প্রভামঞ্জরী☜ #নওরোজ_মীম কপি করা নিষিদ্ধ পর্বঃ ১৬

0
21

#প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম

কপি করা নিষিদ্ধ
পর্বঃ ১৬
_______________________

কুমিল্লা ওয়ার সিমেট্রি সহ পুরো রাস্তায় যেখানে যেখানে সিসিটিভি ক্যামেরা ছিলো সবগুলোর ফুটেজ চেক করে র ক্ত লাল গাড়িটা দেখে তার খোঁজ নিয়ে দেখা যায় যে গাড়িটা শাকিল রায়হান নামে এক লোকের নামে রেজিস্টার করা। শাকিল রায়হান সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে জানতে পারা যায় যে সে কাশেম রায়হান নামে এক ব্যবসায়ীর ছেলে। কাশেম রায়হানকে অনিল চেনে। বাবার ব্যবসায়ে তাকে মাঝে মাঝেই হস্তক্ষেপ করতে হয়। সেই সুত্রে সে ব্যবসায়ী জগতে অনেককেই চেনে। আর এখন তো ছদ্মবেশের জন্য সম্পুর্ণ নিজেকে বিজনেসম্যান হিসেবে পরিচিত করতে ব্যবসায়ে বেশি আনাগোনা তার। সেখান থেকেই কাশেম রায়হানকে চেনে সে।

অনিলদের গার্মেন্টস সাইডে বেশ ভালো বিজনেস রয়েছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর মিলে বেশ কয়েকটা গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে তাদের। আর কাশেম রায়হান এর কোম্পানি হচ্ছে গার্মেন্টস এর প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহের কাজ করে। কিন্তু পণ্যের গুণগত মান ভালো না থাকায় আর অসততার জন্য তাদের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করে ও তাদের নামের কে স করা হয়। আর এই মহান কাজ অনিল আবরার নিজে করেচজে দিন পনের আগে। তাই এই কাশেম রায়হানকে ভোলার প্রশ্নই ওঠে না।

কাশেম রায়হান এর বড় ছেলে শাকিল রায়হান। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় একদম বখাটে, বাউন্ডুলে এই শাকিল। দেশে বিদেশে হয়তো এমন কোনো নেশা জাতীয় দ্রব্য নেই যা সে ট্রাই করে নাই। মেয়ে ঘটিত মামলার অভাব নেই তার নামে। অথচ প্রতিবার বাপের টাকার জোরে বেঁচে যায়। আর আবারও আগের মতো সবকিছু শুরু করে।

“ব্যাটা একটা সা ই কো।”

বিরস মুখে আস্তে করেই বলে ওয়ারেন্ট অফিসার ফারিহা আঞ্জুম। কিন্তু চোখ তুলেই দেখে যে মেজর, ক্যাপ্টেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তিনজনে তার দিকে তীক্ষ্ণ চোখে তাকিয়ে আছে। এবার সে বোঝে যে মনে মনে কথাটা একটু বেশিই জোরে বলে ফেলেছে সে। এখানে তারা আ*সামীকে সনাক্ত করে ধরার প্ল্যান করছিলো। সবরকম তথ্য যা তারা পেয়েছে সেগুলো নিয়ে আলোচনা হচ্ছিলো চারজনের মধ্যে। কিন্তু শাকিল রায়হান সম্পর্কে জেনে এর চেয়ে ভালো শব্দ খুঁজে পায়নি ফারিহা। তাইতো বলে ফেলেছে স্থান, সময় ভুলে। নিজের ভুল বুঝতে পেরেই সাথে সাথে ঠিকঠাক ভাবে দাঁড়িয়ে স্যালুট করে আবার বলে ফারিহা,

“সরি স্যার। জোরে বলে ফেলেছি। কিন্তু এর চেয়ে ভালো কিছু আসেনি মাথায়। এমন আর হবে না। আই এম সরি।”
.
.
.
.
শাকিল রায়হানের ফোন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু শেষ লোকেশন অনুযায়ী সে এখন খাগড়াছড়ির একটা পাহাড়ি এলাকায় রয়েছে। আর তার লাল গাড়িটা পাওয়া গিয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়েতে। মেজর এএকে ও তার টীম হেলিকপ্টার এর সাহায্যে খুব সহজেই পৌঁছাতে পারে খাগড়াছড়ি। তবে লোকেশন থেকে একটু দূরে তারা নামে। তারপর বাকিটা গাড়ি করে যায়। পাহাড়ের ওপর থেকে বুকে হেঁটে কয়েকজন সন্য দেখে যে তিনপাশে পাহাড় ও একপাশে একটা নদী দিয়ে ঘেরা একটা নির্জন নিচু জায়গায় আস্তানা মতো বানানো। সেখানে পাহারা দেওয়ার জন্য রয়েছে গোটা কয়েক পেটানো শরীরের মানুষ। যাদের পোশাক দেখে নির্দিধায় বলে দেওয়া যাবে এরা কারো পার্সোনাল বডিগার্ড।

