আমার_বোবাফুল(৫৭•১) #তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্ (৫৭–প্রথমার্ধ·)

0
55

#আমার_বোবাফুল(৫৭•১)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
(৫৭–প্রথমার্ধ·)

ত্রিতল বাড়িটির অধিকাংশ কাঁচ দ্বারা তৈরিকৃত। গ্রাউন্ড ফ্লোর গ্যারাজ সিস্টেম। দ্বিতীয় ফ্লোরে যাওয়ার সিঁড়ি বাহির থেকেই।সুখ এতোক্ষণে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে প্রত্যক্ষ করছে চারদিক। জায়গাটা ভীষণ সুন্দর। বর্ণ পিছু থেকে হাঁটছে, সিঁড়িতে।সুখ তার আগে আগে।আচানক ঘুরে গেল। বর্ণ’র দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে উল্টো হেঁটে হেঁটে সানন্দে বুঝাল ইশারায়–

‘ একটা সিক্রেট শুনবেন?’

অভিভূত’র মতো চেয়ে বর্ণ অনুমতি দেয় সম্মোহনী স্বরে, “হোয়াই নট সুইটহার্ট। প্লিজ শুনান?”

কন্ঠটা তীরের ফালার রূপ নিয়ে বুকের ভেতর গিয়ে বিঁধল যেন।ভেতরটা ঈষৎ লজ্জায় মিইয়ে গেলেও উপরে যথেষ্ঠ শক্ত রইল সুখ। ঠোঁটে বিশ্বজয়ী হাসি টেনে বুঝায়–

“এর-আগে ঘুমের সুযোগে লুকিয়ে-চুরিয়ে আমি আপনার গালে ৭ বার চুমু এঁকেছি। আপনি ধরতেও পারেননি!”

বর্ণ হাসল ঠোঁট বাঁকিয়ে। আচানক হাত বাড়িয়ে সুখের কোমর চেপে নিজের সাথে মিশিয়ে, চোখে চোখ রেখে বলল, “আর আমি ৯৯ বার।বাকি ১টা খানিক আগে খেয়ে সেঞ্চুরি করেছি মাত্রই।ইউ নৌ ফ্লাওয়ার কুইন?”

ঠোঁট গোল করে শূণ্যে চুমু ছেড়ে দিল শেষে। ঝড়ো হাওয়ায় প্রদীপের আলো নিভে যাওয়ার মতো ধপ করে সুখের হাসি মিলিয়ে গেল। বিষ্ময় মুখে জানতে চাইল,–”আমাকে?”

“নোপ… আমার বোবাফুল’কে!”

“না ছুঁতে বারণ করার পরও এসব অশ্লীল
কাজ করেছেন আমার সাথে, আমারই অগোচরে?”–আধার নামে চোখে মুখে। ভাব-ভঙ্গিতে অসন্তুষ্টি।বর্ণ কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলে,

‘ আসফিয়ান বর্ণ এসব নিষেধ-বারণের ধার ধারে, এটা বিশ্বাস করা তোর আরও একটা বড় ভুল ছিল, জানেমান।’

‘ মানবো না।চিটিং করেছেন আপনি। প্রয়োজনে আপনার নামে শ্লী’লতাহানি’র কেস করব।’

নিজেকে উন্মুক্ত করে ধপ’ধপ এগিয়ে চলল সুখ।পেছন থেকে আসফিয়ান বর্ণ’র অ-প্রকৃতিস্থের মতো গা দুলানো হাসি ভেসে আসছে।সেই হাসিতে চারপাশ ভরে উঠল মনে হয়।শেষ কখন এমন শব্দ করে প্রাণভরে হেসেছিল কে জানে!একবার ঘুরে দেখার সাধ হলেও, সুখ ঘুরল না পিছু। চিটিংবাজ, মিথ্যেবাদী লোক! ধৈর্যশীল, চরিত্রবান, নম্র-ভদ্র পুরুষ বলে মনে মনে এতোদিন যা প্রসংশা করেছিল; সব জলে ভাসিয়ে দিল লহমায়।

