#বলো_কোন_প্রিয়_নামে_ডাকি:~
#পর্ব_৭
#সমৃদ্ধি_রিধী
প্রিতম সেই সকাল থেকে পুনমকে তেলাচ্ছে। পুনম হুহা কিছুই বলেনি। পুনমকে মানাতে কতকিছু দিবে বলে ফেলেছে। পুনম একটা কথাও কানে তুলে না৷ একটু পরই পুনম, নওশাদ বেরিয়ে পড়বে। নওশাদ ড্রয়িংরুমে প্রতীকের সাথে। প্রিতম পুনমের রুমে যায়। পুনম ব্যাগ গোছাচ্ছে। প্রিতম পুনমের খাটে বসে বলে,
“এই শোন।”
“নাটক করতে হবে না তোর। যা।”
“নাটক না! সিরিয়াসলি বলছি। মাফ চাইছি তো।”
পুনম ব্যাগ গুছিয়ে টেবিলের দিকে পা বাড়ায়। প্রিতম পুনমের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বলে,
“আমার কোনো প্রেম ট্রেম নেই। তুই অযথা সন্দেহ করছিস। আমি নিজের সুবিধার জন্য তোর বিয়ে দেইনি। তোর ভালো চেয়েছি বলেই বিয়ে দিয়েছি৷”
“ভালো করেছিস।”
প্রিতম মোবাইল বের করে ওর ফ্রেন্ডের দেওয়া মেসেজ পুনমকে দেখিয়ে বলে, “দেখ ও তোকে তোর ফ্রেন্ডের সাথে রেস্টুরেন্টে দেখে ব্যাড কমেন্টস করেছে তাই আমার মেজাজ খারাপ ছিল সেদিন।”
“বোনকে নিয়ে ব্যাড কমেন্টস করেছে তাই বোনকে বিয়ে দিয়ে দিয়েছিস, আর বন্ধুকে কিছু বলতে পারলি না?”
“ও পলিটিক্স করে। তুই চাস আমি ওর সাথে লাগি তারপর আমি মরি?”
“আচ্ছা এই লেইম এক্সকিউজ মেনে নিলাম। মোবাইল কেনো নিয়ে নিয়েছিলি? বিশ্বাস করতে নিষেধ করেছিল ওই বন্ধু?”
“ওটার পিছনেও কারণ আছে।”
“হ্যাঁ বানিয়ে বানিয়ে বল আরেকটা। মজা লাগছে শুনতে। বোনকে অবিশ্বাস করার পিছনেও নাকি কারণ থাকে!”
“বানিয়ে না বলছি না। তুই দেখ সিমরা আপুর সময়ও একই ঘটনা ঘটেছিল কিনা? হুবাহু একই ঘটনা। চাচ্চুরা বিশ্বাস করেছিল আপুর কথা পরে আপু পালিয়ে গিয়েছিল কিনা?”
“সিমরা আপু আর আমি এক? সিমরা পালিয়ে পর থেকে আমার উপর দিয়ে বুলডোজার চালায়। যতসব! ওই সিমরা করেছে বলে আমিও করবো?”
“সিমরা আপু আর তুই একই ধাঁচের। তুই বলদমার্কা মেয়ে। কেউ ফাঁসিয়ে দিলে কি করতি? তোর মতো সিমরা আপুও বলদ-সলদ ছিল। গেলো না পালিয়ে?”
“লেইম। প্রতিবন্ধী একটা।” পুনম প্রিতমের বুকে সর্বশক্তি দিয়ে ইচ্ছামতো কিল-ঘুষি দিয়ে ব্যাগ হাতে নিয়ে বের হয়ে যায়। প্রিতম ভালোই ব্যথা পায়।
পুনমকে দেখেই নওশাদ উঠে দাঁড়ায়। পুনম সোফায় উপর ব্যাগ ধাম করে ফেলে বুকে হাত গুঁজে। নওশাদ প্রতীকের দিকে তাকিয়ে বলে,
“ভাইয়া এখন বের হতে হবে।”
পাপিয়া মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয়। পুনম মুখ ঘুরিয়ে বিড়বিড় করে, “ঢং।”
কেউ না শুনলেও পাপিয়া ঠিকই শোনে। নিশা রান্নাঘর থেকে এক বোয়াম আচার নিয়ে এসে বলে,
“ব্যাগে ঢোকাও।”
পুনম চাপা স্বরে বলে, “এইসব খেয়ে তোমাদের খরচ করাই বলেই তো বিয়ে দিয়ে তাড়িয়েছো। ভাব দেখাচ্ছো কেনো আবার?”
