#আমার_বোবাফুল(১২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা
“ Hit this bas*tard!..আঘাত কর ফুল!”
সুখ চকিতে দরজার দিকে চাইলো।বুট জুতার টক টক আওয়াজ তুলে ভেতরে প্রবেশ করছে পুরুষালী অবয়ব। রুমালে আবৃত মুখশ্রীতে দৃশ্যমান ধূসর কালো মণি চোখগুলো দেখতেই সে থমকে গেলো কিছুপলের জন্য।এই চোখ দুটো তার ভীষণ চেনা।বর্ণ ভাই.. এখানে?তার পাশেই ভীত সন্ত্রস্ত তুহফা এবং কলেজের প্রিন্সিপাল জনাব মহিউদ্দিন স্যার।
বর্ণ’র দৃষ্টি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ ঠিকরে বেরুচ্ছে যেমন।ওই ক্ষুরধার, রক্তচক্ষু রূপম স্যারের দিকেই স্থির।লোকটার গলা শুকিয়ে এলো মূহুর্তেই।হাসার চেষ্টা করলো অল্পস্বল্প।
সুখ স্তম্ভিতের ন্যায় চেয়ে থাকার মাঝে পুণরায় গম্ভীর অথচ ক্ষিপ্র গলায় বলে উঠলো বর্ণ,
“ ফুল একে আঘাত কর বলছি!”
সুখ এবার রূপম স্যারের দিকে চায়। চোয়াল শক্ত,হাত দুটো মুঠো বদ্ধ।
“ আমি তোমার স্যার হই সুখ!রেসপ্…
সেকেন্ডের ব্যবধানে আঁতকে উঠে তুহফা’র দুহাত বিষ্ময়ে ঠোঁট ছুঁয়ে গেলো আপনাআপনি। চূড়ান্ত আশ্চর্যে চোখ পাকিয়ে আসে।
সুখ মুঠো বদ্ধ ডান হাত স্বজোরে বসিয়ে দিয়েছে রূপম স্যারের নাক বরাবর। অনাকাঙ্ক্ষিত আক্রমণে তাল সামলাতে না পেরে ডেস্কের উপর ছিটকে পড়েন তিনি।সুখ থেমে রইলো না।এতোক্ষণের পুষে রাখা ক্ষোভ, ঘৃ!ণা উগলে দিলো পরপর।রূপম নামের নিকৃষ্ট লোকটার কলার ধরে থাপ্পড় বসালো গালে।
“ এটা কী ধরনের ব্যবহার? একজন সম্মানিত শিক্ষকের গায়ে হাত তোলার শাস্তি কী হতে পারে আন্দাজ আছে তোমার? প্রিন্সিপাল স্যার আপনার সামনে…
তার কথা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই সুখ ক্ষিপ্র বাঘিনীর মতো ইশারায় -“কন্ঠস্বর নেই বলে দূর্বল ভেবেছিলি আমায়?” কথাটি বুঝিয়ে এলোপাথাড়ি চড় বসাতে লাগলো দুহাতে। মেজাজ শান্ত হচ্ছে না কিছুতেই। ইচ্ছে করছে শ্বাসরোধ করে পৃথিবী থেকে এমন নিকৃষ্ট মানুষের অস্তিত্বই নিশ্চিহ্ন করে দিতে।
অপমানে মুখের রং পাল্টে এলেও রূপম স্যার গালে হাত রেখে চুপ রইলেন।সামনে প্রিন্সিপাল স্যার দাঁড়িয়ে আছেন।উনার সামনে কিছু করা যাবে না।নিজের দোষ তো ঢাকতে হবে?
বুকে হাত বেঁধে বর্ণ ঠোঁটে ঠোঁট চেপে স্থির চেয়ে । তুহফা এগিয়ে গিয়ে সুখকে টেনে নিয়ে এলো।রাগে, প্রচন্ড ঘৃ!ণায় চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে সুখের। একজন শিক্ষক পিতা সমতুল্য।যিনি সুন্দর জীবন গঠনের সুশিক্ষা দেন।পিতা সম সেই শিক্ষকের কাছে এমন জঘন্য প্রস্তাব.. ছিঃ।
“ প্রিন্সিপাল স্যার আপনার সামনে একজন হাঁটুর বয়সী স্টুডেন্ট আমার গায়ে হাত উঠিয়েছে।আর আপনি কিছুই বলবেন না?”
