আফরিন_আখ্যান #পর্ব_৩

0
54

#আফরিন_আখ্যান
#পর্ব_৩
#সমৃদ্ধি_রিধী

(ফারিনের অতীত বোঝার সুবিধার্থে প্রথম খণ্ড রঙা থেকে নেওয়া হয়েছে।)

ফারজানা ভূঁইয়া অর্থাৎ ফারিনের মা মানুষ হয়েছে এতিমখানায়। অপরূপ সুন্দরী ছিলেন, চোখ ধাঁধানো সুন্দরী যাকে বলে। সতেরো বছর বয়সেই এতিমখানার মালিকের ছোট ছেলের সাথে ওনার বিয়ে হয়। এতিমখানার মালিক দেলোয়ার হোসেনের ছোট ছেলে রশিদ আলম আবার ছিল বাউণ্ডুলে, নেশাখোর, মেয়েবাজ প্রকৃতির ছেলে। দেলোয়ার হোসেন ছেলের মতিগতি ফেরানোর জন্য এমন সুন্দরী, বাবা-মাহীন মেয়ের সাথে ছেলের বিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। ছেলে আগের মতোই ছিল। সাথে ছেলের এতসব অকাজের মধ্যে আরেকটা অকাজ যুক্ত হয়েছিল তা হলো ফারজানা ভুঁইয়াকে মারধোর করা আর রাত হলে নিজের চাহিদা মেটানো। এই পাশবিক নির্যাতনের কারণ তার প্রেমিকা রয়েছে। একদম মাখোমাখো প্রেমিকা যাকে বলে। ফারজানা ভুঁইয়াকে আধমরা করে ওই প্রেমিকাকে বিয়ে করতে চাইতেন। অবশ্য বিয়ে না করলেও চলতো। বিয়ে ছাড়াই ওরা দিব্যি ছিল।

এইসব দেখেও বাড়ির এতগুলো সদস্যের মধ্যে কেউ কিছু বলতো না। বাবা মা নেই, যেখানে আগে খেতেই পারতো না, এখন তিনবেলা খেতে পারে তাতেই তো ফারজানা ভুঁইয়ার শুকরিয়া করা উচিত। দেড় বছর পর ফারিন হলো। ফারজানা ভুঁইয়াকে এরপরও অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছিল। রশিদ মেয়েকে জন্মের শুরু থেকেই দূরছাই করতেন। প্রধান কারণ ফারিন মেয়ে। বড় ভাইয়ের মতো ওনারও ছেলে হওয়া চাই। ফারজানা ভুঁইয়া প্রথম প্রথম মেয়েকে আগলে রাখতেন৷ কিন্তু দিনকে দিন যখন ফারিনের কারণে ফারজানা ভুঁইয়ার উপর অত্যাচার বেড়ে যাচ্ছিলো তখন ফারজানা ভুঁইয়ার কাছে জীবন দুর্বিষহ লাগতো। নিজের দুর্বস্থার জন্য একসময় ফারিনকে দায়ী করতে লাগলেন।

ফারিন বড় হতে লাগলো। ওই পরিবারের সবাই ফারিনকে দূরছাই না করলেও কেউ সেভাবে আদর করতো না। রশিদ আলম প্রতিদিন নেশা করতেন। তখন ফারজানা ভুঁইয়াকে মারার পরিবর্তে ফারিনের গায়ে হাত তুলতো। একবার হাত থেকে বাটন ফোন ফেলে দেওয়ার কারণে ছয় বছরের মেয়ের গায়ে বেল্ট দিয়ে বাড়ি মারেন। ফারজানা ভুঁইয়া বাঁচিয়েছিলেন তাই, নাহলে আরো মারতো। মারতে মারতে ফারিন মরে গেলেও কোনো প্রকার ভুরুক্ষেপ হতো না। ফারিন দেখতো ওর চাচাতো ভাইদের তাদের বাবারা আদর করে। চাচারা ভাইদের জন্য এটা সেটা নিয়ে আসতো কিন্তু ওর জন্য কেউ কিছু আনতো না। ওদেরকে ওদের বাবারা কি ভালোবাসে অথচ ফারিনকে দেখলেই ওর বাবা ক্ষেপে যায়। স্কুলে সবাই বাবা-মাসহ আসে। কিন্তু ফারিনের কেউ আসেনা। ফারিনকে কেউ টিফিন রেডি করে দেয় না। ফারিনকে কেউ পড়া রেডি করে দেয় না। পড়া না শিখার জন্য ক্লাসে বকা শুনতো। পানিশমেন্ট পেতো। ফারিনের সাথে কেউ খেলে না। ফারিন একা একা এদিক ওদিক ঘুরতো। ফারিনের খেলনা ছিল না কোনো খেলার মতো।

