#আমার_বোবাফুল(১০)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
📌প্রথমে নিচের নোট টুকু পড়ে আসুন রিডার্স!!
শুনসান নিশুতি রাত।বাইরে ঝি ঝি পোকার ডাক পড়েছে তুমুল হারে।যেনো একেকটা প্রতিযোগিতায় নেমেছে কার ডাক কতোটা ভয়ঙ্কর শুনায়। কোমল মনে কে কতোখানি ভীতি জাগাতে পারে।কানে তুলো গুঁজে মূল ফটকে দারোয়ান কাকা চেয়ারে আসন গেড়ে বসে আছে।চোখ দুটো ঘুমে ঢুলুঢুলু।ঝিমুতে ঝিমুতে ক্ষণে ক্ষণে সম্মুখে থুবড়ে পড়ার জোগার।
ব্যালকনি থেকে এহেন দৃশ্যটা ভীষণ অদ্ভুত লাগে সুখের।রাত বেজে একটা পঁয়তাল্লিশ।বালিশে মাথা পেতে ঘুমের দেশে পাড়ি দেয়ার মূখ্যম সময়। অথচ দারোয়ান কাকা?পেট, সংসার চালানোর দায়ে জীবনের আয়েশ; সকল নিয়ম কানুন ছুটি দিয়ে অন্যের বাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
সুখ রেলিংয়ে হাত রেখে আরেকটু নিচে ঝুঁকলো।সদর দরজার সামনে পিঠে হাত বেঁধে দুজন দেহরক্ষী দণ্ডায়মান। চোখে তাদের ঘুমের লেশ মাত্র নেই।
দীর্ঘ শ্বাস ফেলে সুখ।গলায় ঝুলানো ইয়ার ফোনটা পুণরায় কানে গুঁজে দিয়ে গান চালালো একটা।গানটা তার ফেভারিট নয়। ইতোপূর্বে শুনেওনি।খানিক আগে স্ক্রল করতে করতে সামনে এলো। একটুখানি শুনেই কেনো যেনো খুব মনে ধরলো।
রাতের খাবার পরিবারের সবার সাথে হয়েছে আজ। কেবল একজন বাদে। বর্ণ.. রাত দশটার ঠিক দু মিনিট আগে বেরিয়েছে। সকলে যখন ডাইনিং টেবিলে উপস্থিত, ঠিক সে সময়।আযাদ শিকদার পিছু থেকে নিষেধ করলেও সে শুনার প্রয়োজন বোধ মনে করেনি।তবে এটুকু আস্বস্ত করে গেছে ‘খুব শিঘ্রই ফিরবে’! বর্তমান সময় রাত দুটোর ঘরে। অথচ তার ফেরার নামই নেই।
সুখ ধীর লয়ে ব্যালকনি থেকে রুমে ফিরে এলো। অতঃপর স্টাডি টেবিলে বসে গেলো সন্তর্পণে।কলম হাতে, ডায়রি মেলে সেথায় নজর স্থির করে আনমনা হয় ঈষৎ। কিছু একটা লিখতে মন চাইছে কিন্তু কী লিখবে মস্তিষ্ক বিচরণ করেও খুঁজে পাচ্ছে না।
হঠাৎ চলতে থাকা গানের দিকে মনোযোগ যেতেই ঠোঁটে হাসির রেখা খেলে গেলো। ভ্রু গুটিয়ে খুব মনোযোগে ডায়রির পাতায় কলম কষে গেলো।
“যতোখানি ছিলে তুমি,
তারো বেশি নেই এখন!
অভিমান পেলে-পুষে,
ব্যাথা বুঝে পেলো এ-মন!
কী কারণে –স্মৃতিচারণে,
এতো যে দহন!
দেখো আমার চোখে -তোমায় দেখা যায়,
এই চোখে কী কখনো –এঁকে দেবে কাজল?”
