প্রভামঞ্জরী☜ #নওরোজ_মীম পর্বঃ ০৪

0
27

#প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ০৪ (কপি করা নিষেধ)
________________________

পরেরদিন সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে মেয়েকে দেখে অবাক হয়ে তাঁকিয়ে আছে জালাল শেখ ও খাদিজা বেগম। অবাক হওয়ার কারণ তাদের বইয়ের ভিতর ডুবে থাকা মেয়ে আজ সাঁজগোছ করেছে। সুন্দর একদম নতুন একটা থ্রিপিস পরেছে হালকা বেগুনি রঙের। উজ্জ্বল শ্যামলা ত্বকে রঙটা বেশ মানিয়েছে।
সাথে ম্যাচিং করে কানের দুল পরেছে। বাবার কিনে দেওয়া এক গোছা চুড়িও দেখা যাচ্ছে বা হাতে। ঠোঁট আবার কৃত্রিম উপায়ে রাঙিয়েছে।
যে মেয়ে কখনো সাঁজগোছের ধারে কাছেও যায়না তার হটাৎ এমন আচরণে অবাক হওয়ারই কথা।

অবশ্য মেয়েকে এভাবে দেখতে বেশ ভালোই লাগছে জালাল সাহেবের। তবুও বিচক্ষণ ব্যক্তি তিনি। মেয়ের এমন আমূল পরিবর্তনের কারণ বেশ আন্দাজ করতে পারছেন। তিনি মেয়ের মাথায় হাত বুলিয়ে খানিকটা আদর আর ঠাট্টার সুরে বললেন-

“মাশাল্লাহ! আমার মেয়েকে একদম একটা জীবন্ত ফুল মনে হচ্ছে। আমি শিওর অনিল আবরার চোখ ফেরাতে পারবে না আজ।”

বাবার কথায় প্রচন্ড লজ্জা পেয়ে যায় তনু। তার শ্যামবর্ণা গাল দুটো কেমন লাল হয়ে যায়। এমনিতেই কাল থেকে নিজের আচরণে নিজেই অবাক হচ্ছে। সকালে উঠে কেন যে এমন সাজগোজ করেছে জানে না সে। তবে তার ভালো লাগছে। কিন্তু প্রচন্ড লজ্জাও লাগছে। এখন আবার বাবা বুঝে গেলো। তার বাবাটাও না সব সময় বুঝে যায়। লজ্জা লুকানোর জন্য বাবকেই জড়িয়ে ধরে বলে উঠলো-

“বাবা! তুমি সবসময় বুঝে যাও কেন উফফ? আম্মুর মতো একটু হলে কি হতো?”

মেয়ের কথা শুনে হুহা করে হেসে ওঠেন জালাল সাহেব। মেয়েকে তার স্বভাব সুলভ সতর্কবার্তাও দেন।

“যা করবে সাবধানে মামনি। দশবার ভেবেই তবে এক কদম বাড়াবে। আর সবসময় মনে রাখবে তোমার বাবা তোমার ব্যাকবোন হয়ে অলওয়েজ তোমার সাথে আছেন।”

বাবার কথায় মুচকি হাসলো তনিমা। সেও বাবাকে জানালো তার মনে চলমান পরিস্থিতির কথা।
তার সকল কথা শুনে তাকে তার বাবা বলে-

“দেখো তনু তোমার বয়স কম হলেও ভালো মন্দ বোঝার বয়স তোমার হয়েছে। আজকালকার মেয়েদের মতো এতোটা অতিরিক্ত বুদ্ধি বা ঔদ্ধত্যের ছিটেফোঁটা নেই তোমার মধ্যে। আমার মেয়ে লাখে এক। তার মনে জায়গা পেয়েছে মানে অনিল আবরার নিশ্চয়ই বেস্ট।
তাও আমি বলবো তুমি নিজেকে সময় দাও। নিজের ব্যাপারে আগে শিওর হও তবে এই ব্যাপারে পা বাড়াবে। না অনিল কোথাও পালিয়ে যাচ্ছে আর না তুমি।
মনে রেখো আমি আমার মেয়েকে খুশি দেখতে চাই সবসময়।”

