#প্রভামঞ্জরী☜
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ০২ (কপি করা নিষেধ)
(কপি করা নিষিদ্ধ)
__________________________________
ক্লাস টেস্ট শেষ করে চিত্রার সাথে বের হয়ে ক্যাম্পাসের বকুল গাছটার নিচে বসে তনিমা। এটা তাদের পছন্দের জায়গা। ভার্সিটির লাইব্রেরি আর ক্যানটিনে যাওয়ার রাস্তার এক পাশে জায়গাটা। প্রায়শই এখানে বসে থাকে তনিমা আর তার গুটিকয়েক বন্ধু। আজও তেমন চিন্তিত চিত্রাকে নিয়ে বসেছে তনিমা। কিছুক্ষণ পরে তাদের পাশে ধপাস করে বসে পড়ে আরও দুইটা ছেলে এবং একটা মেয়ে।
অয়ন, নির্জন আর লিপি দৌড়ে এসে বসেছে। অয়ন ম্যাথমেটিক্স আর লিপি ও নির্জন বিবিএ তে পড়ছে। তারা পাঁচজন মূলত স্কুল লাইফ থেকে বন্ধু তাই ভার্সিটি তে ডিপার্টমেন্ট আলাদা হলেও তাদের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অটুট রয়েছে।
লিপি, নির্জন আর অয়ন চিত্রার কথায় কিছুটা চিন্তিত হয়। ব্যাপারটা আসলেই ভাবনার। রনি হচ্ছে বড়লোক বাপের বিগড়ে যাওয়া ছেলে। চিত্রাকে সবাই মানা করেছিলো এই ছেলের ফাঁদে পা না দিতে। কিন্তু প্রেমে অন্ধ চিত্রা তখন কারো কথা কানে নেয়নি। ব্রেকাপের পর অবশ্য এই নিয়ে তাকে ইচ্ছামত সাবান শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়েছিলো তার বন্ধুরা।
কিন্তু সব কথার এক কথা হচ্ছে লা*শগুলো যদি ওই রনিদের হয় তবে আসলেই ঝামেলা হয়ে যাবে। ওর বড়লোক বাপের হাত অনেক লম্বা। চিত্রার পিছনে উঠে পড়ে লাগবে সাথে তাদেরও। এমনিতেই রনি নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে কম তো জ্বালায়নি চিত্রা আর তার পরিবারকে।
তাদের কথোপকথনের মাঝে একটা পুরুষালী ভারিক্কি আওয়াজে উপরে তাকায় সবাই। তনিমা কিছু সময়ের জন্য যেন ইহলোক ত্যাগ করলো। লিপি হা করে তাকিয়ে আছে।
ছেলেরা পর্যন্ত ড্যাবড্যাব করে দেখলো ভারিক্কি আওয়াজের মালিককে। শুধু চিত্রা বেখবর। সে তার নিজের চিন্তায় বিভোর।
সবাই সামনে দাড়ানো লম্বা ছেলের দিকে চেয়ে আছে। কতো হবে ছয় ফুট নাকি আরও বেশি?
উজ্জ্বল ফর্সা লম্বা সুদর্শন যুবকের দিকে তাকিয়ে প্রত্যেকে। চুলগুলো বেশ ছোট করে কেটে রাখা তার। মনে হচ্ছে যেন এই ছোট করে কেটে রাখা চুলের জন্য তার সৌন্দর্য কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। চোখে কালো ফ্রেমের মোটা চশমা যেন তার চোখের গভীরতা আর হাজারো রহস্য ঢেকে রেখেছে। হালকা নীল রঙের একটা শার্ট সাদা প্যান্টের সাথে পেয়ার করে পরেছে। পায়ে সাদা নাইকির একটা কেডস আর হাতে স্টিনলেস স্টিলের ঘড়ি পড়ে কাধে ব্যাগ ঝুলিয়ে দাঁড়িয়ে আছে তাদের সামনে। লিপি তার ডান হাত দিয়ে তনিমাকে টেনে তার কাছাকাছি নিয়ে আসে। কানের কাছে যেয়ে আস্তে করে বলে-
“দোস্ত এমন হ্যান্ডসাম পোলা আমি আমার জীবনে দেখি নাই। এইডা তোর দুলাভাই আজ থেকে।”
বাকা চোখে তাকিয়ে তনিমা বলে-
“নির্জন জানে ব্যাপারটা দোস্ত? নাকি আমি জানাবো?”
