#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ১৬
রাতের আকাশে বিরাট একটা চাঁদ উঠেছে ৷ সেই চাঁদের আলোয় প্রকৃতিটা রহস্যময় সৌন্দর্য ধারণ করেছে ৷ আদিবাসীদের সেই অদ্ভুত নৃত্য এখনও চলমান রয়েছে ৷ অনন্যা অলির শেষ মাফটা না শুনেই চলে এসেছে ৷ ছেলেদের সাথে বেশি কথা বলতে ওর বিরক্ত লাগে ৷ তবুও আজ একটু বেশিই কথা বলে ফেলেছে তাই ওর ভালো লাগছে না ৷
ও নিজের মন খারাপকে সাইডে রেখে সামনের নৃত্য দেখতে লাগল ৷ একেক মানুষের একেক ধরণ আনন্দ উদযাপন করার ৷ কতটা হাসিখুশি লাগছে নৃত্য শিল্পীদের যেন এটা করতে পেরে ওরা মহাখুশী ৷ অনন্যা তাদের সেই খুশিকে ক্যামেরাবন্দী করে ফেলল ৷ এমন সময় আলমগীর প্রামানিক উঠে গিয়ে নিজেও নাচার চেষ্টা করতে লাগলেন ৷ কিন্তু উনি নাচের তাল মেলাতে পারছেন না ৷ উল্টো জগাখিচুড়ী বানিয়ে ফেলছেন ৷
তা দেখে অনন্যার হাসিও পেল আর মেজাজও খারাপ হলো ৷ ও আলমগীর প্রামানিক কে উদ্দেশ্য করে বলল,,
এই যে বুড়ো হাড় হাড্ডি সব খুলে আসবে ৷ শেষ বয়সে এসে মনে রঙ লেগেছে?
আলমগীর প্রামানিক শুনেও না শোনার ভান করতে লাগলেন ৷ অনন্যা কপাল কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে পুনরায় নিজের জায়গায় ফিরে গেল ৷ ও জানে আলমগীর প্রামানিক এখন কারো কথা শুনবেন না ৷ তবে লোকসমাগমে হাসির রোল পড়ে গেল ৷ আর সেই হাসির কারন যে আলমগীর প্রামানিকের অদ্ভুত নৃত্য যেটা বলার প্রয়োজন রাখে না ৷ অন্যদের বলে কি লাভ? অনন্যা নিজেও হেসে ফেলেছে ৷
অন্যদিকে অলি চুপচাপ বসে আছে ৷ অবশ্য মাঝে মাঝে আলমগীর প্রামানিকের নাচ দেখছে ৷ মুখে হাসিও ফুটে আছে ৷ কিন্তু মস্তিষ্কের মধ্যে অনন্যা বাস করতেছে ৷ ওর মনে হচ্ছে অনন্যা ওকে মাফ করেনি ৷ মেয়েটাকে ও হয়তো বেশিই বিরক্ত করে ফেলেছে ৷ আবার মাফ চাইতে গেলেও বিরক্ত হবে ৷ তাই অলি ভীষণ চিন্তিত ৷
অলির পাশেই বিল্টু আর মাহি বসে আছে ৷ ওরা বেশ উপভোগ করছে উৎসব টা ৷ ওদের উপভোগের মাঝে একটা আদিবাসী মেয়ে এসে মাহির সামনে দাঁড়াল ৷ মাহি উৎসব দেখা বাদ দিয়ে মেয়েটার দিকে তাকাল ৷ মাহি তাকাতেই মেয়েটা মিষ্টি করে হাসল ৷ সেই হাসি দেখে মাহি ঢোক গিলল ৷ এই মেয়ের মতলব কি?