জনাব মহিউদ্দিন স্যার চোখের চশমা ঠেলে দিয়ে সুখের দিকে চাইলো।যাকে এই মূহুর্তে তুহফা দুহাতে আড়াল করে রেখেছে।চোখে অশ্রু।অথচ এর গহীনে লুকায়িত ঘৃ”ণার অগ্নিকুণ্ড।ভদ্রলোক লম্বা দম নিয়ে বললেন,
“ একজন শিক্ষার্থী অকারণেই কোন স্যারের গায়ে হাত উঠানোর দুঃসাহসিক কাজ করবে বলে আপনার মনে হয়? কী করেছেন তার সাথে?”
“ বিশ্বাস করুন স্যার.. আমি ওকে কিছুই বলিনি। শুধু,এটাই বলেছিলাম যে “তুমি তো কথা বলতে পারো না।এতো পড়ে কী হবে?তার চেয়ে বরং..
বর্ণ শীতল দৃষ্টি স্থাপন করে নিঃশব্দে দু’পা এগিয়ে যেতেই রূপম স্যার গলা খাঁকারি দিয়ে থেমে গেলেন। ঘামতে শুরু করেছেন ইতোমধ্যে।সুখের সাথে হওয়া কথোপকথন কী কোনভাবে সবাই জেনে গেছে? কিন্তু কীভাবে?
প্রশ্নাতীত চোখে বর্ণ জানতে চাইলো হেঁয়ালি স্বরে,
“ তারপর?”
রূপম স্যার জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে আমতা আমতা করে প্রিন্সিপালের দিকে চাইলেন। মস্তিষ্ক ঘেঁটে নিজেকে নিয়ে এমন কিছু সাফাই খুঁজলেন যেনো পুরো দোষ সুখের উপর গিয়ে বর্তায়।
বর্ণ’র শান্ত দৃষ্টি রূপম স্যারের মুখশ্রীতে বিচরণ করছে তখন। দু’জন প্রায় মুখোমুখি।ডান হাতে ধীরস্থির তুড়ি বাজাতে বাজাতে বর্ণ পিছু না ঘুরেই বলে উঠলো আচমকা,
“ গেটের বাইরে গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে।ফুলকে নিয়ে গাড়িতে গিয়ে বোস তুহফা..!”
তার কথা শেষ এবং হাতের তুড়ি বাজানোও থেমে গেলো। পরপরই সেই হাতটা হিংস্র গতিতে গিয়ে ঠেকলো রূপম স্যারের কন্ঠণালীতে।এই কন্ঠ দিয়েই তো বোবাফুলকে কক্সবাজার যাওয়ার প্রস্তাব রেখেছিল?
কন্ঠণালী বলো বা শ্বাসণালী –দুটোই চেপে ধরে অবিলম্বে একছুটে পেছনের দেয়ালে নিয়ে গিয়ে আটকে দিলো বর্ণ’। চোখে অদ্ভুত নিষ্ঠুরতা।দয়া মায়া হীন কেমন পাষণ্ড সেই চাহনি।রূপম স্যারের জিভ বেরিয়ে আসে শ্বাসকষ্টে।লোকটা ছটফটিয়ে উঠে মূহুর্তেই। দুহাতে বহু প্রচেষ্টায় গলা থেকে বর্ণ’র হাত ছাড়িয়ে নিতে চায় কিন্তু তিনি ব্যর্থ।
প্রিন্সিপাল এতোক্ষণ চুপ থাকলেও এবার এগিয়ে গেলেন।রূপম স্যারকে ছাড়িয়ে নিতে চাইলেন,
“ বর্ণ.. ছেড়ে দাও –মরে যাবে!উনার ব্যবস্থা আমি করবো”
বর্ণ’র কানে সেসব কথা পৌঁছায়নি বোধহয়।সে কঠোর গলায় ধমকে উঠলো খানিক পেছনে জড়োসড়ো দাঁড়ানো রমণীদের উদ্দেশ্যে,
“ তুহফা.. তোদের গাড়িতে গিয়ে বসতে বলেছি!কথা কানে যায়না!”
দুজন কেঁপে উঠলো যেনো। হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো সামনে। মূহুর্তেই পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।তুহফা ঢোক গিলে সুখের হাত ধরে তড়িঘড়ি করে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো।সামনেই কিছু কিছু শিক্ষার্থী উঁকি ঝুঁকি দিচ্ছে ভেতরে কী ঘটছে দেখার লক্ষ্যে।
“ প্রিন্সিপাল স্যারের কানে যেহেতু কথা উঠেছে।ওই রাস/কেল সো কল্ড টিচার শাস্তি পাবেই।তুই আর কাঁদিস না সুখ পাখি!দ্যাখ আশেপাশের সবাই আড়চোখে দেখছে”
সুখ শুনলো তুহফার কথা। শেষ বারের মত চোখ মুছে স্বাভাবিক ভাবেই করিডোর পার করে এলো। জানতে চাইলো,
“বর্ণ ভাইকে তুমি ডেকেছো?”