মুখ চুপসে সরে যায় লিপির। এই মেয়ে তার আসল জায়গায় ধাক্কা দিয়েছে যে। নির্জনের সাথে তার তিন বছরের সম্পর্ক।
সামনের ছেলেমেয়ে গুলোর অদ্ভুত আচরণ দেখে আগন্তুক বলে-
“হ্যালো আমি কি আপনাদের ডিস্টার্ব করছি? এক্সট্রিমলি সরি ফর দ্যাট। আমি নতুন ভর্তি হয়েছি এখানে মাস্টার্সের জন্য। আজই প্রথম এলাম। কিছুই চিনিনা তাই আপনাদের জিজ্ঞেস করলাম। আপনারা বোধহয় বিরক্ত বোধ করছেন। আমি অন্য কাউকে জিজ্ঞেস করে নেবো। আসছি।”
তার কথায় সবাই বিব্রত হয়ে উঠে দাড়ালো। তারপর অয়ন এগিয়ে হ্যান্ডশেক করে বললো, কিভাবে হেল্প করতে পারে। আগন্তুক লাইব্রেরি কোথায় জানতে চাইলে অয়ন তা দেখিয়ে দিলে আগন্তুক ধন্যবাদ দিয়ে সামনে পা বাড়ায়। নির্জন তাকে পেছন থেকে ডেকে তার নাম জানতে চাইলে সে কিছু বলার আগেই তনিমা বলে উঠলো –
“অনিল ভাই!”
আগন্তুক সহ বন্ধুরা তানিমার দিকে ফেরে। সামনে বাড়িয়ে দেওয়া পা ফিরিয়ে নিয়ে আবারও আগের জায়গায় দাঁড়ায় আগন্তুক। তনুর দিকে এক পা এগিয়ে বলে-
“আপনি আমার নাম জানেন। মানে আমাকে চেনেন। আবার আমাকে ভাই ডাকছেন মানে আমিও আপনাকে চিনি। কিন্তু দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে আমি আপনাকে মনে করতে পারছি না। প্লিজ পরিচয় দিয়ে আমার আরেকটু উপকার করুন।”
অবাক হয়না তনিমা। এটাই যেন স্বাভাবিক। এই লোকের যে তাকে মনে থাকবে না সে জানতো। কিন্তু এতো বছর পরে তাকে দেখেই ঠিক চিনে ফেললো তনিমা।
“তনিমা। সুরাইয়া তনিমা জালাল। কক্সবাজার কি*ড*ন্যা*পিং কে*স ২০১৫।”
নিজের পরিচয় দিতে বলে তনিমা। কিছুক্ষণ ভাবলো লোকটা। তারপর হুট করে তনিমার দিকে আরও দু পা এগিয়ে যেয়ে-
“ইউ মিন তনু! সেই তনু! কত বড় হয়েছো তুমি, তাইতো চিনতে পারিনি।”
অনিল ভাইয়ের কথায় হেসে ফেলে মেয়েটা। চিনেছে তবে তাকে শেষমেশ।
তাদের কথা শেষ হলে অয়ন আর নির্জন এগিয়ে হাত বাড়িয়ে দেয় অনিল নামক লোকটার দিকে।
“হাই আমি অয়ন মাহমুদ।”
“আর আমি নির্জন হাসান। ও লিপিকা আর ও চিত্রা আর তনিমা কে তো চেনেন বোঝা যাচ্ছে।”
তাদের দিকে হেসে হাত বাড়িয়ে দেয় লোকটা। ভদ্রতার সাথে হ্যান্ডসেক করে বলে –
“আমি অনিল। অনিল আবরার। ”
“কিন্তু অনিল ভাই আপনি বললেন আপনি এখানে মাস্টার্সে ভর্তি হয়েছেন। আমার জানামতে আপনি আমার থেকে বেশ কয়েক বছরের বড়। সে হিসেবে আপনার পড়াশোনা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা আরও আগেই।”
তনিমার কথায় তার দিকে তাকিয়ে অনিল বললো –
