বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~ #পর্ব_১১

0
60

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_১১
#সমৃদ্ধি_রিধী

কানের সামনে মোবাইল বেজে উঠতেই ঘুমের মধ্যেই পুনমের বিরক্তিতে মুখ কুচকে গেল। চোখ বন্ধ করেই হাতরে মোবাইল নেয়। কোনোমতে এক চোখ খুলে দেখে নওশাদের নম্বর। পুনম এখনও কোনো নামে নওশাদের নম্বর সেইভ করেনি। কল রিসিভ করে মোবাইল কানে চেপে ধরে। ঘুমঘুম গলায় বলে,

“হ্যালো?”

গম্ভীর গলায় নওশাদ বলে, “সালাম দাও আগে।”

পুনম জিহ্বায় কামড় দেয়। দ্রুত সালাম দেয়।

“আসসালামু আলাইকুম।”

“ওয়ালাইকুম আসসালাম। ঘুমাচ্ছো?”

“জ্বি।”

“আমি বের হওয়ার পর যে শুয়েছিলে আর উঠোনি?”

“না।”

“ভেজা জামাকাপড় রোদে দাওনি?”

“না।”

“উঠো এখন। এগারোটা বাজে; আর ঘুমাতে হবে না।”

“একটু পরে।”

“একটুও পরে নয়, এখুনি উঠো। বালতিতে ভেজা জামাকাপড়, বেডশিট আছে বারান্দায় মেলে দাও। নাস্তাও করো।”

“আচ্ছা করবো।”

“করবো নয়, এখুনি উঠো। আজকেও এই বাসায় থাকতে হবে না।”

“উফফ!”

“ক্লাসে যাচ্ছি। আধাঘন্টা পর আমি আবারও কল করবো। যা যা বলেছি সব যেন কমপ্লিট হয়ে যায়।”

নওশাদ কেটে দিলো। পুনম মুখ কুচকে উঠে বসে। আড়মোড়া ভেঙে উঠে। আলমারি খুলে নতুন বিছানার চাদর বের করে। গান ছেড়ে বিছানা গুছিয়ে ফেলে। ব্রাশ করে এক বালতি ভেজা জামাকাপড় নিয়ে বারান্দায় যায়। বারান্দায় টান টান করে মেলে দিয়ে রুম থেকে বের হয়।

নিশা কিচেনে। পুনম কিচেনের দরজার সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে বলে,

“খিদা লেগেছে। কি বানিয়েছো?”

নিশা প্রথমে চমকে উঠে। বুকে থু থু দিয়ে বলে,

“নুডলস। দিবো?”

“দাও।”

নিশা নুডলস গরম করে পুনমকে দেয়। বলে,

“ঘুম থেকে উঠতে এত দেরী হলো কেনো?”

পুনম জবাব দেয় না। নিশা দুষ্টুমি করে বলে,

“বুঝি বিয়ে তো আমারও হয়েছে।”

পুনম আরেক চামচ নুডলস মুখে নিয়ে বলে,

“বুঝেছোই যখন, তখন নিলজ্জের মতো খোচাচ্ছো কেনো?”

নিশা কপাল কুচকে বলে, “এত রুডভাবে কথা বলছো কেনো? আগে তো এভাবে কথা বলতে না?”

“আগে তো আমাকেও জোর করে বিয়ে দাওনি।”

“কালকে না ঠিক ছিলে?”

মেইন কথা পুনম কালকে অন্য তালে ছিল। নওশাদের কাছ থেকে পালিয়ে বেড়ানোটাই মুখ্য ছিল। তাই এতকিছু খেয়াল ছিল না। জামাকাপড় মেলতে গিয়ে মনে পড়েছে মা ভাইয়ের সাথে বেশি ভালো ব্যবহার করে ফেলেছে। ওতটাও ভালো ব্যবহার করা উচিত হয়নি।

পুনম খেতে খেতে বলে, “তোমার ভাই তো প্রেম করে।”

“জানি আমি।”

পুনম চোখ বড় বড় করে বলে, “জানো?”

“হুম। দেখেছি কয়েকবার। তুমি জানলে কি করে?”

