বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~ #পর্ব_১০

0
55

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_১০
#সমৃদ্ধি_রিধী

পুনমের মোবাইলে লাগাতার কল আসছে। পুনম রিসিভ করে না। এই নিয়ে পনেরোবারের উপর কল এসেছে। পুনম একবারও রিসিভ করেনি। অর্ক পুনমের গায়ের সাথে লেগে শুয়ে বেলুন দিয়ে খেলছে। ষেলোতম বার কল আসতেই পুনম হাসফাস করে উঠে। অর্ককে টেনে উঠে বসায়। অর্ক গোলগোল চোখ করে বলে,

“কি?”

“ফুপার সাথে কথা বলো।”

“কি বনবো?”

“আমি যা শিখিয়ে দিবো তাই বলবে। ঠিক আছে?

“আচচা।”

পুনম কল রিসিভ করে লাউডে দেয়। অপরপ্রান্ত থেকে রাশভারি গলায় নওশাদ বলে,

“এই গাধা তু….’

অর্ক নওশাদের কথা শেষ হতে দিলো না। “হিলু…”

নওশাদ চুপ করে যায়। বড় করে শ্বাস ফেলে। পুনম শোনে তা। নওশাদ নরম স্বরে বলে, “তোমার ফুপি কোথায়?”

পুনম মিউট করে অর্ককে কথা শিখিয়ে দিলো। অর্ক তাই বললো, “পুপি তো নাই। চাচুর কাছে চলি গেছে।”

“অর্ক আব্বু তোমার ফুপিকে দাও।”

“নাই তো!”

“আচ্ছা। তুমি ভালো আছো?”

অর্ককে আর শিখিয়ে দিতে হলো না। অর্ক নিজ থেকেই বলে,

“জ্বি ভালু আচি। তুমি ভালু আচো?”

“আমিও ভালো আছি।”

অর্ক চুপ করে পুনমের দিকে তাকিয়ে থাকে।

নওশাদ জিজ্ঞাসা করে, “কি করছো?”

“কেলি।”

“কি খেলো?”

“পুপি আসার সময় বেলুন আনচিলো ওই বেলুন দি খেলি।”

“আচ্ছা। তোমার ফুপিকে বলবে আমি রাতে আসবো।”

“আচচা।”

পুনম চোখ বড় বড় করে ফেলে। অর্ককে শিখিয়ে দিতেই অর্ক বলে, “না না আসিও না।”

“কেনো আসবো না?”

“এমনিতেই আসিও না।”

“আচ্ছা আব্বু তোমাকে এইসব কে শিখিয়ে দিচ্ছে? তোমার ফুপি?”

পুনম কিছু শিখিয়ে দেওয়ার আগেই অর্ক বলে ফেলে, “জিইইই।”

পুনম কপালে হাত দেয়। নওশাদ বলে, “তোমার ফুপিকে বলবে আমি আসছি। অবশ্য বলতে হবে না সে তো শুনতেই পাচ্ছে।”

পুনম অর্কের হাত থেকে মোবাইল নিয়ে কেটে দিলো। অর্কর দিকে চোখ রাঙিয়ে বলে,

“তোকে না বলেছি আমার কথা না বলতে?”

“বলি নাই তো তোমার কথা।” ঠোঁট উল্টে বলে।

পুনম ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। ওকে আর কি বলবে? ফুপির ভাতিজা তো ফুপির মতোই বলদ হবে তাই না? পুনম অর্ককে টেনে কোলে বসায়। গালে চুমু দিয়ে বলে,

“রাতে আমার সাথে ঘুমাবি?”

“গুমাবো তো।”

“মনে থাকে যেন। আবার লাফাতে লাফাতে চলে যাস না।”

“আচচা লাপাতে লাপাতে যাবু না। হাঁটি যাবু।”

“তবে রে দুষ্ট!”

