আমার_বোবাফুল(০৭) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
74

#আমার_বোবাফুল(০৭)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

পৃথিবী যেনো এক মূহুর্তের জন্য থমকে গেলো মিশ্মির। মস্তিষ্ক নিস্ক্রিয় হয়ে পড়ে কিছু সেকেন্ডের জন্য। পরপরই বাকরুদ্ধ চিত্তে, থমকে আশা গলায় প্রশ্নঃ করলো অস্ফুট স্বরে,

“ কে আপনি?বর্ণ কোথায়?

আশেপাশের সকলের নজর পড়লো বরের উপর।তখনো অজ্ঞাত ব্যক্তির মুখ আড়ালে। চারপাশের কৌতুহল,উৎসুক দৃষ্টি শান্ত করতে বর বেশে নিস্প্রভ বসে থাকা লোকটি নিজেই নিজের পাগড়ি খুলে নিলো। পরপরই দাঁত বের করে হেসে মুগ্ধ চোখে চাইলো মিশ্মির দিকে। রমণী হতবাক,গায়ে অস্থির , আতঙ্ক মিশ্রিত কাঁপুনি অনুভব হয়।

এলোমেলো মাথার চুল।দৃঢ় মনোবল থাকলে চুলের সংখ্যা গণনা করা যাবে এতোটাই পাতলা।কপালটা পাঁচ আঙুলের চেয়ে বেশি দীর্ঘ হবে এতে কোন সন্দেহ নেই। শ্যামলা মুখের রঙ আরো গাঢ় দেখাচ্ছে। দাঁতের কথা কী বলবে?হাসি দিলে দেখা যায় উপরের পাটির একটা দাঁতের স্থান ফাঁকা। ঘৃ!ণায় গা গুলিয়ে এলো মিশ্মির।ছুটে গিয়ে শেরওয়ানি পরিহিত লোকটির কলার চেপে ধরতে গিয়েও নিজের মাথায় হাত বুলালো। নিজেকে সংযত করে ক্ষিপ্র মেজাজে হিসহিসিয়ে বললো,

“ বর্ণ’র জায়গায় আপনি কেনো? কোথায় ও?”

স্টেজের নিচে হৈ চৈ পড়ে নিমেষেই।বর বদলে গেলো?নাকি দর্শকের জন্য এটা সারপ্রাইজ ছিল?ভিড় ঠেলে একজন এগিয়ে এলো হাতের তালুতে হাত তালি দিয়ে।সাদা কালো ডোরাকাটা ছোট রুমালে মুখ ঢেকে আছে। ধূসর কালো মণিদ্বয় কেবল দৃশ্যমান।সকলের নজর এবার আগন্তুকের উপর গিয়ে বর্তালো।বর্ণ হাত উঠিয়ে মাথার পেছনের গিট খুলে রুমাল টেনে নেয়।আরো একদফা চমকে, থমকে উঠে পরিবেশ।বর্ণ কিছুটা মাবন শূণ্য স্থানে গিয়ে দাঁড়ায়। আশেপাশের প্রশ্নবিদ্ধ উৎসুক চাহনি, অনেক রমণীর ঠোঁটের কোণে হাসিও দেখা মেলে।

মিশ্মি ছুটে এলো।বর্ণ কাছাকাছি আসতেই হাত উঁচিয়ে তাকে থেমে যেতে বাধ্য করলো,

“ ওখানেই স্টপ!”
“ বর্ণ হোয়াট ইজ দিস?কী করলে তুমি এটা?

ঠোঁট এলিয়ে অমায়িক হাসে বর্ণ।কী নজরকাড়া সেই হাসি টুকু।স্তরে স্তরে অনড় চুলগুলো ডান হাতে এলোমেলো করে মিশ্মিকে পরখ করতে করতে তাচ্ছিল্য কন্ঠে বলে চললো,

“ জেলা রংপুর।বখশি বাজার।গলি নম্বর পনেরো।সেখানেই সকাল দশটা থেকে বিকেল তিনটে পর্যন্ত ভিক্ষার থালা হাতে নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায়।বয়স বেশি নয়.. চল্লিশের আশেপাশে হবে হয়তো।ডোন্ট ওয়ারি! চট্টগ্রামে তার ফ্ল্যাট বাড়ি আছে! যার দাম মাত্র সেভেন ক্রোর!বুঝায় যাচ্ছে ব্ল্যাক মানির কারবার।দু’জনের টুনাটুনির সংসার চলে যাবে মিসেস সবুজ মিয়া”

