#বোকামন
#অন্তিম_পর্ব
#Tahsin_Atoshi
-কই হলো সব রেডি? আর কত দেরি করবে? দূর ভাল্লাগে না।
হুমায়রাকে এমন বিরক্ত হতে দেখে হাসেন মৌমিতা। মাথায় হাত বুলিয়ে বলে,
-হুম সবাই রেডি। এখন স্মৃতি আর আহান আসলেই হবে।
-ওরা এখনো আসেনি?
-নাহ্।
এইটুকু শুনতেই মুখ ভার করে বসে পরে হুমায়রা। আজ একটা স্পেশাল ডে। অথচ তার বেস্ট ফ্রেন্ডই আসেনি। আড়চোখে মৌমিতাকে দেখে বলে,
-আর শুভ?
-ওরও একটু কাজ আছে বললো। দেরি হবে মা।
এইটুকু শুনতেই মাথা যেন আরো গরম হয়ে গেল।
-মাম্মা দেখো কেকটা সুন্দর। আমি খাবো। আমাকে কেকটা…
-এখান থেকে যাও তো। দীদুর সাথে কথা বলো।
হুমায়রার এইটুকু কথাতেই পাঁচ বছরের হিয়ান ধীরে সরে এলো। কারণ সে জানে এখন কথা বাড়ালেই তার সাথে সাথে এখানের সবার বারোটা বাজবে।
অমিত অনিল সোফায় বসে আছে। অমিতের কোলে তার ছোট্ট মেয়ে অরিন। বয়স প্রায় চার বছর হবে। আর অনিলের কোলে তার ছেলে অভ্র। তার বয়স সবেমাত্র তিনমাস। এর আগে একটা বাচ্চা নষ্ট হওয়ার এত বছর পর তারা বাচ্চার প্লানিং করলো। এতেই ঘর আলো করে অভ্র এসেছে। হিয়ান ধীরে পায়ে এসে বসে তাদের কাছে। মুখ ভার করে বসতে দেখে অনিল জিজ্ঞেস করে,
-আমার বাবাটার মন খারাপ কেন?
-আম্মু রেগে আছে।
-উম্ কেন রেগে আছে?
-জানি না। কিন্তু রেগে আছে। আজকে অনুষ্ঠানে আর মজা হবে না।
অমিত অবাক হয়ে বলে,
-মজা হবে না কেন?
-মাম্মা রেগে গেলে কি হয় জানো না?
ছোট্ট হিয়ানের কথায় দুই ভাই একসঙ্গে হেঁসে ওঠে। এরপর বলে,
-সমস্যা নেই বাবা৷ তোমার পাপা এসে রাগ ভাঙিয়ে দিবে।
-পারবে না তো। পাপার জন্যই তো রেগে আছে। আ্.. আজকে আম্মু আব্বুর স্পেশাল ডে। দেখো পাপা এখনো আসেনি।
দীর্ঘশ্বাস ফেলে দুজন। আজকাল শুভর কাজের ব্যস্ততা একটু বেশিই৷ এটা সকলে জানে। আর হুমায়রার রাগ তার ব্যস্ততার থেকেও বেশি। এমন জেদি বোন হয়তো কারো নেই। এরই মাঝে বাইরে গাড়ির আওয়াজে সকলে সেদিকে তাকায়। ধীর পায়ে স্মৃতি এগিয়ে আসে। আর পিছনে আহান ও তার কোলে তিন বছরের মেয়ে আলোকে নিয়ে এগিয়ে আসছে। তাদের দেখেই হিয়ান চিৎকার করে ফুপি বলে দৌড়ে যায় স্মৃতির কাছে। স্মৃতিও কোলে তুলে নেয় হিয়ানকে। গালে চুমু দিয়ে বলে,
-আমার বাবাটা কেমন আছে?
সাথে সাথেই হিয়ান ঠোঁট উল্টায় । এরপর বলে,
-ভালো না।
-কেন ভালো না?
