#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৭
পড়ন্ত বিকেলের লালচে আভায় পরিবেশ টা আরো মনোরম হয়ে উঠেছে ৷ মুগ্ধতা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি কেউ ৷ পুরো পাহাড় টা মেঘে ঢাকা ৷ বিচ্ছিন্ন সব তুলোর মতো মেঘ ঘিরে রেখেছে পাহাড় টাকে ৷ অলি সকলের দিকে এক এক করে তাকাল ৷ অতঃপর সিটি বাজিয়ে সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করল ৷ ওর দিকে সবাই তাকালে অলি বলতে লাগল,,,
কংলাক পাহাড় থেকে সূর্যাস্ত যেমন অপরুপ লাগে ঠিক তেমন সুর্যোদয়ও অপূর্ব লাগে ৷ যদি দেখতে চান তাহলে আজ এখানে তাবু খাটিয়ে একটা ক্যাম্পিং করা যেতে পারে ৷
সবাই একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগল ৷ অলি পুনরায় বলতে লাগল,,,
না করতে চাইলে সমস্যা নেই ৷ যারা ইচ্ছুক নন তাদের আমি সাবধানে রিসোর্টে রেখে আসব ৷ তবে কেউ না করলেও আজ আমি আমার বন্ধুর সাথে এখানে ক্যাম্পিং করব ৷
অলি জানে কেউ ই আপত্তি করবে না ৷ তবুও কথার কথা বলল আর সবচেয়ে বড় কথা ওদের আকর্ষণ আরেকটু বাড়িয়ে দিল ৷ অলির ভাবনা মিথ্যা হলো না ৷ সবাই ক্যাম্পিং করতে রাজি হয়ে গেল ৷ সবার মুখ খুশিতে ঝিকমিক করছে ৷ হঠাৎ পিকুর বাবা বলতে লাগলেন,,,
সব ঠিক আছে কিন্তু তাবু কোথায়? আমরা তো সাথে করে তাবু নিয়ে আসিনি ৷
অলি মুচকি হেসে বলল,,, আপনারা না আনলেও আমি সাথে করে বেশ কয়েকটা তাবু নিয়ে এসেছি ৷
সবাই এবার নিশ্চিত মনে কংলাক পাহাড়ের মেঘে ঢাকা সৌন্দর্য উপভোগ করতে লাগল ৷ অনন্যা নিজের ক্যামেরায় সেই সৌন্দর্য ক্যাপচার করতে লাগল ৷ এমন সময় শোভন আর সানার দিকে নজর যেতেই ও ওদের দুজনের দিকে এগিয়ে গেল ৷ ওরা আপাতত চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ৷ হয়তো নতুন কিছু মনে মনে আবিষ্কার করছে ৷
অনন্যা সোজা ওদের পাশে গিয়ে দাঁড়াল ৷ অতঃপর গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
তোমরা একে অপরের কান কামড়ে ধরো ৷ আমি তোমাদের একটা ছবি তুলে দিই ৷
শোভন আর সানা হতভম্ভ চোখে অনন্যার দিকে তাকাল ৷ অনন্যা নিজেও প্রশ্নটা করে হতভম্ভ হয়ে গেছে ৷ এভাবে এমন একটা প্রশ্ন যে ওর মুখ থেকে বেরিয়ে যাবে সেটা ও ভাবতেই পারেনি ৷ নিজের হতভম্ভ ভাব কাটিয়ে সানা বলতে লাগল,,,
তুমি কথাও বলতে পারো?
অনন্যা না চাইতেও হেসে ফেলল ৷ পর মুহূর্তে নিজের হাসি থামিয়ে ও বলতে লাগল,,,
আচ্ছা একটা প্রশ্ন করি?
শোভন আর সানা মাথা উপর নিচ করে হ্যাঁ বোঝাল ৷ সম্মতি পেতেই অনন্যা বলতে লাগল,,,
তোমরা যে কান কামড়ে ধরেছিলে তোমাদের ব্যাথা করেনি?
হ্যাঁ করেছিল ৷
তাহলে ব্যাথা পেয়ে কোনো শব্দ করলে না কেন? আর তোমাদের বাবা মায়ের সামনে এই রুপটা লুকিয়ে রাখো কেন?
শোভন আর সানা একে অপরের দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসল ৷ অনন্যার করা প্রশ্নের কোনোরুপ উত্তর না দিয়ে ওরা দুজন বলতে লাগল,,,
আপু ছবি তুলবে না?