মিশ্মির চোখ ফেটে টুপটাপ পানি গড়িয়ে পড়ে রাগে।হাতের মুঠোয় লেহেঙ্গা চেপে ক্রন্দনরত গলায় বললো,

“ তুমি আমার সাথে এমনটা করতে পারো না বর্ণ।”
“ এমনটাই হয়েছে। স্বেচ্ছায় খুশি খুশি কবুল বলেছো। পেপার্সে সাইন করেছো।আমি তো জোর করিনি!”

মিশ্মি ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো।অদূরে বর বেশে থাকা সবুজ মিয়া’কে ঘিরে রেখেছে অনেকে।মুখের সামনে ক্যামারার উপস্থিতি একের অধিক।এখনি হয়তো নেট জগতে তুলপাড় উঠবে।

পুণরায় বর্ণ’র দিকে তাকিয়ে বললো মিশ্মি,

“ ঠকিয়েছো!মানিনা আমি এই বিয়ে।ওই রা”সকেলকে তো দেখে নেবো।বাট তুমি…

কথা বলার ফাঁকে ফোন হাতে তুললো সে।বর্ণ ধূর্ত হেসে বললো,

“ লাভ নেই!কিছু নেই ওখানে!”

অস্থির শঙ্কিত চোখে চঞ্চল হাতদ্বয় দ্রুততার সাথে ফোনের স্ক্রিনে চালিয়ে কাঙ্ক্ষিত জিনিসটা সত্যিই খুঁজে পেলো না মিশ্মি।যেটা এতো দিন খুব যত্নে, গোপন করে রেখেছিল –সেটা আজ কোথায় উধাও হয়ে গেলো? আঁতকে উঠে হতবুদ্ধি হয়ে সে বর্ণ’র দিকে চাইলো। পুরুষটি তখনো বাঁকা হেসে যাচ্ছে।মিশ্মি এবার লেহেঙ্গার ওড়নার কোণা টেনে এনে কিছু খুঁজতে গেলে বর্ণ পুণরায় বললো,

“ পেনড্রাইভ খুঁজছো? সেটা তো আমার হাতে!”

পকেট হতে বর্ণ পেনড্রাইভটা বের করে মিশ্মির চোখের সামনে তুলে ধরলো। অপরাধী সুরে বললো,

“ স্যরি.. অনুমতি ছাড়া নিয়েছিলাম। এখন এটার কাজ নেই আমার।নাও.. প্লিজ নিজের জিনিস ফিরিয়ে নাও!”

মিশ্মি বুঝে গেলো আর কিছুই অবশিষ্ট নেই ওই পেনড্রাইভেও।সে আক্রোশ নিয়ে এগিয়ে এলো বর্ণ’র কলার টেনে ধরবে বলে।

“ উঁহু! ডোন্ট মোভ!থেমে যাও নিজের স্থানে।আর মিডিয়ার সামনে এখনি যা যা বলবো তা চুপচাপ মেনে নেবে!বলবে যে –তুমি বিশিষ্ট ভিক্ষুক সবুজ মিয়াকে হৃদয় উজাড় করে ভালোবাসো”

“ অসম্ভব! তোমার…

বর্ণ’র হাতের মুঠোয় থাকা ফোনে চলাকালীন ভিডিওতে নজর যেতেই মিশ্মি থেমে গিয়েছিল পরপর। স্তব্ধ হয়ে গেছে তার আঁখি যোগল।দু সেকেন্ডও দেখার সাহস হয়নি।ঘৃ;ণা ভরা চোখে তাকিয়ে বললো,

“ ছিঃ বর্ণ তুমি এতোটা নিচ?”

“ আসফিয়ান বর্ণ’র সামনে তুমি যা উপর লেভেলের খেল দেখিয়েছো তার সমানে সমান –এটা মেনে নাও!

