#এক_মেঘলা_দিনে
#পর্ব_৫
#আনিকা_আফসা
__________________
নিজের ঘরে আসতেই চোখ পড়লো নিজের প্রিয় বিড়ালের সাথে ইটিসপিটিস করতে থাকা এক ফকফকে সাদা পার্শিয়ান বিল্লুকে। আমার মুখে অজান্তেই হাঁসি ফুটে উঠলো। আমার বিড়াল বরাবরই ভালো লাগে।
কাছে গিয়ে লাচ্ছি ও ঐ বিড়ালের গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করলাম। লাচ্ছির ও ঐ বিড়ালের গলায় দেখলাম একটা ক্যাট কলার এবং ঐটাতে সুন্দর করে ওদের নাম লেখা। নতুন বিড়ালকে কোলে তুলে মুখের কাছাকাছি ধরে নামটা পড়লাম। ওর নাম “কিটি”। আমি ভ্রু কুঁচকে হেঁসে উঠলাম। ওর দিকে তাকিয়ে দেখলাম আমার পুরো মুখ সম্পূর্ণ অবলোকন করছে। আমি তাকাতেই “ম্যাও” বলে ডেকে উঠলো। আমি ভ্রু শিথিল করে মুচকি হেঁসে বললাম,
“হাই মিস কিটি। আপনি এখানে কি করে আসলেন? কে নিয়ে এসেছে আপনাকে? যেই নিয়ে আসুক , আপনি কিন্তু অনেক সুন্দর জানেন। তাই না লাচ্ছি?”
লাচ্ছি “ম্যাও ” বলে অন্য দিকে মুখ ফেরালো। আমি কিটিকে এক হাতে নিয়ে ধরলাম। তারপর অন্য হাতে লাচ্ছির মাথায় হাত বুলিয়ে হেঁসে বললাম,
“লজ্জা পেয়েছিস লাচ্ছি? তুই দেখি লাজুক আছিস। কিন্তু এটা তো মেয়েদের স্বভাব তোর সাথে কে এডজাস্ট করলো? বাই দা ওয়ে, কিটি তোমাকে কে এনেছে বলোতো?”
“আমি এনেছি!!”
পিছন ফিরে দেখলাম নিহান ভাইয়া। আমি তাকাতেই মুচকি হাসলো। তার হাত ধরেছিল তার মেয়ে কেয়া । বিড়াল দেখে খুশিতে বাবার হাত ছাড়িয়ে লাচ্ছির কাছে দৌড়ে আসলো। আমি কিটিকেও ওর কাছে দিয়ে নিহান ভাইয়াকে জিজ্ঞেস করলাম,
“কেন? হঠাৎ?”
নিহান ভাইয়া পকেটে হাত গুজে মুচকি হেঁসে বলল,
“আমার একটা মাত্র শালিকা কম বোন। আনবো না তোর জন্য? বিড়ালটা পছন্দ হয়েছে তাই ভাবলাম তুই তো আবার বিড়াল পাগলি তাই তোর জন্য নিয়ে এসেছি। ”
আমি হেঁসে উঠে বললাম,”ধন্যবাদ আপনাকে, ধন্যবাদ”
নিহান ভাইয়া বললো ,”আরো একটি গিফট আছে কিন্তু তোর জন্য। ”
আমি ভ্রু কুঁচকে হালকা হেঁসে বললাম,”কি?”
