আমার_বোবাফুল(১৪) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
71

#আমার_বোবাফুল(১৪)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

অভ্র,মাহির প্রতিবাদি হয়ে উঠলো নিমেষেই।সুখ যেখানে খেলেইনি সেখানে -ভুলক্রমে বল ক্যাঁচ নিয়ে সেটাতে আবার আউট কীভাবে করে? গণ্য হবে এটা?তাদের এরূপ যুক্তি –তামিজ শিকদার মানতে নারাজ; সাথে উনার পক্ষের সকলে তো আছেই। তিনি বুঝিয়ে যাচ্ছেন সুখ সশরীরে না খেললেও মনে মনে তাদের দলেরই। দু’পক্ষের জট বেঁধে গেলো অল্পক্ষণের জন্য।

হানিফা বেগম সমানে বকে যাচ্ছেন ওদিকে। তিনি এই আউট মানবেন না কোনভাবেই।সুখকেও চোখের চাহনিতে শাসিয়ে দিতে ভুললো না।ওর জন্যই তো বর্তমানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে!

বর্ণ খানিক দূরেই। তার অভিব্যক্তিতে অনু পরিমাণ হেলদুল নেই।পা আড়াআড়ি করে দাঁড়িয়ে ভ্রু কুঁচকে আছে দিক শূন্যে।দুহাতে ব্যাট ঘুরিয়ে ফিরছে অদ্ভুত কায়দায়। ঘর্মাক্ত কপালে গুটি কয়েক চুল এসে লেপ্টে আছে।পড়নের সাদা জার্সির বক্ষস্থলে ঘামে ভিজে নাজেহাল অবস্থা।ঘাড় তেড়া করে ফট করে হঠাৎ সুখের দিকে চাইলো বর্ণ। বাজপাখির মতো তীক্ষ্ণ,ধারালো সেই দৃষ্টি।সুখ তখন স্বীয় হাতের দিকে তাকিয়ে। ব্যথায় মুখ ফ্যাকাশে হয়ে আছে। দুহাত খুলছে তো পরপর মুঠ পাকাচ্ছে। তীব্র গতিতে বল উপর থেকে ছিটকে আসায় হাতে বেশ ভালো মতোনই লেগেছে। তখন এক মূহুর্তের জন্য মনে হয়েছিল হাড়গোড় বোধহয় চুরমার।

ব্যথা অবশ্য এখন সেরে এসেছে প্রায়।খানিক পর হয়তো বাকিটাও উধাও হয়ে যাবে। বেখেয়ালে সেও সম্মুখে নজর ছিটাতেই চোখাচোখি হয়। বর্ণ’র চোখের তেজি পল্লব কেঁপে উঠলো যেনো। সেকেন্ড পার হওয়ার পূর্বে নজর সরিয়ে নিলো উভয়েই।

ঘড়ির কাঁটা তখন দুটোর ঘরে।রুলস অনুযায়ী শিকদার বাড়ির লাঞ্চ টাইম চলমান। কর্ত্রীরা কিচেন রুমে তোড়জোড় করছেন।রামসা আর সাইমা বুয়াও আছে।

আযাদ শিকদার নিজেদের শয়ন কক্ষে। প্রতিবারের মতো এবারেও জানালার ধারে ইজি চেয়ারে বসে বই পড়ছেন গভীর মনোযোগে। অবসরে তিনি বই পড়তে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

তামিজ শিকদার তখন গার্ডেনের শেষ প্রান্তে। ওখানে ছোট খাটো একটা মাচা।তার উপর সবুজে সবুজে ভরপুর নানা সবজির গাছ। ফাঁকফোকরে হলুদ, বেগুনি রঙের ফুলও লক্ষ্য করা যায়।সেখানে আবার ঝুলে আছে শসা, ঝিঙে,শিম।শখ করে এই বাগান তুলেছেন ভদ্রলোক।গাছের প্রতিটি গোড়ায় পানি দেওয়া শেষে খানিক দূরত্বে অবস্থিত শিউলি ফুল গাছের নিচে পাতানো বেঞ্চে গিয়ে বসলেন তিনি। অতঃপর মুগ্ধ চোখে চেয়ে রইলেন নিজের হাতের লাগানো গাছের দিকে।

