#আমার_বোবাফুল(১১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
কিচেন রুম।ব্ল্যান্ডার জারে কী যেনো দিয়েছে রুবাইয়্যাত।গ্রিং.. গ্রিং.. শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে চারপাশ।তার সম্পূর্ণ মনোযোগ সেদিকেই।সুখ একঝলক তাকে পরখ করে আইজার প্রশ্নের পরিবর্তে অপ্রস্তুত হাসলো ঠোঁট এলিয়ে। অতঃপর ঘাড় বাঁকিয়ে চাইলো খানিক দূরে স্থাপিত ড্রয়িং রুমে অবস্থানরত বর্ণ’কে।সুদেহী ক্লান্ত মানুষটি গ্লাসে চুমুক বসিয়ে স্থির নেত্রে অদৃশ্যে তাকিয়ে কী যেনো ভাবছে।সুখ পুণরায় আইজার দিকে ফিরলো। মৃদু অবজ্ঞা পূর্ণ হেসে হাতের ইশারায় স্বাভাবিক ভাবেই বুঝিয়ে দিলো,
“ তেমন কিছু না। তোমার ছেলে যেমন প্রাপ্ত বয়স্ক তেমনি আমিও।কাল বিয়ে হয়নি তো কী হয়েছে একদিন না একদিন হবেই।খুব সুন্দর একটা বৌ আসবে। এরপর থেকে সেই বৌ-ই তোমার ছেলের সবকিছু দেখে রাখবে।রাখবে না বলো?
সুখের প্রশ্ন বুঝে আইজা সরু চোখে ঠোঁট বাঁকিয়ে উপর নিচ মাথা দুলিয়ে সায় দিতেই সে ফের বুঝালো,
“মাঝখানে আমি কেনো শুধু শুধু অন্যের স্বামীর সেবা করে করে মরবো?”
আইজা ভ্রু কুটি করে হতবিহম্বল চেয়ে রইলেন। সন্দেহী চাহনি। যেই মেয়ে অন্যদিন বর্ণ’ ফেরার আগ মুহূর্তেই তার প্রয়োজনীয় জিনিস রেডি করে সাজিয়ে রাখে। তিনি কিংবা অন্যকেউ সেসব নিয়ে যেতে চাইলে উড়ে এসে বাঁধ সেধে নিজেই বর্ণ’র কাছে যায়।আজ সেই মেয়েটিই বলছে –“অন্যের স্বামীর সেবা করে করে কেনো মরবো?” কন্ঠে অবাকতা ঢেলে ভদ্রমহিলা নজর স্থির রেখেই প্রশ্ন করলো দ্বিতীয় দফায়,
“ তাহলে এতো দিন কেনো করেছিস?”
“ এতো দিন বুদ্ধু ছিলাম।এখন জ্ঞান হয়েছে!”
ইশারায় কথাটি সুনিপুণ ভাবে বুঝিয়ে দিলো সুখ। এরপর দীর্ঘ শ্বাস ছেড়ে ঝুড়িতে হাতের আপেলটা রেখে দিয়ে ছুড়িও যথাস্থানে বসিয়ে দেয়।
আইজা কথা বাড়ালেন না আর।পাশে দেখিয়ে বললেন,
“ এগুলো গার্ডেনে দিয়ে আয় তো! ওখানে তোর বড় আব্বু আর তামিজ আছে”
সুখ মাথা ঝাঁকিয়ে ট্রে হাতে নেয়। উল্টো ঘুরে দোর অব্দি আসতেই মুখোমুখি হয় সাইমা বুয়ার। তাকে দেখেই হাসি ফুটে বুয়ার ঠোঁটে।পড়নের মলিন আঁচলে হাত মুছে সহাস্যে বললো,
“ সুখ আম্মা এগুলা কই নিয়া যাইতাছেন?দেন আমি দিয়া আহি?”