পুনম সে কথার উত্তর না দিয়ে বলে, “মেয়েটাকে চিনো?”

“না। আমি জানতে চাইলে অস্বীকার করে। আমি হাবভাব দেখে সন্দেহ করেছি প্রেম করে যে।”

“আমার চার নম্বর ননাসের জমজ দুটো মেয়ে। ওদের একজন হলো জেরিন। জেরিনের সাথে তোমার ভাইয়ের তিন বছরের সম্পর্ক।”

“তাই?” নিশা অবাক হলো ভীষণ।

“তো বানিয়ে বানিয়ে বলছি আমি? এটলিস্ট আমি তোমাদের মতো মিথ্যুক নই।”

পুনমের খাওয়া ততক্ষণে শেষ। বেসিনে এঁটো বাটি রেখে হাত ধুয়ে বলে, “তোমার ছেলে কোথায়?”

“তোমার ছোট ভাইয়ার সাথে গিয়েছে।”

“দোকানে গিয়েছে?”

“হুম।”

পুনম জামায় হাত মুছে রুমে চলে আসে। পাঁচ মিনিট আগে নওশাদ কল করেছিল দুবার। পুনম কল ব্যাক করলো না। ক্লাসের টাইমে বারবার কল দিয়ে ডিস্টার্ব করার মানে হয় না। ও নওশাদকে মেসেজ পাঠিয়ে দিলো। দুপুরে খেয়ে একাই চলে যাবে জানিয়ে দিলো।

পুনম রাস্তায় থাকাকালীন নওশাদ অবশ্য আধঘন্টা পর পরই পুনমকে কল করে ও কোথায় আসে, জ্যামে কতক্ষণ ধরে আসে সব খবর নিলো। পুনম ওই বাসায় ঢুকে নওশাদকে ভিডিও কল দেওয়ার পর তবেই নওশাদের আধঘন্টা অন্তর অন্তর কল দেওয়া বন্ধ হয়।

————–

কলিংবেল বাজানোর মিনিটের মাঝে জাইমা দরজা খোলে। নওশাদ জাইমাকে দেখে অবাকই হলো। জাইমা নওশাদকে সালাম দেয়। সালামের জবাব দিয়ে নওশাদ বাসায় ঢুকে।

“কখন এসেছিস?”

“আধঘন্টা আগে।”

“ওহ। এক গ্লাস পানি দে তো।”

জাইমা গ্লাসের পানি নিয়ে এলো। নওশাদ জুতা, মৌজা খুলে জায়গা মতো রাখে। শার্টের হাতা গুটিয়ে বেসিনের সামনে দাঁড়িয়ে হাত, মুখ ধোয়। জাইমার হাত থেকে গ্লাস নিয়ে এক ঢোকে পানি খায়। গালি গ্লাস ফের জাইমার হাতে দিয়ে বলে,

“জিসানের পড়াশোনার কি খবর?”

“পড়ে তো।”

“আসতে বলিস তো আটটার দিকে।”

“ওর মোবাইল ফেরত দিয়ে দিবে?”

“এসএসসির আগে না।”

“ওহ। মামা?”

“কি?”

“আরিফ ভাইয়ার সাথে কথা হয়েছে?”

“না। কেনো?”

“আরিফ ভাইয়ার খোঁজ খবর নেই কোনো। মোবাইল পুরো বন্ধ। বড় খালামণি আম্মুকে কল দিয়ে কান্নাকাটি করছিল।”

নওশাদ কপাল কুঁচকে বলে, “আচ্ছা আমি বড় আপার সাথে কথা বলবো।”

নওশাদ রুমে যায়। জেরিন নীলের সাথে চ্যাট করছিলো। মাঝে মাঝে পুনমও দু একটা কথার রিপ্লাই দিয়েছে। কিন্তু নীল বুঝতে পারি না। তা নিয়েই পুনম আর জেরিন বেশ হাসাহাসি করছিলো। নওশাদ রুমে ঢুকতেই ওদের হাসি থেমে যায়। জেরিন নওশাদকে সালাম দিয়ে উঠে দাঁড়ায়। নওশাদ সালামের জবাব দিয়ে ড্রেসিংটেবিলের সামনে দাঁড়িয়ে ঘড়ি খুলে। জেরিন পুনমকে ফিসফিস করে বলে,

