বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~ #পর্ব_৪

0
64

#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_৪
#সমৃদ্ধি_রিধী

আরিফ, মাহতাব, মাহাদী, মুমিন, জিসান, তিহান, তুহিন, নওশাদের দুলাভাইয়েরা খাওয়ার পর ইসরাত, রিমি, রুমঝুম, তাহিয়া, জেরিন, জাইমা ওরা খেয়ে নেয়। হাসনাহেনা ইসরাতদের সাথে পুনমকে খেয়ে নিতে বলে। পুনমের ভীষণ খিদে পেয়েছিল তাই ও আর নাকচ করেনি। বলা মাত্রই খেয়ে নেয় ওদের সাথে। এমনিতেই সন্ধ্যায় যে কাজ করেছে নওশাদ ছাড়া সবাই ভালোই মজা নিয়েছে ওর। কথায় আছে না– “বাদ যায় নি একটি শিশুও”!

তেমনি নওশাদ ছাড়া নওশাদের পরিবারের কেউই ওর মজা নিতে বাদ পড়েনি। পুনম লজ্জায় মাথা নুইয়ে জড়সড় হয়ে ছিল কেবল। সবাই খেয়ে যে যার মতো চলে যাওয়ার পর নওশাদ ওর পাঁচ বোনের সাথে খেতে বসে। পুনম সবাইকে বেড়ে দেয়। জবা খেতে খেতে বলে,

“নওশাদ, জিসানের মোবাইলডা দিয়া দে। ওর ক্লাস করন লাগে।” (নওশাদ জিসানের মোবাইল দিয়ে দে। ওর ক্লাস করতে হয়।)

নওশাদ পানি পান করে বলে, “জিসান তোরে কইছে মোবাইল দিবার লাই?” (জিসান বলেছে তোকে মোবাইল দেওয়ার জন্য?)

“বাসাত যাই মুখ কালা করি আছিলো। তোর দুলাভাই তো পুতের কালা মুখ দেইখতে হারে না। আরে কইছে তোরে কইবার লাই। দিয়া দিস।” (বাসায় গিয়ে মুখ কালো করে ছিল। তোর দুলাভাই তো ছেলের কালো মুখ দেখতে পারে না। আমাকে বলেছে তোকে বলার জন্য। দিয়ে দিস।)

নওশাদ দাঁতে দাঁত চেপে বলে, “হোলা যে বিগড়ায় যার দেখোসের না কন? সারাদিন মোবাইল লই হরি থাকে, চোহে লাগে না?” (ছেলে যে বিগড়ে যাচ্ছে দেখিস না? সারাদিন মোবাইল নিয়ে পড়ে থাকে চোখে লাগে না?)

“আই কিয়া কইত্তাম? আই মানা করি না? হেতে আর কথা হুনে?” (আমি কি করবো? আমি নিষেধ করি না? ও আমার কথা শুনে?”

“জিসান কোনানে?” (জিসান কোথায়?)

“ইসরাতের লগে।”

নওশাদ হাক ডাকে। “জিসান এই জিসান?”

হাসনাহেনা বিরক্ত হয়ে বলে, “এরে নওশাদ! দি দেস না! এইচ্চা করোস কা তুই?”

মিনিটের মধ্যে জিসান আসে। মুখ গোমড়া করা। নওশাদ তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে বলে,

“এই মোবাইল লাগবে তোর?”

জিসান মায়ের দিকে অসহায় চোখে তাকায়। নওশাদ বলে, “আমার সাথে কথা বল। তোর মোবাইল আমার কাছে। আপার দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।”

জিসান দুদিকে মাথা নাড়িয়ে বলে, “লাগবে না।”

হাসনাহেনার দিকে তাকিয়ে নওশাদ বলে, “দেখছোত লাইগদো নো।” (দেখেছিস লাগবে না।)

হাসনাহেনা দীর্ঘশ্বাস ফেলে। নওশাদের সাথে পেরে উঠা যাবে না। নওশাদ জিসানকে বলে,

“যাহ, বাসায় যা। পড়াশোনা কর। এপ্রিলের শেষের দিকেই পরীক্ষা। হয় পড় নাহলে ঘুমা।”

জিসান মাথা নিচু করে চলে গেল। বাকি সময়টা পিনপিন নীরবতা বিরাজ করে। পুনম ঠোঁট গোল করে শ্বাস ফেলে। কিসব আজব কান্ড কারখানা এখানে। পুনমের পছন্দ হচ্ছে না এইসব।

—————–

আরিফ লুকিয়ে বারান্দায় যায়। ব্যস্ত হাতে কাঙ্ক্ষিত নম্বরে কল করে। একবার রিং হতেই অপরপ্রান্ত থেকে কল রিসিভ করা হয়। আরিফ হেসে বলে,

“বাব্বা মোবাইল হাতে নিয়েই বসে ছিলে নাকি?”