রুবাইয়্যাত তৎক্ষণাৎ পেছনে ফিরে তাকায় ক্ষুরধার দৃষ্টিতে।এতে চোখাচোখি হয় দু’জনের। পঁয়ত্রিশোর্ধ সাইমা বোকা হাসে। অতিষ্ঠে কিংবা বিরক্তি প্রকাশার্থে দুদিক মাথা ঝাঁকিয়ে রুবাইয়্যাত দৃষ্টি সরিয়ে নেয়।
“ না নাহ!আমি পারবো ”
সুখের ইঙ্গিতের ভাবার্থ বুঝতে পেরে বুয়া ঘাড় কাত করে,
“ আইচ্ছা!”
কিচেন হতে বেরিয়ে ডাইনিং স্প্যেস।তার পূর্ব পাশেই আবার ড্রয়িং রুম।সুখ ট্রে হাতে ডাইনিং টেবিলের পাশ ঘেঁষে দাঁড়িয়ে রয়।বর্ণ এখনো সরেনি ড্রয়িং রুম ছেড়ে।আর গার্ডেনে যেতে হলে ড্রয়িং রুম ভিড়িয়ে যেতে হয়।এই মুহূর্তে সুখ বর্ণ’র আশেপাশে তো দূর নজরেও ধরা দিতে চায় না।আলতো উঁকি দিয়ে কিচেনে তাকাতেই আইজা সালার্ট কাটতে কাটতে শুধালেন,
“ দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?না পারলে রামসা’কে দিয়ে পাঠিয়ে দে!”
অগত্যা সুখ নিজেই হাঁটা ধরলো।হানিফা বেগম এসে যোগ দিয়েছেন ড্রয়িং রুমে। বর্ণ তখন চোখ বুজে আছে কপালে হাত ঠেকিয়ে।সুখ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে সদর দরজা পার হয়ে এলো।
কিছুটা আশ্চর্য হলো বটে।আজ দাদু কিছু বললো না কেনো? নিশ্চয়ই তাকে খেয়ালই করেনি। কিরণমালা সিরিয়াল নিয়ে অভ্র’র সাথে কথা কাটাকাটি করছিল তো।
“ এ্যাই বোবাফুল ”
শব্দদুটো কর্ণকৌঠরে পৌঁছাতেই সুখের শিরদাঁড়া শিরশির করে উঠলো যেনো।চলকে উঠে হৃদযন্ত্র।মনে হলো শব্দটি যুগ যুগ শুনা হয়নি।সাহসা পা থমকে গেলো সুখের।
সুইমিং পুলে তার প্রতিবিম্ব ভাসমান।সুখ আড়চোখে সেদিকে তাকায়। বর্ণ’র হালকা অবয়ব ধীরে ধীরে গাঢ় হচ্ছে। অর্থাৎ পুরুষটি এক পা দু’পা ফেলে তার নিকটবর্তী হচ্ছে। কিন্তু উনার সাথে তো সুখের কোন কথা নেই!সে কেনো দাঁড়িয়েছে তবে?
সুখ লম্বা দম ছেড়ে একপা বাড়াতেই পেছন থেকে বর্ণ’র রাশভারী গলায় শীতল হুমকি স্বরূপ বাণী ছুঁড়ে এলো,
“ আর এক কদম আগে বাড়ালে তোর পা দুটো কেটে কাঁধে ঝুলিয়ে দেবো বলে দিলাম”
না চাইতেও তাকে থামতে হলো।জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে সে তড়িৎ ঘুরে গেলো পিছু। বর্ণ সামনে এসে দাঁড়ায় সুখের। মসৃন কপালে সু-গভীর ভাঁজ।মাথার ঝাঁকড়া চুল গুলো নেমে এসেছে ভ্রু রেখার উপরিভাগে।ব্যাস,আরেকটু হলেই চোখ ঢেকে যাবে।
ঠোঁটে ঠোঁট চেপে ছোট ছোট চোখে বীনা শব্দে সুখকে উপর নিচ পর্যবেক্ষণ করে হাতের উপর নজর স্থির করলো বর্ণ।ডান হাতের তর্জনীতে নিম্ন আধর স্লাইড করতে করতে প্রশ্ন করলো,
“ চোরের মতো যাচ্ছিলিস কোথায়?”
