চাঁদের_হাসি #লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান #পর্বঃ৪

0
30

#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৪

ভোরের আলো ফোটার আগেই অনন্যার ঘুম ভেঙে গেছে ৷ ও ফজরের নামাজ পড়ে কিছুক্ষণ জায়নামাজে বসে থাকল ৷ অতঃপর যখন আলো ফুটতে শুরু করল তখন নিজের রুম থেকে বেরিয়ে আসল ৷ আলমগীর প্রামানিকের ঘর থেকে কোরআন তেলাওয়াতের মিষ্টি সুর ভেসে আসছে ৷ অনন্যা সেদিকে না গিয়ে রিসোর্টের আশেপাশে টা একটু ঘুরে দেখল তবে বেশিদূর গেল না ৷

কিছুক্ষণ পর অনন্যা নিজের দাদুর সাথে নাস্তা সেরে নিল কারন ওদের ৯ টার আগেই খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে যেতে হবে ৷ ওরা ১০ টার মধ্যে বাঘাইহাটী আর্মি ক্যাম্পে চলে গেল ৷ ওখান থেকে সাজেক ভ্যালির প্রথম স্কট রওয়ানা হবে ৷ দ্বিতীয় স্কট একেবারে দুপুর ২ টায় যাবে ৷ এই দুই সময় ছাড়া সাজেক ভ্যালি যাওয়া যায় না ৷

অনন্যা আর আলমগীর প্রামানিক কথাবার্তা বলে একটা দলের সাথে যাওয়ার ব্যবস্থা করল ৷ ১২-১৫ জনের একটা দল ৷ দলের অংশ হয়ে গেলে খরচাপাতি কম পড়ে ৷ ওই দলের মধ্যে একটা পরিবার আছে ৷ স্বামী স্ত্রী, উনাদের দুই জমজ ছেলে মেয়ে , বয়স পনের বা ষোলো হবে আর একটা সাত বছরের ছোট মেয়ে যে নিজের বাবার কোলে বসে আছে ৷ জমজ ছেলে মেয়ে দুটো এতোটা ভদ্রভাবে বসে আছে যা কল্পনার বাইরে ৷ ভাই বোন যে এতোটা শান্ত হয়ে আছে এই দৃশ্য বেশ উপভোগ্য ৷

তবে ছোট মেয়েটা একদৃষ্টিতে আলমগীর প্রামানিক আর অনন্যার দিকে তাকিয়ে আছে ৷ এক পর্যায়ে ও বলতে লাগল,,,

এই যে সাদা দাঁড়ির মালিক শোনো ৷

আলমগীর প্রামানিক হাসিহাসি মুখে বাচ্চাটার দিকে তাকিয়ে বললেন,, কিছু বলবে?

কিছু যদি নাই বলি তাহলে ডাকলাম কেন আশ্চর্য!

ওহ হো তাই তো ৷ আমিও বোকার মতো প্রশ্ন করে ফেললাম ৷ তা কি বলবে তুমি?

তোমার দাঁড়ি এতো সাদা কেন? তুমি কি খুব ভাত খাও? ভাতের মতো সাদা হয়ে গেল কিভাবে তোমার দাঁড়ি?

আলমগীর প্রামানিক অমায়িক হেসে বললেন,,, ভাত তো আমি খাই তবে বেশি খাই না ৷ আমার বয়স হয়েছে তাই দাঁড়ি পেকে গেছে ৷

বয়স তো আমার বাবারও হয়েছে ৷ তাহলে তার দাঁড়ি কেন কালো?

বাচ্চার মা বললেন,,, পিকু চুপ করো ৷ এতো কথা বলা ভালো দেখায় না ৷

আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,, আহা মা বাধা দিও না ৷ ছোট মানুষ কথা বলবেই ৷

পিকু নিজের মাকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,, তুমি এমন করো কেন? তুমি না বলেছো আল্লাহ আমাদের মুখ দিয়েছেন কথা বলার জন্য? তাহলে আমি কথা বলব না কেন?

আলমগীর প্রামানিক বললেন,, তাই তো, তাই তো ৷ তুমি তো একদম ঠিক কথা বলেছো ৷

আমি সবসময় ঠিক বলি ওকে?

