#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_১৬
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম
ড্রয়িংরুমে আজ সকাল থেকেই এক অদ্ভুত উত্তেজনা বিরাজ করছে। জেনিন নূরশাদ তার বিশাল ডাইনিং টেবিলের মাথায় বসে আছে, তার সামনে রাখা ব্ল্যাক কফি থেকে ধোঁয়া উঠছে। কিন্তু জেনিনের নজর আজ খবরের কাগজে নেই, বরং সে দরজার দিকে তাকিয়ে কারো অপেক্ষায় আছে। তার এই শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ চাউনি বলছে, আজ বিশেষ কেউ একজন এই অন্দরমহলে প্রবেশ করতে চলেছে।
ঠিক তখনই সদর দরজা দিয়ে ধীরস্থির পায়ে ভেতরে ঢুকল এক দীর্ঘদেহী যুবক। পরনে তার নেভি ব্লু ওভারকোট, চোখে সানগ্লাস। তার হাঁটার ভঙ্গিতে এমন এক রাজকীয় ছন্দ আছে যা সাধারণ বডিগার্ডদের থাকে না। তার প্রতিটি পদক্ষেপে এক অঘোষিত শক্তির আভাস। সে জেনিনের সামনে এসে দাঁড়ালো এবং খুব মার্জিতভাবে মাথা নিচু করে সম্মান জানালো।
“স্বাগত, উদয় গালিব। মাই ম্যান ইউজি,” জেনিন খুব নিচু কিন্তু গম্ভীর স্বরে বলল। তার ঠোঁটের কোণে এক চিলতে বিজয়ী হাসি।
ইউজি সানগ্লাসটা খুলে জেনিনের চোখের দিকে তাকালো। তার চোখে এক আদিম আনুগত্য। “আপনার আদেশ পালন করতে সাত সমুদ্র পেরিয়ে ফিরে এসেছি, বস। আপনার সাম্রাজ্যে কোনো ফাটল ধরেছে বলে আমার মনে হলো।”
জেনিন ইশারায় তাকে বসতে বলল। উদয় গালিব উরফে ইউজি, জেনিন নূরশাদের অন্ধকার জগতের ডান হাত, তার মস্তিষ্কের অর্ধেক অংশ। জেনিন যখন এই অপরাধ সাম্রাজ্যের ভিত গড়ছিল, তখন ইউজি ছিল তার ছায়ার মতো। গত দুই বছর সে জেনিনের আন্তর্জাতিক ডিলগুলো সামলানোর জন্য দেশের বাইরে ছিল। জেনিন বিশ্বাস করে, ইউজি ছাড়া এই শহরে তার আর কোনো বিশ্বস্ত সঙ্গী নেই।
সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে এই দৃশ্যটা দেখল নোবারা আকারি। ইউজিকে দেখা মাত্রই নোবারার বুকের ভেতরটা এক অজানা আশঙ্কায় ধক করে উঠল। সে দেখল জেনিন যেভাবে এই নবাগত যুবকের সাথে কথা বলছে, তেমন সহজভাবে সে এমনকি নোবারার সাথেও কথা বলে না। জেনিনের চোখের সেই রুক্ষতা ইউজির সামনে যেন কিছুটা শিথিল।
“ইনি কে, স্যার?” নোবারা টেবিলের কাছে এসে দাঁড়ালো।
জেনিন নোবারার দিকে না তাকিয়েই কফিতে চুমুক দিল। “মিস আকারি, পরিচয় করিয়ে দিই। উদয় গালিব। নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের চিফ অফ অপারেশনস এবং আমার পার্সোনাল সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজিস্ট। আজ থেকে ও আমার প্রতিটি মুভমেন্ট আর মিটিংয়ের দায়িত্বে থাকবে। অর্থাৎ, আপনাকে এখন থেকে ইউজি-র সাথে কো-অর্ডিনেট করে আমার শিডিউল সাজাতে হবে।”
নোবারার মেজাজ মুহূর্তের মধ্যে বিগড়ে গেল। সে জেনিনের পার্সোনাল এক্সিকিউটিভ, অথচ এখন তাকে অন্য কারো আদেশের ওপর নির্ভর করতে হবে? নোবারা ইউজির দিকে তীক্ষ্ণ নজরে তাকালো। ইউজিও নোবারাকে দেখছিল, কিন্তু তার চোখে ছিল এক ধরণের তাচ্ছিল্য আর প্রচ্ছন্ন ঘৃণা।
“মিস, আমি আপনার কাজের প্রোফাইল দেখেছি,” ইউজি খুব শীতল গলায় বলল। “পিএ হিসেবে আপনি বড্ড বেশি বেমানান। বস-এর পাশে থাকার জন্য কেবল ফাইল গোছানো যথেষ্ট নয়, তার চারপাশের বাতাসটাকেও স্ক্যান করতে হয়।”
নোবারা স্তম্ভিত হয়ে গেল। “আপনার সাহসের তো প্রশংসা করতে হয় মিস্টার গালিব। আমি সবসময় জেনিন নূরশাদের ছায়ার মতো থাকি, আর আপনি আমাকে কাজ শেখাচ্ছেন?”
