#আফরিন_আখ্যান
#পর্ব_৭
#সমৃদ্ধি_রিধী
দেড়টা বাজে। আহসান ডান হাতে ড্রাইভ করছে, বাম হাত গিয়ারের উপর। গিয়ারের উপর রাখা বাম হাত জড়িয়ে ধরে ফারিন চোখ বন্ধ করে আছে। আহসান সামনে থেকে চোখ সরিয়ে ঘাড় বাঁকিয়ে ফারিনের দিকে তাকায়। ঠান্ডা, জ্বরে নাক পুরো টমেটোর মতো লাল হয়ে আছে। আহসান ফের সামনে তাকায়। গতকাল বিকালে গাজীপুর থেকে ধানমন্ডি গিয়েছিল। গতকাল দুপুর থেকেই ফারিনের জ্বর। রাতে জ্বর বেড়ে গিয়েছিল। আহসান রাতে জলপট্টি দিয়েছে, মাথায় পানি ঢেলেছে, তারপর জ্বর একটু নেমেছে। আজকে আহসানের উত্তরায় না আসলেই নয়। তাই জ্বর থাকা সত্ত্বেও ফারিন আহসানের সাথে চলে এসেছে।
আহসান বাসায় সামনের রেস্টুরেন্টে গাড়ি থামায়। ফারিনের কপালে হাত দিয়ে দেখে গায়ে হালকা জ্বর। ও ফারিনের গালে আলতো করে চাপড় দিয়ে ওকে ডাকে। ফারিন চোখ পিটপিট করে তাকায়। আহসান ওর চুল গুছিয়ে দিয়ে বলে,
“একটু সিটে হেলান দিয়ে বসো। আমি খাবার কিনে আনছি।”
“কি আনবে?”
“তোমার কিছু খেতে ইচ্ছা করছে?”
“ঝাল ঝাল কিছু আনো।”
“আচ্ছা হেলান দিয়ে বসে থাকো। আমি যাবো আর আসবো।”
ফারিন কপালে হাত চেপে চোখ বন্ধ করে বসে রইলো। আহসান পনেরো থেকে বিশ মিনিট পরে আসে। হাতে থাকা খাবারের ব্যাগ ব্যাক সিটে রেখে গাড়ি স্টার্ট দেয়৷ ফারিন ফের আহসানের হাত জড়িয়ে ধরে। আহসান খোঁচা মেরে বলে,
“আরো বৃষ্টিতে ভিজো। কেমন লাগছে জ্বরে কাবু হয়ে?”
“বৃষ্টির জন্য জ্বর আসেনি। তোমার জন্য এসেছে।”
আহসান আড়চোখে তাকিয়ে আর কথা বাড়ায় না। মিনিট দশেক পর পৌঁছায়। গাড়ি থেকে নেমে ডিকি থেকে লাগেজ, ব্যাগ সব বের করে। ব্যাক সিট থেকে খাবারের নেটের থলি বের করে ফারিনকে নামার জন্য দরজা খুলে দেয়।
ফারিন নামে। আহসান লাগেজ, ব্যাগ, খাবার নেটের থলি সব এক হাতে নিয়ে লিফটের সুইচ টিপে। লিফট খুলতেই দুজনে লিফটে উঠে। লিফটের ছয় চাপতেই ফারিন বলে, “সাত তলায় থাকো?”
“হুম।”
“কারেন্ট না থাকলে?”
“সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠি।”
ফারিন চোখ বন্ধ করে বড় করে শ্বাস ফেলে। মাথা ঘোরাচ্ছে ওর। লিফট থামতেই আহসান বের হয় আগে। তারপর ফারিন বের হয়। আহসান পাসওয়ার্ড দিয়ে দরজা খুলে। আহসান দরজা খুলে ফারিনকে নায়কদের মতো যাওয়ার পথ করে দেয়। ফারিন বাসায় ঢুকে সোফায় বসে পড়ে। আহসান লাগেজ, ব্যাগ সোফার সামনে এনে রাখে। দরজা লাগিয়ে খাবার টেবিলে রাখে। শার্টের হাতা গুটিয়ে বেসিনে হাত ধোয়। চশমা খুলে মুখে পানি ঝাপ্টে ভেজা হাতে চুলে হাত গলায়৷ ফের চশমা পড়ে হাত ঝেড়ে লাগেজ, ব্যাগ নিয়ে রুমে চলে যায়। ওগুলো রেখে এসে ফারিনের সামনে দাঁড়িয়ে বলে,
“ফ্রেশ হয়ে নাও। খেয়ে ঔষধ খেতে হবে।”
ফারিন হেলতে দুলতে রুমে চলে যায়। আহসান রান্নাঘর থেকে প্লেট এনে খাবার বাড়ে। ভাত, ডাল, মাছের ঝোল আর খাসির মাংস। ফারিন ফ্রেশ হয়ে বেডে টিশার্ট, ট্রাউজার পড়ে বসে আছে। আহসানও ফ্রেশ হয়ে আসে। টেবিল থেকে প্লেটে খাবার, পানি আর নাপা এক্সট্রা ট্যাবলেট নিয়ে ফারিনের মুখোমুখি বসে। ফারিন মাছ দেখে বলে,
“কি মাছ?”
“রুই মাছের দোপেয়াজা।”
“খাবো না মাছ।”
“ডাল আর গোশত দিয়ে দেই?”
“দাও।”
আহসান খাইয়ে দিলো। ফারিন অল্প একটু খেয়ে আর খেতে পারলো না। আহসান জোরও করেনি। ঔষধ খাইয়ে দিয়ে বলে,
“প্রেমে পড়েই গিয়েছো তাহলে?”
“না। পড়িনি প্রেমে।”
“পড়োনি? তাহলে পরশু রাতে কি ছিল?”
“কিছুই না। নরমাল ওসব। সবার মধ্যে হয়। নাটক সিনেমার মতো এক বছর দূরে থাকবো নাকি?”
আহসান অবাক হলো, “প্রেমে পড়ার আগেই টাচ করার অধিকার দিয়েছো?”
“তোমার কি মনে হয় তোমার পরীক্ষা নেওয়া শেষ? এত তাড়াতাড়ি? প্রেমে পড়া এত ইজি?”
“আরো বাকি?”
“শুরুই তো হয়নি।”
“তোমাকে সালাম।”
বলে আহসান রুম থেকে বেরিয়ে গেল। ফারিন মুখ ধুয়ে এসে বিছানায় শুয়ে পড়ে। আহসানও খেয়ে এসে ল্যাপটপ নিয়ে বিছানার অপরপ্রান্তে বসে। এসি চালিয়ে ফারিনের গায়ে কমফোর্টার টেনে ওকে ঢেকে দেয়। নিজেও কমফোর্টারের নিচে বসে কোলে ল্যাপটপ নিয়ে কাজ করতে থাকে। প্রায় দেড় ঘন্টার মতো কাজ করে আড়মোড়া ভাঙে। ঘাড় বাঁকায়। ল্যাপটপের চার্জ শেষ। ল্যাপটপ চার্জে দিয়ে এসে ফারিনের দিকে মুখ করে শুয়ে পড়ে। ফারিন গালের নিচে হাত রেখে ঘুমাচ্ছে। আহসান ফারিনের কপালে হাত দেয়। জ্বর নেই। আহসান ফারিনের চুল কানের পিছনে গুঁজে দেয়। চুল কাঁধ থেকে সরিয়ে পিছনে ফেলতেই গলায় লালচে দাগ চোখে পড়ে।
আহসান আবারও চুল দিয়ে ঢেকে দেয়। আজব! ও কি দাগ বসিয়ে ফেলার মতো দৈত্য দানব নাকি? ফারিনের স্কিন বেশি সেনসিটিভ। অতিরিক্ত সেনসিটিভ। আহসান ফারিনের আঙুলের ভাঁজে আঙুল ঢুকিয়ে হাতে চুমু খায়। ফারিন নড়ে চড়ে উঠে। আহসান ফারিনকে জড়িয়ে ধরে নিজেও একটু ঘুমিয়ে নেয়।
___________________
ফারিন গতরাতে একটুও ঘুমাতে পারে না। যার ফলে দুপুরে একটা কড়া ঘুম দিয়ে ও ঘুম থেকে ওঠে সন্ধ্যা সাতটায়। বাসাটা দেখা হয়নি। তাই ঘুরে ঘুরে পুরোটা ফ্ল্যাট দেখলো। এত বড় ফ্ল্যাটে আহসান আগে একা থাকতো– এটা ভেবে ফারিন ঠোঁট উল্টালো। সারাঘর হেঁটেও যখন আহসানকে দেখতে পায় না তখন ফ্রেশ হয়ে এসে মোবাইল নিয়ে ড্রয়িংরুমের সোফায় বসে। গতকালকের তুলনায় এখন একটু ভালো লাগছে। গা গরম, তবে জ্বর নেই।
ফারিন আহসানকে কল দেয়। দুবার রিং হতেই আহসান রিসিভ করে। রিসিভ করেই বলে,
“উঠে পড়েছো?”