ফারিনের যখন সাড়ে আট বছর বয়স তখন ওকে বাইরে পড়াতে নিয়ে যেতো ফারজানা ভুঁইয়া। মাস দুয়েক পর ফারিন দেখতো ফারজানা ভুঁইয়া একটা লোকের সাথে খুব ঘনঘন কথা বলে। ফারিনকে সাথে নিয়ে দেখা করে। তখন শুরু হয় আরেক ঝামেলা। ধীরে ধীরে চোখ ধাঁধানো সুন্দরী ফারজানা ভুঁইয়া লোকটার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। ফারজানা ভুঁইয়া একদিন জানিয়ে দিলেন উনি আর রশিদ আলমের সাথে থাকবেন না। রশিদ আলমও খুশি। উনি ওনার প্রেমিকাকে বিয়ে করবে। তাছাড়া ওই প্রেমিকাও সন্তানসম্ভবা। অবৈধ বাচ্চাটাকে বৈধ করতে হবে কিনা!

ফারজানা ভুঁইয়াকে খুশি খুশি ডিভোর্স দিলেন। ফারিন কার কাছে থাকবে সেটা নিয়ে কেউই ভাবলেন না। রশিদ আলম ফারিনকে এতিমখানায় দিয়ে দিবেন বলে মনস্থির করেছিলেন। এতসবের মাঝে অখুশি ছিলেন দেলোয়ার হোসেন। উনি ফারিনের নামে সম্পত্তির কিছু অংশ লিখে দিলেন। ওমনি রশিদ আলমের মত বদলে গেল। ফারিনকে উনি নিজের সাথে রাখবে। আঠারো হওয়ার পর বাবার দেওয়া সেই সম্পত্তি নিজের নামে করে ফেলবেন আবার।

ফারিন তার বাবা মার কাছে একটা পন্য ছিল মাত্র। ফারজানা ভুঁইয়া যেদিন বাড়ি ছেড়েছিল সেদিন ফারিন বাড়ির মূল ফটকের সামনে ফারজানা ভুঁইয়ার পা ধরে কেঁদেছিল। বারবার আর্তনাদ করে বলছিল,

“আম্মু যেও না। আম্মু আমাকেও নিয়ে যাও।”

ফারজানা ভুঁইয়া পা ছাড়িয়ে নেয়। ফারিন দৌঁড়ে আবার ওনার হাত ধরে বলে, “আম্মু আমাকে একটা রেখে যেও না আম্মু। আমাকেও নিয়ে যাও। আমাকে সবাই মারে আম্মু।”

ফারজানা ভুঁইয়া ফারিনকে একটা থাপ্পড় মেরে ধাক্কা মেরে ফেলে এই বাড়ি থেকে চলে যান। নিজের সুখ খুঁজতে চলে গিয়েছিলেন তিনি। ফারিন আর কাঁদে নি। একটুও কাঁদেনি। ওভাবে পড়ে যাওয়ায় হাত পা ছিলে গেলেও কাঁদে নি। শুধু মা নামক একজনকে যে হৃদয়ে স্থান দিয়েছিল তা মুছে ফেললো। ফারজানা ভুঁইয়ার সামনে আর জীবনেও যায়নি।

রশিদ আলম ওই প্রেমিককে ঘরে তুলেন। বিয়ে করেন, ছেলে হলো। ফারিনের উপর পাশবিক নির্যাতন বেড়েই যাচ্ছিলো। সৎ মায়ের সংসারে দাঁত কামড়ে পড়ে থাকা চারটে খানি কথা না। দাদা আগে যা একটু আদর করতো, দাদা মারা যাওয়ার পর তাও ফারিনের কপাল থেকে উঠে গেল। ফারিনের আঠারোর পর থেকে রশিদ আলম ওকে সম্পত্তিটা দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করছিল।

ফারিন তখন নিজ থেকেই ফারজানা ভুঁইয়ার এতিমখানায় চলে গেল। ওখানে কর্মরত ছিল ফাতিমা বেগম। উনি ফারিনকে কি যে আদর করতেন। উনার এক মেয়ে, এক ছেলে ছিল। সেই মেয়ে, ফারিনের চেয়ে ছোট বয়সী নাতনি আর জামাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। তাই ফারিনকে নাতনির মতো ভালোবাসতেন তিনি। ফাতিমা বেগমের ছেলেকে ফারিন মামা বলে ডাকতো। একটা মোটামোটি ভালো জীবন কাটাচ্ছিল ফারিন। রশিদ আলম প্রায় নিতে আসতো, ফারিন না যেতে চাইলে চড় থাপ্পড় মারতো তাও ফারিন ফিরতো না। বারবার সম্পত্তিগুলো রশিদ আলমের নামে লিখে দিতে বললেও ফারিন দেয়নি।

