এক_মেঘলা_দিনে #পর্ব_৪

0
2

#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_৪
#আনিকা_আফসা

কেটে গেছে পাঁচ টা বছর। সময়ের সাথে মানুষ হয়েছে পরিবর্তন। আমারও হয়েছে কিছু পরিবর্তন। এখনকার আমি অল্পতে ভেঙে পরি না। কথায় কথায় চোখ দিয়ে জল পড়া আমার ধাঁচে নেই। আগে যার কথা ভেবে রাতে বালিশ ভিজিয়েছি তাকে নিয়ে আর ভাবি না। যাকে আগে মোনাজাতে চাইতাম, তাকে এখন মোনাজাতে ভুলতে চাই। এখন আমার জীবনে মূলত রুদ্র নামক কোনো ব্যাক্তির অস্তিত্ব নেই। আমি এখন আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধবদের জন্য। নিজেকে গুছিয়েছি আমি। পড়ায় মনোযোগ হারিয়েছিলাম সেটা আবারো ঠিকঠাক করে এইচএসসি তে গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছি , তারপর এখন একটা পাবলিক ইউনিভার্সিটির ফাইনাল ইয়ারে পড়ি। নিহান ভাই ও আপুর বিয়ে হয়ে গেছে। মজার ব্যাপার হলো আপু নিহান ভাইয়াকে জোড় করে বিয়েতে রাজি করিয়েছে। নিহান ভাইয়া তো বেঁকে বসেছিল আপুর মতে অন্য মেয়ের ফাঁদে পড়ে। তবে আমরা তো জানি, এটা আসলে আমাদের ফাঁদ ছিল আপুকে বিয়েতে রাজি করানোর। এখন বর্তমানে তাদের একটা কিউট আড়াই বছরের মেয়ে আছে। নিকি আপুরও বিয়ে হয়ে গেছে , আপুর বয়ফ্রেন্ডের সাথে। তাদেরও একটা ছেলে আছে , বয়স দুই বছর।

আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখের নিচের অংশ টেনে কাজল দিচ্ছি। পড়নে কালো রঙের কাতান শাড়ি। মুখে হালকা সাজ। আজ ভার্সিটিতে নবীন বরণ অনুষ্ঠান। আমি এবার অনার্স ফাইনাল ইয়ারে। কত বড় হয়ে গেছি না? সময় কত জলদি কেটে গেল। আয়নার দিকে তাকিয়ে হালকা হেঁসে কি যেন ভেবে দীর্ঘশ্বাস ফেললাম তারপর আবার মাথা নেড়ে হাসলাম। পাশের টেবিলে লাচ্ছির দিকে তাকালাম। বাচ্চা লাচ্ছিটার মাঝে আজ বড়বড় ভাব। আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে লেজ নেড়ে যাচ্ছে। আমি তার দিকে ভ্রু উঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলাম,

“কি কেমন লাগছে আমায়? ”

“ম্যাও”

“আহ্হা, আমি জানি আমাকে সুন্দর লাগছে। তাও এত প্রশংসার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে লাচ্ছি সাহেব”

এই বলে লাচ্ছিকে কোলে তুলে চুমু খেলাম এবং আদর করতে করতে বাইরে নিয়ে গেলাম। আমার একমাত্র সত্যিকারের বন্ধু সে। আমরা এখন আগের বাসায় থাকি না। অন্য জায়গায় শিফট্ হয়েছি, এটা আমাদের নিজস্ব বাসা। বিশাল বড় , একেবারে সিনেমায় দেখায় না? তেমন বাসা। সদর দরজার সামনে বড় একটা ড্রইং রুম তারপর দুইপাশে দুই দুইটা ছড়ানো সিঁড়ি চলে গেছে দোতলায়। আমি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে আসলাম।

আসতেই দেখলাম মাকে ডাইনিং টেবিলে বসে পেঁয়াজ কাটতে। আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম একটু ফুল দিয়ে সাজিয়ে গুছিয়ে আছে বাসাটা। একটু অবাক হলাম, এত গুছিয়ে তারপর আলাদা একটা সাজ সাজ ভাব তাও আমার বাসা? জীবনও থাকবে না। কেউ হয়তোবা আসবে। আমি মায়ের কাছে গেলাম , মা তখন আমাদের বুয়াকে কাজ বুঝাচ্ছিলেন এবং পেঁয়াজ কাটছিলেন। আমি মাকে ভ্রু কুঁচকে জিজ্ঞেস করলাম,

“মা আজ কেউ আসবে নাকি? আপু আসবে?”