“হুম।”

“আশেপাশে নেই বোনেরা?”

ফিসফিস করে বলে, “আমি ওয়াশরুমে চলে এসেছি।”

“গিদর। চ্যাট করবো, কল কাটো।”

“কেনো?”

“ওয়াশরুমে কে কথা বলে ছিহঃ! আমার বমি পাচ্ছে শুনেই।”

“ওরা দেখে ফেললে?”

“কি হবে? ধরা খেয়ে যাবো এটাই। গোপন সম্পর্ক জানাজানি হয়ে যাবে।”

“আল্লাহ!” কণ্ঠে ভয়।

“ভয় কিসের? তোমার মতো বয়সী মেয়েদের সংসার হচ্ছে না?”

“হলেও…”

“তোমার বয়সী এক মেয়ে নওশাদ বিন নাসিরের সংসার করতে পারলে তুমি মোঃ আরিফ হাসানের ঘর করতে পারবে না?”

“মোঃ আরিফ হাসান কি নওশাদ বিন নাসিরের চেয়ে কম নাকি যে এতটা গর্ব করা হচ্ছে?”

“আমি নওশাদ বিন নাসিরের মতো?”

“ওভাবেই তো খোঁটা মেরে কথা বলো।”

“কথায় কথায় তো থাপ্পড় দেই না।”

“মুখেই যে তীর-ধনুক ছুটে থাপ্পড়ের কি প্রয়োজনীয়তা?”

“আগে বুঝোনি?”

“শিয়াল মুরগী ধরার আগে ভালো হয়ে থাকে। তুমিও তেমন ছিলে। যেই মুরগী ধরে ফেলেছো ওমনি ভোলই পাল্টে গিয়েছে।”

আরিফ হাসে। হাসি থামিয়ে বলল, “পারলে কালকে বের হওয়ার চেষ্টা করো। পরবর্তী একমাসের মতো দেখা হবে না।”

“কোথায় যাবে?”

“মিশনে।”

“আরিফ?”

“এই প্রফেশন আমি ছাড়ছি না। যাই হয়ে যাক।”

“এইবারের মিশনটা রিস্কি না অনেক?”

“আল্লাহ ভরসা।”

“আমাকে ছেড়ে দিবে তবুও এই প্রফেশন ছাড়বে না, না?”

“যদি দেখি আমার জীবনে আর নিরাপত্তা নেই, আমার সাথে জড়িত সবার ক্ষতি হতে পারে, তাহলে অবশ্যই ছেড়ে দিবো। তার আগে নয়। এখন আমাদের সম্পর্ক আমাদের পরিবার মানুক আর না মানুক।”

ফোনের দুপ্রান্ত থেকে দুজনে দীর্ঘশ্বাস ফেলে একইসময়।

——————–

রাত সাড়ে এগারোটা বাজে। পুনম ওয়াশরুম থেকে শাড়ি পাল্টে সালোয়ার কামিজ পড়ে বের হয়। নওশাদ বেডে পা ঝুলিয়ে বসে মোবাইল টিপছে। পুনম ওড়না ঠিকঠাক করে দরজার দিকে তাকায়। দরজা বন্ধ। পুনম হাতের উল্টো পিঠে নাকের কাছের ঘাম মুছে বিছানায় উঠে। কাঁথা গায়ে দিয়ে শুয়ে পড়ে। নওশাদ ঘাড় বাঁকিয়ে পুনমের দিকে তাকায়। পুনম নওশাদের দৃষ্টি দেখে চোখ সরিয়ে নেয়।

নওশাদ মোবাইল রেখে ডিম লাইট জ্বালিয়ে লাইট অফ করে দেয়। পুনমের আবার গতরাতের মতো হাসফাস লাগে। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে শুয়ে থাকে। নওশাদ টান টান হয়ে শুয়ে চোখের উপর হাত রাখে। নীরবতা ভেঙে বলে,

“রুই মানে তুলো। মাথায় রাখবে কথাটা। আজকের মতো অদ্ভুত কাজ আর কখনো যেন না করা হয়।”

“হুহ।” পুনম লজ্জা পেলো বেশ।

“ভালা তেল মানে সরিষার তেল।”

“এইসব আমাকে বলছেন কেনো?”

