#আমার_বোবাফুল(৫৭•২)
#তৃপ্তি_এহসান_নাওরাহ্
জেসি তখন রুমে, বেডে উল্টো শুয়ে পা দুখানা হাঁটু ভেঙ্গে উপরে তুলে নড়াচড়া করছে।বুকের নিচে বালিশ চেপে, দুহাতের ভাঁজে মুখটা।খানিক দূরে ফোন কুশনে ঠেকিয়ে রাখা। গ্রুপ ভিডিও কল চলছে। ভার্সিটির সব বন্ধুরা অ্যাক্টিভ।নাবিয়া, শিমু, তানিশা, ইজাজ আর রায়ান।প্রায় অনেক্ষণ হাসি ঠাট্টায় কাটিয়ে দিল সবে মিলে। এরপর একেকজন বিদায় নিতে নিতে রয়ে গেল ইজাজ ও জেসি।কথা বলছে না কেউ,তাকিয়ে আছে কেবল।জেসি লক্ষ্য করে ইজাজের মুখটা শুকনো। কেমন নিথর দৃষ্টিতে তাকে দেখে চলেছে সেই শুরু থেকে। অল্পবিস্তর অস্বস্তি বোধ করলেও মুখে হাসি ফুটায় সে–
” কী রে!সেই কখন থেকে এমন হাদারামের মতো চেয়ে চেয়ে কী দেখছিস ?কথা টথা বলতে ভুলে গেলি নাকি?”
ইজাজ হাসল শুষ্ক। এতোক্ষণ পর মুখ খুলল,” তুই আছিস না? আমার হয়ে তুই-ই বলে দে।আমি বরং শুনি।”
” তুই কী ইন্ডিরেক্টলি বলতে চাইলি আমি সারাক্ষণ শুধু বকবক করি?”–ইষৎ মেজাজ দেখাল জেসি।ইজাজ হেসে জানাল,
” তা কখন বললাম?রেগে যাচ্ছিস কেনো? সত্যি বলতে তোকে রাগলে কিন্তু রসগোল্লার মতো দেখায়।”
প্রত্যুত্তরে কিছু বলার নিমিত্তে হা করতে গিয়ে, ধুপধাপ কিছু পড়ার শব্দে জেসি চমকে ঘাড় উল্টেপাল্টে চাইল । মেহরাব এসেছে।বেড সাইট টেবিলে দুটো ফাইল চোখে পড়ে। তারমানে, শব্দটা এগুলো রাখার। কিন্তু মানুষটা এমন ক্রুদ্ধ চোখে তার দিকে চেয়ে আছে কেনো?রুমে এলোই বা কবে?ব্যাপারটা নিয়ে বেশি ভাবল না। এমনিতেই মহাশয়ের সাথে এখনো ভাব জমেনি। যতোক্ষণ তার আশেপাশে থাকে,এমন রুক্ষতা বজায় রেখেই চলে।জেসি পুণরায় ঘুরে ইজাজকে বলল,
” বাই এ্যানি চান্স… এসব মন ভুলানো কথা বলে আমার সাথে ফ্লার্ট করতে চাইছিস নাতো?”
” যদি বলি হ্যাঁ!তখন তোর রিয়্যাকশন কেমন হবে?”