→
“ দোস্ত ছেড়ে দে!এই ভুল আর দ্বিতীয় বার হবে না ”
সিয়ামের আকুতি মিনতিতে বিরক্ত প্রকাশার্থে নাক কুঁচকালো বর্ণ।ডান হাতের দু আঙ্গুলের ফাঁকে থাকা সিগারেটে সুখটান দিয়ে মাহিরকে চোখ রাঙাতেই বসের বাধ্যগত মাহির হাতে রেজার নিয়ে সিয়ামের দিকে এগিয়ে যায়। ঠোঁট জুড়ে দুষ্টু হাসি।দু’জন লোক মাটিতে হাঁটু মুড়ে সিয়ামকে ধরে রেখেছে। তার অবস্থা অনেকটা “ ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে ” কথাটির সাথে মিলে যাচ্ছে।
তাকে বলা হয়েছিল আগামী একমাস মিশ্মির ভিক্ষুক স্বামীর বেশ ধরে তাদের বাড়ি গিয়ে উঠতে। দরকার পড়লে স্বামীর অধিকার কাটিয়ে জোরপূর্বক মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরতে।এই পারমিশন দিয়েছিল বর্ণ আর এই জনদরদী নাকি প্রথম দিনেই নিজের মুখোশ উন্মোচন করে এসেছে।
বর্ণ’র মেজাজ খেই হারিয়েছে সংবাদটা পেতেই। মস্তিষ্ক ঠান্ডা হচ্ছিলো না কিছুতেই।তাই তো রাত বিরেতে বাবার ডাক পেছনে ঠেলে ফরজ কাজ আদায় করতে এসেছে।আর সেটা হলো সিয়ামের সুন্দর কালো সিল্কি চুলগুলো মাথা থেকেই গায়েব করে দেওয়া।যা এখন সম্পাদন করবে মাহির।
“ দোস্ত আমার সাধের চুল।একটু ভেবে দ্যাখলে হয়না?বলছি তো এমন ভুল আর দ্বিতীয় বার হবে না!”
পায়ের উপর পা তুলে নির্লিপ্ত ভঙ্গিতে বর্ণ ইজি চেয়ারে বসে একের পর এক দুল খাচ্ছে।সময় সময় ফুঁ দিয়ে সিগারেটের ধোঁয়া ছুঁড়ছে উর্ধ্ব মূখী হয়ে।চোখ দুটোতে দ্যুতি ছড়াচ্ছে। সামনের দৃশ্যটা বেশ আনন্দ দিচ্ছে তাকে।ঠোঁট বাঁকিয়ে সে জবাব দিলো,
“ ঘটনার যেখানে পুনরাবৃত্তি হবে না সেখানে ভুল করার প্রশ্ন উঠছে কীভাবে!যখনের হিসাব তখনই চুকে দেওয়া ভালো।মাহির স্ট্যার্ট কর কুইক!আমার লেইট হচ্ছে।বাড়িতে অপেক্ষায় আছে অনেকে ”
শেষোক্ত করার সময় তার কন্ঠ অদ্ভুত শোনালো। কুঞ্চিৎ ভ্রু, স্বর কেমন নমনীয় । এসময় তাকে অন্যমনস্ক হতে দেখা যায়।
সন্তর্পণে মাহির রেজার চালায় সিয়ামের চুলে। ছেলেটা অসহায় চোখে নিজের উপর হওয়া নিষ্ঠুর অত্যাচার দেখে যাচ্ছে। বেশি নড়াচড়া করছে না।পাছে মাথা কেটে আবার রক্ত না বেরিয়ে আসে।
বর্ণ’র ঠোঁটে কোণে পুণরায় দুরন্ত হাসি ফুটে।মাত্রই এসেছে সে।এতোক্ষণ কোথায় ছিল কে জানে!তার আসার পূর্বেই সিয়ামকে এভাবে আটকে রেখেছে মাহির এবং বাকি দুজন।
আলো আঁধারি ফ্ল্যাট। দুপাশ হতে মোমদানিতে বড় আকৃতির দুটো মোম জ্বলছে কেবল। ফ্ল্যাটটা বর্ণ’র। ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে চোখের মণিদ্বয় এধার ওধার ঘুরিয়ে সিয়াম অনুনয় করে,
“ আঁধারে কোন কিছুই তো স্পষ্ট না। নিঃসন্দেহে তোর এই পোষা বিলাইটা ভুলে মাথা কেটে দিতে পারে.. অন্তত লাইটটা জ্বালিয়ে দে না বাপ?”
