#প্রভামঞ্জরী প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ০৮ (কপি করা নিষেধ)
__________________________________
বন্ধুদের আড্ডা হবে আর খাওয়া-দাওয়ার পর গান হবে না এমনটা তো এই পাঁচ বান্দার আড্ডায় জীবনে হয়নি। এদের গ্রুপের ইবনাত আর অনিল অনেক সুন্দর গান গায়। তাদের গানের গলা যেমন সুন্দর তেমন আকর্ষণীয়। ইবনাতের কণ্ঠ সুরেলা বেশ চিকন। আর অনিলের কণ্ঠ ভারী। তীক্ষ্ণ আওয়াজ তার। তার আওয়াজেই যেন তার ব্যক্তিত্বের ভারত্ব ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম। কিন্তু গান সে নিজেদের আড্ডা ছাড়া খুব একটা গায়নি কখনো। আজ অনিলের মেজাজ অত্যন্ত গরম তাই তাকে কেউ ঘাটালো না। ইবনাতের হাতেই গিটার তুলে দিয়ে তাকে ঘিরে গোল হয়ে বসেছে বাকি চারজন।
ইবনাত তার বা’হাতের অনামিকায় তার তুরিনের পরানো প্লাটিনামের ছোট্ট চিকন একদম সিম্পল আংটিতে ডান হাত দিয়ে ছুয়ে দিয়ে গিটারে আওয়াজ তুলে তার সুরেলা কণ্ঠে গেয়ে ওঠে__
[লাল ফিতে সাদা মোজা স্কুল ইউনিফর্ম
ন’টার সাইরেন সংকেত সিলবাসে মনোযোগ কম
পড়া ফেলে এক ছুট ছুট্ট রাস্তার মোড়ে
দেখে সাইরেন মিস করা দোকানিরা দেয় ঘড়িতে দম
এরপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া
স্কুল বাসে করে তার দ্রুত চলে যাওয়া
এরপর বিসন্ন দিন বাজেনা মনোবীণ
অবসাদে ঘিরে থাকা সে দীর্ঘ দিন
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেও বলে না
সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা
সন্ধ্যা ঘনাতো যখন পাড়ায় পাড়ায়
রক থাকতো ভরে কিছু বখাটে ছোড়ায়
হিন্দি গানের কলি সদ্য শেখা গালাগালি
একঘেয়ে হয়ে যেত সময় সময়
তখন উদাস মন ভোলে মনোরঞ্জন
দাম দিয়ে যন্ত্রনা কিনতে চায়
তখন নীলাঞ্জনা প্রেমিকের কল্পনা
ও মনের গভীরতা জানতে চায়
যখন খোলা চুলে হয়তো মনের ভুলে
তাকাতো সে অবহেলে দুচোখ মেলে
হাজার কবিতা বেকার সবই তা
তার কথা কেও বলে না
সে প্রথম প্রেমে আমার নীলাঞ্জনা
অঙ্কের খাতা ভরা থাকতো আঁকায়
আর ছবি তার…]
ইবনাতের হাতের আংটি আর তুরিনের জন্য এখনো তার ভালোবাসা কোনোটাই চোখ এড়ায় না বাকিদের। অন্যরা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেও তাহমিদ ভাবে তার বোনটা বেঁচে থাকলে দুনিয়ার সবচেয়ে ভাগ্যবতী স্ত্রী হতো। এতো ভালো কি কোনো স্বামী তার স্ত্রীকে বাসতে পারবে যতটা তার বোন মারা যেয়েও পাচ্ছে এই তার বন্ধু নামক ইবনাত ছেলেটার থেকে।