মেয়েটা অনেক রুপবতী ৷ সেই রুপবতী চেহারায় যখন হাসি ফোটে তখন সেই রুপ যেন মাত্রা ছাড়িয়ে যায় ৷ তবুও মাহি মুগ্ধ হতে পারছে না ৷ মেয়েটা নিজের নিরবতা ভেঙে আবারও মিষ্টি করে হেসে বলল,,,
চলুন নাচি ৷
মাহি হড়বড় করে বলল,,, আমি নাচতে পারি না ৷
সমস্যা নেই ৷ আসুন আমি শিখিয়ে দিচ্ছি ৷
থাক লাগবে না ৷ আমি এমনিতেই ঠিক আছে ৷
একটা মেয়ের আবদার পূরণ করবেন না? মেয়েদের না বলতে নেই , এটা কি জানেন?
জানতাম না ৷ তবে জানলে ‘না’ এর জায়গায় ‘নো’ বলতাম ৷
মেয়েটা হকচকিয়ে গেল ৷ কোনো ছেলে ওর সাথে পূর্বে এমন আচরণ করেনি ৷ সবাই ওর আশেপাশে থাকার চেষ্টা করে অথচ এই ছেলে পাত্তাই দিচ্ছে না ৷ মেয়ে টাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে মাহি শান্ত গলায় বলল,,,
প্লিজ যান ৷ আমি আপনার প্রস্তাব নাকচ করার জন্য দুঃখিত ৷
মেয়েটা চরম হতাশা নিয়ে ফিরে গেল ৷ ও চলে যেতেই মাহি জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিতে লাগল ৷ অলি ওর অবস্থা দেখে হেসে ফেলে বলল,,,
কি রে মাহি তোর হৃদয়ের রমনীগুলো তান্ডব শুরু করে দিয়েছিল নাকি?
মাহি ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলল,,, বাজে কথা বলবি না তো ৷ তুই ভালো করেই জানিস মেয়েদের থেকে আমি দূরে দূরে থাকি ৷
অলি আবারও হেসে ফেলল, কিছু বলল না ৷ মাহি অলির হাত নিয়ে নিজের বুকে দিয়ে বলল,,,
দেখছিস কিভাবে লাফাচ্ছে? আমি তো ভাই ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম ৷
অলির মুখে এখনও হাসি ৷ ওর হাসির দিকে তাকিয়ে মাহির গা জ্বলে গেল ৷ ও কাটকাট গলায় বলল,,,
একদম হাসবি না ৷ হেসে প্রমাণ করার চেষ্টা করছিস যে আমি একটা প্লে বয় তাই না?
উহু ৷ আমি হাসছি এই ভেবে যে তুই জোর বাঁচা বেঁচে গেছিস ৷
মাহি ভ্রু কুঁচকে বলল,,, মানে?
তুই যদি মেয়েটার সাথে নাচতে যেতি তাহলে বাকিরা আই মিন মেয়েটার পরিবারের লোক অন্যকিছু ভেবে বসত আর তোদের বিয়ে দিয়ে দিত ৷
মাহি আঁতকে উঠে বলল,,, ও মাই আল্লাহ!
অলির মুখের হাসি আরো প্রসারিত হলো ৷ ও হাসতে হাসতে বলল,,,
মেয়েটা হয়তো পছন্দ করে ফেলেছিল ৷ তুই এভাবে রিজেক্ট করে দিলি? রুপবতী মেয়েদের এভাবে প্রত্যাখান করা ভালো কথা নয় ৷
তাহলে তুই করেছিস কেন? তোকেও তো লিলি ব্যতীত এই আদিবাসী গ্রামের কিছু মেয়ে পছন্দ করতো ৷ তুইও তো তাদের প্রত্যাখান করে দিয়েছিস ৷
অলি জবাব দিল না , সামান্য হাসল ৷ মাহি ওর হাসির দিকে তাকিয়ে বলল,,,
বাহ তোর ছাগল মানুষ আর আমার ছাগল ছাগল? তোর ছাগলের ভালোবাসার অনুভূতি আছে আর আমার ছাগল গা*ধা?
