#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৫
সকলে এক জায়গায় সমবেত হয়েছে ৷স্থানীয় গাইডের সহায়তায় সাজেক ভ্যালির পাহাড়গুলো ভ্রমণ করবে তারা ৷ একটু পর অলি ওদের সামনে চলে আসল এবং সালাম দিল ৷ সকলে সালামের জবাব দিল ৷ পিকু ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগল,,,
আমরা গাইডের জন্য অপেক্ষা করছি ৷ তুমি কেন এসেছো?
অলি সামান্য হেসে বলল,, আমিই গাইড ৷
মিথ্যুক ৷ তুমি গাইড হতে যাবে কেন? তুমি তো মানুষ ৷
অলির সাথে সাথে বাকিরাও এবার হেসে ফেলল ৷ এই পুরো সময়ে অনন্যা ছিল নিশ্চুপ ৷ অলিকে দেখে ওর ভ্রু কুঁচকে গিয়েছিল ৷ সেই কুঁচকানো ভ্রু নিয়েই ও মাথা নিচু করেছে, এখনও তোলেনি ৷
অলি প্রয়োজনীয় কিছু কথাবার্তা শেষে বলতে লাগল,, আমরা এখন হাইকিং করব ৷ এখন সমতল জায়গাটা ভালোভাবে প্রদক্ষিণ করি ৷ তারপর বিকেলের দিকে পাহাড়ে ট্রেকিং করব ৷
আলমগীর প্রামানিক মহাখুশি ৷ খুশিতে উনার চোখমুখ জ্বলজ্বল করছে ৷ অনন্যা আলতো করে দাদুর হাত টেনে ধরে মৃদু স্বরে বলতে লাগল,,,
এই যে বুড়ো বেশি লাফালাফি করো না ৷ তোমাকে আমি ট্রেকিং করতে দিব না ৷ এই চেহারা নিয়ে মোটেও না ৷
বুড়ি হবে তুমি ৷ আমি এখনও জোয়ান আছি ৷ সরো এখান থেকে ৷
বলে আলমগীর প্রামানিক অলির দিকে এগিয়ে গেলেন ৷ কয়েক মিনিটের মধ্যেই ওদের দুজনের মাঝে ভাব হয়ে গেল ৷ একে অপরের সাথে নানারূপ কথাবার্তা বলতে বলতে ওরা সবাই এগিয়ে যেতে লাগল ৷ অলি হাঁটতে হাঁটতে সকলের উদ্দেশ্যে বলতে লাগল,,,
ওই যে সামনে যে পাহাড় টা দেখতে পাচ্ছেন সেটা হচ্ছে সাজেক ভ্যালির সবচেয়ে বড় পাহাড় ৷ এই পাহাড়ের নাম কংলাক ৷ কংলাক পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত আর সূর্যোদয় দেখা যায় যার রূপ হয় অতুলনীয় ৷ বর্ণনায় প্রকাশ করার মতো না ৷ আমরা আজ নিজ চোখেই সেটা দেখব ৷
কথাগুলো বলে অলি আবারও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে লাগল ৷ পিছন পিছন বাকিরা ৷ অনন্যা এরই মাঝে নিজের ক্যামেরা বের করে আশেপাশের সবুজ প্রকৃতির ছবি তুলে চলেছে ৷ সাজেক ভ্যালির সৌন্দর্যের পাশাপাশি ও নতুন নতুন মানুষগুলোরও ছবি তুলছে ৷ প্রথমেই তুলল পিকুর ছবি ৷
পিকুর মুখ থেকে যেন হাসি সরছেই না ৷ অনন্যা ওকে সুন্দর সুন্দর জায়গার সামনে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে ৷ তবে ছবি তোলার সময় পিকুকে কিছুই বলার দরকার পড়ছে না কারন ও নিজে থেকেই নতুন নতুন পোজ দিচ্ছে ৷ তা দেখে অনন্যা সামান্য হেসে বলল,,,
পাক্কা ঢংগী তুমি ৷
ওর কথা শুনে পিকু খিলখিল করে হাসতে লাগল ৷ ও হাসার সময় বিল্টুরা এদিকে আসতে লাগল ৷ বিল্টু জোর করে মাহিকে টেনে এনেছে ওর ছবি তুলে দেওয়ার জন্য ৷ মাহি বলতে লাগল,,,
মোবাইলে তুলে দিব না অলির ক্যামেরায় ছবি উঠবি?