প্রবেশদ্বারে পোঁছে থম মেরে দাঁড়ায় সুখ। দরজা এমনিতে খুলবে না। ডুয়েল সিকিউরিটি সিস্টেম। অর্থাৎ, পাসওয়ার্ড এবং ফিঙ্গারপ্রিন্ট দু’টোই প্রয়োগ করতে হবে।

স্তব্ধ হয়ে চেয়ে রইলো সুখ। যখন পাসওয়ার্ড হিসেবে বর্ণ “Amar bubaful” প্রেস করল এবং এরপর তার হাত টেনে ডিভাইসের উপর চেপে ধরল, ওমনিই ডোর আনলক।খোলে গেল আপনা-আপনি।

তৎক্ষণাৎ প্রতিক্রিয়া দেখানোর পদ্ধতি খোঁজে না পেয়ে স্থির হয়ে থাকে সুখ। ভেতরে পা মাড়াতে গেলে বর্ণ রুখে দিল, ” ওয়েট অ্যা মিনিট, সুইটহার্ট।”

পরপর একা একাই ভেতরে গেল।এরপর পুণরায় এলো হাতে একটা ডার্ক চকলেট নিয়ে; সুখের প্রিয় খাবারের অন্যতম।

” রাজার রাজ্যে রাণীকে হৃদয়পূর্ণ অভ্যর্থনা!”–বশ্যতা স্বীকারে’র সদৃশ ঈষৎ মাথা নামায়,যেন সম্মান প্রদর্শন করল।সুখ বিহ্বল চেয়ে।বর্ণ হাতে খাইয়ে দিতে গিয়ে মত পাল্টে নিল পরক্ষণে। অর্ধেক নিজের মুখে পুরে সুখের কাছাকাছি চলো এলো আচমকা। এরপর ঠোঁটের সামনে বাড়িয়ে দেয়। দিশেহারা সুখ তখন অস্থিরতায় কাতর। হৃদস্পন্দন টাল-মাটাল।ধীরে এগিয়ে বাকি অর্ধেক চকলেট মুখে নিয়ে , ঢোক গিলে নজর নামিয়ে নিল। বর্ণ তার থুতনিতে ধরে মুখ উপরে তুলে ভ্রু নাচিয়ে বলল, ” আরে বাহ্!আসফিয়ান বর্ণকে নিজের আগেপিছে চরকির মতো ঘুরিয়ে, এখন তার সান্নিধ্যে লজ্জায় চোখ’টাও তুলতে পারছেন না মিসেস… ফারিস্তা সুবহান সুখ?নট ব্যাড! ”

বর্ণ’র হাতে হাত রেখে সুখ অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।বিস্মিত চোখে ফ্যালফ্যাল দৃষ্টি বুলায় চতুর্দিক।এটা মানুষের হাতে তৈরি আবাস নাকি ‘কল্পনার ক্যানভাসে যেমন খুশী তেমন আঁকো’ এর মতো ড্রিম হাউজ!ফ্লোরে স্বচ্ছ কাঁচ,তার নিচে অসংখ্য ডার্ক রেড রোজ।রোজ-এ ডার্ক গ্রীন পাতাও আছে।দেখে মনে হচ্ছে পানির উপর কালচে রক্তিম গোলাপ ভেসে আছে।পা দিলেই ডুবে যাবে। অথচ সুখ ডুবল না।ডুববেই বা কেনো?এটা তো কাঁচ এবং কাঁচের তলদেশে কোন দক্ষ শিল্পীর তৈরি আধুনিক ডিজাইন। আশেপাশের সকল আসবাব পত্রে আভিজাত্য ছুঁয়ে ছুঁয়ে পড়ছে যেমন।কী সুন্দর,চোখ ধাঁধানো।সুখ আশ্চর্যান্বিত মুখে জানতে চায়, ” এটা আপনি বানিয়েছেন?”

