#আকাশপ্রিয়া
#পর্ব_২৩ (রোমান্টিক এর শুরু শুরু ভাব আরকি 😶)
#dure_dilshad_dua_দুর_এ_দিলশাদ্_দুআা
[🚫কপি করা নিষেধ, সম্পূর্ণ প্রাপ্তবয়স্ক দের জন্য উন্মুক্ত ]
জীবন মাঝেমধ্যে বোধহয় বড্ড বেইমানি করে নিজের সাথে। না নিজেকে চেনা যায়,না নিয়ন্ত্রণ করা যায়।সময়ের সাথে সাথে সব ঠিক হয়ে যাবে।কথাটার যথার্থতা কতটুকু।হয় কি ঠিক?হয়তো বা হয়।তবে অনূভুতি গুলো।সেগুলোর কি হয়।সময়ের স্রোতে মরিচা পরে যায়?নাকি বেচে থাকার ইচ্ছে টাতে উল্টো মরিচা ফেলে দেয়।হবে হয়তো কিছু একটা।
শিয়া বাথরুম এর দরজা আটকে পানির ট্যাপ ছেড়ে হাতে দাঁত কামড়ে কাঁদছে। এই যেমন এখন তার বুকের ভিতরটা জ্বলে ছাড়াখাড় হয়ে যাচ্ছে।ইচ্ছে হচ্ছে ওই বেইমান লোকটাকেই জড়িয়ে ধরে চিৎকার করে কাঁদতে। কিন্তু সেটা সে পারছে না।জীবন তাকে সেটা করতে দিচ্ছে না।বুক ফাটানো কষ্টের প্রকাশ কি মুখ চেপে প্রকাশ করা যায়।
শিয়া তাকায় আয়নার দিকে।ফুঁপিয়ে ওঠে সে।চোখজোড়া রক্তের মতো লাল হয়ে গেছে।দু হাত মেলে ধরলো সামনে।কি করলো সে এটা। এই হাতে চড় মারলো অয়নের গালে।রাগে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে কি সব বললো এগুলো।মানুষ টা তো শেষ কিছু একটা বলতে চায়।
কি ক্ষতি হতো জীবন যদি তাকে সেই কথাটা শোনার পরিস্থিতি দিতো।কেনো দিচ্ছে না সে সুযোগ তাকে।কেনো পরিস্থিতি নামক বেড়াজালে বন্দী সে।আর কতদিন পারবে বন্দী রাখতে।বাবার মাথা ছুঁয়ে দেওয়া কথা সে এ জীবনে ভাঙতে পারবে না।নাহ্ কক্ষনও না।মেয়ে হয়ে বাবা কে দেওয়া কথা সে রাখবে।কিন্তু ভালোবাসার মানুষ। সেই মানুষ টার প্রতি তার অনূভুতি সেটাকে কি করে আটকাবে সে।যতই ভুল করুক।বারেবারে কেনো মনে হয় তার ওই মানুষ টার ভুলের থেকেও বড় কোনো ভুল অন্য কোথাও হয়েছে।
চোখেমুখে পানি ছিটিয়ে নিলো শিয়া।ওড়নায় মুখ মুছে বেড়িয়ে এলো বাথরুম থেকে।নিজের ডেস্কে বসলো।মা কে কল করা দরকার। মা বাবা গিয়েছে প্রায় চার মাসের কাছাকাছি। মার দু মাসের মাথায় চলে আসার কথা ছিলো বাবাকে ওদিকটায় গুছিয়ে দিয়ে।কিন্তু বিদেশে বাবা কিছুতেই খাপ খায়িয়ে নিতে পারছে না।মা ও এমন অবস্থায় বাবা কে রেখে চলে আসতে পারছেন না।তাছাড়া যে কাজে গিয়েছেন সেটাও তো শুরুতেই ছেড়ে দিয়ে আসতে পারেননা এভাবে।
কয়েকবার রিং হতেই ওপাশ থেকে কল তুললেন মা।শিয়ার এই মূহুর্তে চিৎকার করে মাকে জড়িয়ে কাঁদতে ইচ্ছে হলো।মা বোধহয় টের পেলো কিছু একটা।দারুণ চিন্তিত গলায় শুধল, “মা, ঠিক আছিস?কিছু হয়েছে?শরীর ঠিক আছে?”
