#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৩৩
দূর থেকে পাখির কিচিরমিচির আওয়াজ ক্ষণে ক্ষণে ভেসে আসছে ৷ অলির কানে সেগুলো ট্রেনের মৃদঙ্গের মতো ঝিকঝিক করে বাজছে ৷ ও এখনও নিজের রুমে বসে আছে ৷ কতক্ষণ সময় পেরিয়ে গেছে সেটা ও জানে না ৷ শুধু জানে ওর বুকের মধ্যে অসহ্য রকমের য*ন্ত্রণা হচ্ছে যেটা ও সহ্য করতে পারছে না ৷
কিছুক্ষণ পর ইয়াসির প্রামানিক ওর রুমের সামনে এসে দরজায় টোকা মেরে বললেন,,,
আরাফাত? বের হচ্ছো না কেন? তুমি ঠিক আছো তো?
ইয়াসির প্রামানিকের মুখে স্পষ্ট চিন্তার ছাপ ৷ উনার চিন্তার মাঝেই ফট করে দরজা খুলে গেল ৷ দরজা ছাড়িয়ে নিজের ছেলের হাস্যজ্জ্বল মুখ দেখতেই উনার চিন্তা নাই হয়ে গেল ৷ অলি স্বাভাবিক গলায় বলল,,,
বোনের বিয়ের কথা শুনে এতোই খুশি হয়েছি যে মাথা কাজ করছে না ৷
ইয়াসির প্রামানিক মুচকি হেসে ভিতরে প্রবেশ করে বললেন,,, হ্যাঁ তা তো অবশ্যই ৷ একটাই বোন তোমার ৷
অলির মুখে হাসি এখনও লেগেই আছে ৷ হুট করে ও নিজের কপাল চাপড়ে হায় হুতাশ করে বলতে লাগল,,
দেখেছো কান্ড! গোসল করার জন্য রুমে আসলাম আর সেই গোসল করতেই ভুলে গেছি আমি! তুমি একটু অপেক্ষা করো আমি গোসল করে আসছি ৷
বলে অলি শার্ট নিয়ে বাথরুমে প্রবেশ করল ৷ ইয়াসির প্রামানিক ওর রুমের চতুর্দিক দেখতে দেখতে মুখে হাসি বজায় রেখে বিছানার উপর বসে পড়লেন ৷ অন্যদিকে অলি বাথরুমে প্রবেশ করার সাথেই ওর হাসি মিলিয়ে গেল ৷ মুখে য*ন্ত্রণার মলিন ছাপ ভেসে উঠল ৷ ও পানির ট্যাপ ছেড়ে দিয়ে দেয়ালে হেলান দিয়ে বলতে লাগল,,,
আমি ভীষণ খুশি! আমার বোনের বিয়ে, আমার বোনের বিয়ে!
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
দুইদিন কেটে গেছে ৷ অলি এই দুইদিনে কারো সাথে যোগাযোগ করেনি ৷ নিজের রুমেই বেশিরভাগ সময় পড়ে ছিল ৷ আজ রুম থেকে বেরোল ও ৷ মুখে সেই চিরাচরিত হাসি ফোটানোর জন্যেই হয়তো দুইদিন সময় লাগল ৷ ভাগ্যের কি নি”র্মম পরিহাস! রুম থেকে বেরোতেই অনন্যার সাথে ওর দেখা হয়ে গেল ৷
অনন্যা কে দেখতেই ও মুখের হাসি আরো প্রসারিত করে বলল,,,
বিয়ে তো করতে যাচ্ছেন ৷ পাত্র পছন্দ হয়েছে?
