#প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ০৭ (কপি করা নিষেধ)
_______________________________
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমানের হাসিখুশি ছোট ছবির মতো পরিবার। বাবা মায়ের পছন্দ করা মেয়ে শায়লা হকের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে। তখন তার পোস্টিং ছিলো সিলেট সেনানিবাসে। বিয়ে করে শায়লা হককে সাথেই নিয়ে ওঠেন কোয়ার্টারে। শুরু হয় টোনাটুনির সংসার। তারপর সে কতশত স্মৃতি।
বিয়ের সাতবছর পর ঘর আলো করে জন্ম হয় একটা ফুটফুটে ছোট্ট পুতুলের। আদর করে মেয়ের দাদু মেয়ের নাম রাখেন মাশফিয়া রহমান মীম। মীমের জন্মের পরে তাকে আর তার মাকে রেখে যায় ঢাকা তার দাদু দাদীর কাছে। তাদের বাড়ি সুখ নীড়ে। শায়লা হক একা একা মেয়েকে সামলে রাখতে হিমশিম খাবেন তাই এই ব্যবস্থা। ছুটি আর সুযোগ পেলেই হামিদুর রহমান ছুটে চলে যেতেন ঢাকা মেয়ের টানে। এভাবে কাটে সময়। হামিদুর রহমানের পদন্নোতি হয়ে তিনি ঢাকা শিফট করেন যখন মীমের বয়স নয় বছর।
মীমের জন্মের পর অনেক চেষ্টা করেও আর কোনো সন্তান হয়নি শায়লা হকের। বহুবছর পরে আল্লাহ মুখ তুলে তাকালেন। শায়লা হক আবারও অন্তঃসত্ত্বা হলেন। মীমের বয়স যখন পাক্কা দশবছর তখন জন্ম হয় তার ছোট ভাইয়ের। তার নাম রাখা হয় শাহমীর রহমান জীম। জীবন কাটে আনন্দে। হুট করেই একটা কাল বৈশাখী ঝড়ের তান্ডবে তছনছ হয়ে যায় সবকিছু। সুখের সংসার সে ঝড়ে ভেসে যায়।
তিন বছর আগে সেদিন মীমের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার রেজাল্ট দিলো। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমানের মেয়ে বরাবরের মতো এবারেও সেরা। খুশি যেনো ধরেনা সুখনীড়ে। মীম তখন কলেজে ছিলো। সবার সাথে আনন্দ করে সে বাড়ি ফেরে একপ্রকার নাচতে নাচতে। তার বাবা, দাদু, দাদী, আম্মু, তার পিচ্চি ভাই জীম সবাই খুব খুশি হবে আজ। সে তার বাবার কাছে আবদার করে বলবে যে তার রেজাল্টের খুশিতে তাকে সহ পুরো পরিবার নিয়ে যেন তার বাবা কক্সবাজার ঘুরতে যায়। আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে সে বাড়িতে ঢুকে হা হয়ে দাঁড়িয়ে যায়। কারণ সে যা দেখছে তা দেখার জন্য সে মোটেই প্রস্তুত ছিলো না।
কিছু লোকজন তার দাদু আর দাদীর গলায় চা*কু চেপে ধরে দাঁড়িয়ে আছে আর আম্মুকে বেঁধে রাখা হয়েছে চেয়ারের সাথে। মীম বাড়িতে ঢুকতেই কয়েকজন গু*ন্ডা টাইপের লোক তাকে ঘিরে ধরে। ভাবসাব এমন যেন এতক্ষণ তারই অপেক্ষা করেছে এরা।
করেছেও তাই মেয়েটা আসার সাথে সাথেই তাদের মধ্যের বস এসে নজর ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে স্ক্যান করতে থাকে মেয়েটাকে। সদ্য বিশে পা দেওয়া ঢাকায় বড় হওয়া স্মার্ট মেয়েটা সেই দৃষ্টির মানে বোঝে। আর ঘৃনায় কুঁকড়ে গেলো। কলেজ ড্রেস পরিহিত কোমরের নিচে পড়া লম্বা চুলগুলো দুই বেণি করে সামনে রাখা বিশ বছরের মেয়েকেও একদম বাচ্চা বানিয়ে দিয়েছে যেন। মীমের ঘটনা বুঝে ওঠার আগের তাকে নিয়ে নিচের একটা রুমে যেয়ে দরজা বন্ধ করে দেয় লোকটা। লোকটা মাঝবয়েসী তা দেখেই বোঝে মীম। শ্যামলা চেহারা চোখগুলো একদম সাদা সাদা বিড়ালের মতো। আর ডান গালে একটা বড় কাটা দাগ। আর দাগটা যে খুব বেশি পুরনো না তাও বোঝা যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে মীমকে রুমে বন্দী করায় শ্বাস আটকে যায় সবার।
