#মন_হারালো_বেঘোরে
#লেখনীতে_মেহেরীন
#পর্ব_০৯
ভাইয়ের প্রশ্নে আয়ান হকচকিয়ে গেল, আমতা আমতা করে অস্বীকার করার চেষ্টা করল — “না… মানে ভাইয়া, আমি কেন ছাদে যাবো?”
আরশান এবার চশমাটা খুলে টেবিলের ওপর একদম সোজা করে রাখল। ওর চোখের দৃষ্টি এখন আরও বেশি তীক্ষ্ণ। ও দাবার চাল দেওয়ার মতো করে পরবর্তী প্রশ্নটা ছুড়ল….
“তুই কি ছাদে গিয়ে স্মোকিং করা শুরু করেছিস?”
আয়ান এবার পুরোপুরি ঘাবড়ে গেল। ও তো এসেছিল আরশানকে রিমির বিষয়ে সচেতন করতে, অথচ এখন নিজের উপস্থিতি ব্যাখ্যা করতেই হিমশিম খাচ্ছে। ও হাত নেড়ে তড়িঘড়ি করে বলল…
“কিসব বলো ভাইয়া, আমি স্মোক করিনা। বিশ্বাস করো, আমি জাস্ট একটু বাতাস খেতে গিয়েছিলাম। তোদের দেখে আড়ালে লুকিয়ে ছিলাম, কসম!”
নিজের অজান্তেই সত্যটা স্বীকার করে ফেলে আয়ান জিভ কাটল। ও একটু ইতস্তত করে আবার নিজের আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করল…
“ভাইয়া, তুমি টপিক ঘোরাচ্ছ। আমি সিরিয়াসলি বলছি, রিমিকে ভাবী ডাকা আমার পক্ষে সম্ভব না। ও আমার ফ্রেন্ডের মতো।”
আরশান এবার সোফায় হেলান দিয়ে বসল। ওর মনের ভেতরে রিমির সেই কাল রাতের অবাধ্য চাহনি আর হাত ধরে টেনে নিয়ে আসার স্মৃতিটা এখনো টাটকা। ও খুব নির্লিপ্ত হওয়ার ভান করে জিজ্ঞেস করল…
“তোর কেন মনে হচ্ছে যে রিমিই তোর ভাবী হবে? আমি কি এমন কিছু বলেছি ?”
আয়ান এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললো। ও হঠাৎ মুখ ফস্কে বলে ফেলল…
“বলার কী আছে ভাইয়া? আজ অব্দি এই এতগুলো বছরে তোমাকে কখনো কোনো মেয়ের সাথে এভাবে রিঅ্যাক্ট করতে দেখিনি। আমাদের সাথে তো তুমি এমনিতেই মেপে মেপে কথা বলো, আর বাইরের মেয়েদের ছায়া দেখলেও তুমি দশ হাত দূরে চলে যেতে। কিন্তু রিমির বেলায় তো সব উল্টো হচ্ছে। তুমি ওর সঙ্গে অনেক ফ্রি। তার মানে এটাই দাঁড়ায় যে, ওই আমার ভাবী হতে যাচ্ছে! অন্তত তোমার আচরণ তো সেটাই বলছে”
“তুই আরো কিছু দেখেছিস?”
আয়ান এবার একটু দমে গেল। ও বুঝতে পারল ও বেশি বলে ফেলছে। ও আমতা আমতা করে দৃষ্টি সরাতে চাইল, কিন্তু আরশানের তীক্ষ্ণ নজর এড়িয়ে যাওয়া কঠিন। আরশান এবার সোফা থেকে একটু ঝুঁকে এসে হঠাৎ করেই আয়ানের ডান কানটা জোরে মলে ধরতেই আয়ান কুঁকড়ে গিয়ে আর্তনাদ করে উঠল…
“উঁউঁ…ভাইয়া! ছাড়ো, লাগছে!”