অনন্যা স্বাভাবিক গলায় বলল,,, পাত্রকে অপছন্দ করার কোনো কারন আপাতত চোখে পড়েনি ৷ তাই বলছি হ্যাঁ পছন্দ হয়েছে ৷
অলির মুখ থেকে হাসি সরে যেতে ধরল ৷ কিন্তু অলি সেই হাসিকে যেতে দিল না , মুখের মধ্যে আটকে দিল ৷ ওর এই হাসির সাথে যু*দ্ধ করার সময় অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,,
চলুন বাগানে গিয়ে বসি ৷
অলি আপত্তি করল না ৷ দুজনে বাগানে দুটো চেয়ার দখল করে বসে পড়ল ৷ ক্ষণকাল নিরবতার পর অনন্যা বলতে লাগল,,,,
কি আশ্চর্য রামছাগল দুটোর আগেই আমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে! পরের সপ্তাহেই বিয়ে ৷ ছেলের দেখছি খুব তাড়া ৷
অলি নিশ্চুপ থাকল ৷ কিন্তু অনন্যা নিশ্চুপ থাকল না ৷ ও আবারও বলতে লাগল,,,
আমার বিয়েতে আমাকে কি দিবেন বলুন তো?
অলি ক্ষীণ গলায় বলল,,,যা চাইবেন তাই দিব ৷
পাক্কা?
হু ৷
আপনার থেকে দুটো জিনিস চাই আমার ৷
বলুন ৷
আপনার মাথার ক্যাপ টা আমার খুবই পছন্দ ৷ আর আপনার সেই পাহাড়ী এলাকার বাড়িটা আমাকে এক সপ্তাহের জন্য দিতে হবে ৷ ওমন একটা বাড়ির স্বপ্ন আমার অনেকদিনের কিন্তু সেটা তো আর সম্ভব না তাই ভাবছি বিয়ের পর স্বামী সহ ওখানে গিয়ে এক সপ্তাহ থাকব ৷ দিবেন ভাড়া?
অলির হৃদপিন্ড আটকে যাওয়ার উপক্রম হলো ৷ মুখ দিয়ে কথা বের হচ্ছে না ৷ তবুও এক মিনিটের চেষ্টার পর ও মুখ ফুটে বলল,,,
কথা যখন দিয়েছি তখন সব দিব ৷ এক সপ্তাহ কেন? আপনি চাইলে এক মাসের জন্য নিতে পারেন ৷
না এক মাস লাগবে না ৷ এখানে এসে আমাদের নতুন সংসারও তো সাজাতে হবে নাকি?
হু ৷
অনন্যা ভ্রু কুঁচকে অলির আপাদমস্তক দেখে বলতে লাগল,,, আপনি আজ এতো নিশ্চুপ কেন বলুন তো? অন্যদিন তো আপনার মুখ বন্ধ করা যায় না ৷ তাহলে আজ কি হলো?
আপনি তো এতো কথা বলেন না ৷ আজ যেহেতু বলছেন তাই আমি আপনাকে বলার সুযোগ করে দিচ্ছি ৷
অনন্যা ওর থেকে চোখ সরিয়ে নিয়ে বলল,,, তাও ঠিক ৷ আসলে আমার হবু স্বামী এতো সুদর্শন যে মাথা পুরো আউলিয়ে গেছে ৷ আপনি তো সাহিক কে দেখেছেন তাই না?
হু দেখেছি ৷
অনেক সুদর্শন তাই না?
জ্বি অনেক সুদর্শন ৷ সব মেয়েই এমন পুরুষকে নিজের স্বামী রুপে কামনা করে ৷
অনন্যা মুচকি মুচকি হাসছে ৷ আড়চোখে সেটা খেয়াল করে অলির বুক পু*ড়ে যাচ্ছে ৷ ওর মনে হচ্ছে এক্ষুণি গিয়ে চলন্ত ট্রাকের সামনে গিয়ে দাঁড়াতে ৷ তাহলে হয়তো বুকের অসহনীয় য*ন্ত্রণা থেকে ও মুক্তি পাবে ৷ কিন্তু না সেটা ও করবে না ৷ নিজের সুখের কথা ভেবে ও নিজের বাবাকে পুনরায় ঘরবন্দী করে ফেলতে চায় না ৷
কিছুক্ষণের নিরবতার পর অনন্যা শান্ত গলায় বলতে লাগল,,, আজ আমি আপনাকে একবারও ভাইয়া বলে ডাকিনি সেটা খেয়াল করেছেন?
