#একটা_ছিলো_সোনার_কন্যা
#শ্যামলী_রহমান
#পর্ব—১৯-২০
কনকনে শীত তারই মধ্যে হিমেল হাওয়া আরো বাড়িয়ে দিয়েছে ঠান্ডার ফুয়ারা। আকাশে একখানা দারুন সুন্দর চাঁদ উঠেছে। জোছনার আগমন প্রকৃতিতে। চারপাশ কেমন আনন্দ মূখর আজ। মাহাদ,শিউলি,নাজির, মালা,নিধি সহ আরো অনেকে মাস্টার বাড়ির উঠোনে বসে আছে। একটু আগেই জিহান আর পাপিয়ার বিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে। দুজনকে একসাথে বসিয়ে রাখা হয়েছে উঠোনে। জিহানের মুখে অপার হাসি। সে হাসি পূর্ণতার। প্রিয়তমা কে নিজের করে পাওয়ার। তবে পাপিয়ার মুখের আদল পরিবর্তন হচ্ছে মাঝে মধ্যে। কখনো হাসছে কখনো বা আঁধার মুখে বসে থাকছে। এর কারণ অবশ্য মানুষের কানাঘুষা। জিহানের বিয়ের কথা শুনে কত জনের কত মন্তব্য। অবিবাহিত পুরুষ তালাক হওয়া বন্দ্যা নারী কে বিয়ে করবে এটা তারা মেনে নিতে পারছে না। তাদের মতে পাপিয়ার এক ঠ্যাং কবরে যাওয়া বুড়োর সঙ্গে হলে মানতে পারতো। অথচ জীবন ওদের দুজনের। সিদ্ধান্ত ও ওদের কিন্তু মাথাব্যথা প্রতিবেশির। এখানে পাপ তো নেই তবে সমস্যা কি? এই প্রশ্ন করতে গেলে উত্তর মিলবে নারী সব সময় অবহেলায় পুরুষদের পায়ের নিচে থাকবে, সব সময় মন্দ মিলবে কিছুজনের এমনটাই মতামত।
শিউলি,মালা, নাজির,নিধি আর মাহাদ মাস্টার বাড়িতেই খাওয়া দাওয়া করলো। নিধিকে নুরুল আলম বাড়ি থাকলে আসতে দিতো না। আজ তিনি পৌর শহরে কাজে গেছেন থাকবেন বলেছেন। এজন্য মা কে বলে চুপিচুপি এসেছে। শিউলি বাড়ি যাওয়ার জন্য পথের দিকে তাকালো। করিম মিয়া এসেছিলো বিয়ে পড়িয়ে চলে গেছে। যাওয়ার আগে নাজির আর মালাকে বলে গেছে শিউলি কে যেন পৌঁছে দেয় বাড়ি।
মাহাদ বাড়ি থেকে বেরিয়ে দুয়ারের সামনে শিউলির কাছে এসে দাঁড়ালো। ও এখনো খেয়াল করেনি। হাতের হ্যারিকেন টা মাটিতে রেখে বসেছে ছোট খড়ের গাদায়। অপেক্ষা করছে নাজির আর মালার আসার।
“ চলো তোমায় বাড়ি দিয়ে আসি।”
শিউলি আজ চমকালো না। স্বাভাবিক ভাবে পাশে তাকালো। মাহাদ ওর পাশে দাঁড়িয়ে তাকিয়ে আছে আকাশের পানে। বসা থেকে উঠে পড়লো। বলল,
“ নাজির ভাইজান নিয়া যাইবো বইলা গেলো। ”
“আমি নিয়ে গেলে সমস্যা হবে? তোমার আব্বায় কিছু বলবে? যাওয়ার সময় নাজিরের সঙ্গে আমাকেও কিন্তু বলে গেছে।”
“ তাহলে নাজির ভাই আর মালাকে বলে আসি?”
শিউলি দৌঁড়ে বাড়ির ভেতরে গেলো। ওদের কে বলে বাহির হতে হয়ে আসলো তখনই। তারা ব্যতীত তেমন কেউ আর নেই আর বাড়িতে। শিউলি এসে দেখলো মাহাদ এখনো আকাশ পানেই তাকিয়ে আছে। ও এগিয়ে গিয়ে পাশে দাঁড়ালো। শুধালো,
“ কি দেখতাছেন?”