হ্যাঁ ৷

পিকু আলমগীর প্রামানিকের মুখ থেকে নজর সরিয়ে অনন্যার দিকে তাকাল ৷ অনন্যা শুরু থেকেই নিশ্চুপ বসে আছে আর মুখভঙ্গিও অপরিবর্তিত ৷ পিকু ভ্রু কুঁচকে ওর দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,,

এই যে সাদা দাঁড়ি এটা কি তোমার রোবট? আমি একবার টিভিতে দেখেছিলাম রোবট মানুষের মতো দেখতে কিন্তু ওরা মানুষের মতো বেশি কথা বলতে পারে না ৷

ওর কথা শুনে ওখানে উপস্থিত সকলে খানিকটা হেসে ফেলল ৷ অনন্যা প্রথমবার পিকুর দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল কিন্তু কোনো কথা বলল না ৷ তা দেখে পিকু অবাক গলায় বলতে লাগল,,,

রোবট তো হাসতে পারে না ৷ এই রোবট টা হাসল কিভাবে সাদা দাঁড়ি?

পিকুর মা মেয়েকে থামাতে থামাতে ইতস্তত করে বলে উঠলেন,, ও কি কথা…

আলমগীর প্রামানিক তৎক্ষণাৎ বলতে লাগলেন,, আমার নাতনি কথা বলতে পারে ৷ কিন্তু সবার সাথে কথা বলে না ৷ পরিবারের মানুষ ব্যতীত ও কারো সাথে কথা বলে না ৷ ওই যে ইংরেজিতে কি জানি বলে না? মনে পড়ছে না ইনটাভাত না কি যেন..

পিকুর জমজ ভাইবোন সমস্বরে বলে উঠল,, ইন্ট্রোভার্ট ৷

হ্যাঁ ওটাই ৷ আমার নাতনি একটু ইনটাভাত টাইপের ৷ ও অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতে পারে না ৷

জমজ ভাইবোন আবারও আলমগীর প্রামানিকের ভুল উচ্চারণ শুদ্ধ করে দিয়ে বলে উঠল,, ইন্ট্রোভার্ট ৷

বুড়ো লজ্জা পাওয়ার পর্যাপ্ত সময়ই পেলেন না ৷ পিকু সবকিছু ভালোভাবে পর্যালোচনা করে বলতে লাগল,,,

তুমি আমার সাথে কথা বলোনি ৷ আমি তোমার সাথে ব্রেকআপ করলাম ৷ আমার দিকে তাকাবে না তুমি ৷

অনন্যা ওর কথা শুনে হেসে ফেলল ৷ গন্তব্য চলে আসায় সকলে নেমে পড়ল ৷ ওরা সকলে দুইদিন এখানে থাকবে ৷ পিকুকে নিয়ে দুই দম্পতি নেমে সামনের দিকে চলে যেতেই এতোক্ষণের ভদ্র বেশ ধরে থাকা জমজ ভাইবোন একে অপরের গালে ঠাশ করে একটা করে করে থা’প্পড় মা’রল ৷ দুজনের থা*প্পড়েই সমান শক্তি ছিল ৷

অনন্যা আহাম্মক হয়ে ওদের দুজনের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ তা দেখে ওরা দুজন ৩২ পাটি দাঁত বের করে হেসে বলল,,,

থাবড়া থাবড়ি না করলে আমাদের শরীর খারাপ হয়ে যেত! ডোন্ট মাইন্ড আপু ৷

বলে ওরাও নেমে গেল ৷ অনন্যা এখনও নিজের হতভম্ভতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি ৷ ও নিজেও নেমে পড়ল সামনে যাওয়ার জন্য ৷ আলমগীর প্রামানিক পূর্ব দিকের একটা রিসোর্টে রুম ভাড়া নিলেন ৷ পিকু রাও ওদের পাশে রুম ভাড়া নিল ৷ আধা ঘন্টার মতো বিশ্রাম নিয়ে ওরা সাজেক ভ্যালির অপরুপ সৌন্দর্য দেখার জন্য বেরিয়ে পড়ল ৷

অনন্যা সাথে করে একটা ক্যামেরা এনেছে ৷ সাজেক ভ্যালির প্রতিটা সৌন্দর্য ও নিজের ক্যামেরায় বন্দী করতে চায় ৷ সাজেক ভ্যালির মূল আকর্ষণ হচ্ছে ওর সবুজে ঘেরা পাহাড়ের সারি ৷ অনন্যা সামনের পাহাড়ের দিকে মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকল ৷ হঠাৎ করে পিকু ওর পাশে চলে আসল ৷ অনন্যা প্রকৃতির মাঝে এতোটাই হারিয়ে গেছে যে পিকুর উপস্থিতি বুঝতেই পারল না ৷

