#প্রিয়_নীলপদ্ম —১৩.
#মুশরাফা_মিরা
[কোনো প্রকার কপি নিষিদ্ধ!নিচের নোটটি অবশ্যই পড়বে পাখিই]
সেইদিনের পরে পেরিয়ে গেছে পাঁচ-ছয় দিনের মতো সময়।সময় কত তারাতাড়ি চলে যায় আর সময়ের সাথে সাথে মানুষও বদলায়। যেমন যেই তূর্য নৌমির সাথে বিয়ে হওয়াতে বাড়ি ছেড়ে ছিলো পাঁচটা বছর এখন সে-ই নৌমিকে মানানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।তার একটাই কথা নৌমিকে তার চাই,নৌমি শুধু তার।তবে নৌমি যে মানুষ সেকি এতো তাড়াতাড়ি তূর্যের জালে ধরা দিবে?উঁহু! আরেকটু অনুতপ্ত হোক না হয়।এমন নয় যে নৌমি এখনও রেগে আছে তূর্যের উপর। তূর্যের এতো-এতো ক্ষমা চাওয়া দু’টো ভালোবাসার কথায় সেই কবেই রাগ উধাও হয়েছে এখন যা আছে তা শুধু অভিমান!অবশ্য মেয়ে মানুষ তো প্রিয় মানুষের একটু ভালোবাসা, আদরেই গলে যায়।ভুলে যায় বিগত দিনের কষ্ট।
নৌমি সে রাতে নিজ রুমে আসার পরে দুচোখের পাতা এক করতে পারে নি একটি বারের জন্যও।চোখ বুঁজলেই ভেসে ওঠে ওই মুহূর্তটি।লজ্জায় লাল হয়ে আসে মুখমন্ডল। অজান্তেই হাত চলে যায় গালে-ঠোটে।
পরদিন থেকে নৌমি যতটা পেরেছে তূর্যকে এড়িয়ে চলছে বুঝাতে চেয়েছে তূর্যের কান্ডে নৌমি বেজায় রেগে আছে।কথা বলার সুযোগই দেয়নি তেমন। ভার্সিটি যাওয়ার ইচ্ছে না থাকলেও গিয়েছে তূর্যের সামনে না পরার ধান্দায়।তাই তূর্য-ও চাইলেও কথা বলতে পারেনি নৌমির সাথে।
________________
আজকে শুক্রবার বিধায় নৌমি বাসা থেকে বের হতে পারেনি। তাছাড়া আজকে বাসায় গেস্ট আসবে আরিফুর রেহমানের বন্ধু ও তার ছেলে।নৌমি ভাবলো কাজে ব্যস্ত থাকলে হয়তো আর তূর্যের সামনে পরতে হবে না।ও দেখেছে তূর্য ঠিক কতটা ছটফট করেছে ওর সাথে কথা বলতে তাতে কি?নৌমিও তো কম ছটফট করেনি এতো বছর তাইনা?
রান্নাঘরে তুলি সমানতালে কাজ করছে। বাড়িতে মেহমান আসবে তাদের জন্য তো তেমনই আয়োজন করা উচিত তাই-না? নৌমিও তুলির হাতে হাত লাগায়।ওকে দেখে তুলি একগাল হেঁসে বলে,
‘তোর না মাথা ব্যাথা?আগুনের কাছে আসলি কেন মা?ব্যাথা আরো বাড়বে তো’
নৌমির খুব ভালো লাগে তুলির এই আদুরে ডাকটা।নিজের মা যে নেই তা বুঝতে দেয় না তুলি এমন ভাবেই আগলে রাখে ওকে।তুলির হাতদুটো নিজের হাতের মুঠোয় নিয়ে বলে,
‘আপনি এতো ভালো কেন আম্মু?এতো ভালোবাসেন কেন আমায়?’
‘কেন তোমার ভালোবাসা খারাপ লাগে তোর কাছে?’
‘উঁহু মোটেই না।তবে খারাপ হলে অন্য বউদের মতো আফসোস করতে পারতাম। সবাইকে কাছে গিয়ে আপনার নামে নালিশ করতাম’
‘পাঁজি মেয়ে একটা।তোর মনেমনে এই ছিলো তবে!’
