#প্রিয়_নীলপদ্ম—১৬.
#মুশরাফা_মিরা
[কোনো প্রকার কপি নিষিদ্ধ]
সকালের তীক্ষ্ণ রোদ পর্দার আড়াল থেকে তূর্যের মুখে পরতেই ঘুম ভেঙে যায়।চোখ খুলতেই তূর্যের দৃষ্টিগোচর হয় নৌমির ঘুমন্ত মুখখানা।চেয়ে রইলো অপলক দৃষ্টিতে। নৌমিকে এতো কাছ থেকে পর্যবেক্ষনের সুযোগ হয়নি তূর্যের।তাই আজ ভালো করে দেখে নেয়। কি মিষ্টি দেখতে তার বউটা।অবাধ্য চুলগুলো নৌমির গালকে প্রায় ঢেকে রেখেছে।তূর্য চুলগুলো কানের পিছনে গুঁজে দিতেই দৃশ্যমান হয় চার আঙুলের ছাপ!যা কালকে তূর্য প্রদত্ত ছিলো।তূর্য দীর্ঘ নিশ্বাস ছাড়ে নিজের কাজে।কেন যে সে নিজের রাগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না,উফ অসহ্য!আঘাতের স্থানে ঝুঁকে ঠোঁট ছোঁয়ায়। নরম গালে ডেবে যায় তূর্যর ঠোঁট। এতে মজা পায় তূর্য।ফের ঠোঁট ছোঁয়ায় নৌমির গালে।বারংবার নিজের মুখে কারো স্পর্শ অনুভব করে নৌমির ঘুম হালকা হয়।ভ্রু-যুগল কুঁচকে চোখ মেলতেই দেখে একজন পুরুষের দাঁড়িযুক্ত চোয়াল!সঙ্গে সঙ্গে ছিটকে দূর সরতে চায় ও।কে এভাবে স্পর্শ করছে ওকে?হঠাৎ ঘুম থেকে ওঠাতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারলো না মানুষটি কে হতে পারে।নৌমি এমন প্রতিক্রিয়ায় তূর্য সরে আসে।নৌমি এখন বুঝতে পারে মানুষটি ঠিক কে হতে পারে।তূর্য…তূর্য ওর এতো কাছে?ওকে স্পর্শ করছে!ভাবতেই লজ্জায় নুয়ে পরলো নৌমি।হঠাৎ নৌমির হতভম্ব রূপ থেকে লজ্জাবতী রূপে পরিবর্তন হওয়াতে তূর্য ভ্রু-যুগল কুঁচকে ফেলে।নৌমির এমন প্রতিক্রিয়ার মানে বুঝতে না পেরে বলে,
‘কি হলো নৌমি?হঠাৎ এমন করছো কেন?’
‘কই.. কিছু না তো!আপনি এখনও এখানে কেন?’
তূর্য নৌমির ঘাড়ে মুখ গুঁজে জোরে শ্বাস নেয়।এতে নৌমির শ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম। কি করছেটা কি এ পুরুষ?এভাবে নৌমিকে শেষ করছে কেন? তূর্য নিজ থেকে সরেই বলে,
‘প্রথম বউকে বুকে নিয়ে ঘুমিয়েছি তো তাই ঘুম ভাঙ্গেনি সাতসকালে।ফিলিং-টা জাস্ট ওয়াও!’
নৌমির মনে হলো আজকে ও লজ্জা পেতে পেতেই শেষ হয়ে যাবে।লজ্জার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তূর্যকে এখান থেকে সরাতেই হবে যেকোনো মূল্যে।
‘দেখুন তো কয়টা বেজে গেছে। এই আপনার জন্য আজকে আমার উঠতে দেরি হলো!সরুন দেখি আমি উঠবো’
তূর্য চিত হয়ে সুয়ে নৌমিকে ওঠার জায়গা করে দেয়।নৌমি এলোমেলো নিজেকে ঠিকঠাক করে বিছানা ছাড়তেই তূর্য না নাচিয়ে ভাবলেশহীন ভাবে বলে,
‘তা আমি না হয় বউ পেয়ে দেরিতে ঘুম থেকে উঠেছি।তা আপনি কেন ঘুম থেকে আগে উঠলেন না মিসেস?সেই..সেই আমারই তো আগে ঘুম ভাঙলো।ঘুম থেকে উঠে দেখি একজন আমার বুকে আদুরে ছানার মতো ঘুমিয়ে আছে। হয়তো আমি না জাগালে উঠতেনও না।তাহলে কি ধরে নিবো আমার প্রশস্ত বক্ষপিঞ্জরে আপনি সুখের নিদ্রায় সহিত ছিলেন?বহুদিন বাদে শান্তিতে ঘুমিয়েছেন?ধরে নিবোওওও?’
