#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ২৬
অপ্রীতিকর ঘটনাটা সামলে উঠতে বেশ খানিকটা সময় লেগেছে ৷ মাহি কে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে ৷ প্রথমে অলির হার্টের ধুকপুকানি বন্ধ করতে হয়েছে তারপর লিলির জ্ঞান ফেরাতে হয়েছে ৷ বর্তমানে ওরা একটা ফাঁকা জায়গায় বসে আছে ৷ অনন্যা রুমে প্রবেশ করার পর অন্য একটা দরজা দিয়ে বিল্টুর সাথে বেরিয়ে গেছে তাই ও এসব বিষয়ে কিছু জানে না ৷
গাছের ডালে এসে একটা পাখি বসে পড়ল ৷ পাখিটাও নিচের মানুষ তিনটার মতো নিরব ৷ সর্বপ্রথম নিরবতা ভেঙে লিলি বলতে লাগল,,,
অলি ভাইয়া তুমি আমাকে আপনি করে বললে কেন? তুই করেই বলতে ৷ তোমার মুখে তুই ডাক শুনতেই বেশি ভালো লাগে ৷ আর তুমি যে আমাকে ভালোবাসো সেটা আগে কেন বলোনি?
মাহির মাথা চিনচিন করে উঠল ৷ ও দাঁতে দাঁত চেপে বলল,,,
এই যে লিলি না জেনে কিছু বলবে না ৷ নিজের মনকে আগে শান্ত করো ৷
লিলি কপাল কুঁচকে বলল,,, আপনি চুপ থাকুন তো ৷ এটা আমাদের পার্সোনাল ব্যাপার ৷ আপনার এতো জ্বলছে কেন? আমার মতো একজনকে আপনার বন্ধু পেয়েছে সেই জন্য জ্বলছে তাই না?
মাহি আহাম্মক হয়ে ক্ষণকাল লিলির দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ লিলি ওকে দেখে মুখ ভেংচি কাটল ৷ তা দেখে মাহির মুখটা রাগে রক্তিম হয়ে গেল ৷ ও রেগে কিছু বলতে যাবে তার আগেই অলি ওর হাত ধরে ওকে আটকে দিল এবং বলল,,,
শান্ত হ ৷ যা বলার আমি বলব ৷ তুই চুপ থাক ৷
মাহি কিছু বলার আগে লিলি উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে লাগল,,,
হ্যাঁ আপনি চুপ থাকুন ৷ দুজন ভালোবাসার মানুষের মাঝে কথা বলতে যান কেন?
মাহি অলির দিকে তাকিয়ে কাটকাট গলায় বলতে লাগল,,, অলি ওর মুখ বন্ধ করা নয়তো এক্ষুণি পাহাড়ে নিয়ে গিয়ে ধা*ক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দিব!
অলি চোখের ইশারায় ওকে শান্ত থাকতে বলল ৷ অতঃপর লিলির খুশিতে গদগদ হয়ে থাকা মুখটার দিকে তাকিয়ে অত্যন্ত শীতল গলায় বলতে লাগল,,
আমার কিছুক্ষণের আগের বলা কথাগুলো তোর জন্য ছিল না ৷ আমি অন্য একজন ভেবে তোকে বলেছি ৷
লিলির হাসি একটু সরে গেল পর মুহূর্তে আবারও হাসি ফুটিয়ে বলল,,,
আমার সাথে মজা করছো তাই না?
মাহি কর্কশ গলায় বলল,,, হ্যাঁ আমরা তো সার্কাস খুলে বসে আছি!
লিলি রাগী চোখে মাহির দিকে তাকাল ৷ অন্যদিকে অলি মাহির মুখ চেপে ধরে লিলিকে উদ্দেশ্য করে বলল,,
যা বলছি সত্যি বলছি ৷ ছোট থেকেই তোকে আমি বোনের নজরে দেখে এসেছি এবং স্নেহ করেছি ৷ এখানে ভালোবাসার কিছু নেই ৷ তুই অলীক ভাবনায় মেতে আছিস ৷
লিলির চোখ ছলছল করে উঠল ৷ ওর ঠোঁট কাঁপতে শুরু করে দিল ৷ তবুও গলায় খানিকটা জোর দিয়ে বলল,,
তার মানে আমাকে ভালোবাসো না?