অনন্যা বুঝতে পারল ওরা প্রশ্ন টার উত্তর দিবে না ৷ কিছু কিছু জিনিস অজানা থাকা খুব একটা মন্দ না ৷ তাই ওদের আর জোর করল না ৷ খুব সুন্দর করে ওদের দুজনের ছবি তুলে দিতে লাগল ৷ তবে ছবিতে ওরা অনেক ভদ্রভাবে পোস দিল ৷ মানে নিজেদের আসল রুপটা এবারও লুকিয়ে ফেলল ৷
অন্যদিকে পিকু অলির পিছু ছাড়ছে না ৷ ও এখনও অলির পিঠে চড়ে আছে ৷ বিল্টু মাহির সাথে ছবি তুলছে ৷ পিকুর দিকে নজর যেতেই বিল্টু দাঁত কেলিয়ে বলতে লাগল,,,
অলি ভাইয়ার পিঠে চড়ে এখনও হাওয়াই মিঠাই খাচ্ছ বোকা মেয়ে?
পিকু চোখ পাকিয়ে হাতের আঙুল উচিয়ে বলতে লাগল,,, তোমাকে আমি দেখে নিব!
বিল্টু মুখ ভেংচি কেটে আবারও মাহির সাথে ছবি তোলায় ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ সূর্যাস্ত হওয়ার সময় চলে এসেছে ৷ সকলে সেই দৃশ্য দেখার জন্য সমবেত হয়ে গেল ৷ সূর্যের রক্তিম আভা ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে ৷ তার পাশাপাশি প্রকৃতিটাকে গাঢ় অন্ধকারে ডুবিয়ে রেখে যাচ্ছে ৷
অনন্যা হা হয়ে সেই দৃশ্য দেখতে লাগল ৷ ওর চোখ দুটো আজ স্বার্থক হয়ে গেল ৷ সূর্য হারিয়ে গিয়ে প্রকৃতি অন্ধকারে ডুবে গেলেও সেই অন্ধকার বেশি সময় স্থায়ী হলো না ৷ রাতের খোলা আকাশের মিটি মিটি তারাগুলো প্রকৃতি আলোকিত করার দায়ভার নিজের কাঁধে নিয়ে নিল ৷
অলি কয়েকজনের সহায়তায় তাবু খাটাতে লাগল ৷ বেশ কিছুক্ষণ পর তাবু খাটানোর কাজ শেষ হয়ে গেল ৷ এবার একটু আগুন জ্বালানো দরকার ৷ অলি কিছু কাঠ সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিল ৷ সেই কাঠগুলো একত্র করে ও দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দিল ৷
সকলে এসে আগুনের পাশে গোল হয়ে বসল ৷ পিকু অলির কোলে বসে আছে ৷ অনন্যা ওদের সম্মুখে বসে আছে ৷ অনন্যার এক পাশে পিকুর মা, অন্যপাশে ওর দাদু ৷ মশার উপদ্রব কমানোর ব্যবস্থা মাহি ইতোমধ্যে করে ফেলেছে ৷
পিকুর মায়ের নজর হঠাৎ অনন্যার দিকে গেল ৷ উনি ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ অনন্যার দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,,,
তোমার একটা চোখ কি বাঁকা?
সবাই এবার অনন্যার দিকে তাকাল ৷ এতে করে অনন্যার অস্বস্তি শুরু হয়ে গেল ৷ ওর শুকনো মুখের দিকে তাকিয়ে পিকুর মা ব্যস্ত হয়ে বলতে লাগলেন,,,
তুমি মন খারাপ করলে? আমি তোমাকে কষ্ট দেওয়ার জন্য কিছু বলিনি ৷ হঠাৎ চোখে পড়ল তাই..
অনন্যা এই প্রথমবার সকলের সামনে মুখ খুলে বলল,, আমি মন খারাপ করিনা ৷ ছোট থেকেই শুনে আসছি তাই এখন আর গায়ে লাগে না ৷
সকলের মধ্যে অপ্রস্তুত ভাব চলে এলো ৷ অনন্যা কথাটা বলেই মাথা নিচু করেছে আর মাথা তোলেনি ৷ আগুনের প্রজ্জ্বলিত শিখা অনন্যার মুখে পড়ে সেই মুখটা আরো করুণ করে তুলেছে ৷ অলি সেই মুখটার দিকে ক্ষণকাল তাকিয়ে থাকল ৷ অতঃপর চোখ সরিয়ে নিল ৷
এই ম্যাজম্যাজে পরিবেশটা স্বাভাবিক করার জন্য ও গলা খাকারি দিয়ে বলল,,,
মশাদের খাবার তো ওরা খেয়ে নিচ্ছে ৷ আমাদেরও তো উচিত আমাদের খাবার খাওয়া তাই না?
এমন একটা কথার ই যেন প্রতীক্ষায় ছিল সকলে ৷ ওরা নিজেদের ব্যাগ থেকে খাবার বের করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল ৷ আলমগীর প্রামানিক খাবার বের করে নাতনির কাঁধে হাত রেখে নরম গলায় বললেন,,,
আমি খাইয়ে দিই লালকুমারী?
