আফরিন_আখ্যান #পর্ব_১০

0
39

#আফরিন_আখ্যান
#পর্ব_১০
#সমৃদ্ধি_রিধী

আহসান আর ফারিন ধানমন্ডি এসে পৌঁছেছে সাড়ে দশটা নাগাদ। একই জায়গায় জ্যামে দেড় ঘন্টার মতো বসে ছিল। ওরা আসার পরই সবাই একসাথে রাতের খাবার খেয়েছে। এখন আনোয়ার সিদ্দিক, এনামুল সিদ্দিক, আহসান, আদৃত সোফায় বসে ব্যবসায়িক আলাপ করছে। জেসমিন আর শিরিনা শাক বাছছে। কালকে রান্না করবে এগুলো। অনি আপেল খেতে খেতে মা, জেঠির আলাপ শুনছে। জেসমিন ছোট ছেলের হাবভাবে বিরক্ত হলো।

“তুই এমন মহিলাদের মাঝে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?”

“তোমাদের কথা শুনছি।”

“বাপ ভাইয়ের কথা শোন গিয়ে।”

“ওদের কথায় মজা পাই না। কিসব আলম, সিদ্দিক, মিয়াজির আলাপ। বিরক্ত লাগে। ওদের বোরিং গল্পের চাইতে রহিমার মার সাথে জামিলের মার ঝগড়ার আলাপ শোনা অনেক মজাদার।”

জেসমিন মুখ ঘুরিয়ে নিলো। এই অপদার্থের সাথে কথা বলে লাভ নেই। ফারিন তখন নিচে নামলো। জেসমিনের পাশের চেয়ার টেনে বসলো। ঘোমটা টেনে ঠিক করতেই জেসমিন বলে, “শাক বাছতে পারো?”

ফারিন দুদিকে মাথা নাড়ে। অনি আপেল কামড়াতে কামড়াতে এবার সোফার দিকে যায়। জেসমিন বিরক্ত হয়ে শিরিনাকে বলে,

“এটা কেমন কেনো ভাবি? চালচলনে কোনো ভারিক্কি ভাব নেই।”

শিরিনা হাসলো। “ঠিক করে যাবে।”

“আর কবে?”

“অনি তো তাও ছোট। আদি কি করে এখনও? ওর মধ্যে ত্যাড়ামো ছাড়া আদৌও আর কিছু আছে?”

জেসমিন শাকের বাছতে বাছতে বলে, “রক্তের দোষ। আহসান আর আহান ছাড়া বাকি দুটো একটুও জাতের না।”

“ভুল কথা, আহসান তোমার বাবার বাড়ির মতো হয়েছে। ঠান্ডা, শান্ত। এই বংশের আর একটাও জাতের না। আমার বড় ছেলেও জাতের ছিল না। দূরে আছে দেখে ভালো আছে। সামনে থাকলে আদির থেকেও বেশি জ্বালিয়ে খেতো।”

ফারিন মনে মনে ব্যঙ্গ করে। ওই ধড়িবাজ নাকি ভালো? এটার শরীরেও একই রক্ত বইছে। এনামুল সিদ্দিক তখন হাক ডেকে বলে, “আহসানের আম্মু এক গ্লাস পানি দিও তো।”

জেসমিন ফারিনকে বলে, “আম্মু তোমার শ্বশুরকে এক গ্লাস পানি দাও তো।”

ফারিন উঠে গেল। ফিল্টার থেকে এক গ্লাস পানি নিয়ে এনামুল সিদ্দিককে দিলো। এনামুল সিদ্দিক পানি খেয়ে খালি গ্লাস ফারিনের হাতে দিতেই আহসান বলে,

“আমাকেও এক গ্লাস পানি দিও তো।”

ফারিন আবারও ফিল্টার থেকে পানি এনে দিলো। আহসান ফারিনের হাত থেকে গ্লাস নিয়ে পানি খাওয়ার সময় ফারিনের দিকে তাকায়। ফারিন সকলের আড়ালল দুষ্টু হেসে চুমু দেওয়ার ভঙ্গিমা করে আহসানকে চোখ টিপে দেয়। আহসান মোটেও এটার জন্য প্রস্তুত ছিল না। ভ্যাবাচ্যাকা খায় এবং মুখ থেকে পানি ছিটকে কার্পেটে পড়ে। বুকে হাত চেপে কৃত্রিম কাশির অভিনয় করতে থাকে। আনোয়ার সিদ্দিক কপাল কুঁচকে বলে,

“সাবধানে পানি খাবে না? উঠলো তো কাশি?”