লোকটা সেদিন মীমের সাথে জবরদস্তি করে। এক টানে কলেজ ড্রেসের উপর পড়া স্কার্ফ খুলে ছুড়ে মারে তা। আর বারবার বলে যে
‘তোর বাপের কর্মফল পাবি তুই আর তোর পুরো পরিবার। তোর বাপ আমার পরিবার আমার বোনকে শেষ করেছে এখন আমি তোদের শেষ করার সাথে সাথে তোর বাপের মান সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দেবো। খুব দেমাগ না তোর বাপের তোকে নিয়ে? এরপর তোর মুখ দেখেও লোকে থুথু ছুড়বে তোর বাপের মুখে। নষ্টা মেয়েমানুষ হয়ে থাকবি তুই দুনিয়ায়। নষ্টা।’
মীম নিজেকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে কিন্তু পারছে না পুরুষালি শক্তির সাথে। মীম দৌড়ে পালাতে গেলে তার একটা বেণি টেনে কাছে নিয়ে আসে লোকটা। তারপর মীমের কলেজ ড্রেসের জামায় হ্যাঁচকা টান দেয়। মোটা কাপড় হওয়ায় তা পুরো না ছিড়লেও পেটের দিকে বেশ কিছুটা ছিড়ে যায়। মীম দু’হাতের সাহায্য আড়াল করার চেষ্টা করে কিন্তু লোকটা ওর দিকে তাকিয়ে সে কি বিদঘুটে আওয়াজে হাসে! মেয়েটাকে দেয়ালের সাথে চেপে ধরে পেটে থাবা বসায় লোকটা। নগ্ন পেটে লোহার মতো শক্ত হাতের থাবা মেরেই শুধু থামে না লোকটা। সর্বশক্তি দিয়ে খামচে ধরে পেটে। পাঁচ আঙুলের নখ ডেবে যেয়ে র*ক্ত বের হয় কলকল করে মীমের পেট থেকে। লোকটা এখনো বিদঘুটে ভাবে হাসে। এবার লোকটা মীমের গলায় দাত বসিয়ে কামড় দেয়। যেন কামড়ে মাংস উঠিয়ে নেবে। মেয়েটা অসহায় ভাবে কাঁদছে।
এক ধাক্কায় মীমকে নিচে ফেলে দিয়ে নিজের শার্ট খুলতে থাকে লোকটা। এভাবে পড়ায় মাথায় প্রচন্ড জোরে আঘাত লাগে মীমের। সেই আঘাতেই সে অর্ধচেতন হয়। মীম দিশেহারা। নিজেকে বাঁচানোর সব রাস্তা শেষ তার। এবার বুঝি সব শেষ হবে তার?
লোকটা মীমের উপর ঝাপিয়ে পড়বে এমন সময় বাইরে থেকে অনেকগুলো গাড়ি একত্রে আসার আওয়াজ পেয়ে লোকটা তার শার্ট উঠিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার আগে মীমকে বলে যায়,
‘এখানেই শেষ না। তোকে তো আমি আমার বিছানায় নিয়েই ছাড়বো আজ হোক বা কাল। আর এখন তোর পুরো পরিবারকে মেরে রেখে যাবো। আর এই সবকিছুর জন্য দায়ী তোর বাপ। আর হ্যা শোন তোর হিরো বাপকে আমি আগেই এসবের কথা বলেছিলাম। কিন্তু তোর বাপ বলছে আমার যা খুশি তা তোদের সাথে করতে। আর দেখ করলামও কিন্তু তোর বাপ বাঁচাতে পর্যন্ত আসে নাই।’
লোকটা চলে যায় দরজা খুলে। দরজার ফাঁকা দিয়ে অর্ধচেতন মীম দেখতে পায় লোকটা তার দাদীর গলায় ছুরি বসিয়েছে। আর তার দাদী জায়গায় ঢলে পড়ে। তারপর তার দাদাকেও মেরে ফেলে। এবং শেষমেশ তার মায়ের দিকে যেতে গেলেই তার বাবা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান প্রবেশ করে। লোকটা তার মা শায়লা হকের মাথায় পি*স্ত*ল ঠেকিয়ে তাকে নিয়ে বাসার পিছনের গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়। যাওয়ার আগে শায়লা হকের বুকে গু*লি করে। আর কিছুই মনে নেই মীমের। তার যখন চোখ খোলে সে নিজেকে লন্ডন একটা হাসপাতালে আবিষ্কার করে। যেখানে তার বাবা ছিলো