#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৬
কংলাক পাহাড়ের সামনে সকলে এসে উপস্থিত হয়েছে ৷ অলি আরও এক দফা সকলকে দিক নির্দেশনা দিল ৷ সকলের পিঠে একটা করে ব্যাকপ্যাক যেখানে প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী নেওয়া আছে ৷ একটা করে স্টিকও রয়েছে সকলের হাতে যার সহায়তায় ওরা পাহাড়ের এই অসমতল জায়গা অতিক্রম করবে ৷ অলি সকল দিক নির্দেশনা বলার পর বলল,,,
আর ইউ রেডি গাইজ? লেট’স গোও ৷
সকলের মুখে তীব্র উত্তেজনা ৷ তবুও আলমগীর প্রামানিকের মুখের উজ্জ্বলতাকে কেউ হার মানাতে পারছে না ৷ উনি অলির সাথে সাথে যেতে লাগলেন ৷ লাঠিতে ভর দিয়ে সকলে উপরে উঠছে ৷ পিকুও জেদ করে পাহাড় ট্রেকিং করছে ৷ অলি বারবার ওর দিকে ফিরে বলছে,,,
ক্লান্ত লাগছে? হাঁটতে পারবে?
পিকু কপাল কুঁচকে বলল,,, তোমার মতো আমি হাওয়া খাই না ৷ আমার শরীরে যথেষ্ট শক্তি আছে ৷
অলি থতমত খেয়ে গেল ৷ এই সাত বছরের মেয়ের সাথে ও পেরে উঠছে না ৷ লজ্জাজনক ব্যাপার স্যাপার ৷ পাহাড়ের ঢালু জায়গায় পা রাখতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে ৷ অনন্যার ভীষণ ভয় করছে ৷ ওর পা কাঁপছে ৷ তবুও তীব্র উত্তেজনায় ও সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ৷
অলি সকলের দিকেই ঘুরে ঘুরে দেখছে ৷ সবার উপর ওর একটা দায়িত্ব আছে ৷ সেই দায়িত্বের জন্য অনন্যার দিকেও ওর চোখ চলে গেল ৷ অভিজ্ঞতার কারনে অলি খুব সহজেই বুঝতে পারল যে অনন্যা ভয় পাচ্ছে ৷ তাই ও গলা খাকারি দিয়ে বলে উঠল,,,
ভয় লাগছে?
অনন্যা কোনো প্রতিক্রিয়া করল না ৷ বরং দ্বিগুণ জোশের সাথে পরবর্তী পদক্ষেপ রাখল ৷ তা দেখে অলি হেসে ফেলে বলল,,,
সাহসী হওয়ার অভিনয় করতে হবে না ৷ আমি নিজেও প্রথমে ভয়ে নিচে পড়ে গিয়েছিলাম ৷
অনন্যা চকিতে অলির দিকে তাকাল ৷ ওর এবার আরও ভয় করতে লাগল ৷ পায়ের রীতিমত কাঁপাকাঁপি উঠে গেল ৷ তা দেখে অলি ব্যস্ত গলায় বলে উঠল,,,
হেই রিল্যাক্স ৷ ভয় পেলে পড়ে যাবেন ৷ ভয়কে মুখ ভেংচি কেটে সামনে পা বাড়ান ৷
অনন্যা চোখ বন্ধ করে বড় করে একটা নিঃশ্বাস নিল ৷ তারপর সামনের দিকে পা বাড়াল ৷ পায়ের কাঁপুনি একটু কমেছে ৷ কিছুক্ষণ নিরবতা বিরাজ করল ৷ একটু পর নিরবতা ভেঙে অলি বলতে লাগল,,,
আমাকে যদি মাফ করেন তাহলে আমি আপনাকে একটা পদ্ধতি বলতে পারি যেটা ব্যবহার করলে আর ভয় লাগবে না ৷
অনন্যার মুখ দেখে মনে হলো ও উৎসাহী না ৷ ওর মধ্যে কোনো কৌতূহল নেই ৷ তা দেখে অলি হতাশ হলো ৷ অনন্যা দ্রুত ওকে পাশ কাটিয়ে নিজের দাদুর পাশে চলে গেল ৷ অলি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনে মনে বলল,,,
শুধুমাত্র মাফ করার ভয়ে ট্রেকিংয়ের এতো বড় একটা বিষয় সম্পর্কে জানতে অস্বীকৃতি জানাল ছ্যাহ! আমি কি আর ভাত খেতে পারব না আল্লাহ?
