Violent_love Mariam_akter_juthi #পর্বঃ ২

0
73

#Violent_love
Mariam_akter_juthi
#পর্বঃ ২

🚭(রাজনীতি+পজেসিভ+রোমান্টিক+টেক্সিক লাভ স্টোরি)[অনুমতি ব্যতীত কপি করা নিষিদ্ধ]❌

‘তুই আমাকে মিথ্যা বলছিস তাই না?
‘তোর মনে হয় আমি তোকে মিথ্যা বলি? যাইহোক তুই ফিরলে রাদিফ ভাই তোকে তার সাথে দেখা করতে বলেছে। ও হ্যাঁ পরীক্ষা কেমন হলো তোর?
‘ঐতো বরাবরের মতো ভালোই হয়েছে।
‘সকাল থেকে কিছু খেয়েছিলি?
‘না।
‘হ্যাঁ তা খাবেন কেন? যখন গ্যাস্ট্রিকে লারা দেবে তখন বুঝবেন।
‘আরে রাগ করিস না, আজকে হল কেন্দ্রে পৌঁছানোর পর পরই হলে ঢুকিয়ে দিয়েছে। আর পরীক্ষা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই বৃষ্টি শুরু হল। তাই খাবার খাওয়ার আর সময় পায়নি।
‘বুঝেছি এখন খেতে চলেন।
‘হ্যাঁ যাবো তবে আগে রাদিফ ভাইয়ের সাথে দেখা করে আসি।
‘আচ্ছা আমি তাহলে যাই তুই তাড়াতাড়ি আসিস।
‘আচ্ছা।

“ক্ষমতার পালাবদলে এখন এক নতুন দৃশ্যপট বাবার ছায়া মাড়িয়ে এবার ছেলেই নামছে নির্বাচনের ময়দানে। একদা যে ছিল উত্তরসূরি, আজ সে-ই দাবি রাখে সিংহাসনের। রক্তের সম্পর্কই এখন হয়ে উঠেছে রাজনীতির প্রধান হাতিয়ার। তাই ক্ষমতাকে হাতের মুঠোয় আনার জন্য আরিশ তাৎক্ষণে জামা কাপড় চেঞ্জ করে বেরিয়ে পড়েছিল। সকাল গড়িয়ে দুপুর, এখন পর্যন্ত বাড়ি ফেরার নাম নেই, সবকিছু ঠিকঠাক করেই সে আজ বাড়ি ফিরবে এটাই সিদ্ধান্ত নিলো।আরিশের পাশাপাশি আয়ান ও সকাল থেকে ওর পাশেই ছিলো, বলতে গেলে আয়ান আরিশ দুজন দুজনার কলিজার বন্ধু। কেউ কারো কষ্ট বা অপমান সহ্য করতে পারে না। আরিশ এত বছর দেশের বাইরে থাকলেও আর কারো সাথে কথা হোক কিংবা না হোক, প্রতিনিয়তই আয়ানের সাথে কথাটা হত। আর আজ আয়ানের জন্যই সে তার প্রিয়তার ক্ষণে ক্ষণে খবর পেয়েছে। প্রিওতার খেয়াল রেখেছে, প্রিওতার যোজন গুলো জানতে পেরেছে।

‘ছেলেটা সেই আসার পরপরই বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে, আপনি একটু দেখুন না কোথায় গেছে? ‘সানজিদা খান’
‘সময় হলে চলে আসবে। ছেলে ছোট নেই তার এখন আর আমাদের কথা শোনার বয়স নেই। সে তার নিজ ইচ্ছায় চলে। ‘সাফওয়ান খান’
‘ফোন দিলাম কতবার রিং হল তবে রিসিভ করেনি।
‘দুপুর হয়েছে খাবার দাও, আরিশ চলে আসবে।
‘হ্যা।

জুথি সুন্দর সাদা রংয়ের একটা গোল ফ্রক পড়ে, ড্রেসিং টেবিলের সামনে কোমর ছাড়িয়ে লম্বা চুলগুলো সোজা আছড়ে নিল। হলুদ ফর্সা গালে হালকা ক্রিম মেখে নিলো। সাথে একটু সানস্ক্রিন, ব্যাস এতেই তাকে মাশাআল্লাহ, সম্পূর্ণ রেডি হয় জুথি রাদিফের রুমে এসে বলল,
‘তুমি আমাকে ডেকেছিলে ভাইয়া?
‘হ্যাঁ, তবে তুমি আমাকে ডেকেছিলে এতোটুকুই তো ঠিক ছিল। শেষের ভাইয়াটা না বললেও হত?