একুশ বছর হতেই রশিদ আলম ফারিনকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ফারিন বিয়ে করবেই না। কিছুতেই করবে না। ফারিনকে তাও জোর করে পাত্রপক্ষের সামনে বসানো হতো। ফারিন কোনো না কোনো উপায়ে বিয়ে ভেঙে দিতো। সবশেষে এলো সাফওয়ান সিদ্দিক। ফারিন কম চেষ্টা করেনি বিয়ে ভাঙতে, কিন্তু পারলো কই? আহসান যে ফারিনের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হয়েছে তা নিয়ে ফারিন শতভাগ নিশ্চিত। কিন্তু ফারিন নিজের জীবন বৃত্তান্ত কখনোই কাউকে বলবে না। সে কোনভাবেই কারো সামনে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করবে না। দুর্বলতা শুনে সবাই খোঁটা দেয়, আঘাতে মলম লাগায় না কেউ।

ফের মোবাইলে কল আসলো। রশিদ আলম কল করেছে। ফারিন রিসিভ করলো না। ও জানে রশিদ আলম সম্পত্তির জন্য কল করেছে। ফারিন লিখে দিবে না। রশিদ আলম কি করবে সেটা ফারিনও দেখবে। ঘড়ির দিকে তাকায়। ভোর সাড়ে ছয়টা বাজে। সকাল থেকে রশিদ আলম লাগাতার কল দিয়ে ফারিনের ঘুম ভাঙিয়ে দিয়েছে। ফারিন ঘাড় বাঁকিয়ে আহসানের দিকে তাকায়। উপুড় হয়ে ঘুমাচ্ছে। ফারিন বিছানা থেকে নামলো। লাগেজ থেকে শাড়ি, ব্লাউজ, পেটিকোট, তোয়ালে বের করে। নিজের সাথে ছুরিও এনেছিল একটা। ফারিন নিজের বোকামিতে লজ্জা পেলো। লাগেজের চেইন টেনে শাড়ি, তোয়ালে প্রয়োজনীয় সামগ্রি নিয়ে ওয়াশরুমে চলে যায়।

ফারিন যে ধরাম ধুরুম করে দরজা লাগিয়েছে তাতে আহসানের ঘুম ছুটে যায়। মোবাইল নিয়ে টাইম দেখে। পৌনে সাতটা বাজে। পাশ ফিরে দেখে বিছানা খালি। কপাল কুচকে উঠতেই পানি পড়ার শব্দ শুনতে পায়৷ আহসান গাল চুলকায়। পনেরো মিনিটের মতো বসে বসে ঝিমোতে থাকে। যখন দরজা খোলার শব্দ পায় তখন আহসান আবারও চট করে শুয়ে পড়ে। তবে মুখ বালিশ দিয়ে ঢেকে।

ফারিন শাড়ি পড়েনি। শাড়ি পেঁচিয়ে বের হয়েছে। বের হয়েই আহসানের দিকে তাকায়। আহসান বালিশের তলা থেকে দেখতে পায়। ফারিন কিছুক্ষণ কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। তারপর কপাল শিথিল করে আয়নার সামনে দাঁড়ায়। পেঁচানো শাড়ি খুলে ঠিকঠাকভাবে শাড়ি পড়তে থাকে। আহসানের চোখ বড় বড় হয়ে যায়। নিজেকে ওর পাক্কা ছ্যাঁছড়া মনে হচ্ছে যে লুকিয়ে লুকিয়ে মেয়েদের পোশাক পরিবর্তন করা দেখে। আহসান মাথার উপর থেকে বালিশ সরিয়ে ফেলে। বুকে হাত গুঁজে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।

ফারিন বুকে আঁচল টেনে আহসানের দিকে তাকায়। মুহুর্তেই চোখ বড় বড় হয়ে যায়। আহসান ইভটিজার মার্কা হাসি দিয়ে উঠে বসে। এসির পাওয়ার কমিয়ে দিয়ে বলে,

“সো হট।”

ফারিন রেগে গেল। “লুকিয়ে লুকিয়ে আমার শাড়ি পড়া দেখছিলে কেনো? এগুলো কোন ধরনের অসভ্যতামো?”

ইনোসেন্ট ফেস বানিয়ে বলে, “মিথ্যা কথা বলবে না ফারিন। আমি লুকিয়ে দেখছিলাম না তোমায়। আমি চোখ খুলে, তোমার চোখের সামনেই বুকে হাত গুঁজে তোমাকে দেখছিলাম।”

ফারিন রেগে চোখ সরিয়ে ফেলে। শাড়ির আঁচল মুঠ করে ধরে রাখে। আহসান দুষ্টু হাসি দিয়ে বলে,

“এইজন্যই তো বলি এত গরম কেনো? চারদিকে এমন সুন্দর, সুন্দর, গরম গরম মানুষ থাকলে গরম লাগবেই, তাই না?”

“তুমি কি জানো তুমি একটা থার্ডক্লাস মার্কা লুইচ্চা?”

