#একটা_ছিলো_সোনার_কন্যা
#শ্যামলী_রহমান
#পর্ব—৩
শিউলি ঘরে বসে জবেদা বিবির পা টিপে দিচ্ছে।পা দুটো কেমন ফুলে উঠেছে। বয়স ষাটের ঘরে গিয়েছে এই বয়সে হাঁটা চলা পারতো ভালোই। হুট করে অসুখ এসে পা দুটোকে অবশ করে দিলো যেন। পা টিপতে টিপতে জবেদা বিবির মুখের দিকে তাকালো শিউলি। ঘুমিয়ে আছেন তিনি। শিউলির দৃষ্টি হুট করে ছলছল হয়ে গেলো। বয়স বাড়লে মানুষ হারানোর সময় যে কমে আসে। এটা ভেবে বুকের ভেতর মোচড় দিলো। কান্না পেলো আগাম হারানোর ব্যথা অনুভব করে। এমন সময়ই মালার কন্ঠ শুনতে পেলো ও।
“শিউলি তোরে নিধি আপায় ডাকতাছে। জলদি আয়।”
শিউলি চোখ মুছে ঘর থেকে বাহির হলো। মালার কন্ঠে উৎফুল্ল দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কারণ কি? তা জানতে শুধালো,
“ নিধি আপা ডাকতাছে কেন জানিস?”
“না খালি কইলো তোরে ডাকতে। কি জানি কাজ আছে। ”
“আইচ্ছা কিন্তু তুই এতো আনন্দিত কেন?” অবাক হয়ে জানতে চাইলো শিউলি। মালা লাজুক হাসলো। লজ্জা লজ্জা ভাব নিয়ে উত্তর দিলো,
“ ডাক্তার সাহেব রা সেখানে আছেন। গেলে তাদের সাথে দেখা হইবো। মাহাদ ডাক্তার সাহেব ছাড়াও আরেক ডাক্তারের সঙ্গে আমার কথা হইলো আইজ।
কি ভালো কথা কয়। আমার হাতে কদম ফুল ছিলো সেগুলো নিয়া ধন্যবাদ কইছে।”
শেষ কথাটুকু বলতে গিয়ে মালার লজ্জাবোধ আরো বেশি হলো। লজ্জা মিশ্রিত মুখ ঢেকে হেঁসে কথা শেষ করলো। শিউলি হা করে তাকিয়ে রইলো। তার পর উঠোন হতে ওর মা’কে উদ্দেশ্য করে বলল,
“ আম্মা মাতবর বাড়ি যাইতাছি। দাদিরে ঔষুধ খাওয়াইয়া দিছি ঘুমাইতাছে।”
“ ঠিক আছে। তয় জলদি আসিস। তোর আব্বায় নদীতে গেছে মাছ ধরতে। আইলে মাছ বাঁছবার হইবো।”
“আইচ্ছা।”
শিউলি আর মালা ছুটলো মাতবর বাড়ির দিকে। খুব বেশিদূর নয়। এই তো কয়টা বাড়ি ছেড়ে মাতবর বাড়ির দেখা মিলছে। মাতবরেট জমজ মেয়ে হলেও নীরা সামান্য আগে জন্মেছিলো এজন্য সে একটু বড়। আর নিধি ছোট। শিউলির নিধির সঙ্গে বেশ ভাব। মালার পরে সেই শিউলির দ্বিতীয় সঙ্গী। নীরা অবশ্য তাকে একটু সহ্য কমই করতে পারে। মাতবর গিন্নি আর নিধি ভালো বলে যায় সেখানে। নাজির ভাইজান ও ভালো তবে তিনি জেলা শহরে তার ফুফুর বাড়িই অধিক দিন থাকেন ব্যবসার কাজে।
পথে হঠাৎ শিউলির নজরে পড়লো মাতবর বাড়ির পাশে অশোক গাছের নিচে দুটো শালিক পাখি বসে আছে। একটা ডানা ঝটপটানোর চেষ্টা করছে কিন্তু পারছে না। আরেক পাখি একটু করে উড়ছে আবার ফিরে আসছে অন্য পাখিটার কাছে। হয়তো সঙ্গী তারা। শিউলির থেমে যাওয়া দেখে মালা পিছনে তাকালো।
“ দাঁড়াইলি কেন? আয়। ”
“ তুই যা আমি আসতাছি।”