” নো… দক্ষ আর্কিটেক্ট।” –সুখ হতাশ চোখে তাকাতেই ধীর গলায় বলল,” যদিও অর্ডার আমার ছিল।”

রোদের তেজ আজ প্রখর। পৃথিবীতে নিজের রশ্মি বিলিয়ে দিতে মহাশয় সদা-ব্যস্ত।কপালে চিকচিকে বিন্দু বিন্দু ঘামের উৎপাত।ভার্সিটি থেকে বেরিয়ে এদিক ওদিক নজর ছিটিয়ে নেয় তুহফা। ড্রাইভার আঙ্কেল এখনো এসে পৌঁছায়নি। কিন্তু খানিক আগে ওনার মতো কাউকে দেখেছিল সে, স্পষ্ট মনে পড়ছে না। তাছাড়াও আঙ্কেল এতো দেরী করে না সচরাচর। ভার্সিটি থেকে বেরোনোর আগেই উপস্থিত হয়ে যায়। সুখের সাথে হওয়া দূর্ঘটনার পর তো এখন আরও কড়া আদেশ জারী করেছেন মামা’রা।

আশেপাশে অসংখ্য শিক্ষার্থীদের আনাগোনা।যে যার মতো গন্তব্যে ছুটার তাড়ায় ব্যতিব্যস্ত।সুবাইতাকে সাথে করে ধীর পায়ে রাস্তার পাশ ঘেঁষে হাঁটা ধরে সে। সুবাইতা তার সঙ্গী।এটা ওটা কথা আদান-প্রদান করে হাঁটছিল দুজন। হঠাৎ সামনে বাইক এসে পথ আটকায়। হেলমেটে মুখ ঢাকা থাকলেও এক দেখায় তুহফা চিনে নিল মানুষটা কে হতে পারে।সাহসা থেমে গেল পদযুগল।

মাহির হেলমেট খুলে আড়চোখে একঝলক সুবাইতা’কে লক্ষ্য করে তুহফার দিকে চেয়ে রইল।যেটা প্রচন্ড অস্বস্তির কারণ হলো তার। মৃদু হেসে সুবাইতাকে বিদায় জানায়, “ওই তো আঙ্কেল চলে এসেছে।আজ যা তাহলে। আগামীতে দেখা হচ্ছে।”

সত্যিই মেয়েটার বাবা নিতে এসেছে।রোজ আসেন তিনি।তুহফার কাছ থেকে হাসিমুখে বিদায় নিয়ে সে চলে যায়।কোণা চোখে মাহিরকে পরখ করতে ভুলল না।

” আপনি এখানে হঠাৎ? ভার্সিটিতে কোন কাজ ছিল বুঝি?” –এরপর বলল তড়িঘড়ি দেখিয়ে, “ওপ্স স্যরি।অনধিকারচর্চা করে ফেললাম বোধহয়।”

মাহির বিষয়টি এড়িয়ে গেল। গম্ভীর মুখে বলে, ” পেছনে ওঠে বসো।”

বুকে হাত বেঁধে ভ্রু গুটিয়ে নেয় তুহফা, ” উুঁ?”

” ওঠে এসো পেছনে।”
” দুঃখীত মাহির ভাই। আপনার কথাটি রাখতে পারলাম না। ড্রাইভার আঙ্কেল এলো বলে। আপনি বরং…”

” আজ আসবে না আঙ্কেল।”
” মানে?”

” মানে সিম্পল। আঙ্কেল আজ আসছে না।তোমায় বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্বটা আমি নিয়েছি।”

” থ্যাঙ্কিউ ভেরি মাচ। কিন্তু আপনার সাথে যাওয়া হচ্ছে না। ট্যাক্সিতেই চলে যাব আমি।”

তুহফা হাঁটা ধরল পরপর। মাহির বাইকের স্পিড কমিয়ে তার পাশাপাশি। মেয়েটা থেমে গেল, অদৃশ্য ক্ষোভে মেজাজ চড়ে যাচ্ছে মানুষটার উপর। বলল দাঁতে দাঁত চেপে–

” এটা কেমন ম্যানার্স ভাই? সামনে বিয়ে হতে চলেছে আমার।বিয়ের আগে হবু শশুর বাড়ির লোকজন আড়ালে-অবড়ালে থেকে বউকে অবজার্ভেশনে রাখে।মাঝ রাস্তায় আপনার সাথে এভাবে দেখলে অন্যকিছু ভেবে নেবে।বলা যায় না বিয়েটা ভেস্তে ও যেতে পারে।”

” তুমি বিয়েতে রাজি?”