অলি জোরে হেসে ফেলে বলল,,, শালাহ উপমা দিবি তো দে ৷ এমন উদ্ভট ব্যাখ্যা কে দিতে বলেছিল? আমি কখন বললাম যে আমার ছাগল মানুষ? তবে হ্যাঁ এটা ঠিক আমার ছাগলের ইটিশপিটিশ করার গুণ রয়েছে ৷
ওই একই হলো ৷ তোর বেলায় দোষ নেই আর আমার বেলায় দোষ ৷ এটা তো ঠিক না অলি! তুই এখনও মাফ চাচ্ছিস না কেন আমার থেকে?
বিল্টু ওদের দুজনের কথার মাঝে বলে উঠল,,,, হায় আল্লাহ তোমরা এতো বাচাল কেন? সামনে একটা উৎসব হচ্ছে , মনোযোগ দিয়ে দেখতে দাও তো ৷
বিল্টুর বড় মানুষের মতো কথা শুনে ওরা দুই বন্ধু হেসে ফেলল ৷ মাহি ওর মাথায় চাটি মে*রে বলল,,,
ওরে আমার উৎসব প্রেমী রে! কাকে যেন ভালোবাসি টালোবাসির কথা বলেছিলি ৷
বিল্টুর মুখটা খানিকটা লজ্জিত আর খানিকটা গম্ভীর হয়ে গেল ৷ ও থমথমে গলায় বলল,,,
এমনি একটা কথা বলবে না ৷ এসব মিথ্যা ৷
অলি আর মাহি একে অপরের দিকে তাকিয়ে হাসতে লাগল ৷ ওদের হাসি দেখে বিল্টুর গম্ভীর মুখ আরো গম্ভীর হয়ে গেল ৷ ও রে*গে গিয়ে অলি আর মাহিকে মা*রতে লাগল ৷ কিন্তু এসব মা*র একটুও গায়ে লাগছে না ওদের ৷ ওরা এই মা*রে আরো মজা পেয়ে বলতে লাগল,,,
আজকালকার পোটলাপুটলি রা সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে ছ্যাহ! ভালোবাসা বানান পারিস?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
উৎসব কিছুক্ষণ আগে শেষ হয়েছে ৷ কয়েকজন এখনও আগুনের পাশে বসে আছে ৷ তবে অনন্যা নেই ৷ ও নিজের দাদুকে সঙ্গে করে নিয়ে এশার নামাজ পড়তে গেছে ৷ এখানে ছোটরা বসে আছে ৷ পিকু এতোক্ষণ খুব মজা করে নৃত্য দেখছিল ৷ শেষ হয়ে যাওয়ায় ও কিছুটা হতাশ হয়েছে ৷ নিজের হতাশা ভাব কাটানোর জন্য ও হেনিনকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,
আপু একটা প্রশ্ন করি?
হেনিন হাসিমুখে বলল,,, নিঃসন্দেহে করো ৷
তুমি তোমার বউকে চেনো?
হেনিন আহাম্মক হয়ে গেল ৷ ও ক্ষণকাল তব্দা খেয়ে বসে থাকার পর বলল,,,
ছেলেদের বউ হয় , মেয়েদের হয় না ৷
হয় না কেন? মেয়েদের কেন বউ হয় না?
কারন মেয়েদের স্বামী হয় ৷ ছেলেদের যেমন বউ মেয়েদের তেমন স্বামী , বুঝেছো?
পিকু মাথা উপর নিচ করে বলল,,, হু বুঝেছি ৷ তাহলে বলো তুমি তোমার স্বামীকে চেনো?