মা আমার আগাগোড়া পরখ করে বলল,”হ্যাঁ আসবে ”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”আপু তো প্রায়ই আসে, তাহলে আজ এসব কেন?”

“এগুলো তোর আপুর জন্য না”

“তাহলে কার জন্য?”

আম্মু একগাল হেসে পেঁয়াজ কাটতে কাটতে বলল,”আজ আমার বড় ছেলে আসবে তার জন্য এসব”

আমি অবাক হয়ে বললাম,”আমার জানামতে তোমার দুটো মেয়ে আছে , আপু ও আমি। ছেলে কবে জন্মালো?”

মা আমার দিকে গরম চোখে তাকিয়ে হাতের ছুরি উঁচিয়ে বলল,

“এই তোর না অনুষ্ঠান আছে ভার্সিটিতে? যাহ্ , আমি কাজ করছি দেখছিস না? একশো একটা প্রশ্ন করবে মেয়েটা খালি।”

আমি মুখ লটকে বললাম,”ঠিক আছে যাচ্ছি, আমার লাচ্ছিকে দেখে রেখো”

আম্মু বুয়ার মেয়ে কাজলকে ডেকে বলল,”এই কাজল এই বিড়ালটাকে নিয়ে যাও তো এসে”

কাজল এসে লাচ্ছিকে নিয়ে গেল। আমি ভ্রু কুঁচকে আম্মুর দিকে তাকিয়ে বললাম,

“ওর নাম লাচ্ছি”

এই বলে আবার নিজের রুমে চলে এলাম। নিজের হ্যান্ডব্যাগ নিতে ভুলে গেছি। সেটা নিয়ে শাড়িটা আরেকটু ঠিক করে বের হয়ে পড়লাম। তখনই মোবাইলে কল এলো , আমি রিসিভ করে বললাম,

“হ্যাঁ, একটু দাঁড়া। আমি আসছি, আসছি। ”

এই বলে ফোন রেখে বাইরে চলে এলাম। আমাকে দেখে অয়ন কান থেকে ফোন নামালো। বাইকের সাথে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিল , এখন সোজা হয়ে দাঁড়ালো। আমি ওকে দেখে মুচকি হাসলাম। দারোয়ান চাচা গেট খুলে দিতেই আমি ওর দিকে এগিয়ে গেলাম। ও আমাকে আসতে দেখে হাত বাড়িয়ে থামতে ইশারা করতেই আমি থেমে গেলাম। ও একটু নাটকীয় ভঙ্গিতে বলল,

“আপনি কে? মানুষ নাকি আকাশ থেকে নেমে আসা কোনো পরী ? ভাই তুই যদি এভাবে ভার্সিটিতে যাস, সব ছেলের হার্ট অ্যাটাক হয়ে যাবে নিশ্চিত”

আমি ওর হাত সরিয়ে হেঁসে বললাম,”হোপ, নাটক কম কর। এমনিই আনইজি ফিল হচ্ছে। জীবনে প্রথম শাড়ি পড়েছি তাও সানভির কথায়।”

অয়ন হেঁসে দিলো তারপর বলল,

“হুম, সুন্দর লাগছে মাশাআল্লাহ, আমার নজর না লেগে যায় সেই ভয়ে আছি”

“ভয় -টয় বাদ দে, তাড়াতাড়ি চল । নাহলে বাকিরা আমাদের মাথা ফাটাবে। এমনিতেই আধঘন্টা আমি লেট করে ফেলেছি।”

অয়ন বাইকে উঠে আমাকে বলল,”আচ্ছা, ওকে । আয় এবার হুরপরী”

আমি ভ্রু কুঁচকে উঠে বসলাম। অয়নের কাঁধে হাত রাখতেই অয়ন বাইক স্টার্ট দিলো।

বাইকের স্পিডের সাথে সাথে বাতাসে উড়ে যাচ্ছিল আমার আঁচলটা। বারবার ঠিক করতে করতে বিরক্ত হয়ে শেষমেশ ছেড়ে দিলাম। অয়ন মাঝে মাঝে পিছনে তাকিয়ে হেসে দিচ্ছে আর আমি বিরক্ত মুখ করে তাকাচ্ছি।