পিকু হঠাৎ বাচ্চাসুলভ কন্ঠে গমগমে স্বরে বলল,,তুমি এখনও আমার সাথে কথা বলোনি ৷

অনন্যা মারাত্মক চমকে উঠল ৷ ও বুকে হাত দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগল ৷ ওর অবস্থা দেখে পিকু খিকখিক করে হাসতে লাগল ৷ অনেক সময় নিয়ে ও হাসতে থাকল ৷ ওদিকে অনন্যার ভয়ে বুকটা এখনও ধড়াস ধড়াস করতেছে ৷ পিকু হাসতে হাসতেই বলল,,

তুমি কি ভীতু! যাও তোমার সাথে আর ব্রেকআপ করলাম না ৷ তবে দুই মিনিটের মধ্যে আমার সাথে কথা না বললে আমি তোমার সাথে আবার ব্রেকআপ করব ৷

অনন্যা নিজেকে সামলে নিয়ে বলল,, এই পিচ্চি তুমি তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছো!

পিকু মহাখুশি ৷ অবশেষে অনন্যা ওর সাথে কথা বলেছে ৷ ও খুশিমনে অনেক কথা বলল অনন্যার সাথে ৷ অনন্যা শ্রোতার চরিত্রে ছিল তবে মাঝেমধ্যে হেসেছে আর হু হা করে জবাব দিয়েছে ৷ এমন সময় ওদের পিছনে কারো গলার স্বর শুনে ওরা চকিতে পিছু ঘুরে তাকাল ৷

তিনজন ছেলে এগিয়ে আসছে ৷ অবশ্য দুটো বড় আর একটা ছোট ৷ ছোটটা সম্ভবত উস্টা খেয়ে পড়ে গেছে ৷ সে বিষয়েই ওরা কথা বলতেছে ৷ পিকু নিজের কৌতূহল মেটানোর জন্য ওদের দিকে এগিয়ে গেল ৷ অনন্যা ওকে অনেক আটকানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো ৷

পিকু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছে ৷ অলি উল্টে পড়ে থাকা বিল্টুকে সোজা করে তুলে ওর গায়ের ধুলোবালি ঝেড়ে দিতে লাগল ৷ মাহি বলতে লাগল,,,

তোকে নিয়ে আসলাম সাজেক ভ্যালির পাহাড় দেখাতে আর তুই কিনা সাজেক ভ্যালির মাটির সাথে ইটিশপিটিশ শুরু করেছিস?

বিল্টু হাত ডলতে ডলতে বলল,,, আমি তো পাহাড়ের দিকেই তাকিয়ে ছিলাম ৷ এখন পা যদি আমার সাথে বেইমানি করে তাহলে আমার কি দোষ?

অলি সেসব কথায় গেল না ৷ ও মাটির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,,

তোমার থেকে একটা জিনিস চাব ৷ সেই জিনিসটা হচ্ছে মাফ ৷ বিল্টুর শরীরের ভার সহ্য করায় নিশ্চয়ই ব্যাথা পেয়েছো তাই না? ব্যাপার না বিল্টুর হয়ে আমি তোমার থেকে মাফ চাচ্ছি ৷ ওকে মাফ করে দিও ৷

মাহি ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগল,,,,, আবার মাফ চাওয়া শুরু করে দিলি?

আমি গতকাল মাফ চাওয়া স্থগিত রেখেছিলাম ৷ আজ না ৷

বিল্টু দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগল,,, যেখানে তোমার উচিত ছিল আমার কোথাও ব্যাথা লেগেছে কিনা সেটা খোঁজ করা সেখানে তুমি মাটির কাছ থেকে মাফ চাচ্ছ অলি ভাইয়া? এই তোমার বিচার?

আমি ন্যায়বিচার করি বিল্টু ৷ মাটি এখানে নির্দোষ ৷ তুই অযথা বেচারার উপর ঝাপিয়ে পড়েছিস!

বিল্টু হতাশ ৷ অলির সাথে কথায় পেরে ওঠা ওর কর্ম নয় ৷ ওদের সমস্ত ঘটনা দূর থেকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছিল পিকু ৷ ও আরেকটু এগিয়ে এসে কোমড়ে দু হাত গুজে বিল্টুকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,

এতো বড় একটা ছেলে হয়ে পড়ে গেলে? তোমার কি লজ্জা করছে না?

তিনজনই খানিকটা চমকে উঠল ৷ পরমুহূর্তে অলি আর মাহি সমস্বরে বলে উঠল,,,

ওর লজ্জা নেই ৷

বিল্টু ক্ষেপে গিয়ে বলল,,, নিজেদের বৈশিষ্ট্য খবরদার আমার উপর চাপানোর চেষ্টা করবে না ৷

তারপর পিকুর দিকে তাকিয়ে ও বলতে লাগল,,, এই মেয়ে আমি ইচ্ছা করে পড়েছি ৷ তোমার তাতে কি?

