#প্রভামঞ্জরী
#নওরোজ_মীম
পর্বঃ ৫৩ (কপি করা নিষেধ)
_____________________________________
জ্যাকের সাথে দেখা করার পার হয়েছে একদিন। মাঝে শুক্রবার ছিলো। আজ শনিবার। আজ আবার অয়নের জন্মদিন। তাই তনু প্ল্যান করেছে এই জন্মদিন ওরা একটু ভিন্নভাবে উদযাপন করবে। তাতে বেরিয়ে আসবে মাশফিয়া মীমের সত্য। তাইতো কেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট, বিবিএ, ম্যাথমেটিকস মানে তনুদের পাঁচ বন্ধুর প্রত্যেকের ক্লাসের সবাইকে দাওয়াত দিয়েছে। আর অতিরিক্ত হিসেবে দাওয়াত দিয়েছে এমবিএ এর সবাইকে। এমবিএ তে কছে ‘ফেম স্টারস’। আর বিবিএ থার্ড ইয়ারের সবাইকে। মানে মীম আর মৌনতার ক্লাসের সবাইকে।
এখানে অবশ্য তাদের এই কাজে লেগেছে নিরীহ চিত্রাকে। কারণ তার বাবার একটা হোটেল রয়েছে উত্তরাতে। ওই হোটেলের বিশাল একটা অংশ বন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে সারাদিনের জন্য নিয়ে নিয়েছে সে। যা এতো কম সময়ের মধ্যে মালিকপক্ষ ছাড়া কিছুতেই সম্ভব নয়। শনিবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে অনুরোধ করেছে নিমন্ত্রিত সবাইকে।
অনিল বাড়ি ফেরে না আজ তিনদিন। সাথে নাকি তাহমিদ ও রয়েছে। তাই মীম বোঝে যে কোনো অফিসিয়াল কাজেই আঁটকে আছে তার মেজর। আর এই সাড়ে তিন মাসের সংসারে এই প্রথম নয়, আগেও কয়েকবার এভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে সে মেজরের সাথে। এদিকে হামিদুর রহমানের সাথে মীমের সবকিছু মীমাংসা না হলেও বাবা মেয়ের মাঝে আগের মতো উত্তপ্ত পরিস্থিতি নেই। সম্মোধন না হলেও ব্যবহারে এসেছে নমনীয়তা।
এই দুইদিন মীম বাড়িতে পুরোপুরি একা। তার শ্বশুর গিয়েছে ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে। আর আরিবা তার কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে কয়েকদিনের জন্য কানাডা গিয়েছে। বাবার বাড়ি যে যাবে সেখানেও মৌনতা নেই। সে আছে তার নিজের সংসারে। আর বাবার সাথে সম্পর্ক তার সেরকম নেই।
তুরিন ফিরে আসায় ইবনাত মৌনতার সংসারে কোনো প্রভাব পড়েনি। ইবনাত তার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করে মৌনতাকে সুখে রাখার। আর তার এই চেষ্টা মুখে মুখে নয় তার কাজেই সকলের চোখে পড়ে।
বেশকিছু দিন ধরে মীমের শরীর খারাপ লাগে। খাওয়াতে অরুচি, শরীর দূর্বল লাগে, মাথা ঘোরে, পেটে ব্যথা করে প্রায়শই। ঘুম তো হয়না বললেই চলে। প্রথমে তো ব্লাড প্রেশার ড্রপ করেছে ভেবে চেক করে দেখে না প্রেশার ঠিক আছে। তবে কি হবে তা নিয়েই বেশ চিন্তিত সে। এদিকে তার অসুস্থতার কথা সে কাউকে জানায়নি এখনো। চট্টগ্রাম থেকে ফিরে মেজরের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েকগুণ। সময় পেরিয়েছে লম্বা তবে ব্যস্ততা কমার বদলে শুধু বেড়েই চলেছে। তার যা অবস্থা তাতে বাসায় একা থাকতে বেয়াহ ভয় হচ্ছে তার। আজ সকালেই খাওয়ার সময় প্রচন্ডভাবে শরীর খারাপ করে। কোনোরকম ডাইনিং টেবিল থেকে যেয়ে সোফার উপর শুয়ে পড়ে। বাসায় যে রোকেয়া আন্টি কাজ করে সে মাথায় পানি দিয়ে হাত পা মালিশ করে কতকিছু করে যে সুস্থ করেছে। তারপর রোকেয়া আন্টি বললেন যে ডাক্তার না দেখালেই নয়। এটা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে। যদিও তিনি তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই কিছু বলেন,
