প্রিয়_নীলপদ্ম—০৯. #মুশরাফা_মিরা

0
51

#প্রিয়_নীলপদ্ম—০৯.
#মুশরাফা_মিরা
[কোনো প্রকার কপি নিষিদ্ধ]

ঘরভর্তি মেহমান আজকে কালকন্ঠ বাড়িটায়। তানজিম তূর্য নামের ছেলেটা সবার ভিষণ আদরের পুত্র। অথচ জেদ,রাগের বসে সেই আদরের পুত্রটাই পাঁচটা বছর দূরে ছিলো সকলের কাছ থেকে।যেইমাত্র খবর পেয়েছে আদরের পুত্র ঘরে ফিরেছে সকলে হইহই করে চলে এসেছে দেখতে তাকে।সন্ধ্যার দিকে সকলে একজোট হয়ে বসেছে ড্রয়িং রুমে। বেশ অনেক সময় পরে একত্রে হতে পেরেছে এই মানুষ গুলো। ওল্ড জেনারেশন এবং ইয়াং জেনারেশন সকলেই উপস্থিত সন্ধ্যার আড্ডায়।

‘কই-গো গিন্নি, তাড়াতাড়ি চা-পকোড়া নিয়ে এসো।সবাই যে খালিমুখে বসে আছে’

আরিফুর রেহমান হাঁক ছেড়ে ডাকছেন তুলিকে।গরম তেলে পকোড়া ভাজতে থাকা তুলি কর্তার ডাকে বিরক্ত হলেন।নাস্তা রেডি হলে কি তিনি খাবারগুলো নিয়ে যেতেন না তাদের সামনে?এভাবে ডেকে বলার কি আছে আশ্চর্য!

‘উফফ, এই একটা মানুষ!সবকিছুতে এতো অধৈর্য।নৌমি মা চা হয়েছে?দেখ তোর বাবা কিভাবে ডাকছে’

শেষ কাপে চা ঢেলে নৌমি বলে,

‘এইতো হয়ে গেছে আমার।এখন আপনার ছেলের জন্য কফির পানি বসাবো’

‘আচ্ছা আমি নিয়ে যাচ্ছি এসব তুই কফিটা নিয়ে আয়’

সবকিছু গুছিয়ে তুলি নাস্তা নিয়ে গেলো ড্রয়িং রুমে। রান্না ঘরে বসার ঘর থেকে হাসাহাসির আওয়াজ আসছে।নৌমি হাসির কারণ না জেনে হাসলো। কতদিন পরে বাড়িটা ভরা ভরা লাগছে।কত মানুষ একসাথে এসেছে!তূর্য সিঁড়ি বেয়ে নেমে রান্না ঘর পাস করার সময় তাকিয়ে দেখে নৌমি একা একাই হাসছে তা দেখে ভ্রু কুঁচকে গেলো ওর।এভাবে একা-একা হাসার কারণ কি?ভুতপ্রেত…না না এসব কি ভাবছে। তবে নিশ্চয়ই ডিভোর্স দিতে পারবে ওকে সেই আনন্দে একা একা হাসছে,হ্যা এটাই হবে।একা-একা এসব ভেবে অযথা রেগে গেলো তূর্য নৌমির দিকে চেয়ে চেয়ে নিজকে বলল,

‘আমাকে ডিভোর্স দিবে তাই না মিসেস?খুব আনন্দ!উঁহু তাতো হবে না।আমি থাকতে তুমি অন্য কারো হতেই পারবে না নৌমি!’

‘কিরে তান’দা,রান্নাঘরে কি দেখছিস এতো?’