হেনিন হেসে ফেলে বলল,,, না চিনি না ৷
পিকু মুখে কপট রাগের আভা এনে বলল,,, তুমি তোমার স্বামীকে চেনো না ছিহ! যাও তোমার সাথেও ব্রেকআপ ৷
কথাটা বলে পিকু ওর পাশ থেকে উঠে শোভন আর সানার দিকে চলে গেল ৷ ওরা দুজন আবারও মা*রামা*রি শুরু করেছে ৷ শোভন সানার গাল টেনে ছিঁড়ে দেওয়ার উপক্রম আর সানা শোভনের চুল ছিঁড়ে দেওয়ার উপক্রম ৷ আশেপাশে ওদের বাবা মা নেই তাই ওরা এসব করার সুযোগ পেয়েছে ৷ উনারাও নামাজ পড়তে গিয়েছেন ৷
শোভন সানা একটু আগে নামাজ পড়েছে ৷ ওদের এই উৎসব টা খুব একটা ভালো লাগেনি তাই এখানে ছিল না ওরা দু ভাইবোন ৷ যাক সে কথা, পিকু ওদের দুজনকে আবারও মারামারি করতে দেখে ভ্রু কুঁচকে ফেলল ৷ অতঃপর কিছু একটা ভেবে ও ছুটে গিয়ে শোভন আর সানাকে পর্যায়ক্রমে কা*মড়ে ধরল ৷
ওর কা*মড়ে শোভন আর সানা ব্যা’থায় আর্তনাদ করে উঠল ৷ বলতে আপত্তি নেই ওরা দুজন শত মারামারি করলেও ব্যাথা পায় না অথচ অন্যকেউ সামান্য একটা টোকা দিলেও ব্যা’থায় লাফাতে শুরু করে ৷ শোভন আর সানা অত্যন্ত রাগত স্বরে একই সাথে বলল,,,
কা*মড়ালি কেন? তুই কি কু*ত্তা?
পিকু খিকখিক করে হাসতে লাগল ৷ ওর ভীষণ মজা লাগছে ওদের দুজনের ঝগড়া থামাতে পেরে ৷ অবস্থা খারাপ দেখে হেনিন ওদের দিকে এগিয়ে আসল ৷ ও চিন্তিত গলায় বলতে লাগল,,,
ঠিক আছো তোমরা?
শোভন তৎক্ষণাৎ চোখ সরিয়ে নিল ৷ ও তখনের পর থেকে হেনিনকে আর বিরক্ত করেনি নিজের পেপসুডেন্ট মার্কা হাসি দেখিয়ে ৷ সানা নিজেকে সামলে বলতে লাগল,,,
ঠিক আছি চিতা ৷ তুমি বসো ৷
হেনিন চিন্তিত মুখেই ওদের পাশে বসে পড়ল ৷ এই ভাইবোনগুলো ভীষন অদ্ভুত আবার অনেক ভালোও ৷ যদিও শোভনের মধ্যে ভালোকিছু এখনও দেখেনি ও ৷ কয়েক মিনিট লাগল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ৷ পিকু নিজের খিকখিক হাসি বন্ধ করে গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
ভাইয়া আপু শোনো ৷
কি?
আপু তুমি তোমার স্বামীকে চেনো?
সানা ভ্রু কুঁচকে বলল,,, আমার স্বামীকে চেনার বয়স হয়নি ৷ বয়স হলে বলব ৷
কেন বয়স হয়নি? তোমার সাথেও ব্রেকআপ ৷
সানা স্বাভাবিক ভাবে বসে থাকল ৷ কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাল না ৷ পিকুর এসব ঢংয়ের আলাপের সাথে ও বেশ পরিচিত ৷ পিকু বোনের থেকে নজর সরিয়ে ভাইয়ের উদ্দেশ্যে বলল,,,
এবার ভাইয়া তোমার পালা ৷ তুমি তোমার বউকে চেনো?