সুখ জবাব দিলো না।অথবা দেওয়ার প্রয়োজন বোধই মনে করলো না। কেবল একদৃষ্টে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল। দিন দিন আশ্চর্যের শীর্ষে পৌঁছে যাচ্ছে সুখ।সে বুঝতে পারছে না মানুষটা সেদিন তাকে আশ্রীতা, জন্ম পরিচয় হীন, কন্ঠস্বর হীন বলে কতো অপমান করলো।যেনো ঘৃ!ণাতেও তার দিকে ফিরে চাইবে না দ্বিতীয় বার। অথচ পুরুষটি দ্যাখো ?কতোটা স্বাভাবিক। চোখের নির্লিপ্ত ভাব দাবি করছে কিছুই হয়নি যেমন।সেদিনের মূহুর্তটা ভুলে গেলো নাকি?ব্রেইন মেমোরি লুজ! ভুলোমনা রোগটাতো উনার ছিল না।তবে?
বর্ণ’র দৃষ্টি তীর্যক হয়। দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে হিসহিসিয়ে বললো তৎক্ষণাৎ,
“ বলতে পারিস না! কিন্তু শুনতে পাস নিশ্চয়ই? কথার জবাব দিচ্ছিস না কেনো?”
মুখ কুঁচকে আসে সুখের। অদৃশ্য রাগ মাথাচাড়া দিয়ে উঠে মস্তিষ্কে।একবার হাতের দিকে চেয়ে পরপর তাকালো বর্ণ’র দিকে। চোখের কঠিন ইশারায় হাত পাততে বললো। বর্ণ’র কী হলো কে জানে।সে প্রশ্নাতীত চোখে আনমনে হাত পেতে দিতেই সুখ ট্রে-টা তার হাতে ধরিয়ে দিলো।পরপর শক্ত চোয়ালে হাত নেড়েচেড়ে ইশারায় বলতে লাগে ,
“ বলতে পারি না সেটা খুব ভালো করেই জানি।তার পরেও মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য, থ্যাঙ্কিউ। কিন্তু যা শুনেছি তার জবাব দিতে হাত খালি থাকাটা পূর্বশর্ত!হাতে ট্রে নিয়ে জবাব কীভাবে দেবো? চোখে?সেই ভাষা পড়ার ক্ষমতা তো আপনার নেই!”
সুখ দ্রুত লয়ে বর্ণ’র কাছ থেকে ট্রে পুণরায় হাতিয়ে নিলো একপ্রকার। ঘনঘন পল্লব ঝাপ্টে নজর সরিয়ে নেয় অন্যত্র। স্তব্ধ হয়ে বর্ণ অল্পক্ষণ তাকিয়ে রইলো।
ঘাড়ে হাত বুলিয়ে সুখের চোখে চোখ রাখলো হঠাৎ করেই। কিন্তু সেতো সত্যিই চোখের ভাষা পড়তে যানে না। বর্ণ মুখ বাঁকিয়ে ট্রে তে দৃষ্টি নিক্ষেপ করে।
“ আজকের জুস তুই বানিয়েছিলি?”
সুখ দুদিকে মাথা ঝাঁকিয়ে ‘না’ বোঝায়।অথচ সে-ই বানিয়েছিল। বর্ণ সুখের উত্তর পেয়ে ঠোঁট বাঁকিয়ে হাসলো যেনো।হাত বাড়িয়ে চায়ের জারে হাত দিতে নিলেই সুখ তড়িৎ ট্রে সরিয়ে নেয়।এগুলো বর্ণ’র জন্য নয়!তাই তার ছোঁয়ার অধিকারও নেই।
অপমানে মুখ থমথমে হয়ে এলো পুরুষটির।মাথায় জেদ চাপলো -আজ এই পাত্র থেকেই চা পান করবে।যদিও সে চা খায়না।বোবাফুলের এমন প্রতিক্রিয়া তাকে বাধ্য করছে আজ।
“ ট্রে কাছে আন, চা খাবো!”