“যাতে কখনো ভালা তেল আনতে বললে সুন্দর তেলের বোতল খুঁজে না বেরাও।”

পুনমের লজ্জায় মুখ লাল হয়ে যায়। মুখ থেকে শব্দ বের হয় না। নওশাদ বলে, “লুইব্বা মানে বরবটি।”

পুনম লজ্জায় পড়ে। বেশ অস্বস্তি নিয়েই বলে,

“আমাকে এইসব বলতে হবে না।”

“জানা আছে সব?”

পুনম উত্তর দিলো না। নওশাদ বলে, “যেহেতু জানোই তাহলে বলো বাইন্না বেলা মানে কি?”

“বাইন্না বেলা?”

“হুম।”

“বাইরের বেলা?”

নওশাদ হাসে। পুনম বুঝে না যদিও। “হোয়াট ডু ইউ মিন বাই বাইরের বেলা?”

“জানি না।”

নওশাদ ছোট করে শ্বাস ফেলে বলে, “বাইয়্যুন মানে বেগুন, পুস্কুনি মানে পুকুর আর বাইন্না বেলা মানে সকাল বেলা। পিঁপড়া হলো হিম্ভা। বড় আপা, মেজো আপা, সোজো আপা আঞ্চলিক শব্দগুলো বেশি ব্যবহার করেন। কোনো কিছু না বুঝলে আপাদেরকে বলবে। না বুঝে শুনে উল্টাপাল্টা কিছু করবে না। অবশ্য তোমাকে বিশ্বাস করতে পারছি না।”

পুনম দাঁতে দাঁত চেপে শুয়ে রইলো।

“বড় আপা পানিকে হানি বলেন। হানি আনতে বললে আবার মধু নিয়ে এসো না।”

পুনম লজ্জায় যেন শ্বাসও নিতে পারছে না। ঠোঁটে ঠোঁট চেপে মটকা মেরে শুয়ে রইলো। নওশাদ চোখের উপর থেকে হাত সরিয়ে বুকে হাত গুঁজে বলে,

“রুই মানে বুঝেছো রুই মাছ। খুবই ভালো কথা। রুই মানে যে তুলা এটা বোঝার কথা না তোমার। তো তুমি তোমার বুঝ মতো মাছের পলিথিন যখন এনেছো তখন রুই মাছই নিয়ে আসতে ফ্রিজ থেকে। চিংড়ি মাছের পলিথিন কেনো নিয়ে এসেছিলে? তুমি কি ধরেও বুঝতে পারোনি কোনটা বড় মাছ আর কোনটা চিংড়ি মাছ?”

পুনমের মুখ কাঁদো কাঁদো হয়ে যায়। বেশ খুশি হচ্ছিলো এটা ভেবে অন্তত নওশাদ ওর মজা নেয়নি। ওমাহ! এই লোক তো একা পেয়ে আরো ভালো করে মজা নিচ্ছে। নোয়াখাইল্লাদেরকে পুনম কি সাধে খারাপ বলে? এইজন্যই তো বলে। এরা ভালো হতেই পারে না।

“রান্নাবান্নার কিছু পারো বলে তো মনে হয় না।”

পুনমের কাছ থেকে উত্তর না পেয়ে নওশাদ বলে,

“উত্তর দিচ্ছো না কেনো?”

“পারি না।”

“পারো কি শুধু জেদ করতে?”

“শিখে নিবো।”

“কার থেকে? নিজের মায়ের সাথে তো আর সম্পর্ক রাখবে না। তুমি আবার আমার সাথেই সংসার করবে। আমার আম্মুও নেই। শিখবে কার কাছ থেকে?”

পুনম ভাবে কিছুক্ষণ। নোয়াখাইল্লা বেডা পয়েন্টে পয়েন্টে কথা ধরে। পুনমকে গভীর থেকে গভীরতর প্রশ্ন করে বিব্রত করে ফেলে। পুনমের বুদ্ধি খাটিয়ে বলে,

“দরকার হলে জবা আপার কাছ থেকে শিখবো।”

“আমার আপার তো খেয়েদেয়ে কাজ নেই না?”

পুনম মনে মনে আওড়ায়, “আপনি পারলে শিখিয়ে দিন। যত্তসব।”

কিন্তু মুখে বলে, “আমি আপনাদের আঞ্চলিক ভাষার অর্থ বুঝি না বলে এভাবে মজা নিতে হবে?”

