আমার_বোবাফুল(১৫) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

0
63

#আমার_বোবাফুল(১৫)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরা

সুখ নিশ্চুপ বেরিয়ে এলো কলেজ থেকে।একটা টেক্সিতে চড়ে বসলো।টেক্সট করে আব্বুকে জানিয়ে দিলো

“ ক্লাসে মন বসছে না আব্বু।আমি বাসায় ফিরে যাচ্ছি!”

আজকের তেজস্বিনী সূর্যে রঙা আকাশটা আচমকা ধূসর মেঘে ঢেকে গেছে। মেঘগুলো যেনো নিমেষেই গ্রাস করে নিয়েছে সূর্যের নিদারুণ প্রখরতা।

সুখ একঝলক বাইরে উঁকি দিয়ে পুণরায় আপন সিটে এসে নম্র সেজে বসে রইলো। ড্রাইভারের শরীরে গাঢ় জলপাই রঙের মলিন শার্ট।লোকটা দক্ষ হাতে গাড়ি চালানোর ফাঁকে আয়নায় সুখকে পরখ করে সহাস্যে বললো,

“ আপামনি কলেজ ফাঁকি দিয়া চইলা যাইতেছেন?এটা কিন্তু ভালা অভ্যাস না!”

সুখ তখন অপ্রস্তুত হাসলো কেবল।

কেচি গেইটের মধ্যভাগে লোহা খচিত অক্ষরে জ্বলজ্বল করছে দুটো শব্দ –“শিকদার নিবাস”! সাদা ইউনিফর্ম গায়ে জড়িয়ে ভেতরে গেইটের গা ঘেঁষে চেয়ারে বসে ছিলেন দারোয়ান কাকা। চকচকে কালো গাড়িটি পার্কিং লট থেকে সরু পথ ধরে আসতে দেখে তিনি সন্তর্পণে গেইট মেলে দিলেন। ফ্রন্ট সিটের জানালার কাঁচ ধীরে ধীরে নিচে নেমে যেতেই বর্ণ’র গম্ভীর আভিজাত্যে মুড়ানো সুশ্রী লক্ষ্য করা যায়।সিটে হেলান দিয়ে আছে।চোখে ব্ল্যাক সানগ্লাস। ড্রাইভিং সিটে আছে মাহির।তার সম্পূর্ণ মনোযোগ আপাতত সামনে।

ঢাকার উদ্দেশ্যে পাড়ি দিচ্ছে তারা।আসফিয়ান বর্ণ’র রেকর্ডিং আছে । আইজা জিজ্ঞেস করায় বলেছে,

“ ছয়দিনের বেশি সময় লাগবে ফিরতে!”

সুখ টেক্সির ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে সেখানে দাঁড়িয়েই ভ্রু গুটিয়ে অপলক চেয়ে রইল তার যাওয়ার পথে।

সদস্য সংখ্যার তুলনায় শিকদার বাড়িটি বিশাল।কারণ জানতে চাওয়ায় আযাদ শিকদার একবার বলেছিলেন ভবিষ্যতে –বাড়ির একতলা বর্ণ’ পাবে, একতলা অভ্র,একতলা তিন মেয়ের বিয়ের পর শশুর বাড়ি থেকে ফিরলে তাদের দেয়া হবে,একতলা তামিজ এবং আযাদ অর্থাৎ তারা দুভাইয়ের জন্য এবং বাকিটা কালেভদ্রে বাড়িতে অতিথি আসলে তাদের জন্য।

আপাতত গ্রাউন্ড ফ্লোরে তারা দুই ভাই এবং হানিফা বেগম আছেন।মাঝের তিনতলা এখনো খালি। ফিফ্থ ফ্লোরে ক্ষুদে সদস্যরা থাকে। কেননা তার পরেই ছাদ। তাদের আবার কারণে অকারণে ছাদে গিয়ে বসতে হয়।

সুখের ক্লান্তিতে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে ইচ্ছে করছে না। পা দুটোও যেনো কাঁপছে অযথাই।সে হেলেদুলে রুবাইয়্যাতের রুমে গিয়ে কাঁদের ব্যাগ সহ বেডে গা এলিয়ে দিলো।মনটা তার অশান্ত। সমুদ্রের ন্যায় উথাল পাতাল।

“ অসময়ে ফিরলে যে আজ? কোন সমস্যা হয়েছে আম্মা?