-মাম্মা রেগে আছে৷ পাপা এখনো আসেনি।
ঠোঁট উল্টায় স্মৃতি৷ হিয়ানের গালে চুমু দিয়ে বলে,
-কিছু হবে না বাবা৷ পাপা চলে আসবে। তুমি খেলো যাও।
বলেই হিয়ানকে নামিয়ে দিয়ে ধীর পায়ে এগিয়ে আসে হুমায়রার কাছে। ততক্ষণে অর্নি আর তুলিও হুমায়রার কাছে হাজির হয়েছে। স্মৃতি পেছন থেকে গলা জড়িয়ে ধরে বলে,
-আমার বেস্টুর মন খারাপ নাকি….!
মুখ ভার করেই বসে থাকে হুমায়রা। স্মৃতি এবার হুমায়রাকে ছেড়ে পাশে এসে বলে। এরপর বলে,
-মন খারাপ করেনা বেস্টি। দেখ কাজের চাপ তো থাকেই।
-আজকের দিনেও?
প্রশ্নটা করেই চোখ তুলে তাকায় হুমায়রা৷ স্মৃতি উওর খুঁজে পায়না৷ সেও দীর্ঘশ্বাস ফেলে। অর্নি বলে,
-কি করবে বলো। কাজও তো করতে হবে তাইনা? আর প্রতিবছরই তো থাকে। এই বছর না হয়…
-একটা দিন কি আমার জন্য বের করা যায়না ওনার..?
কথা শেষ করার আগেই প্রশ্ন করে বসে হুমায়রা। তুলি একটা চেয়ার নিয়ে হুমায়রার সামনে বসে। এরপর বলে,
-সময় দেয়না বুঝি। কতকিছু করে তোমায় বিয়ে করলো। আর তুমি বলছো সময় দেয়না?
-তো বিয়ে করেছে দেখে কি হয়েছে হ্যাঁ? সময় দেয়া যাবে না আমাকে। আমি কি প্রতিদিন চেয়েছি। আজকের জন্যই তো। কোই আহান,অমিত,অনিল ,তুহিন ভাইয়া ওরা তো ঠিকই সময় দেয় তোমাদের। ওরা বুঝি কাজ করে না? শুধু উনিই করে?
এইটুকু বলেই কান্না করে দেয় হুমায়রা। তা এতদিনে সবারই অভ্যাস হয়ে গেছে৷ কিন্তু তাদেরই বা কি করার। শুভকে বললেও যেন শোনে না সে। এরই মাঝে ফোন বেজে ওঠে অর্নির। তুহিন ভিডিও কল করেছে। তারাও এবার আসতে পারেনি। মিষ্টি প্রেগন্যান্সির প্রায় পাঁচ মাস। তাই সে কোনো রিস্ক নিতে চায়না। কল রিসিভ করেই অর্নি বলে,
-কি অবস্থা তোর? মিষ্টি কেমন আছে?
এরই মাঝে মিষ্টি পাশ দিয়ে বলে,
-আলহামদুলিল্লাহ ভালো আছি আপু। হুমু কোথায়? ওকে দাও।
অর্নিও ফোনটা হুমায়রার কাছে ধরে৷ কাঁদতে দেখে দু’জনই অবাক হয়। মিষ্টি কৌতুহল নিয়ে জিজ্ঞেস করে,,
-শুভ ভাই কি এখনও আসেনি? এবারও লেট করে আসবে?
কথা বলে না হুমায়রা। এরই মাঝে তুহিন বলে,,
-দাড়া হুমু ওর একটা ব্যবস্থা করছি আমি। খুব বার বেড়েছে৷
হুমায়রাও আর থাকে না। চুপচাপ নিজ ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে বসে থাকে। তা দেখে ছোট্ট হিয়ান বলে,,
-যাহ্ গেল।
ছোট্ট হিয়ানের কথায় ঠোঁট টিপে হাসে সকলে। কিন্তু এই মুহূর্তে হুমায়রার রাগ ভাঙানোটাও জরুরি। সবাই গিয়ে একেকবার ডাক দেয় তাকে৷ কিন্তু সে দরজা খুলবে না। রাগ হয় সবার। আহান রাগ দেখিয়ে বলে,,
– এই শুভটাও না। একদিন একটু তাড়াতাড়ি আসলে কি হয় ওর..!