“আর বলো না সেসব কথা। পড়াশোনা আমি আমার মতো করে শেষ করেই দিয়েছিলাম। ভালো মতো বাবার ব্যাবসা সামলাচ্ছিলাম তাও সাককেসফুলি। কিন্তু এতো বছর পর আমার বাবার কোনো এক বন্ধুর সাথে দেখা। সেই বন্ধুর ছেলে নাকি আবার বিদেশ থেকে পিএইচডি করে এসে তার বাবার কোম্পানিতে বসেছে। এখন আমার বাপের তা আবার পছন্দ হয়নি। তার বন্ধুর ছেলে পিএইচডি হোল্ডার কিন্তু তার ছেলে মাত্র গ্রাজুয়েট ভাবা যায়! তাই আমাকে তো পারলে সেদিনই বিদেশ পাঠিয়ে দেয় পড়তে। বহুত কষ্টে বুঝিয়ে শুনিয়ে দেশে থেকে গিয়েছি। কিন্তু সে আবার শর্ত দিয়েছে আমাকে মাস্টার্স করতে হবে মানে করতেই হবে। তাই এখন আবার এই পড়াশোনা নামক ঝামেলায় জড়ানো। জীবনটা আমার বাবা একদম তেজপাতা বানিয়ে দিচ্ছে। ”
অনিলের আফসোসের কথা গুলো শুনে ফিক করে হেসে ফেললো সামনের মানুষগুলো।
তাদের হাসি দেখে অনিল সামনের দিকে যেতে যেতে বললো-
“আমার দুঃখ দেখে তোমরা এভাবে হাসছো তো, বুঝবে ঠিক সময় হলে আমার অবস্থা।”
_________________________________
গত একমাসের মিসিং রিপোর্ট অনুযায়ী ছেলেদের বাড়ি থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে জানা গিয়েছে, যে লা**শ গুলো কেরানীগঞ্জ থেকে পাওয়া গিয়েছে তা বিখ্যাত ব্যাবসায়ী আমজাদ আলী হোসেন এর ছোট ছেলে রোকুনুকজ্জামান রনি তার বোনের ছেলে রায়হানুল আবিদ ও রনির দুই বন্ধু ইমন হাওলাদার আর অসীম রায় এর।
পুলিশ কোনো ভাবেই খু**নী অব্দি পৌঁছাতে পারছেনা। অথচ গত কয়েকমাস ধরেই এসব ঘটনা কন্টিউয়াসলি ঘটে যাচ্ছে। এভাবে অজ্ঞান করে প্রায় একই বয়সের বড়লোকদের ছেলে মেয়েকে খু*ন। তাও জ্যান্ত অবস্থায় কে**টে টুক**রো টুক**রো করে ফেলে খু*ন করে। এতো এতো ডিটেইলস দিয়ে রেখেছে খু*নী তাও কেউ তার নাগাল পাচ্ছে না।
প্রত্যেকে ক্ষমতা সম্পন্ন মানুষের ছেলেমেয়ে হওয়ায় পুলিশের উপর মহলে এই কে*স নিয়ে বেশ চাপ সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু ফলাফল শুন্য। অনেক দূর এগোলেও খু*নী অব্দি পৌঁছানো যেন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
পুলিশ তার কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।
এদিকে অন্য কোনো ক্লু না পেয়ে রনি খু**নের আসামি করে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয় চিত্রাকে। কারণ হিসেবে বলে রনির করা ধোঁকা আর তাদের সদ্য বিচ্ছেদ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চিত্রাকে সন্দেহের আওতায় নেয়া হয়েছে। তাই তাকে থানায় যেতে হবে। আর যদি না যায় তবে তাকে গ্রে*ফতার করে নিয়ে যাবে।
_________________________________
ভার্সিটি থেকে বাসায় ফিরে ঘুমিয়েছিলো তনু। ফোন বেজে উঠলে ঘুমের ঘরে রিসিভ করে কানে দিতেই অপরপাশ হতে নির্জনের মুখে চিত্রার খবর শুনে ঘুম পালিয়ে যায় তার। তাড়াতাড়ি উঠে হাতমুখ ধুয়ে কোনোরকম ড্রেস চেঞ্জ করেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার মা আটকে দেয়।
“এই সন্ধ্যায় কোথায় যাচ্ছিস তনু?”
“থানায় যাচ্ছি আম্মু।”
“থানায় মানে কেন?”
