“কোনো যোগ্যতা আছে আমাকে ভালোবাসার? কোন মুখে এসব বলিস তুই আনি? মাথা খারাপ হয়েছে তোর?”
নিজের ভালোবাসার মানুষের মুখে এমন কথা শুনে থমকে যাই আমি। চোখে পানি টলমল,সামনে রুদ্র ভাই রুদ্রমূর্তি ধারণ করে আছে আর আমি আনিকা। এবার ইন্টার ফার্স্ট ইয়ারে পড়ি। রুদ্র ভাইয়া আমার বড় বোনের বন্ধু , আজ তার জন্মদিন আমাদের বাসার ছাদে রাত্রি বেলা আয়োজন করা হয়েছে। সবাই চলে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিলাম আজই তাকে এতদিন ধরে জমিয়ে রাখা মনের কথা জানাবো তাই সে অনুযায়ী তাকে জানাতেই এই কথা শুনতে হলো।আমি মুখ তুলে বললাম,
“ভালোবাসতে যোগ্যতা লাগে রুদ্র ভাই?কোথায় দেখেছো এটা তুমি?”
রুদ্র ভাই পিছন ঘুরে গেল এবং বলল,
“আমাকে ভালোবাসতে অবশ্যই যোগ্যতা লাগে আর তুই ভাবলি কি তোর মতো টিনেজ এবং একটা ইমম্যাচিউর মেয়েকে আমি পছন্দ করবো?তোর কোনো স্ট্যাটাস আছে? নাকি আমার সাথে তোর যায়? ”
আমি — কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি রুদ্র ভাই, তুমি বোঝার চেষ্টা করো।
রুদ্র ভাই আমার দিকে ফিরে আঙুল উঁচিয়ে বলল,” আরেকবার এই শব্দটা উচ্চারণ করলে গাঁয়ে হাত তুলতেও কিন্তু দ্বিধা করবো না আমি। ভালোবাসলে সেটাকে কবর দিতে শিখ। আমার আর তোর মধ্যে কোনো কিছু হওয়ার নেই , বুঝেছিস তুই? ইডিয়ট!!
রুদ্র ভাইয়ের ধমকে চোখে জল সমেত দৌড়ে চলে গেলাম ছাদ থেকে। আজ খুব কষ্ট হচ্ছে,এমন যদি হতো জানতাম তবে কোনোদিন জানাতামই না নিজের মনের কথা , গোপনে ভালোবেসে যেতাম। কেন যে আমি প্রোপোজ করতে গেলাম ? মেয়েদের এভাবে প্রপোজ করলে ছ্যাঁচড়া উপাধিই শুনতে হয়। দৌড়ে চলে এলাম নিজের রুমে এবং ঠাস করে বন্ধ করে দিলাম দরজা। তারপর দরজায় হেলান দিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিতে লাগলাম, আর বোধহয় রুদ্র ভাইকে পাওয়া হবে না। এটা ভাবতেই কান্না চলে এলো। দরজা ঘেঁষেই বসে পড়লাম আমি , হাঁটুতে মুখ গুঁজে কাঁদতে লাগলাম।
তখনই আমার বিড়াল “লাচ্ছি” নিজের ভাষায় আমাকে সান্তনা দিতে আশেপাশে ঘুরে ডাকতে লাগলো আমায়। আমি লাচ্ছির দিকে তাকিয়ে হাঁটুর সাথে মাথা ঠেকিয়ে চোখের জল ফেলছি। তারপর লাচ্ছিকে কোলে তুলে নিলাম, লাচ্ছির গায়ে হাত বোলাতে বোলাতে বললাম,
“জানিস লাচ্ছি আমার না খুব কষ্ট লাগছে। আমি সত্যি ভাবিনি এমন কিছু হবে বিশ্বাস কর। আমি ভাবতাম হয়তো সেও আমাকে পছন্দ করে কিন্তু আমার সব ধারণা ভুল হয়ে গেল লাচ্ছি। তার সাথে আমার কিছুই হওয়ার নয় সে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে। থাক লাচ্ছি, ভালোবাসলে যে পেতে হবে এমন তো কোনো কথা নেই , আমি নাহয় গোপনেই তাকে মনের মধ্যে ভালোবাসবো।