নিজের হতাশাকে লুকিয়ে রেখে অলি আবারও সকল কে গাইড করতে লাগল ৷ পিকু এখনও নিজের পায়ে হেঁটে আসছে ৷ তবে ছোট বাচ্চা কতক্ষণ আর পারবে? ও একটা পাথরে পা রাখল আর দুর্ভাগ্যজনক ভাবে সেটা ভেঙে গেল ৷ ফলশ্রুতিতে পিকু তাল সামলাতে না পেরে নিচে পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলো ৷
তা দেখে সকলের মুখ র*ক্তশূণ্য হয়ে গেল ৷ পিকুর মা নিজেও পড়ে যাওয়ার উপক্রম হলেন মেয়ের এমন অবস্থা দেখে ৷ অনন্যা পিকুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার আগেই অলি গিয়ে ওর এক হাত টেনে ধরল ৷ পিকু মারাত্মক ভয় পেয়ে কান্না শুরু করে দিয়েছে ৷ ও ঠিক আছে দেখে সকলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল কিন্তু ওদের বুক ভয়ে এখনও ধড়াস ধড়াস করতেছে ৷
তবে অলি ব্যতিক্রম ৷ ও নিজের স্বভাবসুলভ হাসি বজায় রেখে পিকুকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,
হায় আল্লাহ তোমার শরীরে তো দেখছি অনেক শক্তি! তুমি দেখছি মিথ্যা বলোনি ৷
পিকুর কান্না থেমে গেল ৷ ও হাসতে থাকা অলির দিকে একপলক তাকিয়ে নিজের অবস্থান দেখল ৷ ও নিচে পড়ে যায়নি বরং অলির হাতের কারনে ঝুলে আছে ৷ সেসবে বিন্দুমাত্র বিচলিত না হয়ে ও বলতে লাগল,,,
আমি কখনো মিথ্যা কথা বলিনা ৷ তুমি আমাকে সন্দেহ করেছো তাই তোমার সাথে ব্রেকআপ ৷
অলি জোরে হেসে ফেলে পিকুকে এক লাফে নিজের ঘাড়ে বসিয়ে দিয়ে বলল,,,
আচ্ছা মেনে নিলাম ৷ কিন্তু তোমাকে পুরো পথটা এখন আমার ঘাড়ে চড়েই যেতে হবে ৷
পিকু হয়তো মজা পেল ওর কথায় তাই খিলখিল করে হাসতে লাগল ৷ পিকুর বাবা অলিকে উদ্দেশ্য করে বলতে লাগল,,,
আপনি পারবেন ওকে নিয়ে এতো দুর্গম পথ পাড়ি দিতে?
অলি হাস্যজ্জ্বল মুখে বলল,,, আলবত পারব ৷ এর চেয়েও অনেক ভারী জিনিস নিয়ে ট্রেকিং করে আমার অভ্যাস আছে ৷ সমস্যা নেই , আপনি চিন্তা করবেন না ৷
পিকু ভ্রু কুঁচকে বলল,,, তার মানে বলতে চাচ্ছ আমার ওজন কম?
তওবা তওবা আমি কি এমনটা বলতে পারি?
গুড ৷
পিকু আর কিছু বলল না ৷ ওর এই ভ্রমণটা ভালো লাগছে ৷ বলতে গেলে ভীষণ ভালো লাগছে ৷ পাহাড়ের সবুজ প্রকৃতি ছোট্ট হৃদয়ে বসন্তের ফুল ফুটিয়ে দিয়েছে ৷ অনন্যা ট্রেকিং করতে করতে আবারও অলির কাছাকাছি চলে আসল ৷ তবে এটা ইচ্ছাকৃত ছিল ৷ ও শান্ত গলায় বলল,,,
শুনুন ৷
অলি চকিতে অনন্যার দিকে তাকাল ৷ ও আশেপাশে তাকিয়ে দেখল কেউ নেই ৷ তার মানে ওকেই ডেকেছে ৷ অলি নিজের হতভম্ভ ভাব খানিকটা কাটিয়ে বলল,,
আমাকে বলছেন?
জ্বি ৷ আপনি পিকুকে বাঁচিয়ে নিয়েছেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ ৷
আরে ধন্যবাদ লাগবে না আমার ৷ আপনি শুধু আমাকে তিন থেকে চারটা মাফ দিন ৷
অনন্যা অদ্ভুত দৃষ্টিতে অলির দিকে তাকিয়ে থেকে স্থান প্রস্থান করল ৷ অনন্যার এই দৃষ্টি বারবার অলিকে ঘাবড়ে দেয় ৷ এবারও দিল ৷ কিন্তু এটা ভেবে ওর আবারও হতাশা কাজ করল যে অনন্যা এবারও ওকে মাফ করল না ছ্যাহ!