“না ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে তোমাকে কল দিয়ে কথা বলছি।”
“ওহ আচ্ছা। গুড জব।”
“কোথায় তুমি?”
“মিস করছো নাকি?”
“জ্বি না। মানবতার খাতিরে কল দিয়েছি।”
“আদৃতের ফ্ল্যাটে।”
“আদৃতের ফ্ল্যাট কোথা থেকে আসলো?”
“ও উত্তরায় শিফট হচ্ছে।”
“ওহ উত্তরার কোথায়?”
“তোমার পায়ের নিচে।”
“এ্যাঁ!”
“হ্যাঁ!”
“ঝেড়ে কাশো।”
“আমাদের বরাবর ছয়তলায় ফ্ল্যাটে উঠেছে ও।”
“তুমি ছয়তলায়?”
“জ্বি।”
“কি করো?”
“জিনিসপত্র ঢুকাচ্ছে, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছি।”
“ওওহ।”
“আসবে?”
“নিচে?”
“হুহ!”
“আচ্ছা জামা বদলে আসছি। টিশার্ট পড়ে তো আসবো না।”
“হুহ আসো। দরজার পাসওয়ার্ড সিক্স এইট সেভেন টু ফাইভ থ্রি..”
আহসানের কথার মাঝে ফারিন বলে, “ধূর আমার মনে নেই। আবার বলো।”
“মেসেজ পাঠিয়ে দিচ্ছি।”
আহসানে মেসেজ আসতেই ফারিন মুখ ধুয়ে টিশার্ট বদলে ওয়ান পিস পড়ে নিলো। ওড়না দিয়ে মাথা ঢেকে দরজা লক করে ছয়তলায় নামে। আহসান লিফটের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। ফারিন আহসানের পাশে এসে দাঁড়ালো। আহসান ফারিনের কপালে হাত দিয়ে বলে,
“জ্বর নেই।”
“হুম।”
ফারিনকে উপর থেকে নিচে দেখে বলে, “ট্রাউজার আর বদলাও নি?”
“না, টিশার্ট পাল্টে ওয়ান পিস পড়ে চলে এসেছি। বাসায় গিয়ে এই ওয়ানপিস খুলে আবার টিশার্ট পড়বো।”
“গুড।”
“তুমি এত বড় বাসায় একা থাকতে?”
“দোকা কোথায় পাবে?”
“প্রেমিকা ট্রেমিকাকে আনতে নাকি?”
“প্রেমিকা ছিল না। থাকলে আনার চিন্তা করে দেখতাম।”
“বিশ্রি ছেলে।”
“বিশ্রি প্রশ্ন করো কেনো?”
“আমার ইচ্ছা।”
আহসান কথা না বাড়িয়ে বুকে হাত গুঁজে দাঁড়ায়। তিনটা লোক ড্রেসিংটেবিল ধরে উপরে উঠাচ্ছে। ফারিন তা দেখে বলে,
“উনি কি পার্মানেন্টলি উত্তরা চলে এসেছেন?”
“হুম।”
“ওহহ। কোথায় এখন?”
“কে?”