পুনম অর্ককে কাতুকুতু দেওয়া শুরু করে। অর্ক খিলখিল করে হাসতে থাকে। অর্কর সাথে পুনমও হাসতে থাকে।

_____________________

পুনমের বাসার ড্রয়িংরুমে বেশ জমজমাট আবহা। পুনম রুম থেকেই নওশাদের গলার স্বর শুনতে পাচ্ছে। কেমন বেহায়ার বেহায়া আসলেই চলে এসেছে। পুনম এই লোকের সামনেই পড়তে চায় না আজ। তবে ওর পরিকল্পনায় এক বালতি পানি ঢেলে তখনই নিশা ওকে ডাক দেয়। পুনম প্রথম ডাকে না গেলেও দ্বিতীয়বার ডাকতেই ড্রয়িংরুম অতিক্রম করে কিচেনে যায়। ড্রয়িংরুম অতিক্রম করার সময় একবারও এদিক ওদিক তাকায় না। সোজাসুজি কিচেনে চলে যায়।

পাপিয়া, নিশা হাতে হাতে কাজ করছে। পুনমকে দেখে নিশা একটা ট্রেতে তিন গ্লাস শরবত দিয়ে বলে,

“এগুলো তোমার ভাইয়াদের আর নওশাদকে দিয়ে এসো।”

পুনম চায় না নওশাদের সামনে পড়তে। মুখ কুচকে বলে, “আমি পারবো না। তুমি দিয়ে এসো।”

পাপিয়া বলে, “তাহলে তুই ভুড়ি রান্না কর?”

পুনম মুখ কুচকে বলে, “আমি পারি নাকি যে করবো?”

“তাহলে নিশা ওখানে গেলে রান্নাটা হবে কি করে?”

নিশা বলে, “বোন আমার এগুলো যাও। আমি যেতে পারবো না। পুড়ে যাচ্ছে তো।”

পুনম ট্রে হাতে নেয়। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ড্রয়িংরুমে যায়। প্রতীক, প্রিতমকে শরবতের গ্লাস দিয়ে নওশাদের সামনে দাঁড়ায়। নওশাদের চোখে চোখ পড়তেই পুনমের সব তালগোল পাকিয়ে যায়। ভীষণ লজ্জায় পড়ে। গাল দুটো যেন লাল হয়ে গিয়েছে। মুখে আপনাআপনি হাসি চলে আসছে। নওশাদও হালকা হেসে ট্রে থেকে গ্লাস হাতে নিতেই পুনম পা চালিয়ে দ্রুত ওখান থেকে চলে আসে। কি লজ্জার বিষয়! নওশাদকে দেখে এতো লজ্জা পাওয়ার কি হলো?

নওশাদ আবার প্রতীক, পুনমের সাথে গল্পে মেতে উঠে। পুনম এবার আগ বাড়িয়ে নিশা, পাপিয়াকে সাহায্য করে। সবজি কেটে দিতে থাকে। নিশা অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে,

“এই কাটাকুটি কে শেখালো?”

পুনম একটু লজ্জা পায়। সংকোচ নিয়ে বলে, “ও শিখিয়েছে।”

নিশা অবাক হয়ে পাপিয়ার দিকে তাকায়। পাপিয়া মনে মনে দোয়া করে। মেয়েটা একটু ধীরস্থির হয়ে থাকলেই হয়। নিশা রান্না করতে করতে বলে,

“নওশাদ রান্না পারে?”

“সব পারে। আমার শ্বাশুড়ি যখন অসুস্থ ছিল তখন নাকি ও-ই রান্না করতো। ওইভাবে রান্না করতে করতে শিখে গিয়েছে।”

“বাসায় খালা নেই?”

“না।”

“এখন রান্না কি নওশাদই করছে? তুই তো পারিস না।” পাপিয়া বলে।

“হুম।”

“তুই নওশাদের কাছ থেকে শিখে নিস। ছেলেটা বাহির সামলে আবার রান্নাবান্না করবে! কত কষ্ট হয়ে যায়। তুই শিখে নে, পরে সব শিখে গেলে তুইই রান্নাবান্নার দিকটা সামলাস।”

“জ্বি।”

“আগে তো আমিও রান্না পারতাম না। আমি যেমন আম্মার কাছ থেকে শিখেছি, তুমি তোমার হাসবেন্ডের কাছ থেকে শিখে নিবে।”

“জ্বি।”

পাপিয়া স্বস্তির শ্বাস ফেলে। মেয়ের হম্বিতম্বি বেশিদিন থাকবে না উনি জানতেন। একটু বেশিই ভালোভালা মেয়ে ওনার। ছোটবেলা থেকে এমন অনেক হম্বিতম্বি দেখেছে। দুদিন পরেই আবার ঠিক হয়ে গিয়েছিল। এইসব কোনো ব্যপার না।

এদিকে পুনম খিঁচে বসে আছে। এক টমেটো কাটা শেখাতে গিয়ে নোয়াখাইল্লা বেডা যে তামাশা করলো, ও আর নওশাদের ওয়েতে রান্না শিখতে যাবে না। বাকিরা যেভাবে রান্না শেখে ওভাবেই শিখবে।