তুহফা অবলীলায় জবাব করে নিসংকোচে,” হবো না কেনো? আমার কোন পছন্দ নেই, কারো সাথে সম্পর্ক নেই, ভালোবাসার মানুষও নেই। অতঃপর রাজি না হওয়ার কোন কারণও নেই।”

মাহির অল্পক্ষণ কেমন করে তাকিয়ে থাকে একদৃষ্টে। এরপর আস্তে করে জানতে চায়,
” ভালোবাসার মানুষ নেই?”

” এতে কোনো সন্দেহ?”

পরষ্পরের দৃষ্টি থমকে গেল এক মূহুর্তের জন্য। মাহির প্রত্যুত্তর করতে পারে না।বর্ণ এই সপ্তাহের কথা বললেও তারা আসেনি তুহফাকে দেখতে। আগামী সপ্তাহে আসার নিশ্চয়তা দিয়েছে নাকি। মাহির একবার জানতে চেয়েছিল বর্ণ’র কাছে, “তুহফা’র হবু বর কেমন?”

বিনিময়ে বর্ণ জবাব দিয়েছে, “যেই ছেলে বুকের পাটা নিয়ে আসফিয়ান বর্ণ’র সামনে দাঁড়িয়ে, তার বোনের হাত চাওয়ার হিম্মত রাখে। সে-ই তুহফার উত্তম জীবনসঙ্গী।”

তার মানে যার সাথে বিয়ে ঠিক হয়েছে,সে হয়তো বোকা নয়তো অতি চালাক।মাহির তখন অবশ্য মুখ ফস্কে বলে ফেলেছিল, “বস,ছেলেটার মুখ ঠিকঠাক আছে তো?”

মুখে ‘চ’ বাচক শব্দ তুলে বাইক নিয়ন্ত্রণে রেখে মাহির ঘাড় বাঁকিয়ে পাশে তাকাল।তুহফা সত্যিই বাইকে উঠেনি।ওইতো,টেক্সি করে যাচ্ছে।

মস্তিষ্কে সব গুলিয়ে যাচ্ছে। অদূর থেকে মাহির দেখতে পেয়েছে, টেক্সির ভেতরে চেপে বসা তুহফা’র চোখে জল।তাকেই কিছু করতে হবে এবার। অনেক তো হলো হৃদয় সংবরণ।পারলো আর কই?

(লো-অয়েল) চিকেন ফ্রাইড রাইস দিয়ে গেছে একজন এসে। মেডিসিন নিতে হবে বর্ণকে।সুখ তখন ব্যাডরুমে চুপচাপ বসে। কখন বাড়ি ফিরবে প্রহর গুনছে। আম্মুকে না বলেই উম্মদের মতো ছুটে এসেছিল যে।সেসময় বর্ণ খাবারগুলো প্লেটে তুলে তার হাতে ধরিয়ে দিল। বলল আদেশের সুরে, ” খাইয়ে দে।”

” আমিই কেনো? এতো দিন কে দিয়েছিল?”

বর্ণ কপাল কুঁচকে চোখ তুলল। প্রশ্নটাতে অত্যন্ত বিরক্তি হয়েছে সে।বলল,” এতো দিন বৌ ছিল না বলে বাঁ হাত আর চামচ দিয়েই কাজ চালিয়েছি।”

” তোহ্ এখনো তাই করুন।”–সুখের কথা শেষ হতেই ইশারায় বলা হাতটা পিঠ মুচড়ে ধরে গায়ের উপর উঠে এলো প্রায়,

” তবে তুই আছিস কীসের জন্য?”

ফিসফিসিয়ে বলল।দম যায় যায় সুখের। বর্ণ’কে এতোটা নিকটবর্তী মানতে একটু কষ্টই হচ্ছে বটে, স্বপ্নের মতো লাগছে সবকিছু। দৃষ্টি সংকোচিত করে নিঃশব্দে ঠোঁট নাড়ল,” আপনি থাকতে বাধ্য করেছেন, তাই।”

” আমার হয়ে থাকার ইচ্ছে তোর ছিলনা বলছিস?”–হাবভাব ভালো না তার। যতো ততো কাছাকাছি চলে আসছে। শ্বাস প্রশ্বাস অস্বাভাবিক।এখনি ঠোঁট দুটো ঠোঁট ছুঁয়ে দেবে।দম আটকে আচমকা রুখে দিল সুখ, বর্ণ’র ঠোঁটে তর্জনী ঠেকিয়ে। বুঝায়,