অলি ভাইয়ার ক্যামেরায় উঠব ৷
মাহি চলে গেল অলির থেকে ক্যামেরা নিয়ে আসার জন্য ৷ অলি বর্তমানে বাকি দর্শকদের আশেপাশের জায়গাগুলো সম্পর্কে টুকিটাকি তথ্য দিয়ে চলেছে আর মাঝে মাঝে রসিকতা করছে ৷ সেই রসিকতায় আলমগীর প্রামানিক ছোট বাচ্চাদের মতো হাসতেছেন ৷
এদিকে বিল্টুকে দেখতেই পিকু ওর দিকে এগিয়ে এসে বলতে লাগল,,
এই ছেলে তোমার সাথে না আমি ব্রেকআপ করলাম? তাহলে আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করছো কেন?
বিল্টু কপাল কুঁচকে বলল,,, আমার বয়েই গেছে তোমার পিছুপিছু আসতে ৷ এটা তোমার দলিল করা জায়গা না ৷ আমার যেখানে ইচ্ছা সেখানে যাব ৷
পিকু আঙুল উচিয়ে বলতে লাগল,, না যাবে না ৷ তুমি ভালো না ৷ আমি শুনেছি তখন, তুমি মাটির সাথে ইটিশপিটিশ করো!
বিল্টু বিরক্তিতে চোখমুখ কুঁচকে বলল,,,একদম বাজে কথা বলবে না ৷ মাহি ভাইয়া মজা করে বলেছিল ৷
ওদের দুজনের ঝগড়া বেজে গেল ৷ এক পর্যায়ে পিকু ওর চুল টেনে ধরল ৷ অবস্থা বেগতিক দেখে অনন্যা ছুটে ওদের কাছে আসল ৷ তারপর দুজনকে একে অপরের থেকে আলাদা করে ওদেরকে শান্ত করতে লাগল ৷ অনন্যা শান্ত গলায় বলল,,,
আসো তোমাদের ছবি তুলে দিই ৷
এবার ঝগড়া পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেল ৷ তবে ওরা এখনও একে অপরের দিকে কপাল কুঁচকে তাকিয়ে আছে ৷ বাচ্চাসুলভ মুখগুলোতে প্রচন্ড রাগের আভা ফুটে আছে ৷ তবে আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে অনন্যা ক্যামেরা তাক করার সাথে সাথেই পিকুর মুখের কোনায় কোনায় হাসি ছড়িয়ে পড়ল যদিও বিল্টু এখনও অপরিবর্তিত অবস্থায় আছে ৷ আসলে ছেলেরা তো আর মেয়েদের মতো ঢং করতে পারে না তবে টিকটকারদের ব্যাপার আলাদা ৷
মাহি ক্যামেরা নিয়ে এসে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকল ৷ অনন্যার ছবি তোলা শেষ হলে ও বিল্টুর ছবি তুলতে লাগল ৷ এমন সময় অলি সিটি বাজিয়ে ওদেরকে ওর পিছু পিছু যেতে বলল ৷ সকলে একসাথে আসতেই অলি বলতে লাগল,,,
সাজেক ভ্যালিতে কিছু ছোট ছোট জলপ্রপাতও আছে ৷ চলুন আপনাদের দেখানো যাক ৷
কিছুক্ষণের মধ্যেই সকলে জলপ্রপাতের সম্মুখে চলে আসল ৷ অনন্যা মুগ্ধ চোখে ক্রমাগত গড়িয়ে পড়তে থাকা পানির দিকে তাকিয়ে থাকল আর সেই পানির কলকল ধ্বনি কান পেতে শুনতে লাগল ৷ অলি সেই পানি হাত দিয়ে ছুঁয়ে সকলের উদ্দেশ্যে বলতে লাগল,,,
শুধু দেখলেই হবে? অনুভব করবেন না?