নিশা পুনমের ব্যাগে কাপড়ে পেঁচিয়ে বোয়াম ঢুকিয়ে দেয়। অর্ক পুনমের কাছে এসে বলে,
“পুপি চলি যাবে?”
পুনম অর্ককে কোলে তুলে নেয়। গালে চুমু খেয়ে বলে,
“হ্যাঁ আব্বা।”
“যাইও না পিজ।” গলা জড়িয়ে ধরে বলে।
“থাকবো?”
“হা।”
পুনম অর্কের গালে চুমু খেয়ে ওকে নামিয়ে দেয়। নওশাদের দিকে তাকিয়ে বলে, “এখন বের হবেন?”
“হুহ।”
অর্ক পুনমের পা জড়িয়ে ধরে বলে, “যায় না তো।”
“যেতে হবে বাবা।”
অর্ক কান্না আরম্ভ করে। একেবারে মাটিতে গড়াগড়ি খেয়ে কান্না। নিশা অর্ককে কোলে উঠায়।
নিশাকে ধরে ফুপিয়ে কেঁদে উঠে। বলে, “পুপি চলি যায়।”
“ফুপির বিয়ে হয়েছে তাই চলে যায়।”
“বিয়ে হইচে?”
“হুম।”
“কার সাতে?”
“ফুপার সাথে।”
অর্ক নওশাদের দিকে তাকিয়ে বলে, “পচা পুপা। পুপিকে নিয়ে যায়।”
নওশাদ ভ্যাবাচেকা খায়। পুনম অর্ককে আদর করে ভুজুংবাজুং অনেক বুঝ দেয়। শেষে অর্ক শান্ত হলে বলে,
“কালকে আবার আসবো বাবা।”
“আছবা?”
“হুম আবার আসবো।”
“আচচা।” বলে চোখ মুছে।
পুনম অর্কর গালে চুমু খেয়ে ওকে কোল থেকে নামিয়ে দেয়। নওশাদ ঘড়ি দেখে বলে,
“বের হওয়া উচিত।”
“আমি ড্রাইভারকে বলে দিচ্ছি। পৌঁছে দিবে।”
“লাগবে না ভাইয়া। আমার একটু কাজ আছে।”
“আমি ড্রাইভারকে সেই হিসেবেই বলছি।”
“না না। দরকার নেই।”
“দেখো ওভাবে…”
“লাগবে না ভাইয়া।” পুনম বলে।
নওশাদ পুনম সবার থেকে বিদায় নিয়ে বের হয়। নওশাদ লিফটের কাছে যায়। প্রিতম সাথে আসতে চাইলে পুনম নিষেধ করে দেয়। পাপিয়া পুনমের মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বলে,
“কালকে আসিস। অর্কর জন্মদিন না? ওকে কথা দিয়েছিস আসবি।”
“নাতির জন্মদিনে মেয়েকে রাখতে হলে জোর করে বিয়ে দিয়েছো কেনো?”
পাপিয়া ব্যথিত হয়। পুনম লিফটে উঠে। গ্রাউন্ডে লিফট নামতেই নওশাদ বলে,
“কালকে আসবে আবার?”
“হুম। ভার্সিটি থেকে ডিরেক্ট আসবো।”
“কিভাবে?”
“ড্রাইভার আঙ্কেলকে কল দিবো। উনি এসে নিয়ে যাবে।”
“হাতিরঝিল যাবে?”
“এখন?”
“এখন যেহেতু জিজ্ঞাসা করছি সেহেতু এখনই।”
“যাবো।”
—————–
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা বাজে। নওশাদের বা হাতে ব্যাগ, ওর ডান হাত পকেটে। নওশাদ পুনমের পাশে হাঁটছে। পুনম বেশ কয়েকবার নওশাদের পকেটে গুঁজে রাখা হাতের দিকে তাকায়। নওশাদ তো পারতো ওর হাত ধরে হাঁটতে। কেমন রসকষহীনভাবে পকেটে হাত গুঁজে হাঁটছে। নওশাদ হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ে। নওশাদের দেখাদেখি পুনমও দাঁড়ায়। নওশাদ পকেট থেকে এয়ারপড বের করে অন করে একটা কানে দেয়। পুনমকে জিজ্ঞাসা করে,
“গান শুনবে?”