“চলে যাই। কালকে আসবো।”

“আচ্ছা।” পুনম মাথা কাত করে বলে।

“দরজা লাগিয়ে দাও তাহলে।”

নওশাদকে বলে, “মামা চলে যাচ্ছি।”

“আচ্ছা যাহ।”

পুনম জেরিনের পিছন পিছন বের হলো। জাইমা, জেরিনকে বিদায় দিয়ে দরজা লাগায়। কোমরে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। নওশাদের সামনে যাওয়া যাবে না। ও সোফার দিকটা সময় নিয়ে গোছায়। হোসনেআরার রুমে যায়। ঘর ঝাড় দেয়, ওই রুমের বারান্দায় যত গাছ আছে তাতে পানি ঢালে৷ পুরান বিছানার চাদর পাল্টে নতুন চাদর বিছানোর সময় নওশাদ পিছন থেকে ডাক দেয়। পুনম কেঁপে ওঠে পিছনে তাকায়।

নওশাদ গোসল করেছে। অন্যান্য দিন টিশার্ট পড়লেও আজ খালি গায়ে। পুনম পেশিবহুল হাতে চোখ বোলায় একবার।

“এই রুমে কি?”

পুনম আমতাআমতা করে বলে, “ঘর গুছাই।”

“চিপায় চাপায় থাকতে ভালো লাগে না?”

“চিপায় নাই তো। একটা রুমের সাইডে আছি।”

বুকে হাত গুঁজে বলে, “তাহলে আমার কাছ থেকে পালিয়ে বেড়াতে ভালো লাগে, তাই না?”

“সেরকম কিছু না। আমি আসলে..ইয়ে মানে ঘর গোছাচ্ছিলাম।”

“কিচেনে আসো গাধা।”

নওশাদ রুম থেকে বেরিয়ে গেল। পুনম নতুন বিছানার চাদর পেতে কিচেনে আসে। অবশ্য প্রয়োজনের চেয়ে বেশি সময় নেয় বিছানা গোছাতে। নওশাদ ততক্ষণে চা বানিয়ে ফেলেছে। পুনম দেখে নওশাদের গায়ে কালো রঙের একটা টিশার্ট। পুনম সামনে আসতেই নওশাদ ওকে চায়ের কাপ বাড়িয়ে দেয়। পুনম চোখ নামিয়ে গরম চায়ে চুমুক দিতেই জিভ পুড়িয়ে ফেলে। দ্রুত ঢোক গিলে মুখ কুচকে ফেলে৷ নওশাদ দেখে সবটা। চায়ে চুমুক দিয়ে বলে,

“গাধা।”

পুনম তেতে উঠে, বলে, “আপনিও তো গরম চায়ে চুমুক দিলেন। আপনার কিছু হলো না কেনো?”

“আমার অভ্যাস আছে।”

“তাহলে আমারও অভ্যাস হয়ে যাবে। ধোঁয়া উঠা চা খেয়ে ফেলেন। পরশুরও দেখেছি, আজকেও খাচ্ছেন। আমি আপনার মতো খাবো।”

“আমাকে কপি করছো কেনো?”

“কপি করছি?” পুনম উল্টো প্রশ্ন করে।

“তা নয়তো কি?”

“হ্যাঁ করছি, তাতে কি হয়েছে?”

“আমি যা পারি তুমি সব পারবে?”

“চেষ্টা করলেই হয়।”

“ফাইন।”

নওশাদ চা খাওয়া শেষও। আর পুনম এক চুমুক দিয়েই জিভ পুড়িয়ে ফেলেছে। পুনম অসহায় চোখে কাপের চায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। নওশাদ ডিপ ফ্রিজ খুলে। একটাই বক্স আছে। বক্স বের করে দেখে ছোট মাছ আছে।

নওশাদ পুনমকে জিজ্ঞাসা করে, “ছোট মাছ খাও?”