“হুম কথা ঠিক। আমাদের আঞ্চলিক ভাষা কখনো ওইভাবে শোনোনি, তাই বুঝতে প্রবলেম হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু চিংড়ি মাছ কি করে নিয়ে এলে রুই মাছ মনে করে?”

পুনমের ইচ্ছে হলো নোয়াখাইল্লা বেডার নাক বরাবর ঘুষি মারতে।

পুনম কথা এড়াতে চায়। জানতে চায়, “ইঁচা মাছ কি?”

“চিংড়ি মাছ।”

হাসনাহেনা পুনমকে জিজ্ঞাসা করেছিলো ইঁচা মাছ খাবে কিনা। পুনম নামই শুনেনি। কেমন না কেমন মাছ হবে কে জানে এই ভেবে হাসনাহেনাকে নিষেধ করে দেয়। কে জানতো ইঁচা মাছই ওর প্রিয় চিংড়ি মাছ!

“যদি কিছু না বুঝতে পারো আমাকে জিজ্ঞাসা করে নিবে। তাও ফেইসলস হয় ওইরকম কিছু করবে না।”

“ঠিক আছে।”

পুনম এখন খেয়াল করলো নওশাদ ওকে তুমি করে ডাকছে। পুনমের ভালো লেগেছে বিষয়টা। পুনম বলে,

“আপনাকে একটা কথা বলি?”

“কি সংসার করবে না?”

“আমি কি সেটা বলেছি?”

“আচ্ছা বলো কি বলবে।”

“ওদেরকে যে বকাবকি করেন, ওরা পিঠ পিছে আপনার বদনাম করে। বিষয়টা কি ভালো দেখায়?”

“তোমার কাছে বদনাম করেছে?”

পুনম জবাব দেয় না। নওশাদ বলে,

“আমি ওদের ভালোর জন্য বকি।”

“ওরা তো বড় হয়েছে। যেখানে আপারা, দুলাভাইয়েরা কিছু বলে না সেখানে আপনি বকাবকি করেন কেনো?”

“ওনারা কিছু বলে না দেখেই আমি বলি।”

“বদনামের ভাগিদারও তো আপনিই হন।”

“বদনাম করে আমার। তোমার এত গায়ে লাগছে কেনো?”

পুনম মনে মনে বলে, “আজব।”

“আমি নিজের মন মতো চলি। আমার কাছে যেটা ভালো মনে হয় আমি সেটাই করি এবং আজীবন করবোও। কারো কথায়, অন্য কারো উপর জেদ করে আমি নিজের মতের বাইরে গিয়ে কিছু করি না, নিজের লাইফে ভুলভাল ডিসিশনও নেই না। এখন আমাকে সেটা যেই করতে বলুক না কেনো।”

পুনম চোখ বন্ধ করে ফেলে। খিঁচে শুয়ে থাকে। অদ্ভুত লোক। এমনভাবে কথা বলা মানুষদের পুনমের পছন্দ নয়৷ একটুও নয়।

“অযথা রাগারাগি করা ভালো না।”

নওশাদ শুনতো কথাগুলো যদি না পুনমকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হতো। নওশাদ মন দিয়েই সব শুনতো যদি মেয়েটা ওর সাথে সহজ হওয়ার চেষ্টা করতো। মেয়েটা সবার সাথে ভালোভাবেই থাকে শুধু নওশাদ ছাড়া।

“আমি রাগরাগি করি নাহলে যা ইচ্ছে তাই করি। তোমার কি? তোমার সাথে কোমল স্বরে কথা বলছি দেখে সাপের পাঁচ পা দেখেছো মনে হয়? মাথায় তুলে আছাড় মারতে আমার দু’সেকেণ্ডও লাগবে না।”

“আপনি আমার সাথে এমন ব্যবহার করেন কেনো?”

“তো তোমার সাথে কেমন ব্যবহার করবো? কোলে তুলে আদ….”

নওশাদ থেমে যায়। বড় করে শ্বাস ফেলে। পুনম হাত মুষ্টিবদ্ধ করে ফেলে। পুনম কল্পনায়ও আনতে পারে না ওসব। সমস্ত জড়তা, অস্বস্তি ওকে ঘিরে ধরলো। বিয়ের জন্য ওকে একটু সময় দিলে কি হতো? পুনম মনকে বোঝাতো, মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতো। এখন এতটা জড়তা, অস্বস্তিতে ভুগতে হয় ওকে শুধু ওর মা ভাইয়ের কান্ডকারখানার জন্য।