———————-

রাতের খাওয়া দাওয়া সাড়ে দশটার ভিতরই শেষ। নওশাদ খেয়েদেয়ে রুমে চলে গিয়েছে। পুনম রুমে না যাওয়ার জন্য যত তালবাহানা করা যায় সব করলো। নিশাকে এঁটো বাসনপত্র ধুয়ে দিলো। পাপিয়ার পা টিপে দিলো। তারচেয়েও বড় আশ্চর্যজনক ব্যপার হলো প্রিতমের রুমে মশারি টানিয়ে দিয়েছে। সবাইকে চমকে দিচ্ছে একপ্রকার। এইসব করতে করতে বারোটা বেজে গিয়েছে।

পুনম তক্কে তক্কে ছিল অর্ককে নিয়ে রুমে যাওয়ার জন্য। কিন্তু এমন বদের বদ! অর্ক খেয়েদেয়ে এগারোটার মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়েছে। প্রতীকের রুমে সামনে পুনমকে ঘুরঘুর করতে দেখে নিশা পুনমের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলে, “তুমি রুমে যাচ্ছো না কেনো?”

পুনম মেকি হাসি দিয়ে বলে, “কোথায় যাচ্ছি তো।”

“ডিনারের পর থেকেই শুনছি যাচ্ছো। সত্যি করে বলো তো ঝগড়া টগড়া করেছো?”

“আল্লাহ নাহ।”

“তাহলে?”

“কিছু না। এমনিতেই কাজ করে কাজ শিখছি।”

“আর কিছু করতে হবে না। রুমে যাও। এখুনি।”

পুনম কথা বাড়ালো না। ইতিউতি করে রুমের দিকে পা বাড়ায়। নওশাদ আধশোয়া হয়ে মোবাইল টিপছে। পুনম রুমে ঢুকে শব্দহীনভাবে দরজা লাগায়। তাতে কি? ঘরে একজন মানুষ প্রবেশ করলে কি বোঝা যায় না? নওশাদ চোখ তুলে তাকায় পুনমের দিকে। পুনম দরজার সাথে আঁটসাঁট হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। নওশাদ সোজা হয়ে বসে বলে,

“এমন চিপায় চাপায় থাকো কেনো? তুমি কি চোর?”

পুনম চোখ সরিয়ে নেয়। নওশাদ উঠে দাঁড়ায়।

“তুমি ভার্সিটি থেকে এখানে আসার আগে আমার পারমিশন নিয়ে এসেছিলে?”

পুনম নওশাদকে এগিয়ে আসতে দেখে থতমত খায়। খাপছাড়া গলায় বলে,

“আমার বাসায় আমি আসবো, আবার পারমিশনও
নিতে হবে?”

নওশাদ পুনমের ঠিক মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। পুনমের মাথার পাশে দরজায় হাত দিয়ে বলে,

“পারমিশনের কথা বাদ দিলাম। আমাকে জানিয়ে এসেছিলে?”

পুনম জবাব দেয় না। নওশাদ দরজায় আস্তে থাবা মেরে বলে,

“আই নিড অ্যান্সার। চুপ করে থাকবে না।”

পুনম মাথা নিচু করে দুদিকে মাথা নাড়ে।

“বাপের বাড়ি একই শহরে হওয়ায় সুবিধা পেয়েছো না?”

পুনম মাথা নুইয়ে ফেলে। নওশাদ পুনমের থুতনি ধরে মুখ উঁচু করে ধরে। রাশভারি গলায় বলে,

“চোখে চোখ রেখে কথা বলবে। আমার সাথে কথা বলার সময় একমুহূর্তের জন্যও চোখ নিচে নামাবে না। এখনও না, পরেও কখনো না।”

পুনম নওশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে শুকনো মুখে। নওশাদ বলে,

“সমস্যা কি বলো?”

পুনম উত্তর দেয় না। নওশাদ ফের বলে, “চুপ থাকতে নিষেধ করেছি না?”

“এমনিতেই।”

“কারণ জানতে চেয়েছি।”

“লজ্জা লাগছিলো।”

“কেনো? তোমার লজ্জা পাওয়ার মতো কিছু হয়েছিল?”

পুনম ঠোঁটে ঠোঁট চেপে দুদিকে মাথা নাড়ে।

“তাহলে তুমি এই রিয়েকশন দিচ্ছো কেনো যে কত কিছু হয়ে গিয়েছে?”