মাহাদ সামান্য ঘাড় ঘুরিয়ে শিউলির দিকে নজর দিলো।
“ দুটো তারা। দেখো কি সুন্দর! একত্রে পাশাপাশি উঠে আছে। আশে পাশে আর কেউ নেই।”
শিউলি মাহাদের দৃষ্টি অনুযায়ী তাকালো। আসলেই জ্বলজ্বল করছে দুটো তারা। খুব কাছাকাছি। একটু দূরে চাঁদ ও উঠে আছে। আকাশ জ্বলজ্বল করে হাসছে।
“ খুব শিগগিরই আমরাও এভাবে পাশাপাশি থাকবো।” মাহাদের কথায় শিউলি ডানে তার পানে চাইলো। বলল,
“এখন ও তো পাশাপাশি আছি।”
শিউলি অবুঝের ন্যায় প্রশ্ন করলো। সেই প্রশ্নে মাহাদের দৃষ্টি পাশে ফিরলো। হেসে উঠলো মুহূর্তে। শিউলি তাকিয়ে রইলো তার দিকে। কি স্নিগ্ধ হাসি!
মাহাদ একটু বাদে উত্তর দিলো,
“এই পাশাপাশি তো খনিকের জন্য। আমি তোমাকে সারাজীবনের জন্য পাশে চাই। অধিকার নিয়ে তোমার হাত ধরে পাড়ি দিতে চাই অনন্ত পথ।”
শিউলির দৃষ্টি এখনো মাহাদের দিকে। মানুষটা কি সুন্দর কথা বলে। মন চায় সারাক্ষণ কথা শুনি আর তাকিয়ে থাকি।
“ তোমরা যাওনি?”
নাজিরের কন্ঠে দৃষ্টি ভঙ্গ হলো। শিউলি সামান্য দূরে গিয়ে দাঁড়ালো। মাহাদ পিছনে ফিরে উত্তর দিলো,
“ যাচ্ছি এখনই।”
তারা সকলে একসাথে বাহির হলো। মাঝপথে এসে পথ আলাদা হলো। নাজির নিধি আর মালা কে নিয়ে মাতবর বাড়ির দিকে গেলো আর মাহাদ শিউলি কে নিয়ে তাদের বাড়ির দিকে। দূরত্ব আর খুবই সামান্য। তবে কুয়াশার জন্য দেখা যাচ্ছে না।
শিউলির গায়ে চাদর জড়ানো তবুও শীতে কাঁপছে সামান্য। মাহাদ জড়িয়ে আছে শহুরে জ্যাকেট যা গ্রামে কাউকে কখনো পরতে দেখেনি সে। দুজনে নিরবতায় পথ হাঁটছে। হঠাৎ শিউলিই বলে উঠলো,
“আপনার বন্ধুরা আইলো না যে?”
“ ওদের কাজ আছে। তবে কাল বাবা এবং সাঈদ আসবে। বাবা আসলে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাবে তোমার বাড়িতে।”
শিউলি লজ্জা পেলো। মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগলো। একটু বাদেই বাড়ি এসে যাওয়াতে আর কোনো কথা হলো না। কেবল ইশারা করে বলল,
“যাও।”
দুয়ার থেকে সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে মাহাদ। শিউলি দুয়ারে ঠকঠক আওয়াজ করতেই করিম মিয়া দুয়ার খুলে দিলো। শিউলির সঙ্গে মাহাদ কে দেখে হাসলো। ও আগেই বলে দিলো,
“নাজির নিধি কে দিতে গেছে এজন্য আমি নিয়ে এলাম শিউলি কে।”
করিম মিয়া কিছু মনে করেনি বোধ-হয়। তাই-তো বলল,
“ লকাল তুমি আমাগোর বাড়ি ভাত খাইও। তোমার চাচি আম্মা ভালো মন্দ রানবো।”
মাহাদ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো। শিউলি ভেতরে যেতেই করিম মিয়া দুয়ার বন্ধ করে দিলো। তার আগে মাহাদ কে সাবধানে যেতে হুশিয়ারী করলো। আজকাল নাকি চোর,ডাকাতের আগমন হয়েছে বিধান নগরে। পর,পর কয়েক বাড়ি থেকে গরু,ছাগল,সোনা গহনা চুরি হয়েছে। সেদিনই এ গ্রামের শেষ প্রান্তে বাড়িতে মধ্য রাতে চুরি করতে এসে দেখতে পেয়ে সে বাড়ির মালিক চিৎকার করায় মেরে অবস্থা যায়,যায় করে রেখে পালিয়ে গিয়েছে।
__________
খাঁটের ঠিক মাঝখান টায় বধূ বেশে বসে আছে পাপিয়া। গলা পর্যন্ত ঘোমটা টেনে দেওয়া। লাল শাড়ি পরিহিত এক রমনীকে দেখে জিহান খাঁটের কোনায় এসে দাঁড়ালো। পাপিয়া ওর অস্তিত্ব টের পেতেই খাঁট থেকে নেমে আসলো। মাথা নিচু করে সালাম করলো জিহানের পায়ে। উঠে সোজা হতেই জিহান আদেশ করলো,
“বসো খাঁটে। কত দিনের স্বপ্ন আমার তুমি বধূ বেশে বসে থাকবে আমি এসে ঘোমটা সরিয়ে দেখবো তোমার চাঁদ মুখখানি।”
পাপিয়া নিঃশব্দে হাসলো। বসলো গিয়ে খাঁটে।জিহান ও এগিয়ে গিয়ে বসলো তার পাশে। অতঃপর অস্থিরতা নিয়ে দু’হাতে ঘোমটা তুললো। বেরিয়ে আসলো চাঁদ মুখখানা। নাকে তারই নামে পরানো নাঁকফুল। কানে দুল আর গলায় ঝুলিয়ে আছে গহনা। কি অপরুপ সুন্দর মুহূর্ত। জিহান মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে রইলো। অঁধর থেকে বেরিয়ে আসলো,
“ আমার পরী। আমার জীবনসঙ্গিনী।”
পাপিয়া হাসলো। লজ্জাও পেলো সামান্য। তবে কিছু কথা মনে পড়তেই হাসি মিলিয়ে গেলো। জিহান তার বিবর্তন মুখখানা স্পষ্ট দেখতে পেলো। জানতে চাইলো,
“ কি হয়েছে পাপিয়া?”