আহসানের টিশার্টও ভিজে গিয়েছে। ও গ্লাস ফারিনের হাতে দিয়ে বুকের কাছের টিশার্ট ঝাড়তে ঝাড়তে উপরে চলে যায়। ফারিন ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসে। এনামুল সিদ্দিক বলে, “এমন তাড়াহুড়ো করে পানি খাওয়ার কি আছে?”

ফারিন সমানে থেকে সরে যায়। গ্লাস ধুয়ে জায়গা মতো রাখে। ডান কাঁধে আঁচল টেনে শিরিনা, জেসমিনের পাশে এসে বসে। টুকটাক কথা বলতে থাকে। একটু পর আনোয়ার সিদ্দিক, এনামুল সিদ্দিকও উঠে যায়। অনিও উপরে চলে যায়। আদৃত শিরিনার কাছে আসে। চেয়ার টেনে শিরিনার পাশে বসে বলে,

“আম্মু?”

“কি?”

“আম্মু গো?”

“উদ্দেশ্য কি সেটা বল। এত মধুর সুরে ডাকতে হবে না।”

“আমি তোমাকে ভালোবাসি আম্মু।”

“ভালোই বাসতে থাক। তুই ধানমন্ডি আসতে চাইলে আমি তোকে সাপোর্ট করবো না।”

“আরেহ ধুর সেটা না।”

“তো কি?”

“বান্দরবান যাবো আম্মু।”

“কবে?”

“ঠিক করিনি, তবে যাবো।”

“কার সাথে?”

“শামীমদের সাথে। অতনু বাদে সবাই।”

“যাহ।

“অফিসের এমডিকে বোঝাও। আমাকে ছুটি দিচ্ছে না।”

“তোরও ছুটি নিতে হয়?” জেসমিন বলে।

“তো? অফিসের মালিক মনে হয় অনেক দয়ালু? আমি মালিকের ছেলে হয়েও মন মতো বন্ধ পাই না।”

“ঠিকই আছে।” শিরিনা বলে।

আদৃত শিরিনার হাত টেনে বলে, “আম্মু খাডাশ এমডিকে বলো এক সপ্তাহের ছুটি দিতে।”

“আহসান ছুটি দিবে না বলেছে?”

“হ্যাঁ।”

“কেনো?”

“জানি না আমি। ভাব দেখায় আমার সাথে। ওকে বলো ছুটি দিতে।”

“আচ্ছা বলে দেখবো।”

আদৃত ফারিনকে বলে, “আপনারা ঘুরতে যান না কেনো?”

“যাবো পরে।”

“একসপ্তাহের জন্য কোথাও যেতে পারেন না? তাহলে আমিও ছুটি পাই।”

“দেখি।”

“আপনি ভাইয়াকে ম্যানেজ করবেন যাতে আমাকে ছুটি দেয়।”

“আচ্ছা।”

“চাচিম্মু তুমিও বলবে যাতে আমাকে ছুটি দেয়। বান্দরবানের ট্যুর মিস দেওয়া যাবে না।”

“বলবো তুই ঘুমাতে যাহ।”

আদৃত চলে গেল। জেসমিন ফারিনকে বলে, “তুমিও ঘুমাতে চলে যাও।”

“আপনাদের সাথে একসাথে যাবো।”

“না, একসাথে যেতে হবে না। তুমি যাও। জার্নি করে এসেছো, বারোটা বাজতে চললো। এখনি যাও।”

ফারিন আর কথা বাড়ালো না। দোতলায় চলে এলো। রুমে ঢুকে দরজা লাগাতেই দুই হাত ওকে নিজের বাহুডোরে বন্দি করে ফেললো। চেপে ধরে বলল,

“খুব শয়তানি করা হচ্ছে না মিসেস সাফওয়ান?”

ফারিন নিজেকে ছাড়িয়ে নিলো। টানটান হয়ে দাঁড়িয়ে বলে, “কি করেছি?”

“চোখ টিপ দিয়েছো কেনো?”

“কখন?”

“কখন না? ভালোই মজা জানো।”

“তুমি ভুল দেখেছো।”

আহসান ফারিনকে কোলে তুলে নিল। “টিজ করো না? আগেও করেছিলে দুই একবার। টিজ করে ভালো মানুষ হওয়ার ভান করো?”

