#চাঁদের_হাসি
#লেখিকা_সিনথিয়া_জাহান
#পর্বঃ৮
ভোরের আলো ফোটার সময় এখনও হয়নি ৷ তবুও অলি আড়মোড়া ভেঙে উঠে বসল ৷ হাই তুলে তাবু থেকে বের হয়ে এলো ৷ ফজরের নামাজের ব্যবস্থা করতে হবে ৷ বাইরে শীতল হাওয়া বইছে ফলে অলির ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভূত হলো ৷ সেই ঠান্ডাকে পাত্তা না দিয়ে ও যেখানে পানির ব্যবস্থা রেখেছিল সেখানে যেতে লাগল ৷
ওর চোখের ঘুম এখনও পুরোপুরি কাটেনি ৷ ক্রমাগত হাই তুলতে তুলতে ও হাঁটতে লাগল ৷ তবে হঠাৎ পাশে তাকাতেই ওর পিলে চমকে উঠল ৷ গত রাতের কাঠগুলো পুড়ে ছাই হয়ে গেছে , ওগুলো থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে ৷ তার পাশে একটা ছায়ামূর্তি বসে আছে ৷ অলি বুকে হাত দিয়ে চাপা আ*র্তনাদ করে উঠল ৷ তবুও কৌতূহলবশত ও এক পা এক পা করে এগিয়ে আসতে লাগল ৷ অনেকদিনের শখ ও একটা জ্বীন দেখবে ৷ আজ মনে হয় সেই গোল্ডেন সুযোগ এসেই গেছে ৷
অলি পা টিপে টিপে ছায়ামূর্তি টার পিছনে এসে দাঁড়াল ৷ পরমুহূর্তে কিছু বলতে ধরলেই দেখল ওর কন্ঠ থেকে ফ্যাসফ্যাসে স্বর বের হচ্ছে ৷ তবুও গলাটা খানিকটা খাকারি দিয়ে বলল,,,
কে? জ্বীন না পরী?
ছায়ামূর্তি টাও আঁতকে উঠে চট জলদি বসা থেকে উঠে পড়ে মৃদু চিৎকার করল ৷ ওর চিৎকারে অলিও আরেকবার চিৎকার করে উঠল ৷ দুজনে পাক্কা এক মিনিট চিৎকার করল ৷ নিজেকে কিছুটা সামলে অলি প্যান্টের পকেট থেকে টর্চ লাইট টা বের করে ছায়ামূর্তি টার মুখে আলো ধরল ৷ অনন্যা সাথে সাথে হাত দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল ৷ অলি ভ্রু কুঁচকে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে হতাশ শ্বাস ফেলল ৷ ও দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলতে লাগল,,,
ছ্যাহ এটা দেখছি মানুষ! ভাবলাম এবার হয়তো জ্বীন বা পরীকে দেখব!
অলির আফসোসের সীমা রইল না ৷ ও খুবই হতাশ ভঙ্গিতে মাথা নাড়াতে লাগল ৷ অনন্যা ক্ষণকাল ভ্রু কুঁচকে তাকিয়ে থেকে পুনরায় আগের জায়গায় বসে পড়ল ৷ অলি ক্ষণকাল চুপচাপ দাঁড়িয়ে থেকে ওর থেকে খানিকটা দূরে বসল ৷ অতঃপর বলতে লাগল,,,
আপনি এতো রাতে এখানে কি করছেন?
অনন্যার থেকে কোনো উত্তর পাওয়া গেল না ৷ একটু অপেক্ষা করার পর অলি পুনরায় বলে উঠল,,,
নাকি রাত থেকে এখানেই বসে আছেন?
এবারও বিপরীত পাশে নিস্তব্ধতা ৷ জবাবের অপেক্ষা করেও যখন কিছু পাওয়া গেল না তখন অলি পুনরায় বলল,,,
আবার আগুন জ্বালিয়ে নিতেন ৷ এতো ঠান্ডায় কি পাহাড়ী এলাকায় শুধু শাল দিয়ে ঠান্ডা কমার কথা?