কিছুক্ষণ পরই ভার্সিটির সামনে পৌঁছে গেলাম।
আজ পুরো ক্যাম্পাসটাই অন্যরকম লাগছে। চারদিকে রঙিন ব্যানার, বেলুন, স্টেজে লাইটিং, আর নবীনদের কোলাহল সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ।
গেট দিয়ে ঢুকতেই সানভি, তৃষা, আর রিয়াদের দেখা পেলাম। আমি আর অয়ন ওদের কাছে গেলাম । ওরা তখনো আমাদের খেয়াল করেনি। তৃষা বলছে,

“এরা এতো দেরি করছে কেন?”

রিয়াদ হাই দিয়ে বলল,”তোরা মেয়েরা ঐসব আটা ময়দা মেখেই তো পাঁচ ঘন্টা পার করিয়ে দিস। নিশ্চয়ই এজন্য আনি দেরী করছে আর ওর জন্য বেচারা অয়নেরও দেরী হচ্ছে”

সানভি রিয়াদের পিঠে কিল দিয়ে বলল,”ওটা মোটেও আটা ময়দা নয়। আর ওগুলো দিতে মোটেও পাঁচ ঘন্টা লাগে না। আমরাও তো দিয়েছি।”

রিয়াদ দাঁত কেলিয়ে বলল,”ওটা আটা ময়দাই”

তৃষা বলল,”ঠিক আছে, তাহলে তোকে একদিন ঐগুলো দিয়ে পরোটা বানিয়ে খাওয়াবো। মজা লাগবে খুব তাইনা বল?”

এই কথা শুনে সানভি হেঁসে দিলো। রিয়াদ দাঁতে দাঁত চেপে কিছু বলতে নিলো তখনই আমাদের খেয়াল করলো সবাই। আমাকে দেখতেই সানভি হাত কোমরে দিয়ে বলল,

“এই মেয়ে! এত দেরি করলি কেন?”

আমি একটু লজ্জা পেয়ে বললাম,
“আরে রেডি হতে দেরি হয়ে গেছে।”

তৃষা আমার দিকে তাকিয়ে চোখ বড় বড় করে বলল,
“ওএমজি! তুই শাড়ি পরছিস! ”

রিয়াদ সাথে সাথে নাটকীয়ভাবে বুক চেপে ধরল,
“আমি মনে হয় আজকে, আমি বাঁচবো না…”

আমি চোখ রাঙিয়ে বললাম,
“এখন আরেকটা নাটক করলে এখানেই মেরে ফেলবো।”

সবাই হেসে উঠলো।অয়ন পাশ থেকে বলল,
“আমি আগেই বলেছিলাম, আজকে এই মেয়েকে নিয়ে বের হওয়া মানে রিস্ক নেওয়া।”

আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম,
“তুই চুপ করবি?”

স্টেজে তখন প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে। গান, নাচ, আর মাঝেমধ্যে মজার স্কিট সব মিলিয়ে জমজমাট অবস্থা।
আমরা এক পাশে বসে পড়লাম। তখনই আমি আচমকা অয়নের দিকে তাকাতেই দেখলাম ও আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে। আমাকে তাকাতে দেখতেই দৃষ্টি লোকাতে চাইলো কিন্তু পারলো না। আমাকে দেখে হেসে বলল,

“চল ঐদিকটায় গিয়ে আমি আর তুই ছবি তুলে আসি”

আমিও তার সাথে সায় দিলাম এবং ডেকে নিলাম বাকিদেরও। সবাই উঠে সাজানো একটা দিকে চলে গেল। আমি যেতে নিলেই অয়ন আমার হাত চেপে বলল,

“আমি বলেছিলাম আমি আর তুই!!”

আমি হেঁসে বললাম,”আমি আর তুই আর ওরা একই তো হলো। আমরা সবাই তো বন্ধু। তাহলে আমরা একা কেন তুলবো? সবাই মিলে আগে গ্রুপ ফটো তুলি তারপর সিঙ্গেল ওকে? আর ঐদিকে ভিউ ভালো চল তাড়াতাড়ি ”

এ বলে হাত ছাড়িয়ে ওকে টেনে নিয়ে যেতে লাগলাম। অয়ন মনে মনে বলল,

“কবে একটু বুঝবি আমায় আনি?””