“রাণী আম্মা বেশি খারাপ লাগে? রাজা বাবারে একটা ফুন করো।”
“আন্টি তুমি এখনো আমাকে রাণী আম্মাই ডাকছো।”
“তো ডাকমু না! কও কি তুমি রাণী আম্মা! তুমি হইলা গিয়া আমার রাজা বাবার বউ। তারপর হেই তো তোমারে ওই ইংরেজিতেই রাণীই ডাকে। তা আমার রাজা বাবার বউ কি রাণী আম্মা হবে না! ভাইজান ও তোমারে রাণী আম্মা ডাকে।”
“তোমরা পারোও আন্টি।”
“জানো রাণী আম্মা রাজা বাবার জন্ম হওয়ার আগে থেইকাই আমি ভাইজান আর ভাবির লগে আছি। অল্প বয়সে বিয়া দিছিলো মা বাপে। যার লগে বিয়া দিছিলো হেই লোকের আগেও বউ আছিলো। হেই বউয়ের বাচ্চা হয়না দেইখা আমারে মিথ্যা কথা কইয়া বিয়া করছে। আমি শ্বশুর বাড়ি যাইয়া এই কাহিনি হুনছি। আরও হুনছিলাম আমার যখন বাচ্চা হইবো হেই বাচ্চা পেত্তম বউরে দিয়ে আমারে মাইরা ফালাইবো। আমি লুকায়া শুনছিলাম। হেই খবর হুইনা পলাই আইছিলাম। রাস্তায় ভাইজানের লগে দেখা হইলে হেই আমারে লগে কইরা আনছে এই বাড়ি। তখন ভাইজান আর ভাবির ও নতুন বিয়ে। ওই সময় ভাবি আমারে আপন করে নিলো। কয়েকবছর পর রাজা বাবা আইলো দুবিয়ায়। ভাইজান ভাবির লগে আমারও জিন্দা থাকনের কারণ পাইয়া গেলাম। আবার আইলো আমার সোনা মা আরু। এই তো আমার দুনিয়া। আমার সেই রাজা বাবার রাণী তুমি।”
মীম কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে রোকেয়া আন্টির জীবন কাহিনী শুনে। যে মানুষ সারাদিন হাসিখুশি থাকে অন্যকেও হাসায় তার জীবন এতো বিষাদে ভরা কে বুঝবে তা। এদিকে রোকেয়া আন্টির হুট করেই কিছু মনে পড়ে। সে সতর্ক হয়ে বলে,
“দেখো কান্ড। আসল কথা তো ভুলে গেলাম। তা রাণী আম্মা তোমার মাসিক কি হয় ঠিকঠাক মতো?”
মীমের হুট করেই মনে পড়ে যে লাস্ট দুই মাস তার পিরিয়ড হয়না। সবসময় এমন অনিয়মিত হয় তার পিরিয়ড। তাই তা নিয়ে সে ভাবেনি কিছু। কিন্তু এখন সে বিবাহিতা এ কথা মনে করে ভাবা উচিত ছিলো হয়তো। তবুও আন্টির সামনে প্রকাশ করে না। আগে নিজে শিওর হওয়া জরুরি। কারণ তার আদারস কিছুই আন্টির ইঙ্গিত করা অসুখের সাথে মেলে না। এমন সেনসিটিভ একটা ব্যাপারে সে কিছুতেই শতভাগ নিশ্চিত না হয়ে কথা বলবে না।
.
.
.
.
ক্যান্টনমেন্টে ফিরেছে মেজর এএকে আর ক্যাপ্টেন তাহমিদ। তারা গত দুইদিন ছিলো শেরপুর। সেখানে গিয়েছিল চক্র খু*নের সাথে জড়িত একটা আস্তানার খোঁজে। কিন্তু সেখানে আসলে কোনো আস্তানা ছিলো না। আইনের চোখে ধুলো দিতেই এসব চাল চেলেছে কেউ। হতাশ হয়ে চেয়ারে গা এলিয়ে আছে মেজর আর ক্যাপ্টেন।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বসে আছে তাহমিদ। একটা নির্দিষ্ট কাটায় ঘড়ি যাওয়ার পরেই সে সামনে বসা মেজরের দিকে তাকিয়ে বলে,
“যতরকম চেষ্টা করা যায় তা করা হয়েছে। এবার কি করবি?”