নৌমির কাঁধে হালকা থাপ্পড় মেরে বলে তুলিই।নৌমি হাসলো ওকে হাসতে দেখে তুলিও হেঁসে ফেললো।তূর্য নিচে নামছিল রেডি হয়ে বাবার বন্ধু আর ওর বন্ধুকে আনতে যাওয়ার জন্য। একটা মজার ব্যাপার হলো আরিফুর রেহমানের বন্ধুর ছেলে আবার তূর্যের বন্ধু।তবে মা-বউকে হাসতে দেখে দাড়িয়ে গেলো।
নৌমির উপর রাগটা গাঢ় হলো।কয়েকদিনের এড়িয়ে চলাটা মোটেও হজম হচ্ছে না ওর।তারউপর কথা বলতে গেলেই থমথমে মুখ করে রাখে আর এখন মায়ের সাথে হাসছে।বউয়ের মুখদর্শন পাওয়ার ফন্দি এঁটে গিয়ে বসে সোফায়। তুলিকে ডেকে বলে কফি দিতে।তুলি ছেলের ডাক শুনে হাসি থামিয়ে নৌমিকে বলে,
‘কফির পানি বসা তূর্যর জন্য কফি বানাতে হবে’
নৌমি পাতিলে পানি ঢালতে ঢালতে মুখ বাকাঁলো।লাটসাহেব এসেছে হুহ্, হুকুম করবে আর তাকে সব জিনিস এগিয়ে দিতে হবে।কফি হয়ে গেলে তুলিকে বললো কফিটা দিয়ে আসতে এতে তুলি অবাক হয়ে বলে,
‘তুই থাকতে আমি কেন কফি দিতে যাবো?ছোট থেকে পেলেপুষে বড় করেছি এখন আমার দায়িত্ব শেষ। বাকি জীবন তুই সামলা’
‘আমি মানে’
‘যা বলছি যা…’
তুলির কড়া ধমকে নৌমি কিছু করতে পারলো না। অগত্যা ওকেই কফি নিয়ে যেতে হলো তূর্যের জন্য।তূর্য নৌমির আসার অপেক্ষাতেই ছিলো। ওকে আসতে দেখে দাড়িয়ে পরে।ভ্রু-যুগল কুঁচকে রেখে বলে,
‘তুমি আমার ইগনোর করছো নৌমি!হোয়াই?’
‘আপনাকে ইগনোর করতে যাবো কেন আজিব! আমার পড়াশোনার প্রেশার বাড়ছে তাই’
‘ওহ্ আচ্ছা? তাহলে আমি না থাকলেই তো দিব্যি ঘুরে বেড়াও,হাসি-ঠাট্টায় মজে থাকো তখন কোথায় থাকে তোমার পড়াশোনার চাপ?নৌমি..নৌমি শোনা এমন করছো কেন?এসব আমার ভালো লাগছে না।শেষ করো,প্লিজ!’
নৌমি যেনো বুঝতে চাইলো না তূর্যের কথার মানে। বুঝে-ও অবুঝ সেজে বলে,
‘কি ভালো লাগছে না আপনার? আমার এড়িয়ে চলা?’
‘ইয়েস!আমি সহ্য করতে পারছি না।’
‘আমি কিভাবে সহ্য করেছি এতো বছর? এ ক’দিনেই হাঁপিয়ে গেলেন তূর্য?’
‘আমি কিছু জানি না তবে তুমি আমার সাথে কথা বলো,হাসো।কেন আমার সাথে তুমি হাসো না নৌমি?ওই একটা ভুলকে কতদিন পুষে রাখবে মনে?আমি অনুতপ্ত!প্লিজ’
‘আমি…’
‘তুমি এখনও এখানে দাড়িয়ে আছো তূর্য?ওরা ওয়েট করছে তোমার জন্য। এতোটা কান্ডজ্ঞানহীন কবে হলে তুমি?’
আরিফুর রেহমানের আগমনে নৌমি চুপ হয়ে যায়।টি-টেবিলে কফির কাপটা রেখে রান্না ঘরের দিকে যায়। মূলত তূর্যর সামনে থেকে সরতে চায়।তূর্য দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ে নৌমির চলে যাওয়াতে। বাবার বিরক্তিমূলক কথার বিপরীতে বলে,
‘যাচ্ছি আমি’
দাঁড়ালো না জলদি পায়ে বাড়ি ছাড়লো তূর্য।কফির কাপটা অবহেলায় পড়ে রইলো টেবিলে।ছেলে-বউয়ের প্রায় কথাই তার কানে এসেছে, ভাবলেন কিছু।একা-একা বিরবির করে বলে,
‘মাত্র ছোট একটি পরীক্ষা মাই সান। পাশ করলেই জয় তোমার হাতে!’