“তোমার ভাই।”
“ও নিচে লোক দিয়ে উপরে উঠাচ্ছে, আমি উপরে পাহারা দিচ্ছি।”
“ভালোই টিম ওয়ার্ক করছো।”
“হুহ।”
একেএকে প্রায় সব জিনিসপত্র উঠিয়ে ফেলা হয়। আহসান ফারিনকে জিজ্ঞাসা করে,
“থাকবে নাকি বাসায় চলে যাবে?”
“থাকবো।”
“থাকো তাহলে।”
“রাতে কি খাবে?”
“রেস্টুরেন্ট থেকে নিয়ে আসবো। খালাকে কালকে থেকে আসতে বলে দিয়েছি।”
“ওকে।”
সব মালপত্র আনা হলো। আদৃত পরে লোক ডেকে সব জিনিসপত্র জায়গা মতো সেট করে তাদের টাকা দিয়ে বিদায় করলো। নিজেও ধানমন্ডি চলে যায়। আহসান ফারিনকে বলে,
“উপরে চলে যাও। আমি খাবার কিনে আনছি।”
“কিনতে হবে না। চলো দুজনে মিলে বাসায় কিছু বানাই।”
“আমি কিছু বানাতে পারি না।”
“সেটা তো আমিও পারি না।”
“এক কাজ করি। চলো ইউটিউব দেখে দুজনে কিছু একটা বানাই।”
“চলো।”
ফারিন, আহসান উপরে চলে আসে। ফারিন জামা পাল্টে মোবাইল নিয়ে রান্নাঘরে আসে। ইউটিউবে রেসিপি দেখতে থাকে। আহসান আসে। ফারিনের পাশে দাঁড়িয়ে বলে,
“শরীর একটু ভালো লাগছে মনে হয়?”
“জ্বি।”
“এরজন্য সাপের পাঁচ পা দেখা শুরু করেছো মনে হচ্ছে?”
“তাতে তোমার কি?”
“আমার আর কি? জ্বরে ভুগো ইচ্ছে মতো। আমি শুধু সেবা যত্ন করে সুস্থ সবল বানিয়ে দিবো।”
“কালকে রাতে জলপট্টি দেওয়ার পর অনেক ভালো লাগছিলো। থ্যাংকস।”
“মাই প্লেজার।”
“তোমার কালকে সময় হবে?”
“কিসের জন্য?”
“আমার ফ্রেন্ডদেরকে বিয়ের ট্রিট দেওয়ার জন্য?”
“তোমার ফ্রেন্ডদের আমি ট্রিট দিবো কেনো?”
“দিতে হবে। আমি বলে ফেলেছি। না দিলে আমার ফেসলস হবে।”
“কয়টায়? দেড়টার আগে পারবো না আমি। কাজ আছে। আবার তিনটার আগে সব ফিনিশ করে অফিসে থাকতে হবে।”
“তোমাদের না নিজস্ব কোম্পানি?”
“হ্যাঁ?”
“তুমি না এমডি?”
“হ্যাঁ।”
“তাহলে সময় বের করতে পারবে না কেনো? আর একদিন অফিসে না গেলে কি হয়?”
“নিজেদের অফিস আর এমডি হলে কি অফিস মিস দিবো নাকি? ফাঁকিবাজি আমার সাথে যায় না।”
“ঢং, আমি এমডি হলে কর্মচারীদের দিয়ে কাজ করিয়ে নিজে চিল করতাম।”
“এইজন্যই তুমি এমডি না।”
“সিনেমার এমডিরা শুধু চিল আর চিলই করে।”
“কাম টু দ্যা রিয়েলিটি। এমডি হয়েছো মানে পুরো কোম্পানির দায়িত্ব তোমার হাতে। এখন তুমিই যদি সিরিয়াস না থাকো কোম্পানি চলবে? খালি চিল করলেই হয় না, কষ্টও করতে হয়।”
“তোমার বেশি বেশি ঢং।”
“আচ্ছা বাদ দাও।একদিন তোমাকে অফিসে নিয়ে বসিয়ে রাখবো। দেখো আমাকে কত কাজ সামলাতে হয়।”
“তা কালকে খাওয়াবে কখন আমার ফ্রেন্ডদের?”