“ছায়া অনেক সময় অন্ধকারকে ঢেকে দেয় মিস আকারি,” ইউজি জেনিনের দিকে ফিরে তাকিয়ে বলল, “আর বস-এর অন্ধকার জগতটা কেবল আমিই চিনি। আপনি সেখানে অপিরিচিত।”
জেনিন দুজনের এই কথার লড়াইটা বেশ উপভোগ করছিল। সে চেয়ার ছেড়ে দাঁড়ালো এবং ইউজির কাঁধে হাত রাখল। এটি এমন এক ঘনিষ্ঠতা যা জেনিন সাধারণত কারো সাথেই দেখায় না।
“ইউজি আমার সবচেয়ে পুরনো বন্ধু, মিস আকারি। ও যখন আমার পাশে থাকে, তখন আমার আর পেছনের দিকে তাকাতে হয় না। আজ থেকে আপনি আপনার কাজের সীমানা বুঝে নেবেন। ইউজি যা বলবে, সেটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।”
জেনিন ইউজিকে নিয়ে স্টাডি রুমের দিকে চলে গেল। যাওয়ার সময় ইউজি একবার পেছন ফিরে নোবারার দিকে তাকালো এবং এক কুটিল হাসি দিল। নোবারা সেই ডাইনিং টেবিলে একা দাঁড়িয়ে রইল। তার মনে হলো, জেনিন তাকে সবার সামনে থেকে সরিয়ে এক কোণে ঠেলে দিচ্ছে। এই ইউজি নামের ছেলেটা জেনিনের প্রতিটি গোপন ডিল, প্রতিটি রক্তমাখা ইতিহাসের অংশ। আর নোবারা? সে কেবল জেনিনের সেই অদ্ভুত মায়ার জালে বন্দী এক পিএ।
পুরো দিন অফিসে এক অন্যরকম যুদ্ধ চলল। জেনিন যেখানেই যাচ্ছে, ইউজি তার ঠিক এক কদম পেছনে। তারা দুজনে নিজেদের মধ্যে কোনো এক কোড ল্যাঙ্গুয়েজে কথা বলছে যা নোবারা বুঝতে পারছে না। নোবারা যখন জেনিনের কেবিনে ফাইল নিয়ে ঢুকল, দেখল জেনিন আর ইউজি খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে একটা ম্যাপ দেখছে।
“স্যার, এই ফাইলে আপনার সই লাগবে,” নোবারা বলল।
জেনিন ফাইলটার দিকে না তাকিয়েই বলল, “ইউজিকে দিন। ও যদি মনে করে ঠিক আছে, তবেই আমি সই করব।”
নোবারা রাগে কাঁপতে কাঁপতে ফাইলটা ইউজির দিকে বাড়িয়ে দিল। ইউজি ফাইলটা নিয়ে প্রতিটি পাতা খুব বিরক্তিকরভাবে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে লাগল। তারপর সে ফাইলটা জেনিনের টেবিলের ওপর অবহেলার সাথে ফেলে দিল।
“বড্ড কাঁচা কাজ মিস আকারি। এই ইনভয়েসে অনেকগুলো গ্যাপ আছে। বস, আমি ঠিক করেছি আজ থেকে অফিসের সব পেপারওয়ার্ক আমার স্ক্রুটিনি হয়ে আপনার কাছে যাবে। আমরা কোনো রিস্ক নিতে পারি না।”
জেনিন শুধু মাথা নাড়ল। সে একবারও নোবারার সেই লাল হয়ে যাওয়া চোখের দিকে তাকালো না। জেনিনের এই নীরবতা নোবারাকে বিঁধছে। সে অনুভব করল, ইউজি কেবল জেনিনের ডান হাত নয়, সে জেনিনের আর নোবারার মাঝখানে এক লৌহপ্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেনিনের সকল মনোযোগ এখন যেন ইউজির দিকে বেশি ঝুঁকছে, কারণ ইউজি জেনিনের সেই অপরাধ জগতের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
বিকালে জেনিন ইউজিকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। নোবারাকে বলা হলো সে যেন অফিসে বসেই কাজ শেষ করে। নোবারা তার কেবিনের জানালা দিয়ে দেখল, জেনিন আর ইউজি একই গাড়িতে বসে আছে। ইউজি জেনিনের কানের কাছে মুখ নিয়ে কিছু একটা বলছে আর জেনিন মনোযোগ দিয়ে তা শুনছে। নোবারার ইচ্ছে করছিল চিৎকার করে জেনিনকে বলতে, ‘কেন আপনি আমাকে এভাবে দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন? এই ইউজি কি আমার চেয়েও বেশি আপন?’