এই ভেবে লম্বা করে দম নিলো। আমি ওকে টেনে ওদের সাথে নিয়ে দাঁড় করালাম। আরেকটা জুনিয়রকে দিয়ে ছবি তোলার ব্যবস্থা করলাম। সানভি আর রিয়াদ মাঝে মাঝে ঝগড়া করে উঠছে । তৃষা ,আমি আর অয়ন তাদের দেখে হেঁসে যাচ্ছি।ছবি তোলার মাঝেও এদের ঝগড়া করা লাগবে এই ভেবেও মাথা নেড়ে হাসলাম। হঠাৎ তাদের ঝগড়া দেখে কিছু একটা মনে পড়তেই আমার হাঁসি চলে গেল। তারপর চোখ বন্ধ করে একটা লম্বা করে শ্বাস নিয়ে ছেড়ে দিয়ে চোখ খুললাম।

________

শরীরটা খারাপ লাগায় বেশিক্ষণ থাকিনি অনুষ্ঠানে। দুপুরেই চলে এসেছি । যদিও সানভি রিকুয়েস্ট করেছিল আরেকটু থাকতে তবে অয়ন নিজেই বলেছে শরীর খারাপ লাগলে থাকার দরকার নেই। তাই অয়নের সাথেই চলে এসেছি। তিনটা নাগাদ বাজে হয়তো। আমাদের বাড়ির বাইরে একটা মেরুন রঙের গাড়ি নজরে এলো। মেহমান এসে পড়েছে হয়তোবা। আমি বাইক থেকে নেমে অয়নকে বললাম,

“থ্যাংকস অয়ন, তবে তুই শুধু শুধু নিজের অনুষ্ঠানটা খারাপ করলি, আমি বাবাকে কল করলেই তিনি গাড়ি পাঠিয়ে দিতেন”

অয়ন মাথা নেড়ে বলল,”তোকে ছাড়া আবার কোনো অনুষ্ঠান হয় বুঝি? কোনো সমস্যা নেই , আমারও ঐসব হইহুল্লোড় ভালো লাগছিল না তাই তোকে সাথে নিয়ে চলে এসেছি। আমি এখন বাসায় গিয়ে এক লম্বা ও আয়েশি ঘুম দিবো”

আমি মাথা নেড়ে হাসলাম। ছেলেটা বড্ড ঘুম কাতুরে। আমি বললাম,

“ঠিক আছে, তাহলে সাবধানে যাস”

অয়ন মাথা নাড়ল এবং বলল,
“তোর মাথা আবার ব্যাথা করছে?”

“ভিষণ!”

“গিয়ে ঔষধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়”

আমি মাথা নাড়লাম। অয়ন বলল,
“কাল তো ভার্সিটি নেই, তৃষার জন্মদিন আছে। সবাই মিলে আনন্দ করবো। কালও শাড়ি পড়ে আসবি?”

“না , না । সামলাতে বহুত হিমশিম খেতে হয়।”

“আরে সমস্যা নেই। প্রথম একটু আধটু হয় এমন। পড়ে আসিস প্লিজ?”

আমি কিছুক্ষণ ভেবে বললাম,”আচ্ছা ঠিক আছে”

অয়ন হালকা হেঁসে বাইক স্টার্ট দিয়ে আমাকে কাছে ডাকল। আমি যেতেই আমার মাথা নেড়ে চেড়ে সুন্দর চুলগুলো এলোমেলো করে দিয়ে বলল,

“তুই অনেক সুইট”

এই বলে বাইক নিয়ে ছুটলো। আমি হা হয়ে তাকালাম তারপর দাঁত কিড়মিড় করে হাত মুঠ করে চিল্লিয়ে উঠলাম,

“অয়নের বাচ্চা!!”