দূরবীন দিয়ে দেখে ক্যাপ্টেন তাহমিদ জানায় যে দূরে একটা নদী দেখা যাচ্ছে এবং যার তীরে রয়েছে একটা কুঁড়ে ঘরের মতো কিছু। মেজরের চৌকস মস্তিষ্ক সাথে সাথে ধরে ফেলে ঘটনা। ক্যাপ্টেন তাহমিদের থেকে দূরবীন নিয়ে এবার নিজে ভালো করে দেখে বোঝে যে ওই কুঁড়ে ঘরের চারপাশে ল্যান্ড মাইন পুতে রাখা। ওইরকম ঘাতক ব্যবস্থা রাখায় হয়তো কোনো গার্ড নেই সেখানে। নাঈমা নামের মেয়েটা যে ওখানেই আছে তা বুঝতে বাকি থাকে না অনিলের। ওখানে কেউ যাওয়া মৃ ত্যু র সাথে সাক্ষাৎ করতে যাওয়া। তাই মেজর ঠিক করে সেখানে সে যাবে।
.
.
.
.
ক্যাপ্টেন তাহমিদের নেতৃত্বে পুরো টীম একটা গুরুত্বপূর্ণ মিশনে পাঠিয়ে দিলো মেজর এএকে। অথচ সবচেয়ে ভয়াবহ প্রা ণ ঘাতি মি শ নে সে একা পা বাড়ালো।

সবসময়ের মতো নির্ভীক চিত্তে ক্ষুদার্থ বাঘের ন্যায় শব্দহীন চলাচল তার। বা হাতের মাঝে একটা চা কু নিয়ে তা দক্ষতার সাথে ঘোরাতে ঘোরাতে চারপাশে পাহাড় ঘেরা এক নিচু জায়গায় গড়ে তোলা শ ত্রুর ঘাটির দিকে এগিয়ে চলেছে মেজর এএকে।

ক্যাপ্টেন আর অন্যদের ওই আস্তানায় মিশনে পাঠিয়ে নিজে যায় মেয়েটাকে উদ্ধার করতে। খুব সাবধানে পা ফেলে ফেলে বো মা গুলা অতি সাবধানে পার করে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। পা পড়লেই ব্লাস্ট করবে তাই কোনো ভাবেই যাতে পা না পড়ে সেই চেষ্টায় রয়েছে।
মনে মনে তার একটাই প্রতিজ্ঞা- “হয় মা র বো, নাহয় ম র বো। হারবো না।”
.
.
.
.
অতি সাবধানে এক এক পদক্ষেপ ফেলে এগিয়ে চলেছে মেজর এএকে। মাথা সহ পুরো মুখ ঢেকে রাখা কালো মাক্সের সাহায্যে। শুধু চোখ দুটি রয়েছে দৃশ্যমান। তার এক একটা বাড়ানো পা সে এভাবেই বাড়াচ্ছে যেনো এখানেই থেমে যাবে জীবন। তবুও নির্ভয় চিত্তে এগোচ্ছে সে। অসাবধানতার জন্য যদি একটা পা ল্যান্ড মাইনের উপর পড়ে তবে এখানেই শেষ অনিল আবরার।

পরিবেশে গোধুলীর শেষ সময় বহমান। কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসবে নিকষ কালো রাত। সেই আধো আলো আধো অন্ধকার পাহাড়ি পরিবেশে মেজরের চোখে পড়ে কিছু একটা যা এখন এখানে থাকার কথা নয়।