রুবাইয়্যাত হাতের ঠান্ডা জুস সুখের হাতে দিয়ে উদ্বিগ্ন হলেন। চোখে দৃষ্টিতে কৌতুহল।সুখ তিন চুমুকে গ্লাস শেষ করে রেখে দিলো‌।

কলেজ থেকে ফিরে প্রতিদিনের ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা মাকে না দিলে মন সারাক্ষণ হাঁসফাঁস করে তার।রূপম স্যারের ব্যাপারটাই প্রথম বার লুকিয়ে গেছে।তুহফাকেও নিষেধ করে দিয়েছে বলতে।

সুখ কারণ উল্লেখ না করে শুধু জানালো আজ রূপম স্যারকে চিরস্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে কলেজ থেকে।অন্য কোন কলেজেও যাতে টিচার হয়ে যেতে না পারে তেমন ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। রুবাইয়্যাত চিন্তিত হলেন। সন্দেহ করলেন,

“ নিশ্চয়ই বড় কোন অপরাধ করেছেন তিনি।যার শাস্তি ভোগ করতে হলো আজ!”

“লা মেরিডিয়ান” বিশ্বব্যাপী পরিচিত একটি বিলাসবহুল হোটেল চেইন, যা আন্তর্জাতিক মানের সেবা, আধুনিক সুযোগ- সুবিধা এবং অভিজাত পরিবেশের জন্য বিখ্যাত। বাংলাদেশে অবস্থিত হোটেল লা মেরিডিয়ানও এর ব্যতিক্রম নয়। এটি রাজধানী ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত, যা ব্যবসায়িক ও বিনোদন ভ্রমণকারীদের জন্য আদর্শ স্থান।

মাহির পূর্বেই বুক করে রেখেছিল লা মেরিডিয়ান হোটেলের দুটো রুম।যদিও সে বর্ণ’র কাছে ‘শুধু শুধু টাকা নষ্ট। দু’জনের জন্য একটি রুমই যথেষ্ট’ কথাখানা পেড়ে দেখেছিল কিন্তু ভদ্রলোক এমন হিংস্র চোখে তাকিয়ে ছিলেন কোনরকম জান হাতে নিয়ে স্থান ত্যাগ করেছে।যাক,টাকা গেলে বর্ণ’র যাবে।তার পকেট তো দুটাকা বের করে দিতে হচ্ছে না।

নিজের অবস্থানরত রুমে দ্বিতীয় কাউকে সহজে এলাও করে না বর্ণ। হোটেলে পৌঁছে প্রথমে রুফটপে স্থাপিত সুইমিং পুল গোসল করে নিলো। এরপর রেস্তোরাঁ থেকে খাবার খেয়ে রুমে ঢুকেছে আর বেরুনোর নাম নেই।মাহির গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে একা একা ক্ষণকাল এদিক ওদিক চক্কর কেটে নেয়। ইতোপূর্বে এই হোটেলে বার কয়েক আসা হয়েছে।বলতে গেলে ঢাকায় এসে সব সময় এই হোটেলেই উঠে তারা।
.
দুবার রিং হতে হতে কেটে গেলো কল।মাহির বাথরুম থেকে তোয়ালে মুখ মুছে সেটা আবার গলায় পেঁচিয়ে ফোন হাতে তুললো। নাম্বারটা দেখেই ভ্রু বেঁকে যায় তার। অজান্তেই ঠোঁটের কোণে বাঁকা হাসি ফুটে।ফোন পুণরায় বেডে ছুঁড়ে ফেলে উদম গায়ে টিশার্ট পড়ে নেয়।আবারো ফোন বেজে উঠতেই রিসিভ করে কানে তুলে হেড বোর্ডে হেলান দিয়ে আধশোয়া হয়ে বসে। যথেষ্ট গম্ভীর গলায় বলে,

“ বলো!”

ওপাশ হতে আওয়াজ এলো না। কেবল ঘনঘন নিঃশ্বাসের শব্দ।মাহির কল্পনা করে এই মূহুর্তে বিপরীত পাশে অবস্থিত রমণী এখন লাজ রঙা মুখে ঠোঁট কামড়ে আছে অথবা দাঁতে নখ খুঁটছে।কী বলে কথা শুরু করবে ভেবে না পেয়ে কন্ঠস্বর তালগোল পাকিয়ে ফেলছে।মাহির সরু কন্ঠে বললো,

“ নিঃশ্বাসের শব্দ শুনাতেই কী কল করা হচ্ছে বার বার?”

“ ম্_মাহির ভাই?”
“ শুনছি!”