“চিত্রার ঘটনা বলেছিলাম মনে আছে না। ওইদিনের খু*ন হওয়া ছেলেগুলো সেই নিখোঁজ রনি ও তার বন্ধুরা। তাই পুলিশ সন্দেহের বশে চিত্রাকে থানায় ডেকেছে জিজ্ঞাসাবাদ করতে।”
“সে কি রে কি বলিস এসব। কিন্তু তুই থানায় যেয়ে কি করবি তনু? তোর বাবা শুনলে বকবে কিন্তু।”
“আমি একা না আম্মু। বাকিরা গেছে অলরেডি। চিত্রা তো নির্দোষ আম্মু। ওর এই অসময়ে ওর পাশে থাকবো না বলো? আর বাবাকে আমি বুঝিয়ে বলবো। এখন প্লিজ যাই?”
“আচ্ছা যা। তবে সাবধান থাকিস। আর বেশি রাত হলে একা ফেরার দরকার নেই। তোর বাবাকে বলবো যেয়ে নিয়ে আসতে।”
“আচ্ছা।”
বাড়ি থেকে বেরিয়ে সিএনজি খুজতে থাকে তনিমা। কিন্তু কোনো সিএনজিই খালি পাচ্ছে না। বাসা থেকে থানার দূরত্ব বেশ অনেকটা। তাই রিকশা নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাও আবার এই রাতে। বেশ অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরেও সিএনজি না পেয়ে সামনে এগিয়ে যেতে থাকে সে। কিছুদূর এগোতেই একটা কালো গাড়ি তার সামনে ব্রেক কষে দাঁড়ালো। ভ্রুকুটি করে তনিমা গাড়ির দিকে তাকিয়ে আছে। কিন্তু গাড়ি থেকে অনিল কে নামতে দেখে তার বিরক্তি চলে গেলো নিমিষেই।
“সন্ধ্যা বেলায় কোথায় যাচ্ছো তনু? তাও হেটে হেটে।”
অনিল এর প্রশ্নের উত্তরে তনিমা জানায়-
“থানায় যাচ্ছি অনিল ভাই। আর কোনো সিএনজি না পেয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছিলাম যদি পেয়ে যাই সেই জন্য।”
“থানায় যাচ্ছো মানে? সেখানে তোমার কি কাজ?”
“অনেক লম্বা কাহিনি অনিল ভাই। অন্য কখনো বলবো। দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।”
“আচ্ছা চলো আমি নিয়ে যাচ্ছি।”
“না না অনিল ভাই। আপনি শুধু শুধু কষ্ট করবেন কেন? তাছাড়া আপনার দেরি হয়ে যাবে না?”
“হলে হোক সমস্যা নেই। তোমাকে এভাবে এইসময় একা থানায় যেতে দিতে মন চাইছে না। চলো।”
অনিলের কথায় তনিমার মনে রঙিন প্রজাপতি ডানা ঝাপটালো যেন। সে আর দ্বিমত না করেই অনিলের সাথে গাড়িতে উঠে বসলো। থানায় যেতে যেতে অনিলকে রনি তার বন্ধুদের আর চিত্রার সমস্ত ঘটনা খুলে বললো তনিমা। সব শুনে অনিল বললো –
“মনে তো হচ্ছে তোমার বন্ধু নির্দোষ। তাকে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে কেন পুলিশ? যেয়ে জিজ্ঞেস করবা। আর প্রমাণ চাইবা। আচ্ছা থাক আমি যখন যাচ্ছিই আমিই কথা বলবো পুলিশের সাথে। ব্যাবসা রিলেটেড কাজের জন্য মাঝে মাঝে পুলিশের সাথে কথা বলা লাগে তাই তাদের কথার প্যাটার্ন কিছুটা জানি আমি। তোমাকে এসবের মধ্যে জড়াতে হবে না।”
আবারও অনিলের কথায় বাক-বাকুম অবস্থা তানিমার। সে যেন বারবার মুগ্ধ হচ্ছে এই অনিল আবরারের কাজে, কথায়, ব্যাবহারে।