কেন বাসব না? অবশ্যই বাসি ৷ এলাকার সবাইকে যেমন ভালোবাসি তোকেও তেমন ভালোবাসি ৷
লিলি চোখ মুছে বলল,,, ভালোই যখন বাসো তাহলে বললে কেন কিছুক্ষণ আগের বলা কথাগুলো আমার জন্য ছিল না ৷
অলি মাহির মুখ থেকে হাত সরিয়ে নিয়েছিল ৷ তাই ও ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগল,,,
ব*লদ নাকি?
লিলি ক্রন্দনরত চোখে মাহির দিকে তাকাল ৷ মাহি বিরক্ত মুখে ওর দিকে তাকিয়ে আছে ৷ অলি মাহিকে বসা থেকে তুলে বলল,,,
তুই ওই গাছের পিছনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থাক নয়তো তোর গালের দাঁড়িগুলো টেনে ছিঁড়ে দিব!
মাহির জীবনের সবচেয়ে দামী জিনিস হলো ওর দাঁড়ি তাই ও কটমট দৃষ্টিতে কয়েক সেকেন্ড অলির দিকে তাকিয়ে থেকে গাছের পিছনে চলে গেল ৷ ও চলে গেলে অলি পুনরায় লিলির সম্মুখে বসল ৷ তারপর শান্ত গলায় বলতে লাগল,,,
এই ভালোবাসা সেই ভালোবাসা না ৷ আমি তোকে বোনের মতো ভালোবাসি ৷ বোন আর বউ কিন্তু এক না ৷ সেটা তোকে বুঝতে হবে ৷
আমি ওসব পার্থক্য বুঝি না ৷ তুমি যেহেতু বোনের মতো ভালোবাসতে পেরেছো তার মানে বউয়ের মতোও ভালোবাসতে পারবে ৷ তুমি একটু চেষ্টা করে দেখো ৷
অলি সামান্য হেসে বলল,,, তোর বুদ্ধিশুদ্ধি এখনও হয়নি ৷ তুই ভালোবাসাই বুঝিস না ৷ যাক গে এসব ভালোবাসা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে পড়াশোনায় মনোযোগ দে ৷
আমি তোমার উপর মনোযোগ দিতে চাই ৷
আমার উপর মনোযোগ দেওয়ার জন্য অন্য কেউ আছে ৷ তাকে আমি সেই অধিকার বুঝিয়ে দিতে চাই ৷ তুই নিজের মনকে সামলা ৷
লিলি কেঁদে ফেলল ৷ কাঁদতে কাঁদতে বলল,,, কে সে?
