#প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ০৫ (কপি করা নিষেধ)
_______________________
বাংলাদেশের সমস্ত টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক ও ক্যামেরার সামনে বসে আছেন মেজর জেনারেল নারায়ণ কর্মকার ও পুলিশ কমিশনার জিল্লুর আহমেদ।
তারা সংবাদ মাধ্যমকে ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন যে চক্র খু*নের কে*স (এই কন্টিনিউস হওয়া খু*নের কে*সটার নাম দেওয়া হয়েছে চক্র খু*ন) পুলিশের থেকে ট্রান্সফার হয়ে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর হয়েছে।
তারপর থেকে শুরু হয়েছে সাংবাদিকদের নানাবিধ প্রশ্ন। এই যেমন-
* তাহলে কি সরকার দেশের পুলিশের উপর ভরসা করতে পারছে না?
* যেখানে সরকার পুলিশের কাজে সন্তুষ্ট নয়, সেখানে দেশের সাধারণ জনগণের পক্ষে পুলিশকে কতটুকু মূল্যায়ন করা সম্ভব?
* সেনাবাহিনীর কাছে কে*স দেওয়া হয়েছে কিন্তু কি গ্যারান্টি যে পুলিশ এতোদিনে যা পারেনি তা সেনাবাহিনী পারবে?
* আপনারা সেনাবাহিনীর যে টিম বানিয়ে কে*স হস্তান্তর করেছেন তারা কেউ সামনে নেই কেন? তারা লোক সম্মুখে এসে কেন সব ক্লিয়ার করছে না?
সাংবাদিকদের প্রশ্ন বেশ শান্ত ভাবে শুনলেন মেজর জেনারেল নারায়ণ কর্মকার ও পুলিশ কমিশনার জিল্লুর আহমেদ। পেশাদারি নজরে সামনে তাঁকিয়ে বসে আছেন তারা। মোটামুটি সবার প্রশ্নের ভান্ডার শেষ হলে মেজর জেনারেল নারায়ণ কর্মকার উত্তর দিতে শুরু করেন।
মেজর জেনারেল নারায়ণ কর্মকার-
” পুলিশের উপর ভরসা না করার প্রশ্ন আসছে কেন? এমন নয় যে এই প্রথম কোনো কে*স পুলিশের থেকে সেনাবাহিনীতে হস্তান্তর করা হয়েছে। এমন এর আগেও হয়েছে এবং এর পরেও হবে। সেরকমই চক্র খু*নের কে*সটা।
সরকারের সকল ক্ষেত্রেই কিন্তু পুলিশকে কাজে লাগানো হয়। নিশ্চয়ই পুলিশের কাজে ভরসা না থাকলে তা হতো না।
দেশের জনগণকে পুলিশ সর্বদা সার্ভিস দিয়ে থাকে। জনগণের জন্যই তো আইন ব্যবস্থা। পুলিশ হোক বা সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো আইন মাধ্যম হোক আমাদের কাজ দেশ ও দশের সেবা করা। সর্বদা আমরা নিয়োজিত সাধারণ জনগণের জন্য।
সেনাবাহিনীর কাজ সম্পর্কে হয়তো আপনাদের মনে সন্দেহ থাকার কথা নয়। সেনাবাহিনীর হাতে যাওয়া বেশির ভাগ কে*সের সমাধান হয়েছে। আর আমরা আমাদের গঠিত এই টিমের উপর পূর্ণ রুপে ভরসা করি যে তারা কে*স সফলভাবে শেষ করবে।
আর এই টিমের কেউ সামনে আসেনি কারণ কে*সের জন্য প্রত্যেকটা সেনা সদস্য ব্যস্ত। সংবাদ সম্মেলনের চেয়ে এখন কে*সে বেশি ফোকাস করা দরকারী তাই তাদের কে ডিসটার্ব না করেই আমি নিয়েছি এই দায়িত্ব।”
পুলিশ কমিশনার জিল্লুর আহমেদ বলেন-
“আমরা সকল দিক ভেবেচিন্তে সকল পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই কে*স পুলিশের থেকে সেনাবাহিনীতে হস্তান্তর করার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তাই আপনারা সাহায্য করুন এই খু*নের কেসটা সলভ করতে। আইন ব্যবস্থার উপর ভরসা রাখুন। আইনের সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ। ”