“সবার মতো কোনো একদিন মনে হবে না তো আপনি আমায় বিয়ে করে ভুল করেছেন? সুখী হতে পারছেন না? ”
কিছুটা ভয়ের সহিত প্রশ্ন করলো পাপিয়া। জিহান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। উত্তরের আশায় চাতক পাখির মতন চেয়ে থাকা পাপিয়ার অপেক্ষা ফুরলো। জিহান আলতো করে পাপিয়ার হাত খানা সাহস করে ধরলো। তার পর নরম কন্ঠে প্রতিত্তোর করল,
“তোমায় ছাড়া নিঃসঙ্গ জীবন কাঁটানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারলে সন্তান ছাড়াও তোমায় নিয়ে থাকতে পারবো। তুমি যেমন আমি তেমনই গ্রহণ করেছি। পাপিয়া এতো ভয় কেন পাচ্ছো? তোমার কি আমার উপর বিশ্বাস নেই? আমাকে চিনোনা তুমি?
একদিন তো ভালোবেসেছিলে ভুলে গেলে এতো তাড়াতাড়ি? ”
পাপিয়া হুট করে কেঁদে উঠলো। জিহান হতবিহ্বল হয়ে পড়লো। হুট করে কেঁদে উঠার কারণ খুঁজে পেলো না। তবুও আদর মাখিয়ে অস্থির হয়ে শুধালো,
“কি হয়েছে? আমি ভুল কিছু বলেছি? কাঁদছো কেন?”
“আপনি আমাকে এতো ভালোবাসেন কেন? আমি এতো ভালোবাসা পাওয়ার যোগ্য নই।”
জিহান স্বস্তি পেলো। পাপিয়ার চোখের জল দুহাতের আঙুল দ্বারা মুছে দিয়ে হেসে বলল,
“ ভালোবাসা পেতে যোগ্যতা লাগে?”
পাপিয়া কান্না মিশ্রিত কন্ঠে উত্তর দিলো,
“ হুমম।”
“তবে সে যোগ্যতা তোমার ছয় বছর আগেই হয়েছে।”
“ ভাগ্য ও লাগে।”
উত্তরের পর আবার উত্তরে জিহান নিশ্চুপ রইলো।
পাপিয়া ওর চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। ও হুট করে পাপিয়ার কপালে গাঢ় চুমো এঁকে দিলো যত্নে, ভালোবাসায়। পাপিয়া চোখ বন্ধ করে নিলো। জিহান কপাল থেকে অঁধর সরিয়ে বন্ধ চোখের নারীটির দিকে চেয়ে বলল,
“ তুমি এখন থেকে সব সময় এমনই ভাগ্যবতী হও। ভাগ্যবান হিসাবে আল্লাহ আমাকে তোমার পাশে রাখুক।”
পাপিয়া চোখ খুললো। অতি ভালোবাসায় না চাইতেও চোখে জল এসে পড়ছে। দুঃখ শেষে ভালোবাসা ও জুটবে কখনো কি ভেবেছিলো।
পাপিয়া এক পলক জিহানের দিকে চেয়ে হুট করে জড়িয়ে ধরলো তাকে। মাথা রাখলো বুকের মধ্যে।
জিহান অতি আদরে জড়িয়ে নিলো নিজের বুকের মাঝে। কত দিনের চাওয়ার পর এক হয়েছে। ভাগ্য আসলেই তাদের সঙ্গে ছিলো নয়তো কি এতোদিন পর এক হতে পারতো?