কেউ আর কথা বাড়ায় না। কল কেটে তুহিন বসে। মিষ্টি মন খারাপ করে বলে,
-ইশ ওরা কত মজা করছে। আমি যেতে পারলাম না।
ভ্রু কুঁচকে তাকায় তুহিন। তারপর বলে,
-মজা করতে দেখলে কোথায়? সবাই তো মন খারাপ করে বসে আছে।
-শুভ ভাইয়া আসলে সবাই মজা করবে।
-মনে হয়না আজ আর সময়মতো যেতে পারবে। কাজের চাপ অনেক।
-ওহ্ আচ্ছা। তবুও আমি গেলে ঠিক হুমুকে মানিয়ে মজা করতাম।
-জ্বী আপনি তো সবকিছুতেই পারদর্শী। পড়াশোনা বাদে। রাত হয়েছে ঘুমাও এখন।
তুহিনের এভাবে রেগে কথা বলায় ঠোঁট উল্টায় মিষ্টি। চোখে পানি ছলছল করে৷ তা রেখে অবাক হয় তুহিন। কি এমন বললো যে এমন কাঁদতে হবে! কিছু বলবে তার আগেই অন্যদিকে মুখ করে সুয়ে পরে মিষ্টি। হাসে তুহিন। সেও বাচ্চাকেই বিয়ে করেছে৷ কিছু বললেই কেঁদে ভাসায়। পাশে সুয়ে কোমড় জড়িয়ে ধরে৷ মিষ্টির গালের সাথে নিজের গাল মিশিয়ে বলে,
-কি এমন বললাম যে কান্না করতে হবে হুম?
নাক টানে মিষ্টি। এরপর বলে,
-আপনি খারাপ অনেক। কিছু না পারলেই পড়াশোনা নিয়ে খোঁটা দেন। হ্যাঁ আমি পড়াশোনায় খারাপ। ভালো লাগে না৷ ফেল করি। তো আপনার কি হ্যাঁ?
হাসে তুহিন। একটু ভাবুক হয়ে বলে,
-ভবিষ্যৎ বাচ্চাও তাহলে মায়ের মতো হবে। তখন?
-ভালো হবে, খুশি হবো অনেক।
এবার শব্দ করেই হাসে তুহিন। মিষ্টির ঘারে নিজের নাক ঘষে বলে,
-বাব্বাহ এতো রাগ? ভালোবাসি তো পাগলি। একটু মজা করে বলেছি। তাই বলে কাঁদতে হবে?
-আপনি ভালোবাসেন না আমাকে।
-বাসি তো। আর কীভাবে প্রমাণ চান ম্যাম বলুন। সেভাবেই প্রমাণ দিয়ে দিবো।
____
রাত প্রায় বারোটা বেজে গেছে। একে একে সকলেই নিজেদের বাসায় চলে এসেছে। আর আনন্দ করা হয়ে ওঠেনি৷ শুভ তখনও বাসায় আসেনি আর হুমায়রা দরজা বন্ধ করে বসে বসে কাঁদছে। তাদের দ্বারা এই রাগ সামলানো সম্ভব না। একটু জেদি কিনা মেয়েটা। মৌমিতার কথায় সবাই খাবার খেয়েই বাসায় ফিরেছে৷ ছোট হিয়ানও মন খারাপ করে মৌমিতার কাছেই ঘুমিয়ে গেছে।
ঘরে এসে হাফ ছেড়ে বসে অমিত ও তুলি। একটু মন খারাপও হয় তাদের। বিরক্তি নিয়ে তুলি বলে,
-শুভটা এমন কেন বলো তো। আজ ওদের একটা স্পেশাল ডে। অথচ আজকে আসলো না। এমন করলে কীভাবে হয়….?
-ওর দিকটাও তো বুঝতে হবে। অন্য একটা কম্পানির সাথে আজ ডিল কনফার্ম হওয়ার কথা। কি করবে বলো। ও ঠিক মানিয়ে নিবে হুমুকে। চিন্তা কোরো না।
আড়চোখে তাকায় তুলি। গম্ভীর কন্ঠে বলে,,
– তোমরা ছেলেরা সব একই ক্যাটাগরির।
হাসে অমিত। তুলির হাত ধরে নিজের কাছে টেনে বলে,
– আচ্ছা! এখন ঝগড়া করার মুডে নেই ম্যাম। আজ খুব সুন্দর লাগছে বউটাকে। তো আজ একটু…
বলেই ধীরে ধীরে তুলির ঠোঁটের দিকে এগিয়ে আসে অমিত। এরই মাঝে দরজার কাছ থেকে ছোট্ট অরিনে ডাক ভেসে আসে…
-বাবা তোমলা কি কততো?