ইবনাতের আঙুলে এখনো তাদের এনগেজমেন্টের আংটি আছে। ফোনের লকস্ক্রিন হোক বা হোমস্ক্রিন সবখানেই এখনো তুরিনের ছবি। ইবনাত নিজের মাঝেই যেনো তুরিনকে বাঁচিয়ে রেখেছে। বাঁচিয়ে রেখেছে তার ভালোবাসা। অনিল আবরার খান অপলক দেখে এই ইবনাত শাহরিয়ার নামের প্রেমিক পুরুষকে। তুরিন অনিলের জন্য তার নিজের ছোট বোনের মতই ছিলো। আর ইবনাত তার বন্ধু। ছেলেটা যে কবে তুরিনকে এতটা ভালোবেসে ফেলেছে তা কেউ বুঝতেই পারেনি। এমন না যে তুরিন আহামরি সুন্দরী ছিলো। তুরিন ছিলো আর পাঁচটা সাধারণ বাঙালি মেয়ে যেমন হয় ঠিক তেমনই। শ্যামলা বর্ণের মাঝারি উচ্চতার একটা মেয়ে। তুরিনের তুলনায় তাহমিদ অধিক সৌন্দর্যের অধিকারী। অথচ এইযে ইবনাত, এই জীবনে ওই সাধারণ তুরিনের মোহ, মায়া, ভালোবাসা থেকে কখনো বেরই হতে পারলো না।
মানুষ বলে না কারো জন্য কারো জীবন থেমে থাকে না। অনিল তা বিশ্বাস করে। কারো জন্য কারো জীবন হয়তো থেমে থাকে না। আল্লাহ জীবন দিয়েছেন চালিয়েও তিনিই নেন। কিন্তু মাঝখানে কিছু মানুষের জীবন ইবনাত শাহরিয়ার এর মতো হয়ে যায় তার তুরিন বিনা। হাসিখুশি মুখের আড়ালে বুক ভাঙা কষ্ট সহ্য করা সবার কম্য নয়। ইবনাত শাহরিয়ার পারছে তা সহ্য করতে কিন্তু অনিলের যদি কখনো এমন হয় তবে সে পারবে কি নিজেকে সামলাতে? তার এই অনিশ্চিত জীবনে যে সে কাউকেই আসতে দিতে রাজি নয়। গোপনে দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চোখ বন্ধ করে অনিল। বন্ধ চোখের পাতায় এক ঝলক একটা ছোট্ট মুখ ভেসে আসে। দশবছর আগের কক্সবাজার দূর্ঘটনার সেই সময় তার সাথে থাকা সেই মুখ। যেই মুখের মানুষটাকে সেই ছোট থেকেই আড়ালে আবডালে বুকের বা’পাশে জায়গা দিয়ে রেখেছে। এক আকাশ সমান আবেগ, এক সমুদ্র সমান প্রেম আর সীমাহীন ভালোবাসা পুষেছে দয়ামায়াহীন মেজরটা সেই মেরুন রঙের ফ্রক পরে দুইপাশে বেণি করে রাখা তেরো কি চৌদ্দ বছরের পিচ্চি এক মেয়েকে। অদ্ভুত ভাবে বিচলিত হয়ে চোখ খুলে ফেলে অনিল।
ভাবতে থাকে মেয়েটা এখন প্রায়ই তার চোখের সামনে ঘুরঘুর করে কিন্তু সে কঠোরতার আড়ালে নিজের সুপ্ত অনুভূতি কি বাজেভাবেই না গোপন করে রেখেছে।
দীর্ঘদিন গোপনে আগলে রাখা নিজের প্রিয়তা সেই ছোট্ট প্রেয়সীকে অনিল নিজের করবে। করবেই। শুধু সঠিক সময়ের অপেক্ষা।