মালা একাই ছুটে চলে গেলো। তার মধ্যে অন্য রকম প্রফুল্ল কাজ করছে তা ওর মুখ দেখে বুঝতে পারা যাচ্ছে। শিউলি এগিয়ে গেলো পাখিটার কাছে।
বসে পড়লো মাটিতে। অন্য পাখিটা ওকে দেখে উড়ে হেলো। ওর মাথায় উপর চিৎকার করছে আর ডানা ঝাপটাচ্ছে। শিউলি মাটি থেকে পাখিটাকে দুহাতে তুলে নিলো। দেখতে পেলো ডানায় আঘাত পেয়েছে। মনে হচ্ছে ভেঙে গেছে কিংবা গুরুতর আঘাত। কেমন ডানায় চামড়ার ভেতরে র*ক্ত গুলো কালো বর্ন ধারণ করেছে। এটা দেখে শিউলির খুব মন খারাপ হলো। পশু পাখি শিউলির অনেক পছন্দের। তাদের কষ্ট সহ্য করতে পারে না সে। কি করবে এটাকে? বুঝতে পারলো না। কয়েকবার এদিক সেদিক তাকিয়ে কিছু একটা খোঁজার চেষ্টা করলো। তার পর পেয়েও গেলো। কি একটা গাছের পাতা হাতের তালুতে কচলে রস লাগিয়ে দিলো ডানাতে। কিন্তু সারবে কিনা এ চিন্তা গেলো না মন থেকে। আঘাতটা বেশ গাঢ়।
“এখানে কি করছো তুমি?”
আফসানার কন্ঠে শিউলি চমকে উঠলো। পিছনে তাকিয়ে দেখলো ডাক্তারদের সঙ্গে আসা শহরে মানুষ। তার দিকে উত্তরের আশায় চেয়ে আছে। হাতের পাখিটার দিকেও নজর দিয়েছে। সঙ্গে আরেকজনও আছে। শিউলি উত্তর দিলো,
“পাখিটার ডানায় আঘাত লাগছে। উড়তে পারতাছে না তাই এই পাতার রস লাগিয়ে দিলাম যদি ভালো হইয় এই আশায়।”
শিউলির আঁধার মুখে বলা কন্ঠস্বর শুনে আফসানা বেশ অবাক হলো। যেখানে অনেকে মানুষের ব্যথা নিয়ে ভাবে না, সেখানে একটা পাখির জন্য এতো কাতর? শিউলির এই ভালোবাসা দেখে আফসানা মুগ্ধ হলো। বলল,
“এটা নিয়ে তুমি আমার সঙ্গে এসো। আমাদের কাছে ব্যথা সারানোর ঔষুধ আছে। ”
শিউলির চোখে মুখে হাসি উপচে পড়লো। অঁধর জুড়ে বিস্তার হাসি ফুটে উঠলো। যেন আনন্দের বন্যা বইছে চোখে। উৎফুল্ল হয়ে বলল সে,
“ ডাক্তার আপা আপনেরা অনেক ভালো। ”
আফসানা হাসে। যেতে যেতে বলে,
“ ডাক্তার হইনি তবে হবো ভবিষ্যতে। এখন চলো আমার সঙ্গে।”
শিউলি ওদের পিছু নিয়ে হাঁটতে শুরু করলো। মাথা উপরে সঙ্গে পাখিটা উড়ছে তা চেঁচিয়ে যাচ্ছে। সে আকাশের দিকে তাকিয়ে একটা তৃপ্তি ময় হাসি দিয়ে চলে গেলো।
************
মালা তড়িঘড়ি করে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করছে।
চোখে মুখে হাসি লেপ্টে আছে। দূর থেকে কেউ একজন তাকে দেখে এগিয়ে আসে। পথ আগলে দাঁড়ায় সামনে।
“ এতো ছুটাছুটি কেন? মুখ থেকে হাসি সরছে যেন কারণ কি?”
মালা থেমে গিয়েছে। পথ আগলে ধরা মানুষটার দিকে তাকালো ভালো করে। অতি পরিচিত মানুষ। মাতবর বাড়ির ছোট ছেলে নাজির। মালা হাসি-হাসি বদনখানি রেখেই উত্তর দেয়,
“ নাজির ভাই নিধি আপা আসতে কইছিলো তাই আইলাম। কামিনী পিছনে আসতাছে। আর আপনি শহর থাইকা আইলেন কখন?”