গলার কান্না টুকু সযত্নে গিলে নিলো সে।মেয়েদের তো এটা আবার একটা বিশেষ গুন।গড গিফটেট বলা চলে।
” কিছু হয়নি মা।একটু ঠান্ডা লেগেছে। “
“বলিস কি।জ্বর আছে সাথে? ওষুধ খেয়েছিস?”
“খেয়েছি।ভেবো না।সামান্যই।”
“সামান্য নয়।সিজন ভালো না।জ্বর হলে সহজে সারতে চায়না।প্রিয়ু… প্রিয়ু ঠিক আছে।?”
“,আছে ও ঠিক আছে।”
“তোমাদের কথা বলো।শরীর ভালো আছে তোমার আর বাবার?বাবা তো৷ সেদিন বললো বুকে ব্যাথা হয় প্রায়ই।”
“তোদের বাবা আর আমি ঠিক আছি তেমন কিছু না।চিন্তা করিস না।শোন না মা…”
“বলো।”
মা খানিকক্ষণ দম নিলেন।কথা গুছিয়ে নিলেন হয়তো।”ওই যে নিলয় এর বাবা মা বারবার বলছিলেন তোর আর নিলয় এর বিয়ের কথা।আমি বললাম আমরা তো নেই দেশে।তারা শুধু ঘরোয়া ভাবে এখন আংটি পরিয়ে রাখতে চায়।নিলয়ের পরিবার এর কে বললো অসুস্থ। ওনারা তোকে আর প্রিয়াকে নিয়ে দরকার হলে আমাদের এখানে আসবেন কয়েকদিন এর জন্য। “
শিয়া থমকে গেলো।আবার সেই একই কথা শুরু হলো।ভেবেছিলো বাবা মা দেশের বাইরে যাওয়ায় তবুও এ তিন বছর এ নিয়ে কোনো কথা হবে না।
বিরক্ত গলায় বললে,”মা কতবার বলেছি,আমর সময় লাগবে।কেনো চাপ দিচ্ছো।আমি সবে চাকরি শুরু করেছি কয়েকমাস। কতো চাপ জানো!গুছিয়ে নিতে আরও সময় লাগবে। আর তোমরা দেশে নেই।এতো কি তাড়াহুড়ো এখন।যে ওখানে গিয়ে হলেও বিয়ে করতে হবে।প্লিজ মা।এতো প্রেশার নিতে পারি না আমি।মাফ করো আমাকে।”
কল কেটে দিলো শিয়া।মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো আবার।এটা তার জীবন এর আরেক অসহ্যকর একটা পার্ট।বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে তার বিয়ের কাহিনি। লাস্ট পাঁচ বছর হলো এই বিষয়টা নিয়ে তাকে বিরক্ত করা হচ্ছে। সেদিন শিয়া আর প্রিয়াকে বাঁচানোর সময় এই আংকেল ও ছিলো।বাবা তার প্রতি কেমন আলাদা রকমের কৃতজ্ঞ। তাই বলে তার ছেলের সাথে মেয়ে বিয়ে দিয়ে সেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে হবে!এ কি ধরনের যুক্তি।অসহ্য পুরো।নিলয় টাকে দেখলেই মনে হয় ছিড়ে খাবে।নজর তো নয় যেনো বুলেট তাক করা।তাকাতেই গা শিরশির করে।হ্যান্ডসাম চেহারা,সুদর্শন অবশ্যই।তবে সে চেহারা,সে দৃষ্টিতে সে কখনো স্বাভাবিক কিছু দেখেনি।একজন মেয়ে মানুষ হওয়ার নিমিত্তে পুরুষ মানুষ এর নজর কিছুটা হলেও ধরতে পারে সে।এ ছেলের নজর তেমনটাই।তার থেকেও বড় কথা তার সাথে না হয় বিয়ের কথা চলছে বলে এভাবে তাকায়।কিন্তু প্রিয়া।প্রিয়ার দিকে অমন হায়েনার দৃষ্টি দেওয়ার মানে কি।শিয়া কথাগুলো বলতে পারেনি এখনে কাউকে।বিয়ের কথা এড়িয়ে গেছে বারবার।
অয়ন ফিরে আসার পর আরও ভাবতে পারছে না নতুন করে অন্য কারের সাথে ঘর বাঁধার কথা।কিন্তু বাবা মুখ চেয়ে সোজাসাপটা নিষেধ ও করতে পারে না সে।যার জন্য এই সময়ের অযুহাত দেখিয়ে কাটিয়ে যাওয়া। শিয়া দু হাতে মুখ চেপে ধরে থাকে।জীবন আজকাল তার প্রতি বড্ড নিষ্ঠুর হয়ে আছে।