_______________________
তনুর শরীর বেশ খারাপ ছিলো দুইদিন। কিন্তু একটু সুস্থ হলে তার মাইন্ড ফ্রেশ করতেই জালাল সাহেব মেয়ে আর স্ত্রীকে নিয়ে ছুটেছেন গাজীপুরের একটা রিসোর্টে তিন, চার দিনের জন্য। সেখানে যেয়ে তনু তো বেজায় খুশি। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে সেখানে পরিচিত হওয়া এক ছেলেকে নিয়ে। পরশ নামের ছেলেটা বন্ধুদের সাথে সেখানে ঘুরতে যেয়ে তনুকে দেখে। এবং আদাজল খেয়ে মেয়েটার পিছু পড়েছে। যেন দুনিয়ায় তনুই একমাত্র মেয়ে বাকি আছে। কিছুতেই হাতছাড়া করা সম্ভব নয়। তনু বেজায় বিরক্ত। কিন্তু সে বাবাকে কিছু বলতেও পারছে না। কারণ জালাল সাহেব জানতে পারলেই ঘোরাঘুরির ইতি টেনে বাড়িতে ফিরে যাবেন। আর তনু কোনোভাবেই এই ট্রিপ মিস দিবে না। তাই সে ঠিক করে যে এই পরশ নামক আপদটাকে সে এড়িয়ে দুইটা দিন কাটিয়ে দেবে।
কিন্তু সে গুড়ে বালি। পরশ নামের ছেলেটা তার পিছুই ছাড়ছে না। তনু এতটা ছ্যাচড়া মানুষ কখনো দেখে নাই। ইনিয়েবিনিয়ে ঠিক তনুর আশেপাশেই পাওয়া যাচ্ছে ছেলেটাকে।
গাজীপুর শহর থেকে বেশ অনেকটা ভেতরে গ্রামের দিকে অনেকখানি জায়গা নিয়ে এই রিসোর্ট চালু করা হয়েছে। এখন সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে কেবল তাই অতটা গরম না থাকলেও ঠান্ডা ও নেই বেশি। রিসোর্টটা একদম নতুন কয়েকমাস আগেই চালু হয়েছে। আর পরশরের মামা এই রিসোর্টের মালিক। তাই পরশ ঠিকাদার নামের যুবকের এখানে অবাধ বিচরণ। মুলত মেয়েবাজি করতেই সে আর তার সাত বন্ধু মানে আটজনের এখানে আনাগোনা। জাস্ট ফ্রেন্ড নামের মেয়েদের এখানে এনে তারা ফূর্তি করে। মেয়েরাও ওদের মতন একই মন মানসিকতার। পরশ বা তার বন্ধুরা কখনো জোরজবরদস্তি করে কোনো মেয়ের সাথে কিছুই করেনি। রিয়েল স্টেট বিজনেসের জগতের বড় নাম হান্নান ঠিকাদার। তারই ছোট ছেলে পরশ ঠিকাদার। এতো বড়লোক বাবার ছেলের আশেপাশে আজকালকার অতি মর্ডান লোভী প্রকৃতির কিছু মেয়ে ঘুরঘুর করবে সেটা খুবই স্বাভাবিক। পরশের বাকি সাতজন বন্ধুও সমান। কারো বাবার বড়সড় ব্যবসা আছে নয়তো কারো বাবার অঢেল জায়গা জমি যার দাপট তাদের ছেলেরা দেখিয়ে বেড়ায়।
সমস্যা বাঁধে পরশের নজর পড়ে সাদাসিধে তনুর উপর। তার বন্ধুরা ভেবেই পাচ্ছে না যে পরশের মতো প্লেবয় কেন এমন পুরো শরীর ঢেকে রাখা শ্যামলা একটা মেয়ের জন্য এমন উতলা হয়ে যাচ্ছে তাও মাত্র একদিন দুই তিনবার দেখেই। অথচ ঢাকা থেকে তাদের সাথে সুন্দরী মর্ডান ৭০ ভাগ শরীর বের করে মেয়েরা এসেছে। যাদের কাছে গেলেই তারা নিজেদের সর্বস্ব বিলিয়ে দিতে প্রস্তুত। বন্ধুদের মতে পরশ বিরিয়ানি রেখে পান্তা ভাতের লোভ করছে। তারাও বন্ধুর এহেন কাজে জরপরনাই বিরক্ত।