“কোন ছোট মাছ?”

“কাচকি গুড়া মনে হয়।”

পুনম এইসব কাচকি টাচকি খায় না। দ্বিধা নিয়ে জিজ্ঞাসা করে,

“আপনি রান্না করবেন?”

“আমি-ই তো করবো।”

“আচ্ছা তাহলে খাবো।”

নওশাদ মাছগুলো ভিজিয়ে রেখে ভালো করে হাত ধোয়। পুনমের দিকে গভীর চোখে তাকিয়ে বলে,

“আমি রান্না করবো দেখে খাবে? অন্য কেউ হলে খেতে না?”

পুনম থতমত খায়। “তেমন কিছু না।”

“তারমানে যে কেউ, যা কিছু রেঁধে দিলেই খেতে?”

“সেটা নয়।”

“তাহলে কোনটা?”

“আপনি কত বাজেভাবে কথা প্যাঁচান!”

“তুমি পরিষ্কারভাবে কথা বললেই তো হয়ে যায়।”

পুনম মুখ কুচকে তাকিয়ে থাকে। নওশাদ চালের ড্রাম থেকে চাল নিয়ে বলে,

“চা শেষ করো।”

পুনম এবার সাবধানে চুমুক দিয়ে দেখে পুরো চা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। ও শরবতের মতো একটানে পুরো চা শেষ করে ফেলে। বেসিনে চায়ের কাপ রাখতেই নওশাদ ভ্রু কুচকে প্রশ্ন করে, “চা খেয়েছো নাকি শরবত?”

পুনম উত্তর না দিয়ে সরে আসে। সিঙ্কে হেলান দিয়ে নওশাদের পিঠের দিকে তাকিয়ে থাকে। গতরাতে তো বহুত পিরিতের আলাপ করেছিল। এখন এমন ভাব যেন চিনতেই পারছে না। মানুষ হয়তো তার পাড়াপ্রতিবেশির সাথেও এর চাইতে বেশি ক্লোজ হয়ে কথা বলে। এই লোক বউয়ের সামনেও ভাব দেখাচ্ছে। ঢং!

নওশাদ ভাত বসিয়ে দেয়। পুনমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে,

“কালকে সকালে বাজারে যাবো। ফ্রিজে কিছু নেই।”

“কালকে বাজার করবেন? কলেজ নে…” বলেই থেমে যায়। “ওহ কালকে তো শুক্রবার।”

“জ্বি। এখন কাগজ, কলম নিয়ে এসো দ্রুত।”

“কাগজ কলম দিয়ে কি হবে?”

“লিস্ট বানাবো।”

“ওকে।”

ফাইন দু মিনিটের মাথায় কাগজ, কলম নিয়ে হাজির হলো। মোড়া টেনে বসে। নওশাদ একে একে বলে, পুনম নম্বর দিয়ে সিরিয়াস ভঙ্গিতে লিখতে থাকে। কেননা ভুল হলেও নওশাদ দুটো কথা শুনিয়ে দিবে। নওশাদ একপর্যায়ে বলে,

“কি মাছ পছন্দ করো?”

“আপনার কোন মাছ ভালো লাগে?”

“কপি না করে কোনটা ভালো লাগে সেটা বলো। আমার একটা হলেই হয়।”

পুনমও তাল মিলিয়ে বলে, “আমারও একটা হলেই হয়।”

“লইট্টা মাছ খাবো।”

“ছিহ বমি আসে আমার ওটার নাম শুনলেই।”

“তো তোমার না একটা হলেই হয়?”

“লইট্টা, ইলিশ, মাগুর আরো অনেক মাছ খাই না।”

“অল ওকে বাট ইলিশ মাছ খাও না?”

“আমার এলার্জির প্রবলেম।”

“ওহ আচ্ছা। রুই মাছ খাও?”

“খাই।”

“কাতলা, পাবদা, পোয়া, আইর মাছ খাও?”