শেষ হয় সংবাদ সম্মেলন।
‘সেনা বাহিনী কি পারবে এই চক্র খু*নের কে*সটা সলভ করতে? নাকি তারাও পুলিশের মতো বিফল হবে? জানা গিয়েছে এই কে*সের দায়িত্বে রয়ছে ইয়াং মেজর এএকে এবং ক্যাপ্টেন তাহমিদ ও তাদের টিম। মেজর এএকে একজন অসাধারণ অকুতোভয় অপরাজয়ী সেনা কর্মকর্তা। মাত্র ত্রিশের কোঠায় সে যা জয় করেছে যে পথ পাড়ি দিয়েছে তা অনেক মানুষের শুধু স্বপ্নই থেকে যায়। আজ অব্দি তার হাতে নেওয়া কোনো কে*স অসফল থাকেনি। মেজর হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর এই চক্র খু*নের কে*সই তার প্রথম কে*স হতে যাচ্ছে।
ক্যাপ্টেন তাহমিদ ও ইয়াং এবং অত্যন্ত মেধাবী, অকুতোভয় অপরাজয়ী সেনা কর্মকর্তা। তার ঝুলিতে রয়েছে অসংখ্য অর্জন।
এর আগে ক্যাপ্টেন তাহমিদ ছিলো বান্দরবান ক্যান্টনমেন্ট এবং মেজর এএকে ছিলো যশোর ক্যান্টনমেন্ট। এই কে*সের জন্য দুজন অতুলনীয় সেনা সদস্য একত্রিত হয়েছে।
তারা কি পারবে এই চক্র খু*নের আ*সামীকে ধরতে নাকি তারাও পুলিশের মতো ফেল করবে?
এবার হয়তো এতোটাও সহজ হবে না কারণ এই খু*নীও প্রতিনিয়ত যেন আইন ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছে। সে তার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু তার কিছুই করতে পারেনি এখনো আইন ব্যবস্থা। এবার দেখার ব্যাপার সেনাবাহিনীর স্পেশাল টিম মেজর এএকে ও ক্যাপ্টেন তাহমিদের টিম কতটা কি করতে পারে? খু*নী ধরা পড়ুক। এই ধ্বংসের খেলা বন্ধ হোক। আগামী প্রজন্ম সুরক্ষিত হোক।
আইন এবং মেজর এএকে আর তার টিমের প্রতি আস্থা রেখেই শেষ করছি।
আমি সাদাফ আদনান ও আমার সাথে ক্যামেরায় আশিক। আর্মি স্টেডিয়াম ঢাকা।’
সংবাদ শেষ হলে টিভি বন্ধ করে রিমোট সেন্টার টেবিলের উপর রাখলেন জালাল শেখ। তার পাশে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম বসে তিনিও খবর দেখছিলেন। তনিমার শরীর খারাপ থাকায় সে তার রুমে বিশ্রাম নিচ্ছে।
_____________________
রাত প্রায় দশটার কাছাকাছি। অনিল কনফারেন্সে মাত্র একটা মিটিং শেষ করে উঠলো। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে তার। এখন একটা কফি তার লাগবেই। তাই উঠে যেয়ে নিজের জন্য এক কাপ দুধ চিনি ছাড়া কফি বানিয়ে নিয়ে বারান্দায় যেয়ে সেখানে রাখা ইজি চেয়ারে বসে। দু’হাতে আগলে গরম কাপ উঠিয়ে নাকের সামনে ধরে লম্বা করে শ্বাস নিলো। মূলত কফির ঘ্রাণ নিলো সে। ব্লাক কফির এই ঘ্রাণ তার কাছে অত্যন্ত প্রিয়। কফি খেতে গেলেই সে আগে কিছুক্ষণ কফির ঘ্রাণ নিয়ে পরে কফি খায়।
তার এই কাজের জন্য সে কয়েকবছর আগেও তার আম্মুর বকা খেতো। ভাবা যায় এতো বড় ছেল তাও সেই ছেলেকে তার আম্মু কি অবলীলায় বকাঝকা করতো! আর সে কখনো পালটে মায়ের মুখের উপর জবাব দিতে পারেনি। আনমনে হাসলো অনিল পুরনো কথা মনে করে। তারপর আকাশ পানে চেয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে।