_________________
মীম বসে আছে মৌনতার রুমে। বসে বসে কিভাবে বাপকে জব্দ করা যায় সেই জিলাপির প্যাঁচ কষছে মনে মনে। মৌনতা প্রচন্ড বিরক্ত এই মেয়ের উপর। একমাস হতে চললো তারা লন্ডন থেকে ঢাকা ফিরেছে আর নতুন ভার্সিটিতে এডমিশন নিয়েছে। অথচ এই মেয়ের সে ব্যাপারে কোনো মাথা ব্যাথা নেই! কিভাবে বাপের ঘুম হারাম করা যায় সেই কুবুদ্ধিই ঘোরে এর মাথায়।
তিনবছর আগের সেই ভয়াবহ ঘটনায় শুধু মীম নয় মৌনতা নামের মেয়েটাও হারিয়েছে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল। মৌনতা হচ্ছে রহমান বাড়ির সবচেয়ে পুরনো বিশ্বস্ত ড্রাইভার আনসার শেখের মেয়ে মৌনতা শেখ। ছোট বেলায় মা মারা যাওয়ায় মৌনতার বাবা ছাড়া আর কেউ নেই দুনিয়ায়। সেদিন মীমের ইজ্জত রক্ষায় আনসার শেখের প্রাণ যায় আততায়ীর হাতে। মৌনতা একা হয়ে পড়ে। মৌনতাকে নিয়ে আনসার শেখ রহমান বাড়িতেই আউট হাউজে থাকতো। মীমের সাথে একই স্কুল, কলেজে তাকেও পড়িয়েছে মীমের দাদু। মৌনতা আর মীম সেই ছোট থেকেই বেস্ট ফ্রেন্ড। সেদিন অজ্ঞান মীমের সাথে সর্বহারা মৌনতাকেও লন্ডন পাঠিয়ে দেন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান। আবার এখন ফিরিয়েও এনেছেন একই সাথে। তবে এখন আর মৌনতা আউট হাউজে থাকে না। তার জন্য সুখ নীড়ে হয়েছে স্থায়ী ঠিকানা। তার হয়েছে মীম আর জীম এর মতো নিজস্ব রুম। মীম আর মৌনতা দুজনের জন্য দুটো আলাদা রুমের ব্যবস্থা থাকলেও ঘুরেফিরে দুজকে একই রুমেই পাওয়া যায়। হয় মীম ঘাপটি মারে মৌনতার রুমে অথবা মৌনতাকে পাওয়া যায় মীমের রুমে। এই এখন যেমন মৌনতার রুমে তারই বিছানায় চিৎপটাং হয়ে শুয়ে আছে মীম।
শোয়া থেকে উঠে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মীম মৌনতাকে বলে,
“জানুউউউউউউউউউ…”
মৌনতা বোঝে এই মেয়ের মাথায় নিশ্চয়ই কিছু ভয়ংকর এসেছে। যখনই এর মাথার তার একটা ছিড়ে যায় তখনই এভাবে তিন আলিফ টান দিয়ে জানুউউউউউউ বলে ডাকে। এই মেয়ের এই ডাক মৌনতা জমের মতো ভয় পায়। পাবে নাইবা কেন? এভাবে তো আর কম নাচ নাচায় নাই এই ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের মেয়ে।
“খবরদার কোনো উলটা পালটা কিছু নয় এখন। কাল আমরা ভার্সিটি যাচ্ছি। তাই এখন আমাদের ঘুম প্রয়োজন।”