“ আমি তোমায় ছাড়বো না বর্ণ ”
“ অথচ আমি তোমায় ছেড়ে দিয়েছি। সবুজ শ্যামল এই পৃথিবীতে বুক ভরে শ্বাস টানতে ছেড়ে দিয়েছি। সবুজ মিয়ার সাথে টুনা টুনির সংসার পাততে ছেড়ে দিয়েছে।নয়তো যা গেইম খেলেছো তার শাস্তি হিসেবে বর্ণ’র ডিকশনারিতে এই সস্তার শরীর আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া বরাদ্দ ছিল ”

মিশ্মি দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে রয়।চোখ উপচে কান্না ঢেউ উঠে।সব শেষ হয়ে গেলো!

দু’জনকে একত্রে ফিসফিস করে কথা বলতে দেখে কানাঘুষা শুরু হয়েছে কবেই।কী চলছে এখানে সকলের মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে যেমন। সবুজ মিয়া স্ব-গর্বে নিজের পরিচয় দিচ্ছে মিডিয়ার সামনে।

কিছু সময়ের ব্যবধানে হুড়মুড়িয়ে সাংবাদিক ঘিরে ধরলো বর্ণকে।বর্ণ রুমালে পূর্বের মতো ঢেকে নেয় মুখশ্রী। ঠোঁটে ধূর্ত হাসি।পরিবেশটা উপভোগ্য।

“ অনেকেই জানেন মিস মিশ্মির সাথে আমার সম্পর্ক ভালো।ভাইয়ের নজরে দেখে সব সময়।সেই হিসেবেই একদিন তার নিদারুণ ভালোবাসার গল্প শুনালো। তিনি এমন একজনকে ভালোবাসেছেন যার ব্যঙ্ক, ব্যালেন্স তো দূর থাকার মতো ঘর বাড়িও নেই।ভ..ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করে ”

এটা বিশ্বাসযোগ্য তথ্য?কেউ বিশ্বাস করবে একজন রুচিশীল সংগীত শিল্পী একটা ভিক্ষুককে ভালোবেসেছে?এমন ধরনের নানান প্রশ্ন ছুঁড়ে এলো বর্ণ’র সম্মুখে। বর্ণ হাসলো আড়ালে। গম্ভীর সুরে বলল অতঃপর,

“ ভিক্ষুক বলে কী সে মানুষ না?তার মন নেই! শুনেছি.. ভালোবাসা জোর করে হয়না।দুটি মনের মিলন নিঃশব্দে হয়ে যায় বিনা শর্তে। এখানে রঙ,বর্ণ ইত্যাদি ইত্যাদি ম্যাটার করে না ”

কিছু সাংবাদিক এবার ছুটে গেলো মিশ্মির কাছে, মেয়েটা অনূভুতিহীন জড় পদার্থের ন্যায় নিস্তেজ চেয়ে আছে অদৃশ্যে।একজন প্রশ্ন করলো ,

“ মিস মিশ্মি!আপনি সত্যিই ভালোবাসেন জনাব সবুজ মিয়াকে?যার জীবিকা নির্বাহের প্রধান মাধ্যম -ভিক্ষা? কিন্তু এটা কীভাবে সম্ভব?”

মিশ্মি হঠাৎ অদূরে দৃষ্টি ফেললো। বর্ণ’র হাতে ফোন।তার দিকেই তাকিয়ে ফোন খানা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে দেখতে তাকেই যেনো কিছু ইশারা করছে।মিশ্মির গলা শুকিয়ে আছে। কান্না পায়।সে আরো একবার ঘাড় বাঁকিয়ে সদ্য বিয়ে করা স্বামীর দিকে চাইলো। ঘৃ!ণায় চোখে বিষ পড়লো যেনো।কম্পিত সুরে বললো সের্ফ,

“ হ্যাঁ,বাসি”

“ তাহলে প্রথম দেখায় চিনতে অস্বীকার করেছেন কেনো?”
“ সারপ্রাইজ দিয়েছেন রকস্টার সাহেব। মাথা কাজ করছিল না তখন। অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় কী না কী রিয়্যাক্ট দিয়েছি!”

আরো কিছু প্রশ্ন করতে চাইছিলো তারা।মিশ্মি বিরক্তি দেখায়।সদ্য বিয়ে হয়েছে -টায়ার্ড লাগছে বলে দূরে সরে আসে।মিশ্মির মা এগিয়ে আসে।মেয়ের উপর রাগে মস্তিষ্ক টগবগ করছে।বাহুতে চাপ দিয়ে তার দিকে ঘুরিয়ে জিজ্ঞেস করলো,

“ কী সার্কাস হচ্ছে এখানে?এসবের মানে কী?ওই ফকিরের বাচ্চাকে তুমি ভালোবাসো মানে?”