তুহফা ‘ না’ করে উঠে।সেতো সুখের অপেক্ষায় ক্যান্টিনে গিয়ে বসেছিল। হঠাৎ সামনের একটা টেবিলে নজর যেতেই বর্ণ’র মতো মনে হলো।মুখ ঢেকে রাখায় সঠিক চিনতে না পারলেও কাছে এসে চিনে নিতে তেমন অসুবিধা হয়নি।এরই মাঝে সুখের ফোন এলো।আর সেটা রিসিভ করতেই অপর প্রান্ত থেকে রূপম স্যারের উক্তিগুলো ভেসে আসে। বর্ণ’র পাশে বসার অনুমতি পেয়েছিল তুহফা।সেই সুবাদে কথাগুলো বর্ণ’ও শুনতে পেয়েছে স্পষ্ট। মূহুর্ত ব্যয় না করে সে ঝড়ের গতিতে উঠে এসেছে। অতঃপর প্রিন্সিপালকে নিয়ে রূপম স্যারের কেবিনে উপস্থিত হলো।
→
পিচঢালা রাস্তায় গাড়ির চাকা ঘুরছে বিরতিহীন। অভ্যন্তরে খানিক আগে ধীমি আওয়াজে মিউজিক চললেও এখন তা অফ।ড্যাশবোর্ড ফোন আটকে রাখা। সেখান থেকে মেয়েলি অতিষ্ঠ স্বর ভেসে এলো,
“ ভাই তুই ফিরছিস কবে?আর গিয়েছিসই বা কোন জেলায়”
স্ট্রেয়ারিং-য়ে হাত চালিয়ে বোনের কথায় মেহরাব মৃদু হাসলো। বাঁ হাতে মাথা চুলকে জবাব দিলো,
“ রংপুর আছি। দুয়েক দিনের মাঝেই ফিরে যাচ্ছি ঢাকা!”
কিছুদূর যেতেই আচমকা তড়িঘড়ি করে ব্রেক কষে। সচকিতে পাশে তাকায় মেহরাব। কাঁদা পানিতে চাকা চালিয়ে দিয়েছে এবং কারো গায়ে সেগুলো ছিটকে গেছে।সে ত্রস্ত হাতে ডোর মেলে নেমে এলো রাস্তায়।
“ স্যরি স্যরি মিস্!”
মাথার উপর সূর্য তেজ দেখিয়ে বেড়াচ্ছে। তেষ্টায় গলা শুকিয়ে কাঠ।আইসক্রিম খাওয়ার ইচ্ছে জেগেছিল তুহফার। পার্লার রাস্তার বিপরীত পার্শ্বেই।গাড়ি চড়ে বসার পূর্বে সুখের হাত ধরে রাস্তা পার হতে ধরেছিল মাত্রই। অথচ তার আগেই কাঁদা পানিতে মাখো মাখো হয়ে গেছে জামাকাপড়।রাগে, দুঃখে উত্তপ্ত মস্তিষ্ক আরো দ্বিগুন চড়াও হলো .. তারউপর স্যরি শব্দটা উপহাস বৈ অন্যকিছু মনে হলো না তুহফার।রমণী দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে হিসহিসিয়ে উঠে,
“ উজবুক..অন্ধ নাকি!গাড়ি ঠিকভাবে চালাতে না পারলে স্ট্রেয়ারিং হাতে ধরেছেন কেনো?জামাটাই নষ্ট হয়ে গেলো।”
থমথম খেয়ে গেলো মেহরাব।রাগও হলো কিঞ্চিৎ।সেতো ভুল স্বীকার করেছেই।তাও এসব বলার মানে কী?মেহরাব চাপা স্বরে বললো,
“ কী বললেন মিস্?”
“ যেটা শুনলেন সেটাই!” –তুহফা তেতে উঠল। তার বাহু চেপে ধরে সুখ।হয়তো ভুল করে ফেলেছে লোকটা।কেউ কাউকে তো আর ইচ্ছে করে কাঁদা ছুঁড়বে না?তাও অজানা, অপরিচিত।তুহফা রাগি দৃষ্টি ছুঁড়ে তার উদ্দেশ্যে।মাঝে মাঝে এই সুখের উপর প্রচন্ড রাগ পায়।তার এই ভালো মানুষীর জন্যই দুষ্টুরা পার পেয়ে যায়।
“ মিস্ স্যরি তো বললাম!”