“ ম্_মামি.. মামি জানতে চেয়েছে আপনারা পৌঁছে গেছেন কী না?”

“ হুঁ,আন্টির সাথে মাত্রই কথা হলো!”

ধরা পড়ে যাওয়ার মতো জিভে দাঁত কাটে তুহফা। লজ্জায়, অস্বস্তিতে দুগাল রক্তিম হয়ে উঠে মূহুর্তেই। হতভম্ব মনে তড়িৎ কান হতে ফোন নামিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

বুক ধুকপুক করছে।ফোনটা মুখের সাথে ঘেঁষে থম মেরে রয় তুহফা। ছিঃ কী লজ্জা..মানুষটির সাথে এই প্রথম মিথ্যে বললো.. সেটাও ধরা পড়ে গেলো।মাহির ভাই এখন কী ভাববে তাকে নিয়ে?
.
রেকর্ডিং ছিল পরেরদিন।সম্পূর্ণ পরিপাটি হয়ে স্টুডিওতে পৌঁছে। দূর্ভাগ্যবশত মিশ্মিকেও সেখানে দেখা যায় ।

বর্ণর মাঝে হেলদুল দেখা না গেলেও মিশ্মি আড়চোখে সময় সময় তাকিয়েছে দূর থেকে।একসময় ধীর লয়ে এগিয়ে এলো নিকটে। বর্ণ’র নজর তখন পুরোপুরি ডুবে আছে ফোনে। আশেপাশের পরিস্থিতি নিয়ে তার ধ্যান জ্ঞান নেই আপাতত। সুগভীর চোখ অপলক বিচরণ করছে মোবাইলের কালো পর্দায়।ফোনের স্ক্রিন ডার্ক মোডে আছে্। বরাবরের মতো গলায় সেঁটে আছে হেডফোনটি। রেকর্ডিং কক্ষ থেকে খানিক আগেই বেরিয়েছে।

মিশ্মি আশেপাশে তাকায়। কাঁচের দেয়ালের ওপাশে আনাগোনা রয়েছে কয়েকজনের। কাজের সূত্রে সবাই তাদের পরিচিত।কানের পিছে হাত ঘঁষে মিশ্মি গলা খাঁকারি দিয়ে বর্ণ’র অ্যাটেনশন পেতে চাইলো। অথচ বর্ণ’র মাঝে বিন্দুমাত্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেলো না।তার এই নির্বিকার চরিত্রের সাথে অনেকেই বেশ ভালো ভাবেই পরিচিত।মিশ্মি তাদের মাঝে একজন।চাপা শ্বাস ছেড়ে মৃদু গলায় বললো মিশ্মি,

“ তোমাকে কিছু বলতে চাই!একটু শুনবে বর্ণ?”

চোখ তুলেও তাকানোর প্রয়োজন বোধ মনে করলো না বর্ণ।সে ছাড়া একহাত দূরত্বের ব্যবধানে যে মিশ্মি নামের কোন অস্তিত্ব আছে তা যেনো বর্ণ’র ধ্যানের বাইরে।

অপমানে মুখ কুঁচকে আসে মিশ্মির।মাথার মেজাজ ধপধপ করে উঠেলেও নিজেকে সংযত করে নিলো। দাঁতে দাঁত নিষ্পেষিত করে ক্ষণকাল চেয়ে থেকে পরপরই কন্ঠে অপরাধ বোধ ঢেলে বলে উঠলো,

“ স্যরি বর্ণ..I regret my actions!”
“ দ্যান?” –শক্ত চোয়ালে ফট করে একঝলক রক্তিম চোখে তাকিয়ে পুণরায় নজর ফোনে আবদ্ধ করলো বর্ণ।

ওই ধূসর মণি চোখের রক্তিম চাহনিতে মিশ্মি থমথম খেয়ে গেলো।স‌্যরি বলে বর্ণ’র সাথে সম্পর্কটা ঠিক করতে এসেছিল কিন্তু মনে হয়না বর্ণ তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছুক।পার্স আঁকড়ে ধরা হাত শক্ত হয়ে আসে মিশ্মির। অপমানে বিবর্ণ হয়ে উঠে মুখের রঙ ।হাত বাড়িয়ে কিছু বলতে নিলেই পুণরায় মুখ তুললো বর্ণ, হিংস্র কন্ঠে দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠলো তখনই,

“ ইফ ইউ্যু রিয়্যালি রিগ্রেট ইট, ডোন্ট শো ইউ্যুর ফেইস ইন ফ্রন্ট অব মি এগেইন,আউট!”