লাচ্ছি ম্যাও বলে উঠলো। আমি লাচ্ছিকে কোলে তুলেই জানালার কাছে দাঁড়ালাম। রোডটা দেখা যাচ্ছে, দেখতে পেলাম রুদ্র ভাই বাইকে উঠছে হয়তো চলে যাচ্ছেন। যাক চলে, আমিও তার সামনে আসতে চাই না। হঠাৎ করে সে তাকালো এদিকটায় আর সঙ্গে সঙ্গে পর্দার আড়ালে চলে গেলাম। যাক দেখতে পায়নি ,এর আর সামনেও পড়তে চাইনা। কিন্তু একে না দেখলে তো আমারই মরণদশা হয়ে যাবে, কেন যে প্রেমে পড়তে গেলাম? কিছুক্ষণের মধ্যেই বাইকের আওয়াজ শুনতে পেলাম আর পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে এলাম ,ঐ তো চলে যাচ্ছে। রুদ্র ভাই চলে যেতেই আমি জানালা ঘেঁষে বসে পড়লাম, ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বললাম,
“বলা যত সহজ তার থেকে করা কঠিন। আমি কিভাবে আপনাকে ছাড়া থাকবো রুদ্র ভাই? আপনাকে যে ভিষণ ভালোবাসে ফেলেছি। প্রতিটা দিন, প্রতিটা মুহূর্তে শুধু আপনাকে চেয়েছি। আমার প্রতিটা চাওয়ায় আপনি ছিলেন কিন্তু আমি হয়তো আপনার ভাবনাতেও ছিলাম না। সমস্যা নেই, ভালোবাসার দাবি নিয়ে আপনার কাছে আর যাবো না। এই আনিকা বাচ্চামো করতে পারে, ঝগড়ুটে হতে পারে কিন্তু নির্লজ্জ নয়। যার ভাবনাতেও আমি নেই , তাকেও আমি নিজের মনে রাখতে চাইনা। পুরো দমে চেষ্টা করবো আপনাকে ভোলার। দেখি পারি কতটুকু!!”
হঠাৎ মেঘেরা গর্জন করে উঠলো। হয়তো বৃষ্টি পড়বে, আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবতে লাগলাম এমনই এক মেঘলা দিনেই তো আমাদের দেখা হয়েছিল। চোখে জল নিয়ে ডুবে গেলাম দুই বছর আগের স্মৃতিতে।
***********
২ বছর আগে,
সে বছর আমি নাইনে। মাথায় ছাতা নিয়ে হাটছি ,বৃষ্টি পড়ছে । অত বেশি না ,ঝিরঝির বৃষ্টি। রাস্তার পাশে পানি জমে আছে। আমি এই সময় স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছিলাম। হঠাৎ আমার পাশ দিয়ে এক বাইক চলে গিয়ে রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লা পানি আমার সাদা স্কুল ড্রেস মাখিয়ে দিলো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলাম,তারপর রেগে জোরে চিৎকার দিয়ে বললাম,
“এই উগান্ডার ১ নম্বর আদিবাসী, কি করলেন এটা?”
আমার কথা হয়তো শুনলো, তাইতো বাইকটা থামালো। আমি ভ্রু কুঁচকে হাত মুঠ করে তাকিয়ে আছি। বাইকটা ঘুরিয়ে লোকটা আবার আমার কাছে এসে থামলো , আবারো রাস্তার কাঁদা ছিটকে এলো আমার শরীরে। আমি হা করে তাকিয়ে আছি। লোকটাকে কিছু বলতে যাব , লোকটা তখনই মুখ থেকে হেলমেট সরালো এবং তার থোবড়া দেখে আই এম তো অবাক। না সুন্দর আছে কিন্তু আচরণটাও তো সুন্দর হতে হবে। চুলগুলো হালকা ব্রাউন, দূর থেকে বোঝা যায় না। গায়ের রং ফর্সা এবং বডিটাও সুন্দর কিন্তু আচরণ এমন কেন ভাই? আমার ভাবনার মাঝেই লোকটা বলে উঠলো,
“কি বললে তুমি আমাকে?”
বাপরে! কি গম্ভীর কন্ঠ! যাক গে তাতে আমার কি? আমি বুকে সাহস নিয়ে বললাম,
“কেন শুনতে পাননি? নাকি চোখের সাথে সাথে কানও পকেটে নিয়ে ঘুরেন?”
