#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৩০ (দয়া করে কেউ কপি করবেন না।)
______________________________
হাসপাতালে আজ অনিলের তৃতীয় দিন। ৩রা অক্টোবর আজ। কাল যে ৪ঠা অক্টোবর। অত্যন্ত স্পেশাল দিন আজ রাত ১২টা পেরুলেই। সে ভীষণ বিরক্ত। আসলে কাজে থাকা মানুষ এভাবে শুয়ে বসে কতক্ষণই বা থাকতে পারে! তবে সে এখন একটু আধটু হাটতে পারে কারো সাহায্য ছাড়া। সেদিন গু*লি লাগার পর জীপ থেকে রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে সেখান থেকে আবার পাশের কিছুটা ঢালে পড়েছিল সে। যেখান থেকে মীম তাকে উদ্ধার করেছে। তৎক্ষণাৎ বুকের ব্যথায় আর পায়ের ব্যথা অনুভব না হলেও পরে ডান পায়ে অসহ্য রকম ব্যথা হয়। এক্সরে করানো হলে দেলহা যায় পা ভাঙেনি তবে কঠিন ভাবে মচকেছে। তাই দুইদিন একদম নাড়াচাড়া করতে পারেনি কোনভাবেই। তবে আজ থেকে একটু ব্যথা কমেছে। কিন্তু আর্মি ডাক্তারের মতে এখনো পা নাড়ানোর জন্য উপযুক্ত সময় হয়নি। কিন্তু এই ঘাড়ত্যাড়া মেজর যে তার কথা শুনবে না তা ভালোই বুঝেছেন তিনি। তাইতো কয়েকবার সাবধান করে এখন চুপচাপ দাঁড়িয়ে মেজরের খুড়িয়ে খুড়িয়ে পায়চারি করার কাহিনী দেখছেন। অবশ্য এই কাহিনী সে একা দেখছে বললে ভুল হবে আরও একজন সঙ্গী হয়েছে তার। আরিবা আবরার খান মেজরের আদুরে বোন। যেই আদুরে বোন সেদিন তার বুকে যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখেছিল এই ঘাড়ত্যাড়া মেজর। সেদিনের ঘটনা মনে পড়তেই পাশে দাঁড়িয়ে বিরক্ত হয়ে ভাইকে দেখতে থাকা আরিবা আবরারের উপর নজর দেন আর্মি অভিজ্ঞ ডাক্তার।
গতকালের ঘটনা মনে পড়ে ডাক্তারের। সে যখন মেজরের চেক-আপের জন্য যাচ্ছিলো তখন মেজরের কেবিনের পিছন দিকে যেদিকে সচারাচর কারো নজর যাওয়ার কথা নয় স্টাফ ছাড়া সেখানে বসে হেঁচকি তুলে কাঁদছিল কেউ। কৌতূহল নিয়ে এগিয়ে যান ডাক্তার। একটা মেয়ে কেঁদেকুটে অস্থির হয়ে আছে। ফর্সা চেহারা ফুলে লাল হয়ে গিয়েছে কান্নার তোপে। বেশভূষা আর চেহারার আদলে প্রবীণ ডাক্তার বুঝলেন মেয়েটার বয়স ও বেশি হবে না। পঁচিশ কি ছাব্বিশ হবে হয়তো। প্রবীণ মানুষটার মায়া হলো নিজের মেয়ের বয়সী একটা মেয়েকে এভাবে অশ্রুপাত করতে দেখে। সে ধীরে ধীরে মেয়েটার পাশে বসে পড়ে।
~কি হয়েছে মামণি এভাবে কাঁদছো কেন?
হকচকিয়ে পাশে ফেরে আরিবা। লোকটা যে একজন ডাক্তার তা বুঝে যায় সে। তাছাড়া লোকটাকে সে দেখেছে তার ভাইয়ার সার্জারী করেছেন ইনি। তাই ঘাবড়ানোর কোনো লক্ষ্মণ দেখা দেয় না তার। তবে সে কোনো উত্তর ও করতে পারেনা। চুপচাপ মাথা নিচু করে বসে রয়।
ডাক্তার অনেকটা সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করে তাকে। তারপর বলে,
~তোমার নাম?
