প্রিয়_নীলপদ্ম —১৪. #মুশরাফা_মিরা

0
48

#প্রিয়_নীলপদ্ম —১৪.
#মুশরাফা_মিরা
[কোনো প্রকার কপি নিষিদ্ধ]

তূর্য বাড়ির ভিতরে এসে বোঝে শুভ্ররা চলে গেছে। নিশ্চয়ই যাওয়ার আগে তূর্যের অপেক্ষায় ছিলো!তবে তূর্যর সেদিকে খেয়াল কোথায়?সে-তো এখন বউকে নিয়ে ঝামেলায় ব্যস্ত।তুলি সোফায় বসে চোখ বুঝে ছিলেন আজকে কাজের চাপ বেশ ভালোই ছিলো। নৌমি সাহায্য করেছে যথেষ্ট তবে তুলি সংসারের কর্তী কাজটা একটু বেশিই তার।তারউপরে তাসফিও বাসায় নেই রুখসানা নিয়ে গেছে। কারো উপস্থিতি টের পেয়ে চোখ খুললো তুলি।তূর্যকে দেখে একগাল হেঁসে বলে,

‘কোথায় ছিলি বাপ?শুভ্র যাওয়ার সময় তোকে খুজেছিলো।অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে চলে গেছে।’

মায়ের সামনে নিজের রাগ প্রকাশ করতে অনিচ্ছুক তূর্য।তাই নিজেকে যথাসম্ভব শান্ত রেখে বলে,

‘জরুরি কল আসায় বেড়িয়ে ছিলাম একটু। সমস্যা নেই আমি শুভ্রের সাথে পরে কথা বলে নিবো।বাবা কোথায়? ঘরে?’

তুলি একটু অবাক হলেন বাপ-ছেলের তেমন কথা হয়না আগের মতো।এখন হূট করে তূর্য খুঁজছে তাই একটু অবাক হলেও আমলে নিলো না।সরল মনে বলে,

‘ঘরে বোধহয়!কেন?’

‘দরকার আছে একটু’

‘আচ্ছা নৌমিকে দেখেছিস?মেয়েটাকে সেই কখন থেকে দেখছি না’

তূর্য সিড়ি ভেঙে উপরে উঠতে উঠতে বলে,

‘জানি না আমি,দেখিনি’

তুলি চিন্তায় পড়ে গেলো, কোথায় যেতে পারে?না বলে তো নৌমি কোথাও যায় না।অথচ সেই কখন থেকে গায়েব।

___________________

তূর্য রাগ মাথায় আরিফুর রেহমানের ঘরে ঢুকলো। ঢুকেই পা থেমে গেলো এতোক্ষণের রাগগুলো কেমন নড়বড়ে হয়ে গেলো,কেন?সামনে বাবা বলে?আরিফুর রেহমান বারান্দায় রকিং চেয়ারে বসে চোখ বন্ধ করে আছেন।তূর্য চারিদিকে ভালো করে চোখ বুলালো। ঘরটা সেই আগের মতোই আছে একটুও বদলায় নি।ছোট বেলাতে দেয়ালের একপাশে তূর্য রং দিয়ে হাতের ছাপ ফেলেছিলেন।এখনও সেই যায়গা তেমনই আছে।দেয়াল নোংরা করাতে তুলির সেকি রাগ!অথচ আরিফুর রেহমান হেসে ছেলেকে কোলে উঠিয়ে দু গালে চুমু খেয়ে বলেছিলেন,

‘আমার ছোট তানের হাতের ছোয়া ছড়িয়ে দিয়েছে আমার ঘরে।এটা থাকুক আজীবন!’

আরিফুর রেহমান কথা রেখেছেন।ঘরের সবখানে পরিবর্তন আনলেও এই জায়গাটা ঠিক তেমনই আছে।এতো ভালোবাসার মানুষ হওয়া সত্ত্বেও এখন আর কথা বলে না আরিফুর রেহমান তার সাথে। এতো অভিমান জমেছে ওর উপর!তূর্য গোপনে দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ে।

‘আমার ঘরে ক্যাপ্টের তানজিম তূর্যের আগমন,আশ্চর্যের বিষয় তো!’

বাবার তাচ্ছিল্যের কন্ঠে বলা কথাতে তূর্য হাসলো, মনে কিছু নিলো না এগুলো যে ওর পাওনা।তূর্য বারান্দায় গেলো হাটু গেঁড়ে বসলো বাবার সামনের মেঝেতে। ছেলের এমন করাতে হকচকিয়ে যায় আরিফুর রেহমান।কি হলো হঠাৎ?

‘বাবা আমায় কি ক্ষমা করা যায় না একটিবার?’