শেষ কথাটি টান দিয়ে বলে তূর্য।সদ্য ঘুম থেকে ওঠা নৌমি তূর্যের এমন খোঁচা মূলক বাক্যের বিপরীতে কিছু বলার মতো খুঁজে পেলো না।শুধু একপলক দেখলো ওকে লজ্জা দেওয়া পুরুষটিকে।কোনোমতে তূর্যর সামনে থাকা যাবে না।না হলে ওকে লজ্জা দিয়েই মেরে ফেলবে।তরিগরি করে ওয়াশরুমে ঢুকে পরে নৌমি তবে দরজা আটকানোর আগে একটু আওয়াজ তুলে বলে,
‘অসভ্য লোক!’
শব্দ করে দরজাটা বন্ধ করে দু’হাতে মুখ ঢেকে ফেলে নৌমি।ইশ,কি লজ্জা!না হয় একটু আরাম পেয়ে বেশিই ঘুমিয়েছে ও তাই এভাবে বলতে?ওর বুঝি লজ্জা লাগে না।একনাম্বারের বেলাজ পুরুষ ওকে লজ্জা দেওয়ার একটা সুযোগও ছাড়ে না,একটুও না।এদিকে তূর্য নৌমির প্রতিটা কর্মই তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে খেয়াল করে গেছে,শুনেছে নৌমির বলা কথাটি।এতে হাসি পাচ্ছে ওর নৌমির চেহারার কথাটি ভেবে যা বলার মতো না।এবার ওর চাওয়া একটাই এতোবছর যতটা কষ্ট মেয়েটা পেয়েছে তার দ্বিগুণ ভালোবাসায় ওকে মুড়িয়ে রাখবো রাখা।অনেক কষ্টই তো মেয়েটা পেলো এবার না হয় একটু ভালো থাকুক, সুখে থাকুক।
___________
‘তোদের কি হয়েছে আমায় একটু বলবি নৌমি?কাল থেকে তোর কিংবা তূর্য কারোই ঠিকঠাক দেখা পাচ্ছি না।একজনকে পেলে আরেকজন গায়েব হয়।তুই রাতের খাবারটি পর্যন্ত খাস নি। আর ওদিকে আমার ছেলেটার কোনো খোঁজই নেই। সকালে গেলাম রুমে তা-ও দেখি নি।তোরা তো ছোট নোস মা। তাহলে আমায় এভাবে চিন্তায় ফেলে কি পাও বলতো?’
নিচে নামতেই তুলির অভিযোগের মুখে পরতে হয় নৌমিকে।বেচারি চিন্তায় চিন্তায় অস্থির ওদের নিয়ে অথচ নৌমি-তূর্য একসাথেই ছিলো।কিন্তু একথা কি বলা যায়?নৌমি তুলিকে শান্ত করতে বলে,
‘রাতে এতো মাথাব্যথা করছিলো আম্মু যা বলার মতো না।তাই খেতেও ইচ্ছে হয়নি।আর আপনার ছেলেকে তো দেখলাম আসার সময় নিজের ঘরে।আপনি যখন তার ঘরে গিয়েছিলেন তখন হয়তো সে মর্নিং ওয়াক করতে গিয়েছিলেন।’
সকাল সকালই নৌমিকে মিথ্যা বলতে হলো।সব দোষ এই তূর্যের।তুলি শান্ত হলো,তবে নৌমির মাথাব্যথা শুনে ফের চিন্তিত হয়।
‘কি বলিস তোর মাথাব্যথা? আগে বলবি না আমায়।এখনও করছে?’
‘না.. না এখন ঠিক আছি ব্যস্ত হবেন না।’
‘কার মাথাব্যথা বউমা?’