মেহরাব সামনে এসে দাঁড়িয়েছে জেসির। বুকে হাত বেঁধে,সূচালো দৃষ্টি এখনো তাকে ঘিরেই। মেয়েটা গলা খাঁকারি দিয়ে ফ্যালফ্যাল করে মাথা তুলে চায়।লোকটা কী জেলাস?নাহ্, এমন তো হওয়ার কথা নয়। তবে?সে কী আবার কোনো ভুল করল কালকের মতো!কালকে তার ভুলটা ছিল, মেহরাব ভোরে সেন্টার টেবিলে একটা ফাইল রাখল।জেসি তখন জগ থেকে গ্লাসে পানি ঢালতে গিয়ে পুরো জগটাই উল্টে দিল ফাইলের উপর।যদিও মেহরাব ধমকে ‘এটা কী করলে ইডিয়ট ‘ বাক্য খানই বলেছিল শুধু।এর বেশি কিছু বলেনি কিন্তু এভাবেই তাকিয়েছিল অনেক্ষণ।
আজ তো সে ফাইলের ধারেকাছেও ঘেঁষেনি এখনো।তবু এভাবে চেয়ে থাকার মানে? আড়চোখে একবার মেহরাবকে অবলোকন করে মাথা চুলকায় জেসি।মাথায় একটা বুদ্ধি খেলে গেল হঠাৎ। মৃদু হেসে ইজাজকে বলল,
” রিয়্যাকশন কী আর হবে?আমিও এঞ্জয় করব।”
ব্যাস ওমনিই শিকারির মতো থাবা বসিয়ে ফোনটা নিয়ে নিল মেহরাব। স্ক্রিনে নজর রাখে। আকম্মাৎ পুরুষালী অবয়ব দেখে ইজাজ চমকেছে খানিক।জেসির বিয়ে হয়েছে সেটা জানে, কিন্তু বর’কে এখনো দেখা হয়নি।সে বলতে চাইল,” আপনি…”
বাক্য অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে মেহরাব। জলন্ত চোখে জেসির দিকে তাকাল দাঁতে দাঁত চেপে। ততোক্ষণে সে ওঠে দাঁড়িয়েছে বেডে।বলল,” আপনি ফোন কেড়ে নিলেন কেনো?এটা কেমন ধরনের ম্যানার?দেখছিলেন না কথা বলছিলাম আমি!”
” ফোনে এসব করে বেড়াও তোমার ভাইয়া জানে?”
” ফ্রেন্ড-এর সাথে কথাই তো বলছি।চুরি তো করিনি!”
মেহরাব ফোঁসছে। মস্তিষ্ক টগবগ করছে অথচ কারণ অজানা।জেসি হাত বাড়াল–
” দিন… আমার ফোন দিয়ে দিন।”
হাত উপরে তুলে কদম তিনেক পিছিয়ে গেল মেহরাব। গম্ভীর গলায় বলল,” দেবো না।এটা আমার কাছেই থাকবে আজ।”
” বললেই হলো নাকি! আমার প্রাণ আমায় ফেরত দিন এখুনি!”–বেড ছেড়ে নেমে এলো তড়িৎ। লাফিয়ে-ঝুফিয়ে মেহরাবের হাত থেকে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। মেহরাব ভ্রু বেঁকে চেয়ে আছে তখন।মুখ কুঁচকে বিড়বিড় করে,” প্রাণ!”
” ইয়েস। আমার ফোন আমার প্রাণ।যাকে দু দণ্ড চোখের আড়ালে রাখলে দম বন্ধ লাগে।”
” স্টুপিড।”
” ইয়্যু কুমড়ো পটাশ।”
” ইয়্যু চিটার।”
” ইয়্যু হনুমান!”
কপাল কুঁচকে যায় মেহরাবের। ক্ষিপ্ত স্বরে বলে,”ইয়্যু ইডিয়ট।”
” ইয়্যু ব-ব…”
” ব ব করছো কেনো এবার?কথা ফুরিয়ে গেছে ভান্ডারে?”
জেসি তৎক্ষণাৎ জবাব করে,” ব তে বাল।”
” হোয়াট?কী বললে মাত্র?” –মেহরাব ধমকে উঠল একপ্রকার।জেসি থমথম খায়।জিভে ঠোঁট ভিজিয়ে ইতিউতি করে। মেহরাব এগিয়ে আসছে একপা দু’পা।তা দেখে গলা শুকিয়ে এলো জেসির।সে পেছাতে শুরু করে। হাতাহাতিতে দেয়ালের দিকে পিঠ হয়ে গেছিল। ফলস্বরূপ, দেয়ালে গিয়েই পিঠ ঠেকে জেসির। মেহরাব একহাত রাখল কোমরের পাশে। এরপর ঝুঁকে এলো আস্তে করে।ধীর গলায় বলল,
” ব তে কী যেন বলছিলে তখন। স্পষ্ট শুনতে পায়নি। আবার বলো?”
শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি হচ্ছে । মেহরাব এতোটা কাছে এর আগে আসেনি। উষ্ণ শ্বাস হামলে পড়ছে জেসির কপালে।দেয়ালের সাথে যথাসম্ভব সেঁটে গিয়ে ঘাড় একদিকে বাঁকাল,যেন মুখ লুকাতে চাইছে। সেভাবেই আড়চোখে চেয়ে কম্পিত গলায় বলল,” এই ডক্টর এই, বি কেয়ারফুল, হ্যাঁ? আমার সাথে ১৯/২০ করার চেষ্টা করলে আপনার গলার ওই স্টেথোস্কোপ টেনে-ছিঁড়ে ভেঙে-গুঁড়িয়ে হাতে ধরিয়ে দেবো একদম।তখন দেখবো সুন্দরী ললনা’দের হার্টবিট কীভাবে চেক করেন।”
কথা শেষে অল্পক্ষণ পর ধীরে ধীরে ঘাড় সোজা করে।মেহরাবের চোখে চোখ পড়ে সে-সময়। একদৃষ্টে তাকিয়ে আছে শীতল চোখে। তারপর আস্তে করে চোখ নামিয়ে একবার গলায় ঝুলে থাকা স্টেথো’র দিকে চেয়ে হঠাৎ ঠোঁটে ঠোঁট কামড়ে সরে গিয়ে ঘুরে দাঁড়াল।জেসি বুক ভরে শ্বাস ছেড়ে উঁকি দিয়ে তাকায়।হাসল না মানুষটা? যদিও অ-স্পষ্ট সেই হাসি। কিন্তু সে হাসির কী বলল?
•
সন্ধ্যার আগমন ঘটেছে ধরনীতে।পাখিরা নীড়ে ফিরছে যে যার মতো। প্রকৃতি তখন শান্ত। “Barna’s castle” এর আশেপাশে জনমানব শূন্য হওয়ায় তা আরও দ্বিগুন সুনসান,মৌন।
সুখ অবরুদ্ধ রুমটায় উদ্বিগ্ন মনে বসে।বর্ণ তার কোলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে। দীর্ঘদিন পর একান্তে কাছে পাওয়ার দোহাই দিয়ে তখন তাকে ভুলিয়ে ভালিয়ে স্থির করেছিল। কিন্তু সময় যে ক্রমশ বেড়ে চলছে। অথচ বাড়ি যাওয়ার নাম নেই।
বর্ণ’র মসৃণ কপাল ছুঁয়ে দিয়ে,চুলে হাত গলিয়ে চুলগুলো এলোমেলো করে দিতে দিতে অপলক চেয়ে রয় সুখ। মিনিট পাঁচেক আগের মতো পুণরায় মনের অস্থিরতা উবে স্থবির হয়। দৃষ্টিতে ভর করল একরাশ মুগ্ধতা,অধরে বিচরণ করে হাসির রেখা। পুরুষটা কী সুন্দর!চেহারার প্রতিটি রেখায় রেখায় কী অদ্ভুত মাদকতা।আজীবন চেয়ে থাকলেও হয়তো সুখের অনুরক্তি কমবে না,কখনো বিরক্তি আসবে না।চড়া ভ্রু,নাক ,শক্ত চোয়াল, নিঃসন্দেহে সৃষ্টিকর্তা খুব যত্নে এঁকেছেন এই গড়ন।যদিও রবের সকল সৃষ্টিই নিখুঁত, অপরূপ-অতুলনীয়।