~আরিবা আবরার খান।
প্রবীণ মানুষটা আর বসে না। কিছু একটা ভেবে উঠে চলে যায় মেজরের কেবিনে। কিন্তু হায় আল্লাহ! কেবিনে ঢুকে সে কি দেখছে! চারজন জোয়ান তাজা ছেলে মিলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে শুয়ে থাকা এক দাম্ভিক মেজরকে ক্যালানি দিচ্ছে! আর তা দাঁড়িয়ে দেখছে তিনজন সেনাকর্মকর্তা! এদিকে চারজন যুবকের দুইজনই স্বয়ং সেনা সদস্য। একজন ফরেনসিক ডাক্তার অন্যজন তো ক্যাপ্টেন তাহমিদ! ক্যাপ্টেন তার মেজরকে ক্যালাচ্ছে এমন দৃশ্য এই জীবনে দেখা লাগবে তা কল্পনা ও করেনি সে। তার অবাকতার সীমা লঙ্ঘন করে স্বয়ং হার্টলেস খ্যাত মেজর মার খেতে খেতে চমৎকার হেসে ওঠে। ওই মেজর এএকের হাসি সেনাবাহিনীর কেউ কখনো দেখিনি শোনেনি। সেও এভাবে নিজের অধস্তন কর্মীর কাছে মার খেয়ে হাসছে! এমন ভাবে প্রাণ খুলে হাসছে যেন কোনো বড়ই সুখের কিছু ঘটেছে তার সাথে। মনে মনে মেজরের গু*লি খেয়ে মাথায় ড্যামেজ হয়েছে ভাবতে ভুললেন না প্রবীণ ডাক্তার। এদিকে সে তাঁকিয়ে দেখে তার চেয়েও অবাক হয়ে সামনে থাকা পাঁচটা ছেলের কর্মকাণ্ড দেখছে সেনাকর্মকর্তারা।
সবার অবাকতার শেষ হয়েছে। জানাজানি হয়েছে এদের বন্ধুত্বের কথা। কিংকর্তব্যবিমুঢ় হয়েছে ডাক্তার যখন জেনেছে হার্টলেস, দয়ামায়াহীন মেজর বন্ধুদের সাথে এমন ছোট্ট বাচ্চা দেখে। নিজের চোখে না দেখলে হয়তো তিনি কখনো মেজর এএকের এই রুপ চিন্তাও করতে পারতেন না। মেজরকে চেক-আপ করতে করতেই আরিবার কথা আবারও মনে পড়ে তার। যার কথা কেবিনে এসে এদের দেখে ভুলে বসেছে।
~মেজর আপনার নাম তো অনিল আবরার খান। তো আরিবা আবরার খান আপনার কিছু হয় বলে ধারণা করছি।
বিদ্যুৎ বেগে ডাক্তারের দিকে প্রশ্নবিদ্ধ চাহনি নিক্ষেপ করে অনিল। এদিকে আরিবা নামটা শুনে এক সেকেন্ড অপেক্ষা না করেই কেবিন ছেড়ে বের হয় তাহমিদ।
~আমার ছোট বোন আরিবা আবরার খান ডক্টর।
~এমনটাই ভেবেছি। সে বাইরে বসে অশ্রুপাত করছে। অবস্থা দেখে মনে হলো দীর্ঘক্ষণ ধরে চলমান তার কান্না।
এক সেকেন্ড চোখেমুখে অসহায়ত্ব ভেসে ওঠে অনিলের। কিন্তু বাইরে থেকে সে অবিচল। সেনাকর্মকর্তারা এখনো রয়েছে কেবিনে। তারা মূলত মেজরের কন্ডিশন জেনেই যাবে বলে অপেক্ষা করছে। কিন্তু এরমধ্যে এতো কিছু হবে এভাবেই বা তারা মেজরের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে জানতে পারবে তা ভাবেনি কেউ। এদিকে বাইরে নিরুত্তাপ হলেও ভেতরে ভেতরে প্রচন্ড রকম অস্থির অলিন। তার বোন তার কলিজা। এতো গুলো বছর কানাডায় থেকেছে। অথচ যতবার অনিল ছুটি পেয়েছে ততবারই সে বাবাকে সাথে নিয়ে ছুটেছে সুদূর কানাডা। প্রাপ্ত ছুটির সিংহভাগই কেটে সেখানে বাবা আর বোনের সাথে। কাল বিয়ের সময় আর পুরো হুশ ছিলো না। অর্ধ অচেতন অবস্থায় বিয়ে করেছে সে। আরুর তো আরও কিছুদিন পর ফেরার কথা তাই সেও যে বিয়ের সময় ছিল তা খেয়াল করেনি অনিল। তার যখন পুরো হুশ আসে তখন কেবিনে শুধু সে আর মীমই ছিলো।
কিন্তু সকাল থেকে তো তার বাবার সাথে দেখা হয়েছে কই সে তো আরুর কথা বললো না! আর না আরু নিজে এসেছে। এতক্ষণে তো তার আরু কেঁদে তার বুকে বন্যা বানানোর কথা। কেন এলো না তার বোন টা? আসতো কেঁদে তার বুকের মধ্যের জ্বালাপোড়া একটু কমিয়ে দিতো।
অনিলের অস্থিরতার মাঝেই সাদাফের ফোনে তাহমিদের কল আসে। সাদাফ সহ “fem stars” জানে এই কলের মানে
তাইতো মুচকি হেসে নিজের ফোনটা প্রাণপ্রিয় বন্ধুর কাছে এগিয়ে দেয়। অনিল ফোন নিয়ে রিসিভ করে নিশ্চুপ থাকে। নিশ্চুপ পুরো কেবিন। অনিলই ভাঙে সেই গুমোট পরিস্থিতি। ভারী গম্ভীর কণ্ঠস্বর কেমন অসহনীয় নরম হয়ে যায় হার্টলেস মেজরের।
~ভাইয়া অপেক্ষা করছি তো। কাছে আসবেনা সোনা?