হাফসা খাবার টেবিলে বসতে বসতে কথাটি জিজ্ঞেস করে।তিনি নৌমির কথাটি শোনেননি বিধায় জিজ্ঞেস করা।তুলি হাহুতাশ করে বলে,
‘আপনার নাতবউয়ের।এই মেয়েটা এতো চাপা স্বভাবের আম্মা যা বলার মতো না।নিজ থেকে কিচ্ছু বলবে না।’
হাফসাও এনিয়ে নৌমিকে বকলো।কেন বলেনি?কেন জানায়নি.. আরো কতকিছু! নৌমি বেচারি বেহুদাই সবার বকা শুনলো কিছু না করেই।আরিফ আসতেই একথার অবসান ঘটলো আর নৌমি হাঁপ ছেড়ে বাঁচে।তুলি খাবার আনতে ছুটলো রান্না ঘরে পিছু পিছু নৌমি ও। এরিমধ্যে তূর্যও নেমে এসেছে উপর থেকে।কালকন্ঠ বাড়ির সকলে একসাথে খায়।এনিয়ম অনেক আগেই তৈরি করেছে আরিফুর রেহমানের বাবা জয়নাল রেহমান।তার মতে পুরুষ বাহিরে খাটে আর নারী ঘরে।কাজ তো দু’পক্ষই করে তাহলে একসাথে খেতে বসতে পারবে না কেন?তূর্যের সোজাসুজি নৌমি বসা।তূর্য নৌমিকে জ্বালাতে ভ্রু-নাচিয়ে হাসে। নৌমি দেখে তবে প্রতিক্রিয়া করে না।এতোগুলা লোকের মাঝে এগুলো করার কোনো মানে হয়?এতোদিনই ভালো ছিলো অন্তত তূর্যের এমন ফাজলামো সহ্য করতে হতো না ওকে।তূর্য বেশ কিছুক্ষণ নৌমিকে জ্বালিয়ে বাবার সাথে কথায় ব্যস্ত হয়ে পরে।আরিফ আর তূর্য দুজনকে এতো স্বাভাবিক ভাবে কথা বলতে দেখে মহিলাগন অবাক হয়ে। এদের মাঝে সবঠিকঠাক হলো আবার কবে?তবে শান্তি সব ভালো হলেই ভালো!
‘তাসফি আসবে কবে বাবা?ও আসলেই ভাবছি একটা ফ্যামেলি ট্যুর দিবো।অনেক দিন সবার একসাথে বেড়ানো হয়না।’
তূর্যের কথায় আরিফও খুশি হলো।আসলেই অনেক দিন ঘোরা হয়নি তাদের। তাই সহমত পোষণ করলো তূর্যের কথায়।
‘ তা তোমার অফিসের কি খবর?সব ঠিকঠাক?’
‘হু আপাতত তো কোনো ঝামেলা নেই। তবে জানোই তো দেশের পরিস্থিতি কখন কি হয় বোঝা মুশকিল।’
‘খাবার সময় কথা বলবে না তো।বললেও এই ছাইপাঁশ অফিস-চাকরির কথা বলবে না। আমার বিরক্তি লাগে এসবে!’
তুলির ধমকে বাপ-বেটা চুপ হয়ে যায়।নৌমি মাথা নিচু করে মুচকি হাসে।হঠাৎ তূর্যের ফোন বেজে ওঠাতে খাওয়া ছেড়ে উঠে বাগানের দিকে যায়।এতে তুলি বেশ ফোসফাস করে বলে,
‘কত করে বলেছি এসব চাকরি করার দরকার নেই। না পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে পারে আর না নিজে একটু বিশ্রাম নিতে পারে।সারাদিন দৌড়াদৌড়ি।কতবছর পরে ছেলেটা বাড়ি ফিরলো এখনও কাজ..কাজ আর কাজ!’
আরিফ স্ত্রীকে শান্ত করতে বলে,
‘তুলি তুমি তো জানো তূর্যের পেশা,ইচ্ছে তবুও এভাবে বলছো?দেশের কাজে নিজের সামিল রাখাটা কতটা শান্তির তুমি তা বোঝো?’
তুলি প্রতিউত্তর করবে এর আগেই তূর্য গম্ভীর মুখে ওদের দিকে আসে।নৌমি তূর্যের হঠাৎ মুড পরিবর্তন হওয়াতে ভ্রু-যুগল কুঁচকে ফেলে।মাত্র না হাসি মুখে ঘর ছাড়লো?তাহলে আবার কি হলো।তূর্য বসলো না আর খাবার টেবিলে।দাঁড়িয়ে থেকেই বলে,
‘আজকে বিকালে আমায় ক্যান্টারমেন্টে ফিরতে হবে।’
‘কিহ?এতো তাড়াতাড়ি কেন?তুমি না বলেছিলে অনেক দিনের ছুটি নিয়ে এসেছো?তাহলে?’