****
দিনের আলো নিভে গিয়েছে।আধার নেমেছে ধরনীর বুকে।প্রিয়া রান্নাঘরের চেয়ারে বসে শুকনো নুডলস চিবুচ্ছে।চুলায় নুডলস্ সেদ্ধ হতে দিয়ে বসে আছে সে।
এদিক সেদিক তাকচ্ছে বারবার অস্থির হয়ে।বেশ কয়েকদিন খেয়াল করেছে সে,এই সময় আকাশ বাসায় ফেরে।আজকে আসছে না কেনো তাহলে।সে অপেক্ষা করছে যে।
একটু আগেই শাওয়ার নিয়েছে সে।সারাদিন ভেবেছিলো গোসল দেবে না।কিন্তু বেলা গড়াতেই শরীর চুটমুট করা শুরু করলো।অগত্যা শাওয়ার নিয়েছে।নিচে এসেছে কিছু খাবারের খোঁজে। একা একা কাজ নেই,একটু পরপর খিদে পায় শুধু।
রিমির আসার কথা ছিলো আজকে।বেয়াদব মেয়েটা আসেনি।কাল আসার কথা।
প্রিয়া উদাস ভঙ্গিতে নুডলস্ মুখে দেবে,তখনই কলিংবেল বাজলো।চমকে উঠলো সে।অন্য দিন তো কলিংবেল বাজে না।মানে বাড়ির সবার কাছেই মেইন দরজার একটা একস্ট্রা চাবি থাকে।কে কখন ফেরে তার তো ঠিক নেই,সময় অসময় কে খুলে দেবে দরজা।কিন্তু আজকে অন্যদিনের ব্যাতিক্রম দেখে একটু অবাকই হলো প্রিয়া।এ সময় কে এসেছে।আকাশ?
চুলার আচ কমিয়ে নিজের জামায় দু হাত ঝেড়ে মুছে নিলো।এগিয়ে গেলো দরজার দিকে।দরজা খুলতেই চোখে পরলো আকাশই দাড়িয়ে আছে।
“সরো সমানে থেকে।দাড়িয়ে আছো কেনো সামনে।”
প্রিয়া সরে দাড়ালো। আকাশ পাশ কাটিয়ে ভেতরে চলে যেতেই,সেও দরজা আটকে দ্রুত পায়ে পাশাপাশি চলে আসলো আকাশের।
“কলিংবেল বাজালেন কেনো?”
আকাশের মুখ বরাবর এর মতো গম্ভীর। আর ভ্রু কুচকে তাকানোর স্বভাব তো তার নিত্যদিনের। তাকালোও তাই।
“কলিংবেল তাহলে কিসের জন্য? “
“না সেটা বলিনি।অন্য দিন তো বাজান না।”
“চাবি নিয়ে যাইনি ভুলে।”
ছোট্ট করে উত্তর দিয়ে গটগট করে সিড়ি দিয়ে ওপরে চলে গেলো আকাশ।প্রিয়া ডাইনিং এর চেয়ারে হালন দিয়ে তাকিয়ে রইলো তার দিকে।
“লোকটা বড্ড রসকষহীন। ভালো করে কথা বলা তো শেখেইনি,মুখের হাসি আসা করা তো বিলাসিতা। “
ওপর দিক তাকিয়েই ভেংচি কাটলো। এগিয়ে গেলো রান্নাঘরে।নুডলস্ বানিয়ে নিয়ে এসে বসলো খাওয়ার জন্য। মুখে তুলবে এমন সময় খেয়াল হলো বাড়িতে তো আরও একজন মানুষ রয়েছে।এমন সময় তার যখন খিদে পয়েছে,আকাশের ও তো লাগতে পারে।আলাদা একটা বোল এ নুডলস্ নিলো সে।নিয়ে গেলো আকাশের রুম এর দিকে।
আকাশ মাগরিব এর নামাজ শেষ করে সবেই বসেছে।দরজায় করাঘাতের শব্দে কপাল কুচকে তাকিয়ে রইলো।স্পষ্ট বুঝতে পারছে প্রিয়া এসেছে।এ মেয়েটা আশেপাশে থাকলে কেমন একটা ঘ্রান পায় সে।মিষ্টি একটা ঘ্রান,খুব আপন লাগে, প্রিয়া প্রিয়া ঘ্রান।
গলা গম্ভীর করে বললো,”খোলা আছে।”
প্রিয়া এক হাতে দরজা ঠেলে মাথা এগিয়ে উঁকি দিলো।আকাশ জানালা লাগোয়া ইজি চেয়ারে হেলান দিয়ে বসে আছে,হাতে ফোন।মাথা তুলে তাকালো।দু ভ্রু তুলে জিজ্ঞেস করলো,”কি কাজ?”