_____________
শিউলি সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই থালা বাসন মাজতে নদীতে গেলো। আমেনা হুট করে রাত থেকে জ্বরে পুড়ছে। শরীর টা ভালো লাগছে না। তবুও তিনি কাজ করতে উঠে পড়েছিলেন শিউলি জোর করে বসিয়ে রেখে ঘর,উঠোন সব ঝাড়ু দিয়েছে, গোয়ালঘর করিম মিয়া পরিষ্কার করেছে। গ্রামের মানুষ মানে অবিবাহিত মেয়েদের বাবার বাড়ি থাকতে গোয়াল ঘরে গোবর তুলতে নেই। বাসি কাজ শেষ করে থালা বাসন মেজেও নদী থেকে চলে আসলো। জবেদা বিবি উঠোনে বসে আছে। আগের তুলনায় কিছুটা সুস্থে হয়েছেন পৌর শহরে চার মাস আগে নিয়ে গিয়েছিলো তখন থেকেই। এখন লাঠি ঢোকা দিয়ে হাঁটতে পারে। শিউলি সব কাজ শেষে এবার রাঁনতে বসলো। করিম মিয়া ক্ষেতে লাঙ্গল বইতে গেছে। কয় কাটা জমি আছে তাতেই যা ফসল হয় কোনোমতো বছর যায় কষ্টে।
শিউলি চুলা ধরাতে গিয়ে একটু মুশকিলে পড়লো। ধুমাচ্ছে কিন্তু আগুন জ্বলছে না। ধোঁয়া দেখে আমেনা বেগম দূর্বল শরীর নিয়েও ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো। চুলা ধরিয়ে দিয়ে বলল,
“এতো নিতেজ হয়নাই যে রাঁধতে পারমু না। তুই যা আমি শুধু বসে রাঁধবো অসুবিধা হইবো না।
শিউলি যেতে না চাইলেও মায়ের জোরাজুরিতে উঠে পড়লো। বসেই কাজ তাই আর কিছু বললো না। জবেদা বিবি উঠোন ছেড়ে লাঠি হাতে বাড়ির বাইরে যেতে যেতে শিউলির উদ্দেশ্য বলল,
“ শিউলি তোর চাচা সেই কবে আইছিলো আর তো আইলো না দেখবার। একবার খবর দিস। কতদিন বুড়িটারে দেখিনা।”
শিউলি ঠিক আছে বললো।
খাঁচায় রাখা শালিক পাখিটা খাঁচার ভেতর থেকে বাহির করলো। দুয়ার খুলতেই উড়ে এসে বসলো শিউলির কাঁধে। পাখিটার সঙ্গে ওর ভীষণ মায়া।
ছয়মাস ধরে সঙ্গে আছে। একটু বড় হওয়ার পর যখন উড়তে শিখলো মায়ের কথা মতো শিউলি শালিক পাখিটাকে ছেঁড়ে দিয়ে আসলো বাড়ির বাইরে তালগাছটার নিচে। মন খারাপ লাগছিলো একটু তবুও বন্ধি জীবন রেখে কষ্ট দিতে চায়নি।
মন খারাপ করে যখন উঠোনে বসে ছিলো। হঠাৎ অনুভব করে হাতের উপর কিছু একটা উড়ে এসে বসলো। আশ্চর্যকর বিষয় পাখিটা ফির এসেছে বাড়ি চিনে। উড়তে দিলেও ঘুরেফিরে আবার শিউলির কাছেই আসে। শিউলি খুশি হলো। বুঝতে পারলো পাখিটার ও তার প্রতি মায়া জন্মেছে। তাই তো ওকে ছেড়ে যেতে চায়না। এর পর থেকে শালিক তার সঙ্গী হয়ে রয়েছে। রাতে খাঁচায় দিনের অধিক সময় চালের উপর কখনো বাহিরেও যায় উড়ে আবারো ফিরে আসে নীড়ে। শিউলি ওকে শিষ বাজানো শেখানোর জন্য শিষ দেয় নিজে। কিন্তু এখনো শিষ দিতে পারে না পাখিটা। শালিক পাখি কথা বলতে জানে। ওর বাবার থেকে শুনেছিলো একসময় করিম মিয়ার একটা কথা বলা শালিক পাখি ছিলো পাঁচবছর মতো থেকে একদিন মারা গেছে বহুদিন আগে। শেষ টুকু শুনে তার মন খারাপ হয়। শালিক ও হয়তো একদিন চলে যাবে। তখন কি হবে? মানুষের মতো পাখিও যে মায়ায় বাঁধে।
শিউলির ভাবনার মাঝেই পাশের বাড়ির প্রতিবেশী কুলসুম চাচি দৌড়ে আসলো। আমেনা কে বলল,
“ ও আমেনা দেইখা যাও শাবানা ইন্দুর মারা জম খাইয়া পইড়া আছে। মুখ দিয়া শুধু ফেপড়া উঠতাছে। হের শাশুড়ি চুপচাপ বইয়া এখনো ছোল মরার দোষ দিতেই আছে। মরলেও কোনো খেয়াল নাই।”
আমেনার রান্ধন কেবল অর্ধেক হয়েছে। আমেনা চুলার আগুন বন্ধ করে ছুটে গেলো। শিউলিও ছুটলো। শালিক পাখিটা পিছু নিয়ে শিউলির মাথার উপর দিয়ে উড়ে যেতে লাগলো।
___________
সালেহা বেগম স্বামীর অবর্তমানে মাতবর বাড়ি থেকে বেরিয়ে নাজিরের সঙ্গে দেখা করেছে। কেউ যেন না জানে তাই চুপিচুপি এসেছে। আসার সময় শুধু নিধিকে সত্যি টা বলেছে। রুপসি ঘরে ছিলো তাই ও দেখেনি। তবে ফেরার সময় ঠিকই দেখতে পেলো। সালেহা সবে মাতবর বাড়ির উঠোনে পা রাখবে তখনই রুপসির আগমন ঘটলো। হুট করে আসায় চমকালো। রুপসি শাড়ির আঁচলে চাবি ঘুরাতে,ঘুরাতে সুর টেনে জানতে চাইলো,
“কোথায় গেছিলেন আম্মা?”