আহসান চট করে উঠে দাঁড়ায়। ফারিনের দিকে এগিয়ে আসতে আসতে বলে,

“আমাকে ফার্স্ট ক্লাস লুইচ্চা হওয়ার সুযোগ করে দাও মিসেস সাফওয়ান।”

“কাছে আসবে না। আমি কোনো মিসেস সাফওয়ান টাফওয়ান না।”

“তুমি মিসেস সাফওয়ানও আবার মিসেস টাফ ওয়ানও। তোমাকে নিজের প্রেমের ফেলা এত সহজ না।”

“তোমার প্রেমে পড়তেও চাই না।”

আহসান ফারিনের মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। খুব শান্ত কণ্ঠে বলে,

“আমার কথা শোনো ফারিন।”

“তোমার কথা শুনতে চাই না আমি।”

আহসান ফারিনের ঠোঁটে আঙুল চেপে বলে, “চুপ। আমি যা বলছি শোনো।”

ফারিন আহসানের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আহসান শান্ত কণ্ঠে বলে, “আই ডোন্ট নো হোয়াই তুমি আমাকে পছন্দ করো না। তুমি আমি পূর্ব পরিচিতও না যে আমি তোমার সাথে এমন কোনো আচরণ করেছি যার জন্য তুমি আমাকে পছন্দ করো না। আর দশটা বিয়ে যেভাবে হয়, আমরা সেভাবেই বিয়ে করেছি। তুমি আমার নামে যে ভুয়া অ্যালিগেশন দিচ্ছো আমার প্রেমিকা আছে, আমি কয়দিন পর আরেকজনের পিছন পিছন ঘুরবো এইসব ভোকাস। তুমি ভিত্তিহীন কথাবার্তা বলছো। এগুলো করে আমাদের সুন্দর সম্পর্কটাকে নষ্ট করো না।”

ফারিন আহসানের হাত সরিয়ে দিলো। “জ্ঞানের কথা বলার ধান্দায় আমার ঠোঁটে আঙুল চেপে রেখেছো না? এত সেয়ানা তুমি?”

আহসানের চোখে দুষ্টুমি প্রকাশ পেলো। “শিট! ধরে ফেলেছো? ওয়াও ম্যান! এই প্রথম কারো কাছে ধরা খেলাম।”

ফারিন রেগে মুখ ঘুরিয়ে নিলো। আয়নার দিকে তাকায়। আঁচলে সেফটিপিন মারে। আহসান ফারিনের চুল থেকে তোয়ালে খুলে ফেলে। ফারিন বিরক্ত হলো।

“তুমি বুঝতে পারছো না তোমার স্পর্শে আমি বিরক্ত হচ্ছি?”

“স্বামীর স্পর্শে বিরক্ত হতে নেই। লানত পড়ে। আয়েশা খাতুনের কাছে গেলে উনি শিখিয়ে দিবে।”

“আয়েশা কে?”

“আমার বাপের ফুপি।”

আহসান ফারিনের চুল মুছে দিতে থাকে। ফারিন বলে,

“এইসব করলে কি হবে? তোমার প্রতি আমার মন গলে যাবে?”

“যেতেও পারে। বলা যায় না।”

“অসম্ভব।”

“স্বামী হিসেবে যা যা করার আমি করবো। তোমার বিরক্ত লাগবে, ভিতর থেকে অবজ্ঞা আসবে। কিন্তু যখন আমি থাকবো না তখন সেগুলো নিশ্চয়ই মিস করবে।”

“কার কাছে যাবে? নতুন মেয়ে ধরবে? অন্য কারো সৌন্দর্য দেখে পিছলে পড়বে?”

আহসানের হাত থেমে যায়। “তোমাকে আমি বুঝিয়েছি আমি মরলে তুমি আমাকে মিস করবে। তুমি আরেক মেয়ের কথা কেনো বললে?”

“মরার হলে আমাকে বিয়ে করেছো কেনো? আমাকে বিয়ে করার আগেই মরতে। বিয়ে করে, মরে শেষ কথায় আমাকে বিধবা ট্যাগ লাগাতে চাও যাতে আমি জীবনে আর এগোতে না পারি, তাই না?”

“এত্তো নেগেটিভিটি। ওহ গড!”

ফারিনকে বিছানায় বসিয়ে মাথার চুল মুছে দিতে থাকে। ফারিন চুপ করে বসে থাকে। আহসান ওর জীবনের প্রথম ব্যক্তি যে ওর চুল মুছে দিচ্ছে। ফারিন নখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আহসান চুল মুছে দিতে দিতে বলে,

“তোমার বাবা মা তোমাকে কথা বলা শেখায়নি? এত কর্কশ কেনো? একটা মোটা ভুড়িওয়ালা, গোঁফওয়ালা জামাই পেলে বুঝতে।”

ফারিনের মেজাজ গরম হয়ে গেল। ও তড়িৎবেগে আহসানের হাত থেকে তোয়ালে নিয়ে উঠে দাঁড়ায়। আহসান বলে,

“আবার কি? একটু আগে না শান্ত হয়ে বসে ছিলে?”