পিকু বলতে লাগল,,, তুমি মাফ চাচ্ছ কেন ভাইয়া? মাফের চেয়ে ধন্যবাদ বেশি ভালো ৷
আমার কাছে মাফ বেশি ভালো পিকু ৷ কিন্তু তোমার ওই আপুটা ভীষণ অদ্ভুত ৷ এই মেয়েটা কথায় কথায় কি ভয়কনর চোখে তাকায় আমার দিকে ৷ ভীষণ ভয় লাগে আমার ৷
পিকু খিলখিল করে হাসতে হাসতে বলল,,, এতো বড় হয়েও ভয় পাও? ছিহ তোমার লজ্জা করে না?
হ্যাঁ করে মাঝে মাঝে ৷
তোমার লজ্জা কম ৷
ছেলেদের লজ্জা কমই থাকে ৷
হ্যাঁ ঠিক বলেছো ৷ আমার শোভন ভাইয়ারও লজ্জা কম ৷ ও আমাদের সবার সামনে পা*দু করে ৷
অলি জোরে হেসে ফেলল ৷ হাসতে হাসতেই বলল,,,, বেচারার মান সম্মান শেষ করে দিলে! ভাগ্যিস শোভন এখন অন্যদিকে ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
অনন্যা এতো কিছুর মাঝে জমজ ভাই-বোনের দিকে নজর দেওয়ার সময় পায়নি ৷ অথচ ওদের দুজনের বিষয়ে অনন্যার আগ্রহ সবচেয়ে বেশি ৷ ও সাবধানে উপরে ওঠার পাশাপাশি ওদের দু ভাইবোন কে খুঁজতে লাগল ৷ এবং কিছুক্ষণের মধ্যে পেয়েও গেল ৷ ও দেখল শোভন সানাকে ধাক্কা দিচ্ছে আর সানা শোভন কে ধাক্কা দিচ্ছে ৷
তবে পড়ে যেতে ধরলে দুজনে দুজনকে পড়া থেকে আটকে দিচ্ছে ৷ ভীষণ অদ্ভুত এদের সম্পর্ক ৷ কেউ কাউকে মারামারি থেকে ছাড় দেয় না আবার কষ্টও দেয় না ৷ আর সবচেয়ে বড় কথা এরা বাবা মায়ের সামনে একদম ভদ্র বাচ্চার মতো আচরণ করে ৷
অনন্যা চোখ বড় বড় করে ওদের দুজনকে দেখে চলেছে ৷ ধাক্কাধাক্কির খেলা হয়তো ওদের আর ভালো লাগছে না তাই ওরা অন্য কিছু ভাবতেছে ৷ একটু পর সানার চোখ ঝলমল করে উঠল ৷ ও কোনো সংকেত না দিয়ে শোভনের কান কামড়ে ধরল ৷ ব্যাথা পেলেও শোভন কোনো শব্দ করল না ৷ সানা কান ছেড়ে দিলে শোভন ওর কান কামড়ে ধরল ৷
দূর থেকে দেখেই অনন্যা বুঝতে পারল দুজনেই মারাত্মক ব্যাথা পেয়েছে কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় মুখ দিয়ে টু শব্দও বের করেনি ওরা ৷ এই কামড়া কামড়ি চলতেই থাকল ৷ অনন্যা সেই দৃশ্য আর সহ্য করতে পারল না তাই চোখ সরিয়ে নিল ৷
দেখতে দেখতে সকলে কংলাক পাহাড়ের চূড়ায় পৌঁছে গেল ৷ বলতে আপত্তি নেই সকলে বেশ পরিশ্রম করেছে উপরে আসতে ৷ আলমগীর প্রামানিকের শরীর মাঝখানে খারাপ হলেও উনি সেটা বুঝতে দেননি ৷ কেননা অনন্যা রাগারাগি শুরু করে দিত!
তবে সকলের পরিশ্রমের ফল যে এতো অসাধারণ হবে সেটা ওরা কল্পনাই করতে পারেনি ৷ সামনের দৃশ্য দেখে সকলের চোখ ধাঁধিয়ে গেল ৷ ওরা মনে হচ্ছে মেঘের কোন এক রাজ্যে চলে এসেছে ৷ চারদিকে শুধু মেঘ আর মেঘ ৷ এমন অপরুপ দৃশ্য কি আর বর্ণনায় প্রকাশ করা যায়? তবে এতোটুকু বলতে আপত্তি নেই যে জান্নাতের এক টুকরো সৌন্দর্যের মাঝে ওরা দাঁড়িয়ে আছে ৷
অনন্যা হাত বাড়িয়ে মেঘ ছোঁয়ার চেষ্টা করল ৷ কি যে সুন্দর অনুভূতি হচ্ছে ওর ৷ আল্লাহর সৃষ্টি বুঝি এতো সুন্দর হয়! শোভন আর সানা নিজেদের ঝগড়া বাদ দিয়ে মুগ্ধ চোখে মেঘের রাজ্য দেখতে লাগল ৷ অলির ঘাড়ে এখনও পিকু বসা ৷
তবে পিকু অন্যকিছু ভেবেছে এই মেঘকে ৷ ও উচ্ছ্বসিত গলায় বলতে লাগল,,,
ওয়াও এত্তোগুলো হাওয়াই মিঠাই! আচ্ছা অলি ভাইয়া এই হাওয়াই মিঠাইগুলো কিভাবে ঝুলিয়ে রেখেছে?