সুখ ঝুঁকে গেল আচানক।আস্তে করে কোমল বাঁকানো ঠোঁট দুটো ছুঁইয়ে দিল বর্ণ’র কপালে। শরীর জুড়ে বিদ্যুৎ ঝৎকার দিয়ে গেল যেন। শিরশিরে অস্থির এক অনুভূতি পাশ কাটিয়ে গেল তন-মনে।সুখ নিজেকে স্থির করে।ফের চুমু আঁকে গালের ডান পাশে, এরপর বাঁ পাশে, তারপর থুতনিতে। কাঁটার ন্যায় গালের খোঁচা খোঁচা দাড়ির স্পর্শে লোমকূপ সিধে হয়ে উঠে অচিরেই।তবু সে থেমে নেই।লোকটা জেগে না উঠার মতো আলতো পরশে চুমু এঁকে যাচ্ছে একেরপর এক। সুযোগ এসেছে,আজ ১০০ পার করেই ছাড়বে। যেকোন মতে আসফিয়ান বর্ণকে হারাতে হবে।দম আটকে আসছিল সুখের। অন্যত্র ফিরে জোরে শ্বাস ছেড়ে ফের ঠোঁট এগিয়ে থুতনির কাছাকাছি নিয়ে যেতেই বর্ণ’র ধূসর কালো মণি চোখ জোড়া ফট করে খুলে গেল।
সুখ চমকায়,থমকায়। তড়িৎ গতিতে সরে আসতে গেলে বর্ণ এক ঝটকায় সুখের ঘাড়ের পিছু হাত রেখে নিজের মুখখানা উপরে তুলে লম্বা চুমু খেল ঠোঁটে, এরপর ছেড়ে দিয়ে বলল–
” মুখের চারপাশে কিস-সি ফিলিং দিলি কিন্তু ঠোঁট বাদ রাখলি কেনো?আই গট হার্ট বাই সাচ ডিসক্রিমিনেশন, সুইটহার্ট!”
বর্ণ উঠে এলো।বলল,” ইয়ু উইল বি সারপ্রাইজড টূ হেয়ার, মাই ফ্লাওয়ার কুইন!সব কিছুতে জেতার জেদ থাকলেও ঠিক এই জায়গায় সারা জীবন তোর কাছে হার মেনে নিতে চাইব আমি।”–সুখের হতবিহ্বল মুখের, বাঁ পাশে চট করে ঠোঁট ছুঁয়ে বলল এরপর,” এইযে আবার আমার বেসামাল ঠোঁট তোর গালে চলে গেল। এখন একটার বদলে দু’টো ফেরত দিয়ে হারিয়ে দে আমায়!”
দু ভ্রু নাচিয়ে বর্ণ দুষ্টু হাসে । সন্তর্পণে গাল বাড়িয়ে দিল।সুখ দুহাতে ঠোঁট ঢেকে নিল।ঘনঘন দুদিক মাথা ঝাঁকিয়ে বুঝায়- “সে এমনটা করবে না!”
বর্ণ কপাল চুলকে ঈষৎ ভাবনাগ্রস্থ হয়ে বলল,”তখন কী বলেছিলি,আমার অগোচরে ৭টা চুমু খেয়েছিস?মাই গড সোনা বউ আমার অজান্তে আর কী কী সর্বনাশ করেছিস আমার?ডেফাম্যাশন…!”