“একটা, দেড়টার পর। আমি অফিসে গিয়ে জানাবে তোমাকে। তা বলো এখন কি বানাবে?”
“চাউমিন বানাই চলো? বানানো অনেক সোজা।”
“মোটা নুডলসগুলো নেই বাসায়। কালকে নিয়ে আসবো বাসায় আসার পথে।”
“দ্যান বিরিয়ানি?”
আহসান মাফ চাওয়ার ভঙ্গিতে বলে, “ভাই তুমিও রান্না করতে পারো না, আমিও পারি না। তাই শুরুতেই বিরিয়ানিতে হাত দেওয়া উচিত হবে না।”
“পিজ্জা? দেখো বানানো ইজি।”
“শিওর?”
“ভিডিওতে দেখাচ্ছে পনেরো মিনিটে পিজ্জা বানানো যায়। চলো বানাই।”
“আচ্ছা।”
“প্রথমে ইস্ট, ময়দা লাগবে।”
“ময়দা নাকি আটা?”
“জানি না তো।”
“দুটোই মেশাই চলো।”
“আচ্ছা।”
ফারিন আটা, ময়দা, ইস্ট নিলো। “কি করবো এবার?”
“পানি ঢালতে হবে না?”
“মনে তো হয়।”
আহসান পানি ঢালে। ফারিন বলে, “আরেকটু ঢালো।”
আহসান ঢাললো, তবে পরিমাণে বেশি। দুজনের কেউই বুঝলো না। ফারিন ডো বানাতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলে। রেগে বলে,
“এত পানি দিয়েছো কেনো? মাথা নষ্ট তোমার?”
“তুমিই তো বললে।”
“আমার বলা সব মনে হয় শোনো?”
“শুনিই তো।”
“বাদ দাও, বাদ দও। তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না।”
“আচ্ছা, এখানে আরেকটু আটা মেশাও তাহলে।”
“চুপ করো। লাগবে না কিছু মেশানো। পিজ্জা বানানোর প্ল্যান ক্যান্সেল।”
“তো কি?”
ফারিন বোলটা বেসিনে ফেলে হাত ধোয়। ইউটিউবে রেসিপি দেখতে থাকে। চিকেন ফ্রাইয়ের ভিডিও দেখে আহসান বলে,
“আসো চিকেন ফ্রাই বানাই। এটা অনেক ইজি।”
“আসলেই আসো।”
আহসান ডিপ ফ্রিজ থেকে মুরগির বুকের মাংস বের করে। ফারিন তা দেখে বলে,
“এটা তো বরফের মতো শক্ত। ক্রিকেট খেলা যাবে এটাকে বল বানিয়ে। এমন শক্ত এটা।”
“গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে আলাদা হবে না?”
“হওয়ার কথা।”
ওরা পানি গরম করে ভিজিয়ে রাখে। বরফ ছুটতেই ওরা ম্যারিনেট করে। ফারিন ম্যারিনেট করা শেষ হতেই আহসানকে জিজ্ঞাসা করে,
“আচ্ছা ওভেনে কি চিকেন ফ্রাই হয়?”
“হয় মনে হয়। জানি না।”
“কি জানো তুমি?”
“তোমাকে নিজের প্রেমে ফেলতে জানি।”
ফারিন ভেঙ্গিয়ে বলে, “বিশ্রি ফ্লাটিং।”
“কথাটা সত্যি।”
“তোমার প্রেমে পড়িনি এখনও। জাস্ট নিজেকে এডজাস্ট করছি। এসেছে ভাব নিতে।”
“আই নো, আই নো।”
“এখন বলো ওভেনে দিলে কি কিচেন ফ্রাই হবে?”
“ওভেনে দেওয়ার কি দরকার?”
“দেখছো না বলছে মিডিয়াম আঁচে ভাজতে হবে। মিডিয়াম আঁচ বুঝো তুমি? দ্যান তেলের পরিমাপ বুঝবে?”