ছেলেটা বলল,”হাউ ডেয়ার ইউ? আমাকে !! রুদ্র আফতাব চৌধুরী কে এসব বলো? ”
ওহ্ , ছেলেটার নাম তাহলে রুদ্র? আমি বললাম,
“কেন? আপনি কি কোনো রাজ্যের জমিদার নাকি? আপনাকে এসব সাধে বলেছি? আমার সাদা জামাটার কি হাল করেছেন দেখেছেন কাঁদা দিয়ে? ”
রুদ্র আমার পা থেকে মাথা পর্যন্ত দেখে নিজের বুকে দু হাত গুজে বলল,
“তোমার সাথে এমনটাই হওয়া উচিত। যখন দেখছো আমি বাইক নিয়ে আসছি তখন তুমি সরে যেতে পারলে না?”
আমিও রুদ্রের মতো দু হাত বুকে গুঁজে বললাম,
“ওলে বাবালে, কোন জায়গার প্রাইম মিনিস্টার উনি? ওনার জন্য সরে যাব আমি , হাহ্”
রুদ্রের মেজাজ খারাপ হচ্ছে আমার কথায় যা বুঝলাম। কিন্তু তাতে আমার কি? রুদ্র বলল,
“তুমি একটা আস্ত বেয়াদব মেয়ে”
আমি চোখ বড় বড় করে বললাম,”কি বললেন আমি বেয়াদব? দাঁড়ান খালি, দেখাচ্ছি বেয়াদবি কি?”
এই বলে আশেপাশে তাকাতেই একটা বড় পাথর পেলাম, সেটা গিয়ে হাতে তুলে নিলাম। রুদ্র চোখ বড়বড় করে ভাবল, এটা দিয়ে কি ওর মাথা ফাটাবে এই বেয়াদব মেয়েটা? আমি পাথর টা নিয়ে সোজা রুদ্রর কাছে এসে রুদ্রের সামনের জমে থাকা কাঁদা পানিতে ছুড়ে মারলাম। যারফলে কিছু কাঁদা পানি রুদ্রের সাদা শার্ট ও প্যান্ট এ ছিটকে পড়লো। রুদ্র হা করে নিজের দিকে তাকালো এবং দাঁত কিড়মিড় করে বলল,
“ইউউউ!”
আমাকে আর পায় কে? দিলাম দৌড়। রুদ্র রেগে চিৎকার করে বলল,
“দেখে নিব তোমায় মেয়ে”
আমি দৌড়াতে দৌড়াতে বললাম,”কেন আজ দেখেননি আমায়? নাকি সত্যিই কানা?”
এই বলে দৌড়াতে লাগলাম আর রুদ্র নিজের জামার দিকে একবার আর দৌড়ের দিকে একবার তাকালো তারপর কি মনে করে বাইকে উঠে চলে গেল নিজ গন্তব্যে।
—-
পরেরদিন,
নিজের রুম থেকে বেরিয়ে পড়লাম, মাথায় একটা হাত। কাল বৃষ্টির পানি মাথায় পড়েছে , এখন আবার মাথা ব্যথা শুরু হয়েছে। কি এক জ্বালা, এটা জীবন না গেবন? ধূর! নিজের সাথে মনে মনে বকরবকর করতে করতে সোফায় ধপ করে বসলাম। পাশে আরেকজন আছে, আমি খেয়াল করিনি। ভাবলাম কে আর হবে? আপু হয়তো। আমি পাশের ব্যাক্তির বাহুতে হেলান দিয়ে মাথা টিপে বললাম ,
“আপু একটু কফি বানিয়ে দাও প্লিজ, মাথাটা ধরেছে”
কোনো সাড়াশব্দ নেই, আমি তাই পিছনে তাকিয়ে দেখতেই দূরে ছিটকে লাফ দিয়ে উঠলাম। কারণ আমি যার গায়ে হেলান দিয়ে ছিলাম সে আর কেউ নয় আপনাদের আদরের রুদ্র। কাল যে ছেলেটার সাথে ঝগড়া করেছিলাম। আমার দিকে সে বর্তমানে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। নিজের দিকে তাকাতেই দেখলাম গায়ে ওড়না নেই, ছুটে দিলাম এক দৌড়।
কিছুক্ষণ পর ওড়নাসমেত ফেরত এলাম, এই ডায়নোসর টা আমার বাসায় কি করছে? এরজন্য আজ আমার মাথাটা এতো ধরেছে। কিন্তু সোফার কাছে আসতেই দেখলাম আপু আর ঐ রুদ্র জমিয়ে আড্ডা দিচ্ছে। আমাকে দেখতেই আপু হেঁসে বলে উঠলো,
“আরে এসেছিস আনি? এই নে কফি নে, সবার জন্য বানিয়েছি”
আমি ট্রে থেকে এক কাপ তুলে নিলাম, তারপর দেখলাম রুদ্র আড়চোখে তাকিয়ে আছে। তার দিকে তাকিয়ে বললাম,
“ইনি কে আপু?”