“কোলে তুললে কেনো আজব? নামাও।”

“একটু আগে তুমি টিজ করেছো, এখন আমি করবো।”

বলে ফারিনকে বিছানায় নিয়ে ফেলে। ফারিন বলে,

“কিভাবে টিজ করবে?”

“যেভাবে একজন হাসবেন্ড, একজন ওয়াইফকে টিজ করে সেভাবে। তোমাকে বেশি ভালো মানুষি দেখিয়ে ফেলেছি।”

“তুমি ভালো মানুষ? হাসালে।”

আহসান ফারিনের গালে চুমু খেলো। ফারিন আহসানের বুকে ধাক্কা মারে। আহসান ফারিনের হাত ধরে বলে, “কিছু বলবে? ছোঁয়ার অনুমতি দাওনি তা বলবে?”

“সবাই তোমার ফাও ফাও প্রশংসা করে। অযথাই। তোমার আসল রূপ ধরে ফেলেছি।”

“তুমি তো বুঝেছো, তাতেই হবে।”

“তোমার নানাবাড়ির সবাই ঠান্ডা? শান্ত মেজাজের?”

“মোটামুটি।”

“তাহলে তোমার মা গরম কেনো?”

“কে বলেছে?”

“অনির কথা শুনে মনে হয় অনি তোমার মাকে ভয় পায়।”

“অনিকে টাইট দিতে আম্মু রুড হয়। আমার সাথে তো কখনো খারাপ ব্যবহার করেনি।”

“তোমাদের ফ্যামিলির সবাই কি আউলা-ঝাউলা?”

“আউলা-ঝাউলা মানে?”

“আবোল-তাবোল কথা বলে?”

“আদৃত আর অনিই বলে।”

“তুমিও তো বলো।”

“ওরা সবার সাথে বলে, আমি শুধু তোমার সাথে বলি। পার্থক্য আছে ম্যান।”

“আমাকে জ্বালিয়ে খাও শুধু। সেয়ানা।”

“ইট’স লাইক আমি তোমার সামনে নিজের খোলস খুলে ফেলি।”

“তোমার কয় ফুপি?”

“তিন ফুপি।”

“দেখেছি তো দুইজনকে।”

“রাহিম ভাইয়ার আম্মু দুবছর আগে মারা গিয়েছে।”

“ওওহ। আদৃত ভাইকে ছুটি দিচ্ছো না কেনো?”

“তোমাকে কি বলেছে?”

“আম্মাকে বলছিলো খাডাশ এমডি ছুটি দেয় না।”

“যাওয়ার আগ মুহুর্তে দিবো। এখন দিলে সাপের পাঁচ পা দেখবে। কয়েকদিন ঘুরুক।”

“এমন করার কি আছে?”

“তোমার মতলব বুঝেছি আমি।”

“কি?”

আহসান ফারিনের দুই হাত বিছানার সাথে চেপে ধরে বলে, “তুমি এইসব বলে আমাকে ভুলাতে চাচ্ছো। লাভ নেই কথা ঘুরিয়ে। ফাজলামো গুলোর শোধ তুলতে হবে না?”

“কি করে শোধ তুলবে?”

“ভালোবাসা বাসি করে।”

বলেই আহসান ফারিনের গলায় মুখ গুঁজে। ফারিন ওকে সরাতে চাইলো তবে পারলো না। মিনিট খানেক পর ফারিন ছটফট করে বলে,

“আহসান ফ্রেশ হতে হবে আমার।”

আহসান তাকালো ফারিনের দিকে৷ ফারিন বললো,

“প্রচন্ড অস্বস্তি লাগছে আমার। প্লিজ সরো।”

আহসান সরে গেলো। ফারিন উঠে বসে। আঁচল টেনে ঠিক করে বলে,

“একবার বললাম সরে গেলে?”

“তো কি জোর করবো নাকি?”

“জোর করো না কেনো?”

“তোমার ইচ্ছা অনিচ্ছারও দাম আছে।”

“নাটক করো নাকি আসলেই ভদ্র?”

“তোমার যা ইচ্ছা ভাবতে পারো।”

“ছেলেরা এত ভদ্র হয়?”

