণ ফ্লোরে স্লিপ কেটে পড়তে যায় ইলমা। আদনান হতভম্ব হয়ে ইলমার একহাত ধরতে, পড়া থেকে রক্ষা পায় ইলমা। রাগে দুঃখে তার কান্না আসছে। আদনান ইলমার চোখমুখ দেখে মুখ টিপে হাসে। ইলমা নিজেকে সামলে তীব্র ঝাঁঝালো কন্ঠে বলে, “আল্লাহ বিচার করবে। দরজায় শান্তি মতো লা’থি টাও বসাতে দেয়নি।”
ইলমার কথায় আদনান জবাব দেয়, “মাথা মোটা। এরকম শক্ত কাঠের দরজায় লা’থি দিলে পা ভে’ঙে যেত।”
“ভা”ঙলে ভা’ঙত। তাতে কার বাপের কী?”
কথাটা বলে আদনানের থেকে হাত ঝাড়ি মেরে সরিয়ে নেয়। মুখ ঝামটা মেরে চলে আসে নিজের রুমে। আদনান ইলমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে হো হো করে হেঁসে উঠে। যেই হাসির শব্দ ইলমার কানে আসতে চরম বিরক্ত হয় ইলমা।
#চলবে
যারা আদনান -ইলমাকে মিস করবেন তারা চাইলে “বুকপকেটের মায়াবিনী” বইটা কিনতে পারেন। যখন খুশি তখন বইটায় আদনান-ইলমাকে পড়তে পারবেন। তারা সবসময় আপনার সাথেই থাকবে। ৩৫% ছাড়ে ২৪০৳ টাকায় বইটা অর্ডার করতে ম্যাসেজ
https://www.facebook.com/boiprangon1
আমার গ্রুপ লিংক,
https://m.facebook.com/groups/582123563029858/?ref=share&mibextid=NSMWBT
চলমান পার্টের লিংক,
https://www.facebook.com/share/p/1AvqBBcXYe/