‘কোনটার জন্য ক্ষমা চাইছো মেয়েটাকে বিয়ের আসরে অপমানের মুখে ফেলে যাওয়ার? কোনো খোঁজখবর না নেওয়ার?বাবা-মায়ের অবাধ্য হওয়ার?বাবার সাথে মিছে রাগ করার? কোনটার তূর্য?তোমার ভুলের যে সীমা নেই!’

তূর্য অপরাধবোধে মাথা নীচু করে ফেলে।নিজের হয়ে সাফাই গাওয়ার ক্ষমতা তার নেই।তবুও কিছু না বললে তো নয়!

‘বাবা আমার ভুলতে সীমা নেই আমি জানি,মানি তবে দেখো আমি প্রতিনিয়ত অনুতপ্তের আগুনে জ্বলছি।আমার করা ভুল আমায় কুঁড়েকুড়ে খায়।এই পাঁচটা বছরের আমি নিজের কাছে নিজে কতটা বাজেভাবে হেরে গিয়েছি যা বলার মতো নয়।লজ্জায় মেয়েটার কথা জিজ্ঞেস করতে পারিনি তাছাড়া কোন মুখে জিজ্ঞেস করতাম বলো?তাই ওদিকের ঝামেলা সম্পূর্ণভাবে শেষ করে ফিরতে চাইছিলাম বাড়িতে।অনুমতিও পেয়েছি বিয়ে করার।তুমি তো জানো যে একজন সেনাবাহিনী অফিসারের বিয়ের একটা নিদিষ্ট সময় সীমা থাকে সেটা পেয়েছি। এখন সমস্যা নেই আর।তোমরা আমায় ক্ষমা করো না বাবা!আমি পারছি না এতো অপরাধবোধ নিয়ে বাঁচতে!’

কিছু সময়ের জন্য আরিফ কথা বলতে ভুলে গেলো। ছেলেটা সত্যিই অনুতপ্ত চোখমুখে তার ভাব স্পষ্ট।ছেলের সাথে মনোমালিন্য করে তিনিও যে ভালো নেই।ছেলের কাঁধে হাত রেখে বলে,

‘তুমি সত্যিই অনুতপ্ত তান?’

তান!বাবার কাছ থেকে পাওয়া আদুরে ডাক।কত বছর পরে শুনলো ও!তারমানে বাবার রাগ পরে গেছে? ভাবতেই চোখমুখ চিকচিক করে ওঠে। ছোটবেলার মতো জাপ্টে ধরে বাবার কোমড়।পেটে মুখ গুঁজে বলে,

‘আমি মন থেকে ক্ষমা চাই বাবা।তোমার কথা,ভালোবাসা সব মিস করি খুব।কতদিন তোমাকে কাছে পাইনা,তোমাকে জড়িয়ে ধরতে পারি না বাবা!’

ছেলের বাচ্চামোতে আরিফুর রেহমানের চোখে পানি এসে গেলো।কে বলেছে ছেলেরা বড় হলে বাবার থেকে দূরে সরে যায়?বাবার প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারে না?কিন্তু তার ছেলে তো এমনটি নয়।এযে বাবা বলতে পাগল!অথচ মিছে অভিমানে দূরে ছিলো এতো বছর। আরিফ ছেলের পিঠে হাত বুলিয়ে প্রাপ্তির হাসি হেঁসে বলে,

‘তুমি বড় কেন হলে তান?’

‘তোমার বাবা হওয়ার জন্য!’

ছেলের বাঁদরামোতে এবার শব্দ করে হেঁসে উঠলো আরিফ।তূর্য মাথা তুলে দেখলো সে হাসি।কতদিন পরে বাবাকে হাসতে দেখলো ও!

‘ বাঁদর ছেলে,ফাজিল হয়েছো অনেক’

‘সবই তোমার দোয়া বাবা’

আরিফ চোখ ছোটছোট করে ছেলেকে দেখলেন একদম তারই প্রতিচ্ছবি তূর্য।তূর্য এবার কথা তুললো নৌমির ব্যাপারে,

‘বাবা তুমি আমার বিয়ে ভাঙ্গার ব্যবস্থা কেন করছো বলো?’

‘আমিই!কিভাবে?’

তূর্য মেঝেতে বসে বাবার চোখে চোখ রেখে বলে,

‘ডিভোর্স করাতে চাওয়া, পাত্র ঠিক করতে চাওয়া, শুভ্রের সাথে কথা বলাতে চাওয়া—এগুলো কিসের লক্ষ্মণ?’