নাজির ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলো।খানিকটা সময় চুপ করে রইলো। মালা তাকিয়ে ওর ভাবসাব বুঝার চেষ্টা করছে। অতঃপর নাজির মুখ খুলল,
“ ছুটাছুটি কর কিন্তু বাড়ির পশ্চিম দিকে যেন যেতে না দেখি। আমি আজই ভোরেবেলা এসেছি।”
মালার হাসিহাসি বদনখানি মলিন হয়ে গেলো সামান্য। শুধালো,
“ কেন? ওদিকে গেলে কি হইবো?”
“ আমার সমস্যা আছে। বলেছি যাবিনা ওদিকে।”
নাজিরের কন্ঠে সামান্য রাগ মিশ্রিত। মালা ঠিক বুঝলো না নিষেধ কেন করলো। তবে সে মাথা নাড়িয়ে শায় জানালো। তার আসল কাজ হবে না ভেবে একটু মন খারাপ ও করলো। তার পর চলে যেতে পা বাড়ালো। নাজির পিছন থেকে বলে উঠলো,
“ শহরে মানুষ দেখে এতো আনন্দিত হতে নেই, কারো সেই আনন্দ বিষাদ লাগে।”
মালা তক্ষনাৎ পিছনে ফিরে চাইলো। ড্যাবড্যাব করে নাজিরের দিকে চেয়ে রইলো। বিস্ময়কর দৃষ্টি। কি বললো কেন বললো মালা কিছুই বুঝতে পারলো না। তবে এতটুকু বুঝলো তাকেই বলেছি।
নাকি ভুল শুনেছে? মালা তা জানতে শুধালো,
“ কি কইলেন?”
“ না কিছু না যা।”
নাজির সে স্থান ত্যাগ করলো। চলে গেলো বাড়ির সদর দরজার দিকে। মালা খানিকক্ষণ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলো। একটুখানি বুঝার চেষ্টা করে আবারো নিজের গন্তব্যে ছুটলো।
*********
আফসানা পাখিটার ডানায় আঘাত সারিয়ে তোলার জন্য ঔষুধ লাগিয়ে দিচ্ছে। শিউলি দু’হাতে আলতো করে পাখিটাকে ধরে রেখেছে। রাজিয়া আর রত্না পাশে দাঁড়িয়ে আছে। রত্না ভীষণ বিরক্ত। তা ওর মুখ দেখেই স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে। ঔষুধ লাগানো শেষ হতেই শিউলি উঠে পড়লো। হাসিমুখে আফসানার উদ্দেশ্য বলল,
“ আপা আপনি খুব ভালো। আপনারে অনেক কৃতজ্ঞতা। আমি এটারে ছেড়ে দিতাম? নাকি নিজের কাছে রাখতাম?”
“ এক-দু দিন রাখো। ডানা সারলে ছেড়ে দিও। ”
শিউলি মাথা নাড়িয়ে ঘর থেকে বেরোলো। রত্না তখনই বলে উঠলো,
“ এটারে আবার কোথা থেকে নিয়ে আসছিলি?”
আফসানা তার বিরক্ত বুঝতে পারলো। রাজিয়া বলল,
“এমন করে বলিস না। সৃষ্টির সেবা করা মহৎ কাজ।”
রত্না আর কথা বাড়ালো না। আজ একটু নিস্তার মিলেছে। বিকেলে পাশের গ্রামে যেতে হতে পারে।
ও চলে গেলো গোসল খানার দিকে।
শিউলি হাটছিলো তার সবটুকু মনোযোগ হাতে পাখিটার দিকে। ডানার ঔষুধ লাগাতে পেরে মহা খুশি সে। হাঁটতে হাঁটতে সামনে কারো কন্ঠ শুনে তাকালো সেদিকে।
মাহাদ আর নাজির কথা বলতে,বলতে এদিকেই আসছে। মাহাদ শিউলি কে দেখতে পায়নি। ওরা আরেকটু কাছাকাছি আসতেই নাজির সামনে তাকালো। শিউলি কে দেখতে পেয়ে হাসলো। শুধালো,
“ শিউলি কেমন আছিস? এখানে দাঁড়িয়ে কি করছিস?”