মাক্স পরা সাথে জিন্স প্যান্ট পরে উপরে টি-শার্ট তার উপর ডেনিম জ্যাকেট পরে গুটি গুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছে কোনো মেয়ে সেই বিপজ্জনক এলাকায়। চুল গুলো ক্লাচার দিয়ে বাঁধা তবুও কিছু অবাধ্য চুল সামনে এসে মেয়েটার চোখে মুখে পড়ছে। মাস্ক পরিহিত হলেও মেয়েটার বিরক্তি ঠিকই এতো দূর থেকেও টের পাচ্ছে অনিল। কাঁধে আবার একটা বড় ব্যাগপ্যাক রয়েছে তার। মেয়েটাও অনিলের মতোই অতি সাবধানে ল্যান্ড মাইন গুলো এড়িয়ে এড়িয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে।

নিজেকে লুকানোর সমস্ত রকম চেষ্টা করলেও সামনের সেই অতি চালাক ধুরন্ধর রমনীকে চিনতে এক পলকের বেশি লাগে নি মেজরের। অনিলও এবার আস্তে আস্তে এগোচ্ছে। কিন্তু অনিল কাছাকাছি যাওয়ার আগেই সেই রমনী কুঁড়ে ঘরের মধ্যে যেয়ে একটা আহত মেয়েকে কোনো রকম ধরে ধরে বাইরে আনে। তারপর কাউকে একটা ফোন করলে মিনিটের মধ্যে সেখানে একটা হেলিকপ্টার পৌঁছে যায়। হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে একজন নেমে এসে আহত মেয়েটাকে নিয়ে উঠে যায়। কিন্তু রমনী যখন দড়ি বেয়ে উঠে যাবে তখন তার হাত স্লিপ করে সে নিচে পড়ে। রমনী আবারও উঠতে গেলেই অন্যপাশ থেকে চেঁচিয়ে উঠলো মেজর,

“ডোন্ট মুভ। আপনার পায়ের নিচে ল্যান্ড মা*ইন আছে। পা সরালেই ব্লা স্ট করবে। হেলিকপ্টার যেতে বলুন।”

আর্মি ইউনিফর্ম পরে কাউকে দেখলেও বিন্দুমাত্র ভয় পাচ্ছে না রমনী। সে ইশারায় হেলিকপ্টার চলে যেতে বললে বিকট আওয়াজ তুলে প্রস্থান হয় হেলিকপ্টারের। অনিল এগিয়ে আসে রমনীর দিকে।

দুজনের চোখ ব্যতীত সম্পূর্ণ ঢাকা থাকলেও একে অপরকে চিনতে অসুবিধা হয়নি কারো। রমনীর কালো চোখে নিজের ডার্ক ব্রাউন দুচোখের দৃষ্টি স্থির করে প্রশ্ন করে অনিল আবরার,

“মাশফিয়া রহমান মীম আপনার এখানে আগমনের কোনো দরকার ছিলো না। এতো ঝুঁকি নেয়ার জন্য সেনাবাহিনী রয়েছে।”

সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তি যে অনিল তা জানে মীম। তবে তার পদবী বোঝার জন্য অনিলের বুকের দিকে একবার তাকিয়ে নিজের মুখের মাস্ক খুলে মুচকি হেসে বলে,

“জানতাম না যে আর্মি মেজর এএকে এতো জলদি পৌঁছাতে পারবে। কারণ আইন সবসময় ঘটনা ঘটার পরে পৌঁছায় কিনা!”

সামনের এই চতুর মেয়েকে আর কিছু বলতে না দিয়ে তার পায়ের কাছে বসে পড়ে অনিল। মীমের বুট জুতার আশেপাশের মাটি সরিয়ে মা*ইন আলগা করে। তারপর হাতে থাকা চা*কু দিয়ে কিছুক্ষণ ভেবে মাই*নের সাথে লাল আর সবুজ তারের মধ্যে সবুজ তার কেটে দেয় এক টানে। তারপর কোনো কথা না বলে মীমের হাত ধরে দৌড়ে যেয়ে নদীতে ঝাপ দেয়। আর সঙ্গে সঙ্গে বি*স্ফো*রণ ঘটে ওখানে।
পুরো এরিয়া ধোঁয়ায় ছেয়ে যায়। লণ্ডভণ্ড হয় পুরো জায়গা।

..
..
..
চলবে___

(ব্যস্ততার কারণে রিচেক করতে পারিনি। বানান ভুল হলে একটু জানাবেন প্লিজ।

জানি এই পর্ব পড়ে একটু কনফিউশান এ থাকবেন আপনারা। কিন্তু জলদি কনফিউশান শেষ হবে।)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here