সালেহা বেগম তাড়াতাড়ি উত্তর দিতে পারলো না। মিথ্যে কথা মুখে কম আসতে চায় এটা ধরা পড়ার সম্মুখে পড়লে টের পাওয়া যায়। তবুও উত্তর দিলো,
“শিউলিদের বাড়ি। আমেনার থেকে একখান কাঁথা সেলাই করে নিতাম তাই পুরোনো কাপড় দিতে গেছিলাম।”
“ কিন্তু আম্মা আমি তো যাওয়ার সময় আপনার খালি হাত দেখলাম। ”
এই বুঝি ধরা পড়ে গেলো। সালেহা ভয় পেলো সামান্য। রুপসি তিক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে চোখে সন্দেহ। তখনই নিধি পিছন থেকে বলে উঠলো,
“আপনাকে সব বলতে হবে? আমি দিয়ে এসেছিলাম কাল আম্মা আজ শুধু বলতে গিয়েছিলো কিরকম ফুল দিবে।”
রুপসির দৃষ্টি নিধির দিকে গেলো। নিধি ওকে শুরু থেকে পছন্দ করে না তা জানে। তাই-তো শক্ত কন্ঠে বলল,
“ মুখের উপর কথা বলো ভালোই, তোমার ভাইজান আজ আসুক বলবো বেয়াদবির কথা।”
নিধি পাত্তা দিলো না মোটেও। বরং মুখ বেঁকিয়ে মা কে নিয়ে গমগমিয়ে চলে গেলো ঘরের দিকে। যাওয়ার আগে বলে গেলো,
“ সংসার আর সম্পর্ক ভাঙা ছাড়া আর পারেন কি? কালনাগিনী।”
শেষ শব্দটা অবশ্য ধীরে বলেছে যা রুপসির কান অবধি পৌঁছায়নি। তার পরেও ওতটুকু শুনেই সাপের মতো ফুঁসে উঠলো রুপসি। দাঁত কিড়মিড় করে ধীরে আওড়ালো,
“ঘর থেকে বিদায় করার ব্যবস্থা করছি শিগগিরই।”
ঘরে যেতে নিধি সালেহা কে শুধালো,
“ দেখা হলো ভাই জানের সঙ্গে? ”
“হুম। তাদের নতুন বাড়ি মেহমানে ভর্তি।”
নিধি যতদূর জানে শুধু মাহাদই এসেছে। আর কেউ তো আসেনি। তবে আরো কে? সালেহা বেগম কে শুধালো,
“ আর মেহমান কে আম্মা? ডাক্তার মাহাদ ছাড়া তো আর কেউ আসেনি।”
সালেহা ঘরে প্রবেশ করে খাঁটের গদির তলায় হাতের টাকা গুলো রেখে দিলো। নাজির কে দিতে নিয়ে গেছিলো কিন্তু সে নেয়নি। তার কথা এ বাড়ির কিছু সে নিবে না। সংসার চালানোর মতো রোজগার সে করতে জানে।
নিধি উত্তরের আশায় চেয়ে আছে মায়ের দিকে। সালেহা উত্তরে বলল,
“শহর থেকে ডাক্তার মাহাদ তার বাবা ও ডাক্তার সাঈদ সেও তো এসেছে। আমি যাওয়ার পরই আসলো একটু আগেই।”
নিধি বুকের ভেতর তোলপাড় শুরু হলো। আচমকা অপ্রত্যাশিত নাম শুনে বিস্মিত হলো। মনের মধ্যে তারই নাম জপতে থাকলো। ইচ্ছে হলো ছুটে যেতে এক নজর দেখতে কিন্তু…..