“তুমি আমার চোখের সামনে থেকে দূর হও।”

আহসান আলমারি থেকে নিজের পোশাক বের করে বলে,

“রশিদ আঙ্কেল কত ভালো মানুষ। আর ওনার মেয়ে হয়ে তুমি একটা যা তা। কথাবার্তার কোনো ধরন নেই। আজব! আমার ছেলেমেয়ে তোমার মতো মায়ের কাছ থেকে কি শিখবে?”

ফারিন ড্রেসিংটেবিলের সামনে থেকে চিরুনি নিয়ে আহসানের পিঠে ছুঁড়ে মারে। আহসান ব্যথা পায়। পিঠ ধরে কুঁকড়ে উঠে। ফারিন চিল্লিয়ে বলে,

“তোমাকে বলিনি আমাকে বিয়ে করো না? বলিনি আমি? নাটক করছো কেনো? আমার কথাবার্তার ধরন নেই বিয়ের আগে বুঝোনি? তোমার থার্ডক্লাস রশিদ আঙ্কেল ভালো হলে ওনাকেই বিয়ে করতে? সুন্দর মেয়ে দেখে তো পাগল হয়ে গিয়েছিল। বেশি করলে নিজের গায়ে এসিড মেরে এই সৌন্দর্য জ্বালিয়ে দিবো। ধ্বংস করে দিবো সবকিছু। আর তোমার বাচ্চা? তোমার বাচ্চাকে আমি জন্মাতেই দিবো না। তার আগেই সব ধ্বংস করে দিবো। আমার বাচ্চার বাপ হবে। তোমাদের মতো বড়লোক, বাপের বখে যাওয়া ছেলের বাচ্চার মা হবো না আমি। হওয়াচ্ছি বাচ্চার বাপ হওয়া। আমার জীবনটা নষ্ট করে দিয়েছে সবাই মিলে।”

ফারিন আওলা ঝাওলা চুল নিয়েই রুমের বাইরে চলে গেল। আহসান এতটাই অবাক হয়েছে যে মাথা হ্যাং হয়ে গেল। এটা কেমন মেয়ে ঘরে তুললো?
____________________

আয়েশা সিদ্দিক পান চিবোচ্ছেন। ফারিন ওনার পাশে বসা। আয়েশা সিদ্দিক পানের পিক একটা বাতিতে ফেলে বলে,

“হিসেবে তুই এনামুলের বড় পোলার বউ। কিন্তু বাড়ির হিসাব করলে তুই মেজো বউ। আহান দেখতাছোস না?”

ফারিন কিছু বলে না। হাতের দিকে তাকিয়ে থাকে। আয়েশা খাতুন বলে,

“আহান হইলো গিয়া আনোয়ারের পোলা আবার এই বাড়ির বড় পোলা। আহানের বউ বেদ্দপ মাইয়া একটা। ঢ্যাং ঢ্যাং কইরা বিদেশ গেছে গা। আগে যহন বাড়িতে আছিলো তখন দেখতাম শিরিনা নাস্তা লইয়া সামনে বহায় খাওয়ায়। আমি মানা করলে কইতো থাক না ফুপিম্মা আমার তো মাইয়া নাই। তিন্নি আমার মাইয়ার মতোই, মাইয়া হইলে খাওয়ায় দিতাম না? পরে বাঁশ মারলে বুঝবো। আরো জানোস আহান তো আমার নাতনিরে থুইয়া আদির বান্ধবীরে বিয়া করছে। কত্ত বড় বেদ্দব পোলা। শিরিনা একডারেও মানুষ করতে পারে নাই।”

ফারিনের অসহ্য লাগছে। আয়েশা সিদ্দিক ফারিনের হাত টেনে বলে,

“আসল রং তোর?”

“নকল হতে যাবে কেনো?”

হাত ধরে বলে, “মেলা সুন্দর তুই। চেহারাডাও অনেক সুন্দর। আমগো আহসানও সুন্দর, তুইও সুন্দর। তোগো পোলাপাইনও সুন্দরই হইবো।”

ফারিনের নাকের পাটা ফুলে ওঠে। আয়েশা খাতুন ফের পানের পিক ফেলে বলে, “আহানের বউ তোর মতো সুন্দর না। তুই বেশিই সুন্দর। আহসানের বউ দেখতে বাত্তি জ্বালাইতে হইবো না। আন্ধারেও চকচক করবি তুই।”

ফারিন কিছু বলে না। হাত ছাড়িয়ে নেয় ভদ্রভাবে। আয়েশা খাতুন ফারিনের কোমরে চিমটি দিয়ে বলে,

“আমার নাতি কেমন? ভালানি?”