বাবার বলা সব কথা খুবই মনোযোগ দিয়ে শুনলো তনিমা। সে তার বাবার পরামর্শ গ্রহণ করে। আগে সে নিজের ফিলিংস এর ব্যাপারে শতভাগ নিশ্চিত হবে। তারপর অনিল ভাই এর মনে কি আছে তাকে নিয়ে তাও জানতে হবে। তবেই সে এ ব্যাপারটা নিয়ে এগোবে।
_________________________

সকালের মর্নিং ওয়াক শেষ করে সবে রুমে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে বের হয়েছে তাহমিদ। বাইরে বের হয়ে দেখে টেবিলে খাবার নিয়ে বসে আছে এএকে। তাহমিদ অবাক হয় যে এই কিচেনের শত্রু আবার রান্না করলো কিভাবে?
মানে হাউ?
মেজর এএকের জন্য রান্নাঘর যুদ্ধক্ষেত্র চেয়েও কঠিন কিনা! তারউপর আবার তার সাথেই তো মর্নিং ওয়াক করে ফিরলো।

মনে এতো ভাবনা ছেড়ে টেবিলে যেয়ে দেখে জ্যাম পাউরুটি, ফ্রুটস, ডিম সিদ্ধ আর এক গ্লাস করে দুধ রাখা। তাহমিদ না হেসে পারলো না। এই ছেলে তার যে পরিমাণ খেয়াল রাখে, যে যত্ন করে মুখে প্রকাশ না করেই প্রতিনিয়ত যেভাবে ভালোবাসে তার পরিবর্তে তাহমিদ কি তাকে কখনো কিছু দিতে পেরেছে? নাকি পারবে?

নিজের দিকে তাহমিদকে এভাবে তাকিয়ে হাসতে দেখে ভ্রুকুটি করে এএকে। এর আবার কি হয়েছে বুঝে উঠলো না। সকাল সকাল মাথা গেলো নাকি?

“এই কে*স শেষ না হওয়া পর্যন্ত তোকে পাবনা পাঠানো সম্ভব নয়। তাই এই যে পাগলামির লক্ষণ দেখা যাচ্ছে তোর মধ্যে এটাকে চেপে রাখ। এই কে*সের শেষে তোকে পাবনা ঘুরিয়ে আনবো প্রমিজ। ”

ব্রেড মুখে দিতে দিতে বলে উঠলো এএকে। তার কথা শুনেই মুখের হাসি মিলিয়ে যায় তাহমিদের। চোখ ছোট ছোট করে কিছুক্ষণ আরামে জ্যাম পাউরুটি চিবোতে থাকা বন্ধুর দিকে দেখে নিলো। তারপর বলে-

“ট্রাস্ট মি যখনই তোর উপর একটু ভালোবাসা আসে তুই এমন কিছু করিস যে ভালোবাসা যে রাস্তা দিয়ে যে স্পিডে আসে সেই রাস্তা দিয়েই তার চেয়ে দ্রুত স্পিডে পালিয়ে যায়।”

“ছিঃ বন্ধু এসব কি বলিস! আমার উপর ভালোবাসা আসে কেন তোর? লোকে শুনলে ভাববে যে সেনাবাহিনীর অকুতোভয়, অপরাজয়ী, গ্রেট ক্যাপ্টেন তাহমিদ কিনা শেষমেশ…………….
আমি কিন্তু ভাই পিউর পুরুষ মানুষ। তোর প্রতি আমার কোনো ইনটারেস্ট নেই। তওবা তওবা কি দিনকাল আসলো ভাবা যায়!”

তাহমিদের কথা শেষ করতে না করতেই এএকের থেকে জবাব পেয়ে চুপচাপ তার খাবার খেতে লাগলো তাহমিদ। এমন উত্তরে সে মোটেই অবাক হয়নি। তার মুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে এসব তার কাছে নতুন কিছু নয়। বরং নৈমিত্তিক ঘটনা এসব। তার ভাবসাব এমন যে এখানে সে ছাড়া আর কেউ নেই।

সে মোটেই প্রিয় বন্ধু থেকে এহেন উত্তর পেয়ে অবাক হয়নি। কারণ এইযে তার সামনে বসে ফালতু বকবক করা মানুষটাই একজন কাঠখোট্টা হার্টলেস মেজর। যে খুবই সামান্য কিছু মানুষের কাছে নিজেকে অন্যভাবে প্রকাশ করে। তার আপন মানুষের সংখ্যা দুনিয়ায় যে খুবই কম। তাহমিদ তার মধ্যে একজন বলে সে সবসময়ই আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানায়।

খাওয়া শেষ করে তাহমিদ বলে-

“আমরা তো আন্ডার কভার। এবার কি করবি বল? ও হ্যা তুই তো আবার তোর নতুন মিশন নতুন ঠিকানায় যাবি। দেরি হয়ে যাবে যা তাহলে। আমি একবার কেরানীগঞ্জ থেকে মা*র্ডা*র লোকেশন সার্চ করে আসি। তুই কি বলিস?”