জুথি রাদিফের কথা শুনে মুচকি হেসে বললো,
‘আপনি আমার বড় ভাই, তাইতো আপনাকে ভাইয়া বললাম।
‘ইস তোমার হাসিটা কতটা আকর্ষণীয়?
‘বুঝলাম না।
‘ওই যে, তুমি হাসি দিলে তোমার হলুদ ফর্সা দুই গালে দুটো টোল পরে। আবার গোলাপি রাঙ্গা ঠোঁটের নিচে কালো কুচকুচে কত সুন্দর একটা আকর্ষণীয় তিল। যা আমাকে বরাবরই মুগ্ধ করে।

জুথি রাদিফের কথা শুনে কিছুটা লজ্জা পায়, তাই কিছুটা সংকোচোতা নিয়ে বলল,
‘তুমি আমাকে কেন ডেকেছিলে?
‘তোমার জন্য একটা গিফট আছে।
‘গিফট না আম্মুর কাছে দিয়েছো?
‘সেটা তো সবার সাথে পাওনা গিফট, তোমার জন্য স্পেশাল একটা গিফট এনেছি।
‘সত্যি?
‘হ্যাঁ, একটু অপেক্ষা কর এখনই দিচ্ছি।

রাদিফ কিছুক্ষণ পর একটা শপিং ব্যাগ এনে জুথির হাতে দিয়ে হাসি মুখে বলল,
‘তুমি বলেছিলে না তোমার একটা ফোন চাই? তাই তোমার জন্য বাহির থেকে আসার সময় নিয়ে আসলাম।
‘কিহহহহহ ফোন?? অবিশ্বাস্য’। – বলে প্যাকেট থেকে গিফট পেপার মোড়ানো একটা বক্স বের করে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে। জুথি বক্সটা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে লেখার মধ্যে রাদিফ সেদিক তাকিয়ে মুচকি হেসে বলল,
‘তুমি খুশি?
‘আরে কি বলছো তুমি, খুশি মানে, আমি এত এত গুলো খুশি। – হাসিমুখে দুই হাত গোল গোল করে বলল, — ‘তোমাকে অসংখ্য ধন্যবাদ ভাইয়া।
‘সোনো মেয়ে আমাকে একদম ভাইয়া বলে ডাকবে না।
‘তাহলে তোমাকে কি বলে ডাকবো?
‘সেটা তোমার ইচ্ছে?
‘তুমি তো আমার অনেক বড়, তাই তোমাকে ভাইয়া বলেই ডাকবো,

বলে চলে যেতে নিলে রাদিফ পেছন থেকে আবার বলে উঠলো,
‘তোমার কালো চুল গুলোও অনেক সুন্দর, একদম তোমার মত।

জুথি আর দাঁড়ালো না, এসব তার নিত্যদিনের কারবার। যখন রাদিফ দেশে ছিল না, তখন জুথির সাথে সব সময় ভিডিও কলে কথা হত। আর তখন বিভিন্ন কথা বলে জুথি কে এমন লজ্জা দিত। জুথিও তেমন কিছু মনে করত না। বড় ভাই মনে করে।

টেবিলে খাবার পরিবেশন করে সানজিদা খান সকলকে খেতে আসার জন্য তাগিদ দিতে, একে একে বাড়ির সকলেই টেবিলে খেতে বসে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই জুথি সিঁড়ি দিয়ে নেমে এসে টেবিলে বসতে নিলে সানজিদা খান বললেন,
‘সবাই খেয়ে নিক, সবার খাওয়া হয়ে গেলে থালা-বাসন গুলো ধুয়ে তারপর খেতে বসবে।

জুথি আর বসলো না, কষ্টও পেল না। এটা সে প্রতিদিনই শুনে, তাই চুপচাপ টেবিলের এক কর্নারে গিয়ে দাঁড়াবে তর আগেই জুথির মা মোমেনা খান বললেন,
‘রাদিফের সাথে যে আরিশ ও দেশে ফিরবে সেটা আমরা কেউই জানতাম না। তাই ওর রুমটা গোছানো হয়নি। যতক্ষণ আমরা খাব তুই গিয়ে আরিশ বাবার রুমটা সুন্দর করে গুছিয়ে মুছে দিয়ে আয়।