সাথে সাথেই দু’জন সরে দাড়ায়। অরিনকে নীলা বেগমের কাছে রেখে এসেছিল তারা। কিন্তু সে একটু বেশিই পাকা কিনা। একা একাই নিজ ঘরে চলে আসে। দু’জন এগিয়ে আসে মেয়ের কাছে। অমিত মেয়েকে কোলে নিয়ে বলে,
-কিছু না মা। দীদুনের সাথে খেলা শেষ?
-হ্যাঁ।
.
অনিল একা একাই ছেলের সাথে বসে খেলছে। অর্নি পরনের শাড়িটা পাল্টে ওদের খেলতে দেখে আর কিছু বলেনি। বলবেই বা কি? বাবা-ছেলে এক হলে তাকে আর পাওা দেয় কে। তাই ধীর পায়ে বারান্দায় এসে দাড়ায়। আকাশের পূর্ণিমার চাঁদটা দেখতে বেশ লাগছে তার। তাই দেখেই মুচকি হাসে। হঠাৎ কোমড়ে কারো স্পর্শে একটু কেঁপে ওঠে। বুঝতে বাকি রয়না মানুষটা কে। সেভাবে থেকেই প্রশ্ন করে,,
-ছেলের সাথে খেলা করা শেষ??
-ঘুমিয়ে গেছে।
-রাত হয়েছে অনেক। তুমিও ঘুমাও যাও।
-তুমি ঘুমাবে না?
-ঘুম আসছে না।
-কেন?
-হুমুটার জন্য চিন্তা হচ্ছে। ও এখনো বাচ্চাই থেকে গেল। হিয়ানও মন খারাপ করে আছে।
-শুভ এসে সব ঠিক করে নিবে। এ আর নতুন কি?
-হুম তা ঠিক। আজকের চাঁদটা খুব সুন্দর তাইনা?
-আমার বউয়ের থেকে না।
-বিয়ের পাঁচ বছর হয়েছে। এখনো তোমার এমন কথা যায়নি না?
-না তো। কখনো যাবেও না। সব সময় বলবো ওই চাঁদের থেকে আমার বউ সুন্দর।
হাসে অর্নি। নিজেকে ছাড়িয়ে অনিলের দিকে মুখ করে দাঁড়ায় সে। মুচকি হেসে বলে,
-ভালোবাসি অনিল। খুব ভালোবাসি। সারাজীবন আমার হয়ে থেকো।
.
আলোকে বিছানায় সুয়িয়ে দিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচে স্মৃতি। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজ হয়তো বাচ্চাদের ঘুম পারিয়ে বিছানায় সুয়িয়ে দেয়া। হালকা নড়চড় হলেই চোখ খুলে বসে থাকবে কিনা৷ আবার ঘুম পাড়াতে গেলে বিশ্বযুদ্ধ জয় করতে হয়।
আহান এসেই ওয়াশরুমে ঢুকেছে। এই লোকের আরেক সমস্যা। বাইরে থেকে আসলেই প্রথমে তার গোসল করতে হবে। না হয় তার নাকি ফ্রেশ লাগে না। তাই আর কিছুই বলেনি স্মৃতি।
নিজেও এখনো একই কাপড়েই আছে। ইচ্ছে করছে না কিছু তার। ধীরে পায়ে এগিয়ে গেল “lt’s mine” লেখা রুমটায়। রুমগুলো আহান স্মৃতি বলা সেই অনুযায়ী নতুনভাবে ডেকোরেট করেছে। এতে বেশ অবাকই হয়েছে স্মৃতি। কিন্তু কিছুই বলেনি৷
কাঁচের দেয়াল ভেদ করে আকাশে থাকা চাঁদটার দিকে তাকিয়ে রয় সে। মনের ক্ষতটা আবার জেগে উঠেছে তার। চোখ থেকে গড়িয়ে পরে দুই ফোঁটা জল। আহানও পাশে এসে দাড়ায়। দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,,
-আর কত কাঁদবে বলো তো। আল্লাহ ওকে আমাদের কাছে দেয়নি তো কি হয়েছে। আলোকে তো পেয়েছি আমরা। তাহলে?