“খাই। তেলাপিয়াও খাই।”

“তেলাপিয়া মেয়েদের খাওয়া উচিত না।”

“কেনো? কেনো? বাসায় তো খাই। অনেক মজা।”

“গুগলে সার্চ দিও।”

“কেনো আপনি বললে পৃথিবী উল্টে যাবে?যত্তসব।” মনে মনে বললেও পুনম মুখে বললো না।

নওশাদ বলে, “আর কিছু লাগবে?”

“চিংড়ি নিয়ে আইসেন।”

“ছোট চিংড়ি না বড়?”

“একটা হলেই হবে।”

“আর?”

“আর কিছু না।”

“তাহলে রুই, কাতলা, পাবদা, পোয়া, আইর, ইন্দোনিশিয়া, চিংড়ি লিখো। এইগুলোর মধ্যে পেলে কিনবো।”

পুনম লিখে। নওশাদ ওর মুখোমুখি মেঝেতে বসে বলে,

“আর কিছু লাগবে?”

“মাছ কাটিয়ে আনবেন।”

“তা তো কাটাবোই।”

“আপনি বেতন পান কখন?”

“মাসের শুরুতে।”

“বলছিলাম কি ফুলের টব কিনবো।”

“ফুলের টব তো আছেই।”

“ড্রয়িংরুমে মানিপ্ল্যান্ট লাগাবো।”

“এটা লাগালে টাকা আসবে?”

পুনম মুখ কুচকে বলে, “সুন্দর লাগবে।”

“রোদ না পেলে নষ্ট হয়ে যাবে না?”

“আমি রোদে নিয়ে যাবো দু একদিন পর পর।”

“আচ্ছা দেখি।”

“জুতার বক্স কিনবো একটা।”

“বেতন পেয়ে নেই।”

“রান্নাঘরের এই সেল্ফটাও চেঞ্জ করা উচিত। একটা মিনি আরএফএলের আলমারি কিনলে ভালো হতো না? সেল্ফে বয়াম, কৌটাকাটি দেখা যায়, আমার কাছে জিনিসটা দেখতে ভালো লাগে না।”

“বেতন হাতে পেলে কিনবো। আর কিছু?”

“মনে পড়লে বলবো। একটা কথা জিজ্ঞাসা করি?”

“করো।”

“আমি যা বলছি তাই কিনে দিবেন? এক কথায় রাজি হচ্ছেন কেনো?”

“তোমার সংসার, তুমি কি করে সাজাবে না সাজাবে আমি নিষেধ করার কে?”

“আমার সংসার?” পুনম খাপছাড়া গলায় বলে।

“বিয়ে আপাতত তোমাকেই করেছি। তাই সংসারটা তোমারই হওয়ার কথা না?”

পুনম হাতে হাত ঘষে। এইসব কথায় বুঝি লজ্জা পেতে হয়? আজব!

“আর কিছু লাগবে?”

পুনম দুদিকে মাথা নাড়ায়।

“লিস্ট দাও দেখি কিছু বাদ পড়লো কিনা।”

পুনম দেয়। নওশাদ চোখ বুলিয়ে বলে,

“চাল কোনটা আনবো? নাজিরশাইল নাকি মিনিকেট?”

“আপনি যেটা খাবেন সেটাই।”

“আমার সাথে মিলিয়ে লাভ নেই। আমার যেনে কাইত, হেনে রাইত। একটা হলেই হয়।”

“আপনার একটা হলেই হলে, আমারও একটা হলেই হলো।”

“আমাকে কপি করছো আবারও?”

পুনম দাঁত কেলায়। নওশাদ হাঁটু গেড়ে বসে বলে,

“আমি যা পারবো, তুমিও তাই পারবে?”

“চেষ্টা করলেই হয়ে যাবে বলেছি না?”

নওশাদ পুনমের ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়। ন্যানো সেকেন্ডের মাঝেই সরে আসে। পুনমের বিস্মিত চেহারা অবলোকন করে বলে,

“নাও ডু ইট। সেইম টু সেইম হতে হবে। আই বিলিভ তুমি চেষ্টা করলেই এটাও কপি করতে পারবে। ট্রাই। অল দ্যা বেস্ট।”

চলমান….

(হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here