সকালে এসে বলে বিয়ে। বিকালে পাঠিয়ে দিলো স্বামীর ঘরে। পুনমের হয়েছে যত জ্বালা। কিছুতেই শান্তি পাচ্ছে না। না ঠিক করে ওদের কথাও বুঝে, না খেয়েও শান্তি পায়। সারাদিন শেষে ঘুমাতে এসেও ভয় লাগছে। নওশাদ যদি কিছুমিছু করে ফেলে ওর ঘুমের সুযোগ নিয়ে! পুনমের অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠে। ছেলেদেরকে পুনম বিশ্বাস করে না, করে না, করে না। কিছুক্ষণ মটকা মেরে শুয়ে থাকতেই পুনম গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।

পুনম ঘুমিয়ে পড়লেও নওশাদ বেশ কিছুক্ষণ যাবত এপাশ ওপাশ করে। ঘুম আসছে না। এদিকে পুনম নওশাদের দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে ঘুমে কাঁদা। পুনমের চুল বালিশে ছড়িয়ে আছে। নওশাদ পুনমের দিকে ঘুরে শোয়। বুকে হাত গুঁজে নিষ্প্রভ দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। বেশ কিছুক্ষণ পর হাত বাড়িয়ে পুনমের চুলের আগা স্পর্শ করে। পুনমকে নওশাদের প্রথম স্পর্শ করা হয় পুনমের চুল স্পর্শ করার মাধ্যমে। চুলগুলো হাতে নিয়ে মনে মনে পরিকল্পনা করে সব ঠিকঠাক হয়ে গেলে ও পুনমকে বেলীফুলের গাজরা কিনে দিবে। নিজের হাতে পরিয়েও দিবে নাহয়। পুনমকে নিঃসন্দেহে চমৎকার লাগবে। অন্তত নওশাদের চোখে চমৎকার লাগবে।

কি হলো কে জানে নওশাদ একটু এগিয়ে এসে হাতে থাকা চুলগুলো নাকে চেপে ধরে। সুন্দর গন্ধ। সানসিল্ক শ্যাম্পুর গুণে এতটা ভালো লাগছে নাকি কেবল পুনমের চুলের ঘ্রাণ বলেই নওশাদের এতটা ভালো লাগছে, তা নওশাদ বুঝতে পারছে না। নওশাদ চোখ বন্ধ করে নাক টানে দুবার। কানে বেজে উঠে,

“তোমার কেশের গন্ধে কখন
লুকায়ে আসিলো লোভী আমার মন
বেহুঁশ হো কর্ গির্ পড়ি হাথ মে
বেহুঁশ হো কর্ গির্ পড়ি হাথ মে
বাজু বন্দ মে বস্ গয়ি
বাজু বন্দ মে বস্ গয়ি।”

পুনম একটু নড়েচড়ে উঠে। নওশাদের তখনই মনে পড়ে পুনমের বিয়েতে মত ছিল না। পুনমকে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু একটা হয়েছিল যার জন্য বিয়ের মতো একটা ঘটনায় পুনমকে জোর করা হয়েছে। মেয়ে রাজি এই মিথ্যা বলে নওশাদকে একপ্রকার ঠকানো হয়েছে। নওশাদের চোয়াল শক্ত হয়ে যায়। ও উল্টোদিকে ঘুরে যায়। হাত মুষ্টিবদ্ধ করে জোরে জোরে কয়েকবার শ্বাস ফেলে।

দুজন দুজনের দিকে পিঠ দিয়ে শুয়ে আছে। মাঝে বেশ অনেকখানি জায়গাই অবহেলায় পড়ে রইলো। নওশাদ খিঁচে শুয়ে থাকে। ঘুমে যখন চোখ লেগে আসে তখন মনে হলো ওর পিঠে শ্বাসপ্রশ্বাস আঁচড়ে পড়ছে। পুনম নওশাদের পিঠের নিচে চলে এসেছে। নওশাদ চিৎ হলেই পুনম ওর নিচে চাপা পড়বে এমন একটা অবস্থা। একটু পর নওশাদের পেটের কাছটা জড়িয়ে ধরা হলো। নওশাদ নড়লোও না। রাগে শক্ত হয়ে শুয়ে রইলো কেবল। তবে কিছুক্ষণ পর ওর পেট জড়িয়ে ধরা হাতটার আঙুলের ভাঁজে আঙুল গলিয়ে দিলো।

চলমান…..

(হ্যাপি রিডিং..)

(আমিও ফেনীর মানুষ। নোয়াখাইল্লা নিয়ে বলা কথাগুলোয় মাইন্ড কইরেন না।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here