এবার শব্দ করেই কেঁদে ওঠে স্মৃতি। আহানও নিজের সাথে জড়িয়ে নেয় ওকে। কি বলে শান্তনা দিবে..! সে নিজেও জানে না৷ সেও তো এখনো ভুলতে পারেনি সেই দিনটা।
আল্লাহর রহমতে পাঁচ বছর আগেই স্মৃতি মা হওয়ার মতো সুখবরটা পেয়েছিল। যেখানে সে সব সময় জেনে এসেছে সে কখনো মা হতে পারবে না। এর মাঝে হুট করে এই সংবাদটা যেন একটু অবাক করার মতোই ছিল। এরপর থেকে সব সময় সাবধানে চলাফেরা করা, আহানের কেয়ার সবই ঠিক চলছিল।
কিন্তু দিন শেষে জন্ম হয় একটা মৃত বাচ্চার৷ সেই সময়টা কেটেছিল খুব কষ্টের। কারো মুখেই যেন কথা ছিল না৷ আহানও স্মৃতির কাছে আসেনি। কীভাবে আসবে? সে নিজেই তো ভেঙে পরেছিল।
এই ভাঙা অবস্থায় স্মৃতিকে সামলাবে কীভাবে সে। তাই দূরে থেকেই নিজে শক্ত হয়েছে। আর স্মৃতিকে রেখেছে মৌমিতার কাছে। কিন্তু এই দূরত্বটা বেশিদিন টিকে থাকেনি। স্মৃতির অসুস্থতা, হুটহাট প্যানিক অ্যাটাক সব কেমন এলোমেলো হয়েছিল। নিজেকে নিজেই শক্ত করে আবার স্মৃতিকে আগলে নিয়েছে।
এর দুই বছর পরই আলোর আগমন যেন সবটা ঠিক করে দিল। কিন্তু মনের ক্ষত চাইলেই কি কমে যায়।
সব ভাবতেই দীর্ঘশ্বাস ফেলে আহান। স্মৃতিকে নিজের সাথে জড়িয়ে রাখে। প্রতিটা রাতই তাদের এভাবেই কেটে। বোকামনটাকে বোঝানো যে খুবই মুশকিল..!
__
রাত প্রায় দু’টো। ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফিরতেই প্রথমে সামনে পরে মৌমিতা। তার চেহারা দেখেই শুভর বুঝতে দেরি হয়না তার প্রেয়সী মুখ ফুলিয়ে বসে আছে৷ মায়ের দিকে তাকিয়ে কান ধরে ক্ষমা চায় শুধু। এরপর ধীর পায়ে ঘরের সামনে এসে দাড়ায়। সাহস সঞ্চয় করে দরজা খুলে ভেতরে প্রবেশ করেই চোখ পরে হুমায়রার দিকে। বারান্দায় হাঁটু ভাজ করে বসে আছে। কাছে যায়না সে৷ বিছানায় বসে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে,
-একটু পানি খাওয়াও না হূর।
কথা বলেনা হুমায়রা। চুপচাপ পানির গ্লাসটা শুভর হাতে দিয়ে আবারো বারান্দার দিকে এগিয়ে যেতেই থেমে যায়। শুভ পেছন দিয়ে হাত ধরে আটকে রেখেছে। জোরপূর্বক হাত ছাড়ানোর ব্যর্থ চেষ্টা চালায়। শুভ ধীরে ধীরে এসে সামনে দাড়ায় হুমায়রার। হালকা কাশি দিয়ে বলে,
-আ্..আম সরি হুরপড়ি। আসলে কাজের চাপ অনেক তাই…
রাগ হয় হুমায়ার। চোখ থেকে পানি পরতে থাকে। সেভাবেই বলে,
-পৃথিবীতে শুধু আপনি একাই কাজ করেন তাইনা। আর কেউ করেনা। তুহিন ভাইয়া,অমিত,অনিল ভাইয়া,আহান ওরা তো কাজ করেনা তাইনা। শুধু আপনি কাজ করেন।
-আসলে আজকে একটা কম্পানির সাথে ডিল ছিল। তাই সেখানেই সময়…
-আপনার অজুহাত আমার আর ভালো লাগে না ছাড়ুন।
-রাগ করেনা হূর পাখি। এই লাস্ট প্রমিস।
হুমায়রা দাঁতে দাঁত লাগিয়ে বলে,
– লাগবেে না আপনার মিথ্যা ওয়াদা। ওসব ওয়াদা আপনার সাঈমাকে দেখাবেন।
অবাক হয় শুভ। এরপর বলে,,
-সা্ সাঈমা কোথা থেকে এলো এখানে?