পুনম ফট করে বলে ফেলে, “আপনিও তো সামান্য জড়িয়ে ধরার পর কি বাজে রিয়েকশন দিয়েছিলেন।”

“তুমি ওমনভাবে জড়িয়ে ধরেছিলে কেনো? ভর সন্ধ্যায় ওভাবে কে কাকে জড়িয়ে ধরে?”

“আমি পরে নিজেকে ছাড়িয়ে নিতে চেয়েছিলাম না? পরে আমাকে ধরে রেখেছিল কে?”

“হ্যাঁ জড়িয়েই ধরেছি। কিন্তু প্রথমে এসেছো তুমি। এখন তুমি আমার বউ। জড়িয়ে ধরবো, প্রেম করবো, যা ইচ্ছে তাই করবো। তুমি এমন ভাব করছো যেন তোমার সাথে কি না কি করে ফেলেছি। পাগলের মতো কেনো করছো এমন?”

“জানি না।”

“সামান্য জড়িয়ে ধরায় এমন লজ্জা পেয়েছো যে পোঁটলাপুটলি নিয়ে বাপের বাড়ি চলে এসেছো? এত লজ্জা আসে কোথা থেকে?”

“আপনি লজ্জা দেন আমাকে। তাই-ই লজ্জা পাই।”

“আমি কালকে ফিরতি জড়িয়ে ধরেছিলাম বলে অনেক লজ্জা পেয়েছো?”

পুনম জবাব দিল না। নওশাদ অভাবনীয় এক কাজ করলো। পুনমের কোমরে টান মেরে পুনমকে নিজের বুকে ফেলে। পুনম অবাক হয়ে বড় বড় চোখ করে পুনমের তাকায়। নওশাদ বলে,

“গতকাল এমন কিছু করেছি তোমার সাথে?”

পুনম দ্রুত গতিতে মাথা দুদিকে নাড়ায়। নওশাদ পুনমকে কোলে তুলে নেয়। পুনম চোখ বড় বড় করে চাপা স্বরে চেঁচিয়ে উঠে। নওশাদ বলে,

“কালকে এমনভাবে কোলে তুলে নিয়েছি যে লজ্জা পাচ্ছো?”

পুনম দুদিকে মাথা নাড়ে। পুনমকে বিছানায় বসিয়ে নওশাদ ওর গালে হাত রাখে। চোখে চোখ রেখে বলে,

“এভাবে কালকে গালে হাত রেখেছি?”

পুনম ডানে বামে মাথা নাড়ে।

নওশাদ টুপ করে পুনমের দুগালে চুমু খায়। পুনম এবার জ্ঞান হারাবে। নওশাদ ভ্রু নাচিয়ে বলে,

“চুমু খেয়েছি এভাবে যে এতটা লজ্জা পাচ্ছো?”

পুনম মাথা নাড়ে। নওশাদ পুনমের দুহাতের উল্টোপিঠে চুমু খেয়ে বলে,

“করেছি এমন কিছু?”

বরাবরের মতো পুনম ‘না’ উত্তর দেয়। নওশাদ পুনমকে বুকে চেপে ধরে বলে, “এমনটা করেছি?”

পুনম আর জবাব দেয় না। নওশাদ পুনমের থুতনিতে হাত রেখে মুখ উঁচু ধরে চোখে চোখ রেখে বলে, “এমন কিছু করেছি?”

“ন.না।”

“গতকালকে বলেছি নওশাদের বিন নাসিরের বউটা অনেক আলাভোলা?”

পুনম দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলে, “না।”

নওশাদ পুনমের কপালে অনেকক্ষণ যাবত ঠোঁট চেপে রাখে। পুনম কেঁপে ওঠে। নওশাদ পুনমকে ছেড়ে বলে,

“এভাবে দীর্ঘক্ষণ ধরে কপালে আমার ঠোঁটের স্পর্শ পেয়েছো?”

ফের মাথা নাড়তেই নওশাদ জিজ্ঞাসা করে, “এমন মৃগী রোগীর মতো কেঁপেও তো উঠোনি। তবে এতো লজ্জা কিসের?”

পুনম ছোট ছোট শ্বাস ফেলতে থাকে। নওশাদ পুনমের কানের পিছনে চুল গুঁজে দিয়ে বলে, “বলো?”

“আপনি অনেক চালাক।”

“হুহ?”