_____________
বন্ধুকে বাসায় এনে তূর্যর হাসিমুখখানা চুপসে গেলো।বিরক্তিতে মাথা ধরে যাচ্ছে।এই বিরক্তির কারণ হলো শুভ্র বাসায় আসার পর থেকেই নৌমির দিকে তাকাচ্ছে বারংবার।অযথা এটা-সেটা নিয়ে কথা বলছে নৌমির সাথে যা মোটেও সহ্য হচ্ছে না তূর্যের।নৌমি ও বেশ ভালোই হেঁসে হেঁসে কথা বলছে শুভ্রের সাথে তাতে তূর্যর রাগ সাত আসমানে।ছেলেটা কিছু বলতেও পারছে না সইতেও পারছে না শুধু সাপের ন্যায় ফোসফাস করছে।শুভ্র এবার ওর দিকে ফিরে বলে,
‘কিরে ভাই এভাবে থম মেরে বসে আছিস কেন?কথা বলছিস না তারউপর ফোসফাস করছিস।নাক বন্ধ? সর্দি হয়েছে?’
শুভ্রের শেষ কথায় নৌমি ফিক করে হেসে রান্না ঘরের দিকে হাঁটা ধরে। তূর্য রাগান্বিত চোখে একবার নৌমিকে দেখে শুভ্রর দিকে দাঁত কিড়মিড়িয়ে বলে,
‘আমাকে চোখে পড়ছে তোর?সেই কখন থেকে ক্যাবলার মতো হেঁসে হেঁসে নৌমির সাথে কথা বলেছিস।বলার সুযোগ দিয়েছিস আমায় একবারও?’
শুভ্র ঠোঁট চেপে হেঁসে তূর্যের গা ঘেঁষে বসে। কানের কাছে ফিসফিস করে বলে,
‘পুড়ছে ব্রো?’
‘হোয়াট!’
‘তোর বউয়ের সাথে কথা বলছি দেখে তোর জ্বলছে তাই-না? আর ইয়্যু জেলাস ব্রো?’
‘অবশ্যই!আমার বউয়ের সাথে কথা বলবি কেন তুই হ্যা?ভদ্রতার খাতিলে তোকে কিচ্ছু বলতে পারছি না এখন। বিশ্বাস কর শুভ্র তোকে একা পাই একবার মুখ ভেঙে দেবো আমি’
শুভ্র হা হয়ে তাকিয়ে থাকে তূর্যের মুখের দিকে। এ ও কাকে দেখছে,সবসময় কুল থাকা ছেলেটা বউয়ের সাথে কথা বলাতে এভাবে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠছে!বোকা বোকা হেঁসে বলে,
‘আরে কুলকুল নিয়ে যাচ্ছি না তোর বউকে।জাস্ট কথাই তো বলছি।আর তুই যদি ওকে বিয়ে না করতও তাহলে…’
তূর্য চোখদুটো ছোট ছোট জিজ্ঞেস করে,
‘তাহলে?’
শুভ্র তূর্যকে এবার বাগে পেয়েছে। মনস্থির করলো ছেলেটাকে আজকে ভিষণ জ্বালাবে।তূর্যের আরো গা ঘেঁসে শরীর নাচিয়ে হেঁসে হেঁসে বলে,
‘আমি নৌমিকে বিয়ে করতা…ও মাগো’
কথা শেষ করতে পারলো না এর আগেই ওর পিঠে কিল বসায় তূর্য।ব্যাথায় চোখমুখ খিঁচে বন্ধ করে।হঠাৎ শুভ্রের এমন চিৎকারে বসার ঘরে বসে থাকা এনামুল হক, আরিফুর রেহমান আর হাফসা সকলে কৌতূহলী হয়ে তাকায় ওর দিকে।তারা কথাতে ব্যস্ত ছিলো তাই এদিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়নি তাদের। শুভ্রের চিৎকারে নৌমিও রান্না ঘর থেকে বেরিয়ে আসে।
শুভ্রের চিৎকারে নৌমি কেন আসলো?কি কারণ? তূর্য যদি এমন করে চিৎকার করতো তাহলে কি নৌমি আসতো?— উফ তূর্য! তুমি পাগল হয়ে যাচ্ছো।এমন করছো কেন? একা-একা নানান কল্পনা করলো তূর্য।
‘কি হলো শুভ্র ভাইয়া?’