থানায় যেয়ে তারা দেখে আগে থেকেই সেখানে বসে আছে নির্জন, অয়ন, লিপি আর চিত্রার বাবা। তানিমার সাথে অনিলকে দেখে অবাক হলেও এই পরিস্থিতিতে আর কিছু জিজ্ঞেস করার মতো মন হলো না কারো। অনিল চিত্রার কথা জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় চিত্রাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। অনিল চিত্রার বাবাকে বলে একজন উকিল ঠিক করতে। বিনা প্রমাণ আর ওয়ারেন্টে এভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেনা। এগুলো উকিল সামলাতে পারবে ভালো। চিত্রার বাবা ব্যবসায়ী হওয়ায় উকিল ম্যানেজ করতে তার সময় লাগলো না। তার কোম্পানির লিগ্যাল এডভাইজরকেই ফোন করেন তিনি। তার উকিল জানায় এখন তো সন্ধ্যা কাল সকালে কোর্ট খোলার আগে কিছু করা যাবে না। এসব শুনে অনিল তাকে ভরসা দিয়ে বলে এই ব্যাপারে পুলিশের সাথে সে কথা বলবে।
তনিমা ও বাকিদের বাইরে অপেক্ষা করতে বলে অনিল ভিতরে যায়। সে যাওয়ার সাত/আট মিনিট পরে চিত্রা বাইরে আসে। সবাই তার কাছে গেলে সে জানায় যে অনিল অনেকক্ষণ ধরে দারোগার সাথে কি যেন বললো সে দূরে থাকায় শুনতে পারেনি। তারপর একজন কন্সটেবল এসে তাকে জানায় তাকে আজকের মতো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সে সন্দেহ তালিকার বাইরে নয়। পরবর্তীতে প্রয়োজনে তাকে আবার ডাকা হতে পারে।
চিত্রার কথা শুনে তানিমা বলে-
“অনিল ভাই কোথায়? সে কেন বাইরে আসলো না?”
“অনিল ভাই এখনো পুলিশের সাথে কথা বলছে দেখলাম।”
জবাব দিয়ে বললো চিত্রা।
আরও তিন থেকে চার মিনিট পর অনিল বেরিয়ে এসে চিত্রার বাবকে বললো সকালেই যেন তার উকিল থানায় যোগাযোগ করেন।
তারপর বিদায় নিয়ে তনিমাকে নিয়ে গাড়িতে ওঠে। তনিমাকে চিত্রা আর রনি রিলেটেড কিছু কিছু প্রশ্ন করছে মাঝে মাঝে অনিল। সেও সুন্দর করে যা জানে তাই বলছে। কিন্তু তার চোখ ঘুরে ফিরে সুদর্শন লোকটাকে দেখেই যাচ্ছে। গায়ে এখনো সেই ভার্সিটির পোশাক। সারাদিনের ধকল সাথে ধুলোবালি। ঘেমে গায়ের শার্ট একদম ভিজে গিয়েছে। তাতেও যেন লোকটার সৌন্দর্যে একবিন্দুও ভাটা পড়েনি। উল্টো আরও বেশি সুদর্শন লাগছে তানিমার চোখে। কিন্তু এভাবেই বা ঘুরছে কেন সে? লোকটা কি আর বাড়িতে যায়নি সারাদিন? তার ভাবনার মাঝেই অনিল বললো-
“ভার্সিটি থেকে সোজা অফিসে গিয়েছিলাম। তারপর একটা মিটিং ছিলো একটা রেস্টুরেন্টে। সেখান থেকে ফেরার সময় তোমাকে দেখলাম হেটে কোথাও যাচ্ছো তাই দাড়ালাম। ভাগ্যিস দেখেছিলাম তোমায়, না হলে তো এতকিছু জানতেই পারতাম না।”
কোনো প্রশ্ন না করেই তনিমা তার সকল প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেলো। তনুর মনে হলো লোকটা অদ্ভুত। শুধু অদ্ভুত নয়, ভারি অদ্ভুত। এই অনিল ভাই তার দশবছর আগের পরিচিত অনিল ভাই নয়। এই অনিল ভাই তাকে মৃ*ত্যু*র মুখ থেকে বাঁচিয়ে আনা অনিল ভাই নয়। সে বদলেছে। তার পুরোটা বদলেছে। অবশ্য সময়টাও অনেক বছর। পুরো দশ বছর।
চলবে___
(একটু অপেক্ষা করুন আপনাদের প্রতীক্ষিত মি. এএকে এর দেখা পরের পর্বেই পাবেন। আজ অনিল ভাইকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকুন। অনিল ভাই চরিত্রটাও কিন্তু অসাধারণ হবে।)