_____

আমি চুল ঠিকঠাক করে ফেললাম কোনোমতে। বাড়ির সামনে আসতেই হৃদয়ের অস্বাভাবিক গতি টের পেলাম। ভ্রু কুঁচকে বুকে হাত রাখলাম। এমন কেন হচ্ছে আজ? এতো বছর পরে আজ হঠাৎ অনেক বেশিই কি মনে পড়ছে না তাকে? আমি লম্বা একটা শ্বাস টানলাম। আজ নিকি আপু ও তার হাসব্যান্ড এবং তাদের ছেলেরও আসার কথা। আপু, নিহান ভাইয়া ও আপুর মেয়েও আসবে। আজ কি কোনো উপলক্ষ আছে? কে জানে? গাড়িটাও দেখলাম , কে এসেছে আজ?

এসব ভাবতে ভাবতেই সদর দরজা পেরিয়ে বাড়িতে ঢুকে পড়লাম। শোরগোলের আওয়াজে সামনে তাকাতেই পায়ের কদম থেমে গেল। চোখ স্থির হলো একটা নির্দিষ্ট মানুষের উপর। শরীরে অদ্ভুত কম্পন টের পেলাম। হৃদপিন্ড আরেকটু বেহায়া হয়ে প্রথমে কিছুসময় থেমে তারপর জোরে জোরে বিট করতে লাগলো। আমার মুখটা চুপসে গেল। মুখ থেকে অস্ফুট স্বরে বেরিয়ে এলো,

“রুদ্র?”

আমাকে এসময় দেখে সবাই আনন্দিত হলো। নিকি আপু বলল,

“আরে আনি? তুই এসময়? দেখ রুদ্র এসেছে। আমাদের সবার জন্য গিফট নিয়ে”

আমি আপুর দিকে তাকালাম, তারপর থমথমে মুখে রুদ্রের দিকে তাকালাম। রুদ্র আমাকে কেমন করে যেন দেখলেন। তারপর হঠাৎ সানগ্লাস পড়ে নিলেন। ঘরের ভেতর এই রোদচশমার প্রয়োজনীয়তা আমার মাথায় এলো না। এখানে কি রোদ আসবে? ডায়নোসরের গাঁধা বাচ্চা একটা। আনিশা আপু আমার দিকে এগিয়ে এসে থুতনি ধরে বলল,

“বাহ্, কি মিষ্টি লাগছে রে তোকে!! কালো শাড়িটা বেশ মানিয়েছে”

আমি হালকা হাসলাম। আপু পিছু ফিরে রুদ্রকে বলল,

“রুদ্র তুই আনির জন্য কি এনেছিস?”

রুদ্র হালকা নড়েচড়ে দাঁড়ালো। মনে মনে বলল,”নিজেকে”

রুদ্র গলা ঝেড়ে বলল,”ঐ নিশা, আসলে ওকে মনে রাখিনি। ওর জন্য কিছুই আনা হয়নি”

এই কথা শুনে সবাই রুদ্রের দিকে ড্যাবড্যাব চোখে তাকালো। নিকি মনে মনে আওড়ালো,
“ডাহা মিথ্যুক!! মনে রাখেনি বলে!”

আমি রুদ্রের দিকে সরাসরি তাকালাম এবার। মিষ্টি হেঁসে বললাম,

“সমস্যা নেই মিস্টার রুদ্র। আপনি আনলেও ওয়েস্ট হতো। কারণ যার তার থেকে কোনো জিনিস নেয়ার স্বভাব এই আনিকার মধ্যে নেই। ভালো হয়েছে কিছু আনেননি, নয়তো বেচারার জায়গা ডাস্টবিনেই হতো। ”

এই বলে গটগট পায়ে চলে এলাম। আমি যেতেই নিহান ভাইয়া রুদ্রের পিঠে কিল মেরে বলল,

“শালা, তুই জীবনেও ভালো হবি না?”

আনিশা আপু বলল,”তুই সত্যিই ওর জন্য কিছু আনিসনি?”

রুদ্র ঠোঁট কামড়ে হেঁসে আমার যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো এবং মনে মনে বলল,

” রাগ – অভিমান যতোই করো। আর সেসবের জায়গা নেই। আমি যেমনটা তোমার থেকে আশা করেছিলাম তুমি তেমনটাই হয়েছো। এখন সমস্ত দূরত্ব ঘুচানোর সময়। আমাদের ভালোবাসার কথন যে এখনও বাকি আছে উডবি মিসেস রুদ্র আফতাব চৌধুরী ”

#চলবে

(সবাই রেসপন্স করবেন এই ডায়নোসরের গাঁধা বাচ্চার জন্য 😓)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here