সাথে সাথেই আলমগীর প্রামানিক ছুটে গেলেন ৷ অলি কে একপ্রকার ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে উনি পানির সাথে নিজের হাতের সম্পর্ক গাঢ় করতে লাগলেন ৷ তা দেখে অলি হেসে ফেলল ৷ এই যে নিত্যদিন নতুন নতুন মানুষের সাথে ওর পরিচয় হয় , তারা কেমন আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাচ্চার মতো বিহেভ করে, এগুলো ওর ভীষণ ভালো লাগে ৷
অনন্যা জলপ্রপাতেরও ছবি তুলতে লাগল ৷ হঠাৎ এক জায়গায় তাকাতেই দেখল পিকুর জমজ ভাইবোন চুপচাপ দাঁড়িয়ে জলপ্রপাত দেখছে ৷ অনন্যা ওদেরও একটা ছবি তুলল ৷ তবে দ্বিতীয় ছবি তুলতে গিয়ে বিপত্তি ঘটল ৷ এতোক্ষণ পিকুর বাবা ওদের দু ভাই বোনের আশেপাশে ছিলেন ৷ হঠাৎ উনি চলে যেতেই জমজ ভাইবোন দুটো একে অপরকে ধাক্কা দিল ৷ ফলশ্রুতিতে দুজনেই দুদিকে ছিটকে পড়ল ৷ এটাই শেষ নয় ৷ তৎক্ষণাৎ উঠে পড়ে একে অপরের কান টেনে ধরল ৷
এসব দৃশ্য চোখ বড় বড় করে দেখছে অনন্যা ৷ ওরা এবার নিজেদের গায়ে পানি ছিটাতে শুরু করল ৷ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে অনন্যা ওদের এমন রুপের ছবিও তুলে রাখল ৷ পিকুর বাবা চলে আসতেই ওরা দু ভাইবোন প্রথম সারীর ভদ্র বাচ্চার মতো নিশ্চুপ হয়ে গেল ৷ পিকুর বাবা ভ্রু কুঁচকে বলতে লাগলেন,,,
তোমাদের গায়ে পানি কেন?
দু ভাইবোন সমস্বরে বলল,,, জানি না ৷
তোমরা জানো না তো কে জানে?
সেটাও জানি না ৷
তোমরা কোনোদিন ভালো হবে না? বয়স তো বাড়ছে, এখন অন্তত ঠিক হওয়ার চেষ্টা করো ৷ নাকি ঠিক হওয়ার কোনো চিন্তা তোমাদের নেই?
জানি না ৷
পিকুর বাবা বিরক্তিতে চ কারান্ত উচ্চারণ করে ওদের থেকে দুরে চলে গেলেন ৷ এই দুটোর সাথে বেশিক্ষণ থাকলে উনার মাথার তাঁর ছিঁড়ে যাবে ৷ অনন্যা সব কথোপকথন শুনেছে ৷ ওর ভীষণ হাসি পাচ্ছে কিন্তু ও হাসল না ৷ ও বিরবির করে বলতে লাগল,,
কি বিচিত্র সব মানুষজন পৃথিবীতে ৷
কথাটা বলে ও আবারও জমজ ভাই-বোনের ছবি তুলতে লাগল ৷ এদের দুজনের নাম অনন্যা পিকুর থেকে শুনেছে ৷ ছেলেটার নাম শোভন, মেয়েটার নাম সানা ৷ পিকুর ভালো নাম সারা ৷ শোভন সানা যে ওর মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে সেটা অনন্যা বেশ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে ৷ ও শোভন আর সানার আরো কয়েকটা ছবি তুলতে লাগল ৷
এমন সময় হুট করে অলি ওদের দু ভাই বোনের সম্মুখে চলে আসল ৷ যার ফলে অনন্যার ক্যামেরায় অলির হাস্যজ্জ্বল মুখের একটা ছবি ক্যাপচার হয়ে গেল ৷ এতে করে অনন্যার কপাল কুঁচকে গেল ৷ এই ছেলেটাকে ওর প্রথম দর্শনেই পছন্দ হয়নি ৷ সোজা পিকুর মা বানিয়ে দিয়েছিল!