অলি কোনো জড়তাবিহীন গলায় বলতে লাগল,,, আলু দাদুর নাতনি অনন্যা ৷
লিলি এক সেকেন্ড নিশ্চুপ থেকে বলল,,, আমাকে ছেড়ে তুমি ওই ট্যারা মেয়ের কথা বলছো? তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে ৷ আমার না বরং তোমার মন সামলানো বেশি জরুরি ৷
অলির চোখেমুখে প্রথমবারের মতো একটু বিরক্তি ফুটে উঠল ৷ পর মুহূর্তে সেটা মিলিয়েও গেল ৷ ও কন্ঠটা স্বাভাবিক রেখেই বলল,,,
আমি বাকিদের মতো মানুষকে বিচার করি না ৷ তোদের কাছে যাকে ট্যারা লাগছে আমার কাছে তাকে মায়াবতী লাগছে, তোদের কাছে যার চোখ ত্রুটিপূর্ণ লাগছে আমার কাছে তার চোখের মতো সুন্দর আর কিছু লাগছে না ৷
কথাগুলো একনাগাড়ে বলে অলি উঠে পড়ল ৷ পিছু ঘুরে যেতে ধরেও ও থেমে গেল ৷ বড় করে একটা শ্বাস নিয়ে ও লিলির দিকে না তাকিয়েই বলল,,,
আমাকে মাফ করে দিস ৷ আমি তোর মনমতো তোকে ভালোবাসতে পারিনি তার জন্য দুঃখিত ৷
পিছন ফিরে না দেখলেও অলি বেশ বুঝতে পারল লিলি ডুকরে ডুকরে কাঁদছে ৷ কিন্তু ওর করার কিছু নেই ৷ জোর করে কাউকে ভালোবাসতে পারবে না ও ৷ তাও আবার সেই মন যদি অলরেডি অন্য কারো আয়ত্বের অধীনে চলে গিয়ে থাকে তো ৷
অলি কাছাকাছি আসতেই মাহি গাছের পিছন থেকে লাফিয়ে ওর সম্মুখে এসে দাঁড়িয়ে বলল,,,
পিকুর সাথে বিল্টুর আড়ি
তোর ডায়ালগগুলো ছিল সেই মাইরি
মারো তালি;
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
আমেনা খাতুনের থেকে ঝাড়ি খাওয়ার পর আলমগীর প্রামানিক অত্যন্ত ভেবে চিন্তে একজন মানুষ খুঁজতে লাগলেন যে উনার প্রশ্নের ঠিক ঠিক উত্তর দিতে পারবে ৷ উনি যখন এসব ভাবনায় মগ্ন তখন খোদেজা বেগম উনার রুমে দু কাপ চা এনে বললেন,,,,
চলুন চাচা একসাথে চা খাওয়া যাক ৷
আলমগীর প্রামানিক ইশারায় অনুমতি দিলেন ৷ খোদেজা বেগম উনার পাশে বসে উনার হাতে একটা চায়ের কাপ তুলে দিয়ে নিজে দ্বিতীয় চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে বললেন,,,
কি ভাবছেন বলুন তো চাচা ৷
তেমন কিছু না…..
হঠাৎ কিছু একটা মনে পড়ায় আলমগীর প্রামানিক চকিতে খোদেজা বেগমের দিকে তাকালেন ৷ উনার দিকে তাকাতেই আলমগীর প্রামানিকের মুখটা হাসিহাসি হয়ে গেল ৷ উনি উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে লাগলেন,,,
রুপবতী কন্যা থাকতে আবার কিসের টেনশন?
খোদেজা বেগম ভ্রু কুঁচকে বললেন,,, মানে?
আলমগীর প্রামানিক খোদেজা বেগমের মুখোমুখি বসে বলতে লাগলেন,,,
আমার কিছু প্রশ্নের উত্তর দিবে?
কেন দিব না? উত্তর জানা থাকলে অবশ্যই দিব ৷
প্রশ্নগুলো অলি বাবুকে নিয়ে ৷
খোদেজা বেগমের ভ্রু কুঁচকে গেলেও উনি স্বাভাবিক গলায় বললেন,,, আচ্ছা বলব ৷
আলমগীর প্রামানিক গলা খাকারি দিয়ে বললেন,,, অলির বাবা মা কিভাবে মা*রা গিয়েছিল? আর ওর জন্ম কি এখানেই হয়েছে?
খোদেজা বেগম চায়ের কাপটা দূরে সরিয়ে রাখলেন ৷ প্রশ্নগুলো শুনেই উনার মুখটা ফ্যাকাশে হয়ে গেল ৷ উনি হতাশ শ্বাস ফেলে বললেন,,,
অলি আমাদের এলাকার কেউ না ৷
আলমগীর প্রামানিক হতভম্ভ হয়ে গেলেন ৷ উনি অবাক কন্ঠে বললেন,,,
এলাকার কেউ না মানে? তাহলে ও কে?