‘তোমার অনুভূতি জানান জন্য এগুলো প্ল্যান করেছিলাম তান।বুঝিয়ে বলছি,তুমি যে বাড়ি ফিরবে তা যেনেই আমি বাড়ি এসেছি।তোমার সুখের সংসার দেখার আশায় বুদ্ধি করি তোমার মনের অনুভূতি জানান নৌমির প্রতি।তোমাকে রাগিয়ে, জ্বালিয়ে দেখছি তুমি আসলে কি চাও।’

তূর্য হা হয়ে যায় বাবার কান্ডে।এতো ধুরন্দর ওর বাবা!তা ও একটুও বোঝেনি। তূর্য তুমি এতো বোকা কবে হলে?নিজের বাবাকে তো অন্তত বোঝা উচিত ছিলো তোমার। নিজেকে নানা ভাবে শাঁসালো,কথা শুনালো।আরিফ ছেলের মুখ দেখে আন্দাজ করলো কিছু। পিঠে হাত বুলিয়ে বলে,

‘আমার থেকেও নৌমির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত তোমার বেশি জরুরী তান।তার সাথে অন্যায় করার ভাগটা একটু বেশিই!’

‘জানি বাবা,প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাচ্ছি কিন্তু তার পাথুরে মন কোনোভাবেই গলছে না’

‘তুমি নৌমিকে চিনতে পারোনি,ওর মন পড়তে শেখনি এখনও!’

তূর্য চমকে তাকায় আরিফের দিকে।ওর ভুল এখানেও আছে?

‘মানে?’

‘নৌমি মেয়েটা ভিষণ নরম স্বভাবের। উপরে নিজেকে খুব শক্ত রাখতে চায় অথচ মনটা ভাঙা ওর।মাকে হারিয়েছে চারবছর হয়,বাবা থেকেও পর তারউপর যার সাথে বিয়ে হলো সেই হতচ্ছাড়াটাও বোকা!বউ রেখে পালিয়েছে, খবর নেয় না।এতোকিছুর পরে-ও মেয়েটা যে টিকে আছে এটাই অনেক!’

আরিফ দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ে। নৌমির কথা ভাবলে তার ভিষণ কষ্ট হয় ওমন ফুলের মতো মেয়েটার ভাগ্যটা কত কষ্টের।আর সবথেকে বড় কষ্টটা তো তারাই গুজে দিয়েছে মেয়েটার কপালে।তাই নিজেদের অন্যায়ের ভার সরাতে নৌমিকে আগলে রাখে,ভালোবাসে।তূর্য এতোকিছু জানতো না জেনে নিজের উপর রাগ হলো আরো,ভিষণ।

‘আমি সত্যিই অন্যায়কারী। যার ক্ষমা এতো সহজে মেলার কথা না!’

তূর্যের হতাশাজনক কন্ঠে আরিফ বুঝলো ছেলেটা তার সত্যিই নিজের কাজে লজ্জিত। তাই আর খোঁচালো না।আস্বস্ত করে বলে,

‘মেয়েটা একটু ভালো করে আগলে নিও দেখবে সব ভুলে তোমায় ভালোবাসবে।মেয়েরা একটু বেশিই বোকা হয়, জানো? তারা একটু ভালোবাসা পেলেই সব ভুলে যায়।রাগারাগি করো,মারো এরপরে একটু ভালোবাসার কথা বলো দেখবে সব ভুলে যাবে।আমি জানি তুমি ওকে মেনে নিয়েছো,সংসার চাও!সমস্যা নেই একটু বুঝিয়ে কথা বলো তাহলে সব ঠিক হয়ে যাবে।মনে রেখো তূর্য ভালোবাসার মানে সম্মান, বিশ্বাস আর ভালোবাসা।এই তিনটা জিনিসের উপস্থিতি থাকলে সংসারের ভীত শক্ত হয়।আশা করি আমার কথার মানে বুঝেছো?’

তূর্য মনোমুগ্ধ হয়ে বাবার কথা শুনলো।কি দারুণ করে ওকে বুঝালো আর এই মানুষটার সাথেই কি-না নিজের রাগকে এড়িয়ে কথা বলতে পারে নি ও,ছিহ্!মাথা নীচু করে ফেললো ও।আরিফ ফের বলে,

‘যা-ও নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে এসো।মনে রেখো ক্ষমা চাইলে কেউ ছোট হয়ে যায় এটা।এটা তার মহত্ত্বের লক্ষণ!’

তূর্য মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝালো ও বুঝেছে আরিফুর রেহমানের কথার মানে।বাবার হাতের তালুতে চুমু খেয়ে উঠে দাঁড়ালো নৌমির ঘরে যাওয়ার জন্য পা বাড়ালো তবে ফের পিছে ফেরে।আরিফ ছেলের যাওয়ার পানে তাকিয়ে ছিলো তবে আবার পিছনে ফিরতে দেখে ভ্রু-যুগল কুঁচকে ফেলে।তূর্য মুগ্ধ চোখে বাবার পানে চেয়ে বলে

‘তুমি পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা!’