অথচ এখন বকা দেয়ার জন্য তার সেই আম্মুই নেই। নেই আজ চারবছর। অনিলের ইচ্ছে করে তার আম্মুকে ডেকে বলতে যে, তোমার অনিল এখনো আগের মতোই আছে আম্মু। এখনো কফির ঘ্রাণ নিতে নিতে কফি ঠান্ডা করে খায়। এখন কেনো তুমি এসে তোমার অনিলকে ভালো মতো বকে দিচ্ছো না? কিন্তু যে যায় সে কি আর ফেরার জন্য যায়? তার এই আর্জি এ জীবনে আর তার আম্মু শুনবে না।
অনিল আর ওই কফি খেতে পারলো না। রুমে এসে কফির মগ রেখে আবারও ল্যাপটপ নিয়ে বসলো কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার জন্য।
বেশ অনেক সময় ধরেই অনিল কাজ করছে। রাত প্রায় সাড়ে এগারোটা। এমন সময় তার ফোন বেঁজে ওঠে। দেয়াল ঘড়িতে সময় দেখে কপাল কুঁচকে ফোন হাতে নিলো এতো রাতে তার এই ফোনে কে কল করেছে দেখার জন্য। এটা তার পার্সোনাল নাম্বার নয়। তার পার্সোনাল নাম্বার শুধু তার বাবা, বোন আর তার বন্ধুরা এবং আর একজন ব্যক্তির কাছে রয়েছে। তাই অন্য ফোনে কল পেয়ে সামান্য চিন্তিত হয় অনিল।
কল রিসিভ করে কানে নিয়ে হ্যালো বলে সে। কিন্তু অপরপ্রান্তে নিরবতা। আরও কয়েকবার হ্যালো বলে কল কেটে দেয় অনিল। কিন্তু আবারও কল আসে। রিসিভ করে এবার অনিলই চুপ থাকে অন্যপাশের কথা শোনার জন্য।
অনেকক্ষণ দুপাশে নিরবতা বজায় থাকলো। অনিল কোনো তাড়াহুড়ো দেখালো না। কিছুক্ষণ পরে অন্যপাশ থেকে চিকন মেয়েলী কন্ঠ ভেসে আসে-
“অনিল ভাই!”
এ কন্ঠ একবারেই চিনে ফেলে অনিল। সামান্য ঠোঁট বাকিয়ে বললো-
“তনু। আমি জানতাম তুমি ফোন করবে। কিন্তু এতো দেরি করে করবে তা জানতাম না। ভেবেছিলাম আরো আগেই করবে।
আচ্ছা বাদ দাও। শরীর কেমন এখন? আর কি হয়েছে শ্বাসকষ্ট?”
নিজের জন্য অনিল ভাইয়ের এতো চিন্তা দেখে মনে মনে খুশি হলো তনিমা। আপ্লুত হয়ে সে জানালো যে সে ভালো আছে। আর কোনো সমস্যা হয়নি।
কিছুক্ষণ কথা বলে ফোন রেখে দিয়ে বিছানায় মুখের উপর দুই হাত দিয়ে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা নিয়ে শুয়ে পড়ে তনিমা। কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে লজ্জা লাগছে তার।
_______________________
রাত একটা। ‘Roses Night club’ এর বাইরে বের হয় অপর্ণা আর তার বন্ধুরা। এই নাইট ক্লাবে তাদের নিত্য যাতায়াত। বড়লোক সমাজের ছেলে মেয়ে এরা। এখানে না গেলে তাদের আনন্দই হয়না। সবাইকে বিদায় দিয়ে অপর্ণা তার গাড়িতে উঠে বসলে ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করে। মাথাটা প্রচন্ড ব্যাথা করছে অপর্ণার। আজ কিছু ছেলের পাল্লাই পড়ে ওয়াইন একটু বেশিই খেয়ে ফেলেছে। চোখ মেলতে পারছে না এমন অবস্থা। হঠাৎ গাড়িতে জোরে ব্রেক কষে ড্রাইভার। ধাক্কা লাগে সামনের সীটের সাথে অপর্ণার। এমনিতেই মাথা ধরে আছে তারপর এমন বাজে ভাবে ধাক্কা খাওয়াতে মেজাজ বিগড়ে গালি দিয়ে ওঠে সে ড্রাইভার কে।
চোখ মেলে ড্রাইভারকে আরও কিছু কথা শোনাতে গেলেই দেখে এটা তো তার ড্রাইভার নয়। অন্যকেউ। আর সে একটা……..
অপর্ণার চোখ বন্ধ হয়ে যেতে চাইছে। কিছুতেই চোখ মেলে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। সে চেঁচামেচি করছে কিন্তু গাড়ির কাঁচ লাগানো তারপর এমন একটা নিরিবিলি জায়গায় কে শুনবে তার আর্তনাদ?
অপর্ণা বহু কষ্টে বলে-
“কে..কে তুমি? আমার গাড়িতে কি করছো? কি..কি চাই?”