ভূমিতে শিউলি ফুলের মেলা বসেছে যেনো। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ফুলগুলো। সুগন্ধে ভরে উঠেছে আশপাশ।

বর্ণ এসে দ্বিধাহীন, নিরুত্তাপ পাশে এসে বসলো। বরাবরের মতো ভ্রু-দ্বয় কুঞ্চিৎ।মাহিরকে সাথে করে বেরিয়েছিলো সে। কোথায় গিয়েছিলি কে জানে! ফিরে এসে বাড়ির অভিমুখে যাওয়ার মাঝে দূর থেকে চাচ্চুকে দেখতে পেয়ে পায়ের গতি ঘুরিয়ে এদিকে চলে এসেছে।

“ কেমন চলছে দিনকাল!”

তামিজ শিকদার একঝলক তাকে দেখে অন্যত্র নজর সরিয়ে জানতে চাইলেন।বর্ণ চুপ রয় প্রত্যুত্তর হীন। গভীর দৃষ্টি নিচে স্থির প্রাপ্ত। পায়ের তলায় একটি ফুলকে পিষে দিচ্ছে আলতো ব্যথায়।

তামিজ সাহেব ফের বললেন,
“ শুনলাম.. কাল আমার মেয়ের কলেজ গিয়ে তাকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে এসেছিস?এতো ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ এটা করার সময় মিললো তবে বহু বছর পর?”

তিনি খুশিই হয়েছেন বিষয়টিতে।দুনিয়ায় আজকাল যেই পরিস্থিতিতে থমকে আছে মেয়েদের একা ছাড়তে ভয় পান ভদ্রলোক। অফিস যাওয়ার পথে সশরীরে রোজ তাদের কলেজ পৌঁছে এবং ড্রাইভার পাঠিয়ে পুণরায় নিয়ে যান।যদিও তাদের এই ব্যাপারে ঘোর আপত্তি। তাদের নাকি এহেন বড়লোকি জিন্দেগী ভালো লাগে না।

আযাদ শিকদারের অবর্তমানে বাড়ির মেয়েদের আগলে রাখার সবটুকু দায়িত্ব উনার।বর্ণ নিজের প্রফেশনে সময় দিতে ব্যস্ত।বাড়ি ফিরে দু’তিন দিন অথবা তার চেয়েও বেশি দিন পরপর।বাড়ির বড় ছেলে,বড় ভাই হিসেবে প্রাপ্তবয়স্ক বোনেদের প্রতি কোন দায়িত্ববোধ এখনো তার মাঝে পরিলক্ষিত হয়নি।

তবে তাদের অগোচরে পালন করে কী না বলা যায় না। কেননা সে নিজের জীবনে সবকিছু অগোচরে সম্পন্ন করতেই প্রচন্ড ভালোবাসে।

সবচেয়ে বড় উদাহরণ –আজকের দিনের রকস্টার আসফিয়ান বর্ণ।তার এই পথে যাত্রা দেওয়ার শুরুটা ঘুণাক্ষরেও কিন্তু বাড়ির কাউকে টের পেতে দেয়নি। একদিন পরিবারের সকলকে আশ্চর্যমণ্ডিত করে দিয়ে প্রথম অর্জিত অ্যাওয়ার্ড এনে তুলে ধরেছিল আইজার সামনে।সেটাও মাহিরের মাধ্যমে।তার কিছুদিন পরই দেশে ছড়িয়ে পড়লো তার সুমধুর কন্ঠের সুনাম। অতঃপর দেশ হতে বিদেশে।

ড্রাইভার ছুটিতে।তামিজ শিকদারও মিটিংয়ে আটকে পড়েছিলেন কাল। একদিকে গুরুত্বপূর্ণ মিটিং অন্যদিকে মেয়েদের নিতে যাওয়ার সময়। যদিও তুহফা আস্বস্ত করেছিল আজকের মতো একটা টেক্সি নিয়ে তারা সহি সালামতে বাড়ি পৌঁছে যাবে।
কিন্তু বর্ণ যে কলেজ যাবে সেটা সকলের কল্পনাতীত।