ব্যস ওপাশ থেকে আর কোনো আওয়াজ আসে না। তবে মিনিট পেরোনোর আগেই কেবিনের দরজা দিয়ে ঝড়ের বেগে দৌড়ে আসা এক ভুবনমোহিনী তরুণীকে দেখা যায়। কেবিনে ঢুকে একদম অনিলের সামনে দাঁড়ায় সে। অনিল একপলক দেখে তার মায়ের তার কাছে রেখে যাওয়া আমানত কে। তারপর সুস্থ থাকা ডানহাত মেলতে দেরি কিন্তু তার বুকের ডানপাশে হামলে পড়তে দেরি হয়নি আরিবার।
ফুপিয়ে কাঁদছে আরিবা। অনিল একদম বৃষ্টি শেষ হওয়ার পর আকাশ যেমন শান্ত থাকে তেমন শান্ত হয়ে নিজের ডানহাতে আরিবার এলোমেলো চুলে হাত বুলিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আরিবার থামার নাম নেই। তার ছোট্ট পাখির মতো বোনটা যে কাঁপছে তা বুঝতে পেরেই চোখের দৃষ্টিতে কেমন কোমলতার দেখা মিললো মেজরের।
~থামো আরুপাখি। অসুস্থ হয়ে যাবে তো।
~য..যদি কিছু হয়ে যেত?
~কিছুই হতো না। এতো ভালোবাসা এতো দোয়া আল্লাহ ফিরিয়ে দেন নি তো? (বুকে থাকা বোনের মাথায় নরম চুমু খেয়ে কেবিনে উপস্থিত সবার দিকে দেখে বলে অনিল)
~তুমি এমন কেন? আমাদের কথা ভাবো না? তোমার কিছু হলে আমি আর বাবা কি করবো? আর কে আছে আমাদের?
~আচ্ছা আচ্ছা অনেক কেঁদেছো। এবার থামো। দেশে এসেছো কখন? তোমার না কয়েকদিন পরে ফেরার কথা?আগে জানানো হয়নি কেন?
~কাল রাতে এসেছি। তুমি বাড়িতে ছিলে না। সারপ্রাইজ দিতে এসে নিজেই সারপ্রাইজ হয়ে গিয়েছি। তুমি নিজের সাথে আমাদেরকে ও মৃ*ত্যু*পুরী দর্শন করিয়ে এনেছো।
এবারেও ছোট্ট বোনকে বুকে যক্ষের ধনের মতো আগলে রেখে নির্মল হাসে মেজর।
এদিকে ডাক্তার আর সেনাকর্মকর্তারা অবাক হয়ে দেখছে দুনিয়ার কাছে হৃদয়হীন নিষ্ঠুরতার প্রতীক মেজরের মনে ভালোবাসার আনুমানিক পরিমাপ করে তার একটু ঝলক।
~আমি কালই বাড়িতে ফিরতে চাই ডক্টর।
মেজরের কথায় পুরনো ঘটনা থেকে ছিঁটকে পড়লেন ডাক্তার। তারপর মেজরকে আরও কয়েকদিন হাসপাতালে থাকতে হবে বলে বোঝাতে লাগলেন।
ডাক্তারের শত যুক্তির কাছে মোটেই হার মানে না মেজর এএকে। সে যেহেতু চলাফেরা করতে পারে তাহলে হাসপাতালে পড়ে থাকবে কেন সে? শেষমেশ না পেরে আরিবাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে ডাক্তারকে বলে মেজর,
~নতুন বিয়ে করেছি। বউয়ের পরম সেবা-যত্ন পাওয়ার এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করছি না। বউয়ের সেবা পাওয়ার ভাগ্য তো আর এখানে থেকে সম্ভব হচ্ছে না তাই বাড়িতে যাবো।
ডাক্তারের চোখ দুটো রসগোল্লা হয়ে গিয়েছে। সে কিছুতেই নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। মেজর এএকের মুখে এমন কথা! এদিকে তার ভাবনায় এক বালতি পানি ঢেলে দিয়ে মেজরটা আবার বলে,
~এই সুযোগে বউ নিজের কাছেও রাখবো পার্মানেন্টলি। না হলে আপনাদের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হামিদুর রহমান এতো সহজে তা মেয়ে আমাকে নিজের কাছে রাখতে দিবে না।
.