“হয়, যারা পারফেক্টলি মানুষ করতে পারে, তাদের ছেলে ভদ্র হয়।”

“ঢঙের কথা।”

“তোমার ছেলে হলে তুমি ঠিক করে মানুষ করো।”

“বেশিই ভদ্র।” বলে ফারিন ব্যাগ থেকে সুতি সেলোয়ার, কামিজ নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল।

_____________________

রাত একটা বাজে। ফ্রেশ হয়ে এসে ফারিন খুবই খোশমেজাজে ছিল। আহসানের সাথে শুয়ে গল্প করছিলো। কিন্তু এত সুখ তো ফারিনের কপালে নেই। ফারিনের নামমাত্র বাবা কিছুক্ষণ আগে ওকে কল দিয়ে সম্পত্তি তার নামে লিখে দেওয়ার জন্য ফারিনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। ফারিনকে ভদ্রভাবে বললে ফারিন দিয়ে দিতো। কিন্তু গালিগালাজ করায় ফারিন ভীষণ চটে গিয়েছে। ও এখন মরলেও সম্পত্তি ওনার নামে লিখে দিবে না৷

নিজের রাগ কমাতে ফারিন এই রাতের বেলা ছাদে চলে এসেছে। ছাদের এই মাথা থেকে ওই মাথা হাঁটছে। আহসানও ওর পিছন পিছন হাঁটছে। ফারিন রেগে কয়েকবার আহসানের দিকে তাকালেও আহসান তোয়াক্কা করলো না। আহসান ফারিনের পিছন পিছন পকেটে হাত গুঁজে হাঁটতে লাগলো। ফারিন হাঁটতেই থাকে। আহসান একটু পর ফারিনের ওড়না ধরে হাঁটতে থাকে। ও ওড়নার মধ্যে থাকা কারুকাজ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে। ফারিন রেগে গা থেকে ওড়না খুলে আহসানের মুখে ছুঁড়ে মারে।

“কিচ্ছু হবে না তোমাকে দিয়ে। বউয়ের আঁচল ধরেই ঘুরো। ভেড়া একটা।”

আহসান আশেপাশে তাকিয়ে বলে, “আশেপাশে বিল্ডিং আছে। গা থেকে ওড়না খুলছো কেনো? কে কখন কোথা থেকে কি দেখে ফেলে। রুমে গিয়ে যা ইচ্ছে করো।”

“বিয়ের আগে আমি ওড়না ছাড়া ওয়েস্টার্ন পড়ে ঘুরেছি।”

“ইয়াহ বিয়ের আগে ঘুরেছো। বিয়ের পর ঘুরোনি। সো ধরো।”

বলে ফারিনের দিকে ওড়না বাড়িয়ে দেয়। ফারিন আবারও হাঁটা শুরু করে। আহসান ফারিনের দুই কাঁধে ওড়না মেলে দেয়। ফারিন চেঁচিয়ে বলে,

“সমস্যা কি? গরম লাগে আমার।”

“মানুষ দেখবে।”

“হ্যাঁ আশেপাশের বিল্ডিং থেকে তো মানুষ উঁকি দিয়ে দেখছে আর বলছে ‘দেখি তো এই একটার সময় সাফওয়ান সিদ্দিকের বউ গা থেকে ওড়না খুললো কিনা? দেখি তো ওর বউয়ের ফিগার কেমন?’ যত্তসব।”

“আচ্ছা শয়তান তো দেখবেই তাই না?”

ফারিন আর কিছু বললো না। আবারও হাঁটতে থাকে। হাত দিয়ে মুখে বাতাস করার ভঙ্গিমা করে হাঁটতে থাকে। আহসান ফারিনের পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলে,

“তোমার কি প্রেশার উঠেছে? তোমার বাবা কি এমন বলেছে যে একেবারে হাই প্রেশার হয়ে গেল?”

ফারিন জবাব দিলো না। আহসান বলে, “তোমাকে কি এক বছরের মধ্যে নাতি নাতনির মুখ দেখাতে বললো নাকি যার জন্য চটে গিয়েছো?”

ফারিন চেঁচিয়ে উঠে। “সমস্যা কি তোমার?”

মাসুম চেহারা বানিয়ে আহসান বলে, “কি করলাম আমি আবার?”

“তুমি আমার পিছন পিছন হাঁটছো কেনো?”

“এই রাতের বেলা এভাবে হাঁটছো। জ্বিন ভূতের কবলে যাতে না পরো তাই আমিও তোমার সাথে হাঁটছি এভাবে।”

“হাঁটতে হলে চুপচাপ হাঁটো। এভাবে বাঁচালদের মতো বকবক করছো কেনো তুমি? সমস্যাটা কি তোমার?”