পিকু ঠোঁট উল্টাতে লাগল ৷ এক পর্যায়ে কেঁদে উঠল ৷ ওর কান্না দেখে ওরা তিনজন হকচকিয়ে গেল ৷ অলি দ্রুত পিকুকে কোলে নিয়ে ওর কান্না থামানোর চেষ্টা করে বলতে লাগল,,,

আহা কিউটিপাই কেঁদো না ৷ আমি বিল্টুকে গাছের সাথে উল্টো লটকিয়ে পি*টাব!

পিকু আচানাক কান্না থামিয়ে ফেলল ৷ ও অত্যন্ত উৎসাহের সাথে বলল,,,

কখন লটকাবে?

অলি ভ্যাবাচ্যাকায় পড়ে গেল ৷ ও কথার কথা বলেছিল ৷ তাই ও আমতা আমতা করতে লাগল ৷ এমন সময় অনন্যা ওখানে চলে আসল ৷ ও এতোক্ষণ নিজের সাথে নিজেই যুদ্ধ করে চলেছিল ৷ অপরিচিত ছেলের আশেপাশে আসতে একদম রাজি না ও কিন্তু পিকুকে তো আর একা ছাড়া যায় না ৷

অনন্যা এসেই বলতে লাগল,, পিকু এখান থেকে চলো ৷

অলি অনন্যার দিকে তাকাল ৷ অনন্যা মাথা নিচু করে আছে ৷ ও এক পলক চুপ থেকে ইতস্তত করে বলতে লাগল,,,

আসলে পিকু একটু কেঁদে ফেলেছিল ৷ আপনি প্লিজ কিছু মনে করবেন না ৷ বিল্টু ছোট মানুষ তাই একটু রাগ দেখিয়ে ফেলেছিল ৷

অনন্যা কিছু বলল না ৷ তা দেখে অলি সামান্য দ্বিধায় পড়ে গেল ৷ ও আমতা আমতা করে বলল,,,

আপনি রাগ করেছেন? আমি মন থেকে ক্ষমা চাচ্ছি আর কখনো এমন হবে না ৷

অনন্যা এবারও কোনো জবাব দিল না ৷ তাই অলির শঙ্কা বেড়ে গেল ৷ ও যদি মাফ না পায় তাহলে আগামী তিনদিন আর ভাত খাবে না ৷ অবশ্য ফলমূল খেয়ে দিব্যি কাটিয়ে দিবে ৷ এমন সময় পিকু অলির কোল থেকে নেমে গেল ৷ তারপর বিল্টুর কান টেনে ধরে বলল,,,

তুমি পচা ছেলে ৷ তোমার সাথে ব্রেকআপ ৷

বলে পিকু অনন্যার কাছে চলে গেল ৷ অলি আবার বলে উঠল,,,

আপনার মেয়েকে কাঁদানোর জন্য আমি দুঃখিত ৷ এতো মিষ্টি একটা বাচ্চাকে কাঁদানো একদম উচিত হয়নি ৷

অনন্যা এই প্রথমবার অলির দিকে চোখ তুলে তাকাল ৷ ওর বিস্ফোরিত চাহনি দেখে অলির বুক ধ্বক করে উঠল ৷ আবার কোন গন্ডগোল বাঁধাল কে জানে! মাহি অলির কথা টেনে বলে উঠল,,,

তবে আপনাকে দেখে মনে হয় না আপনার বিয়ে হয়েছে ৷ সে জায়গায় বাচ্চার কথা ভাবতে আমার বেশ কষ্ট হচ্ছে ৷

পিকু মুখে কপট রাগের আভা ফুটিয়ে তুলে বলল,,এটা আমার আপু ৷

কথাটা শেষ হতেই অনন্যা পিকুকে নিয়ে জায়গা প্রস্থান করল ৷ ওদিকে ওরা তিনজন আহাম্মক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ৷ অনন্যার সেই বিস্ফোরিত চাহনির মানে অলি এবার বুঝতে পারল ৷ ও থতমত গলায় বলে উঠল,,,

একদিনে অনেক অপরাধ করে ফেললাম রে মাহি! আজ মনে হয় সারাদিন মাফের উপর থাকতে হবে! কালকে মাফ না চাওয়ার ফল আজ ভুগতে হবে ছ্যাহ!

চলবে,,,,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here