প্রিয়ার মেজাজ খারাপ হলো।কেউ কারোর রুমে আসলে এভাবে জিজ্ঞেস করে নাকি!দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলো।এগিয়ে এসে দাড়ালো আকাশের কাছে।দু হাতে খাবারের বাটিখানা এগিয়ে ধরলো আকাশের দিকে।”নুডলস বানিয়েছি।এ সময়ে তো সবার স্ন্যাকস্ খাওয়ার ক্রেবিং হয়।তাই আপনার জন্য নিয়ে আসলাম।”
আকাশ তাকালো খাবারের দিকে।চোখ নামালো আবা রফোন স্ক্রিন এ।”আমার হয়না।আমি এসব খাইনা,নিয়ে যাও।”
প্রিয়ার হাসিহাসি মুখটা কেমন সাথে সাথে মলিন হয়ে গেলো।গাল ফুলালো অভিমান এ।
“এত কষ্ট করে বানিয়েছি খাবেন না কেনো?”
আকাশ মাথা তুললো না।ফোনের দিকে দৃষ্টি রেখেি জিজ্ঞেস করলো,”আমার জন্য বানিয়েছিলে কি?”
প্রিয়ার মুখ চুপসে গেলো।সত্যি তো সে নিজের জন্য বানিয়েছে। তবে দমে গেলো না একদমই।মুখ ফুলিয়েই সাফাই গাইলো নিজের জন্য,
“মানলাম আপনার জন্য নয়।নিজের জন্যই বানাচ্ছিলাম।কারণ তখন তো বাড়িতে কেউ ছিলো না।তাই আর কার জন্য বানাবো।তারপর আপনি আসলেন। তাই ভাবলাম…একই তো হলো নাকি?”
“অন্য কেউ হলেও এমন ঘটা করে সাজিয়ে নিয়ে আসতে।”
প্রিয়া স্বাভাবিক ভাবেই বললো
“হ্যা,আনতাম”
আকাশ এবার মাথা তুলে তাকালে।তাকিয়ে রইলো স্থির চোখে।ফোন ঢেল দিয়ে রাখলো বিছানার ওপর।
“নিয়ে যাও।একটু পর বাসার সবাই আসবে।তাদের খায়িয়ো।আমি খাবো না।”
“কি আশ্চর্য! এতো কষ্ট করে নিজে নিয়ে আসলাম।নিজে না খেয়ে এতগুলো সিড়ি ভেঙে ওপরে উঠে এলাম আপনার জন্য। আর আপনি বলছেন খাবেন না?”
মেয়েটা রেগে যাচ্ছে।আকাশ নির্বিকার চোখে যত্তসব স্টুপিট অভিযোগ গুলো শুনলো প্রিয়ার।“তুমি চিরজীবন রান্নাঘরেই থাকতে।”
“মানে…”
“সিড়ি ভেঙে নিজের রুমে আসতে না।”
শিয়া ঠেোট উল্টালো,”আসতাম,একটু পরেই আসতাম।”
“তাহলে আমাকে খাবার দেওয়ার জন্য সিড়ি বেয়ে উঠতে কষ্ট হয়েছে এই বাহানা দিচ্ছো কেনো।”
প্রিয়ার মেজাজ খারাপ হলো।খাবার টা খাবে তা না।হাজার একটা কথা শোনাচ্ছে।এতো যুক্তি দেখানোর মানে হয়!