সবার তরফ থেকে নৌমিই প্রশ্নটি করে।এতে তূর্য চোয়াল শক্ত করে।শুভ্র সকলের নজর নিজের উপরে দেখে মেকি হেঁসে বলে,
‘কিছু না কিছুনা হূট করেই পেট..না না মাথায় মোচড় দিয়ে উঠেছে।’
ঢলছে পিঠ আর বলছে মাথায় মোচড় দিয়ে উঠেছে?আর মাথায় কখনো মোচড় দেয়? এটা তো লজিক ছাড়া যুক্তি হয়ে গেলো!তবে কেউ কিছু বলে না হালকা হেসে নিজ কাজে মনোযোগ দেয়।তবে নৌমি ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে বোঝার চেষ্টা করে আসলে হয়েছেটা কি এখানে। তূর্যের তা সহ্য হলো না।কড়া গলায় নৌমিকে রান্না ঘরে যেতে বললো।নৌমি তূর্যের দিকে ভ্রু কুঁচকে ভেংচি কেটে যায় ওখান থেকে।
___________
খাওয়া দাওয়া, আড্ডা শেষে শুভ্ররা এখন বাড়ি ফিরবে। শুভ্র এখন যাবে তাই হাসি ফুটলো ওর মুখে। যাক বাবা আপদ বিদায় হবে এখন! তবে শুভ্র বুঝতে পারলো তূর্যের হাসির কারণ। শেষ বারের মতো তূর্যকে জ্বালাতে নৌমিকে ডাকে,
‘নৌমিইই!’
নৌমি এনামুল হকের সঙ্গে কথা বলছিলো শুভ্রের ডাকে ওর কাছে গেলো।তূর্য দেখলো নৌমি শুভ্রের কাছে যাচ্ছে তাই ও-ও সদর দরজার দিকে গেলো।এগিয়ে দেখে হেঁসে হেঁসে দু’জনে বেশ ভালোই কথা বলছে।তূর্য আর সহ্য করতে পারলো না তা।এগিয়ে গিয়ে খপ করে ধরলো নৌমির হাত। হাতে হঠাৎ টান পড়ায় চমকে ওঠে নৌমি শুভ্র ঠোঁট কামড়ে হেসে দেখে বন্ধুর কার্যকলাপ।
‘আরে..আরে এদিকে কই নিয়ে যাচ্ছেন আমায়?’
নৌমির কথায় কান দিলো না তূর্য টেনে নিয়ে গেলো বাগানের দিকে।দেয়ালের পাশে এনে নৌমিকে ছাড়ে।ওর চোখ দু’টো বেজায় লাল হয়ে আছে। নৌমি ভয়ে ভয়ে দেখলো তা।ছেলেরা অতিরিক্ত রাগলে তো এমন চোখ হয়।তাহলে তূর্যও নিশ্চয়ই রেগে আছে। ওর উপর? কিন্তু কেন?চালাক নৌমি ইদানীং বোকা হচ্ছে।তূর্য বিষয়ক সব জিনিসে নৌমির বোকামো লক্ষ করা যায়।তাই বোকা নৌমি তূর্যের রেগে যাওয়ার কারণটিও বুঝলো না।
‘আপনি.. আপনার হঠাৎ কি হলো আবার?’
‘তুমি বোঝা না কিছু? তুমি তো বোকা নও নৌমি!’
‘কিসব বলছেন? আমি বোকা হতে যাবো কেন?’
তূর্য শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরলো নৌমির দুবাহু। হিসহিসিয়ে বলে,
‘ আমাকে সবসময় ইগনোর করো।মানলাম আমার ভুল আছে, রেগে আছো আমার উপর।তবে কেন তুমি অন্যের সাথে কথা বলবে?শুভ্রের সাথে এতো কি কথা তোমার?’
‘ আশ্চর্য তো!আপনি এমন ডেস্পারেট হচ্ছেন কেন? শুভ্র ভাইয়ের সাথে কথা বললে কি ক্ষতি?’
‘বলবে না তুমি!আমি ছাড়া আর কারো সাথে কথা বলবে না তুমি।’
তূর্যের এমন রাগে,কথায় নৌমি হতভম্ব। এমন করছে কেন তূর্য?এতো পজেসিভনেস কেন ওর প্রতি?ভালোবাসা!অল্প ক’দিনে হয় তা?নাকি নৌমিই বেশি বেশি ভাবছে।আরেকটু পরীক্ষা করতে নৌমি বললো,
‘কেন বলবো না।একশোবার বলবো দরকার পরলে লাইভে গিয়ে সব ছেলের সাথে কথা বলবো।’
‘নৌমিই!’