আরিফ হাসলো ছেলের কথায়।সে তার ছোট্ট তানকে আবারও দেখতে পাচ্ছে যে-কিনা সবকিছুতে বাবার প্রাধান্য দিতো।বাবা-ছেলের মনোমালিন্য দূর হলো অবশেষে এখন বউয়ের মান ভাঙানোর পালা।এটাতে সফল হলেই তূর্য স্বার্থক!বাবা তো মেনে গেলো কিন্তু বউ?যা ঝাঁঝালো চুনাপুঁটি, তারউপর রাগের বসে থাপড় দিয়েছে এখন না জানি এত রেগে আছে।আল্লাহ সহায় হও!

________________

নৌমি ভাঙা মন নিয়ে ঘরে ফেরে।ও ভাবেনি তূর্য ওকে মারবে জাস্ট ওই কথাটার জন্য!ভাঙা মনে আবারও আঘাত পায় নৌমি।কেন হয় ওর সাথে এমন?কেন?

ঘরে ফেরার সময় তুলি নানান কথা জিজ্ঞেস করেছে মন ভালো না থাকায় তেমন কোনো উত্তর ও দিতে পারেনি।ঘরে এসে সোজা বারান্দায় চলে যায়।মন খারাপ হলে এই বারান্দায়ই হয় ওর থাকার স্থান। কত রাত পার হয়ে গেলো এ বারান্দায়!

তূর্য ভয়ে ভয়ে নৌমির ঘরের সামনে আসে।যাকে কি-না পুরো ডিপার্টমেন্ট ভয় পায় সেকি তার চুনাপুঁটি বউকে ভয় পাচ্ছে। লোকে জানলে সম্মান থাকবে ওর?হাসাহাসি করবে না?তবে আর কি করার,নৌমির সামনে তো এখন আসামী ভয় না পেয়ে কই যাবে?

ঘরের দরজা খোলা থাকার দরুন ঘরে ঢুকতে অসুবিধা হয়না তূর্যের।তবে ঘরে কাউকে না দেখে আশাহত হয়। নৌমি কি ফেরেনি বাগান থেকে?বাগানের দিকে যাওয়ার উদ্দেশ্য পা বাড়াতে বারান্দা থেকে মেয়েলী কান্নার আওয়াজ আসে তারমানে নৌমি ঘরেই আছে।সোজা এগিয়ে যায় বারান্দায় দিকে। গিয়ে দেখে নৌমি হাঁটুতে মুখ গুঁজে ফোঁপাচ্ছে।বেঁধে রাখা চুলগুলো মেঝেতে লুটোপুটি খাচ্ছে। তূর্যর মন খারাপ হয়ে গেলো,নিজের থাপ্পড় দিয়ে মন চাইলো।ধূর,রাগের বসে মেয়েটাকে আঘাত করলো।কি করে ক্ষমা চাইবে এখন? শুখনো ঢোক গিলে এবার ডাকলো নৌমিকে তবে কোনো সাড়াশব্দ নেই। তূর্য আশাহত হয়ে বসে পরে নৌমির সামনে হাঁটু গেড়ে। দুহাতে নৌমির গাল ধরে মাথাটা জাগায়।চোখের পানিতে পুরো মুখ ভরে গেছে, চুলগুলো এলোমেলো হয়ে ডেকে রেখেছে গালের এক পাশ।তূর্যর কাজ বুঁজে চোখমুখ খীচে বন্ধ করে রাখে।কোনোমতেই তূর্যর মুখ দেখবে না ও।কান্না করে যাচ্ছে চোখ বন্ধ করেই।

‘স..স্যরিই’

নৌমি নিরব কোনো কথা নেই।না চোখ খুলছে আর না কান্না থামাচ্ছে।তূর্য দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ে। বউয়ের রাগ ভাঙানো এতো কঠিন জানলে এবিষয়ে কোর্স করতো!তবে এখন তো আর তা করা সম্ভব নয় তাই মাথা খাটাতে হবে।তূর্য কিছু একটা ভেবে করে দুষ্টু হাসলো।ভাবলো এক অভাবনীয় কাজের কথা।যা করলে রাগে হোক,চমকে হোক — যাই হোক না কেন কান্না থামবে, চোখ খুলবে নৌমি।মুখ এগিয়ে নিয়ে গেলো নৌমির দিকে।কোনো কথা ছাড়াই নিজ আয়ত্তে নিলো নৌমির কাঁপতে থাকা ওষ্ঠযুগল।

চলবে….?

[কি কি ভুল ধরা পড়লো আমার লেখায়,একটু জানাবা পাখি?ভুলগুলো ঠিক করে নিতাম,হ্যাপি রিডিং]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here