“কথা না পেচিয়ে খাবারটা খেলেও তো পারেন।”
“বললাম তো এসব খাইনা।”
“কি খাবেন বানিয়ে দেই।”
“আমার জন্য এতো চিন্তা কে করতে বলেছে।।”
“কারোর ভালো করতে নেই।এতো রেখে গেলাম এখানে। খাবেন বলে দিলাম।”
প্রিয়া খাবারটা পাশের টেবিলে রেখে রাগে গজগজ করতে করতে বেড়িয়ে গেলো রুম থেকে।বিকট শব্দ করে আকাশের রুমের দরজা আটকে দিয়ে গেলো।আকাশ শব্দে চোখ খিচে বন্ধ করে নিলো।ঠিক কয়েক সেকেন্ড এর মধ্যেই আবার পাশের রুমের দরজা একই ভাবে আটকানোর শব্দ হলো।আকাশ হতাশ ভঙ্গিতে ডানে বায়ে মাথা নাড়লো।বিরবিরিয়ে বলে উঠলো,
“এমন চলতে থাকলে এ দরজার আয়ু আর সাত দিন।”
পাশের টেবিলে তাকালো।মৃদু হাসলো খাবারটা দেখে।হাত বাড়িয়ে নিজের হাতে নিলো খাবারাটা।নাকের কাছে এনে ঘ্রান নিলো।
“আপনি দিলে বিষও হাসিমুখে খেয়ে নেবো সেখানে এগুলো আর এমন কি!”
আকাশ হেসে খাবার তুলে নিলে মুখে।প্রেয়সীর হাতের রান্না,আবেশে চোখ বুঝে আসলো তার
____
প্রিয়া রাগে রুমের এ পাশ থেকে ওপাশ লাগাতার পায়চারী করে যাচ্ছে।লোকটা কিছুতেই তাকে পাত্তা দেয় না।কি সমস্যা। ধপ করে বসলো বিছানার ওপর।ফোন করলো রিমি কে।
রিমি কল ধরতেই এক নাগাড়ে অভিযোগ জানালো আকাশের নামে।
“আচ্ছা প্রিয়ু।একটা কথা ভেবেছিস?মানুষটার তো গার্লফ্রেন্ড থাকতে পারে নাকি?”
প্রিয়া চোখ বড় বড় করে থমকে গেলো।সাথে সাথে একপ্রকার চিৎকার দিয়ে উঠলো,”না না,তা হয় কিভাবে। “
“কেনো হয়না।এতো হ্যান্ডসাম,ড্যাশিং একজন পুরুষ।এই বয়সে গার্লফ্রেন্ড না থাকাটাই তো অস্বাভাবিক। তাই হয়তো তোকে পাত্তা দেয়না।”
প্রিয়ার মুখটস চুপসে গেলো।সত্যিই তো তাই।এতো গভীর এ ভাবেনি সে।রিমি তো ভুল বলেনি।এমনটা না হলে তো তাকে এতো ইগনোর করার কথা না।যদিও সে মুখ ফুটে কখনো বলেনি কিছু।তো কি,মেয়ে হয়ে কিভাবে আগে আগে বেহায়ার মতো মনের কথা বলবে সে।যতটুকু ইশারা দেয় ততটুকু কি যথেষ্ট নয়।লোকটা আসলেই বোকা নাকি অন্য কাহিনি আছে সেটাও তো বোঝা যাচ্ছে না।প্রিয়ার ভালো লাগছে না কিছু।রিমির সাথে কথা বলে সবেই বারান্দার দিকে যাওয়ার জন্য পা বাড়াতেই পিঠের ওপর নড়েচড়ে উঠলো কিছু একটা।কি হতে পারে না ভেবেই আকাশ পাতাল এক করে চিৎকার চেচামেচি করা শুরু করে দিলো।
আকাশ খাবার শেষ করে পানির গ্লাস সবেই রাখছে টেবিলে। প্রিয়ার এমন চিৎকার এ হাড় হিম হয়ে এলো তার।বুকের ভিতর টায় ছটফট করে উঠলো।এক প্রকার দৌড়ে বেড়িয়ে এলো প্রিয়ার রুমে।দরজা খোলাই ছিলো।আকাশ হন্তদন্ত হয়ে ঢুকলো রুমের ভিতর।প্রিয়া দু হাতে মুখ চেপে চিৎকার করে যাচ্ছে।আকাশ ব্যাস্ত হয়ে এগিয়ে গেলো কাছে।আকাশের উপস্থিতি টের পেলো প্রিয়া।কান্নাভেজা চোখে তাকালো।আবার চোখ খিঁচে বন্ধ করে নিলো।কান্নার চোটে কথাই বলতে পারছে না।আকাশ দু হাতে বাহু ধরে ঘুরিয়ে নিলো প্রিয়ার।
প্রিয়া এক হাত পিছনে নিয়ে কিছু একটা বোঝাচ্ছে। আকাশ করুন চোখে তাকিয়ে আছে কি বলছে সেটার বোঝার।প্রিয়া ফুঁপিয়ে উঠলো আবার,”পিছনে,পি পি পিছনে…”
আকাশ সাথে সাথে মাথা নাড়ালো,”পিছনে কি বলো…বলো..আমি আছি তো…ভয় পেয়েছো।কি হয়েছে? “
প্রিয়া চোখ খুললো না,”তেলা…তেলাপোকা।আমার পি..পিঠে..”