সামিদের উচ্চ স্বরে ড্রয়িং রুমের সবার চোখ পরে তূর্যের দিকে।নৌমিও সামিদের ডাক শুনে পিছু ফিরে তূর্যকে দেখে।উনি এবার এখানে কখন এলেন?কীইবা দেখছে?নৌমি বুঝলো না।

তূর্য কিছুটা অপ্রস্তুত হয় এভাবে সকলের দৃষ্টি নিজের দিকে পরাতে।কি বলবে এখন? নৌমিকে দেখছিলো তাই?তবে এগুলো কি বলা যায় নাকি।আমতাআমতা করে কিছু বলবে তার আগে আরিফুর রেহমান চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে ভাবলেশহীন কন্ঠে বলে,

‘গিন্নি নৌমি আম্মু রান্নাঘরে না?’

তুলি স্বাভাবিক ভাবেই মাথা নাড়ায়।তুলির মাথা নাড়ানোতে বাকিরা যা বোঝার বুঝে যায়।তূর্য যে নৌমিকেই দেখছিলো তা আর বুঝতে বাকি থাকে না কারো।মিটিমিটি হাসলো তাসফি,মেহেরবা আর সামিদ।মেহেরবার মনে পরলো দুপুরের ঘটনা তূর্য-নৌমিকে একসাথে দেখা।সেগুলো তাসফি-সামিদের কানেকানে বলতেই হইহই করে ওঠে ওরা।তাসফি দিকবিদিক ভুলে হাতে তালি দিয়ে বলে,

‘ওহ-হো! তাহলে কাহিনি তো জমে ক্ষীর!’

বাকিরা কেউই বুঝলো না হঠাৎ তাসফির এমন করার মানে।তূর্য কিছুটা লজ্জা পেলেও তা প্রকাশ করে না।এগিয়ে গিয়ে বসে পরে সামিদের পাশে।ও বসতেই সামিদ পিঞ্চ মেরে বলে,

‘কি রে তান’দা তলে তলে তো ভালোই টেম্পু চালাও, হু?’

তূর্য বুঝে-ও না বোঝার ভাং ধরলো।নাকমুখ কুঁচকে তাকালো সামিদের দিকে। মুখে ‘চ’ বর্গীয় শব্দ উচ্চারণ করে বলে,

‘বেশি কথা বললে দিবো কানের নিচে এক চড়।’

সামিদ মুখ লটকিয়ে পকোড়া মুখে দিলো।তূর্যকে ঘাটালো না।নেহাৎ বয়সে বড় বলে চুপ করে গেলো ও।না হলে ভয় পায় নাকি ও তূর্যকে?উঁহু,শুধু সম্মানের খাতিলে চুপ করলো এই-যা।
নৌমি তূর্যের জন্য কফি নিয়ে আসলো।তবে নিজ থেকে দিতে কেমন একটা সংকোচ কাজ করছে ওর মাঝে।তা বুঝে তূর্য হাত বাড়িয়ে কফির কাপ চেয়ে নিলো।নৌমি চুপচাপ গিয়ে বসে তাসফির পাশে।

‘তা বড় আপা কতদিনের সফরে আসলেন এখানে? না মানে ভাইজান বাসায় না?’

আরিফুর রেহমান হুজাইফাকে প্রশ্ন করলো।হুজাইফা বেশ গম্ভীর হয়েই বসে আছে সকালের পর থেকে।এবার মুখ খুললেন,

‘তোমার ভাইজানকে নিয়ে সমস্যা নেই। রিধিশা তো বাসাতেই আছে।মেয়েটা আমার সব কাজে পটু।তাই তে নিশ্চিতে আসতে পারলাম।’

মেহেরবা চা খাচ্ছিলো তবে মায়ের কথায় চা ছিটকে বের হয়ে এলো।তার বোন সবকাজে পটু?এতোবড় মিথ্যা কথা কিভাবে সহ্য করবে ও একঘরে থেকে?ওর আবার সত্য বলার স্বভাব সবাইকে উচিত কথায় মোটেও ছাড় দেয় না সে ঘরের লোক হোক কিংবা বাইরের।তাই মুখ ফসকে বের হয়ে গেলো ওর,

‘আপু সব কাজে পটু হলে অকাজের ঢেঁকি কে আম্মু?’