নিহান ভাইয়া ড্রেসিং টেবিলের দিকে ইশারা করতেই ,আমার এতোক্ষণে নজরে এলো একটা সুন্দর পারফিউমের বোতল। সেটা আবার উপর দিয়ে লালা ফিতা দিয়ে বারবি স্টাইল বাঁধা। আমি ভিষণ আনন্দিত হলাম। ঝটপট ওটার কাছে গিয়ে ফিতা ছাড়িয়ে, হাতে স্প্রে করলাম। মুহূর্তেই আমার পুরো ঘর একটা মিষ্টি গন্ধে মেখে গেল। আমি চোখ বুজে শ্বাস টানলাম । কেয়া আমার কাছে এসে হাত বাড়িয়ে বলল,
“আন্না, আমাতে দেও”
আমি তার গায়ে স্প্রে করে দিতেই সে খিলখিলিয়ে হেঁসে আবার বিড়ালের কাছে দৌড় দিলো। আমার মতোই সে বিড়াল পাগলি। বিড়াল দেখলে হুশ থাকেনা। আমি একবার সেদিকে তাকিয়ে নিহান ভাইয়ার দিকে ভ্রু কুঁচকে পারফিউম টা উল্টে পাল্টে দেখে বললাম,
“কিন্তু এটাতো বিদেশি আর খুব এক্সপেন্সিভ লাগছে। তুমি বিদেশে কবে গেলে?”
নিহান ভাইয়া শুকনো ঢোক গিলে বলল,”না রে এটা বিদেশি নয়। গুলশানে গেলে হাজারটা দেখতে পাবি এমন। আর এটা এমনভাবে কারুকাজ হয়েছে যে এটা দেখতে বিদেশি ও দামী লাগছে। হ্যাঁ অল্প দামি আছে তবে বেশি না”
আমি বোতলের দিকে তাকিয়ে বললাম,”কিন্তু,,,”
নিহান ভাইয়া আমাকে থামিয়ে বলে উঠলেন,”কিন্তু কি? আর তুই এতো প্রশ্ন করছিস কেন? কেউ গিফ্ট দিলে এতো প্রশ্ন করে মানুষ?”
আমি তার চোখের দিকে তাকিয়ে এক ভ্রু কুঁচকে বলল,
“কিন্তু আমার তো মনে হচ্ছে, এটা তুমি দেও নি”
নিহান ভাইয়া শুকনো ঢোক গিলল। তার কপালে ঘাম জমে গেল। মুখটা কেমন ফ্যাকাশে হয়ে উঠলো। আমি হঠাৎ হেঁসে বললাম,
“আরে আমি মজা করছিলাম। জাস্ট চিল,, তুমি ছাড়া আমাকে আর কে দিবে? থ্যাংকস হ্যাঁ,এতো সুন্দর তিনটে গিফট দেয়ার জন্য। আমার তিনটেই পছন্দ হয়েছে”
এই বলে হাসলাম। নিহান ভাইয়াও মুখ গোল করে একটা শ্বাস ছেড়ে হেঁসে দিলো । আমাকে বলল,
“তুই ভার্সিটি থেকে এসেছিস। রেস্ট নে ওকে? আমি যাই!”
আমি হালকা হেঁসে মাথা নাড়লাম। নিহান ভাইয়া কেয়াকে ডেকে বলল,
“মামণি এসো, আমরা আবার পড়ে আসবো”
কেয়া বিড়াল গুলোর দিকে আঙুল উঁচিয়ে বলল,
“বিল্লু,,বিল্লু”
নিহান ভাইয়া বলল,”হ্যাঁ, বিল্লু পড়ে নিও। এসো এখন”
কেয়া বিড়ালগুলোকে শেষ বারের মতো আদর করে নিহান ভাইয়ার হাত ধরলো। নিহান ভাইয়া আমাকে দেখিয়ে বলল,
“আন্নাকে বিদায় দেও”
কেয়া হাত নেড়ে বিদায় জানায়, আমিও হেসে হাত নেড়ে বিদায় জানাই। বিদায় শেষে নিহান ভাইয়া কেয়াকে নিয়ে চলে যায়। আমি দরজা লাগিয়ে ধপ করে এসে বিছানায় বসি। আজ এতো বছর পর ঐ লোকটা আবারো আমার সামনে। আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। শাওয়ার নেয়া জরুরি। বাইরে অনেক গরমে শরীর ঘেমে গেছে। আমি ঠোঁট গোল করে একটা শ্বাস ছাড়লাম। তারপর টাওয়েল ও জামাকাপড় নিয়ে লাচ্ছি ও কিটির গায়ে হাত বুলিয়ে ওয়াশ রুমে ঢুকে গেলাম।
___________
নিহান বের হয়ে আনিকার ঘর থেকে কিছুটা দূরে আসতেই রুদ্র ওকে চেপে ধরলো এবং বলল,
“যেভাবে বলতে বলেছিলাম সেভাবে বলেছিস?”