শোভন অত্যন্ত স্বাভাবিক গলায় বলল,,, হ্যাঁ চিনি ৷
পিকু অসম্ভব খুশি হয়ে ভাইয়ের কোলে ঝাপিয়ে পড়ে ওর গলা জরিয়ে ধরে বলল,,,
তুমি ভালো ৷ তোমার সাথে ব্রেকআপ করব না ৷
সানা কপাল কুঁচকে ওদের দুজনের দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হাই তুলল ৷ হাই তুলতে তুলতে বলল,,,
চিনিস ভালো কথা ৷ কিন্তু তোর বউ তোকে ধোকা দিয়ে অন্য কাউকে বিয়ে যেন না করে ৷
শোভন অন্যদিকে তাকিয়ে বলল,,, আশা করি করবে না ৷
হেনিন একপলক শোভনের দিকে তাকাল ৷ পর মুহূর্তে চোখ সরিয়ে নিল ৷ শোভন একবারের জন্যেও হেনিনের দিকে তাকায়নি যেটায় হেনিন অনেক স্বস্তি পেয়েছে ৷ যাক ছেলেটা হয়তো তার ব্রেন খুঁজে পেয়েছে নয়তো কি যে ঝামেলা হতো!
একটু পর অনন্যা ওদের পাশে এসে বসে পড়ল ৷ একে অপরের দিকে তাকিয়ে ওরা সামান্য হাসল ৷ তারপর চুপচাপ আগুনের শিখার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ হেনিন নিজের অভ্যাসমত অনন্যার দিকে তাকাল ৷ আগুনের লালচে আলো মুখে এসে পড়ায় অনন্যাকে মনে হচ্ছে আগুনকন্যা ৷ হেনিন বেশ কিছুক্ষণ ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তারপর বলল,,,
আপু তোমাকে একটা কথা বলি?
বলো ৷
তুমি না দেখতে অনেক সুন্দর ৷
অনন্যা দীর্ঘশ্বাস ফেলল ৷ এসব কথা ও ওর জীবনে খুব কম শুনেছে ৷ পরিবারের লোক ছাড়া এই প্রথম কেউ এমন কথা বলল ৷ এতে ও খুশি হলো না অখুশি হলো সেটা বোঝা গেল না ৷ একটু পর হেনিন বলল,,,
আর একটা প্রশ্ন করি?
করো ৷
তোমরা তো দিনে পাঁচবার তোমাদের সৃষ্টিকর্তার প্রার্থনা করো ৷
হু পাঁচবার নামাজ পড়ি ৷
বিরক্ত লাগে না? মানে বলতে চাচ্ছি বারবার করতে নিশ্চয়ই বিরক্ত লাগে?
অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,, উহু মোটেও বিরক্ত লাগে না বরং না পড়তে পারলে মনের মধ্যে অস্থিরতা শুরু হয়ে যায় ৷ যেই অস্থিরতা নামাজ না পড়া পর্যন্ত কমে না ৷ নামাজ পড়লে যে প্রশান্তি টা পাওয়া যায় সেটা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না ৷
অনন্যার কথা শেষ হওয়ার সাথে শোভন আর সানা বলে উঠল,,, একদম মনের কথা বলেছো আপু ৷
হেনিন মুচকি হাসল ৷ পিকু শোভনের গলা জড়িয়ে ধরে সবার কথা শুনছিল ৷ এবার ও অনন্যাকে উদ্দেশ্য করে বলল,,,
আমারও একটা প্রশ্ন আছে ৷
করো করো ৷ তুমি কেন বাদ থাকবে?
তুমি তোমার স্বামীকে চেনো?
অনন্যা ভেবেছিল কঠিন কোনো প্রশ্ন করবে কিন্তু এটা শুনে ও আহাম্মক হয়ে গেল ৷ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে ও বলল,,,
না চিনি না ৷
তোমার সাথেও ব্রেকআপ ৷ তুমি আমার সাথে কথা বলবে না ৷
অনন্যা অদ্ভুত দৃষ্টিতে পিকুর দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ অতঃপর কাটকাট গলায় বলল,,,
তুমি তোমার স্বামীকে চেনো?
হ্যাঁ চিনি ৷ বিল্টু ভাইয়া আমার স্বামী ৷
চলবে,,,,