অনন্যা নিজের গায়ের শাল টা আরো ভালোভাবে পেচিয়ে নিয়ে গুটিশুটি মেরে বসল ৷ অলি একটু বসে থাকার পর উঠে পড়ল ৷ কয়েকটা কাঠ এনে পুনরায় আগুন জ্বালিয়ে দিল ৷ অতঃপর ওযু করার জন্য পানির কাছে যেতে ধরলেই অনন্যা অস্ফুট স্বরে বলল,
আযান দেয়নি এখনও ৷
অলি একপলক অনন্যার দিকে তাকাল ৷ অতঃপর অনন্যার থেকে বেশ খানিকটা দুরত্বে বসে পড়ল ৷ অলি চুপ করে বসে থেকে আগুনের লিকলিকে শিখার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল ৷ তবে ওর মান-সম্মান শেষ করার জন্য পেট টা ক্ষিধায় গুড়ুম গুড়ুম করতে লাগল ৷ অনন্যা চকিতে ওর দিকে তাকাল ৷ এতে করে লজ্জা পেয়ে অলির কান লাল হয়ে গেল ৷
ক্ষণকাল নিরবতা ৷ অনন্যা নিজের চোখ আবারও সরিয়ে নিয়েছে ৷ তবে একটু পর অলিকে অবাক করে দিয়ে ও বলে উঠল,,,
বিদেশী হওয়ার অভিনয় করতে গিয়ে ফলমূল খেয়ে পেটের অবস্থা খারাপ করার কোনো মানে দেখছি না ৷
অলি নিজের হতভম্ভতা কাটিয়ে ক্ষীণ গলায় বলল,,,,, আমার ভাত খাওয়া বারণ ৷
কেন?
কারন আপনি আমাকে মাফ করেননি ৷ আপনার থেকে আমি চারটা মাফ পাই ৷
অনন্যা এতোক্ষণ অন্যদিকে তাকিয়ে কথা বলছিল ৷ এবার ও অলির চোখে চোখ রেখে কপাল কুঁচকে কাট কাট গলায় বলল,,,
কিসের মাফ বলুন তো? সেই গতকাল থেকে দেখছি কথায় কথায় মাফ চাচ্ছেন ৷ কিন্তু কি জন্য মাফ চাচ্ছেন বলবেন আমায়?
অলিও সোজা হয়ে বসল ৷ গলা খাকারি দিয়ে বলতে লাগল,,,
আমি প্রথম সাক্ষাতেই পিকুকে ইনডিরেক্টলি কাঁদিয়ে ফেলেছিলাম ৷ আপনাকে পিকুর মা বলে ফেলেছিলাম ৷ আপনাকে মনে মনে ‘অদ্ভুত’ উপাধি দিয়েছি ৷ মাঝে মাঝে আপনাকে মনে মনে হয়তো খানিকটা গা**লিও দিয়ে ফেলেছি ৷ এই হলো সর্বমোট চারটা মাফ ৷ দিন আমার মাফ আমাকে দিয়ে দিন ৷
অনন্যা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে অলির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে থাকল ৷ অতঃপর দাঁতে দাঁত চেপে বলে উঠল,,,
এগুলোর জন্য কে মাফ চায়?
আমি চাই ৷ প্লিজ দিন ৷ আমি ভাত খাচ্ছি না গতকাল থেকে ৷ আমার বাঙালি পেট সেটা আর সহ্য করতে পারবে না ৷
অনন্যা আহাম্মক হয়ে বলল,,, এই সামান্য মাফ না পাওয়ায় আপনি ভাত খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন?
হ্যাঁ ৷ এখন বলুন মাফ করেছেন ৷ একটু হয়তো ভাত আছে ৷ আমি গরম করে সেটা খেয়ে নিব ৷
ভারী আশ্চর্য মানুষ তো আপনি!
জানি ৷ কিন্তু আমার মাফটা?
অনন্যা হেসে ফেলে বলল,,, আচ্ছা করলাম মাফ ৷ গিয়ে ভাত খান ৷
অলি থমকে গেল সামনের রমনীটাকে দেখে ৷ এই প্রথমবার ওর খেয়াল হলো মেয়েটাকে হাসলে সম্পুর্ণ অন্যরকম লাগে ৷ ওর গালে আর থুতনিতে কি সুন্দর টোল পড়ে ৷ ক্ষণকালের জন্য অলি সবকিছু ভুলে অনন্যার আগুনের প্রভাবে হয়ে ওঠা লালচে হাস্যজ্জ্বল মুখটার দিকে তাকিয়ে থাকল ৷
এমন সময় অলির পেট আবারও গুড়ুম গুড়ুম করে উঠল ৷ এতে করে ওর নজর অনন্যার থেকে সরে গেল এবং আবারও লজ্জায় কান দুটো লাল হয়ে উঠল ৷ অনন্যা হাসি অব্যাহত রেখে বলল,,,
দ্রুত খান ৷
অলি চট জলদি উঠে পড়ল ৷ দ্রুত গিয়ে গতকালের রাখা কিছু ভাত, লবণ আর লঙ্কা নিয়ে ফিরে আসল ৷ আগুনের তাপে ধরে খানিকটা গরম করে নিয়ে ও মহানন্দে গপাগপ খেতে লাগল ৷ কয়েক সেকেন্ড ওর খাওয়ার দিকে তাকিয়ে থেকে অনন্যা চোখ সরিয়ে নিল ৷ রাতের আকাশে চাঁদের পাশে একটা শুকতারা জ্বলজ্বল করছে ৷ সেটার সৌন্দর্য দেখলে মনটা ভরে ওঠে ৷ অনন্যা সেই সৌন্দর্যই উপভোগ করতে লাগল ৷
অন্যদিকে অলি গাপুস গুপুস করে ভাত খেতে লাগল ৷ প্রচন্ড ক্ষুধার মধ্যে যেটাই খাওয়া হোক না কেন সেটাই অমৃত বলে মনে হয় ৷ অবশেষে অলি মশাই মাফ পেয়ে ভাত খেতে পারল!