আপু মুচকি হেঁসে বলল,”এ আমার বন্ধু রুদ্র, আমার ক্লাসমেট। কিছু নোটস্ নিতে এসেছে। আর রুদ্র ও আমার ছোট বোন আনিকা।”
আনিশা আপুর কথায় মুখ ভেংচি কেটে অন্যপাশে তাকালাম। আপুর ফোনে হঠাৎ কল আসলো। আপু ফোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“এই নিহান আবার কেন ফোন করলো? দাঁড়া একটু, তোরা কথা বল আমি আসছি”
নিহান ভাইয়া আপুর আরেকটা বন্ধু। আপু এই বলে চলে যেতেই এতক্ষণে রুদ্র মুখ খুলে বলল,
” আমি ভাবতে পারছি না আনিশার মতো কিউট একটা মেয়ের বোন এত ঝগড়াটে”
আমি চোখ বড় করে তাকিয়ে বললাম,”কিহ? কি বললেন আপনি? আমি? এই আনিকা ঝগড়াটে? ঝগড়াটে তো আপনি। ডায়নোসর কোথাকার”
রুদ্র চোখ বড় করে বলল,”হোয়াট? আমি ডায়নোসর? তুমি চুড়েল”
আমি — আপনার সাহস তো কম না , আমার বাড়িতে দাঁড়িয়ে আমাকে চুড়েল বললেন? আপনি আস্ত একটা খাটাস, খারাপ, বজ্জাত লোক।
রুদ্র দাঁড়িয়ে বলল,” তোমার লজ্জা করে না? বয়সে বড় একজনের সাথে দাঁড়িয়ে মুখে মুখে তর্ক করছো? আবার তাকে উল্টো পাল্টা সম্বোধন করছো?”
আমি বুকে দু’হাত গুঁজে বললাম,”নাহ্ করে না। আমার হিসাব পুরো ক্লিয়ার, কেউ আমাকে একটা শুনাবে তো আমি তাকে ১০০০ টা কথা শুনাবো”
এই বলে ভেংচি কাটলাম। আমাকে ভেংচি কাটতে দেখে রুদ্র বলল,
“মুখ বেশি বেঁকা করলে মুখ বেঁকিয়েই যাবে”
আমি — যাক বেঁকে, তাতে আপনার কি?
এই বলে আমি কফির কাপে আরেক চুমুক দিতে যাব, ঠিক তখনই রুদ্র হালকা হেসে বলল,
“কাল বৃষ্টিতে কাদা ছিটানোর স্কিলটা কিন্তু তোমার ভালোই।”
।
আমি সঙ্গে সঙ্গে কাপ নামিয়ে তাকালাম এবং বললাম,
“ওহ! স্কিল? আপনি শুরু করেছিলেন সেটা ভুলে গেলেন?”
রুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,
“আমি তো দুর্ঘটনাবশত ছিটিয়েছিলাম। তুমি তো পুরো লক্ষ্য ঠিক করে ছিটালে!”
আমি চেয়ার ছেড়ে একদম সামনে এগিয়ে এসে বললাম,
“দুর্ঘটনা? আপনার সেই মুখটা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল আপনি কতটা দুঃখিত ছিলেন!”
ততক্ষণে আপু চলে এসেছে, আমাদের এভাবে ঝগড়া করতে দেখে একবার রুদ্রের মুখের দিকে তাকালো তারপর একবার আমার দিকে। তখনো একজন আরেকজনকে কথা শুনিয়েই যাচ্ছি। শেষে আপু আমাকে ধমক দিয়ে বলল,
“এই আনি, কি হচ্ছে এসব?”