পুনম উপর নিচে মাথা ঝাঁকায়। নওশাদ একটা পড পুনমকেও দেয়। পুনম কানে দেয়। নওশাদ গান ছেড়ে মোবাইল পকেটে ঢুকিয়ে ফেলে। ফের পকেটে হাত গুঁজে হাঁটতে থাকে।
“দিন বাড়ি যায়, চড়ে পাখির ডানায়
যদি না হয় কথা, জমে নিরবতা
তুমি চোখে রাখো চোখ, চোখে চোখে কথা হোক
যেতে পথে আজ এইটুক বলি
যত দূরে যাই, জানিনা তো কবে
জেনে রেখো শুধু, ফের দেখা হবে
যত দূরে যাই, জানিনা তো কবে
জেনে রেখো শুধু, ফের দেখা হবে…”
পুরো গান চলা কালীন “তুমি চোখে রাখো চোখ, চোখে চোখে কথা হোক।” এই লাইনটা যতবার বেজেছে, পুনম আর নওশাদের ততবারই চোখাচোখি হয়েছে। পুনম তারপর নওশাদের দিকে আর একবারও তাকায় না। একবারের জন্যও নয়। কিছুক্ষণ পর নওশাদ ডাক দেয়,
“পুনম?”
“জ্বি?”
নওশাদ হাত বাড়িয়ে দেয়। বলে, “আমার হাতে হাত রাখার জন্য পাঁচ সেকেণ্ড সময় দেওয়া হলো। হয় হাত ধরবে নাহলে সোজা সামনে হাঁটা দিবে। ঠিক আছে? জোর করছি না কিন্তু।”
পাঁচ সেকেন্ড সময় দেওয়া হলেও পুনম এক সেকেন্ডও সময় নিলো না। নওশাদের হাতের উপর আলতো করে হাত রাখে। নওশাদ পুনমের আঙুলের ভাঁজে আঙুল রেখে হাঁটতে থাকে। মুখে কোনো প্রকার কথা হচ্ছে না, তবে চোখাচোখি অসংখ্যবার হয়েছে।
একটুপর পুনম কান থেকে এয়ারপড খুলে নওশাদের হাত টেনে বলে, “সামনে আরিফ না? সাথে একটা মেয়েও আছে।”
পুনমের কথা শুনে নওশাদও কান থেকে এয়ারপড খুলে সামনে তাকায়। আরিফের মুখেী একপাশ দেখা যাচ্ছে। একটু এগিয়ে যেতেই বুঝলো মেয়েটা রুমঝুম। আরিফের সাথে রুমঝুমকে এই সন্ধ্যার সময় একসাথে দেখে কপাল কুচকে ফেলে। পুনমের হাত ছেড়ে দেয়। আরিফের পিছনে গিয়ে নওশাদ রাশভারি গলায় ডাক দেয়,
“আরিফ?”
আরিফ, রুমঝুম হকচকিয়ে যায়। আরিফ নওশাদকে পুনসহ এইসময় হাতিরঝিল অবাক হয়। আরিফ চোখের পলকেই নিজেকে সামলে নওশাদ এবং পুনম দুজনকেই সালাম দেয়। নওশাদ সালামের জবাব দিয়ে বলে,
“তোরা একসাথে এখানে?”
“আমি তো কাজে এসেছিলাম। কাজ শেষ করে চলে যাবো সেইসময় রুমঝুমের সাথে দেখা হলো।”
নওশাদ রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বলে, “এখানে কি?”
“সাদিয়া, মাহজাবিনের সাথে ঘুরতে এসেছিলাম।”
“ওরা কোথায়?”