চোয়াল শক্ত করে পা উল্টো চালিয়ে সামনে হাঁটা ধরলো মিশ্মি।রাগে, দুঃখে চোখে পথ-ই যেনো দেখতে পাচ্ছেনা স্পষ্ট।এই বর্ণর জন্যই সে আজো মিডিয়ার কাছে হাসির পাত্র।এতো এতো অপমান, অপদস্থ সহজে ভুলে যায় কেউ?মিশ্মির রাতে ঘুম হয়না আজো।চোখ বুঝলেই যেনো কেউ কানের কাছে এসে ফিসফিস করে,

“ পৃথিবীর সামনে এতোটা অপদস্থ হয়ে এখনো তুই নিশ্চুপ আছিস?রাগ, ক্ষোভ নেই তোর মাঝে?”

.
কক্ষটি অন্ধকার। আঁধারে ঢাকা কক্ষে সাদা চাদরে মুড়ানো বেডে উল্টো ঘুরে ঘুমে বিভোর হয়ে আছে টগবগে যুবক।জিম করা ফর্সা মসৃন প্রসস্থ পিঠ উন্মুক্ত।পা দুটো বেড হতে কিঞ্চিৎ বেরিয়ে গেছে।মাথায় ঠেকানো বালিশ দুহাতে জড়িয়ে আবেশে নিদ্রায় তলিয়ে। বাতাসের দাপটে জানালার বাদামি পর্দারা নেচে উঠছে ক্ষণে ক্ষণে।হঠাৎ ক্যাঁচ ক্যাঁচ করে কাঁচের দরজা খুলে গেলো।কালো শাড়ি পরিহিত এক অপূর্ব রূপের অধিকারিনীর প্রবেশ ঘটলো রুমে। চারপাশের আঁধারের সাথে কালো শাড়িটি মিলিয়ে গেলেও রমণীর ফর্সা মুখশ্রী রাতের আকাশের এক টুকরো চাঁদের মতোই দৃশ্যমান। বর্ণ’র ঘুম হালকা হয়ে আসে।চোখ না মেলেও বুঝে গেলো এটা কে হতে পারে।বোবাফুল.. পারমিশন না নিয়ে মাঝরাতে একটি পুরুষের রুমে ঢুকে পড়েছে।এর শাস্তি কতোটা ভয়াবহ হতে মেয়েটার কোন আইডিয়া আছে আদৌ?

‘ ফুল.. ব্ল্যাক রোজ’ –মোহিত দৃষ্টি ফেরাতে পারল না বর্ণ। বিড়বিড় করে নামটা।

সুখ নিঃশব্দে পা ফেলে ধীর পায়ে বেডের নিকটে এগিয়ে আসে। ঠোঁটে লাজুক হাসি।কাজল চোখে ভয়।হাতে তার টকটকে লাল গোলাপ।

ফর্সা পিঠে গোলাপের পাপড়ির শীতল ছোঁয়া পেয়ে ঢোক গিলে বর্ণ।কী হচ্ছে এসব?সুখ নিঃশব্দে তার মাথার পাশে এসে বসেছে।ঘোর লাগা দৃষ্টিতে অপলক তাকিয়ে আনমনেই হাতে থাকা গোলাপের রাজত্ব চালাচ্ছে বর্ণ’র উন্মোক্ত পিঠে।

‘ ব্ল্যাক কুইন!দ্য আউট-কাম কোড বি ভেরি ড্রিডফুল!’ –ঢোক গিল ফিসফিস করে বর্ণ পুণরায়।

আচমকা ঘুরে গেলো সুখের দিকে।ঘুমের ভান ধরে পড়ে রয়।সুখের দৃষ্টি বর্ণ’র ঘুমন্ত কোমল মুখ খুঁটিয়ে দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। গোলাপটি থুতনিতে ঠেকিয়ে নেশাক্ত চোখে আস্তে আস্তে এগিয়ে আসে বর্ণ’র চিরুটে পোড়া ঠোঁটের দিকে। হৃদস্পন্দন ছুটল বর্ণ’র।এসিতেও দরদরিয়ে ঘামছে কপাল।গলা শুকিয়ে আসছে ক্রমশ।

ফট করে চোখ মেললো পুরুষ টি। ধড়ফড়িয়ে শোয়া থেকে উঠে গেলো অবিলম্বে। শুষ্ক ঢোক উদ্ভ্রান্তের মতো আশেপাশে নজর ছিটিয়ে পরখ করে নিলো।বোবাফুল কোথায়? আশেপাশে তো কেউ নেই!