বহু বছর আগে অলির বয়স যখন চার কি পাঁচ তখন ওকে একটা ঝোপের আড়ালে আহত অবস্থায় খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল ৷ জামিল চাচা পাহাড়ে গিয়েছিলেন গরুকে ঘাস খাওয়াতে ৷ সেই সময় ছোট বাচ্চার কাতরানো শুনে উনি চমকে উঠলেন ৷ তারপর আশেপাশে খুঁজতে শুরু করলেন এবং অলিকে পেলেন ৷ বাচ্চা টা ভীষণ অসুস্থ ছিল ৷ কি যে মিষ্টি চেহারা ছিল ওর!
আলমগীর প্রামানিকের হতভম্ভ ভাব কমেনি বরং বেড়ে গেছে ৷ উনি উত্তেজিত হয়ে বলতে লাগলেন,,,
ওর বাবা মায়ের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি?
খোদেজা বেগম হতাশ শ্বাস ফেলে বললেন,, না কোনো খোঁজ পাইনি ৷ তবে অলিকে খুঁজে পাওয়ার দুইদিন আগে আমাদের এলাকা থেকে খানিকটা দূরে স*ন্ত্রাসী হামলা হয়েছিল ৷ সেই হামলাতেই হয়তো ওর বাবা মা মা*রা গেছে ৷ আমরা ওর পরিচয় খুঁজে পাইনি শত চেষ্টা করেও আর যোগাযোগ ব্যবস্থাও তখন এতোটা উন্নত ছিল না ৷ শেষে জামিল চাচা নিজের নাতির মতো করে ওকে মানুষ করেছে ৷
তার মানে বলতে চাচ্ছ অলি বাবু ওই ঝোপের মধ্যে দুইদিন আহত অবস্থায় পড়ে ছিল?
হ্যাঁ ৷ ভীষণ অসুস্থ ছিল ছোট্ট বাচ্চাটা ৷ প্রচন্ড ব্যা’থায় কান্না করত আর মা মা বলে ডাকত ৷
খোদেজা বেগমের গলা ভারী হয়ে আসতে লাগল ৷ আলমগীর প্রামানিক কিছু হিসাব মেলাতে ব্যস্ত কিন্তু কিছুতেই মিলছে না ৷ সবকিছু কেমন জট পাকিয়ে যাচ্ছে ৷ তাই উনি খোদেজা বেগমের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন,,,,
তোমার ওই জামিল চাচাকে কোথায় পাব?
খোদেজা বেগম শুকনো হেসে বললেন,,, পাবেন না ৷ উনি যেখানে আছেন সেখানে যাওয়া সহজ কাজ না ৷
তুমি একবার বলে দেখো ৷ আমি নিশ্চয়ই যাব ৷ আর সবচেয়ে বড় কথা উনি অলি বাবুকে ছেড়ে গিয়েছেন কেন? বড়ই নি*ষ্ঠুর তো!
হ্যাঁ নি*ষ্ঠুর তো বটেই ৷ অলির বয়স যখন ১২ তখন জামিল চাচা না ফেরার দেশে চলে গেলেন ৷ অলি নিজের কষ্ট ভুলে যেই একটু হাসতে শিখল ওমনি উনি চলে গেলেন ৷ উনাকে নি*ষ্ঠুর বলব না তো কাকে বলব?
আলমগীর প্রামানিক নিশ্চুপ হয়ে গেলেন ৷ উনার এতো খারাপ লাগছে যা বলার মতো না! খোদেজা বেগম পুনরায় বলতে লাগলেন,,,
জামিল চাচা মা*রা যাওয়ার পর হঠাৎ করেই যেন অলি বড় হয়ে গেল ৷ এলাকা ছেড়ে পাহাড়ে গিয়ে থাকা শুরু করল ৷ নিজেই নিজের দায়িত্ব নিয়ে নিল ৷ অবশ্য এলাকার সবাই ওকে অসম্ভব ভালোবাসা দিয়েছে এবং এখনও দিচ্ছে ৷
এবারও আলমগীর প্রামানিক নিশ্চুপ থাকলেন ৷ এতো কষ্ট মনের মধ্যে চেপে রেখে দিব্যি কতটা হাসিখুশি থাকছে ছেলেটা! কেউ বিশ্বাস করবে ওর জীবনে এতো কষ্ট লুকিয়ে আছে?