তার কথাটি মঞ্জুর হলো শেষমেশ।আলো জ্বালিয়ে সিয়ামের মাথার চুল গায়েব করার পর চুলে ব্যাক ব্রাশ করতে করতে বেরিয়ে এলো বর্ণ’।
→
কক্ষের জিনিসপত্র সব এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। ফ্লোরে একজায়গায় বেডশিট তো অন্য জায়গায় বালিশ।খানিক আগে ড্রেসিং টেবিলে স্তরে স্তরে সাজানো মুখের প্রসাধনী সামগ্রী গুলোও এখন ছিটকে আছে একই ফ্লোরে। আশেপাশে ফুলদানির ভাঙা টুকরো।বুঝায় যাচ্ছে খনকাল পূর্বে রুমে তাণ্ডব চলেছে।
দুহাতে মাথার চুল খামচে ধরে বেডে বসে আছে মিশ্মি। উত্তপ্ত মস্তিষ্ক কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না তার।যতোবার ফোন হাতে নিচ্ছে নিউজফিডে কেবল তারই তাচ্ছিল্য ভরা গুণগান। সেখানের মন্তব্য গুলোর যা তা অবস্থা।
রমণী হঠাৎ সটান হয়ে উঠে দাঁড়িয়ে আয়নার সামনে চলে এলো। অস্থির চিত্তে গালে, চোখে,সরু নাকে, থুতনিতে হাত বুলিয়ে নিজেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগে।কী কমতি আছে তার মাঝে? সুন্দর ফেস কাটিং, ফর্সা ত্বক, আকর্ষণীয় স্লিম ফিগার। একজন পুরুষের নজর কাড়তে যথেষ্ট।তবে বর্ণ কেনো তার প্রতি আকর্ষিত নয়?কেনো তার মাঝে আটকায়নি? জবাব খুঁজে বেড়াচ্ছে তার নিস্ক্রিয় মস্তিষ্ক।
দরজা খোলা।সামিয়া এবং মুশফিক হায়দার কক্ষে প্রবেশ করলেন। তখন হাতে ফুলদানি নিয়ে আয়নায় ছুঁড়ে মারার প্রস্তুতি নিচ্ছিল মিশ্মি।সামিয়া ছুটে এলো নিকটে।রাগি দৃষ্টি ছুঁড়ে ফুলদানি কেড়ে নিয়ে ড্রেসিং টেবিলের পাশে রেখে দিলেন।
“ কী করেছো তুমি আসফিয়ান বর্ণ’র সাথে?”
চোখের কৌটায় অশ্রু জমে মিশ্মির।মায়ের দিকে আহত চোখে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বললো জোর খাটিয়ে,
“ আমি ওকে ভালোবাসি!”
“ সেতো অনেকেই তাকে বাসে!”
মিশ্মির দৃষ্টি কঠোর হয়ে এলো মূহুর্তেই।বললো সেভাবেই,
“ অনেকের সাথে আমার তুলনা দেবে না মাম্মি!ক্বজ আ’ম স্প্যাশাল!”
“ তাহলে.. বিয়ের আয়োজন করে এতো বড় নাটক কেনো? আমাদের সম্মানের কথা একবারও ভাবলে না তুমি? এরপরো বড় গলায় কথা বলতে লজ্জা করছে না!”
“ আমি কী জানতাম বর্ণ এমন একটা খেলা খেলবে? ট্রাস্ট মি আমি কিছু করিনি!”
“ সাপের লেজে পাড়া না দিলে নিজ থেকে সাপ কখনোই আক্রমণ করে না !”
মুশফিকের শীতল কন্ঠে মিশ্মি জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে নেয়।কী করে বর্ণকে বিয়েতে ‘হ্যাঁ’ বলতে বাধ্য করেছে সেটায় কাউকে জানায়নি সে। এতো বড় জঘন্য বিষয় ‘বাবা-মাকে’ বলা যায়?
কেবল জানিয়েছে বর্ণ’ এবং সে পরষ্পরকে ভালোবাসে। মেয়েকে ছোট থেকেই নিজের জীবনে স্বাধীন ভাবে চলার সুযোগ দিয়েছেন মুশফিক হায়দার।তাই তার সিদ্ধান্তে দ্বী-মত পোষণ করেনি। কিন্তু আজকের ঘটনায় তিনি সন্দেহে আছেন।মেয়ে তার পছন্দের জিনিস নিজের করে নিতে যা খুশি করতে পারে।তবে কী বর্ণ’কে পেতে কোন ভুল পথে হেঁটেছে মিশ্মি?