“এই তো পাখিটার ডানায় আঘাত লাগছিলো। ডাক্তার আপায় ঔষুধ লাগিয়ে দিলো।”
মাহাদ এবং নাজিরের দৃষ্টি তার হাতের পাখিটার দিকে গেলো। নাজির হাসলো। বলল,
“ ঠিক আছে যা। তোর সখীরে দেখলাম ছুটছিলো নিধির ঘরের পানে।”
শিউলি চলে আসতে নিলো। মাহাদের দিকে তাকানোর সাহস কেন যেন হলো না। কেমন যেন অনুভূত হয় তাকালে। লোকটা তার দিকে এক দৃষ্টিতে চেয়েছিলো এতটুকু আড়চোখে খেয়াল করেছে। ওদের পেরিয়ে এসে শিউলির কি হলো কে জানে। দাঁড়িয়ে পড়লো সেখানে। তাকালো পিছনে। তখনই মাহাদ ও পিছনে ফিরে তাকিয়েছে তারই পানে। দৃষ্টির মেলবন্ধন যেন আশ্চর্যজনক! শিউলি লজ্জায় দৃষ্টি নামিয়ে ছুটে চলে গেলো সে স্থান থেকে। মাহাদ সে কান্ডে হেসে উঠলো ঠোঁট চেপে। নাজির খানিকটা এগিয়ে গেছিলো মাহাদ তার সঙ্গ ধরলো। খনিকের মধ্যে ভালো একটা সম্পর্ক গড়ে উঠলো নাজিরের সঙ্গে। ছেলেটা বেশ ভালো মনের। সাহেল কে খুব একটা সুবিধার লাগে না। খুব সকালে দেখেছিলো এক লোক এসেছিলে খাবার জন্য চাল নিতে। কিন্তু তিনি দিলেন না। মাতবর তখন বাড়ি ছিলেন না। বরংচ মাতবর গিন্নি তা শুনে চুপ করে চাল দিয়েছিলো একটা ব্যাগে করে।
********
“আপা আসতে দেরি হইলো না? পাখিটাকে বাড়ি থুইয়া আইলাম তো তাই। ”
নিধি দরজার দিকে তাকালো। শিউলি কে দেখে তার প্রশ্নের উত্তরে জানতে চাইলো,
“ কি পাখি? ”
শিউলি সবটা খুলে বলল। নিধি শুনে ওরে বসতে কইলো। মালা ওর না আসাতে একটু আগে চলে গেলো সে জানালো। শিউলি পাশ থেকে তেলের পাত্র নিয়ে নিধির মাথায় দিতে আরম্ভ করলো। সে মূলত এই কারণে আসতে বলেছিলো। শিউলির হাতে তেল মালিশ নিধির অনেক পছন্দ। তার হাতে জাদু আছে বলে সে। শিউলি আশে পাশে তাকালো। কিছু একটা খুঁজে না পেয়ে শুধালো,
“ আপা নীরা আপা কোথায়?”
নিধি বিরক্তির শ্বাস ফেলে বলে,
“শহরে ডাক্তারদের ঘরের দিকে। আতিথেয়তা করছে।”
শিউলি অবাক হলো বেশ। বিস্ময় নিয়ে বলল,
“ নীরা আপা আতিথেয়তা করছে? যে নিজের জলটুকু এনে খাইতে চায় না? ”
শিউলির কথায় নিধি খিলখিলিয়ে হেসে উঠলো।
শিউলি তেল মালিশ বাদ দিয়ে তাকায় ওর পানে। নিধি হাসি থামিয়ে বলে,
“ শহরে মানুষ আপার ভালো লাগছে এজন্য এতো পিরিত বুঝেছিস?”
শিউলি পুরো না বুঝলেও একটুখানি বুঝলো। তার পর কি মনে করে শুধালো,
“ আপা শহুরে ডাক্তার সাহেব রা কেমন? শহুরে মানুষ কি ভালা হয়?”