ফারিন কোমর জ্বলে গিয়েছে। কপাল কুচকে হাত ঘষতে থাকে। ফারিনের মুখে দেখে আয়েশা খাতুন ব্যঙ্গ করে বলে,

“মরণ! কে বটগাছ লাগে চিমটি দেয় না?”

“বটগাছ কে?”

“আরেহ তোর জামাই।”

“ও চিমটি দিবে কেনো?”

“জামাইরা কত কিছু দেয়। চিমটি তো জামাইয়ের ভালোবাসা।”

“না, দেয় না।”

“আইজকে দেয় না তো কিছে? কাইলকে দিবো। তোর দাদা শ্বশুর কি করতো জানোস?”

শুরু হলো নিজের সংসার জীবন নিয়ে কথা বলা। ফারিনের কানের পর্দা ঝাঁ ঝাঁ করে উঠে। আয়েশা খাতুন মনে মাধুরি মিশিয়ে ওনার সংসার জীবনের কাহিনি শোনাচ্ছে। শেষে বলে,

“আমারে ভালোবাসতো বইল্লাই তো আমার আট পোলা, দুই মাইয়া।”

ফারিন মুখ কুচকে বলে, “আরো একটা নিতেন। ফুটবল টিম হয়ে যেতো।”

“আমার তো দুইডা মাইয়া মরছে। আপনে আপনেই। ওডি থাকলে বারোটা পোলাপাইন আমার। তুইও দশ বারোটা নিস।”

ফারিন মুখ ঘুরিয়ে নেয়। আদৃত ড্রয়িংরুমে আসতেই আয়েশা খাতুন আদৃতকে ডাক দেয়। আদৃত কান থেকে হেডফোন খুলে আসে। আয়েশা খাতুন ফারিনকে রান্নাঘরে যেতে বললে ফারিন রান্নাঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।

আদৃত আয়েশা খাতুনের সামনে দাঁড়ায়। আয়েশা খাতুন বলে,

“পাশে বয়।”

আদৃত বসলো। আয়েশা খাতুন পান চিবোতে চিবোতে বলে,

“এইযে আহসান সুন্দর একটা বউ আনলো তুই কবে আনবি?”

আদৃত পা ঝুলাতে ঝুলাতে বলে, “ভালো মেয়ে পেলেই আনবো।”

“আহসানের বউয়ের বয়স আছে। তাইলে একটু ছোট্ট খাট্টো আনিস।”

আদৃত সুর দিয়ে বলে, “ছোট্টওও খাট্টোওও মানে?”

“তোর বয়স কত?”

“আটাশ।”

“তাইলে ধর চৌদ্দ, পনরো এমন আনিস।”

আদৃত কপাল কুচকে তাকায়। আয়েশা খাতুন বলেন,

“এমনে তাকাস কে? আরো কম বয়সী লাগবো?”

“জ্বি। সাত আট বছর হলে বেশি ভালো হয়।”

আয়েশা খাতুনের ছোট চোখ বড় বড় হয়ে গেল।

“পোলায় কি কয় এডি?”

“ঠিকই তো বলেছি। সাত আট বছরের মেয়ে কাঁদবে, আমি কোলে নিয়ে সাত্ত্বনা দিবো। ওওওয়য়াআআ আম্মু কাঁদে না। ওয়াআআআ কাঁদে না। সোনামণি কেঁদো না।”

আয়েশা খাতুন চেঁচিয়ে উঠে। “এই শিরিনাআআ তোর ছোড পুতে কি কয়? কি বেদ্দব, মানুষ করতে পারোস নাই পোলারে।”

আদৃত মুখ কুচকে উঠে যায়। “আমার বয়স আটাশ আমি নাকি চৌদ্দ বছরের মেয়ে বিয়ে করবো। আমি করবো বাইশ, তেইশের মেয়ে বিয়ে। আমাকে বলে পনেরো বছরের মেয়ে বিয়ে করতে। পাগল, মাথা খারাপ বুড়ি।”

আয়েশা খাতুনকে নকল করে বলে, “আবার ডাক দাও। শেরেনাআআ তোর পুতে মানুষ হইলো না। বেদ্দপ হইছে।”

আদৃত অন্যদিকে পা বাড়ালে আয়েশা খাতুন চিল্লাতে থাকে। জোরে জোরেই বলে,

“বেদ্দব একটা, জানোয়ার একটা তওবা তওবা। বুড়ি বিয়া কর বেদ্দব।”

“আমার জীবন, আমার বুড়ি বিয়ে করি নাইলে কচি বিয়ে করি, তোমার কি? তোমার জ্বলে তোমার জামাই আমার মতো ছিল না দেখে?”

“সামনে থেইক্কা যা জানোয়ার। তওবা তওবা তওবা। আমার জামাই তোর থেইক্কা ভালো আছিলো।”

“লুইচ্চা আছিলো।”

“শিরিনা?”