অলি ইষৎ চমকে উঠে বলল,, হু?
আমি জানি ভাইয়া বললে আপনি লজ্জা পান ৷ আসলে অপরিচিত একটা মেয়ে হুট করে ভাইয়া বলে ডাকলে লজ্জা তো লাগবেই তাই না?
হু ৷
ছোট বোন হিসেবে আপনার জন্য এটুকু তো করতেই পারি ৷
অলি করুন চোখে অনন্যার হাস্যজ্জ্বল মুখটার দিকে একপলক তাকিয়ে থাকল ৷ পর মুহূর্তে চোখ সরিয়ে নিল ৷ অনন্যার হাসি ওর কাছে বি*ষাক্ত কাটার মতো অনুভূত হচ্ছে যেই কাটা সোজা ওর বুকে গিয়ে আ*ঘাত হানছে!
ওরা এখন চুপচাপ বসে আছে ৷ এমন সময় অনন্যার ফোন বেজে উঠল ৷ একপলক ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে অনন্যা মুচকি হেসে বলল,,,
সাহিক ফোন দিয়েছে ৷ এই ছেলে দিনে যে কতবার ফোন দেয় তার হিসাব নেই ৷ পুরো পাগল!
কথাটা বলে অনন্যা ফোন রিসিভ করে অন্যদিকে চলে গেল ৷ অলি একদৃষ্টিতে সেদিকে তাকিয়ে থাকল ৷ এক পর্যায়ে অনন্যার হাস্যজ্জ্বল মুখটা দেখে চোখ ঝাপসা হতে ধরলে ও দ্রুত সেখান থেকে উঠে পড়ল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
মাহি কফির কাপে এক চুমুক দিয়ে বিরক্তিকর একটা আওয়াজ করে সেটা টেবিলের উপর ঠাশ করে রেখে দিল ৷ তারপর অত্যন্ত গম্ভীর গলায় বলতে লাগল,,,
তিনদিন থেকে তোর খোঁজ নেই ৷ আর আজ যখন নিজের থোবড়া দেখালি তখন বলছিস অনন্যার বিয়ে ঠিক হয়েছে? সিরিয়াসলি?
না হওয়ার কি আছে বল তো? উনি কি বিয়ে করবেন না?
করবে না কেন? অবশ্যই করবে কিন্তু পাত্র হবি তুই ৷ কোনো সাহিক ফাহিক না ৷
অলি মলিন হেসে বলল,,, জোর করে বিয়ে করতে বলছিস? তুই জানিস আমি এমন কিছু করব না ৷ তাছাড়া উনি এই বিয়েতে অনেক খুশি ৷ তুই তো দেখিস নি উনার খুশি!
দেখতে চাচ্ছি না ৷ তুই এতোটা আহাম্মক কেন বা*ল? নিজের ভালোবাসাকে ছিনিয়ে নিতে শেখ ৷
নিজের সুখের জন্য উনার সুখ ন*ষ্ট করতে চাই না আমি ৷ তাছাড়া আমি ভীষণ খুশি ৷ ভীষণ ভীষণ খুশি উনার মুখে হাসি ফুটতে দেখে ৷
মাহি হতাশ শ্বাস ফেলে বলল,,, আর তোর খুশি?
অলি দাঁত বের হাসতে হাসতে বলল,,, আমিও খুশি ৷ তুই কি আমার খুশি দেখছিস না? আমার খুশি তোর চোখে পড়ছে না কেন?