বর্ণ চোখ তুলে চাইলো অনিহা সমেত।জানালো অন্যত্র মুখ ফিরিয়ে –“তার ইম্পর্ট্যান্ট কাজ ছিল কলেজে।তাই অসময় সেখানে যেতে হয়েছে।”

হানিফা বেগম ধীর পায়ে নিজ রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে এলেন। ঠোঁটে মিটমিট হাসি ঝুলিয়ে অভ্র ফোনের কীবোর্ডে আঙুল চালাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে। বৃদ্ধা আড়চোখে চেয়ে মুখ কুঁচকে নূরার দিকে চাইলো।টম এন্ড জেরি চলছে টিভিতে।নূরার মনোযোগী আঁখি দুটো কেবল সেখানেই সেঁটে আছে।

“ এ্যাঁই বুড়ি.. কিরণমালা শুরু হইবো এখুনি।ওইটা দে তো?কাইল দ্যাখতে পারি নাই!”

নূরা নজর হেরফের না করেও মুখের ভঙ্গি পাল্টে বিরক্তি প্রকাশ করলো। রিমোট লুকিয়ে শক্ত ধরে করে রাখলো জামার ভেতর।দাদুর এই অদ্ভুত ভাষা শুনতে কেমন একটা। বহুবার শুদ্ধ বাংলা শিখিয়ে দেওয়ার পরেও এসব ভাষায় কথা বলতে দেখে নূরার মনক্ষুণ্ণ।

হানিফা বেগম ক্ষণকাল যেতেই ফের বললেন,

“ কী কইছি কথা কানে যায়না? বাচ্চা মাইয়া এই বয়স থাইকা টিভিখোর হইলে কাজ হইবো?”

নূরা চট করে সরু নেত্রে ঘাড় বাঁকিয়ে তাকালো।বললো হৈ হৈ করে,

“ তুমি তো মৃত্যুপথযাত্রী!একপা দুনিয়ায় তো আরেকপা কবরে.. নামাজ দোয়া না পড়ে শুধু কিরণমালা দেখলে হবে?”

গলায় পানি আটকে গেলো সুখের।খুক খুক কেশে উঠে ডাইনিং টেবিলে পানির গ্লাস রেখে অবিলম্বে চোখ পাকিয়ে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো ড্রয়িং রুমে। কথাটা বহুদিন আগে একবার তুহফাকে বলেছিল সুখ। সেদিন তুহফা হেসেছিল প্রচুর ।নূরাও উপস্থিত ছিল সেথায়।

হানিফা বেগম বিষ্ময়ে হতবাক।ভাষা হারিয়ে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো নূরার ছোট্ট নিষ্পাপ আদলে।এই বাচ্চা কী বললো?সে মৃত্যু পথযাত্রী?একপা দুনিয়ায় তো আরেকপা কবরে?এতো বড় কথা ও কীভাবে বলতে পারে? নিশ্চয়ই বড় কেউ শিখিয়ে দিয়েছে! বৃদ্ধা হায় হায় করে উঠেন,

“ যতো বড় মুখ নয় ততো বড় কথা!কী কইলি তুই?আমার মৃত্যু কামনা করলি? বোঝা হইয়া গেছি না সবার কাছে?অতো বড় কথা শুধু শুধু তোর মাথায় আইতো না।কে শিখায়া দিছে বল?”

অভ্র শব্দ করে হেসে উঠেছিল কিন্তু দাদুর প্রতিক্রিয়া দেখে হাসি কমে এলো নিমেষেই।হানিফা বেগম জোর গলায় বারবার জিজ্ঞেস করছেন কথাটা কে শিখিয়েছে জানার জন্য।নূরা মুখ বাড়িয়ে বলল কাঁধের চুল উড়িয়ে,

“ আমি একাই একশো!কাউকে কিছু শিখিয়ে দিতে হয়না!হুহ”