তুহফা পড়নের সাদা গোলাপী জামাটায় লেপ্টে থাকা ময়লা পানি সমেত পরখ করে নিলো।বললো ছদ্ম হেসে,
“ আর সাথে সাথে আমাদের জামাও পরিষ্কার হয়ে গেছে!”
মেহরাব হতাশ চোখে অদৃশ্যে তাকিয়ে থাকা সুখের দিকে চাইলো ভ্রু কুটি করে। মেয়েটাকে কোথাও যেনো দেখেছে কিন্তু মনে পড়ছে না।সে হঠাৎ তুহফার কাঁধের ব্যাগ আর খানিক দূরে অবস্থিত কলেজের দিকে চেয়ে ছোট ছোট চোখে বিড়বিড় করে,
“ মিস্ ঝগড়ার মুডে আছেন।নিশ্চয়ই কলেজে পানিশমেন্ট পেয়েছে আজ।”
→
মাহিরকে রাখা হয়েছিল গাড়ির নিকটে। রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ’র এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে পর্দায় কালেভদ্রে তাকেও দেখা গেছে ফাঁক-ফোকরে। কলেজের কিছু বিচক্ষণ স্টুডেন্ট তাকে এখানে দেখে খুব সহজেই শনাক্ত করে নিয়েছে।তবে অবাক হয়নি। কেননা আসফিয়ান বর্ণ এই কলেজের মুখ উজ্জ্বল করেই এখান থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে গেছে। যা বর্তমানে কিছু কিছু শিক্ষার্থীদের গর্বের কারণ।সে যদি এখানে আসে –তা খুব বেশি আশ্চর্যের কারণ না হওয়ার প্রশ্ন কমই উঠবে।
মুখ আবৃত বর্ণকে তারা না চিনতে পারলেও মাহিরের আশেপাশে ছেলে মেয়েরা কেবল তাকেই খুঁজে ফিরেছে। একপ্রকার অতিষ্ঠে ক্যাম্পাস ছেড়েছে ছেলেটা।বর্ণ পুণরায় ফিরে এসে তাকে না পেয়ে ইংলিশ-বাংলার মিশ্রণে কয়েকটা গালি ছুঁড়ে নিজ থেকে কল লাগাতেই দুঃখের বিষয়খানা অবগত করে। এবং চলে যাওয়ার অপরাধে বার কয়েক মাফ চেয়ে নিয়েছে।
অগত্যা নিজেই ড্রাইভিং সিটে এসে বসলো বর্ণ।ফ্রন্ট মিররে সুখের ক্রন্দনরত মুখশ্রী অবলোকন করে নিলো একঝলক।তুহফা বুঝাতে বুঝাতে হাল ছেড়ে দিয়েছে। মেয়েটার মন ফ্রেশ করতেই মূলত আইসক্রিম খাওয়ার বাহানা খুঁজেছিল তুহফা। কিছুক্ষণ শান্ত থাকলেও এখন আবার মন ক্ষুণ্ন হয়ে বসে আছে।
আজকের এই ঘটনার জন্য নিজের দূর্বলতাকেই দায়ী করছে সুখ।কলেজে হাজার হাজার শিক্ষার্থী।সবাইকে রেখে তাকে কেনো এমন প্রস্তাব দিলো?নিশ্চয়ই তার কথা বলার সক্ষমতা নেই, ভেতরের যন্ত্রণা ঠোঁটের আগায় কথা হিসেবে ফুটানোর শক্তি নেই বলেই –সবার চেয়ে তাকে নিরিহ আর দূর্বল ভেবেছে?
হঠাৎ জোরে ব্রেক কষতেই সামনে থুবড়ে পড়তে গিয়েও পড়লো না সুখ। কান্না থেমেছে তার। তবু, চোখের পাপড়ি ভেজা।ক্ষণে ক্ষণে ছোটদের মতো নাক টানছে।
সুখ হতবুদ্ধির মতো সামনে চাইলো। নির্বিকার ভঙ্গিতে সিটে হেলান দিয়ে আছে বর্ণ। চোখে নেই রাগ কিংবা ক্ষোর,অথবা ঘৃণা।দৃষ্টি নির্লিপ্ত ।তার পাশে সিয়াম।সেও প্রশ্নাতীত চোখে বর্ণ’র দিকে তাকিয়ে।এটা শিকদার বাড়ির রাস্তা নয়।তবে থামলো কেনো বর্ণটা?