বর্ণ আবারো হাত বাড়াতে নিলেই সুখ ট্রে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলো দুদিক মাথা দুলিয়ে ‘না’ করে। কিছুতেই ছুঁতে দেবে না লোকটাকে।
মাথায় খু!ন চাপলো বর্ণ’র। রাগে,জেদের তোড়ে শিরা উপশিরা ধপধপ করে উঠলো যেমন।
সুখ পুলের কিনারায় দাড়িয়ে।আর দু’পা পিছিয়ে গেলে পানিতে খুদে যাবে নিঃসন্দেহে।বর্ণ চোয়াল শক্ত করে সুখের হাতের উপর থাবা বসাতে গেলেই রমণী দ্রুত সরে এলো জায়গা থেকে। মূহুর্তেই ঝাঁপ… শব্দে গর্জে উঠলো চতুর্দিক।সুইমিং পুলের কালচে সবুজ পানি দুভাগ হয়ে পুণরায় মিলিয়ে গেলো ঢেউ খেলে।
গার্ডেন হতে তামিজ এবং আযাদ শিকদার ছুটে এলেন অবিলম্বে।বাড়ির ভেতর থেকে অভ্র,তুহফা এমনকি রুবাইয়্যাতও বেরিয়ে আসে দ্রুত পদে। সকলের চোখে প্রশ্নের ভাঁড়। সুখকে স্বয়ং সম্পূর্ণ দেখে রুবাইয়্যাত স্বস্তির নিঃশ্বাস ছাড়ে।ভেবেছিলেন হয়তো সুখের কিছু হয়েছে। কোন বিপদ এলে মেয়েটা সাহায্য চেয়ে মুখ ফুটে বলতেও পারবে না।তাই তো জান হাতে নিয়ে ছুটে বেরিয়ে এলেন।
“ কী হয়েছে?”
“ কে পড়েছে?”
“ কিসের আওয়াজ শুনলাম?”
প্রশ্নগুলো একে একে সুখের কানে এসে ঠেকছে। অথচ সে হতভম্ব চোখে পুলের পানিতে নজর স্থির করে আছে।হিম ধরে আসা হাতের ট্রে পড়ে যেতে চাইছে, কিন্তু ধরে রেখেছে বহু প্রচেষ্টায়।
পিটপিট চোখে সুখ উপস্থিত সবার দিকে নজর বুলিয়ে নিলো দুবার।হানিফা বেগমকে রামসা নিয়ে আসছে ধরে ধরে। বৃদ্ধা ভালো মতো হাঁটতেও পারেন না।
“ ওই মাইয়া কথা কওনা ক্যা?কীসের আওয়াজ শুনলাম ওইটা?”
দাদুর কথা শেষ হওয়ার পরপরই অভ্র আশেপাশে নজর ছিটাতে ছিটাতে বললো হঠাৎ,
“ ভাইয়া কোথায় সুখ আপি?ও-তো তোমার পরেই বেরিয়ে এসেছিল আবার! কোথাও দেখছি না যে?”