আয়ান বুঝতে পারল আর আজ নিস্তার নেই। ও করুণ স্বরে বলল…
“আরে ভাইয়া, বিশ্বাস করো আমি ইচ্ছা করে দেখিনি! ওই যে এক রাতে…তুমি করিডোরে রিমিকে টিজ করছিলে। আমি আসলে লুকিয়ে বাইরে যাওয়ার প্ল্যান করছিলাম কিন্তু তোমার ঐ রূপ দেখে আমি এতটাই হতভম্ব হয়ে গেছিলাম যে আবার উল্টো পথে নিজের ঘরে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। এমনকি সেদিন রাতে আমার ঘুমও হয়নি”
কথাটা শুনে আরশান কান ছেড়ে দিল। ওর ভেতরের পাথুরে গাম্ভীর্য যেন এক মুহূর্তের জন্য টলে গেল। আয়ান যে সেই করিডোরের মুহূর্তটা দেখে ফেলেছে, সেটা আরশানের ভাবনার বাইরে ছিল। ও আয়ানকে ছেড়ে দিয়ে হেলান দিয়ে বসে খুব নিচু স্বরে বলল…
“এই গোয়েন্দাগিরি কবে থেকে চলছে?”
“সত্যি বলছি, আমি ইচ্ছে করে করিনি। জানিনা কিভাবে নজরে পড়ে গেছিলো। ভাইয়া, প্লিজ তুমি ওকে বিয়ে করো না। ভাবী তো সাধারণত বয়সে বড় হয়, ওকে আমি ভাবী কিভাবে ডাকবো?”
আয়ানের এই সোজাসাপ্টা যুক্তি আরশানের সাজানো মস্তিষ্কে কিছুটা ধাক্কা খেলো। ও কি আসলেও রিমির সাথে অনেক ‘ফ্রি’ হয়ে গেছে? আরশান বুঝতে পারছে যে এতদিন রিমির প্রতি যে আকর্ষণটা শুধু ও নিজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রেখেছিল সেটা এখন অন্যদেরও নজরে পড়তে শুরু করেছে। আরশান পত্রিকাটা হাতে নিয়ে উঠে দাঁড়াল। আয়ানের কাঁধে হাত রেখে নিচু স্বরে বলল…
“এতো পর্যবেক্ষণ করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয় আয়ান। আর কে ভাবী হবে বা হবে না, সেটা ভাবার দায়িত্বটা আমার ওপরই ছেড়ে দে। তুই নিজের পড়াশোনায় মন দে”
“কিন্তু ভাইয়া…”
“এই টপিকে আর একটাও কথা হবেনা, আর মাঝরাতে যদি আবারো তোকে রাতে ছাদে দেখি তাহলে আমি তোর ঘর সার্চ করবো!”
ভাইয়ের কথা শুনে আর কথা বাড়ানোর সাহস পেলো না আয়ান। এই মুহূর্তে ওর আফসোস হচ্ছে, কেনো যে যেচে ধরা খেতে এলাম!
____________________________________
আজ ভার্সিটিতে বিশেষ এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ইনায়া আর রিমির মধ্যে সকাল থেকেই সাজসাজ রব। সুরভী বেগম পরম মমতায় দুজনকে শাড়ি পরতে সাহায্য করছেন। সুরভী বেগমের সাহায্যে ইনায়া পরেছে গাঢ় নীল রঙের একটা সিল্ক, আর রিমি পরেছে হালকা বাসন্তী রঙের শাড়ি। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে রিমি নিজেকে দেখে নিজেই অবাক হয়ে গেল। শাড়ি পরে দুজনে যখন রুম থেকে বেরিয়ে ড্রয়িং রুমে এল, তখন সেখানে আরশান আর আয়ান আগে থেকেই ছিল। আরশান যথারীতি পত্রিকা হাতে সোফায় বসা, আর আয়ান ফোনে স্ক্রল করছিল। মেয়েদের পায়ের নূপুরের শব্দে দুজনেই মাথা তুলল। আয়ান ফোনটা হাতে নিয়েই সোফা থেকে লাফিয়ে উঠল। চোখ কপালে তুলে অতি অভিনয় করে বলল….
“আরে! এই দুই সুন্দরী কারা? আমাদের বাড়িতে কি কোনো সিনেমার শুটিং হচ্ছে নাকি? আগে তো কোনোদিন এদের দেখিনি!”
ইনায়া শাড়ির কুঁচি সামলাতে সামলাতে ঘুরে দাঁড়িয়ে একগাল হাসল। একটু ভাব নিয়ে বলল — “খুব সুন্দর লাগছে, তাই না?”
আয়ান এবার মুখে একটা বাঁকা হাসি ফুটিয়ে টিপ্পনী কেটে বলল — “আরে, এটা তো তুই? শাড়ি পরায় তোদের দুজনকে চেনাই যাচ্ছে না। এই দুই পেঁচিমুখীকে আজ হুট করে বেশ ভালোই লাগছে, তাই না ভাইয়া?”