পরপরই প্রলম্বিত শ্বাস বুকের বাঁ পাশে হাত ঘসলো। হৃদয় দিগ্বিদিক ছুটছে এখনো।বর্ণ বিড়বিড় করে আবার,

“ অভিমানে চুপটি করে দূরে সরে থাকলেও রোজ নিয়ম করে স্বপ্নে এসে ঠিকই আমার কঠোর হৃদয় এলোমেলো করে দিয়ে যাচ্ছিস তুই বোবা ফুল!হোয়াটস্ রং উইথ মি?কী হচ্ছে এসব?চোখ বুজলে,চোখ খুললে, যেদিকেই তাকাই শুধু তোকেই কেনো দেখতে পাই?তোর প্রতি ইনফেক্ট কোন নারীর প্রতিই তো আমার কোন ফিলিংস,কোন অনুভূতি কাজ করে না।তবে আজ নিয়মের বহির্ভূত হয়ে এই অনূভুতি শূন্য হৃদয়টা তোর কথাতে এতো ছটফট কেনো করে?হোয়াই? পাগল বানিয়ে ছাড়বি আমায়?”

বর্ণ ছয়দিন পর ফিরবে বললেও পনেরো দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরেও লাপাত্তা।যদিও রোজ আইজা এবং হানিফা বেগম করে খরব নিয়েছেন মাহিরের কাছে।বাড়ির ভেতরে মা-দাদুকে কদর করলেও বাহিরে তাদের ঘনঘন কল বরদাস্ত করে না বর্ণ।তাই মাহিরকেই জ্বালাতে হয়।

আজ বর্ণ ফিরবে।হয়তো এখুনি।তুহফা এবং সুখ গার্ডেনে বসে আছে।ক্ষণে ক্ষণে মেইন গেইটের দিকে দৃষ্টিপাত করছে।কখন বর্ণ’র গাড়ি ঢুকবে। কখন তারা ছুটে যাবে।সুখ ভয়ে অথবা উত্তেজনায় কাঁপছে থরথর।তুহফা হাতে হাত রেখে অভয় বাণী দিচ্ছে।

সুখ জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে গুটিসুটি মেরে বসে রয়। টিভির পর্দায় ভাসমান নিউজের দৃশ্য ভাসছে চোখের তারায়। যতোবার ভাসছে ততবারই যেনো গলা শুকিয়ে আসছে।

বর্ণ গাড়ি থেকে নামতেই তুহফা ছুটে গেলো কালবিলম্ব না করে।সুখ খানিক দূরেই দাঁড়িয়ে রইলো। নিকটে সে যাবে না।বর্ণ চোখের সানগ্লাস হাতে নিয়ে ভ্রু বাঁকিয়ে প্রথমে চাইলো দূরের শঙ্কিত অবয়বে দাঁড়ানো সুখের দিকে। সূচালো, তীক্ষ্ণ চোখজোড়া পরপর ঘুরালো তুহফার আতঙ্কিত মুখে। চোখের ইশারায় প্রশ্ন করেই পাথর খচিত আরামদায়ক পথে বুট জুতোর আঘাত হেনে সামনে পা বাড়ায়।তুহফাও পাশাপাশি হেঁটে বললো,

“ রূপম স্যার..
“ কে এ?”

থমথমে মুখে থেমে গেলো তুহফা। হতবুদ্ধির মতো তৎক্ষণাৎ চাইলো সুখের দিকে।কথা শুরুর পূর্বে চিনতেই যদি অস্বীকার করে দেয় –তবে বলবে কী?

বর্ণ’র পদযুগল থামলো।এখন তারা সুখের পাশাপাশি।নির্বিকার ভঙ্গিতে গম্ভীর গলায় এবার বললো,

“ ওয়াপ ইট আপ!”

সুখ-তুহফা পরষ্পরের মুখ চাওয়াচাওয়ি করে। কম্পিত স্বরে তুহফা বলে,

“ বুকে ছুড়ি চালিয়ে রূপম স্যারের কলিজাটা কেউ ছিনিয়ে নিয়ে তার লা/শ পার্সেল করে কেউ তাদেরই বাড়িতে পাঠিয়েছে। নিউজে দেখাচ্ছে..”

#চলবে🥀
®তৃপ্তি এহসান নাওরা•

🦋🦋

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here