মাহি অসহায়ভাবে অলির জোরপূর্বক হাসতে থাকা মুখটার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ ওর মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল অলির অবস্থা দেখে ৷ ওর তো মনে চাচ্ছে অনন্যার মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে বলতে,,
আমার অলির মতো সুদর্শন ছেলেকে বিয়ে না করলে তোমার মাথার ঘিলু আউলা ঝাউলা করে দিব!
কিন্তু সেসব কিছু ও করতে পারবে না ৷ অলি ওকে অনুমতি দিবে না ৷ আরো কিছুক্ষণ অলির মিথ্যা হাসি দেখে চলল ও ৷ এক পর্যায়ে অলি বসা থেকে উঠে বলল,,,
আমাকে এখন যেতে হবে ৷ বোনের বিয়ের অনেক কাজ বাকি আছে ৷ বড় ভাই হিসেবে একটা দায়িত্ব আছে না?
অলি!
কি? আমাকে যেতে হবে ৷ বলতে গেলে কাল থেকে তোকেও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হবে ৷
কথাটা বলেই অলি কফিশপ থেকে বেরিয়ে আসল ৷ ওর মুখের হাসি সরছে না, ও কাউকে নিজের কষ্ট দেখাতে চায় না ৷ অন্যদিকে মাহি করুন চোখে বন্ধুর গমনপথের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,,
এক জীবনে আর কত ক*ষ্ট সহ্য করবি? সবাইকে হারানোর কষ্টটা কি শুধু আল্লাহ তোকেই দিতে চায়? আমি কি তোর একটুখানি কষ্ট ভাগ করে নিতে পারি না?
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কফিশপ থেকে বেরোনোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়তে লাগল ৷ এটা অসময়ের বৃষ্টি ৷ সবাই কোনো না কোনো দোকানের সামনে আশ্রয় নিতে লাগল কিন্তু অলির মধ্যে কোনো তাড়া দেখা গেল না ৷ ও এই অসময়ের বৃষ্টিকে পুরোপুরিভাবে উপভোগ করতে চায় ৷ তাই এমন মুষুলধারে বৃষ্টির মাঝে হাঁটতে শুরু করল ৷
একটা ফাঁকা জায়গায় এসে ও পায়ের গতি থামাল ৷ অতঃপর আকাশের দিকে তাকিয়ে নিজেই নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলতে লাগল,,,
আমি খুশি! আমি খুশি! আমি খুশি!
কথাটা শেষ করার সাথেই ও হুট করে ডুকরে কেঁদে উঠল ৷ ওর চোখের পানি বৃষ্টির পানির সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল ৷ ওকে একটু কাঁদার সুযোগ দেওয়ার জন্যেই হয়তো বৃষ্টির আগমন হয়েছে ৷ অলি এতো বেশি কান্না অনেকদিন পর করল ৷ ছোট থেকে তো কম কান্না করতে হয়নি ওকে! তবুও মাঝখানে নিজেকে সামলে নিয়েছিল কিন্তু আজ আবারও দূর্বল হয়ে পড়ল ৷
কতক্ষণ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কেঁদেছে সেটা অলি জানে না ৷ তবে বাড়ি অভিমুখে হাঁটতে ধরে ওর মাথা টলতে লাগল ৷ তবুও হাঁটতে থাকল ও ৷ বাড়ি ফিরতে হবে ওকে ৷ অনন্যার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে ৷ অনেক দায়িত্ব পড়ে আছে ৷ অলি দ্রুত পা চালাতে লাগল ৷ ওর মাথায় এবার ভোতা একটা য*ন্ত্রণা হতে লাগল ৷
দেখতে দেখতে ও বাড়ির সামনে চলে আসল ৷ কিন্তু বাগানে আসতেই বসে পড়ল ৷ পায়ে আর সামর্থ্য পাচ্ছে না ও ৷ আধো আধো চোখে দেখল অনন্যা ওর অবস্থা দেখে বাড়ির সকলকে ডাকতে চলে গেল ৷ কিছু সময়ের মধ্যেই ওকে ভিতরে প্রবেশ করানো হলো ৷ ইয়াসির প্রামানিক ছেলের অবস্থা দেখে চিন্তিত স্বরে বলতে লাগলেন,,,
বৃষ্টিতে ভিজতে গিয়েছিলে কেন? অসময়ের বৃষ্টিতে কেউ ভেজে?