অনন্যা উদাস নয়নে একপলক দাদুর দিকে তাকাল, কিছু বলল না ৷ আলমগীর প্রামানিক নিরবতাকে সম্মতি ধরে নিয়ে ওকে খাইয়ে দিতে লাগলেন ৷ অবশ্য অনন্যা অল্প একটু খেয়েই আর খেল না ৷ আলমগীর প্রামানিক শুরুতে জোর করলেও শেষে হার মেনে নিলেন ৷
হঠাৎ অলির দিকে নজর যেতেই দেখলেন ও শুধু কয়েকটা পেয়ারা আর কমলা খাচ্ছে ৷ তা দেখে উনি বলতে লাগলেন,,,
অলি বাবা তুমি শুধু ফলমূল খাচ্ছ কেন? আমরা বাঙালি , ভাত ছাড়া কি আমাদের পেট ভরে?
অলি মনে মনে বলল,,, সেটা তো আমিও মানি কিন্তু আপনার নাতনি আমাকে মাফ করেনি ৷ আমি ভাত খাই কিভাবে?
কিন্তু উপরে বলল,,, মাঝে মাঝে ফলমূল খেতে হয় ৷ ফলমূল খেলে নিজের মধ্যে একটা বিদেশী বিদেশী ফিল আসে ৷
আলমগীর প্রামানিক হেসে ফেললেন ৷ পরিবেশ টা আবারও নরমাল হয়ে উঠেছে ৷ অলি পেটে হাত বোলাতে বোলাতে পেয়ারা খাচ্ছে ৷ ওর ভীষণ ক্ষুধা পেয়েছে কিন্তু উপায় নেই ছ্যাহ! মাহি ওর কানের কাছে মুখ এনে বলল,,,
ভাই টেনশন নিস না ৷ কাল মেয়েটার পায়ের সাথে ঝুলে থাকিস ৷ আই থিংক মাফ করে দিবে ৷ এতোটা নির্দয় মনে হয় হবে না ৷
কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা দিবি না মাহি!
ধূর বোকা শুধু নুন না আমি লঙ্কাও দিচ্ছি ৷
শালাহ!
মাহি হাসতে লাগল ৷ অলি কটমট দৃষ্টিতে ওর দিকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে অসহায়ভাবে পেয়ারা খেতে লাগল ৷ ওর মুখের মধ্যে কিছু একটা আছে যেটা দেখলে বারবার আলমগীর প্রামানিকের ওকে খুব চেনা চেনা মনে হয় ৷ এই যে এখনও খুব চেনা চেনা লাগছে উনার কাছে ৷
আলমগীর প্রামানিক নিজের কৌতূহল দমানোর জন্য বলে উঠলেন,,,
আচ্ছা অলি বাবা তুমি কি কখনও ঢাকায় গিয়েছিলে?
অলি পেয়ারা খাওয়া বাদ দিয়ে বলল,,, না আলু দাদু ৷ আমি জন্মের পর থেকে খাগড়াছড়িতে বড় হয়েছি আর চাকরির জন্য রাঙামাটিতে এসেছি ৷ তাছাড়া কোথাও যাইনি ৷
ও আচ্ছা ৷
অলি শর্ট করে আলমগীর প্রামানিক কে আলু দাদু বলে ডাকে ৷ সেই সম্বোধন শুনে পিকু খিকখিক করে হাসছে ৷ ও হাসতে হাসতেই বলল,,,
আমি তোমাকে পটল দাদু বলে ডাকব ৷ কারন পটল আমার অনেক পছন্দের ৷
ওর কথা শুনে সবাই হেসে ফেলল ৷ অবশ্য অনন্যা এখনও মাথা নিচু করে বসে আছে ৷ ওর মুখটা এখনও শুকনো ৷ অন্য কেউ খেয়াল না করলেও অলি ঠিকই সেটা খেয়াল করল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
রাত বাড়তে থাকলে মানুষও কমতে থাকল ৷ এক এক করে সকলে তাবুর ভিতরে প্রবেশ করে ঘুমের আয়োজন করছে ৷ আলমগীর প্রামানিক ভীষণ জোশে এসে বলেছিলেন উনি আজ সারারাত জেগে থাকবেন অথচ সবার প্রথমে ঘুমের রাজ্যে ঢলে পড়া ব্যক্তিটা উনি ৷ অলি গিয়ে উনাকে তাবুতে শুইয়ে দিয়ে এসেছে ৷
এখন আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে আছে গুটি কতেক মানুষ ৷ তার মধ্যে অনন্যা, অলি, মাহি, বিল্টু আর শোভন সানা পিকু ৷ পিকু অলির কোলে বসে আছে ৷ তবে ওর চোখ ঢুলুঢুলু ৷ যেকোন মুহুর্তে ঘুমিয়ে পড়তে পারে ৷
শোভন সানা সুযোগ পেয়ে মা*রামা*রি শুরু করে দিয়েছে ৷ অলি হতবাক হয়ে ওদের কান্ডকারখানা দেখতে লাগল ৷ শোভন সানার হিজাব টেনে ধরেছে আর সানা শোভনের চুল টেনে ধরেছে ৷ তারপর ওর মুখ বরাবর একটা ঘু*ষি দিল আর সানাও ওর মুখ বরাবর একটা ঘু’ষি দিল ৷ তা দেখে অলি আতকে উঠে বলল,,,
আরে করছো কি? মেঘের রাজ্যে এসে ডিছুম ডিছুম! ছ্যাহ কি লজ্জার কথা!