নিহান কেয়াকে উদ্দেশ্য করে বলল,
“মা তুমি মাম্মার কাছে যাও”
কেয়া ছুটে দৌড় দিলো। সেদিকে একবার তাকিয়ে নিহানের দিকে তাকালো রুদ্র। নিহান বলল,
“কি ভাই? এভাবে তাকাবি না, বলেছি তো!”
রুদ্র বিচলিত কন্ঠে বলল,”নিয়েছে?”
নিহান মাথা নেড়ে সম্মতি জানালো। রুদ্র বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে হাসলো। নিহান বললো,
“বুঝিনা এতো লুকোচুরির কি আছে? এখন তো ও ম্যাচিউর হয়ে গেছে তাইনা? তারপরও আজ ওকে তুই সবার সামনে এমনভাবে কেন বললি? মেয়েটাকে কষ্ট দিয়ে তুই কি মজা পাস?”
রুদ্র হালকা হেঁসে বলল,”আমি সরাসরি দিলে ও জীবনও নিতো না, তাই সবার সামনে বলেছি ওর জন্য কিছু আনেনি। আচ্ছা ওর রিয়েকশন কেমন ছিল গিফট্ পেয়ে?”
নিহান মাথা নেড়ে হেঁসে বলল,”খুব খুশি হয়েছে। বিশেষ করে বিড়ালটাকে পেয়ে। তুই তো জানিস ও বিড়াল কত ভালোবাসে!!”
রুদ্র এক গাল হেঁসে বলল,”হ্যাঁ জানি, আর জানি দেখেই তো নিয়ে এসেছি”
তখনই নিকি এলো ওদের দেখে। কাছে আসতে আসতে বলল,
“আপনারা এখানে? সবাই আপনাদের খুঁজছে মশাই”
রুদ্র ভ্রু কুঁচকে বলল,”কেন?”
নিকি অবাক হয়ে বলল,”ওমা!! আন্টি তোর জন্য এতো পদ রাঁধলো , তুই খাবি না? জানিস কতপদ রেঁধেছে? একেবারে জামাই হওয়ার আগেই জামাই খাবার খাবি। ”
এই বলে হাসলো সে। নিহান ও রুদ্রও হাসলো। নিকি বলল,
“তাড়াতাড়ি চল, আন্টি তোকে খুঁজে হয়রান। তোর আসার খবর শুনে আঙ্কেলও আসছে অফিসের কাজ গুছিয়ে।”
রুদ্র বলল,”চল তাহলে। দেখি আমার উঠবি ওয়াইফের মা কি রান্না করেছে?”
এই বলে সে সামনে পা বাড়ালো। নিকি ওকে ভেঙ্গিয়ে বলল,
“আহারে কি ফেম!! উঠবি ওয়াইফের মা। আনির সামনে বলিস, তোর চুল যদি একটাও থাকে!!”
এই বলে দুজন হেঁসে উঠলো। রুদ্র যেতে যেতে বলল,
“সময় হলে বলবো!”
নিহান মাথা নেড়ে নিকিকে বলল,”বুঝলি নিকি? এর সময় জীবনেও মনে হয় না হবে। ”
নিকি বলল,”এর থেকে কিছু আশা করাই বৃথা। চল যাই”
“হুম চল!!”
#চলবে
আজ এইটুকু পর্বই নিয়ে নেও। হঠাৎ করে কালরাত থেকে জ্বর । লিখতে ভালো লাগছে না তবুও একটু লেখলাম। মাথা ধরেছে এখন খুব। আর লেখা সম্ভব হচ্ছে না।
( হ্যাপি রিডিং)