“আমার নতুন ঠিকানায় আজ থেকে তুইও আমার সাথে যাবি। কথা বলে সব ঠিক করে নিয়েছি আমি। আর কেরানীগঞ্জ আমি অলরেডি টিম পাঠিয়ে দিয়েছি।”

তাহমিদের প্রশ্নের উত্তরে বলে এএকে। এবার তাহমিদ এমন ভাবে তাকালো যেন তাকে বলা হয়েছে
‘ক্যাপ্টেন তাহমিদ যাও এখনই তুমি এভারেস্ট এর চূড়ায় উঠো। না উঠতে পারলে তোমার থেকে তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় আর্মি ইউনিফর্ম ছিনিয়ে নেওয়া হবে।’

বন্ধুর অবস্থা বুঝে মনেমনে হেসে ওঠে এএকে। কিন্তু বাইরে দিয়ে যেন এখন সে মেজর এএকে।
তাহমিদ মুখটাকে বাচ্চাদের মতো ইনসেন্ট বানিয়ে বললো-

“আমার তো কোনো কাজ নেই সেখানে। তুই যা না। আমাকে কেন যেতে হবে। এই কে*সে আরও কতো কিছু ইনভেস্টিগেট করতে হবে। তা রেখে তুই আমি দুজনেই ওখানে পড়ে থাকলে কি আর হবে বল?”

“এতদিনে একসাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি এখন তোকে ছাড়া আমার বেশিক্ষণ থাকতে ইচ্ছে করে না। মনে হয় তুই পাশে না থাকলে আমার অক্সিজেন কম পড়ে। আর এই কে*স শেষ করার আগে তো আর অক্সিজেনের অভাবে আমি ম*রতে পারি না। তাই তুই যাবি আমার সাথে যাতে আমি তোকে মিস করার সুযোগ না পাই।”

তাহমিদ মুখটাকে এমন ভাবে ফোলাল যেন কোনো বাচ্চার থেকে তার পছন্দের খেলনা কেউ নিয়ে নিয়েছে।
তার মুখ ফোলানো দেখে এবার শব্দ করে হেসে ওঠে এএকে।
_________________________

ভার্সিটি তে এসেই দ্রুত ক্লাসে চলে যায় তনিমা। আজ রাস্তায় ট্রাফিক থাকায় তার একটু দেরি হয়ে গিয়েছে। তাই কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা ক্লাসে যায় সে। পরপর তিনটা ক্লাস করে বের হয় চিত্রাকে সাথে নিয়ে।

তনিমা ভেবেছিলো চিত্রা অনেক আপসেট থাকবে আগেরদিনের ঘটনার জন্য। কিন্তু তাকে অবাক করে দিয়ে চিত্রা তার পুরনো রুপে ফিরে গিয়েছে। বকবকানি চিত্রা ফেরত এসেছে। তনিমা কিছু একটা ভেবেই চিত্রাকে সাথে নিয়ে ক্যানটিনের দিকে যায়। ক্যানটিনে যেতেই দেখে তাদের বাকি বন্ধুরা আগে থেকেই সেখানে বসে আছে। তারাও যেয়ে তাদের সাথে বসে। আর শুরু হয় চিত্রার ননস্টপ বকবক। অয়ন, নির্জন, লিপি আর তনিমা একে অপরের দিকে তাকায়। তাদের সবার মনেই একটাই প্রশ্ন যে এতো কিছুর পরেও এই মেয়ে এভাবে আগের মতো আছে কিভাবে?