থেমে গেলো মনের ইচ্ছে। মানুষটা অন্য কারো বাঁধনে বাঁধা তা ভুললে কি চলবে?
দোষ কি? দেখতে তো বাঁধা নেই। মন তো মানতে চায় না। দোলাচালে নিধি ঘর থেকে ছুঁটে বাহির হলো। উঠোন, আঙ্গিনা পেরিয়ে চললো। ভেতরে উত্তেজনা কাজ করছে। মানুষটাকে এক নজর দেখতে হৃদয় ব্যাকুল হয়ে আছে। এই ব্যকুলতা এই মাত্রই সীমানা ছড়ালো। এখুনি না দেখলে বোধ-হয় হৃদয় ছারখার হয়ে যাবে অনুভব করলো।
নিধি মাতবর বাড়ির দ্বার পেরোতেই সামনের পথে একজনকে আসতে দেখলো। মুখটা তার অতি পরিচিত। হঠাৎ দুজনই দুজনকে দেখে থমকে দাঁড়ালো। দূরত্ব কিছুটা তাদের মধ্যে। নিধি হাফাচ্ছে। অপরপ্রান্তের মানুষটা নিশ্চুপ দাঁড়িয়ে আছে। নিধি অপলক তাকিয়ে রইলো। তার সাহস হলো না সামনে এগুনোর। খানিক বাদে সাঈদ নিজেই ধীর পায়ে এগিয়ে আসলো। দাঁড়ালো নিধির ঠিক সামনে। ওর দৃষ্টি এক মুহূর্তের জন্য নড়লো না। সাঈদ ও চোখের দিকে চেয়ে বলে উঠলো,
“বলেছিলাম এভাবে তাকাবেন না। আপনার চোখে আমি আমার ধ্বংস দেখতে পাই। তবুও শুনলেন না। ধ্বংস করলেন আমায়। ছুঁটে আসতে বাঁধ্য করলেন এই অভাগাকে। আপনি এতো নির্দয়া কেন বলুন তো?”
নিধির স্থির দৃষ্টি এবার নরম হলো। সাঈদের এমন উত্তর ওকে আশ্চর্য করলো। বুঝতে পারলো না ঠিক। নিধি শুধানোর আগেই সাঈদ মুচকি হেসে উত্তর দিলো,
“আপনাকে ভালেবাসি নিধি। যে বাঁধনে আঁটকা পড়েছিলাম সে বাঁধন থেকে মুক্তি পেয়েছি। তোমার আঁচলে বাঁধা পড়বো বলে।”
“ ম মানে?”
নিধির যেন বিশ্বাসই হচ্ছে না। সবটা ভ্রম মনে হচ্ছে।
“মানে যা বললাম তাই। আপনি আমার হবেন নিধি?”
ও কি বলবে ভাষা হারিয়ে ফেললো। বিস্ময়কর দৃষ্টি নিয়েই এলোমেলো কন্ঠে উত্তর দিলো,
“আপনি বললে আপনার হতে রাজি। আপনি আমার সামনে আছেন অথচ মনে হচ্ছে আমি দিবাস্বপ্ন দেখছি।”
নিধির চোখে জল টলমল করছে। সাঈদ আশে পাশে তাকালো। মানুষের দৃষ্টি লক্ষ্য করে বলল,
“ বাস্তবে আপনাকে নিতে এসেছি। মাহাদের সঙ্গে আপনাকে নিয়ে ফিরবো। আপনার ভালোবাসা আমাকে শহরে আঁটকে রাখতে পারেনি। সমস্ত বেড়া পেরিয়ে ছুটে এসেছি।”
নিধির টলমল চোখেও হেসে উঠলো। আনন্দে মাতলো হৃদয়। উচ্ছাসিত হয়ে শুধালো,
“কবে যাবেন ফিরে?”
“ মাহাদপর বাবা এসেছেন মাহাদের সঙ্গে শিউলির বিয়ের কথা হবে তার পর তোমার বাবার কাছে আমি প্রস্তাব রাখবো কেমন?”