ওরা দুজন থামল না বরং অলির দিকে তাকিয়ে একই সাথে হেসে উঠে বলল,,,
ডোন্ট ওয়ারি ভাইয়া ৷ বাঙালি ভাত না খেলে যেমন বাঁচে না তেমন আমরা মা**রামা**রি না করে বাঁচতে পারি না ৷
কই? ভাত ছাড়া তো আমি দিব্যি বেঁচে আছি ৷
অলির কথাকে পাত্তা না দিয়ে ওরা নিজেদের কাজ অব্যাহত রাখল ৷ প্রথমের দিকে অলি চোখ বড় বড় করে ওদের দিকে তাকিয়ে থেকে পরমুহূর্তে চোখ সরিয়ে নিল ৷ তবে এতোকিছুর মাঝে অনন্যা ছিল নিরব দর্শক ৷ ও হাঁটুতে মাথা রেখে আকাশের তারা ঝলমল প্রকৃতির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷
পিকু ঘুমিয়ে পড়েছে ৷ অলি ওকে ভালোভাবে কোলে নিয়ে শোভন সানার থেকে মনোযোগ সরাল নয়তো ও যেকোন মুহুর্তে হার্ট এ’ট্যাক করতে পারে! মনোযোগ সম্পূর্ণ অন্যদিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অলি বলতে লাগল,,,
মাহি রে আমার ছাগলগুলোকে নিয়ে খুব টেনশন হচ্ছে ৷
কেন? খোদেজা চাচী তো তোর ছাগলগুলোর দায়িত্ব নিয়েছে ৷ টেনশন কিসের?
সেটা না ৷ খোদেজা চাচী থাকতে আমার ছাগলের কিছু হবেনা সেটা আমি জানি কিন্তু আমার ছাগল থাকলে মনজু চাচার ছাগলের ক্ষ*তি হতে পারে ৷
মাহি কৌতূহল নিয়ে অলির দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল,,, কেন বল তো? কাহিনী কি?
আসলে আমার রামছাগল দুটো মনজু চাচার মেয়ে ছাগল দুটোর সাথে ইটিশপিটিশ করার চেষ্টা করছে ৷ এখন আমার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে যদি উল্টা পাল্টা কিছু করার চেষ্টা করে তাহলে আমি মুখ দেখাব কিভাবে? ছাগলের মালিক হিসেবে আমার একটা দায়িত্ব আছে না?
ওর কথা শুনে মাহি আহাম্মক হয়ে গেল ৷ শোভন সানা নিজেদের মধ্যকার মা**রামা**রি বাদ দিয়ে অলির দিকে তাকাল ৷ এমনকি অনন্যাও আকাশের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সরাসরি অলির দিকে তাকাল ৷ সবার চাহনি দেখে অলির বুকটা ধ্বক করে উঠল ৷ সবচেয়ে বেশি ভয় লাগছে অনন্যার চাহনি ৷ কি সূচালো দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বাবাগো!
ক্ষণকাল বাদে মাহি জোরে জোরে হাসতে লাগল ৷ হাসতে হাসতে ঘাসের উপর শুয়ে পড়ল ৷ শোভন সানা ওরাও হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে ৷ অলি মাথা চুলকে অনন্যার দিকে তাকাল ৷ অনন্যা এখনও চোখ সরু করে ওর দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে ৷ তা দেখে অলি বিরবির করে বলল,,,
আমার কষ্টে সবাই হাসে ছ্যাহ!
এমন সময় ঘুমন্ত পিকু ঘুমের ঘোরে বলে উঠল,, অলি ভাইয়া সাব্বাশ! ছাগলের পিঠে চড়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দাও ৷
ওর কথা শুনে এবার সবাই হেসে ফেলল ৷ এমনকি অনন্যাও ৷
চলবে,,,