আলমগীর প্রামানিক বিরক্তিতে চ কারান্ত উচ্চারণ করে বললেন,,, গাধার গাধা জ্ঞান না দিয়ে ছেলের জামাকাপড় বদলে দাও আগে ৷
ইয়াসির প্রামানিক অপমান গায়ে মাখলেন না ৷ দ্রুত অলির ভেজা কাপড় বদল করানো হলো ৷ থার্মোমিটার দিয়ে জ্বর মাপার পর সকলের পিলে চমকে উঠল ৷ ওর ১০৬° জ্বর উঠে গেছে ৷ দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে ৷
বাড়ির লোক কে কি করছে সেটা অলির মাথায় ঢুকছে না ৷ ওর মাথায় শুধু ভোতা য*ন্ত্রণা টাই ছন্দের মতো বেজে চলেছে ৷ চোখ দুটো টকটকে লাল হয়ে গেছে ৷ সেই টকটকে লাল চোখে ও নিজের সামনে নিজের মাকে দেখতে পেল ৷ তবে একটা গন্ডগোল আছে ৷ ও ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগল,,,
মা তোমাকে অনন্যার মতো দেখতে লাগছে ৷
ওর পাশে অনন্যাই বসে আছে ৷ কিন্তু অলি জ্বরের ঘোরে আবোল তাবোল বকছে ৷ অনন্যা ওকে ব্যস্ত গলায় বলতে লাগল,,,
চুপ থাকুন ৷ বেশি কথা বলবেন না ৷ আপনাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাব আমরা ৷
মা তুমি এতো অস্থির হচ্ছো কেন? আমি ঠিক আছি ৷ তবে তুমি আমাকে আপনি আপনি করে বলছো কেন? ছেলেকে কি আপনি আপনি করে বলে? বলে হয়তো আমার ঠিক মনে পড়ছে না ৷
উফফ দোহাই লাগে আপনি কথা বলবেন না ৷
মা জানো অনন্যার বিয়ে ঠিক হয়েছে ৷ ছেলেটাও অনেক সুদর্শন ৷ কিন্তু আমি চাই অনন্যা বিয়েটা ক্যান্সেল করে দিক ৷ তুমি প্লিজ উনাকে কথাটা বলবে? তবে হ্যাঁ আমি এটা বলতে বলেছি সেটা অনন্যাকে বলবে না ঠিক আছে?
প্লিজ চুপ করুন ৷ আপনাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি ৷ আর একটু অপেক্ষা করুন ৷
আগে বলো তুমি অনন্যাকে বিয়েটা করতে মানা করে দিবে ৷ বলো মা ৷
বলব ৷
সত্যি বলবে?
হু ৷
তাহলে আর একটা কথাও বলো ৷ অনন্যাকে বলো যে উনাকে আমি ভুল করে ভালোবেসে ফেলেছি ৷ উনাকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখি রোজ ৷ অনেক ভালোবাসি উনাকে ৷ বিশ্বাস করবে না উনাকে অজান্তেই এতো বেশি ভালোবেসে ফেলেছি যে এখন উনাকে হারালে আমি ম*রে যাব!
অলি চুপ করল কিছুক্ষণের জন্য ৷ অতঃপর বলতে লাগল,,, না না মা এটা বলো না ৷ শুধু বিয়েটা ভেঙে দিতে বলো ৷ কিন্তু একটু আগের কথাগুলো বলো না ৷ আশ্চর্য তোমাকে আবারও অনন্যার মতো লাগছে কেন বলো তো? আর তুমি কাঁদছোই বা কেন?
চলবে,,,,