“কোনো সমস্যাই নেই।”

“চুপ থাকো একদম।”

“অনি প্রেশার মাপতে পারে। একটু মাপাবে?”

ফারিন অতিষ্ট হয়ে বলে, “তুমি যাও তো আমার সামনে থেকে। ভীষণ মেজাজ খারাপ করছো আমার।”

“আমি তো তোমার মেজাজ ঠান্ডা করার চেষ্টা করছি।”

“মাথা মুণ্ডু করছো তুমি আমার।”

আহসান ফারিনের হাত টেনে ওকে নিজের কাছে আনে। দু গালে হাত দিয়ে বলে,

“কি হয়েছে বলো আমাকে? মাথা এত গরম কেনো?”

ফারিন মুখ ঘুরিয়ে নিল। আহসান এবার ফারিনের দু কাঁধে হাত রেখে বলে, “ওনার সাথে কথা বলে এভাবে চটলে কেনো? নাকি অন্য কারণ? অন্য কেউ কিছু বলেছে? আম্মু, জেঠিম্মু কিছু বলেছে?”

“না।”

“তাহলে?”

“তোমাকে বলা যাবে না।”

“একান্ত ব্যক্তিগত?”

“মনে করো তাই।”

“তাহলে বলতে হবে না।”

ফারিন ফোঁস ফোঁস করে শ্বাস ফেলে। আহসান ফারিনের মাথায় হাত বুলিয়ে বলে, “মাথা ঠান্ডা হয়েছে?”

“হচ্ছে।”

আহসান ফারিনের কোমর জড়িয়ে ধরে ওকে উঁচু করে ধরে। ফারিন আহসানের ঘাড়, গলা জড়িয়ে ধরে বলে,

“পাগল নাকি?”

“হ্যাঁ। তোমার প্রেমে।”

“মাথা নষ্ট ছেলে।”

আহসান ফারিনকে জড়িয়ে ধরে গোল হয়ে ঘুরবো। ফারিন আহসানকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে চোখ খিঁচে রাখে। ফারিনকে এক হাতে নিজের সাথে চেপে ধরে আরেক হাতে ফারিনের মুখের ক্লিপ খুলে দেয়। বাতাসে ফারিনের চুল উড়লো। ফারিনকে কোলে তুলে নিল৷

“তোমার কি আসলেই মাথা নষ্ট আহসান?”

“না।”

“তোমার মাথা নষ্টই। কোনো সন্দেহ নেই।”

“নষ্ট হলেও তোমার জন্য নষ্ট হয়েছে।”

“কোন খুশিতে কোলে নিয়ে ঘুরছো?”

“তোমাকে বলা যাবে না। একান্ত ব্যক্তিগত।”

“ঢং।”

আহসান ফারিনকে কোলে নিয়েই বলে, “ছেলে হলে নাম রাখবো আহিয়ান।”

“না ফাইয়াজ রাখবো।”

“ওহোহো! আমার সন্তান পেটে রাখবে তাহলে?”

ফারিন মুখ ফিরিয়ে নিলো। হাসলো। “না রাখবো না। পেটে আসলেই উড়িয়ে দিবো।”

“ধরা খেয়ে গিয়েছো ফৌজিয়া ফারিন। রাখবো না ছেলের নাম ফাইয়াজ। আহিয়ান রাখবো।”

“ছিহ আহিয়ান কোনো নাম হলো? কেমন মেয়ে মেয়ে নাম। শুনলেই কেমন লাগে।”

“ভালো কথা মনে করিয়েছো। মেয়ে হলে নাম রাখবো আনহা।”

“না, মেয়ে হলে নাম রাখবো ফিজা।”

“কোথায় আনহা আর কোথায় ফিজা! কোনো ফিজা, ফাইয়াজ রাখা হবে না। আহিয়ান, আনহা রাখা হবে।”

“রাখাচ্ছি তোমাকে ছেলে মেয়ের নাম। কোল থেকে নামাও আমাকে।”

আহসান আরেকটু আগলে ধরে বলে, “প্রশ্নই আসে না।”

ফারিন আহসানের চুলের ভাজে আঙুল গলিয়ে বলে, “নায়ক হতে চাচ্ছো?”