“ওরা চলে গিয়েছে। আমিও ওদের সাথে যেতে চেয়েছিলাম। আরিফ ভাইয়া বলেছে একা যাওয়া লাগবে না, আমাকে পৌঁছে দিবে।”
“তুই বল তোর ফ্রেন্ডরা নিউমার্কেটে যেতো, তুই একা বাসায় ফিরতি।” আরিফ বলে।
“আমি তো আর বাচ্চা না যে একা যেতে পারবো না!”
“সন্ধ্যার সময় একা ফিরতো, সাহস কত বড়! কত বিপদ আপদ হতে পারে জানিস?”
“কিছুই হতো না। সাবলম্বী হওয়া উচিত।”
“সন্ধার পর একা ঘুরে বেড়ানোতে সাবলম্বীর পরিচয় পাওয়া যায় না।”
“এই চুপ।” নওশাদ আরিফ, রুমঝুম দুজনকেই ধমকে উঠে। আরিফের দিকে তাকিয়ে বলে,
“তুই বের হবি কয়টায়?”
“রাতে।”
“ওকে পৌঁছে দে। বেশিক্ষণ বাইরে থাকিস না।”
“মামা আরিফ ভাইয়াকে বললাম কাকতালীয়ভাবে যখন দেখা হলোই কিছু খাওয়াও। এমন কিপ্টার কিপ্টা বাদাম খাইয়েছে খালি।”
“সারাদিন এমন খাই খাই করিস কেনো? মামা সেই কখন থেকে বলছি চল তোকে বাসায় পৌছে দেই, ওকে কিছু না খাওয়ালে ও যাবে নাই। এমনিতেও মোটা, কয়দিন পর আরো মোটা হবি।”
নওশাদ ‘চ’ সূচক শব্দ করে বলে, “আরিফ থাম।”
রুমঝুমের দিকে তাকিয়ে বলে, “কি খাবি?”
“কাচ্চি খাওয়াও।” রুমঝুমের চোখ চিকচিক করে উঠে।
“চল খাওয়াবো।”
রুমঝুম খুশি মনে পুনমের দিকে এগিয়ে গিয়ে বলে,
“ধূর তোমার সাথে তো কথা বলাই হচ্ছে না। কি অবস্থা?”
“ভালো।”
রুমঝুম আর পুনম আগে আগে হেঁটে গেল। আরিফ, নওশাদ পিছন পিছন কথা বলতে বলতে আসে। আরিফ আর রুমঝুম দুজনেই বড় করে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে। এই যাত্রায় বড় বাঁচা বেঁচে গিয়েছে৷
———————-
নওশাদ, পুনম বাসায় ফিরে আসে নয়টা নাগাদ। জ্যামে বসেছিল একঘন্টার মতো। তাই এতটা দেরী হলো। যেহেতু খেয়ে এসেছিল তাই খাওয়া দাওয়ার ঝামেলা ছিল না। বাসায় ফিরে নওশাদ সর্বপ্রথম হোসনেআরার রুম যেটায় হাসনাহেনা, বকুল, বেলীরা মেয়েদের নিয়ে বিয়ের সময় থেকেছিল সেটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে। বারান্দার টবে পানি দেয়। অবশ্য নওশাদ সব কাজ একা একাই করেনি। পুনমও যতটুকু পারে সাহায্য করেছে।
পুনম ওয়াশরুম থেকে বের হতেই নওশাদ উঠে দাঁড়ায়। পুনম তোয়ালে দিয়ে মুখ মুছে তোয়ালে চেয়ারে রাখে। নওশাদ ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়িয়ে বলে,
“কালকে তোমাকে আলমারির একপাশ ফাঁকা করে দিবো। লাগেজ থেকে বের করে সব গুছিয়ে রাখবে।”
“ঠিক আছে।”