না। কেউ ছিলো না। মীমের অবস্থা খারাপ হয়। সে তার বাবাকে ফোন করে কিন্তু পায়না। হাসপাতালে সাতদিন থাকে মীম কিন্তু একবারের জন্যেও কেউ যায়নি তার কাছে। সাতদিন পরে তাকে তার দাদুর পিএ নিয়ে যায় লন্ডনের একটা বাসায়। সেখানে একটা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করা হয় তাকে। সে কোনো খবর জানে না দেশের। নিজের পরিবারের। তিনবছর পরে তার বাবা তার লন্ডনের ভার্সিটি থেকে ক্রেডিট ট্রান্সফার করে ঢাকায় এনে ভর্তি করে। মীম আবারও তিনবছর পরে বাড়ি ফেরে। কিন্তু এইবাড়ি আর সুখ নীড় নেই। সুখ নীড়ের সব সুখ শেষ। তিনবছরে মীমের তার বাবার সাথে কখনো ফোনেও কথা হয়নি। প্রথম প্রথম মীম অনেক চেষ্টা করলেও লাভ হয়নি। একদিন হামিদুর রহমান মেয়েকে ফোনে যাচ্ছেনা তাই বলে ফোন কাটে লন্ডনে থাকাকালীন। সেদিনের পর মীম আর কখনো ফোন দেয়নি তার বাবার কাছে। হামিদুর রহমানও দেয়নি। এই তিনবছর তার কাছে মৌনতা ছাড়া আর কেউ ছিলো না। আর কিছুই ছিলো না।
দেশে ফেরার পর বদলেছে মীম। বাবাকে আর বাবা বলে ডাকে না। কিছু জিজ্ঞেস করেনা তিনবছর আগের ঘটনা। মা,ভাই দাদু, দাদি কারো ব্যাপারেই কিছু প্রশ্ন করেনি। বাবার সাথে কথা বলেনা। বাজে ব্যবহার করে। নিজেকে খারাপের সর্বোচ্চ সীমায় নিয়ে গিয়েছে এই অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই।
ঢাকা ফেরার পরে এখনো ভার্সিটির একটা ক্লাসও করেনি সে।
গাড়িতে বসে এসব ভাবছে মীম। বাবার সাথে খারাপ ব্যবহার করে এখনো প্রতিবার নিরবে নিভৃতে মঅন খারাপ করে সে। কিন্তু বাবা নামের নিষ্ঠুরতম ওই লোকটাকে ক্ষমাও করতে পারে না সে। লন্ডনে থাকতে খবর নিয়ে জেনেছে যে তার পুরো পরিবার মা*রা গিয়েছে। তার ভাইকে তার বাবা তার মতোই কোথাও পাঠিয়ে দিয়েছে। যা কেউ জানে না। মীম এখন খারাপ। আর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমানের চোখে আঙুল দিয়ে সে দেখাবে খারাপের সীমা কতটা। এটাই তার জীবনের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য এখন। সে এইসব সেনাবাহিনীর লোকদের প্রচন্ডভাবে ঘৃণা করে। মন প্রাণ উজাড় করে ঘৃণা করে।
____________________________________
অনিলকে বিরক্ত করতে রনি প্রশ্ন করে,
“তা মেজর সাহেবের হঠাৎ করে লেখাপড়া শখ জাগলো কেন শুনি? জীবনে কোনদিন তো আপনি লেখাপড়া নিয়ে সিরিয়াস ছিলেন না স্যার। তা হলো টা কি ঝেড়ে কাশ তো?”
তাহমিদও সুর মেলালো। নিজের মুখটা দুঃখী দুঃখী করে বলে,
“শালা নিজে তো গেছে লেখাপড়া করতে সাথে আমাকেও ফাঁসিয়েছে। এটা কি পড়াশুনার বয়স বল? যখন পড়ালেখার বয়স ছিলো তখনই কখনো ভালো মতো করিনি। আর এখন এই বয়সে এই শালা আমাকে ভার্সিটি ভর্তি করিয়েছে।”
অনিল হতাশ চোখে তাকিয়ে আছে সবগুলোর দিকে। তাহমিদের দুঃখের কাহিনি শুনে সবগুলো কেমন দাত বের করে হাসছে। এক পর্যায়ে ওদের উচ্চ হাসির শব্দে নিজেও হেসে ফেলে অনিল। এই চারটা ছেলেই তো তার শান্তির নীর তার বাবা বোনের পর। এদের সাথে চাইলেও সে কঠোর হতে পারে না। আসলে সে চাই-ই না এদের সাথে কঠোর হতে। মানুষের কিছু সুখের, নির্ভারতার জায়গা থাকা উচিৎ। থাকুক না নির্দয়, নিষ্ঠুর, কাটখোট্টা মেজরের সুখের জায়গা। যে জায়গায় সে সম্পূর্ণ আলাদা। যাদের সামনে ভাবনা ব্যতীত আরামসে যেমন খুশি তেমন থাকা যায়।