সুখ একহাতে ট্রে ধরে অন্যহাতে পুলে ইশারা করে।সকলের নজর গিয়ে ভিড় করে সেথায়। তখনই মাথা উঁচিয়ে পানি থেকে বেরিয়ে এলো বর্ণ’।
দু’হাতে মুখ মুছে মাথার চুল পেছনে ঠেলে সাম্মুখে পরিবারের সদস্যদের আশ্চর্য মণ্ডিত দৃষ্টি অবলোকন করে প্রশ্নাতীত নজর নিক্ষেপ করে ভ্রু-ট্রু বাঁকিয়ে।সুখ মুখের ভেতর জিভ কাটে। ভাবতেই পারেনি লোকটা এভাবে পড়ে যাবে।
→
সুখ পুণরায় মুখোমুখি হয়নি বর্ণর।কোথায় আছে কে জানে।হয়তো প্রাকটিসের জন্য বেরিয়ে গেছে এতোক্ষণে।
ব্রেকফাস্ট করা হয়নি সুখের।খেতে ইচ্ছে করছে না কিছুই।কলেজ ইউনিফর্ম পড়ে অস্থির পদোচ্ছাপে এদিক ওদিক পায়চারি শুরু করে ।
এই কন্ঠ,কথা না বলতে পারার অপরাধে পড়ালেখায় সিরাত থেকে দুটো বছর পিছিয়ে গেছে সুখ।সিরাত তার সমবয়সী এবং সহপাঠী ও বটে।থ্রি পর্যন্ত সাথ-সাথ পড়তে পারলেও ফোর পড়া হয়নি।জন্ম থেকেই সুখ বাকশক্তিহীন।সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ আয়ত্ত করতে সময় লেগেছে।নয়তো মনের ভাব সামনের মানুষের সামনে তুলে ধরতো কীভাবে?
থ্রি এবং ফোর-এ দু’দু করে চার বছর কেটে গেলো। বর্তমানে সিরাত তার দু বছর সিনিয়র।তুহফার ব্যাচমেট।
→
রুবাইয়্যাত ব্রেকফাস্ট নিয়ে মেয়ের রুমে চলে এলেন।সুখ নাক কুঁচকায়। আহ্লাদী ভঙিমায় ইশারায় বলতে চায়,
“ আজ না খেয়ে যাই?”
তবে তার কথা সম্পূর্ণ অগ্রাহ্য করে বিছানায় টেনে বসিয়ে দিলেন রুবাইয়্যাত।বললেন গম্ভীর গলায়,
“ খাবো না.. খেতে ইচ্ছে করছে না.. বলে বলে শরীরের এই দশা করেছো। খাবার নিয়ে আমি আর কোন অযুহাত বরদাস্ত করবো না।”
সুখ এবং তুহফাকে নিয়ে তামিজ শিকদার বেরিয়ে পড়লেন কিছুক্ষণের মধ্যেই।তাদের কলেজ ছেড়ে দিয়ে তিনি সেই পথ ধরেই নিজের অফিস যাবেন।
→
তুহফার ভার্সিটি এবং সুখের কলেজ পাশাপাশিই।মিনিট দুয়েকের পথ।সুখের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে তামিজ শিকদার নিজ গন্তব্যে ছুটে গেলেন গাড়িতে ভর করে।কাঁধে ব্যাগ চেপে আশেপাশে নজর ছিটিয়ে ধীর পায়ে বরাদ্দকৃত ক্লাস কক্ষের অভিমুখে এগিয়ে গেলো সুখ।ইয়া বড় বড় দুটো ভবন মুখোমুখি। মধ্যস্থে বিশালাকার মাঠ। চতুর্দিকে ধবধবে সাদা ইউনিফর্ম পরিহিত সারি সারি শিক্ষার্থীর ঢল।
প্রিয়া।রুল নম্বর দুই। বাকশক্তিহীন হওয়ার পরেও সুখ তার উপর লেভেলে থাকে সব সময়।যা সে কিছুতেই মানতে পারে না।রোজ কিছু না কিছু ছুঁতো ধরে খুচাতে চলে আসে। অথবা জন সম্মুখে অপমান করার সুযোগ খুঁজে।এই যেমন আজ নিঃশব্দে ক্লাসে যাওয়ার ফাঁকে প্রিয়া দলবল নিয়ে সুখের কাঁধে ধাক্কা দিলো।পরপর মুখ ভেঙে মিছেমিছি মুখে অপরাধী ভাব ফুটিয়ে স্যরিও বললো। ভাগ্যিস খোলা মাঠে মুখ থুবড়ে পড়েনি সুখ।সে বুঝে নিলো কাজটি প্রিয়া রাণীর ইচ্ছাকৃত।টু শব্দটি করলো না। মৃদু মলিন হেসে ক্লাসে চলে এলো।
প্রথম সারিতে কখনো বসেনি সুখ।তার ইচ্ছেও জাগেনি কবু।সে ধীর লয়ে মধ্যভাগের একটা বেঞ্চে গিয়ে আসন পেতে নিলো নিজ দায়িত্বে। সেখানেই চুপটি করে বসে ক্লাস শেষ করে। বন্ধু বলতে তার একজনই আছে।ফাহা নাম তার। মেয়েটা আসেনি আজ।
→
দিনটি বৃহস্পতিবার।প্রতিদিন ক্লাস শেষে তুহফা চলে আসে সুখের কাছে।আজো এসেছে। আশেপাশেই থাকবে অথবা ক্যান্টিনে।সুখ ক্লাস থেকে বেরিয়ে রূপম স্যারের ক্যাবিনের সামনে গিয়ে দাঁড়ালো।স্যার দেখা করতে বলেছে।কারণটা অবশ্য এখনো জানা যায়নি।
“ আমার সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যাবে সুখ?”