মৌনতার কথায় পাত্তা না দিয়ে মীম হাতে দুইটা হেলমেট আর বাইকের চাবি নিয়ে মৌনতাকে টানতে টানতে নিচে নিয়ে যায়। এখন টার্গেট গভীর রাতে ঢাকার রাস্তায় বাইক রাইডিং। ভাগ্যিস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এখন বাড়িতে নেই। নাহলে মুড খারাপ করে দিতো। ভাবতে ভাবতেই দুজনে দুইটা বাইকে করে বেরিয়ে পড়ে অজানা উদ্দেশ্যে।
____________
মীম আর মৌনতা প্রচন্ড স্পীডে বাইক চালিয়ে কিছুদূর যাওয়ার পরেই কিছু আওয়াজ শোনে আর একটা নেয়ের আওয়াজ পায়। মেয়েটা ‘হেল্প হেল্প’ বলছে। তারা দেখে একটা সাদা মাইক্রো দাঁড়িয়ে আছে আর তাতেই একটা মেয়েকে তিনটা ছেলে জোর করে তোলার চেষ্টা করছে। বাজে ভাবে স্পর্শ করছে। ইতোমধ্যে ওড়না টেনে খুলে নিয়েছে। ছেলেগুলো বিদঘুটে ভাবে হাসছে আর মেয়েটা করুণ সুরে কাঁদছে।
মেয়েটা প্রাণপণে বাঁচতে চাইলেও তাগড়া তিনটা যুবকের সাথে পেরে ওঠা কিছুতেই সম্ভব নয়। মীমের মাথায় রক্ত উঠে যায়। সে বাইক দিয়ে সজোরে একটা ছেলের দুই পায়ের মাঝে আঘাত করে। একদম ছেলেটার বংশের বাতি বন্ধই হয়ে যাবে এরপরে হয়তো। ছেলেটা ছিটকে গিয়ে পড়ে দূরে রাস্তার উপর। বাকি দুইজন হতবাক হয়ে দেখে মীম বাইক থেকে নেমে আসছে। কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাকি দুইজনকে ইচ্ছেমতো আঘাত করতে থাকে মীম। মৌনতাও ততক্ষণে বাইক থেকে নেমে মেয়েটাকে নিয়ে সরে দাঁড়ায়। আঘাত করতে করতে আধমরা করে ফেলে তাদের। আসলে ছেলেগুলো ড্রাংক ছিলো তাই এতো সহজেই একটা মেয়ের কাছে হার মানে। তাদের ইচ্ছেমতো কেলিয়ে মীম আসে মেয়েটার সামনে।
মীম হাঁপাচ্ছে প্রচুর। হাটুতে দুই হাত দিয়ে শরীরের ভর ছেড়ে দিয়ে মেয়েটার দিকে চোখ উঁচু করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে,
“তুমি ঠিক আছো”
মেয়েটা মাথা নাড়িয়ে হ্যা বোধক উত্তর করে।
মৌনতা মেয়েটার এক হাত ধরে তাকে সাহস দেয়। তারপর জিজ্ঞেস করে,
“এতো রাতে একা একা বের হয়েছো কেন?”
মেয়েটা এখনো কাঁদছে। সে কাঁপাকাঁপা গলায় বলে,
“আ..আমাকে কিছুক্ষণ আগে ফোন করে জানানো হয় যে আমার বাবার এক্সিডেন্ট হয়েছে। তাই কিছু না ভেবেই বেড়িয়ে পড়ি।”
মীম মুখ লুকিয়ে তাচ্ছিল্য হাসে। এখানেও বাবা। তারপর মুখ তুলে স্বাভাবিক ভাবেই বলে,
“আমার বাইকে বসো তোমাকে বাড়িতে পৌঁছে দিতে আসি।”
মেয়েটাকে নিয়ে তারা ওর বাসার গেটের সামনে যায়। তাকে নামিয়ে দিয়ে হেলমেট খুলে মৌনতা বলে,
“আমি মৌনতা।”
“আমি মীম।”
মেয়েটা ওদের দিকে তাকিয়ে হেসেই বলে,
“আর আমি তনিমা।”
চলবে____
.