বিল্টু অলির মাথার ক্যাপ কেড়ে নিয়ে সেটা নিজের মাথায় দিয়ে ছবি উঠতে লাগল ৷ অলি ভ্রু কুঁচকে সেদিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে নিজের এলোমেলো চুলগুলো ঠিক করল ৷ চুলগুলো ক্যাপের নিচে এতোক্ষণ ম**রার মতো পড়ে ছিল ৷
হঠাৎ অনন্যার দিকে চোখ যেতেই অলি সেদিকে যেতে লাগল ৷ ওকে নিজের দিকে আসতে দেখে অনন্যা চট জলদি জায়গা প্রস্থান করতে ধরলে অলি পিছু ডেকে বলল,,
শুনুন ৷
অনন্যা থেমে গেল ৷ তবে অলির দিকে তাকাল না ৷ তা স্বত্ত্বেও অলি বলতে লাগল,,,
আমি আপনার থেকে একটা জিনিস চাব ৷ দিবেন?
অনন্যার ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ ও চুপ করে থাকল ৷ জবাব এর জন্য কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে থাকল অলি ৷ কিন্তু কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে ও আবার বলতে লাগল,,
সেই জিনিসটা হচ্ছে মাফ ৷ আমাকে মাফ করবেন প্লিজ?
অনন্যা বি*স্ফোরিত চাহনিতে অলির দিকে তাকাল ৷ সেই চাহনি দেখে অলি ভয়ে ঢোক গিলতে লাগল ৷ ও আরেকটা ঢোক গিলে আমতা আমতা করে বলল,,
মা-মাফ করবেন?
অনন্যা কোনো জবাব না দিয়ে আরো একপলক অদ্ভুত দৃষ্টিতে অলির দিকে তাকিয়ে থেকে উল্টো ঘুরে গটগট পায়ে সেখান থেকে চলে গেল ৷ অলি দ্বিধান্বিত হয়ে ওর গমনপথের দিকে তাকিয়ে থাকল ৷ ক্ষণকাল বাদে ও পানির সামনে গিয়ে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে উল্টে পাল্টে দেখতে লাগল ৷ নিজেকে দেখা শেষে ও নিজের খোঁচা খোঁচা দাঁড়িতে হাত বোলাতে বোলাতে বলল,,
না সব তো ঠিকই আছে ৷ আমার মুখে তো কিছু লেগে নেই তাহলে উনি ওমন ভ*য়ঙ্কর দৃষ্টিতে তাকালেন কেন? এমনভাবে তাকাচ্ছিলেন যেন আমি উনার থেকে সম্পত্তির দলিল চেয়েছি ৷ অদ্ভুত মেয়ে!