সুখের চোয়াল শক্ত হয়ে আসে অবিলম্বে।হাত মুঠুবদ্ধ করে মেঝেতে দৃষ্টি নিবদ্ধ করে রাখে। অনুমতি নিয়ে খানিক আগেই প্রবেশ করেছে সুখ।আর এসেই স্যারের এমন প্রস্তাব! সুখ মুখ তুলে চাইলো খানিক পর। ঘৃ!ণায় রক্ত টগবগিয়ে উঠে গা গুলিয়ে এলেও মুখের ভাব এমন দেখালো যেনো সে স্যারের ইঙ্গিত সম্পর্কে অজ্ঞাত।
সুখের ইশারা কলেজের তেমন কেউ বুঝেনা।সে শূন্যে হাত চালিয়ে প্রথমে লিখলো কক্সবাজার।পরপর প্রশ্ন করলো,
“ সেখানে গিয়ে কী করবো স্যার?”
“ বিচে যাবো, দুজন একসাথে ঘুরবো, ফিরবো!আর হ্যাঁ,তুমি কিন্তু বাড়ির কাউকে বলবে না যে রূপম স্যারের সাথে গিয়েছো!”
রূপম স্যার নামের মানুষ রূপি জা/নোয়ারের লুলুপ দৃষ্টি তখন বিচরণ করছে সুখের দেহের ভাঁজে ভাঁজে।যদিও জামা ঢিলেঢালা হওয়ায় তেমন সন্তোষ্ট হতে পারছেন না।সুখ প্রায়শই এই দৃষ্টির সম্মুখীন হয়েছে।তখন দৃষ্টির সম্পূর্ণ মানে না বুঝলেও আজ ঠিকই ধরতে পেরেছে।প্রশ্ন করলো অবোধ শিশুর মতো তাচ্ছিল্য ভরা ঠোঁট উল্টে,
“ তাহলে কী বলবো?”
“ বলবে যে -কোন ফ্রেন্ডের বাসায় যাচ্ছো!”
সুখের পরবর্তী ইঙ্গিত বুঝতে স্যারের কষ্ট হবে দেখে সে খাতা বের করে লিখলো,
“ আমি আপনার সাথে ঘুরতে গেলে আপনার ওয়াইফ কিছু মনে করবে না?”
লেখাটা দেখে থমথমে হয়ে এলো স্যারের মুখটা। ডেস্কের উপর বসেছিলেন তিনি। সেখান থেকে নেমে এলেন হঠাৎ।সুখ মৃদু হেসে আরো দুটো বাক্য লিখলো,
“ আপনার সাথে ঘুরতে গিয়ে আমার কী লাভ হবে স্যার? তাছাড়া,কলেজে এতো স্টুডেন্ট থাকতে আমিই কেনো?”
#চলবে🕊️
[প্রশ্ন করতে পারেন – পিতা সমতুল্য স্যার নিয়ে এমন বাজে দৃশ্য কেনো উপস্থাপন করেছেন?
বাস্তবে এমন ঘটনা কিন্তু ঘটেছে বহুবার।চোখের সামনে দেখেওছি।]