অনিলের মুখটা হতাশায় ছেয়ে আছে। এতো হতাশ তাকে কখনো দেখেনি তাহমিদ।
“এবার আগে যে পরিকল্পনা ছিলো তাই কাজে লাগাতে হবে।”
“ভাই তুই বিয়ে করেছিস। তোর সংসার ভাঙতে এক মিনিট লাগবে না এই পথে এগোলে।”
“এই পথে যাতে যাওয়া না লাগে তার জন্য কত কি করেছি কিছুই তোর অজানা নয় তাহমিদ। আমি নিরুপায়। সবার আগে দেশ।”
“মেয়েটার জীবন এমনিতেই এলোমেলো অনিল। তোকে ভরসা করে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তুই আবার তাকে ভাঙার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিস।”
অনিলকে এবার অসহায় দেখালো। ডার্ক ব্রাউন চোখে ফুটে উঠেছে সে অসহায়ত্ব। তাহমিদ বন্ধুকে বোঝে। সেদিন হাসপাতালে নেওয়া মীমকে বিয়ের সিদ্ধান্ত সে একারণেই মেনে নিতে পারেনি। তাদের দায়বদ্ধতায় কেন একটা নিরাপদ মেয়ে কষ্ট পাবে এই নিয়েই তার আপত্তি। কিন্তু বন্ধুর ভালোবাসা আর জেদের কাছে হার মেনে যায়।
সে আবারও বলে,
“সেদিন কেন ওকে ওভাবে বিয়ে করলি? কি জবাব দিবি? আর মেজর জেনারেল স্যারকে না হয় জবাব বা দিলি সে তোর পরিস্থিতি বুঝবে। কিন্তু একজন সর্বহারা বাবা হামিদুর রহমানকে কি জবাব দিবি তুই?”
“সেই ভয় আমি শুরু থেকেই পেয়ে আসছি। স্যার আমাকে অনেক ভরসা করে মেয়ের হাত দিয়েছিলেন আমার হাতে। অনুরোধ করে বলেছিলেন যাতে তার মেয়েটাকে আমি কষ্ট না দেই। কিন্তু দ্যাখ আমি আয়োজিত করে তার মেয়েকে কষ্ট দিতে চলেছি। কি করে তার সামনে কথা বলবো আমি?”
“চিন্তা করিস না। এখানে তো আমাদের হাতে এখন কিছুই নেই। স্যার নিশ্চয় বুঝতে পারবে তোর সিচুয়েশন। আর এ ব্যাপারটা ঘটবে তা মীমের আড়ালে ঘটাতে হবে। ও জানার আগেই সবকিছুর নিষ্পত্তি করতে হবে।”
“তা কিভাবে করবো বুঝতে পারছি না। তনিমারা তো আবার মীম মৌনতার সাথে বন্ধুত্ব করে বসে আছে। ওদের সাথেই থাকে সবসময়। তনুর আমার গায়ে পড়া দেখেই আমার বউ সহ্য করতে পারে না। আর….”
অনিলের বাক্য পুরো হয় না। এর আগেই তাহমিদ বলে,
“আমার মনে হয় অয়ন নামের ছেলেটা মীমকে পছন্দ করে।”
“মনে হওয়ার কিছু নেই আসলেই করে।”
“ভাই তোরা দুই বর বউ ভালোই তো খু*নীদের নজরে পড়ছিস।”
“আমার মনে হচ্ছে আজকের এই অয়নের জন্মদিনে ল্র পার্টিতে কিছু ঘটবে। আমি ভালো ইঙ্গিত পাচ্ছি না।”
তাহমিদের কথা অগ্রাহ্য করে বলে অনিল। তাহমিদ ও চুপচাপ সম্মতি দেয়। কারণ তার ধারণাও কিছুটা একইরকম।
.
.
.
.