শিরিনা রান্নাঘর থেকে ছুটে আসে। আয়েশা খাতুন বিচার দেয়। শিরিনা চোখ রাঙিয়ে আদৃতের বাহুতে দুটো থাপ্পড় বসিয়ে দেয়। ফের রান্নাঘরে চলে গেলে আদৃতও শিরিনার পিছন পিছন রান্নাঘরে যায়। জেসমিন ওখানে কাজ করছিলো। ফারিন ওনার সাথে দাঁড়ানো।

আদৃত তেজ দেখিয়ে বলে, “বুড়ি আমাকে বলে কি চৌদ্দ পনেরো বছরের মেয়ে বিয়ে করতে। পাগল নাকি?”

“তোকে বললেই তুই বিয়ে করবি? বড়দের মুখে মুখে কথা বলে বেয়াদবি করিস কেনো?”

“উনি উল্টাপাল্টা কথা বলে কেনো?”

“কুত্তা তোকে কামড়ালে তুইও কুত্তাকে কামড়াবি?”

“হ্যাঁ।”

জেসমিন পাশ থেকে বলে, “অস্বাভাবিক না ভাবি। আদিকে কুত্তা কামড়ালে ও কুত্তাকেও কামড় দিতে পারে।”

“পাগল ছাগল পেটে ধরেছি।”

ফারিন মনে মনে বলে, “কথা ঠিক।”

আহান ডাক দিতেই আদৃত রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে গেল। ফারিন পাশে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে। জেসমিন ফারিনকে বলে,

“রুটি বেলতে পারো?”

ফারিন দুদিকে মাথা নাড়ে। জেসমিন বলে, “কিছু রাঁধতে পারো না?”

“না।”

“তুমিও পারো না, আহসানও পারে না। এখন আহসানের সাথে চলে গেলে তোমরা খাবে কি করে?”

“ওর সাথে কোথায় যাবো?”

শিরিনা বলে, “তোমাকে আহসান বলেনি?”

“না।”

“তোমরা তো উত্তরা থাকবে। আহসান তো কাজের সূত্রে উত্তরা থাকে।”

ফারিন বুঝলো ওর দিন সামনে আরো খারাপ। আহসান একা বাসায় ওর সাথে আরো পোংটামো করবে। ফারিনকে এমনি এমনি ছেড়ে দিবে না অবশ্যই। জেসমিন বলে,

“থাক পারো না তো কি হয়েছে? শিখে যাবে। আহসান তো ব্যস্ত থাকে অনেক। তাও বলবে তোমাকে সাহায্য করতে।”

শিরিনা বলে, “এই ঘরের পুরুষ মানুষগুলো এত অলসের অলস।”

“যাহ ভাবি আমার আহসান ভালো। আহসানকে বললে ও নিশ্চয়ই সাহায্য করবে।”

জেসমিন ডাইনিং টেবিলের দিকে তাকায়। আহান, আহসান, আদৃত গল্প করছে। জেসমিন ফারিনকে ওদের দিকে ইশারা দিয়ে গর্ব করে বলে, “এইযে বাকি তিনটাকে দেখছো? একদম জ্বালিয়ে খেয়েছে ছোট থেকে। আহানের তো বিয়ে শাদী হয়েছে, একটা ছেলে হয়েছে, একটু মতিগতি ফিরেছে। আদৃত আর অনি কবে ঠিক হবে আল্লাহ মাবুদই জানে। কিন্তু আমার আহসান! আল্লাহ আমাকে কপাল গুণে এমন ছেলে দিয়েছে। ছোট থেকেই আমাকে একটুও জ্বালায়নি। একটুও না। ওকে নিয়ে আমার কখনোই আমার কষ্ট করতে হয়নি। ও পানির মতো, যেখানে রাখবে ওখানেই থাকবে। বড়দের মুখে মুখে কথা বলে না। মা, চাচিকে সম্মান দেয়। তুমি ওর সাথে থাকতে থাকতে বুঝতে পারবে। আমার ছেলের কখনো কিছু নিয়ে অভিযোগ নেই।”

ফারিন ভণ্ড লোকটার দিকে তাকায়। হেসে হেসে ভাইদের সাথে কথা বলছে। সবাই এর এতো সুনাম করছে কেনো? এ নাকি আবার সবার কথা শুনে? কোথায় ফারিনেরটা তো শুনলো না। জেসমিন ছেলের আরো আরো সুনাম করে। শিরিনাও যুক্ত হয়েছে সাথে। ফারিন চুপচাপ শুনে যাচ্ছে। ও বুঝতে পারছে না ওনারা নতুন বউকে ছেলের নামে বানিয়ে চানিয়ে এত মিথ্যা কথা বলছে কেনো? ছেলের বউকে ছেলের নামে সুনাম করে ইমপ্রেস করতে চাচ্ছে নাকি?