ইভা ফারি কিছু বলতে নিলে মোমেনা খান রাগী দৃষ্টিতে ওদের দিক তাকায়, মোমেনা খানের এমন দৃষ্টি দেখে জুথিও আর কিছু বলার সাহস পেল না। সহসা আরিশের প্রতি মনে একরাশ ভয় নিয়ে রুমের দিক এগিয়ে গেল।

আরিশ যেন বাসায় না আসে আল্লাহ আল্লাহ করতে করতে রুমের প্রায় সব কাজ গুছানো শেষ করে এক জায়গায় দাঁড়াতে, সমস্ত শরীর ঘেমে একদম ছুঁই ছুঁই হয়ে গেছে মেয়েটার, সাদা জামা হওয়ার কারণে শরীরের অনেকটা জায়গা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে , অতিরঞ্জিতো গরমে বিরক্ত হয়ে গায়ের ওড়নাটা বিছানার একটা কর্ণারে রেখে ঘর মোছার জন্য বালতি টা হাতে নিল, ঘর মোছার শেষ পর্যায়ে হুট করে আরিশ হুংকার ছাড়তে ছাড়তে রুমের ভিতর প্রবেশ করে, ঠাস করে দরজাটা লাগিয়ে দেয়। হঠাৎ ঠাস করে দরজা লাগানোর শব্দ পেয়ে জুথি মধু কেঁপে ওঠে তাড়াতাড়ি করে পিছনে ঘুরে আরিশ কে দেখে ওর চোখ ছানাবরাদ্দ হয়ে যায়। ওদিকে আরিশের ও সেম অবস্থা, সামনে সেই ফেলে রেখে যাওয়া বাচ্চা মেয়েটাকে চোখের সামনে এত বড় হতে দেখে। আরিশ জুথির দিকে তীক্ষ্ণ চোখে খেয়াল করলো জুথির গয়ে ওড়না নেই, চুলগুলো খোপা করা। শরীরের আকর্ষণীয় অনেক জায়গায় স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে। এটা দেখে আরিশ বাঁকা হাসলো।

কালো প্যান্ট কালো শার্ট ভিতরে সাদা গেঞ্জি, চুলগুলো সামনের দিক অগোছালো। হাতে ব্রান্ডের ঘড়ি, গায়ের রং অনেকটা ফর্সা, লম্বা ৬ ফিট সব মিলিয়ে ছোট ধরনের একটা ক্রাশ খায় জুথি, কিছুক্ষণ আরিশের দিকে ড্যাবড্যাব করে চেয়ে থাকার মধ্যে ওর কানে আসে কঠিন কন্ঠে বলা কিছু কথা,
‘তোকে আমার রুমে আসার পারমিশন দিল কে? আর তোর সাহস বা হলো কি করে আমার রুমে আসার?

ব্যাস এতোটুকু কথাই যথেষ্ট ছিল জুথির ভয়কে বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য, তার জন্যই এই বাড়ি ছেড়েছিল আরিশ, তার জন্যই এতটা বছর সে এই বাড়ি ফিরিনি। এখন এতটা বছর পর বাড়ি ফিরে তার উপর রাগ দেখিয়ে যদি আবার চলে যায়, তাহলে বাড়ির প্রতিটা মানুষ এবার, ওকেই বাড়ি থেকেই বিদায় করে দিবে। সেই ভয়ে কিছুটা পিছিয়ে গিয়ে বলল,
‘বিশ্বাস করেন ভাইয়া, আমি আপনার রুমে মোটেও আসতে চাইনি, আম্মু বলল আপনার রুমটা পরিষ্কার করে দিতে তাই এসেছি।

জুথি পিছিয়ে যেতে, ওর খোপা করা চুলগুলো পিঠ ছড়িয়ে খুলে যেতে আরিশ সেদিক তাকিয়ে বলল,
‘বয়সের সাথে সবকিছুই তো বড় হয়ে গেছে তোর। এখন দেখতে আগের চেয়ে অনেক বেশি হট লাগছে।
‘মানে??
‘আরে তুই মানে বুঝতে পারছিস না, কাছে আয় কি কি বড় হয়ে গেছে ছুঁয়ে দেখাই তাহলেই বুঝে যাবি।