আকাশ হতবিহ্বল হয়ে গেলো।থ মেরে তাকিয়ে রইলো প্রিয়ার কান্নাভেজা মুখশ্রী তে।তেলাপোকা! অথচ এহেন চিৎকার এ সে ভেবেছিলো ডাকাত পরেছে কী না বাসায়।মেয়েটা চোখমুখ ফুলিয়ে ফেলেছে। ফর্শা মুখটা এতটুকু কাদাতেই টমেটোর মতো লাল হয়ে গেছে।নাকের পাটা ফুলে ফেপে উঠছে।চোখ দিয়ে অবিরত পানি পরেই চলেছে।আকাশের কি বলা উচিত এ মেয়েকে এখন।সে কি পরিমাণ ভয় পেয়েছিলো মেয়েটার চিৎকার চেচামেচি তে।আন্দাজ আছে এর!মেয়ে মানুষ বলতেই ওভার অ্যাকটিং এর দোকান।সামান্য তেলাপোকার জন্য কেউ এভাবে চেঁচায়!
আকাশ কিছু করছে না দেখে তেতে উঠলো প্রিয়া।
“আপনি এমন হা করে তাকিয়ে আছেন কেনো।জানি আমি সুন্দর। পরে দেখবেন এভাবে।আগে ওটা সরান।”
আকাশ হতাশায় মাথা নাড়ে।মেয়েটা বেশি কথা বলে।
“কোথায় সেটা?”
“আ..আ..আমার পিঠে।”
আকাশ দু হাতে ঘুরিয়ে দার করায় প্রিয়াকে।খোলা চুলের ঘ্রান নাকে এসে বারি দেয়।
“কোথায় তেলাপোকা?এখানে দেখতে পাচ্ছি না তো।”
“কি আশ্চর্য। এত সুন্দর মেয়ে মানুষ এর জামাকাপড় এ তেলাপোকা ঘুরঘুর করবে নাকি।”
“সুন্দরীর সাথে তেলাপোকার কি সম্পর্ক?”
“সম্পর্ক সেটা কখন বললাম।বললাম যে এতো সুন্দর মেয়েকে পেয়ে তেলাপোকা নিশ্চয়ই বাইরে বাইরে ঘুরবে না।ভিতরে নড়ছে তো।ও মা গো..।”
আবার চিৎকার করে বেঁকে গেলো প্রিয়া।
আকাশ মেয়েটার অবাস্তব কথার পিঠে কি বলবে বুঝতে পারছে না।এটা কোনো যুক্তি!তেলাপোকা রুপ দেখে গায়ে ওঠে।তাকালো প্রিয়ার মুখের দিকে।রীতিমতো কাঁপছে ভয়ে।কান্না থামেনি এখনো।অথচ কি সুন্দর স্টুপিড এর মতো যুক্তি দিলো।প্রিয়া আবার নড়েচড়ে ওঠার আগেই দু বাহুতে শক্ত করে ধরলো আকাশ।ধমকে উঠলো,”নড়াচড়া করছো কেনো।লেট মি চেক।”
প্রিয়া নড়াচড়া থামালো না।মোচড়াতে শুরু করলো।কাতর গলায় বললো,”বের করুন না ওটা।কেমন নড়াচড়া করছে।আমার অশান্তি লাগছে তো।”
আকাশ চুলগুলো সযত্নে সরিয়ে দেয় পিঠের ওপর থেকে।ঘাড়ের ওপর আঙুলের স্পর্শ লাগতেই দুজন মানুষ এর শরীরেই কিছু একটা হলো বোধহয়। প্রিয়া কাঁপা ভয়ে নাকি আকাশের স্পর্শে প্রিয়া সেটা নিজেও টের পেলো না।তবে নিজের অনূভুতি আকাশ টের পেলো খানিকটা।
চুল সরাতেই তার গলা যে হারে শুকিয়ে আসছে।এ বোকা মেয়ে আরও না জানি কি কি করাবে তাকে দিয়ে।
“জামার ভিতরে আই গেস।পিছনে জামা ধরে ঝাকি দাও।বেড়িয়ে যাবে।”
প্রিয়া দু পাশে সজোরে মাথা নাড়লো।”বের হচ্ছে না।আঠার মতো আটকে আছে।কি করবো আমি?”বলেই হু হু করে কেঁদে উঠলো।