বিকাল চারটা বেজে পঁয়তাল্লিশ মিনিট। মীম আর মৌনতা হাসপাতাল থেকে রিকশা করে ফিরছে। দুজনেই চুপ। কারণ কিভাবে কি আচরণ করা উচিত তা জানা নেই কারো। মীম প্রেগ্ন্যাসি টেস্ট করেছে। রেজাল্ট পজিটিভ। নয় সপ্তাহের প্রেগন্যান্ট সে। তার মধ্যে অনিল আবরার খান নামক এক পাহাড় সম ব্যক্তিত্বের অংশ বেড়ে উঠছে। এই অবিশ্বাস্য অনুভূতির জোয়ারে বারবার কঠিন সত্ত্বার রমণীর আঁখি ছলছল করছে। সব হারিয়ে এক লোককে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছিল মীম। আজ সেই মানুষটার বাচ্চার মা হতে যাচ্ছে সে। কিভাবে তার মেজরকে এই খুশীর খবর দিবে তা বুঝেই উঠতে পারছে না সে। কিভাবে বললে লোকটা খুশীতে আত্মহারা হবে তা নিয়েই যত মাথা ব্যথা তার। মীমকে নামিয়ে দিয়ে ওই রিকশা নিয়েই মৌনতা গিয়েছে তাদের ফ্ল্যাটে রেডি হতে। আজকের পার্টিতে আমন্ত্রিত তারা। মীম মেইন গেট দিয়ে ডুকে ধীর পায়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। এমন সময় তার ফোন বেজে ওঠে। স্ক্রিনে ভেসে উঠে “Personal Major” নামটা। মন কোণে কোথাও একটা আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। হাসতে ভুলে যাওয়া রমণীর ঠোঁট জুড়ে বিশ্বজয়ের হাসি খেলে যায়। তার মেজর যদি এই হাসি দেখতেন তবে নির্ঘাত লম্বা সময় ধরে তাকিয়েই থাকতেন সব সময়ের মতো।
ফোন কানে ধরে মীম। হাঁটা থামিয়েছে অনেক আগেই। দুপাশেই নিরবতা। নিরবতা ভেঙে প্রথমে অনিলই ডেকে উঠলো,
“মাই হাইনেস।”
“অনি..”
“শুনছি তো পাখি বলুন।”
এই এই এখানেই মীমের মনের বরফ গলে যায় বারবার। লোকটা এতো আদুরে সুরে কথা বলে তার সাথে যে তার মনে হয় সে কোনো পাঁচ বছরের বাচ্চা। আবেগ সামলে মেজরের হাইনেস এবার অভিমানী হয়। সেই অভিমানী সুরেই বলে,
“দুই দিন পরে এসে মনে পড়লো যে বাড়িতে বউ রেখে গিয়েছেন। তাও একা।”
ওপাশে লোকটা যে শব্দ করে হেসে ওঠে তা এপাশ থেকে ঢের বোঝে মীম। ওই লোকের হাসিতে তার চোখে পানি জমে। আশ্চর্য আজ হলো কি, কখনো হাসছে আবার কখনো কাঁদছে। নিজেকেই চিনতে পারছে না মীম।
নিজের ভাবনা দূরে সরিয়ে সে বলে,
“অয়নের পার্টিতে কি থাকবেন সন্ধ্যায়?”
“বলতে পারছি না তো। সময় পেলে তো আমি বউয়ের কাছেই যেতাম। অন্যদের পার্টিতে যেয়ে আমার লাভ নেই।”
“আপনার বউ সেই পার্টিতে যাচ্ছে। আপনি পারলে আসুন।”
“ওকে মাই হাইনেস। ইওর ওয়ার্ড ইজ অর্ডার ফর মি।”
আবারও এই লোকের কথায় আবারও মীমের কান্না আসে। এবার না আঁটকে কাঁদে সে। ওপাশে উতলা হয় মেজর।
“জলদি আমার কাছে ফিরে আসুন মেজর। আপনার জন্য আমার কাছে অবিশ্বাস্য রকমের সারপ্রাইজ আছে। আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি সেই সারপ্রাইজ আপনাকে দেওয়ার জন্য।”
“ওকে মাই সুইট লিটল হার্মিংবার্ড পার্টিতে আসছি তবে। একসাথে বাড়ি ফিরবো রাতে।”
.
.
.
.