বৃদ্ধা তার নির্বিকার ভঙ্গি দেখে আরো ক্ষিপ্র হলেন।অভ্র সান্ত্বনা দিতে চাইলো “নূরা ছোট -কী বলতে কী বলে ফেলেছে”! কিন্তু তিনি শুনলেন না সেসব বাণী।

সেসময় বর্ণ এবং তামিজ শিকদার একসাথে প্রবেশ করছিলো বাড়িতে।মাকে আপন মনে হা হুতাশ করতে দেখে তামিজ শিকদার এগিয়ে এলেও বর্ণ পাশ কেটে চলে এলো ডাইনিংয়ের দিকে। বৃদ্ধার হা হুতাশ আজ নতুন না। যেকোনো ছুঁতো ধরে প্রায়শই তিনি এমন করে থাকেন।

সুখ তখন নিজের জায়গায় দাঁড়িয়ে। সেখান থেকেই দাদুর বকাবকি শুনেছিল। বর্ণকে তার দিকে এগিয়ে আসতে দেখে মুখাবয়ব শক্ত করে থম মেরে থাকে।

কোন কথা হয়নি দুজনের। চোখাচোখিও না। সাইমা বুয়াকে ডেকে ফ্রিজ হতে ঠান্ডা ফ্রেশ পানির বোতল নিয়ে বর্ণ’…

‘ স্টেপ এসাইড।লেট মি পাস..প্লিজ!’

মেকি ভুতুড়ে গলায় ফিসফিসিয়ে কানের কাছে বলল কেউ।সুখ তড়িৎ পিছু ঘুরে।বর্ণ বুকের বাঁ পাশে হাত চেপে এক ভ্রু উঁচিয়ে।আড়ি-তেড়ি দৃষ্টিতে চেয়ে।

সুখ সরে দাঁড়াল।সে যে পাশে গেল, বর্ণ’ও গেল একই পাশে। ইচ্ছে করেই।হতাশ সুখ পুণরায় বিপরীতে চলে গেলে, এবারেও বর্ণ তার মুখোমুখি পাশে এসে থামে।

বেজায় বিরক্ত হয় সুখ। বর্ণ’র চোখে অস্থির শীতলতা।সুখের গলায় পেঁচানো ওড়না আচমকা টেনে ধরে তাকে-সহ নিজের পাশে এনে দাঁড় করিয়ে বলল,

‘ এভাবে যেতে হয়!’

ধূর্ত হেসে পাশ কাটিয়ে ফিরে গেলো সিঁড়ির অভিমুখে।সুখ অন্যত্র চেয়ে স্তব্ধ দাঁড়িয়ে রয়।

চঞ্চল পায়ে এক পা দু’পা সিঁড়ি ভেঙে যাওয়ার ফাঁকে গভীর সূচালো চোখের চাহনিতে সুখের দিকে চেয়েছিল পুরোটা সময় বর্ণ।যদিও তা সুখের অজান্তেই।

নূরা ধীর পায়ে চুপিচুপি কেটে পড়েছে ড্রয়িং রুম ছেড়ে।সাথে রিমোটটাও নিয়ে নিতে ভুললো না। কিরণমালা আজো দেখতে দেবে না দাদুকে।

স্টাডি রুমে প্রবেশের আগে হুট করে সুখের দিকে ফ্লায়িং কিস ছুঁড়ে দিয়ে অধরজুড়ে বাঁকা হেসে ঢুকে গেলো নূরা।সুখের কপালে হাত। পরপরই অধর প্রসারিত হলো আনমনেই।এখন জরুরি তলব করা হলে নূরা হয়তো বই দেখিয়ে উল্টো রাগ দেখিয়ে বলবে,

“ পড়ার সময় আমি কোন ডিস্টার্বেন্স চাইনা! চেয়ার ছেড়ে আমি উঠতে পারবো না এখন।পড়তে না বসলেও তোমাদের যতো আপত্তি।বসলে আবার ডাকাডাকির মানে কী?”