আকাশ বিরক্তিতে চ সূচক শব্দ করলো।তেলাপোকা টাও দেখছি মহা ধরি বাজ। নিজে তো আটকে আছেই,আকাশকেও বিপদে ফেলে দিয়েছে।
এটাকে বের করবে কি ভাবে এখন।ইশশ বোকা মেয়েটা কেনো বুঝছে না।আকাশ এটা পারবে না।পারবে না নয়,বলা দরকার পারা উচিত নয়।কারণ তারপর সে আর কি করে বসবে তার গ্যারান্টি কি এই বোকা দেবে?না কি তার দায় টা নেবে।তখন তো ঠিকই অসভ্য,নির্লজ্জ আখ্যা দিয়ে বসবে।অথচ মৌমাছি কে মধুর ওপর ছেড়ে দিয়ে বলা হচ্ছে মধুতে মুখ না দিতে,এটা মৌমাছির ওপর জুলুম নয়কি?ভয়াবহ জুলুম।রীতিমতো অন্যায় অবিচার।এ অবিচার সে মানবে কেনো!এ মেয়ে যদি অবুঝ এর মতো তার দিকটা না বোঝে তারও মানা উচিত নয়। কিন্তু নিজেকে এতোটা কন্ট্রোললেস করা যাবে না।চাইলেও যাবে না।মধু খাওয়ার সময় তো এটা নয়।
জামার চেইনটার দিকে তাকিয়ে রইলো স্থির চোখে।সোজা তাকালো। ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় ভয়ে চোখমুখ কুচকে বন্ধ করে রাখা মেয়েটাকে দেখা যাচ্ছে।ভয় পেলে মেয়েটাকে এতো দারুণ লাগে,এর আগেও দেখেছে।আজ অন্যরকম লাগছে তবুও।
“চেইন…”
“ওটাকে বের করুক প্লিজ..”
প্রিয়ার অসহায় আকুতি তে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে কে,কি,কোন অবস্থায় আছে সেটা তে হুশ নেই মেয়েটার।আকাশ এখন ভয়াবহ অসহায় বোধ করছে।সামান্য একটা জিনিসকে এতোটা ভয় পেয়ে মেয়েটা হিতাহিত সব ভুলে বসে আছে।আকাশকে বলছে জামার চেইন খুলে তেলাপোকা বের করতে।ভাবা যায়!
অসভ্য তেলাপোকা টাকে দু হাতে পিষে ভর্তা করতে পারলে আকাশের শান্তি হবে।ওটাকে বের করে নিজের জুতার নিচে আধঘন্টা পিষবে সে।মনে মনে এই পরিকল্পনা করলো সে।
আকাশ এর অবস্থা টা যদি একবার আন্দাজ করতো মেয়েটা,দেখতো অধীকারহীন এক পুরুষ মানুষ কে দিয়ে এমন নিষিদ্ধ কাজ করানোয় মানুষ টার কি পরিমাণ শাস্তি অনূভব করে…
আকাশ কাঁপা কাঁপা দুহাত এগোলো প্রিয়ার জামার চেইনে।সে নিজেও যেনো শক্তি পাচ্ছে না,প্রিয়াতো বুঝতেই পারছে না কি ঘটাতে যাচ্ছে সে আকাশকে দিয়ে…
চলবে ইনশাআল্লাহ….
[এমন একটা জায়গায় এসে থেমে যেতে দারুণ লাগলো আমার ক্যান জানি🫣বকা দিয়েন না আবার।রাতে ভাবেন কি কি হতে পারে,আকাশ কি করতে পারে,আমাকে জানান কে কি ভাবলেন।ইমাজিনেশন জিনিসটা দারুণ সুন্দর কিন্তু। তারপর না হয় আমি যা ঘটানোর কাল ঘটাবো একটু আধটু…🙂🫦]