.
.
.
ফরেনসিক রিপোর্ট বানাচ্ছে ইবনাত শাহরিয়ার। লা*শটা অরুপ দাসেরই। এবারেও আগের পদ্ধতি ব্যবহার করেছে খু*নী। তবে এবারে কিছু ভিন্ন পেয়েছে সে। লা*শ পরীক্ষার সময় সাথে কিছু কাপড় পেয়েছিল ফরেনসিক টিম। সেই কাপড় পরীক্ষা করে তাতে লেগে থাকা র*ক্তের ভিন্নতা পেয়েছে ইবনাত শাহরিয়ার। ওই একটুকরো কাপড় পরীক্ষা করে অরুপ দাস ছাড়াও পাওয়া গিয়েছে আরও দুইজন ভিন্ন মানুষের র*ক্ত। আবার কাঁটা টুক*রো গুলোর কয়েকটার চামড়া থেকে একটা বিশেষ ধরনের ঘ্রাণ যুক্ত কিছু পেয়েছে সে। যা রিপোর্টে লিখেছে। রিপোর্ট সাবমিট করে সাথে সাথে সেই রিপোর্ট এর একটা কপি সে ক্যাপ্টেন তাহমিদের আন অফিসিয়াল ইমেইল ঠিকানায় পাঠিয়ে দেয়। এটাই প্রথম নয় যে সে এমন করেছে। বেশ কয়েকবার এমন ভাবে চলছে। অবশ্য এর যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তার ধারণা তার বানানো রিপোর্ট ছেড়খাড় করা হচ্ছে। কিন্তু কালপ্রীটকে ঠাওর করতে পারছে না সে। তাইতো নির্ভুল রিপোর্ট যাতে যোগ্য হাতে পৌঁছাতে সক্ষম হয় তাই এই গোপন ব্যবস্থা।
.
.
.
.
সন্ধ্যার খবরে ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে, “ব্যর্থতার দায়ে সেনাবাহিনী থেকে ছয়মাসের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে মেজর এএকেকে। এদিকে তার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাপ্রদ হওয়ায় তাকে আজ সকালেই উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ট্রেলিয়া পাঠানো হয়েছে। সেখানে কমপক্ষে মাসখানেক থাকতে হবে তাকে। এবং সাসপেন্ড সময় শুরু হবে মেজর সুস্থ হয়ে ফেরার পরবর্তী ছয়মাস।
এমন খবর দেখে পৈশাচিক হাসে ছয়জন মানুষ। সেই হাসিই বলে দিচ্ছে তারা কতটা সফল আর কতটা সঠিক যে তাদের সামনে স্বয়ং মেজর এএকে ও টিকতে পারেনি।
.
অনিলের ব্যক্তিগত ফোন বেজে ওঠে। ‘AR News’ এ চলমান খবর পড়তে থাকা দেশ বিখ্যাত ক্রাইম রিপোর্টার সাদাফ আদনানের থেকে চোখ সরিয়ে ফোনের স্ক্রিনে চোখ দিতেই দেখে “MY HIGHNESS” দিয়ে সেভ করা নাম্বার থেকে কল আসছে। ধেয়ে আসা হাসির তোপে লাল খয়েরী রঙের ঠোঁট দুইটা হালকা বাঁক নেয়। এপাশ থেকে কল রিসিভ হলে সালাম পর্ব শেষ হতেই ওপাশ থেকে প্রশ্ন ছুটে আসে ঠিক যেমনটা অনিল ভেবে রেখেছিল।
~এসব কি নিউজ বেরিয়েছে মেজর? আপনাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, আবার অস্ট্রেলিয়া…
আমি বুঝতে পারছি না মেজর।
~আপনি সঠিক নিউজই দেখছেন মাই হাইনেস। মেজর এএকে কে সাসপেন্ডও করা হয়েছে আবার তাকে অস্ট্রেলিয়াও পাঠানো হয়েছে।
~তবে আপনি কে?
~আমি! আমি তো অনিল আবরার। বাবার ব্যাবসা সামলানোর পাশাপাশি যে বাবার মন রক্ষায় এমবিএ করছে আপনাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে। নিজের সাথে বন্ধুদেরও টেনে নিয়ে গিয়েছে এই বয়সে পড়াশুনা করার জন্য।
..
..
..
চলবে____