→
সময়টা ভোর বেলা।ঘড়ির কাঁটা আটটা কী সাড়ে আটটার ঘরে টিকটিক করছে আপন নিয়মে। ড্রয়িং রুমের খালি সোফায় তখন অভ্রর অবস্থান। সোফার আশেপাশে কাউকে নজরে পড়ছে না তবে খানিক দূরে সিঁড়ি পরিষ্কার করছে একজন মেইড। রান্নাঘর হতে রুবাইয়্যাত, আইজার মৃদু কন্ঠ ভেসে আসছে। হয়তো ব্রেকফাস্ট তৈরিতে দু কর্ত্রী ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
অল্পক্ষণ পর চোখ ডলতে ডলতে ড্রয়িং রুমে উপস্থিত ঘটে নূরার। পেছন হতে অভ্রকে দেখে উঁকি দেয় চোখ পাকিয়ে।ফোনে দুহাতের আঙ্গুলের বিচরণ ঘটিয়ে ছেলেটা মিটিমিটি হাসছে ঠোঁট টিপে। ছোট্ট নূরার কপালে সন্দেহের ভাঁজ পড়ে। বাচ্চা ছেলেটা আবার প্রেম টেম করছে নাতো?
সে পেছন থেকে ঘুরে হেঁটে এসে অভ্রর পাশাপাশি এসে থামলো কোমরে হাত চেপে। আড়চোখে ফোনের স্ক্রিন দেখার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে বললো কড়া গলায়,
“ অভ্র! একটু সরে যাও.. আমি বসবো!”
তড়াক করে অভ্র চোখ তুললো কালবিলম্ব না করে। দাঁতে নিম্নাষ্ঠ পিষে সরু নেত্রে নূরাকে উপর নিচ পর্যবেক্ষণ করে।কতো হবে সাইজ?পায়ের পাতা উঁচু করলেও অভ্র’র কোমর অবধি-ই হবে কী না সন্দেহ! অথচ তার কথা বার্তা..
অভ্র উঠে দাঁড়িয়ে আচমকা নূরাকে সোফায় ঠেলে কান মুচড়ে ধরলো।শাষানোর স্বরে বললো ঝটপট,
“ ভাইয়া ডাক এখনি!”
নূরা আতকে উঠে মৃদু স্বরে চেঁচিয়ে উঠে পরপরই জেদ ধরে বললো,
“ অভ্র!”
অভ্র দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে।পণ করে আজ ভাইয়া ডাকিয়েই ছাড়বে এই ইঁচড়ে পাকা’কে।
“ দেড় আঙ্গুলে বাচ্চা.. অথচ সবাইকে এমন ভাবে ডাকিস –শুনে মনে হয় স্বয়ং মহারানী ভিক্টোরিয়া। সামনে উপস্থিত সবাই তোর জনম জনমের ছোট।ভাইয়া ডাক বলছি!”
অল্প ব্যথায় মুখাবয়ব বিকৃত করে নেয় নূরা।সেই অবস্থাতেই বলে উঠলো,
“ অভ্র ডাক শুনতে ভালো লাগে না, না?আজ থেকে তাহলে অসভ্য বলবো।ঠিক আছে?”
“ কতো বড় আদব হীন তৈরি হয়েছিস রে আমার বোনটি!”
“ তুমি ভুল করছো বাচ্চা!বড় বোনের গায়ে হাত দিলে আল্লাহ পাপ দেবে।কান ছাড়ো বলছি.. লাগছে আমার।”
অভ্রর চোখ কপালে উঠে যাওয়ার যো।বলে কী -এই দেড় আঙ্গুলে? এদিক ওদিক তাকিয়ে কিছু একটা খুঁজার মতো করলো অভ্র।সাথে সংযোগ করে,
“ দাঁড়া!আজ তোর খবর আছে!”
“ বর্ণ.. বর্ণ.. বাঁচাও আমায়! দেখো সেদিনের এই পিচ্চি আমাকে কীভাবে জুলুম করছে!”
ডাইনিং স্প্যাস থেকে সাইমা বুয়া মুখে হাত চেপে ফিক করে হেসে ফেললো।হতবাক চোখে অভ্র থ মেরে চেয়ে রয় । অতঃপর ধীর লয়ে ফিরলো পিছু।সদর দরজা বেয়ে ক্লান্ত মুখে হেঁটে আসছে বর্ণ। ঘর্মাক্ত কপাল বিন্দু বিন্দু তরলে চিকচিক করছে।কানের পাশ ঘেঁষে ছুঁইয়ে ছুঁইয়ে গড়িয়ে পড়ছে ঘাম।পড়নের সাদা টি-শার্ট ঘামে ভিজে জবজবে।’জিম হাউজ’ থেকে ফিরছে সে।গলায় ঝুলানো হালকা নীল রঙা তাওয়াল’টায় মুখ মুছে সোফায় এসে বসলো আলগোছে। এরপর ফোঁস করে শ্বাস ছেড়ে সূচালো নেত্রে চাইলো পাশের সোফায়।অভ্র দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে নূরার মাথায় চাটি মেরে পাশে বসে পড়লো তড়িৎ।গুনে গুনে বারো বছরের বড় ভাইকে বলে কী না সেদিনের পিচ্চি?এই দিন দেখার জন্যই বুঝি তার জন্ম হয়েছিল!