“তোমার জীবনের গল্পে নায়ক আপাতত আমিই। হতে চাওয়ার কি আছে?”

“আমার জীবন কি ভালো নাকি?”

“খারাপ?”

“বাদ দাও সে কথা। কোল থেকে নামাও।”

“এখন না। যখন মন চাইবে নামাবো।”

“কি করবে কোলে নিয়ে?”

“হাঁটবো।”

“পারবে?”

“জিম করি আমি। শক্তি কম না আমার। তোমার ওজন কত?”

“তিপান্ন।”

“তোমাকে এভাবে কোলে নিয়ে হাঁটা আমার জন্য কোনো ব্যাপারই না।”

“কতদূর হাঁটবে এভাবে?”

“বহুদূর।”

“বহুদূর টা কতটুকু?”

“বহুদূর মানে বহুদূর। আশা আছে অন্তিম সময় পর্যন্ত।”

“অন্তিম সময়টা কতদূর পর্যন্ত?”

“দুই, তিনটা ছেলেমেয়ে হবে আমাদের। ওদেরকে দেখেশুনে ভালো ভালো ঘরে বিয়ে দিবো। বৃদ্ধ বয়সে ওদের ঘরের ছেলেপুলেকে তাদের নানি বা দাদির ত্যাড়ামির গল্প শুনিয়ে তিতা তিতা বানিয়ে মরা পর্যন্ত আমার অন্তিম সময়ের ডিউরেশন।”

“তোমার জীবনে কোনো দ্বিতীয় নারী আসবে না বলছো?”

“আসবে, কেনো আসবে না?”

“জানি তো আমি।”

“সেটাই, আনহা অবশ্যই আসবে। আনহা না আসা পর্যন্ত প্রসেসিং চলতেই থাকবে।”

ফারিন অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে, “কিসের প্রসেসিং?”

“বাচ্চা নেওয়ার প্রসেসিং। মেয়ে না হওয়া পর্যন্ত বাচ্চা নিতেই থাকবো। থামাথামি নেই।”

“আহসান নামাও আমাকে।”

“কেনো?”

“প্লিজ আহসান?”

আহসান নামালো। ফারিন জুতা খুলে আহসানের পায়ের উপর দাঁড়িয়ে আহসানের গলা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে।

“আমার পছন্দ, অপছন্দের খেয়াল এভাবে কেউ রাখেনি আহসান৷ থ্যাংক ইউ।”

“মাই প্লেজার।”

“কখনো ছেড়ে যেও না আহসান।”

“ছাড়বো না।”

“আমি কখনো ভুল করলেও আমাকে মাফ করে দিও।”

“আচ্ছা দিবো।”

“কখনো অনেক বেশি কষ্ট দিও না। আমি পারবো না তাহলে তোমার সাথে আগের মতো হাসিখুশি ভাবে থাকতে।”

“দিবো না কষ্ট। তবে তুমিও কথা দাও, আমিও যদি ভুল করি, আমাকেও মাফ করে দিবে।”

“দিবো।”

আহসান ফারিনের কোমর জড়িয়ে ধরে ঠোঁটে ঠোঁট মিলিয়ে দেয়। একটু পর সরে এসে বলে, “একটা গান শোনাবো?”

“হুহ।”

আহসান ফারিনের হাতের উল্টোপিঠে চুমু খেলো। তারপর ওকে চারপাশ থেকে পেঁচিয়ে জড়িয়ে ধরে কপালে কপাল ঠেকিয়ে ধীমে গলায় গেয়ে উঠলো,

“ভালোবাসবো, বাসবো রে, বন্ধু, তোমায় যতনে
আমার মনের ঘরে চান্দের আলো চুইয়া চুইয়া পড়ে
পুষে রাখবো, রাখবো রে, বন্ধু, তোমায় যতনে
ভালোবাসবো, বাসবো রে, বন্ধু, তোমায় যতনে
দুধে আলতা গায়ের বরন, রূপ যে কাঁচা সোনা
আঁচল দিয়া ঢাইকা রাইখো, চোখ যেন পড়ে না
আমি প্রথম দেখে পাগল হইলাম, মন তো আর মানে না, কাছে আইসো, আইসো রে, বন্ধু, প্রেমের কারণে
ভালোবাইসো, বাইসো রে, বন্ধু, আমায় যতনে….”

চলমান…..

(হ্যাপি রিডিং…কালকে দশমাস এগিয়ে নেওয়া হবে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here