সুখ জানালার কাঁচ ভেদ করে বাহিরে দৃষ্টি স্থাপন করতেই মুখের এক্সপ্রেশন পাল্টে গেলো নিমেষেই।অধর কোণে হাসি ফুটে উঠল তৎক্ষণাৎ।অদূরে দলবেঁধে ছোট-বড় বাচ্চারা কানামাছি খেলছে,কেউ বা লাফালাফি,কেউ বেলুন উড়াচ্ছে। আবার কেউ কেউ দৌড়াদৌড়ি।ক্ষণে ক্ষণে পাল্লা দিয়ে খিলখিলিয়ে হেসে উঠছে নিষ্পাপ মুখগুলো। সেই হাসিতে মুখরিত আশপাশ। প্রকৃতিও যেনো তাদের আনন্দে আনন্দিত।
সুখের মন দোলে উঠে।তুহফার হাত ঝাঁকিয়ে প্রফুল্ল চিত্তে বাহিরে ইশারায় করে বুঝায়,
“ চলো না ওখানে যাই?”
বর্ণ যাওয়ার অনুমতি দিতেই সুখ সুড়সুড় করে নেমে ছুটে গেলো বাচ্চাদের কাছে।তুহফা ধীর পায়ে পিছু যেতে যেতে হেসে ফেললো।ছোট ছোট বাচ্চা সুখের ভীষণ পছন্দ।যাক, মন ভালো করার উপায় পেয়ে গেলো মেয়েটা!
বর্ণ ড্যাশবোর্ড থেকে প্রেস-বল নিয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে সর্বস্ব দিয়ে প্রেস করে যাচ্ছে সেটায়। মস্তিষ্কে কী চলছে কে জানে?ক্ষণে ক্ষণে চোয়াল শক্ত হতেও দেখা যাচ্ছে।সিয়াম আহত শ্বাস ফেলে নিশ্চুপ বসে রইলো পাশে। কিন্তু তার চুপ থাকতে ইচ্ছে করছে না।কী বলবে ভাবতে ভাবতেই মিররে নিজেকে একবার দেখে গদগদ কন্ঠে বলে উঠলো,
“ বর্ণ দ্যাখ দ্যাখ!আমার মাথায় চুল গজাতে শুরু করেছে!”
→
সদর দরজা দিয়ে প্রবেশ করতেই নূরা ছুটে এলো,
“ বর্ণ.. দুদিন পর বাড়ি এসেছো। আমার চকলেট, আমার চিপস আর গিফটস্ কোথায়?”
বর্ণকে ভিড়িয়ে আশেপাশে পরখ করে পিছু উঁকি দিলো সে। নিশ্চয়ই মাহিরের কাছে। কিন্তু তাকে তো দেখা যাচ্ছে না।নূরা পুণরায় জিজ্ঞেস করতেই বর্ণ অপরাধী চোখে কানে হাত রাখলো। মূহুর্তের প্রখরতা উবে গেলো বাচ্চাটার।
“ কিছুই আনোনি?”
বর্ণ ফের দুদিক মাথা ঝাঁকায়। চক্ষু হাসছে অথচ মুখাবয়বে মেকি অপরাধ বোধ।নূরা হম্বিতম্বি দেখিয়ে যেভাবে এসেছে সেভাবেই চলে গেলো দাদুর রুমে।লুডু খেলছে দুজন। দুবার উইনার হয়েছে সে।যাওয়ার আগে নূরা রাগি স্বরে অভিমান সমেত বলে গেলো বর্ণকে,
“ তোমার সাথে আমার কাট্টি!”
সুখ কারো সাথে কথা না বলেই নিজ কক্ষের অভিমুখে হাঁটা ধরেছে। ফিফ্থ ফ্লোরে তার রুম।সেকন্ড ফ্লোর ভিড়িয়ে পরবর্তী ফ্লোরের কয়েকটি সিঁড়ি পার করতেই পেছন থেকে ধুপধাপ পা ফেলে চঞ্চল পায়ে কারো আসার আভাস পায়।না দেখেই সুখ বুঝে নিলো এটা কে হতে পারে।
বর্ণ ত্রস্ত পায়ে আড়চোখে একপল সুখের মুখশ্রী দেখে আগে যেতে যেতে হুকুম করলো যেনো,
“ আমার জন্য হট কফি নিয়ে আয় ফাস্ট!”
#চলবে🍂
🦋🦋