পুনম গিয়ে শুয়ে পড়ে। নওশাদ ওয়াশরুম থেকে বের হয় পাঁচ মিনিট পর। লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়ে। বালিশের পাশ হাতরে এয়ারপড না পেয়ে বিরক্তিতে ‘চ’সূচক শব্দ করে। এয়ারপড পুনমের মাথার ওপাশে। নওশাদ ভাবলো পুনমকে দিতে বলবে। পরক্ষণেই সেই ভাবনা বাদ দিয়ে শুয়েই পুনমের দিকে একটু এগিয়ে যায়। হাত বাড়িয়ে এয়ারপড হাতরেও পায় না। আরেকটু এগিয়ে যায়। পুনমের মাথার কাছে কনুই ঠেকিয়ে এয়ারপড হাতে নিতেই পুনম ধরফরিয়ে উঠে। চাপা স্বরে বলে,
“প্লিজ প্লিজ আমি এখনও প্রিপায়ার্ড না। আমি সংসার করবো কিন্তু আমার পক্ষে এইসব এখন, মানে এখন, এই মুহুর্তে আরকি সম্ভব নয়। আমার সময় লাগবে, প্লিজ আমার সময় লাগবে। একসপ্তাহ দিলেই হবে। প্লিজ সময় লাগবে আমার।”
নওশাদ বিস্ময় নিয়ে তাকিয়ে থাকে। পুনম বড় বড় করে শ্বাস ফেলছে। নওশাদ বেড সুইচ টিপে লাইট জ্বালায়। পুনম কাঁথা চেপে ধরে বলে,
“আমার সময় লাগবে। প্লিজ সময় লাগবে। একটু সময় দিলেই হবে। বেশি দিতে হবে না, একটু দিলেই হবে।”
নওশাদ হাতে থাকা এয়ারপড পুনমকে দেখিয়ে বলে,
“আমি এয়ারপড নিচ্ছিলাম। কিছু করছিলাম না।”
পুনম ভারী লজ্জায় পড়ে। লজ্জায় শ্বাস নিতেও ভুলে গেল যেন। নওশাদ লক্ষ্য করে পুনমের মুখ ইতিমধ্যে পুরো লাল হয়ে গিয়েছে। চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে আছে। নওশাদ লাইট অফ করে দেয়। পুনম থম ধরে বসে থাকে। নওশাদ কানে এয়ারপড গুঁজে শুয়ে পড়ে। বুকে হাত গুঁজে, চোখ বন্ধ করে গান শুনতে থাকে। কিন্তু পুনম থম ধরে বসেই থাকে।
————–
পুনমের সকালে ঘুম ভাঙে নওশাদের ডাকে। নওশাদ ওর বাহুতে আলতো করে চাপড় মেরে ওকে ডাকছিলো। পুনম চোখ খুলতেই নওশাদ বলে,
“এই যে সময় লাগবে দরজা লাগাও। আমি বের হবো এখন।”
পুনম প্রথমে বিষয়টা ধরতে পারে না। মিনিটের মধ্যেই বুঝে ফেলে। লজ্জায় জড়সড় হয়ে যায়। নওশাদ ব্যাগ নিয়ে রুম বেরিয়ে পড়ে। পুনম পিছন পিছন আসে। নওশাদ ফরমাল ড্রেসআপে আছে। পোশাক-আশাকের ব্যাপারে লোকটা পরিপাটি ভীষণ। নওশাদ পানি খেয়ে গ্লাস টেবিলে রেখে সোফায় পড়ে মৌজা, জুতা পড়ে।
“এই যে সময় লাগবে! আজকে ভার্সিটিতে যাচ্ছো তো?”
পুনম ভ্রু কুচকে ফেলে, তারপর বলে, “যাবো।”
“জেরিন জাইমার সাথে চলে যেও।”
পুনম হু হা কিছুই বলে না। নওশাদ বের হয়। পুনমও দরজা লাগাতে নওশাদের পিছন পিছন আসে। নওশাদ সিঁড়ি বেড়ে নামার আগ মুহুর্তে বলে,
“সাবধানে থাকবে। তালা, চাবি সামনেই আছে। ভালোভাবে দরজা লাগিয়ে তবেই বের হবে। আমার নাম্বার আছে না?”
“জ্বি।”
“প্রয়োজন হলে কল দিও।”
“জ্বি।” নিচের দিকে তাকিয়ে বলে।
“এই যে সময় লাগবে যে কেউ আসলেই দরজা খুলতে যেও না। একা বাসায় থাকবে বিষয়টা মাথ….”
নওশাদের বাকি কথা শোনা হলো না। পুনম নওশাদের মুখের উপর দরজা লাগিয়ে দেয়। নোয়াখাইল্লা বেডা একটা হাড়ে বজ্জাতে শয়তান।
চলমান……..
(হ্যাপি রিডিং)