ফরেনসিক ডাক্তার ইবনাত শাহরিয়ার। বিজনেসম্যান কল্লোল হাসান রনি। ক্রা*ইম রিপোর্টার সাদাফ আদনান। সেনা ক্যাপ্টেন আহনাফ তাহমিদ তালুকদার আর সেনা মেজর অনিল আবরার খান। এরা পাঁচজন সেই প্রথমদিন স্কুল যাওয়া থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত পাঁচ দেহ আর এক প্রাণ। এবং ভবিষ্যতে বহাল থাকবে তা এক অঘোষিত সত্য। সবাই ক্যাডেটে পড়লেও বেঁছে নিয়েছে নিজের পছন্দের ক্যারিয়ার। রনি আর সাদাফের প্রফেশনের জন্য তাদের ক্যাডেট কলেজে পড়ার দরকার ছিলো না। কিন্তু একসাথে থাকার জন্যই তারাও ভর্তি হয় ক্যাডেটে।
হাসি থামিয়ে সাদাফ বলে,
“চক্র খু*নের সবগুলো ভি*ক্টি*মের ওই ভার্সিটির সাথে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে সম্পর্ক আছে। কেউ কেউ সেই ভার্সিটির স্টুডেন্ট। কেউ এক্স স্টুডেন্ট অথবা কারো প্রেমিক-প্রেমিকা সেখানের স্টুডেন্ট। তার মানে খু*নীর টার্গেট এখনো আপাতদৃষ্টিতে ওই ভার্সিটি। হয়তো কোনো কানেকশন থাকলেও থাকতে পারে।”
অবাক হয়ে সবাই সাদাফের কথা শোনে। তারপর অনিল বলে,
“এইসব নিউজ তুই এখনো প্রকাশ করিস নি কেন? আর কারো মাথায় যে ব্যাপার আসে নাই না তুই বুঝতে পেরেও কেন চুপ আছিস? এখানে তোর ক্যারিয়ারের কতটা উন্নতি হবে ভেবেছিস? তোদের চ্যানেলের রেটিং বাড়বে।”
সাদাফ হাসে। সে বলে,
“আমি এই খবর প্রচার করলে তোদের পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে। খু*নি সতর্ক হয়ে যাবে। তুই আর তাহমিদ লোক সম্মুখে চলে আসবি। এমনকি তোদের প্রাণের ঝুঁকি পর্যন্ত হবে। আর রইল চ্যানেল। ওটা তো আমার বাপের রে ভাই। সেই চিন্তা বাপকেই করতে দে। আর আমি সাদাফ নিশ্চয় তোদের প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে ক্যারিয়ারের চিন্তা করবো এটা তোরা ভাবিস না!”
ইবানাত বলে,
“দেশের সেরা ক্রা*ইম রিপোর্টার সাদাফ আদনান তো কখনো সত্যের সাথে আপোষ করেনা।”
সাদাফ বলে,
“জীবদ্দশায় করবেও না। আমি সত্য লুকানোর চেষ্টা করিনি বন্ধু। আমি শুধু খু*নি ধরা পড়ার অপেক্ষায় আছি। আর আমি এই খবর প্রচার করলে হয়তো কিছুদিন বাহবা পাবো কিন্তু কে*সটা গোলমেলে হয়ে যাবে। আর আমার ভাইয়েরা বিপদে পড়বে। নাই বা পেলাম আমি বাহবা। খু*নি ধরা পড়ুক। সফল হোক সেনাবাহিনী। সফল হোক মেজর এএকে আর ক্যাপ্টেন তাহমিদ। বন্ধ হোক এই নির্মমতা। শাস্তি পাক এতো গুলো প্রাণের খু*নি। আমাদের তুরিনের খু*নি।”
অবাক হয়ে চারজন মানুষ এই ছেলের কথা শুনে গেলো। তুরিনের নামটা শুনতেই বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে তাহমিদের। তার ছোট বোনটাও তো এই নির্মমতার স্বীকার। আগুন জ্বলে ওঠে ইবনাতের ভিতরে। তুরিন নামক মেয়েটাকে যে সে নিজের চেয়েও বেশি ভালোবাসে। এইতো তুরিনের গ্রাজুয়েশন শেষ হলেই বিয়ে করতো দুজনে। পারিবারিকভাবে তো তাদের এনগেজডমেন্ট ও হয়েছিল। কিন্তু হায়, আল্লাহ বোধহয় তার ভাগ্যে সুখ লেখেনি।
চলবে___
(গল্পটা বেশ বড়। তাই এতো বেশি চরিত্র দেখে ভায় পাবেন না। তনিমাকে যারা মিয়া করছেন তাদের বলছি তনু পরের পর্বে চলে আসবে। তনু ছাড়া অনিল ভাইয়ের কি হবে তাই তনুকে তো আসতেই হবে।)