আয়ানের এই ‘পেঁচিমুখী’ সম্বোধন শুনে ইনায়া মুখ কালো করলেও রিমি একটু হাসল। কিন্তু আরশানের প্রতিক্রিয়া ছিল একদম ভিন্ন। ও পত্রিকা থেকে চোখ সরিয়ে স্থির দৃষ্টিতে রিমির দিকে তাকাল। বাসন্তী রঙের শাড়িতে রিমির এই স্নিগ্ধ রূপ আরশানের চোখে প্রথমবার ধরা পড়ল। ও সচরাচর মেয়েদের সাজগোজ নিয়ে মাথা ঘামায় না, কিন্তু এই প্রথম কেউ আরশানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলো। ও রিমির চোখের কাজল, কপালে ছোট টিপ আর শাড়ির ভাঁজগুলো এক পলকে পরখ করে নিল। ওর বুকের ভেতরটা হুট করে এক অচেনা ছন্দে কেঁপে উঠল। এটা কোনো রাগ নয়, বরং এক ধরণের অবদমিত ভালোলাগা, যা ও নিজের ‘সেলফ-কন্ট্রোল’ দিয়ে আটকে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। আরশানের এই নীরব ও গভীর চাহনি রিমির হৃদস্পন্দনও বাড়িয়ে দিল। ও বুঝতে পারল না, আরশান কি ওর এই নতুন রূপ দেখে নিঃশব্দে মুগ্ধ হচ্ছে? আয়ান যখন আরও কিছু কড়া মজা করতে যাচ্ছিল, ঠিক তখনই আরশান ওর দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে প্রচণ্ড চোখ গরম করে তাকাল। আরশানের সেই তীক্ষ্ণ আর শীতল চাহনি দেখে আয়ানের গলার কথা যেন গলার মাঝেই আটকে গেল। ও এক মুহূর্তের মধ্যে চুপ মেরে গেল। আরশান আর এক সেকেন্ডও সেখানে দাঁড়াল না। ও পত্রিকাটা ভাজ করে টেবিলের ওপর রেখে বোনকে উদ্দেশ্য করে বললো….
“আমি বাইরে ওয়েট করছি, দ্রুত আয়”
আরশান ওদের ভার্সিটিতে নামিয়ে দিয়ে অফিসে গেছে। ভার্সিটির অডিটোরিয়ামে আজ সাজসাজ রব। চারদিকে রঙিন আলো আর স্নিগ্ধ মিউজিকের মূর্ছনা। প্রেজেন্টেশনের পর থেকে আবিদ আর শাফিনের সাথে রিমি আর ইনায়ার বন্ধুত্বটা বেশ গাঢ় হয়েছে। পড়াশোনার বাইরেও ওদের মধ্যে এখন এক ধরণের সহজ আড্ডা জমে ওঠে। রিমি আর ইনায়া যখন অডিটোরিয়ামের প্রবেশপথে পৌঁছাল, আবিদ আর শাফিন তখন নিজেদের মধ্যে কোনো একটা সিরিয়াস আলোচনায় ব্যস্ত ছিল। কিন্তু ওদের আসতে দেখে করা কথা থামালো। আবিদ মুগ্ধ চোখে কিছুক্ষণ রিমির দিকে তাকিয়ে থেকে স্মিত হাসল। ও খুব স্বাভাবিকভাবে বলল…
“ওয়াও! বাহ রিমি, তোমাকে বেশ অন্যরকম লাগছে। তোমাকেও সুন্দর লাগছে ইনায়া”
শাফিন তখনও নিরবে দাড়িয়ে আছে, সে শুধু মুখে প্রশংসা করে ক্ষান্ত হওয়ার পাত্র নয়। শু করে কোথায় যেনো গায়েব হয়ে একটু পর আবার ফেরত এসে সে তার স্বভাবজাত চটপটে ভঙ্গিতে হাসল। ওর হাতে দুটো ফুল ছিলো। শাফিন খুব নাটকীয়ভাবে মাথা কিছুটা নুইয়ে বলল…
“Beautiful flowers for beautiful ladies”
শাফিন প্রথমে রিমির দিকে একটা রজনীগন্ধার স্টিক বাড়িয়ে দিল। আর ইনায়ার দিকে বাড়িয়ে দিলো একটা লাল গোলাপ। ইনায়া কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে ফুলটা নিল, ওর ফর্সা গালে গোলাপের রঙের মতোই লাল আভা ছড়িয়ে পড়ল। রিমি পুরো দৃশ্যটা খুব সূক্ষ্মভাবে লক্ষ্য করছিল। ইনায়া যখন ফুলটা নিয়ে ঘ্রাণ নিচ্ছিল, রিমি একটু ঝুঁকে এসে ওর কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল…
“কী ব্যাপার বলতো? লাল গোলাপ? আমার আড়ালেই কি তোরা প্রেমটেম শুরু করেছিস নাকি?”