ব্যাস হুজাইফার মুখের বুলি ফুরিয়ে গেলো।কটমটিয়ে চাইলো ছোট মেয়ের দিকে। সবসময়..সবসময় এই মেহেরবা সত্যি বলে তার পর্দা ফাঁস করে।মেয়েটা তো তার কিন্তু তাকেই সবসময় সবার সামনে অপদস্ত করে এগুলো কি ঠিক?মেহেরবার কথায় সকলে মুখ টিপে হেঁসে ফেললো। সামিদ ওর মামাকে বলে,

‘গুরুউ আজকে একটা ছোটখাটো পার্টি হয়ে যাক?চলো না আজকে রাতে ছাদে বারবিকিউ পার্টি করি!অনেক মজা হবে’

আরিফুর রেহমান মানুষটা প্রফেশনের দিক থেকে যেমন সৎ তেমনই স্ট্রিট।তবে মানুষ হিসেবে অমায়িক, দায়িত্বশীল ও মজাদার একজন।তাই তো মিলতে পেরেছেন হাটুর বয়েসী ছেলেমেয়েদের সাথে।সকলের আবদার তার কাছেই থাকে।তাসফিও আবদার জুড়লো,

‘বাবা করি না আজ?তান’দা ফেরার উপলক্ষে তো পার্টি হোস্ট করারই যায় তাই-না!’

‘বেশ হয়ে যাক পার্টি।চল শিষ্য বাজারটা করে আসি’

তাসফি ওরা হট্টগোল লাগিয়ে দিলো অনুমতি পেয়ে। বড়রা হাসলো এদের পাগলামোতে।নৌমিও খুব খুশি হলো তবে বউ মানুষ হওয়ার দরুন তাসফিদের মতো ওমন করতে পারলো না।আরিফুর রেহমান তূর্যর পাশ কাটিয়ে চলে যাওয়ার সময় ওকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলে গেলো,

‘শুধু মুরগির দিকে তাকিয়ে থাকলেই আদর্শ শিয়াল হওয়া যায় না।শিকার করার কৌশল জানতে হয়,মূর্খ।’

শিয়াল-মুরগি!ওকে কি বাবা কোনোভাবে শিয়ালের সাথে তুলনা করেছে? আর নৌমিকে মুরগি?এতো..এতো বড় অপমান!শেষমেশ ক্যাপ্টেন তানজিম তূর্য বাবার কাছে শিয়ালের খেতাব পেলো,বাহ!

চলবে…?

[ ছোট পর্ব দিয়েছি বলে মেজাজ গরম হচ্ছে পাখি?আমার উপর রাগ করার আগে কিছু বলি শোনা, আজকে আমি ঠিক কতটা ব্যস্ত ছিলাম বলে বুঝাতে পারবো না।বাসায় আজকে প্রায় চল্লিশজন মানুষের খাবারের আয়োজন করা হয়েছিল। বুঝতেই পারছো এই সময় কেমন ব্যস্ততা কাটতে পারে।ঘরে মানুষ ভর্তি এই সময় ফোন হাতে নিয়ে গল্প লিখতে যে কি প্যারা।সারাদিন একটি শব্দ তো লিখতে পারিই নি যেই সন্ধ্যার পরে নিলাম হাতে ফোন সবাই একটু পরপর ডেকেই চলেছে।আম্মু ফোন চাইছে…উফ কি যে প্যারাদায়ক দিন আজকে না দেখলে বুঝবে না পাখি।তাই আজকের মতো এই অধমকে ক্ষমা করো ছোট পর্ব দেওয়ার জন্য। আমি জানি আমার পাখি বুঝবে।রিচেক দেওয়ার সময় টুকু পাচ্ছি না।বানান ভুল হলে ধরিয়ে দিবে আর কষ্ট করে মানিয়ে নিও,হ্যাপি রিডিং]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here