অলি হেসে ফেলে বলল,,, তুমি আসবে জন্য ওরা নিজেরাই চলে এসেছে ৷
এ্যাহ আমি কি এতোই বোকা? নিশ্চয়ই আশেপাশে হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা আঙ্কেল ঘাপটি মেরে বসে আছে ৷
তাই? ঠিক আছে তাহলে খেতে ধরো ৷ হাওয়াই মিঠাই ওয়ালা আঙ্কেল দেখবে ছুটে এসেছে তোমাকে ধরতে ৷
পিকু সম্মত হলো ৷ ও হা করে সামনের মেঘ খাওয়ার চেষ্টা করল ৷ কিন্তু মুখে আসছে না ৷ বারবার চেষ্টা করার পরও ও খেতে পারছে না ৷ শেষে বিরক্ত হয়ে বলে উঠল,,,
অলি ভাইয়া আমি খেতে পাচ্ছি না কেন? এগুলো মুখে নেওয়ার আগেই মিলিয়ে যাচ্ছে কেন?
কারন এগুলো হাওয়াই মিঠাই ৷
তা তো জানি বোকা ৷ কিন্তু দোকান থেকে যেগুলো কিনি ওগুলো তো খাওয়া যায় ৷
বিল্টু ওদের পাশেই ছিল ৷ ও এতোক্ষণ কথাগুলো মন দিয়ে শুনছিল ৷ এবার বলে উঠল,,,
কি মূর্খ! এগুলো হাওয়াই মিঠাই না ৷ এগুলো মেঘ ৷ যে মেঘ এখনও চেনে না সে নাকি ব্রেকআপ করতে জানে ৷
পিকু ভ্রু কুঁচকে বলল,,, এই চুপপপ ৷
মুর্খ! মূর্খ!
পিকু কান্না শুরু করে দিল ৷ অলি ইশারায় বিল্টুকে জায়গা প্রস্থান করতে বলল ৷ বিল্টু চলে গেল ৷ অলি পিকুর উদ্দেশ্যে বলতে লাগল,,,
কেঁদো না ৷ এটা তো হাওয়াই মিঠাই ৷ তুমি ভুল কিছু বলোনি ৷
না মিথ্যা ৷ এটা হাওয়াই মিঠাই হলে আমি খেতে পারতাম ৷
এটা অন্য হাওয়াই মিঠাই ৷ তুমি যেটা খাও সেটার মালিক মানুষ ৷ আর এই হাওয়াই মিঠাইয়ের মালিক কে জানো?
কে?
আল্লাহ ৷ উনার হাওয়াই মিঠাই খাওয়া যায় না ৷ শুধু উপভোগ করা যায় ৷
পিকুর কান্না থেমে গেছে ৷ সাথে মুখে হাসি ফুটেছে ৷ তা দেখে অলি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল ৷ অনন্যা সব শুনেছে ৷ অলির বলা এই প্রথম কোনো কথা ওর ভীষণ মনে ধরেছে ৷ ও পিকুকে নেওয়ার জন্য এদিকে এসেছিল কিন্তু মনে হয় না পিকু অলিকে ছেড়ে যেতে চাইবে ৷
অনন্যার দিকে চোখ যেতেই অলি ব্যস্ত গলায় বলল,,, শুনুন আমার মাফ তিনটা দিয়ে যান ৷
অনন্যার ভ্রু কুঁচকে গেল ৷ ও বিরবির করে বলে উঠল,
আশ্চর্য ধরনের অদ্ভুত মানুষ তো! মাফের আবার সংখ্যা হয়? আর সবচেয়ে বড় কথা কি জন্য মাফ চাচ্ছে?
অলি সেসব কথা শুনতে পেল না ৷ ও মনের দুঃখে বলতে লাগল,,,
ভাত খাওয়ার জন্য আমার পেট চিক্কুর করে কান্নাকাটি করছে ৷ এখন আমি কি করি?
চলবে,,,,