ইনায়া চমকে উঠে রিমির দিকে তাকাল। ওড়না দিয়ে মুখ ঢেকে ফিসফিসিয়েই পালটা জবাব দিল…
“ধুর! কি যে বলিস না। তোকেও তো দিলো। এমনি শখ করে দিয়েছে, তেমন কিছুনা”
রিমি একটু দুষ্টুমি করে চোখ টিপল, ইনায়া আর কোনো কথা বলতে পারল না। শুধু লজ্জায় মাথা নিচু করে গোলাপের পাঁপড়ি স্পর্শ করল। শাফিন আর আবিদ তখন অনুষ্ঠান শুরুর কথা বলে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। রিমি দেখল ইনায়া এখনো সেই গোলাপটার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। দিনদিন শাফিনের প্রতি ইনায়ার দুর্বল যেনো বেড়েই চলেছে!
____________________________________
সন্ধ্যায়…অফিস শেষে আজ ফলো আপে এসেছে আরশান। জুবায়ের সাহেবের চেম্বারের শান্ত আবহাওয়াটা আজ ওকে খানিকটা স্বস্তি দিচ্ছে। গত সেশনে ও এতটাই আনমনা ছিল যে জুবায়ের সাহেব ওকে আজ আবার আসতে বলেছিলেন। আরশান সোফায় বসে আছে, জুবায়ের সাহেব আরশানকে দেখে শেষ ফলো আপের ফাইলটা আরেকবার ঘেঁটে নিলেন — “গত সপ্তাহে তুমি বেশ ডিস্ট্রাক্টেড ছিলে আরশান। আজ তোমাকে দেখে প্রেজেন্ট মনে হচ্ছে। What’s on your mind now?”
আরশান এক মুহূর্তের জন্য জানালার বাইরে তাকাল। ওর চোয়ালটা সামান্য শক্ত হয়ে এল। খুব নিস্পৃহ গলায় বলল — “Nothing special. বাসার পরিবেশটা একটু এলোমেলো হয়ে গেছে ইদানীং।”
জুবায়ের সাহেব হাসলেন না। খুব পেশাদার ভঙ্গিতে চেয়ারে হেলান দিয়ে বললেন — “এলোমেলো মানে? তোমার সেই চিরচেনা অর্ডার কি কেউ নষ্ট করছে? কোনো নতুন এলিমেন্ট?”
আরশান সরাসরি রিমির নাম নিল না। ও বরং বিষয়টাকে একটা যান্ত্রিক ত্রুটির মতো করে ব্যাখ্যা করল…
“ইদানীং আমার আশেপাশে এমন কিছু জিনিস ঘটছে যা আমার লজিকের বাইরে। এমনকিছু ঘটছে যা আগে হয়নি, না চাইতেও আমাকে ডিস্টার্ব করছে কিছু। কিছু জিনিসে বিরক্তি হলেও আমার এড়িয়ে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে না”
জুবায়ের সাহেব আরশানের কথার ভেতর লুকিয়ে থাকা সেই তীব্র মনোযোগটা ধরে ফেললেন। তিনি শান্ত স্বরে বললেন…
“Are you talking about a person?”
“Yeah, that girl is a bit messy”
মেয়ের কথা শুনে ড. জুবায়ের একটু নড়েচড়ে বসলেন, এতো বছরে এই প্রথম আরশান কোনো ফলো আপে এতটা অমনোযোগী ছিলো, তার কারণ ছিলো একটা মেয়ে?