চারজন বাকরুদ্ধ ছেলেমেয়ে ও একজন ননস্টপ বকবক করা মেয়েকে দেখে তাদের দিকে এগিয়ে আসে অনিল।

” হেই গাইজ। কি অবস্থা সবার।”

হঠাৎ করে কোনো পুরুষালী আওয়াজে সেদিকে তাকিয়ে দেখে যে অনিল তাদের দিকে তাকিয়ে আছে। এবং তার সাথে আরও একটা ছেলে আর একটা মেয়েও রয়েছে।

এদিকে অনিলকে দেখেই তনিমার হার্ট জোরে জোরে বিট করতে থাকে। কয়েক সেকেন্ডের জন্য যেন তার চারপাশের সবকিছু ঝাপসা হয়ে শুধুমাত্র অনিল ভাই হাইলাইট হয়ে গেলো।

অনিলকে দেখে অয়ন আর নির্জন দাঁড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে তাদেরকে ওদের সাথে জয়েন করতে বললেই নির্দিধায় বসে পড়ে অনিল এবং সাথের দুইজকেও বসায়। অনিল ওদের সাথে তার বন্ধুদের পরিচয় করিয়ে দেয়।

“গাইজ মিট মাই ফ্রেন্ড প্লাস মাই এসিস্ট্যান্ট আহনাফ। আর আমাদের ফ্রেন্ড আঞ্জুম। আর ওরা হলো অয়ন, নির্জন, লিপি, চিত্রা আর তনু।”

প্রত্যেকের দিকে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলে অনিল। সকলে একে অপরের সাথে পরিচয় পর্ব শেষ করে। নির্জন বলে উঠলো-

“অনিল ভাই আপনার ফ্রেন্ড বুঝলাম কিন্তু এসিস্ট্যান্ট মানে?”

অনিল সুন্দর একটা মুচকি হাসি দিয়ে বলে-

“আমার বাবার অফিসে বসি বলেছিলাম তো। আহনাফ সেখানেই আমার এসিস্ট্যান্ট হিসেবে আছে। আমি একা লেখাপড়া করে অত্যাচারিত হবো আর আমার বন্ধু আরামে থাকবে তা কি করে হতে দেই বলো? আমি আবার এতো ভালো না। তাই জবরদস্তি এটাকেও নিয়ে এসেছি সাথে লেখাপড়া করতে। আর আঞ্জুম আমাদের আগে থেকেই এখানে ভর্তি হয়েছিলো। ও আছে বলেই এই ভার্সিটিতে এসেছি। না হলে আমরা অন্য কোথাও যেতাম।”

অনিল ভাইয়ের কথা শুনে তনিমার ইচ্ছে করলো আঞ্জুম নামের মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে ধন্যবাদ জানাতে। ভাগ্যিস সে এখানে ভর্তি হয়েছিলো তাইতো অনিল ভাই এখানে এসেছে।

অনিল খেয়াল করে যে সে আসার পর তনিমা একটা কথাও বলেনি। তাই সে তনিমার উদ্দেশ্যে বললো-

“কোনো প্রব্লেম কি তনু? আমার সাথে একটা কথাও বললে না যে?”

“আমি তো দেখছিলা…ম। ন..না.. না মানে সবার কথা শুনছিলাম। কোনো সমস্যা নেই অনিল ভাই।”

অনিল ভাইয়ের হঠাৎ প্রশ্নে থতমত খেয়ে বলে তনিমা। সে তো এতো সময় অনিলকে দেখেই যাচ্ছিলো কথা কিভাবে বলবে? ভদ্রতা বজায় রাখতে যে কথা বলতে হবে তা তো সে ভুলেই গিয়েছিল। তার মনে হলো অনিল ভাই একটা জাদুকর। তাকে জাদুবলে নিজের প্রতি দূর্বল করে দিচ্ছে। সাথে ভুলিয়ে দিচ্ছে দুনিয়াদারি।

তনিমার কথায় হেসে আবারও সবাই কথা বলতে থাকে। চিত্রা অনিল ভাইকে ধন্যবাদ দিতে দিতেই পাগল করে ফেলেছে। সে এতক্ষণে সবার সাথে ফ্রী হয়ে গিয়েছে। তাই তার বকবক মুড আবারও অন হয়েছে।