আপুকে খেয়াল করতেই আমি আপুর কাছে গেলাম ,মুখ কুঁচকে বললাম,
“তোমার এই ফ্রেন্ড কে বলো আমার থেকে দূরে থাকতে ,নাহলে এর মাথা আর মাথার জায়গায় থাকবে না”
এই বলে ধুপধাপ পা ফেলে নিজের ঘরে গিয়ে ধরাম করে দরজা লাগালাম। এমনিতেই মাথা ব্যথা করছে তারউপর মাথা ব্যথার রাজাকে আপু ঘরে নিয়ে এসেছে। জ্বালা!!
আমি চলে যেতেই আপু রুদ্রের দিকে তাকিয়ে বলল,
“তুই কবের থেকে ঝগড়া করা শুরু করলি রে রুদ্র?”
রুদ্র বলল,”যবে থেকে তোর ঝগড়াটে বোনের সাথে দেখা হয়েছে।”
এই বলে নোটস্ নিয়ে চলে গেল হনহনিয়ে। আপু পিছন থেকে বলল,
“কফিটাতো শেষ করতি ”
পিছন থেকে রুদ্র বলল,” তোর বোনকে গিলা”
আপু একবার রুদ্রের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আবার আমার দরজার দিকে তাকালো । তারপর নিজের রুম থেকে মাথা ব্যাথার ঔষধ নিয়ে চলল আমার রুমে।
এদিকে আমি মাথায় হাত চেপে বিছানায় বসে আছি।মনে মনে বললাম,
“আজ মাথা ব্যথায় যদি আমি মরে যাই তবে সব দোষ ঐ ডায়নোসরের”
তখনই দরজায় হালকা টোকার আওয়াজ শুনলাম। মা বাইরে গেছে, বাবা অফিসে তারমানে নিশ্চয়ই আপু। আমি চিল্লিয়ে বললাম,
“কি চাই? নিজের বন্ডুর কাছে যাও না”
ইচ্ছে করেই ভেঙিয়ে বললাম। আপু অপাশ থেকে বলল,
“দরজা খুল, মাথা ব্যথার ঔষধ এনেছি”
আমি দরজা খুললাম। দেখি সত্যিই জনাবা ঔষধ হাতে দাঁড়িয়ে। আমি কিছু না বলে আবার বিছানায় বসলাম। আপুউ বসলো, আপু বসতেই আমি তার কোলে মাথা রেখে শুয়ে পড়লাম। আপু মুচকি হেঁসে ঔষধ নিয়ে মাথায় লাগিয়ে হালকা করে টিপে দিতে লাগলো। হঠাৎ করে বলে উঠল,
“তুই রুদ্রকে আগে থেকেই চিনিস?”
আমি চোখ বন্ধ করে ছিলাম। নামটা শুনতেই বিরক্তিতে চোখ মুখ কুঁচকে ফেললাম এবং বললাম,
“আপু নামটা নিও না তো, বিরক্ত লাগে”
আপু মাথা টিপে দিতে দিতে বলল,” আরে বল না যেটা জিজ্ঞেস করলাম”
আমি বললাম,”হ্যাঁ চিনি”
তারপর কালকের ঘটনা পুরোটা খুলে বললাম। আপু তো হাসতে হাসতে শেষ। হেঁসে না পারে লুঙ্গি ডান্স দিতে। আমি বিরক্ত চোখে তাকিয়ে বললাম,
“তুমি যাও তো, আমি এখন ঘুমাবো”
আপু মাথায় হাত বুলিয়ে হাসতে হাসতে চলে গেল। আমি কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম, এখন একটু ঘুমালে ভালো লাগবে। কাল তো দৌড়াতে গিয়ে ছাতা ফেলেই দৌড় দিয়েছিলাম।
হঠাৎ রুদ্রের খেয়াল এলো, মাথায় ঘুরতে লাগলো রুদ্রের কথাটা–
‘কাল বৃষ্টিতে কাদা ছিটানোর স্কিলটা কিন্তু তোমার ভালোই।’
এই কথাটা মনে আসতেই মনে মনে বললাম,
“ডায়নোসর কোথাকার”
এই বলে আস্তে আস্তে ঘুমের দেশে পাড়ি দিলাম। গুড নাইট পাঠক 😪😴
।
#চলবে
#এক_মেঘলা_দিনে
#আনিকা_আফসা
#সূচনা_পর্ব
গল্পটি পড়ার জন্য Anika apsha -আনিকা আফসা পেজটি ফলো করুন
(এটা রিপোস্টের গল্প। আগের পেজ ডিলিট হওয়ার জন্য এই গল্পটা মুছে গিয়েছিল তাই আবার লিখা।)