“একজন অগোছালো মানুষকে তুমি এত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করছ কেন? সাধারণত তো তুমি এসব ইগনোর করো।”
আরশান মুহূর্তের জন্য থমকাল। ও নিজেকে সামলে নিয়ে শীতল গলায় বলল — “I’m not observing, I’m analyzing a threat to my peace। ইদানীং আমি যখন ওর সামনে দাঁড়াই আমার ভেতরের সেই শৃঙ্খলার বদলে একটা ভয়ংকর বিশৃঙ্খলা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। মাঝে মাঝে মনে হয় যদি ওকে নিজের সামনে বসিয়ে রেখে ওর প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম। I just want to grab her, hold her so tight…যাতে ও আমার ত্রিসীমানার বাইরে না যেতে পারে”
জুবায়ের সাহেব আরশানের কথার তীব্রতা শুনে কিছুটা অবাক হলেন। আরশানের মতো একজন শীতল মস্তিষ্কের মানুষ এত বোল্ড ভাবে নিজের পজেসিভনেস স্বীকার করবে, সেটা তার ভাবনার বাইরে ছিল। আরশান থামল না, ওর গলার স্বর এবার আরও ভারী হয়ে এল…
“ওর ওই অবাধ্য চাহনি আর ওর ছোটো চিত কাজগুলো আমার সিস্টেমে এরর তৈরি করছে। I want to control her movement, her thoughts। কিন্তু অদ্ভুতভাবে, আমি যখনই ওকে শাসন করতে যাই, করতে পারিনা। I tried to hate her, কিন্তু পারছিনা”
জুবায়ের সাহেব এবার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ফাইলে কিছু নোট নিলেন। তিনি শান্ত গলায় বললেন…
“আরশান, তুমি যেটাকে ‘কন্ট্রোল’ করা বলছ, সেটা আসলে তোমার ভেতরে থাকা এক ধরণের তীব্র অবসেশন। তুমি এতদিন নিজের পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করতে, আর এখন তুমি তোমার এই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছ। তোমার এই নিয়ন্ত্রণ করার ইচ্ছা বা ওকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখার তাড়না এগুলো প্রমাণ করে যে ওর প্রতি তোমার ভাবনাগুলো এখন লজিক না, বরং তোমার মন থেকে আসছে”
ড. জুবায়ের আরো কিছু প্রশ্ন করলেন, সব প্রশ্নের উত্তরেই কোনো না কোনোভাবে আরশান সেই মেয়েটির কথাই জরাচ্ছে। প্রায় দশ – পনেরো মিনিটের আলাপ শেষে ড. জুবায়ের বললেন — “দেখো আরশান, তোমার এই যে hyper-awareness, এটা আসলে বিরক্তি নয়। এটা এক ধরণের unconscious interest। তুমি চাইছ সবকিছু তোমার কন্ট্রোলে থাকুক, অথচ এই নির্দিষ্ট মানুষটা তোমার কন্ট্রোলের বাইরে আছে। এটাই তোমাকে ডিস্ট্রাক্ট করছে।”
তিনি একটু থেমে আরও প্রফেশনাল টোনে যোগ করলেন — “I suggest, এই মানুষটার ওপর নিজের নিয়ম চাপিয়ে না দিয়ে বরং ওর এই তার সাথে কিছুটা involve হওয়ার চেষ্টা করো। Don’t fight this source of distraction বরং ওকে তোমার স্পেসে আসতে দাও। অনেক সময় আমরা যেটাকে ‘ভুল’ মনে করি, সেটাই আমাদের একঘেয়ে নিস্তব্ধতা ভাঙার জন্য দরকার হয়।”
আরশান একটা বাঁকা হাসি হাসল, যাতে কেবল তাচ্ছিল্য ফুটে উঠল। ও উঠে দাঁড়িয়ে টাইটা ঠিক করতে করতে বলল…
“So you’re suggesting me to embrace her?”
জুবায়ের সাহেব শান্ত গলায় উত্তর দিলেন…
“আমি কমিউনিকেশন বাড়াতে বলছি। অনেক সময় নিজের কঠোর নিয়মগুলোর মাঝে কাউকে সামান্য জায়গা দিলে ভালো হয় আর এটাই তো নিয়ম। মানবজীবনে কোনোকিছুই সারাজীবন একটা নিয়মে চলেনা। তুমি অনেকগুলো বছর একটা নিয়মের মধ্য আছো আর এখন কেউ তোমার ঐ নিয়মমাফিক জীবনে আসছে। It’s happening naturally, you are getting emotionally engaged with her too so Try to involve with this person. হয়তো তোমার সমস্যাগুলোর সমাধান এভাবেই আসবে”
চলবে…
আগের পর্বের লিংক: https://www.facebook.com/share/p/1AdLLtJ4p5/?mibextid=oFDknk