মীম আজ মন ভরে সাজলো। একদম তার মেজরের মনের মতো করে। ঘের ওয়ালা পার্পল কালার লং গাউন। শর্ট হাতার চারকোনা নেক গাউনের সাথে হাতে অনিলেরই গিফট করা একটা ব্রেসলেট, বিয়ের আংটি, আর কানে ছোট্ট একটা ডায়মন্ডের টপ। গলায় অনিলের দেওয়া মুক্তোর মালা। চুলগুলো পিছন থেকে বেঁধে সামনের ছোট ছোট গুলো খুলে রাখা। সামান্য প্রসাধনীর ছোয়ায় আজ যেনো সে সত্যিই কোনো রাজ্যের সম্রাজ্ঞী। আজ সে আসলেই অনিল আবরার খানের রাণী রুপে সেজেছে। হাতে একটা ফুলের তোড়া নিয়ে সে রওনা হয়।
সময় মতো সে পার্টির ভেন্যুতে যায় গাড়ি করে। ততক্ষণে বাকিরা প্রায় চলে এসেছে। বাকি শুধু অনিল একা। সবাই এখন সেই লোকের অপেক্ষায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজানো গেট দিয়ে দাম্ভিক পদচারণ ঘটে তার। অনেকেই সেই দিক মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে চেয়ে আছে। একপাশে থাকা মীম ও নিজ ব্যক্তিগত পুরুষের দিকে তাকিয়ে তার সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভোলে না।
অনিল একটা অফ হোয়াইট শার্ট পরেছে ডার্ক ব্রাউন কালার ফরমাল প্যান্ট এর সাথে পেয়ারআপ করে। হাতে একটা ব্রাউন বেল্টের ভিনটেজ ঘড়ি আর পায়ে ব্রাউন সুজ। শার্টের প্রথম বোতাম খুলে রাখায় গলার নিচ থেকে কিছুটা উন্মুক্ত। যা অতন্ত্য আকর্ষণীয় লাগছে। এক হাত পকেটে ঢুকিয়ে তার হাঁটার গতিতে আশেপাশের সবকিছু ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে এমন।
মীম তাকিয়েই থাকে তার পুরুষের দিকে। পুরুষ মানুষের যে এতো সুন্দর হতে নেই তা কি জানে না এই লোক। এইসব উদ্ভব ভাবনা ভাবতে থাকে সে। এদিকে শুধু সে একা নয় আরও একজন উন্মাদ হয়ে তাকিয়ে আছে মীমের ব্যক্তিগত পুরুষের দিকে। তনু। সে যেন আরও একধাপ বেশি পাগল হয়ে গিয়েছে।
এদিকে মেজরের চোখ পড়ে প্রেয়সী পানে। মেয়েটা পা থেকে মাথা পর্যন্ত তার পছন্দে তার দেওয়া জিনিসে সেজেছে দেখেই ভালো লাগে তার। ইশশ মেয়েটা কি আদুরে লাগছে। অনিলের ইচ্ছে করছে সব সীমানা পেরিয়ে, সব বাঁধা অতিক্রম করে এক্ষুনি দৌড়ে যেয়ে আদুরে মেয়েটাকে বুকের মধ্যে চেপে ধরতে।
পার্টি শুরু হয়। কেট কাটা হওয়ার পর বেখেয়ালি ভাবে মীমের ড্রেসে একটু কেক লাগে। সে ওয়াসরুমে যায় পরিষ্কার করতে। বউকে যেতে দেখে অনিলও কোনভাবে তনুর থেকে পিছা ছুটিয়ে যায় সঙ্গে। জেন্টস আর লেডিস ওয়াসরুম পাশাপাশি। আর এই মূহুর্তে লেডিস ওয়াসরুমে মীম ছাড়া কেউ নেই। তাই অনিল ঢুকেই দরজা বন্ধ করে দেয়।
“আরে পাগল হলেন নাকি? এটা লেডিস ওয়াসরুম। আল্লাহ কেউ দেখে ফেললে কি বিশ্রী একটা ব্যাপার হবে বলুন তো মেজর!”
মেজরের কি আর সেসবে মন আছে। কথাবার্তা ছাড়াই সে তার প্রেয়সীকে বাহুবন্ধনে আবদ্ধ করে।
“মেরে ফেলার পায়তারা করেছেন মাই হাইনেস?”
“কিসব বলছেন? সবে তো শুরু। আমাদের পুরো একটা জীবন পার করা বাকি এখনো।”
হেসে ফেলে অনিল। সে বলে,
“এভাবে দমবন্ধ করা সুন্দরী বউ থাকলে মাঝে মাঝে দমবন্ধ হওয়া খারাপ কিছু না।”
“অনিইইইল!”
অনিল দেখলো তার বউ লজ্জা পাচ্ছে। তাই লজ্জা বাড়িয়ে দিতে আরও কিছু বলতে যাবে তার আগেই ওয়াসরুমের দরজায় কেউ নক করে।
..
..
..
..
চলবে___