ড্রাইভিং সিটে বসে থাকা ব্যক্তি শব্দ করে জোরে জোরে হাসলো। যেনো এইমাত্র তাকে কেউ ভিষণ ফানি কোনো জোক শুনিয়েছে। সেই হাসিতে অপর্ণার রুহ যেন উড়ে যায়। ড্রাইভিং ছিটে বসা আকাশী কালারের হুডি পরা ব্যক্তি তার মাথা থেকে হুডি নামিয়ে দিলো। মুখের মাস্ক খুলে ফেলে অপর্ণার দিকে তাকিয়ে বলে-
“কি ম্যাডাম চেনা চেনা লাগে?”
“তু..তু..তুমি!”
ড্রাইভিং সিটে বসা ব্যক্তির চেহারা দেখে অপর্ণা ভয় পাওয়ার সাথে সাথে অবাকও হয়। সে ভাবে এটা কিভাবে সম্ভব? কিন্তু তার ভাবনায় এক বালতি পানি ফেলে দিয়ে ওই ব্যক্তি বলে-
“হ্যা আমি। আমিই সেই খু*নী যাকে পুরো দেশ খুঁজে বেড়াচ্ছে। শুনলাম আমার পিছনে নাকি সেনাবাহিনীর কোন মেজর কে লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু কি লাভ বলো? আমি যে তুফান। আর তুফানকে কি ধরা ছোয়া যায়? তুফান আসে তারপর নিজের মতো ধ্বংসলীলা চালিয়ে চলে যায়। না তাকে আটকে রাখা সম্ভব আর না ধরা। এই মেজর আমার কিছুই করতে পারবে না।
ও হ্যা আসল কথাই তো বলা হয়নি। আমি এখানে এসেছি তোমাকে মা*রতে। তুমি নিশ্চয়ই জানো আমি তোমাদের মতো মানুষকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলতে ভালোবাসি।
আর হ্যা ম*রার আগে তোমার অ*প*রা*ধ তো জেনে যাও।
তুমি ওই রনির সাথে এটা যেনেও এফেয়ার করেছো যে ওর গার্লফ্রেন্ড আছে। তোমার সাথে মিলে একটা নির্দোষ মেয়েকে ঠকিয়েছিল ওই জা*নো*য়া*রটা। ওটাকে ওর প্রাপ্য শাস্তি দিয়ে দিয়েছি। এখন তোমার পালা। অ*প*রা*ধ যখন একই শাস্তি তো একই হওয়া চাই তাইনা?
যারা লোক ঠকায় আমি তাদের চিহ্ন মুছে দিবো দুনিয়া থেকে। তোদের মতো মানুষকে মে*রে দুনিয়ার আবর্জনা কমাবো।”
কথাগুলো বলতে বলতে সেই ব্যক্তি কেমন যেন হিংস্র হয়ে যাচ্ছে। তার এতগুলো কথা শুনে, নিজের ম*রণকে সামনে দেখেও কিছু করতে ও বলতে পারলো না অপর্ণা। ততক্ষণে সে অজ্ঞান হয়েছে।
অপর্ণাকে অজ্ঞান দেখে গাড়ি থেকে বের হয় খু*নী। তারপর কাউকে ফোন করে দুই মিনিট অপেক্ষা করে। অন্য একটা গাড়ি এসে তার সামনে থামলেই সে উঠে ড্রাইভিং সিটের পাশের সিটে বসে। গাড়ি থেকে অন্য দুইজন ছেলে বের হয়। তারাও খু*নীর মতো একই পোশাক পরে আছে। তারা দুইজন যেয়ে অপর্ণাকে তাদের গাড়িতে শুইয়ে দিয়ে নিয়ে যায় তাদের আস্তানায়। বাকী থাকা কাজ সেখানে যেয়েই আরামসে শেষ করবে। তার এই খু*নের প্রসেসিং অনেক সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।
.
.
পরেরদিন সকাল আটটার দিকে মেজর এএকের ফোনে ক্যাপ্টেন তাহমিদের কল আসে। সে কল রিসিভ করলে ক্যাপ্টেন তাহমিদ জানায়-
“স্যার আজ সকালে মোহাম্মদপুর একটা ছোট পার্কের ডাস্টবিনের মধ্যে একটা পলিথিনে লা*শ পেয়েছে সেখানকার পরিচ্ছন্ন কর্মী। পুলিশ যেয়ে দেখে এই খু*নও চক্র খু*নের অনুরূপ। সবাই বলছে এটা ওই খু*নীর কাজ। চক্র খু*নের কে*সে আরও একটা খু*ন যোগ হলো।”
চলবে___
.