চারদিকে থেকে মৃদু আযানের মিষ্টি সুর ভেসে আসতে লাগল ৷ অলির খাওয়া হয়ে গেছে ৷ ও খাবারের প্লেট যথাস্থানে রেখে মনোযোগ দিয়ে আযান শুনতে লাগল ৷ আযান শেষ হওয়ার মধ্যেই আলমগীর প্রামানিক ঢুলুঢুলু চোখে তাবু থেকে বেরিয়ে আসলেন ৷ এমন ঘুম ঘুম চোখে সামনে দুটো মানুষকে বসে থাকতে দেখে উনি ছোট বাচ্চাদের মতো চিৎকার করে উঠলেন ৷ তা দেখে অলি হেসে ফেলে বলল,,,
আলু দাদু ভয় পেও না ৷ আমি আর তোমার রোবট নাতনি আগুনের কাছে বসে আছি ৷
আলমগীর প্রামানিক জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলেন ৷ অতঃপর ধীরপায়ে ওদের দিকে এগিয়ে এসে আগুনের পাশে বসলেন ৷ নিজের ভয় দূর করার পর উনি অলির সাথে ওযু করতে চলে গেলেন ৷ ওদের হয়ে গেলে অনন্যাও ওযু করে নিল ৷ একটু পর আরও কয়েকজন উঠে ওযু করে নামাজ আদায় করে নিল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
কংলাক পাহাড় থেকে সকলে সুর্যোদয়ের অসাধারণ রূপ দেখতে কোনো ভুল করল না ৷ অনন্যা দেখার পাশাপাশি ক্যামেরাতেও সেই দৃশ্য বন্দী করে রাখল ৷ সূর্যোদয় দেখার পর্ব শেষ করার পর সকলে আরেকটু ঘুরে দেখল কংলাক পাহাড়ের সৌন্দর্য ৷ তারপর সেখান থেকে চলে আসার বন্দোবস্ত করতে লাগল সকলে ৷
সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে সকলে পাহাড় থেকে নামার প্রস্তুতি নিতে লাগল ৷ অলি ওদের দিক নির্দেশনা দেওয়া শেষ করে বলতে লাগল,,,
এরপর আমরা সাজেক ভ্যালির উপজাতি দের জীবন বৈচিত্র্য দেখতে যাব ৷ তো সেটা দেখতে হলে আমাদের দ্রুত পাহাড় ত্যাগ করতে হবে ৷ চলুন যাওয়া যাক ৷
এটা বলে অলি সকলের মধ্যে জোশ নিয়ে আসল ৷ সবাই যেন আনন্দের সাথে দ্রুত পাহাড় থেকে নামতে পারে সেই ব্যবস্থা করল ৷ পিকু ঘুম থেকে উঠেই অলির আশেপাশে ঘুরঘুর করছিল ৷ এবার ও অলির ঘাড়ে চড়ে বসল ৷ অলিও হাসিমুখে ওকে সাথে নিয়ে নিচে নামতে লাগল ৷
শোভন সানা আবারও ভদ্ররুপে ফিরে এসেছে কারন ওদের বাবা ওদের পাশাপাশিই হাঁটছে ৷ অনন্যা সেদিকে একপলক তাকিয়ে হেসে ফেলল আর মনে মনে বলল,,,
বেচারা রা কতক্ষণ না জানি নিজেদের আসল রুপে আসতে পারবে না! এখন কি নিষ্পাপ লাগছে দেখো ৷
অনন্যার মন খারাপ মিলিয়ে গিয়েছে ৷ কালকের আহত মনটা আজ ঝরঝরে হয়ে গেছে ৷ তাই সবকিছু ওর মনে ভালোলাগা সৃষ্টি করছে ৷ ওদিকে অলির মুখেও হাসি ফুটেছে ৷ মাফ পেয়েছে বলে কথা! একটু পর মাহি ওর দিকে এগিয়ে এসে বলল,,,
কি রে অলি কটা নাগাদ মেয়েটার পায়ে ঝুলে পড়বি বলে ভেবেছিস?