জিম করে ফিরে বর্ণ রোজ খেজুর, কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, কিশমিশ এবং জাল করা তরল দুধের সংমিশ্রণে তৈরি করা জুস পান করে।আজো তার ব্যতিক্রম হয়নি।
কপালে হাত রেখে চোখ বুজে ছিল ক্লান্ত,শ্রান্ত, ঘর্মাক্ত পুরুষটি। সামনে কারো উপস্থিতি পেয়ে হুট করে চোখ খুললো।কেউ একজন ট্রেতে জুস ধরে আছে।বর্ণ এদিক ওদিক না চেয়ে প্রথমে গ্লাস তুলে নিলো।পরপর আম্লেশে চুমুক বসালো সেথায়। মূহুর্তেই সুশ্রী মুখখানা ইচ্ছাকৃত ভাবে কুঁচকে ফেললো সে।বলে উঠলো তখনই,
“ কী এটা ব্…
সম্মুখে দৃষ্টি পড়তেই সে থেমে গিয়েছিল পরপর। অবচেতন মনেই আড়চোখে এদিক ওদিক কাউকে যেনো খুঁজে ফিরলো।
“ স্যরি স্যার!”
চোখ তুলে তাকাল বর্ণ।ট্রে হাতে মেইড রামসা অপরাধী মুখে দাঁড়িয়ে আছে তখনো। বর্ণ’র প্রতিক্রিয়া দেখে হয়তো ভেবেছে সে কোথাও ভুল করে ফেলেছে অজান্তেই। থমথমে মুখে গলা খাঁকারি দিয়ে বর্ণ ঘাড়ে হাত ঘঁষে।সে কী এই মূহুর্তে বোবা ফুলকে আশা করেছিল? কিন্তু কেনো? মনে উদয় হওয়া প্রশ্নটির তৎক্ষণাৎ জবাব খুঁজে পেলো না বর্ণ।
“ এ্যাঁই সুখ”
আনমনেই হাতে ছুরি নিয়ে আপেলে আঁকিবুঁকি করছিল সুখ।আইজার ফিসফিস ডাকে হকচকিয়ে তাকায়। ভদ্রমহিলা ভ্রু বাঁকিয়ে কেমন করে চেয়ে আছে তার দিকে।সুখের মনোযোগ পেয়ে আরেকটু নিকটে চেপে এলেন তিনি। সন্দিহান গলায় কঠিন এক প্রশ্ন করে বসলেন,
“ আমি খুব করে লক্ষ্য করেছি গত কয়েকদিন যাবৎ তুই বর্ণ’র সামনে যেতে চাইছিস না। এমনকি আমি এটা ওটা দিয়ে পাঠাতে চাইলেও বাহানা দেখিয়ে এড়িয়ে যাচ্ছিস।কী হয়েছে বলতো? আমার ছেলেটা কী এবারে খুব বেশিই রুড বিহেভ করে ফেলেছে?”…..
#চলবে🍂
[#নোট: আপনাদের অনেকের প্রশ্ন সুখ বোবা হলে কানে শুনে কীভাবে? উত্তর:-
“বোবা” সাধারণত এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যে কথা বলতে পারে না বা বাক্শক্তিহীন। এটি একটি বিশেষ্য পদ, যার দ্বারা এমন একজন ব্যক্তিকে বোঝানো হয় যিনি কথা বলার অক্ষমতা অনুভব করেন।
আর, “বধির” একটি বাংলা শব্দ যা এমন ব্যক্তিকে বোঝায় যার শ্রবণশক্তি নেই বা খুবই দুর্বল।যেখানে উক্ত ব্যক্তি কথা শুনতে পারে না।আর শুনতে পারেনা বিধায় বলতেও পারে না!
সুতরাং,সুখ বোবা কিন্তু বধির নয়!আর কোন প্রশ্ন?]