খোদেজা বেগম কিছুক্ষণ বসে থেকে চলে যাওয়ার জন্য উঠে পড়লে আলমগীর প্রামানিক ক্ষীণ গলায় বললেন,,,
অলি বাবু কি জানে জামিল ভাই ওর আপন কেউ না?
খোদেজা বেগম উদাস গলায় বললেন,,, হ্যাঁ জানে ৷ বড় হওয়ার পর জেনেছে ৷
খোদেজা বেগম চলে গেলেন ৷ অন্যদিকে আলমগীর প্রামানিক চুপ করে বসে আছেন ৷ উনি বড় কিছু একটা মেলাতে চাচ্ছেন কিন্তু সেটা কিছুতেই মিলছে না ৷ কোথাও যেন একটা বিরাট ফাঁক থেকে যাচ্ছে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকাল সকাল বিল্টু অনন্যাকে নিয়ে পাহাড়ে চলে গেল ৷ ও সকালবেলার পাহাড়ের সৌন্দর্য অনন্যাকে দেখাতে চাচ্ছে ৷ সেই সৌন্দর্য অনন্যাকে অলরেডি মুগ্ধও করে ফেলেছে ৷ ও চারদিকে তাকাতে তাকাতে বলল,,,,
পাহাড় টা ভীষণ অচেনা লাগছে ৷ অসম্ভব সুন্দর অচেনা জায়গা ৷
বিল্টু ভাব নিয়ে বলল,, পাহাড় গিরগিটির মামাতো ভাই ৷ ও সকাল বেলা এক রুপ নেয়, দুপুরে এক রুপ, বিকেলে এক রুপ আর রাতে আরেক রুপ নেয় হিহি ৷
অনন্যা হেসে ফেলে বলল,,, আর তুমি খান্না বাবুর দূর সম্পর্কের মামা ৷
বিল্টু হাসি বাদ দিয়ে চোখ সরু করে অনন্যার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,, দশ বছরের এক যুবককে খান্না বাবুর মতো দামড়ার মামা বলতে তোমার গলা কাঁপল না?
ওর কথা শুনে অনন্যা জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ ওর হাসির মাঝেই ওরা অলির বাড়িতে পৌঁছে গেল ৷ অলিকে কোথাও দেখা যাচ্ছে না ৷ তাই বিল্টু ভিতরে চলে গেল ৷ এক মিনিটের মধ্যে ফিরেও এলো ৷ এসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগল,,,
আবারও মনে পড়েছে তাহলে! অলি ভাইয়া ঘুমোচ্ছে ৷
অনন্যা কপাল কুঁচকে বলল,,, কাকে মনে পড়েছে? আর মনে পড়ার সাথে ঘুমানোর কি সম্পর্ক?
ও তুমি বুঝবে না ৷ এটা বড় মানুষের ব্যাপার ৷
অনন্যা আহাম্মক হয়ে বলল,,, তুমি খুব বড় হয়ে গেছো?
তা নয় তো কি? আমাকে সবাই সম্মান দিয়ে চলে ৷
কারা?
কারা আবার? অলি ভাইয়ার ছাগল তিনটা ৷
অনন্যা হাসি আটকাল বহুকষ্টে ৷ এমন সময় হুট করে একটা ছাগল দৌঁড়াতে ধরে মুখ থুবড়ে পড়ে গেল ৷ তা দেখে অনন্যা হাসি চেপে না রেখে হাসতে হাসতে বলল,,,
তোমার প্রিয় অভিভাবক পড়ে গেছে বিল্টু ৷ উনাকে উঠতে সাহায্য করো ৷
চলবে,,,,