হাফসা খাতুনের কন্ঠে কৌতুহল, বিস্ময়ের ছোঁয়া। পাশাপাশি বাকিরাও অবাক হয়।নৌমি চুপচাপ মাথা নিচু করে ফেলে মন খারাপে।তূর্য একপলক নৌমিকে দেখে দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে। ও নিরুপায় ইচ্ছে থাকলেও থাকতে পারবে না এখন আর।
‘একটা সমস্যা দেখা দিচ্ছে ওদিকে।কিছু অসাধু লোক নারী পাচার করছে এমন খবর এসেছে বুঝলে?তাই এখন আমায় ফিরতে হবে,না ফিরে উপায় নেই!’
আরিফ বুঝলো ছেলের পরিস্থিতি। তাই অভয় দিয়ে বলে,
‘যেহেতু যেতে হবে তাহলে আর কি করার…যাও।’
‘যদি পরিবারের কারো নাম আসে তাহলে আমার কিছু করার থাকবে না বাবা।আগেই বলে রাখি অন্যায় কিছুতে আপোষ করবো না আমি!’
তূর্যের রহস্যময় কথার মানে কেউ বুঝলো না।আরিফুর রেহমান চিন্তিত হলেন কাকে ইঙ্গিত করে বললো তূর্য?আলাদা করে এবিষয়ে কথা বলতে হবে ছেলের সাথে ভেবে রাখলেন তিনি।সকলের কৌতূহলী দৃষ্টি উপেক্ষা করে তূর্য নৌমিকে উপরে আসতে বলে নিজে চলে যায়।হঠাৎ তূর্যের ডাকে নৌমি একটু ভ্যাবাচেকা খেয়ে যায়।সবার মাঝে এভাবে ডাকার মানে কি?আর কত লজ্জায় ফেলবে ওকে?বাকিরা একবার নৌমির দিকে তাকালো যে আপাতত চুপচাপ বসে আছে। আরিফ বুঝলো এবার সব ঠিকঠাক হয়ে গেছে ভেবেই প্রশান্তির হাসি হাসলো।অবশেষে এবার শান্তি পাবে তিনি।তবে তুলি-হাফসা কেউ এর মানে বোঝে না।কি হলো?কবে হলো?আরিফ তাদের ইশারায় চুপ থাকতে বলে।সেই মোতাবেক কেউ কিছু জিজ্ঞেস করে না নৌমিকে।তুলি শুধু বলে,
‘ছেলেটা ডাকছে যা মা।দেখ কি প্রয়োজন হয় না হয়!’
নৌমি মাথা নাড়িয়ে ওখান থেকে উঠে পরে।সবার সামনে এভাবে বলার কি খুব প্রয়োজন ছিলো তূর্যের?তবে এসবকে ছাপিয়ে নৌমির মন খারাপ হলো আজকে তূর্য চলে যাবে এই ভেবে।
___________
নৌমি তূর্যের রুমেই গেলো।তবে গিয়ে তূর্যের কোনো দেখা না পেয়ে কপাল কুঁচকে ফেলে।ওকে ডেকে কোথায় গেলো পুরুষটা?ডাকতে যাবে আর আগেই পিছন থেকে জাপ্টে ধরে তূর্য।রাশভারি কন্ঠে বলে,
‘তোমায় খুব মিস করবো নৌমি,খুব।জানো আমার একটুও যেতে ইচ্ছে করছে না।ইচ্ছে করছে তোমার সাথে থাকতে,তোমার কথা শুনতে। আমার যেতে ইচ্ছে করছে না একটুও!’