জুথি আরিশের কথা শুনে ভ্রু কুঁচকে নিজের শরীরের দিক ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে ,এবার আরিশের কথার মানে কিছুটা হলেও বুঝলো, একটা বারও ভাবলো না, আরিশ অন্য কিছুর কথাও তো বলতে পারি? কিন্তু জুথি সে সব না ভেবে, নিজে যা বোঝার বুঝে, সাথে সাথে নাউজুবিল্লাহ পরে বিছানার কাছে গিয়ে ওড়নাটা গায়ে ভালোভাবে জড়িয়ে বললো,
‘আপনার রুম পরিষ্কার হয়ে গেছে। আমি এখন যাই।
‘যেতে বলেছি?

কথাটা বলে দু’পা সামনে দিতে আরিশের কথা শুনে পা দুটো থমকে যায় জুথির, ওখানে দাঁড়িয়েই কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
‘থ,থে,থেকে কি করব?

‘আমাকে চুমু খাবি।
‘আস্তাগফিরুল্লাহ নাউজুবিল্লাহ, এগুলো আপনি কি বলছেন ভাইয়া?

বারবার কথার শেষে ভাইয়া ডাকটা শুনে আরিশের আগে থেকে দাউ দাউ করা রাগটা যেন আরো ঝলঝল করে ওঠলো। তাই তেরে গিয়ে জুথির দুই বাহু চেপে ধরে রুক্ষ কন্ঠে বলল,
‘কোন ভাই হইনা আমি তোর, ভাতার হই। বুঝেছিস?

‘’আস্তাগফিরুল্লাহ বিদেশ গিয়ে মনে হয় মাথাটা পাগল হয়ে গেছে। কি সব গাঁজাখুরি কথা বলছে। আবার কত জোরে আমার বাহু টা চেপে রেখেছে। – মনে মনে, এসব কথা ভেবে আরিশের থেকে ছাড়া পাওয়ার জন্য মুছরা মুচরি করে কিছু বলতে যাবে তার আগের আরিশ বললো,
‘অন্যের মুখে প্রশংসা শুনতে খুব ভালো লাগে তাই না? তাদের থেকে এটেনশন নিতে ভালো লাগে? তাদের সামনে ঠ্যাং ঠ্যাং করতে খুব ভালো লাগে তাই না, আর আমার সামনে আসলেই তোর ছোটবেলা থেকে যতসব নাটক শুরু হয় তাই না? আজ তোর এই নাটকের শেষ বয়ে আনবো আমি।

জুথি আরিশের এমন কথায় ভয়ে জামার দুই সাইট শক্ত করে খামচে ধরে,কোনরকম তোতলাতে তোতলাতে বলল,
‘কি এমন করেছি আমি? যে আমাকে দেখার সাথে সাথে আপনি আমার সাথে এমন ব্যবহার করছেন?

‘কি করেছিস তাই না, আজ বোঝাচ্ছি কি করেছিস। – বলে ওকে ছেড়ে একটা মোটা দড়ি এনে ওর হাত দুটো বেঁধদে, জুথি আরিশ কে ওর হাত বাঁধদে দেখে কান্না জরিত কন্ঠে বলল,
‘এভাবে হাতটা বাঁধছেন কেন? ব্যথা পাচ্ছি তো আমি?
‘ব্যথা পা গিয়ে, তুই আজ সারারাত এভাবেই বাঁধা থাকবি।
‘ভাইয়া দোহাই লাগে আপনার , পরশু আমার পরীক্ষা আছে, আমাকে এভাবে আটকে রাখবেন না। ভাই আমি পড়তে পারব না, পরীক্ষা ভালো হবে না। প্লিজ আমাকে যেতে দিন। বিশ্বাস করুন মরে গেলেও এই রুমে আর পা রাখবো না। কোনদিন না। – জোরে জোরে কান্না করে কথাগুলো বলতে আরিশ সেদিক তাকিয়ে জুথির গাল চেপে বলল,
‘এই রুমেই তোর শুরু এই রুমেই তোর শেষ,,

Continue…

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here