“আপনি গতকাল না করলেও এখন তো সব করেই ফেললেন।”

নওশাদ হাসে। পুনমের গালে চুমু খায় এবার। পুনম লজ্জা পায়। নওশাদ বলে,

“আমার বউয়ের সাথে আমি যা খুশি তাই করতে পারি।”

“কিন্তু বউ যে লজ্জা পায়?”

“বউকে নিজের সাথে সহজ করানোর দায়িত্বও তো আমার।”

“ওরা বলছিলো আপনি ভীষণ রাগি, চোটপাট করেন, কিন্তু আমার তো তেমন লাগেই না।”

“তুমি আর ওরা তো এক নও যে চোটপাট করবো। তুমি তো বউ।”

“বউ বলে সব মঞ্জুর?”

“হুহ।”

পুনম নওশাদের দিকে তাকালো। নওশাদের টিশার্টের কলার মুঠোয় নিয়ে বলে, “এই?”

“কি?”

“আপনি কি কোনো কারণে আমাকে পছন্দ করেন?”

“না।”

“তাহলে?”

“কি তাহলে?”

“তাহলে আমার সাথে ভালো ব্যবহার করেন কেনো?”

“বউয়ের সাথে কাপুরুষের মতো বাজে ব্যবহার করবো?”

পুনম নওশাদের কলার ছেড়ে দেয়। বলে, “আমি যা-ই করবো বউ বলে সব মাফ?”

“না।”

“ওদের মতো চড় দিবেন?”

“চড় দিতে হবে কেনো? অন্যভাবেও শাস্তি দেওয়া যায়।”

“কিভাবে?”

“এভাবে।” বলে টুপ করে পুনমের ঠোঁটে ঠোঁট ছোঁয়ায়।

পুনম ঠোঁট হাত চেপে অবাক হয়ে নওশাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। নওশাদ কুটিল হাসে। পুনমকে পেঁচিয়ে ধরে বলে,

“এইসব কিছুই করিনি। তাহলে এমন লজ্জা পাওয়ার কারণ কি?”

পুনম মাথা নামিয়ে ফেলে। নওশাদ বলে, “এখন অনেক কিছু করে ফেলেছি। কালকে স্বামীর ঘরে লজ্জায় ফেলেছিলাম, এখন বাবার বাসায় ফেললাম। কালকে লজ্জা পেয়ে তো পোঁটলাপুঁটলী বেঁধে বাপের বাড়ি চলে এসেছিলে। আজ কি করবে? বাপের বাড়িতে লজ্জা পেয়ে স্বামীর ঘরে আবার দৌঁড় দিবে? নওশাদ বিন নাসিরের কাছ থেকে পালাতেই থাকবে?”

পুনম নিজেকে ছাড়াতে ছটফট করে। নওশাদ বলে,

“লাভ নেই। ছাড়াতে পারবে না।”

“বাড়াবাড়ি হচ্ছে।”

নওশাদ পুনমকে ছেড়ে দিলো। পুনম অবাক হয়। অদ্ভুত! ছেড়ে দিতে বললো আর ওমনি ছেড়ে দিলো? ছাড়তে বললেই ছেড়ে দিতে হয়? ওকে অবাক করে দিয়ে নওশাদ লাইট নিভিয়ে পুনমকে নিয়ে বিছানায় পড়ে। পুনমকে পেঁচিয়ে ধরে বলে,

“আরো বাড়াবাড়ি করতে মন চাচ্ছে।”

পুনম চোখ বন্ধ করে ফেলে। নওশাদ পুনমের চুল গুছিয়ে দিয়ে বলে, “যদি তোমার মত থাকে তো। জোর করছি না।”

পুনমের হাত পা বন্ধ করে দিয়ে বলছে জোর করছে না। নোয়াখাইল্লা বেডারে! পুনম নওশাদের বুকে মুখ গুঁজে।

“আর লজ্জা দিবেন না।”

“বেশি লজ্জা দেই?”

“খুব বেশি।”

“আমি আরো বেশি লজ্জা দিবো। আমার বউ, আমি লজ্জা দিবো না তো কে দিবে?”

“বউ বলে লজ্জা দিতেই হবে?”

“তোমাকে লজ্জা পেতে দেখলে ভালো লাগে। তোমার লজ্জা, লজ্জা মুখের একটা ছবি বাঁধিয়ে রাখবো।”

“নোয়াখাইল্লা বেডারে!” পুনম বিড়বিড়িয়ে তপ্ত শ্বাস ফেলে।

চলমান….

(হ্যাপি রিডিং)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here