নিধি চোখ মুছে মাথা নাড়ালো। বলল,
“ঠিক আছে আপনি যান এবার। কেউ দেখলে সন্দেহ করবে।”
সাঈদ হেঁটে চললো পিছু। নিধি তাকিয়ে রইলো তারই গমনের দিকে। চোখে মুখে আনন্দ উপচে পড়ছে। এক পক্ষিক ভালোবাসা ভেবে পাওয়ার আশা ছেড়ে দেওয়া মানুষটাকে পাবে এ তো কল্পনাতেও ছিলো না। এই আনন্দে সে আজ সারারাত ঘুমাতে পারবে না নিশ্চিত। সাঈদের অস্তিত্ব পথ থেকে মুছে যেতেই নিধি ও মাতবর বাড়ির ভেতরে গেলো। কেউ একজন তিক্ষ্ণ নজরে সবটাই লক্ষ্য করলো। আড়ালেই আবারো চলে গেলো যেভাবে আড়ালে তাদের কথা শুনছিলো।
__________
সময়টা সবে সন্ধ্যা। করিম মিয়া এই সময়ে বাড়ি ফিরেন। তাই-তো মাহাদ তার বাবা রাইসুর রহমান কে সন্ধ্যায় আসতে বলল। বর্তমানে মাহাদ,নাজির,সাঈদ ও রাইসুল রহমান মিলে শিউলিদের বাড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে । শিউলি তখন বাড়ির বইরে বসে ছিলো মালার সঙ্গে। মালা আগেই এসেছে সাজিয়েছে সামান্য শিউলি কে।
বাড়ির কেউ না জানলেও শিউলি জানে সন্ধ্যায় মাহাদের বাবা আসবেন। লোকটার সঙ্গে এখনো দেখা হয়নি। হঠাৎই ভয় লাগছে। কি হবে না হবে এই ভেবে। মালা তখনই বলে উঠলো,
“শিউলি ঘরে চল ওরা আসছে।”
শিউলি পশ্চিমের পথের দিকে তাকালো। হ্যাঁ সত্যিই আসছে। শিউলি আর মালা দৌড়ে বাড়ির ভেতরে গেলো। করিম মিয়া মেয়েকে এভাবে আসতে দেখে শুধালো,
“ কি রে মা ছুটতাছিস কেন?”
“ এমনি আব্বা মালা ছুটতে বললো।”
করিম মিয়া মেয়ের ছেলেমানুষী জবাবে হেসে ফেললো। স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ আমেনা ঘর থেকে সরিষার তেন আন তো দেখি।”
কাঁদা মাটিতে লুঙ্গী,গেঞ্জি ভরে গেছিলো এজন্য গোসল সারলো শেষ বেলায়। শীত লাগছে প্রচন্ড। সরিষার তেল শরীরে ডললে একটু উষ্ণ হবে।
আমেনা ঘর থেকে সটিষার তেল এনে দিলো। করিম মিয়া সবে শরীরে লাগিয়ে মাখতে শুরু করলো তখনই দুয়ারে অনেক মানুষের আগমন নজরে আসলো। একজন ব্যাতীত তিনজনই পরিচিত।
“আরেহ বাবারা আসো আসো।”
করিম মিয়া হাসি মুখে বলল। জবেদা বিবি মানুষ দেখেই উঠোনে মাদুর পেতে দিলো। মালা ঘর থেকে কাঁঠের চেয়ার আর দুটো মোড়া এনে দিলো। করিম মিয়া একটু নিচু স্বরে বলল,
“আপনারা শহুরে মানুষ এতো দামি জিনিস নাই বসতে দেওয়ার জন্যি। কষ্ট করে বসেন এগুলোতেই।”
থামতেই রাইসুল রহমান বললেন,
“ সমস্যা নেই। আমরা বসছি।”
বলেই তিনি চেয়ারে বসে পড়লেন। কোনো দ্বিধা কিংবা অহংকার ছাড়াই। নাজির গিয়ে বসলো মাদুরে। মাহাদ জবেদা বিবি কে ভালোমন্দ শুধিয়ে সাঈদের পাশে মোড়ায় বসলো। নজর ঘুরিয়ে উঠোন ও ঘরের দিকে চাইলো কিন্তু শিউলিকে কোথাও দেখতে পেলো না। তবে শিউলি ঠিকই আড়াল থেকে দেখছে আর হাসছে মাহাদের কান্ডে। করিম মিয়া রাইসুল রহমান কে চিনতে না পেরে মাহাদের দিকে তাকিয়ে হাসিহাসি মুখে শুধালো,
“উনি কে?”
“উনি আমার বাবা।”
“ওহ। এজন্যই চেহারায় এতো মিল লাগতাছিলো।”
“বাবার ছেলে বলে কথা। আপনি বসুন আপনার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে। মালা মা শিউলি মা কে নিয়ে আসো তো।”
মালা দৌঁড়ে গেলো ঘরে।করিম মিয়া বসে পড়লো উঠোনের মাদুরে। জানতে চাইলো,
” কি কথা বলবেন?”