জবাব দিতে পারলো না সে। ঠোঁট কামড়ে ছলছল তাকিয়ে রয়।সব কিছু ধংস করে দিতে ইচ্ছে করছে।মন চাইছে ছুটে গিয়ে ওই ফকিরের বাকি দাঁতগুলো মাত্তুল মেরে ভেঙে দিতে।এমন তো হওয়ার কথা ছিল না! বর্ণ’কে নিজের করে পাওয়ার সাধনা এক নিমেষেই নিঃশেষ হয়ে গেলো?

“ আমরা মিস মিশ্মি’র পুরো গল্পটা শুনতে চাই।আজ এই বিয়ের আসরে কী কী ঘটে গেলো এখনো অনেকেই সবটা ধরতে পারছেন না। মিস্টার আসফিয়ান বর্ণ আপনি কী দয়া করে মিডিয়া”কে ক্লিয়ার করবেন?”

একজন মহিলা সাংবাদিকের কথায় বর্ণ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললো,

“ শিওর.. তাদের এই নিঃস্বার্থ। জটিল প্রেমের কথা প্রত্যেকের জানা উচিত।
একচ্যুয়েলি মিস মিশ্মি নিজ থেকে বলেছিলেন “তিনি এমন একজনকে ভালোবেসে ফেলেছেন।সত্যিটা জানাজানি হয়ে গেলে যাকে সমাজ,মিডিয়া তুচ্ছ তাচ্ছিল্য নজরে দেখবে।তার প্রেস্টিজে আঘাত লাগবে।রুচি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
আমি প্ল্যান করলাম তাকে তার ভালোবাসা পাইয়ে দিবো। যেহেতু শুরু থেকে তার পার্টনার সম্পর্কে খবর হয়ে গেলে বিয়েতে ঝামেলা হতে পারে।তাই আজকের এই আয়োজন। অবশেষে তাদের ভালোবাসা পূর্ণতা পেলো।আমিও এমন জুটিকে একত্রে করে দিতে পেরে ধন্য। দেখুন না মিস মিশ্মি কৃতজ্ঞতায় কাঁদছে আমার জন্য ”

মিশ্মি দূর থেকে বাকরুদ্ধ নয়নে দেখে এবং শুনে গেলো রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’র বানোয়াট মিথ্যা প্রেমের গল্পটা।সে চিৎকার করে কাউকে বলতেও পারছেনা —“ এসব মিথ্যে।বানোয়াট”!আমি কোন ফকির,মিসকিনকে ভালোবাসা তো দূর ঘৃ!ণায় তাকতেও পারিনা। আমার রুচির সাথে তাদের যায়ও না ”
কিন্তু মিশ্মি নিরুপায়।নিজের জালে নিজেই ফেঁসে বর্ণ’র সব কথায় হ্যাঁ তে হ্যাঁ মেলাতে হচ্ছে আজ। কিন্তু এরপরও সে চুপ থাকবে না। একদিন আসবে, সেদিন আসফিয়ান বর্ণ’কে এমন অপমান ফিরিয়ে দেবে দ্বিগুণ।তার না হোক, প্রয়োজনে তার আপনজনদের তার্গেট করবে।

গেস্টরা সকলে কেমন আড়চোখে তাকাচ্ছে।মিশ্মি লজ্জায়, অপমানে মাথা নামিয়ে নেয়।ইনভাইটেড বাকি শিল্পীরা চলে গেছে একে একে।নাক সিঁটকে কটুক্তি করতেও ভুললো না অনেকে।
থেকেও গেলো কয়েকজন। স্বচক্ষে বিনোদন দেখতে হবে তো!

বিয়ের সংবাদে যেই মেয়েরা অনলাইনে হা হুতাশ করছিল।তাদের মন্তব্যের ফুলঝুরি বসেছে। তাদের রকস্টারের বিয়ে হয়নি তবে!! কতোজন আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছে।সুখ মুখ কুঁচকে ফোন রেখে দিলো।হা হুতাশ করা মেয়েদের মধ্যে অনেকেই বিবাহিত। সুখ অনেকের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখেছে এমন।ছিঃ স্বামী রেখে পর পুরুষের প্রসংশা করতে এদের বেবেকে বাঁধে না!

চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো সুখ।জন সমাগম থেকে দূরে এসে বসেছিল নূরার হাত ধরে।ধীর পায়ে এগিয়ে গেলো তামিজ শিকদারের দিকে।বিয়ে যেহেতু হয়নি। এখানে বসে বসে কার মুখ দেখবে?

চলার পথে আচমকা কারো সাথে ধাক্কা লেগে পড়ে যেতে নিলে একটি হাত এসে ডান হাতের কব্জি চেপে ধরলো।সুখ চমকে তাকায়। অপরিচিত এক পুরুষ অবয়ব সামনে।যার হাতের মুঠোয় তার হাত আটকে।সুখ নিজেকে সংযত করে হাত ছাড়িয়ে নেয়।

“ স্যরি.. স্যরি.. মিস! অন্যমনস্ক থাকায় দেখতে পায়নি।

সুখ কিছু বললো না।খানিক মাথা ঝাঁকিয়ে ‘কৃতজ্ঞতা’ জানিয়ে মূহুর্ত ব্যয় না করে নূরার হাত পাকড়ে জায়গা প্রস্থান করে। অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলার অভ্যাস তার নেই। পুরুষদের সাথে তো একেবারেই না।

কানে ফোন চেপে রেখেই মেহরাব অদ্ভুত চোখে তাকিয়ে রইলো সুখের গতিপথের দিকে।এতোবার স্যরি বললো অথচ মেয়েটা টু শব্দ করেনি?স্ট্রেইঞ্জ!

বর্ণ আপন দম্ভ নিয়ে হেঁটে মিশ্মির সামনে এসে থামলো। রমণী দাঁতে দাঁত চিপে রাগত চোখে তাকিয়ে নজর সরিয়ে নেয়।দু’হাত মুষ্টিবদ্ধ।পাশে তার মা,বাবাও রয়েছে।বর্ণ কিছুটা ঝুঁকে আসে,

“ এক্সকিউস মি! সেদিন ক্রেডিট কার্ড পেয়ে নির্দয়ভাবে যেই লাখ লাখ টাকা উড়িয়েছিলেন?তা আপনার পিতা শ্রদ্ধেয় মুশফিক হায়দারের একাউন্ট থেকে আমার একাউন্টে সুদে আসলে ট্রান্সফার করে নিয়েছি!”

বাঁকা হেসে কথাগুলো শেষ করতেই মিশ্মি অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায়।বর্ণ বলে উঠলো তৎক্ষণাৎ,

“ ইটস্ ওকে!আমি কিছু মনে করিনি।আমরা আমরাই তো -ভাই বোন!”

নিজ বক্তব্য শেষ করে সামনে এগিয়ে চলে বর্ণ।চোখে গগলস ঠেলে বরের সঙ্গে আসা ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলো।মাহিরকে ইশারা দিলো।বাড়ির সদস্যদের ফিরিয়ে নিয়ে যেতে।বসের আদেশ মাথা পেতে নেয় মাহির।

ঘোড়ার টকটক আওয়াজ তুলে বর্ণ সরু পথে যাওয়া ধরে। দুপাশ হতে ক্যামেরার আলো জ্বলছে মিটমিট। কেউ কেউ ক্যামেরা হাতে ঘোড়ার পাশাপাশি ছুটছে,কেউবা সামনে থেকে ভিডিও করছে।বর্ণ’র অধর বাঁকানো হাসি।ফট করে ঘাড় বাঁকিয়ে দূরে দণ্ডায়মান আইজার উপর নজর ফেললো সে। ভদ্রমহিলার চোখে প্রশ্নাতীত চাহনি। বর্ণ’র পাঠ করা কথাযে তিনি বিন্দু পরিমাণও বিশ্বাস করেনি তা উনার চোখে স্পষ্ট!তার পাশেই ছিল সুখ। চোখাচোখি হতেই মেয়েটা নজর সরিয়ে নিলো দ্রুত। এভাবে তাকানোর কী আছে?

#চলবে🕊️
🙂[এটা কী লো?এমনটা হওয়ার তো কথা ছিল না!!]

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here