-কি ভেবেছেন আমি বুঝিনা। আপনি..আপনি ওকেই ভালোবাসেন। ওর কাছে যান তাইনা। এর জন্যই তো এতো দেরি হয়৷ কাজ তো বাহানা। আর কেউ তো কাজ…
কথা শেষ করার আগেই জড়িয়ে ধরে শুভ। হুমায়রাও এবার শব্দ করে কান্না করে দেয়। ইচ্ছে মতো ঘুষি দিতে থাকে শুভর বুকে। কান্না করতে করতে বলে,
-প্রতিবার আপনি এমন করেন। আপনি আর ভালোবাসেন না আমাকে। আমি তো মোহ্ ছিলাম আপনার। সাঈমা ঠিক বলেছিল। ও কেরে নিবে। ঠিক নিয়েছে। আপনি ওকেই ভালো…
কথা শেষ করার আগেই হুমায়রার অধর জোড়া নিজের দখলে নিয়ে নেয় শুভ৷ কেটে যায় কিছুক্ষণ। এরপর ছেড়ে আবারো জড়িয়ে ধরে শক্ত করে৷ কপালে চুমু দিয়ে বলে,
– আমার জীবনের প্রথম ও শেষ ভালোবাসা আমার হুরপরীই। সেই প্রথম এই বোকামনে ঝড় তুলেছিল। এরপর আর কখনো কেউ জায়গা করে নিতে পারেনি। আর না কখনো পারবে। আকাশ,চাঁদ, পাহাড়, সমুদ্র সবকিছুকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি শুধু আমার হুরপরীকেই ভালোবাসি। শুধু এই জন্ম না পরজন্ম বলে যদি কিছু থাকে তখনও আমি আমার হুরপরীকেই ভালোবাসবো। কেউ কখনো তার জায়গা নিতে পারবে না। এই বোকামনটাতে শুধু মাত্র হুমায়রা নামক নামটাই থাকবে।
শান্ত হয় হুমায়রা। শুভর বুকের মাঝে মুখ লুকিয়েই নাক টানতে থাকে। শুভও ছাড়ে না সেভাবেই জড়িয়ে রাখে। হুমায়রার মাথায় চুমু দিয়ে বলে…..
-আর কখনো এমন হবে না হূরপরী। এই শেষ। প্রমিস।
তবুও ছাড়ে না হুমায়রা। সেভাবেই বুকে মুখ লুকিয়ে রাখে। সে জানে শুভর ব্যস্ততা। কিন্তু তবুও দিনশেষে অভিমান না করলে তার বোকামনটাও যে শান্তি পায়না। এভাবে অভিমান করলেই তো লোকটা তাকে আরো বেশি আগলে। মন উজাড় করে ভালোবাসে। বোকামনটা বোঝে সব৷ তবুও পাগলামি কি আর থামে…??
~সমাপ্ত ~
((অবশেষে শেষ হলো #বোকামন গল্পটাও। সবাই দয়া করে রেসপন্স করবেন এবং গল্পটা আপনাদের কাছে কেমন লেগেছে জানাবেন৷ তেমন ভালো লেখিকা না আমি৷ সখের বসে যতটুকু পারি লিখি। ভুলত্রুটি ক্ষমার চোখে দেখবেন৷
হ্যাপি রিডিং 😊😊))