পরদিন সুখের কলেজ যাওয়ার ইচ্ছেটাই পিকে হয়ে গেলো।যদি আবারো রূপম স্যারের মুখোমুখি হতে হয়?তারা ফিরে আসার পর ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে বর্ণ উনার সাথে কী করেছিল সেটা অজানা। সেদিনের অপমানের শোধ তুলতে যদি আবার তার সাথে খারাপ কিছু করে বসে?

তার ভাবনা মিথ্যে হলো ক্যাম্পাসে পা রেখে। আশেপাশের ছেলে মেয়েদের মুখে কম বেশি একটাই গুঞ্জন –রূপম স্যারকে চিরস্থায়ী ভাবে কলেজের শিক্ষক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
–কিন্তু কী কারণ?
–উনি তো খুব ভালো টিচার ছিলেন!এখন ম্যাথ পড়বো কার কাছে?
–প্রিন্সিপাল যেমন কড়া.. কোন ত্রুটি না পেলে অকারণে বহিষ্কার করবে কেনো?তাও অন্যকোন কলেজেও টিটার পদে নিয়োগ দিতে না পারার মতো!
–কী বলিস? নিশ্চয়ই বড় কোন ক্রাইম করেছে রূপম স্যার!

চারপাশ থেকে এমন ফিসফিস কথায় সুখ ঢোক গিলে। আজ যারা স্যারের জন্য আফসোস করছে সত্যিটা জানলে সুখের মতো তারাও নিশ্চয়ই দুচোখ বুজে ঘৃণা ছুঁড়বে এমন জঘন্য মানুষের প্রতি। বোধহয় এখনো সঠিক কারণটা শিক্ষার্থীদের কানে পৌঁছায়নি।

শুধু সুখ নয়.. পূর্বে এমন আরো বহু শিক্ষার্থীদের বাজে প্রস্তাব দিয়েছেন রূপম স্যার। অনেকেই সেই প্রস্তাবে রাজিও হয়েছে। এবং নিজের সতীত্ব-সম্ভ্রম হারিয়ে ফিরেছে। পরবর্তীতে তাদের ভীতি দেখিয়ে মুখও বন্ধ রেখেছেন এই স্যার। উনার পেছনের ইতিহাস ঘাঁটতে গিয়ে এমনই অভিযোগের ঢল উঠে এসেছে।বর্ণ সেদিন সুখেদের বাড়ি পৌঁছে দিয়ে পুণরায় এসেছিল কলেজ।তখনো রূপম স্যার প্রিন্সিপাল অফিসে জিম্মি।

সুখ নিশ্চুপ গিয়ে ক্লাসে বসলো। শরীরে মৃদু কম্পন অনুভব হচ্ছিলো অজানা শঙ্কায়।বুকটা ধুকপুক করছে। স্যার প্রবেশের আগে হাঁসফাঁস করতে করতে অতিষ্ঠে একসময় ব্যাগ কাঁধে চেপে ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলো সে।

চরিত্রবান এবং অন্তরে ভালোবাসা থাকলে জেদি, রাগি,রকচটা অথবা গরীব,দিনে এনে দিনে খায় এমন মানুষের সাথেও দিব্যি এক জনম নিশ্চিন্তে পার করা যায়। কিন্তু চরিত্রহীন কারো সাথে ঘর করা যায়না।

সুখের আনন্দ মিশ্রিত বড্ড আফসোস হচ্ছে রূপম স্যারের জন্য।সাথে উপহাসও পাচ্ছে ভীষণ।তার এই চরিত্র এতোদিন হয়তো স্ত্রীর অগোচর ছিল কিন্তু আজকের পর সংসার, স্ত্রী সন্তান তার নিজের কাছে থাকবে কী না কে জানে?স্যার চিরস্থায়ী বহিষ্কারের পেছনে যদি বর্ণ’র হাত থাকে সুখের বিশ্বাস এতোক্ষণে উনার পরিবারের সামনেও তার পশু সম চরিত্র উন্মুক্ত হয়ে গেছে। কেননা, বর্ণটা চোখের সামনে নিজের পক্ষ থেকে দেওয়া অন্যের নিষ্ঠুর হাহাকার, আকুতি, পরাজিত মুখশ্রী দেখতে খুব ভালোবাসে।

#চলবে🦋

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here