অলি নিজের সন্দেহ দূর করল ৷ পরমুহূর্তেই ওর মুখটা চিন্তায় ছেঁয়ে গেল ৷ ও মিনমিন গলায় বলতে লাগল,,
কিন্তু আমার মাফ! মাফ না পেলে কিভাবে চলবে? কি এক য’ন্ত্রণার কথা! আজ মনে হয় ভাত খাওয়া হবে না ৷ কয়েকটা ফল খেয়েই কাটিয়ে দিতে হবে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকলে দুপুরের খাবার খাওয়ার জন্য নিজ নিজ রুমে চলে গেল ৷ দুপুরের খাওয়া শেষ করে ওরা কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিবে তারপর বাকি ভ্রমণ ৷ অবশ্য কারো মুখে ক্লান্তির কোনোরুপ চিহ্ন নেই ৷ তবুও উঁচু নিচু পাহাড়ে ট্রেকিং করার জন্য পর্যাপ্ত শক্তির প্রয়োজন রয়েছে ৷ অলি ওদের বারবার সে কথা মনে করিয়ে দিয়েছে ৷
সব থেকে আগ্রহ বেশি আলমগীর প্রামানিকের ৷ উনি রুম ময় পায়চারি করে চলেছেন ৷ এখন থেকেই হাঁটার প্রাকটিস করছেন ৷ ভ্রু কুঁচকে সেই আগ্রহের দিকে তাকিয়ে আছে অনন্যা ৷ এক পর্যায়ে ও বলতে লাগল,
এই যে বুড়ো এতো খুশি হওয়ার কিছু হয়নি ৷ তোমাকে আমি যেতে দিব না ৷
মনে হলো আলমগীর প্রামানিক এক লাফে অনন্যার দিকে চলে আসলেন ৷ উনি কাটকাট গলায় বলতে লাগলেন,,,
আমার স্বাধীনতা হরণ করতে চাচ্ছ? ভুলে যেও না আমি তোমার বড় ৷ তোমার বাবার বাবা আমি ৷
সেই জন্যেই তো বারণ করছি ৷ এই শরীর নিয়ে তুমি এতো ধকল নিতে পারবে না ৷
পারব না মানে? আলবত পারব ৷ তোমার চেয়ে বেশি ভালো পারব ৷ সাজেক ভ্যালির আসল সৌন্দর্য ই পাহাড়ের উপরে লুকিয়ে আছে আর তুমি আমাকে বাধা দিচ্ছ? তোমার লজ্জা করছে না?
অনন্যা গালে হাত দিয়ে চুপ করে থাকল ৷ তা দেখে আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,
কি হলো কথা বলছো না কেন?
ঠিক আছে বুড়ো ৷ যা ইচ্ছা করো ৷ তবে পরে যেন বলতে না শুনি “আমার শরীরের হাড়গুলো মড়মড় করছে, একটু টিপে দিবে লালকুমারী?”
বলব না ৷ আবার বলতেও পারি ৷ দেখি কি করি ৷
অনন্যা কপাল কুঁচকে দাদুর দিকে তাকাল ৷ তা দেখে আলমগীর প্রামানিক বললেন,,
টেনশন করো না তো মা ৷ আমি পারব ৷ তাছাড়া ওই গাইড ছেলেটা আমাকে সাবধানে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে ৷ ছেলেটার উপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে ৷
অনন্যা দাদুর থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিল ৷ অলির টপিক ওর ভালো লাগছে না ৷ এই ছেলেটাকে ওর কাছে ভীষণ অদ্ভুত লাগে ৷ কিছুক্ষণ পর আলমগীর প্রামানিক বলতে লাগলেন,,,
জানো ফুলকুমারী, আমার না ছেলেটার মুখটা খুব চেনা চেনা লাগে ৷ মনে হয় যেন বহু দিনের পরিচিত ৷ সবসময় কি সুন্দর করে হাসে ৷
ভুল ভাবছো ৷ তোমার তো সবাইকেই আপন মনে হয় ৷ একটা কুকুরকে দেখলেও তো মনে হয় সে তোমার খুব পরিচিত ৷ এ আর নতুন কি?
উহু এমন টা না ৷ সত্যিই খুব আপন মনে হয় ৷ আমার না ছেলেটাকে খুব পছন্দ হয়েছে ৷
তাহলে ছেলেটাকে বিয়ে করে নাও বুড়ো ৷
চলবে,,,,