জেসমিন ফারিনকে রুটি বানাতে দেয়। ফারিন তিনটে রুটি এমনভাবে বানিয়েছে জেসমিন আর ফারিনকে দেয়নি কিছু করতে। বাংলাদেশের মানচিত্রেরও একটা আকার আছে কিন্তু ফারিনের রুটির কোনো আকার নেই।

_____________________

সবাই ব্রেকফাস্ট করতে বসেছে। জেসমিন আর শিরিনা সার্ভ করছে। সিদ্দিক নিবাসে খাওয়ার টেবিলে সবসময় ব্যবসায়িক আলাপ হয়। আজও তাই হচ্ছিলো। আনোয়ার সিদ্দিক আহসানের সাথে কোম্পানির কাজ নিয়ে কথা বলছিলেন। আহসানও গম্ভীর গলায় বিচক্ষণের মতো উত্তর দিচ্ছে। ফারিন আহসানের বাম পাশে বসা। আহসানের মাথায় হুট করে দুষ্টুমি করার চিন্তা ভাবনা এলো। চাচার সাথে কথা বলতে বলতে বাম হাত ফারিনের উরুতে রাখে।

ফারিন হকচকিয়ে যায়। আহসানের দিকে তাকায়। আহসান নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে খাচ্ছে আর কথা বলছে। ফারিন বাম হাতে আহসানের হাত সরিয়ে দিতে চায়। কিন্তু পারে না। ফারিন সাথে সাথে পায়ের পাতায় কারো পা অনুভব করে। তাকিয়ে দেখে আহসানের পা।

“কিরে খাস না কে?” আয়েশা খাতুন ফারিনকে জিজ্ঞাসা করে।

ফারিন চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস ফেলে রুটি মুখে দেয়। চিবোতে চিবোতে বড় বড় নখ দিয়ে আহসানের হাত জোরে ধামচে ধরে। আহসান কথা বলার মাঝে এমন ব্যথা পাওয়ায় জোরে শব্দ করে উঠে। হাত ঝাড়তে ঝাড়তে দাঁড়িয়ে যায়। জেসমিন বলে,

“কি হয়েছে?”

ফারিন সর্বশক্তি দিয়ে আহসানের পায়ের পাতায় গোড়ালি দিয়ে আঘাত করে। আহসান আবারও আহ শব্দ করে বসে পড়ে। জেসমিন আহসানের পিঠে হাত রেখে বলে,

“কি হয়েছে? এমন করছিস কেনো?”

ফারিন চিন্তিত গলায় বলে, “এই কিছু হয়েছে?”

আহসান সবার দিকে তাকায়। উৎসুক হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে আছে সকলে। ফারিন আহসানের পায়ে পা রাখে। ফারিন আহসানের পুরো পায়ের পাতায় নিজের পায়ের বুড়ো আঙুল দিয়ে আঁকাউকি করতে করতে ফের জিজ্ঞাসা করে,

“কিছু বলছো না কেনো? কি হয়েছে?”

আহসান তুতলিয়ে বলে, “তেলাপোকা। হঠাৎ করে আসায় ভয় পেয়েছি।”

জেসমিন সরে গেল। এনামুল সিদ্দিকের জন্য ঠান্ডা পানি আনতে যায়। আহান বলে, “তুই তেলাপোকা ভয় পাস কবে থেকে?”

ফারিন ফের আহসানের উরুতে হাত রাখে। আহসান তো শুধু হাত রেখেছিল। কিন্তু এই যাত্রায় ফারিন তো আহসানের উরু খামচেও ধরে। হাঁটুর উপর, উরুতে হাত বোলায়। আহসান কপালে আঙুল ঘষে বলে,

“হঠাৎ করে আসায় ভয় পেয়েছি।”

শিরিনা বলে, “তুই এমন ঘামছিস কেনো?”

আহসান বুলি আওড়ায়, “হঠাৎ করে তেলাপোকা আসায় ভয় পেয়েছি।”

আদৃত কপাল কুচকে তাকিয়ে থাকে। “এমন ক্রিঞ্জ হাবভাব কেনো? লাইনটা মুখস্থ করেছো নাকি?”

অনি পানি খেয়ে আদৃতকে বলে, “বিয়ে করে আমার ভাই পাগল হয়ে গিয়েছে। বড় ভাইয়াও এমন পাগল হয়ে গিয়েছিল। কদিন পর তুমিও হবে।”

আহান বুঝে ফেলে। এমন তেলাপোকা আহানের জীবনেও এসেছিল, ওর বিয়ের দ্বিতীয় দিন। ও মাথা নিচু করে খেতে থাকে। আহসান অনির পিঠে এঁটো হাতেই থাবা বসিয়ে দেয়। আহসান অনির পিঠে এত জোরে থাবা বসিয়েছে ফারিন চমকে উঠে আহসানের উরু থেকে হাত সরিয়ে ফেলে।

চলমান…..

(হ্যাপি রিডিং…)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here