ছেলেমানুষী আবদার দেখে নৌমি ফিচেল হাসলো।যেখানে তূর্যের উচিত নৌমিকে সামলানো,বোঝানো সেখানে তূর্যই কি-না এমন করছে?নৌমি কোনোমতে নিজেকে সামলিয়ে, ছাড়িয়ে পিছু ফিরে তূর্যের বাহু ধরে বলে,
‘আপনি এমন করেছেন কেন? এটা আপনার কাজ!আমি তো আছি সারাজীবনের জন্য,তাই-না? এমন বললে আমি কিভাবে ঠিক থাকবো তূর্য?আপনি মন খারাপ করবেন না’
চোখে পানি নিয়ে তূর্যকে ঠিক থাকবে বলছে নৌমি।এটা দেখে তূর্য বিমুগ্ধ হলো।মেয়েটা এতো শক্ত, চাপা স্বভাবের কেন হলো?কেন কষ্ট চাপিয়ে রেখে নিজেকে স্বাভাবিক রাখতে চায়?কেন কেঁদে বুক ভাসায় না তূর্যের?নৌমির এমন বুঝের কথায় তূর্যের কিযে হলো।মন খারাপ সব পালিয়ে গেলো।নিজেকে সামলিয়ে নিলো।তূর্য নিজের উপর বিরক্তি হলো,অবাক হলো।সে-তো এমন নয় তাহলে কেন মনখারাপ করছে আজ?যা এতোবছর ওখানে থেকে হয়নি।সবকি সামনে দাড়িয়ে থাকা ছোট্ট মেয়েটির জন্য?এতো শক্তিশালী মেয়েটার মায়া?
একটানে নিজের বুকে ফেললো নৌমিকে তূর্য।শান্ত স্বরে আওড়ায় গুটিকয়েক বাক্য,
‘তোমার মতো স্ত্রী পেয়ে আমি ভাগ্যবান নৌমি।যে তোমায় এতো কষ্ট দিলো, কাদাঁলো তাকে তুমি ক্ষমা করেছো,তার সাথে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা ভাবছো।আমি এতোটাও ভাবিনি, ট্রাস্ট মি!তুমি খুব লক্ষী মন্ত মেয়ে।যে স্বামীর পরিস্থিতি বোঝে,আশ্বাস দেয়।এমন বউ সবার থাকে না আমি পেয়েছি!এতো বছর নিজের বোকামোতে তোমায় দূরে ঠেলে দিয়েছি।আর নয়!আজ যাচ্ছি তবে কদিন বাদে ফের আসবো।তোমায় ফেলে বেশিদিন থাকা হবে না আমার।রোজ কল দিবো আমি,যে কাজেই থাকো না কেন কল ধরবে।যা কিনতে ইচ্ছে হবে এখন থেকে আমায় বলবে।বুঝলে বউ, আমি বোধহয় বউ পাগলা হয়ে যাবো কদিন পরে।সামান্য এই কদিনেই আমায় ছেড়ে কাজে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না তাহলে ভাবো বাঁকি জীবন কিভাবে কাটাবো আমি?তোমায় খুব মিস করবো বউ।’
নৌমি শান্ত বাচ্চার মতো পরে রইলো স্বামীর বুকে।তূর্যের এমন সম্মোহনী কথায় নৌমির কান্না পেলো।এতো আদর,ভালোবাসার কথার পরে নিজেকে আজ ভাগ্যবতী মনে হলো।না ভুল মানুষের সাথে বিয়ে হয়নি ওর হয়তো সুখ দেরিতে এসেছে,আসবে তবে ক্ষতি নেই। এমন স্বামী পাওয়ার জন্য নৌমি আরো অপেক্ষা করতে রাজি!তূর্য নৌমির মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
‘আমায় মিস করবে না?’
লজ্জা ভুলে নৌমি মাথা নাড়িয়ে হ্যা বুঝায়।তূর্য নৌমিকে বুক থেকে মুখ তুলে দু গালে হাত রেখে বলে,
‘মিস করলে একটিবার কল দিলো,হ্যা?আমি অপেক্ষায় থাকবো।’
বলেই নৌমির কপালের মধ্যিখানে ওষ্ঠ চেপে ধরে।সঙ্গে সঙ্গে নৌমির দু কপোল বেয়ে গড়িয়ে পরে অশ্রুদানা।ওরা বাঁধা মানে না সুখে,দুঃখে গড়িয়ে পরে অবাধ্য হয়ে।
চলবে…?
[এতো দেরি করে দেওয়ার ইচ্ছে মোটেও ছিলো না।একটুও মনে ছিলো না যে আজকে বুধবার গল্প দিতে হবে।সকাল দশটার দিকে মনে পরলো তারপর একটু..একটু করে লিখলাম।স্যরি গো পাখি,হ্যাপি রিডিং]