” দিচ্ছি।খাইয়ে দিচ্ছি।”

অল্পক্ষণে অপলক চেয়ে সরে এলো বর্ণ।সুখ হাত ধুয়ে লুকমা তুলে মুখে পুরে দেয়। তার চোখের দৃষ্টিরা সুখের কাঁপুনি, সংকোচ, জড়তা দেখে হাসছে যেন। শিরশিরে শীতল অনূভুতিতে সুখ বিভ্রান্ত।ঠকঠক কাঁপছে হাত।বর্ণ ভ্রু গুটিয়ে একঝলক হাতটার দিকে চেয়ে এরপর সুখের ভীত মুখটা পর্যবেক্ষণ করে নিজ উদ্যোগে লুকমা মুখে তুলে।

” খেয়েছিস?”

উপর নিচ মাথা ঝাঁকায় সুখ।বর্ণ বলল, “দেখিনি তো?”

” খেয়েই এসেছি।”
” সেটাই তো বলছি। দেখিনি কেনো?”

সুখ ফ্যালফ্যাল করে তাকাল, “বাড়িতে খেয়েছি সেটা এখানে বসে আপনি কীভাবে দেখবেন?”

বর্ণ জবাব দিল না। প্লেটের বাকি অর্ধেক খাবারের দিকে ইশারা করে বলে, ” দু মিনিটে প্লেট যেনো সাবাড় হয়।আমি ঘুমোব।”

” এখন কী আমায় ঘুম পাড়ানী গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হবে?সেটা তো পারব না।”

বর্ণ হেসে বলল,” গান শুনাতে হবে না।তবে, ঘুমের মেডিসিন তোর কাছেই।”

” সেটা কীভাবে?”
” আগে খেয়ে নে। তারপর প্রাকটিক্যালি বুঝিয়ে দিচ্ছি।”

কিছু একটা মনে পড়তেই সুখ বলল ফ্যাকাশে মুখে,” তখন বলেছিলেন শেষ বারের মতো দেখতে চলে আসতে। কোথায় যাবেন আপনি?”

তর সইল না বর্ণ’র। সুখের কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়ল।বলল মোহিত গলায়,” তোকে মুক্তি দিয়ে ম-র-ণের আগ পর্যন্ত আর কোথাও হারাচ্ছিনা, জানেমান।”

প্লেট হাতে নিয়েই শ্বাস চেপে বসে রয় সুখ। মস্তিষ্কে দুনিয়াবি অন্যকোন চিন্তা হানা দিতে পারল না এই মূহুর্তে। নতুন নতুন অনুভূতির সাথে পরিচয় ঘটছে আজ।ধীরে চোখ নামিয়ে তাকায়।বর্ণ চোখ বুজে নিসংকোচে। কেমন মানুষ ওনি? তাকে অনুভূতির জোয়ারে পিষ্ট করে নিজে এমন শান্ত কীভাবে আছে?

বর্ণ মাথা তুলল হঠাৎ। বিরক্তির সুরে বলল,” এতো কাঁপা কাঁপি কীসের?এই তুলোর মতো শরীর নিয়ে আমার ভালোবাসা কুঁড়াতে ছুটে এসেছিস অথচ অল্প ছোঁয়াতেই নাজেহাল?”

দ্রুত বর্ণ’কে ঠেলে দিয়ে উঠে গেল সুখ।হাতের প্লেট রেখে অসহায় মুখাবয়বে বুঝায়,” আমি বাড়ি যাবো, চলুন।”

বর্ণ হাত ধরে টেনে একচুলও টলাতে পারল না। বরং উল্টো হেঁচকা টানে তার হাতের বন্দিনী হয়ে বুকে হুমড়ি খেয়ে পড়ল।বর্ণ বলে,” আজ থেকে আমরা এখানে থাকবো ফুল।তুই-আমি, আমি-তুই। অতঃপর আমরা।না থাকবে সমাজ, না থাকবে তাদের কথা,আর না থাকবে রীতি-নীতি।”

#চলবে🥀 ®তৃপ্তি এহসান নাওরাহ্•

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here