তনিমা এখনো অনিলের দিকে তাঁকিয়ে আছে। আজ অনিল একটা সী গ্রীন শার্ট পরে এসেছে। হাতে ঘড়ি পায়ে ফরমাল সুজ আর ফরমাল প্যান্ট দেখেই বোঝা যাচ্ছে ভার্সিটি থেকে সোজা অফিসে যাবে সে। চোখ ঘুরিয়ে আহনাফের দিকে তাঁকালে দেখে সেও ফরমাল গেটাপে।
এই ফরমাল গেটাপেই যে অনিল ভাই এতো সুদর্শন না জানি ক্যাজুয়াল গেটাপে তাকে আরও কতটা সুদর্শন লাগবে? তনিমার খুব লোভ হলো অনিল ভাইয়ের ক্যাজুয়াল লুক দেখার।

তাদের কথার মধ্যেই খাবার চলে এসেছে। তনিমার এখনো কোনো ধ্যান নেই। সে অনিলেই বিভোর। কিছু না ভেবেই কোল্ড কফির কাপ নিয়ে তা খেতে থাকে সে। কিছুটা খেতেই তার কাশি শুরু হয়ে যায়। সবাই নিজেদের কথা আর খাওয়া দাওয়া থামিয়ে তনিমার দিকে তাকায়। সে অলরেডি কেমন লাল হয়ে গিয়েছে আর দেখেই বোঝা যাচ্ছে তার প্রচন্ড শ্বা*সকষ্ট হচ্ছে।

লিপি দেখে যে তনিমা কোল্ড কফি খাচ্ছিলো। সে অনিলকে জানালো যে তনিমার এজমা আছে। সে ঠান্ডা কিছু খেতে পারেনা। এই কোল্ড কফির জন্যই এমন হচ্ছে।
তনিমার ব্যাগে খুঁজে ইনহেলার পাওয়া গেলো না। অনিলের প্রচন্ড রাগ হলো মেয়েটার উপর। একে তো জেনে বুঝে ঠান্ডা খেয়েছে তারপর কাছে ইনহেলার পর্যন্ত নেই। নিজেকে নিয়ে এতো বেখেয়ালি কেউ হয়?

এদিকে তনিমার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। তাই নিজের রাগ সাইডে রেখে অয়নকে বলে তনিমাকে নিয়ে বের হতে আর সে যায় গাড়ি বের করতে।
অয়ন তনিমাকে কোলে তুলে বাইরে বের করে ততক্ষণে অনিল গাড়ি পার্কিং থেকে রাস্তায় বের করেছে। তারা তনিমাকে নিয়ে হাসপাতালে যায়।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে ট্রিটমেন্ট শুরু করার পরে সুস্থ হয় তনিমা। এদিকে রাগে চোয়াল শক্ত করে তার দিকে ভস্ম করা দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে অনিল।
ডক্টর চলে যাওয়ার পর তনিমার উদ্দেশ্যে গর্জে ওঠে সে-

“তুমি কি বাচ্চা তনু? নিজের ভালো নিজে বোঝোনা? তোমার এজমা আছে তা জেনেও কেন কোল্ড কফি খেলে? আর তোমার কাছে ইনহেলার নেই কেন? আন্সারমি ষ্টুপিড গার্ল।”

অনিলের ধমকে কেঁপে ওঠে তনিমা। সেখানে আর কেউ নেই আগেই অনিল সবাইকে বুঝিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছে।
তনিমার মন খারাপ হয়। এই লোকের দিকে নিজের সমস্ত মনোযোগ থাকায় তো তার এতো বড় ভুল হয়ে গেলো।

অনিল আর কিছু বললো না তাকে। হাসপাতাল থেকে বের হয়ে তনিমাদের বাড়ির সামনে গাড়ি থামালে তনিমা ধন্যবাদ জানিয়ে নামতে গেলেই অনিল তার কাছে ফোন চাইলো।
তনিমা বিনাবাক্যে তার ফোন এগিয়ে দিলে অনিল সেখানে নিজের নম্বর সেভ করে দিয়ে বলে বাড়ি ফিরে যেন তাকে কল করে।

তনিমা নেমে বাড়ি যায়। গেট দিয়ে নিজের বাড়ি ঢুকেই তার মুখে হাসি ফোটে। ফোনে অনিলের নম্বরের দিকে তাকিয়ে হেসেই ফেলে। একটু আগের মন খারাপ তার যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেলো।

চলবে____

..

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here