“আপনার মেয়ে শিউলিকে আমার ছেলের বউ হিসাবে চাই। মাহাদ শিউলিকে পছন্দ করে এজন্য এতদূর ছেলের খুশির জন্য এসেছি। মা হারিয়েছে তিনমাস আগে। বাবা হিসাবে তার পছন্দের মূল্যায়ন করছি। আশা করি আপনি না করবেন না।”
করিম মিয়া প্রথমেই অবাক হলো সাথে সাথে আমেনার দিকে তাকালো। তার পর দৃষ্টি দিলো মাহাদের পানে। তখনই আগমন ঘটলো শিউলির। সালাম দিলো সকালের উদ্দেশ্য। রাইসুল রহমান তাকালেন মেয়েটার দিকে। শ্যাম বর্নের হলেও গড়ন সুন্দর তাছাড়া তিনি বিশ্বাস করেন এবং মানেন সৃষ্টিকতার সৃষ্টি প্রতিটি মানুষই সুন্দর। সালামের জবাব দিয়ে বসতে বললেন। আমেনা বেগম আরেকটা মাদুর উঠোনে বিছিয়ে দিলো। মালা ওকে নিয়ে বসলো। মাহাদ এবার তাকালো। শিউলি মাথা নিচু করে বসে আছে। পরনে চকচকে আকাশি রঙের শাড়ি। কাজল ছুঁয়েছে চোখে। কতটুকুতেই নজর কাড়ছে।
করিম মিয়ার উত্তরে মাহাদের দৃষ্টিভঙ্গ হলো। তিনি হতাশার সুরে বলেছে,
“এতদূর শহরে মেয়েকে বিয়ে দিলে না দেইখা বহিদিন থাকতে হইবে। আমার মেয়ে সাধারণ, সহজ-সরল মনের শহুরের হাওয়া, পরিবেশ সম্পর্কে জানে না কিছু। শহর কেমন বহু বছর আগে গেছিলাম দুবার। গ্রাম থাইকা মিশতে পারবো?
কাছে কূলে হলে দেখতে যাইতে পারতাম কয়দিন পর,পর। ছেলে একশততে একশ এটা মানি কিন্তু…
কথার মাঝেই মাহাদ করিম মিয়ার উদ্দেশ্য বলে উঠলো,
“ শিউলিকে ভালো রাখবো কথা দিচ্ছি। দূরত্বের পথ আবার যেহেতু আমার ডাক্তারি পেশা এজন্য হয়তো মাসে,মাসে আপনার মেয়েকে নিয়ে আসতে পারবো না তবে দু-তিন মাস পর,পর নিয়ে আসবো। আপনারাও যাইবেন মাঝে মধ্যে। পৌর শহর থেকে ট্রেনে সাত,আট ঘন্টার পথ।”
করিম মিয়া থেমে গেলো। খানিক ভেবে উঠে গেলো ঘরের দিকে। কেউ কিছু বললো না বুঝতে পারলো স্ত্রী’র পরামর্শ নিতে যাচ্ছেন। যাওয়ার আগে শিউলিকেও ডেকে নিলো। মালাও ছুটলো শিউলির পিছু নাজিরের চোখের ইশারায়। যেন বুঝাতে পারে।
মাহাদের বুক ধুকপুক করছে ভয়ে। শেষ পর্যন্ত সবটা সুন্দর হবে তো? শিউলি আমার হবে তো?
এসব প্রশ্ন ঝড় তুললো মনে। সাঈদ কাঁধে হাত রেখে ভরসা দিলো। রাইসুল রহমান ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন। ছেলের অস্থিরতা বুঝতে পারছেন। তখনই করিম মিয়া, শিউলি ও আমেনা ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো। শিউলি দাঁড়ালো উঠোনের এক কোনে ঘরের দুয়ারের কাছে। করিম মিয়া আঙ্গিনায় নেমে এসে রাইসুল রহমানের দিকে চেয়ে উত্তর জানালো,
“ ঠিক আছে আমরা রাজি।”
মাহাদের ভয় মুহূর্তে আনন্দে পরিনত হলো। তক্ষণাৎ তাকালে শিউলির দিকে। ও ঘরের দুয়ারের আড়ালে মুখ লুকালো লজ্জায়। রাইসুল রহমান হাসি মুখে বলল,
“আজ বুধবার পরশু শুক্রবার তাহলে বিয়ের দিন রইলো। আপনি কি বলেন? আমার শহরে ফিরতে হবে শনিবারে। মাহাদ আরো দু’চারদিন পর না-হয় ফিরবে।”
করিম মিয়ার মন ভার হয়ে এলো। মেয়েকে এতদূর পাঠাবে ভাবতেও কষ্ট লাগলো কিন্তু এমন ভালো ছেলে পাওয়া কঠিন আবার মালার থেকে জেনেছে শিউলিও পছন্দ করে এজন্য আর আপত্তি করলো না।
“ আইচ্ছা। এই কথাই থাকলো।”
নাজির আর সাঈদ জোরে বলে উঠলো,
“ আলহামদুলিল্লাহ। ”
চলবে………….?