“কেমনে বলবো? আমার কারো সাথে কথা হয়নি। তবে ভালোই মনে হয়েছে শুধু একটা মেয়ে বাদে। কেমন তাচ্ছিল্য করছিলো গ্রামের কাদামাটি আর মানুষদের নিয়ে। আড়াল থেকে শুনেছিলাম একটুখানি।”
শিউলি চুপ হয়ে গেলো। তেল দেওয়া শেষ করে বেনুনি করে দিলো। দুজনে বসে খানিকটা গল্প করলো। হঠাৎ মনে পড়লো ওর আম্মা তাড়াতাড়ি বাড়ি যাইতে কইছিলো।
“আপা আমি যাই? আম্মা তাড়াতাড়ি যাইবার কইছিলো আমি ভুলে গেছিলাম।”
শিউলি ঘর থেকে বেরিয়ে ছুটলো। দরজা পেরোতেই সামনে আবারো মাহাদ কে দেখে থেমে গেলো। যখনই দেখা হচ্ছে এই ছুটাছুটি নয়তো আকস্মিক ভাবে। মাহাদের আগমনে শিউলি মাথা নিচু করে হাঁটতে লাগলো। মাহাদ মূলত ওর জন্যই অপেক্ষা করছিলো। শিউলি তাকে পেরিয়ে যেতেই মাহাদও পিছু নিয়ে চললো। যেতে যেতে বলল,
“শোনো তোমার সঙ্গে আমার কিছু কথা আছে।
সন্ধ্যায় আসবে নদীর পাড়ে? ”
শিউলি অবাক চিত্তে তাকালো পিছু। কি কথা থাকতে পারে যার জন্য সন্ধ্যা বেলায় ডাকছে নদীর পাড়ে?
“লোকে দেখলে মন্দ বলবে। কি কথা আছে আপনার কইয়া দেন এখানেই।”
“ না কিছু না যাও তবে।”
শিউলি পা চালালো। তার বুক অজান্তে ধুকপুক করছিলো। আশে পাশে তাকিয়ে সে চলে গেলো। তবে কিসের লাগি ডাকছিলো এটা জানার আগ্রহ প্রকাশ করলো মন।
“ এটাই কি তবে সেই সোনার কন্যা? ”
মাহাদ কাঁধে কারো হাতের স্পর্শ পেলো। কন্ঠ সাঈদের তা বুঝতে অসুবিধা হলো না। ও না তাকিয়েই প্রতিত্তোর করল,
“ হ্যাঁ। লাগছে না তেমন?”
“ আরেকটু সুন্দর হলে বেশ হতো।” আরহামের এই কথায় মাহাদ এবার তাদের দিকে তাকালো। স্মিথ হেসে বলে উঠলো,
“ মায়াময় চেহারা কাছে অতিব সুন্দরী ও হার মানবে। চোখ দুটো দেখেছিস? মনে হয় যেন বিশাল সমুদ্র যেখানে যে কেউ ডুবতে চাইবে।”
মাহাদ একটু থেমে আবারো বলে,
“প্রথম যখন দু’টো চোখ আমার চোখে পড়েছিলো, খনিকের জন্য মনে হয়েছিলো আমার হৃদয়ে বুঝি ঝড় বয়ে গেলো। অজানা অনুভূতি আমার ভেতরে নাড়া দিয়েছিলো। এ কি ভালোলাগা নাকি শুধু এক চরিত্রের মোহে পড়ে তাকেই খুঁজে চলা?
“ এক পলকে হৃদয়ে দোলা লাগা মোটেও সুবিধার নয়,ভালোলাগা থেকে ভালোবাসার জন্ম হয়। চরিত্রের মোহে নয় বাস্তবে তাকে ভালো লেগেছে বলেই এতো উতলা হয়েছে হৃদয়। ”
সাঈদের উত্তরে মাহাদ স্থির রইলো । নড়লো না একটুও। একটু ভাবুক হয়ে ঠোঁট চেপে ধরলো। তার পর বলল,
“ তাহলে এখন কি করবো? রোগীরা আরেকটু সুস্থ হয়ে গেলে তো এই গ্রাম ছেড়ে চলে যেতে হবে। চলে গেলে কি ভালোলাগা হারিয়ে যাবে? খুঁজবো না আর সোনার কন্যা কে?”
“ অপেক্ষা করবি। ভালোলাগা হলে চলে যাবে আর ভালোবাসা হলে রয়ে যাবে। হৃদয় যা বলবে তাই হবে।”
“ হৃদয় তো এক পলকের মেলবন্ধনের পরে শুধু সোনার কন্যা কেই খুঁজে চলে।”
চলবে……………..?