“না।”
“ওভেনেই দাও।”
আহসান ট্রেতে সাজিয়ে ওভেনে দিলো। তবে টেম্পারেচার প্রয়োজনের চেয়ে বেশি, সময়ও প্রয়োজনের চেয়ে বেশি দিলো। যার ফলাফলস্বরুপ একদম কালো কুচকুচে পোড়া চিকেন ফ্রাই বের হলো ওভেন থেকে। ওভেনের ভিতরও পোড়া গন্ধ।
ফারিন নাকের সামনের হাওয়া উড়িয়ে দেওয়ার মতো হাত নাড়ে। আহসান কোমরে হাত রেখে বলে,
“এই অবস্থা কেনো?”
ফারিন চিমটি দিয়ে একটু খেয়ে দেখে। এমন তিতার তিতা, থু থু করতে করতে মুখ ধোয়। বিরক্ত হয়ে বলে,
“কি পারো তুমি? কিছুই পারো না অফিসের কাজ করা ছাড়া?”
“টু বি অনেস্ট না।”
“একটু রান্না শিখতে পারোনি?”
“আম্মু, জেঠিম্মু করেছে, আমরা শিখবো কেনো?”
“ধূরর!”
“আমি ছেলে হয়ে শিখিনি, এটা চলে। তুমি মেয়ে হয়েও কেনো শিখোনি?”
“কেউ শিখায়নি তাই শিখিনি। যত্তসব। প্রশ্ন শুনলে মেজাজ খারাপ হয়। মেয়ে হয়ে জাতিকে ধন্য করে ফেলেছে বিরক্তিকর।” বলে পোড়া চিকেন ফ্রাইগুলো বাস্কেটে ফেলে দেয়।
আহসান আহাজারি করে বলে, “আরেহ আরেহ এভাবে এগুলো ফেলে দিলে কেনো?”
“তো কি করবে এগুলো? খাওয়ার যোগ্য এগুলো?”
“কোনোমতে খেতাম। ভুঁকা পেটে থাকার চাইতে পোড়া খাওয়া ভালো।”
“তোমার মাথায় গোবর পোড়া।”
“তো কি খাবো এখন?”
ফারিন রেগে বলে, “আমাকে খাও।”
আহসান শয়তানি হাসি দিয়ে এগিয়ে আসে। “বেবি কাম, কাম, কাম, বেবি কাম টু মি।”
ফারিন লটকানো মুখে তাকিয়ে থাকে। আহসান বলে,
“তুমিই তো বলেছো সুন্দরী। আমি কিছু বলেছি নাকি? এখন তোমার কথাই রাখছি।”
“যাও তো যাও। রেস্টুরেন্ট থেকে খাবার কিনে নিয়ে এসো।”
“না, আসো। আমি আবার বউয়ের কথা শুনি।”
ফারিন আহসানের মুখে পানি ছিটকা মেরে কিচেন থেকে বেরিয়ে যায়। আহসান মুখ মুছে হাসে। চেঁচিয়ে বলে,
“সুন্দর একটা বউ আছে আমার। বেনেফিট নিতে হবে না?”
“সুন্দর ধুয়ে পানি খাও এখন। পেট ভরবে না? মজা হবে না? যত্তসব।”
আহসান ফারিনের সামনে এসে বলে, “পেট না ভরুক, মন তো ভরবে সুন্দরী। আর মজা? তা আবার জিজ্ঞাসা করতে হয়? হেব্বি মজা হবে।”
“তোমার মনের খেতা পুড়ি।”
“আসো পুড়িয়ে দিয়ে যাও।”
“অসহ্য।”
“ছেলে হলে নাম রাখবো ‘অসহ্য’। ঠিক আছে?”
“তুমি অসহ্য।”
“অসহ্যেরই তো প্রেমে পড়ে গিয়েছো। লুকিয়ে লুকিয়ে দেখো, একা একা হাসো, দেখি না, বুঝি না ভেবেছো?”
ফারিনের নাকের পাটা ফুলে ওঠে। চলে গেল আহসানের সামনে থাকে। সাথে রান্না করার সাধও মিটে গিয়েছে ওর।
চলমান….
(হ্যাপি রিডিং…)