গর্জে ওঠে তূর্য।রাগে ওর ঠোঁট কাঁপছে, কানের উপর অংশ লাল হয়ে এসেছে, ফর্সামুখ ভয়ংকর লাল হয়ে আছে।তূর্য নিজেকে শান্ত করতে পারলো না নৌমির কথায়।শক্ত হাতের ছোঁয়া পরে নৌমির গালে।মূহুর্তেই গালটা পুড়ে ওঠে ওর।কি জ্বলন!প্রশিক্ষন প্রাপ্ত হাতের থাপ্পড় খেয়ে নৌমি প্রায় জ্ঞান হারানোর পথে।রাগান্বিত তূর্য বর্তমানে কি করছে তা বুঝলো না।নৌমির কোমড় ধরে কাছে টেনে হিসহিসিয়ে বলে,
‘আরেকবার এই কথাটা বলো জিভ কেটে ফেলবো একদম!’
তূর্যের কথায় কেঁপে উঠল ও।ঘুনাক্ষরেও ভাবেনি তূর্য ওকে মারবে।চোখে পানি টইটম্বুর হয়।তবে কাঁদে না শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে মাথা নিচু করে।তূর্য যেনো একটু শান্ত হলো।নৌমির থুতনি ধরে মাথা জাগায় ওর।নৌমি এপর্যায়ে চোখ খিঁচে বন্ধ করে রাখে।
‘কেন কথা বলেছো এতো হেঁসে হেঁসে শুভ্রের সাথে? উত্তর চাই আমার। স্পিক আপ!’
যদি উত্তর না দিলে আবার মারে?তাই চুপ থাকে না ও ঝটপট উত্তর দেয়,
‘উনি বাড়ির অতিথি!’
‘অতিথি তো সামিদও ছিলো। ওর সাথে তো এতো কথা বলোনি হেঁসে হেঁসে। শুধু শুভ্রের বেলাতেই কেন?’
নৌমি অবাক না হয়ে পারে না।কই ও হেঁসে হেঁসে কথা বললো?আন্তরিকতার খাতিলে মেপে ঝেঁপেই তো কথা বললো ও।তূর্যর মাথা থেকে সরছে না শুভ্রর বলা কথাটা যে ‘তূর্য বিয়ে না করলে শুভ্র নৌমিকে বিয়ে করতো’ এই কথাটা যতবার মনে পরছে ততবারই মেজাজ গরম হচ্ছে ওর।
‘কি হলো বলছো না কেন?’
ফের ধমকে ওঠে তূর্য।ইষৎ কেঁপে উঠে নৌমি কান্না ভাঙা কন্ঠে বলে,
‘বাবা বলেছে খেয়াল রাখতে শুভ্র ভাইয়ার যাতে কোনো অসুবিধা না হয়।’
বলতে বলতে চোখ বেয়ে পানি গড়িয়ে পরে নৌমির।তূর্য দেখলো তা তবে অনুতপ্ত হলো না একটুও।নৌমির কোমড় ছেড়ে দেয়।উল্টো দিক ঘুরে ঘাড় এদিক-ওদিক ঘুড়িয়ে বিরবিরিয়ে বলে,
‘বাবা হয়ে ছেলের সংসার ভাঙার ফন্দি আটাঁর জবাবদিহি তোমায় আজকে করতে হবে, বাবা!’
চলবে….?
[বছর ঘুরে রমজান চলেই এলো আলহামদুলিল্লাহ!প্রতিটা মুসলমানদের জন্য আনন্দের মাস হাজির হলো আবারও।এই আনন্দের ভাগাভাগি করা হবে সকলের প্রিয় মানুষদের সাথে ইনশাআল্লাহ।
তো রমজান মাসে অনিয়ম হবে আমার আমি নিশ্চিত।ক্লান্ত শরীর, ইবাদত পালন সহ নানান কাজে কতটুকু সময় দিতে পারবো লেখালেখিতে এ বিষয়ে আমি সন্দিহান!শরীরের উপর প্রেশার দিয়ে আমি কিছু করতে চাই না।লেখালেখি তো শখের জিনিস তাই-না? জোড় করে হয় না। তাই ঠিক করেছি গল্প একদিন পরপর আসবে।ধীরেসুস্থে লিখতে চাই।এরপর গল্প আসবে ‘শনি-সোম-বুধ’— এই তিনদিন দুপুর দুটে-তিনটের মধ্যে। !যারা গল্পটিকে পছন্দ করো তারা নিশ্চয়ই আমার সঙ্গে থাকবে? এটুকু বিলম্ব মেনে নিবে,তাই-না? আর আর..কতটুকু বড় করে লিখতে পারবো তাও জানি না।তবে বড় করে লেখার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
আমি জানি সকলে বুঝবে,কারো সমস্যা হবে না।ভালোবাসার আমার… রাগ করবে না তো আমার উপর? একটু সময় সয়ে নিবে না?হ্যাপি রিডিং]