অলি দাঁত কেলিয়ে বলল,,, লাগবে না ৷ আমি ভাত খেয়ে নিয়েছি ৷
মাহি কপাল কুঁচকে বলতে লাগল,,, ছ্যাহ ছ্যাহ তুই নিজের নীতি নৈতিকতা ভুলে গেছিস! মাফ না পেলে ভাত না খাওয়ার প্রতিজ্ঞা নেওয়া ছেলে এভাবে অবলিলায় নিজের এতো বছরের সাধনা ভুল প্রমাণিত করল?
বেশি কথা বলিস না ৷ আমি আমার প্রতিজ্ঞা ভুলিনি ৷
মাহি ব্যঙ্গ করে বলল,,, হ্যাঁ সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি!
মেয়েটা আমাকে মাফ করে দিয়েছে ৷
মাহির চোখ কপালে উঠে গেল ৷ ও হতভম্ভ গলায় বলল,,, সেকি! মাফ করে দিল? হেইস আমি ভেবেছিলাম কয়েকদিন তোকে ফল খেয়ে বেঁচে থাকতে দেখব ৷ তা আর হলো কোথায়?
অলি ভ্রু কুঁচকে মাহির দিকে তাকিয়ে বলল,,, তুই কি আসলেই আমার বন্ধু?
বন্ধু জন্যেই তো তোকে ফলের দ্বারা বাঁচতে দেখতে চাই ৷ আরে তোর নাম গিনেস বুকে উঠে যেত শালাহ!
গিনেজ বুক না কবরস্থানে নাম উঠে যেত!
মাহি হেসে ফেলল ৷ পিকুও অলির কাঁধে বসে বসে খিকখিক করে হাসতে লাগল ৷ এই দুই বন্ধুর কথাগুলো শুনতে ওর ভীষণ ভালো লাগে ৷ হঠাৎ বিল্টুর দিকে চোখ যেতেই দেখল বিল্টু ওকে মুখ ভেংচি কাটল ৷ তা দেখে পিকুর বাচ্চাসুলভ মুখটা রা*গে রক্তিম হয়ে গেল ৷
°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°°
সকলে রিসোর্টে পৌঁছে গেছে ৷ অল্প একটু বিশ্রাম নিয়ে উপজাতিদের কালচার দেখতে যাবে ওরা ৷ আলু দাদু আই মিন আলমগীর প্রামানিক এসেই শুয়ে পড়েছেন ৷ বুড়োর হাড় হাড্ডিগুলো নড়বড়ে হয়ে গেছে ৷ তার দিকে তাকিয়ে অনন্যা হতাশ শ্বাস ফেলল ৷ অতঃপর বাইরে বেরিয়ে আসল, ওর খুব একটা ক্লান্ত লাগছে না ৷
আশেপাশের জায়গাগুলো অপূর্ব ৷ তাই শুধু দেখতেই ইচ্ছা করে ৷ অনন্যা জায়গাগুলো দেখতে দেখতে হাঁটতে লাগল ৷ হঠাৎ পিকু এসে বলে উঠল,,,
এই যে রোবট আপু পটল দাদু কোথায়?
প্রথম দফায় অনন্যা হকচকিয়ে গেল ৷ পটল দাদু কে এটা বুঝতে ওর পাক্কা দু মিনিট লাগল ৷ বুঝতে পারতেই ও হেসে ফেলে বলল,,,
তোমার পটল দাদু বিছানায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে ৷
ওহ আচ্ছা ৷
কথাটা বলে পিকু জায়গা প্রস্থান করল ৷ আরো কিছু সময় হাঁটাহাঁটি করে অনন্যা রিসোর্টে ফিরে যেতে ধরলে অলির সাথে ওর দেখা হলো ৷ তবে কেউ কিছু বলল না ৷ যে যার গন্তব্যে যেতে ধরল ৷ কিন্তু কিছু কথা কানে যেতেই ওরা থমকে দাঁড়াল ৷ ওদের থেকে খানিকটা দুরত্বে পিকু আর বিল্টু ৷ বিল্টু পিকুকে বলতেছে,,,
এই মেয়ে শোনো ৷
পিকু ভ্রু কুঁচকে বলল,,, কি হয়েছে?
বিল্টু হেসে হেসে বলল,,, আমার সাথে প্রেম করবে?
পিকুর মুখের বিরক্তিভাব দূর হয়ে গেল ৷ ও অল্প অল্প হাসছে ৷ হয়তো লজ্জা পেয়েছে ৷ দুটো ল্যাদা বাচ্চা চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ৷ ওদিকে অনন্যা আর অলি বিস্ফোরিত নয়নে একে অপরের দিকে তাকিয়ে বলে উঠল,,,
এটা কি?
চলবে,,,