” আমি কিছু করিনি!”–বর্ণর লাগামহীন ঠোঁট দুটো চেপে ধরে সুখ। শক্তপোক্ত কিছুতে কপাল ঠুকতে ইচ্ছে করছে। আবেগের বশে কেনো যে তখন গোপন তথ্যটি জানিয়ে দিল। তাছাড়া… নিজে যে তার চেয়েও দশ-বারো গুন এগিয়ে;সে-বেলা কিছুই না? ফোনে সময় দেখে তাড়া দিল,” সাতটা পেরিয়ে গেছে।বাড়ি চলুন।সবাই টেনশন করবে।”
বর্ণ বিরক্তিতে নাক কুঁচকায় । আবারো সেই একই গীত। গম্ভীর মুখ করে শক্ত কন্ঠে বলল,” কেউ টেনশন করবে না ফুল।আমরা এখানেই থাকছি আজ থেকে। নিজেকে প্রস্তুত করে নে। আমার সাথে এক জীবন কাটাতে হবে। শুধুই আমার সাথে; না পরিবার,না দোস্ত,না সমাজ,না রীতি-রেওয়াজ।”
তামিজ সাহেবের নম্বরে কল দিল এরপর।সুখ দেখতে পায় সকলে স্বাভাবিক আচরণ করছে।যেন কিছুই হয়নি।সে যে না বলে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছিল,তা নিয়েও কোন প্রশ্ন করল না। কানেকশন বিচ্ছিন্ন করে বর্ণ তীর্যক দৃষ্টি মেলে তাকাল সুখের দিকে। কাঁদছে সে দোনামোনা নিয়ে। একদিকে বর্ণ’ ইঙ্গিত দিচ্ছে এখানে আজীবন থাকার, অন্যদিকে আব্বু বলছে- ব্যাস দিন দুয়েকের ব্যাপার। এরপর সুখ পুণরায় শিকদার নিবাসে যেতে পারবে।
” সবাইকে ছেড়ে আমি এখানে দু’দিনের বেশি থাকবো না।”–ইশারায় কথাটি বুঝিয়ে দিয়ে চোখের পানি মুছে সুখ।বর্ণ ক্ষণকাল চেয়ে থেকে স্বরে একনিষ্ঠতা বজায় রেখে বলল,” শিখতে হবে।সকল পিছুটান ছেড়ে শুধুমাত্র আসফিয়ান বর্ণ’র হয়ে পথ চলতে শিখতে হবে।তোর মন মস্তিষ্কের সমস্ত ভাবনা, কল্পনা, জল্পনা জুড়ে কেবল একটি নাম, আসফিয়ান বর্ণকে রাখা রপ্ত করতে হবে।ডোন্ট হ্যাভ পারমিশন টু রিমেম্বার দ্য রেস্ট অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।”
গাল বেয়ে টপ করে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে সুখের।জানতে চাইল,” পরিবারের কথা ভুলে যেতে বলেছেন?”
” উঁহু। শুধু আমার কাছে, আমার হয়ে থাকতে বলছি।তোর পৃথিবী জুড়ে শুধু আমাকেই রাখতে বলছি।”–পরবর্তীতে হঠাৎ কেমন যেন হয়ে গেল তার আচরণ। সুখের গালে হাত রেখে ছোট বাচ্চাদের মতো বলে,” আমার হিংসে হয় ফুল। দ্বিতীয় কারো জন্য তোর আদর, ভালোবাসা দেখলে আমার হিংসে হয়।সে হোক বাবা-মা বা অন্যকেউ।বুকে কেমন একটা করে উঠে তখন। শেষ করে দিতে ইচ্ছে করে।আমি কন্ট্রোলে রাখি নিজেকে।উপরে উপরে খুব শান্ত থাকি কিন্তু তখন মস্তিষ্কে কী চলে তুই জানিস না ফুল।”
কান্না থেমে যায় সুখের। স্তব্ধ হয়ে গেছে সে। হিংসে?কার জন্য?
সুখ বুঝায়,” ওরা আমার আপনজন; বাহিরের কেউ নয়। আমার, আপনার আমাদের পরিবার।”
” আপনজন?তোর সবচেয়ে আপন কে? আমার অবস্থান কোথায়?”
হিতাহিত জ্ঞান শূণ্য হয়ে নির্বাক চেয়ে থাকল সুখ। জবাব কী দেবে?পৃথিবীর সবচেয়ে কঠিনতম প্রশ্ন মনে হলো এটা! বর্ণ মাথা ঝাঁকায় সজোরে,” চল আজ একটা খেলা খেলি।”
অতঃপর হুটহাট রুম থেকে কোথাও একটা বেরিয়ে গেল সে।সুখ ভয়ার্ত মুখে ঢোক গিলে।এই কঠিন মূহুর্তে কী খেলা খেলতে চায় আসফিয়ান বর্ণ?
#চলবে🥀