রাত তখন ন’টা। জেনিন আর ইউজি ভিলাতে ফিরল। ইউজি ভিলাতেই তার জন্য বরাদ্দ বিশেষ গেস্ট রুমে থাকছে। ডিনার টেবিলের পরিবেশ ছিল বরফশীতল। জেনিন আর ইউজি তাদের সেই মাফিয়া সাম্রাজ্যের খুঁটিনাটি নিয়ে কথা বলছিল।
“বস, কন্টেইনার মুভমেন্ট সাকসেসফুল। সিআইডি এখন অন্ধকারে হাতড়াচ্ছে,” ইউজি গর্বের সাথে বলল।
জেনিন কফিতে চুমুক দিয়ে নোবারার দিকে তাকালো। নোবারা কিছুই খাচ্ছিল না, সে শুধু জেনিনকে দেখছিল। জেনিনের মনে এক অদ্ভুত তৃপ্তি কাজ করল। সে নোবারাকে হিংসে করাতে পছন্দ করে। সে চায় নোবারা বুঝুক যে জেনিন নূরশাদের জীবনে অন্য কেউও সমান গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
“আপনি কি আজ সারা রাত উপোস করবেন মিস আকারি?” জেনিন রুক্ষ গলায় জিজ্ঞেস করল।
“আমার খিদে নেই স্যার,” নোবারা চেয়ার ঠেলে উঠে দাঁড়ালো।
ইউজি এক টুকরো আপেল মুখে দিয়ে বলল, “ইমোশন দিয়ে অফিস চলে না মিস আকারি। আপনার এই এটিটিউড বস-এর কাজের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে।”
“আপনি মুখ বন্ধ রাখুন!” নোবারা চিৎকার করে উঠল এবং দ্রুত পায়ে নিজের ঘরের দিকে চলে গেল।
<><><><><><><><><>
ভোরের আলো ফোটার আগেই জেনিন নূরশাদের কনভয় প্রস্তুত। জেনিন আজ নিজ হাতে ড্রাইভ করছে না, স্টিয়ারিংয়ে বসেছে ইউজি। জেনিন পেছনের সিটে বসা, আর তার ঠিক পাশেই সংকুচিত হয়ে বসে আছে নোবারা। জেনিনের শরীর থেকে বের হওয়া সেই দামী তামাক আর দামী পারফিউমের ঘ্রাণ নোবারাকে আচ্ছন্ন করে রাখলেও, সামনের সিটে বসা ইউজির উপস্থিতি তার নিশ্বাসে বিষ মিশিয়ে দিচ্ছে।
“আমরা কোথায় যাচ্ছি স্যার?” নোবারা নীরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করল। “আজকের শিডিউলে তো কোনো আউটডোর মিটিং ছিল না।”
জেনিন উত্তরের বদলে জানালার বাইরে তাকিয়ে রইল। তার চোখজোড়া আজ অস্বাভাবিক রকমের শান্ত। উত্তর দিল ইউজি। আয়নায় নোবারার দিকে এক পলক তাকিয়ে সে খুব তাচ্ছিল্যের সাথে বলল—
“সবকিছু শিডিউল দেখে হয় না মিস আকারি। নূরশাদ ইন্ডাস্ট্রিজের কিছু ডিল এমন জায়গায় হয় যা আপনার ওই ডায়েরির পাতায় জায়গা পাওয়ার যোগ্য নয়।”
নোবারার ইচ্ছে করল ইউজির কলারটা টেনে ধরে গাড়ি থেকে নামিয়ে দিতে। সে জেনিনের দিকে তাকিয়ে প্রতিবাদী গলায় বলল, “আপনি কি ওনাকে আমার ওপর খবরদারি করার লাইসেন্স দিয়ে রেখেছেন? আমি আপনার পিএ, ওনার কর্মচারী নই।”
জেনিন এবার নোবারার দিকে ফিরল। সে খুব ধীরে নোবারার হাতটা নিজের হাতের ওপর রাখল। স্পর্শটা শীতল কিন্তু অসম্ভব দৃঢ়। “ইউজি আমার হয়ে কথা বলছে নোবারা। আজ আমরা যেখানে যাচ্ছি, সেখানে আপনার সুরক্ষা আর আমার কাজের সার্থকতা—দুটোই ইউজির ওপর নির্ভর করছে। তাই বিবাদে জড়াবেন না।”
গাড়ি এসে থামল শহরের সীমানা ছাড়িয়ে এক দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। সামনে একটি বিশাল স্টিল ফ্যাক্টরি, যা আপাতদৃষ্টিতে পরিত্যক্ত বলে মনে হয়। কিন্তু ফ্যাক্টরির গেটে দাঁড়িয়ে থাকা কালো পোশাকধারী সশস্ত্র লোকগুলো বলছিল অন্য কথা। জেনিন নামার সাথে সাথে তারা মাথা নত করে দাঁড়িয়ে গেল।
ইউজি জেনিনের একদম গা ঘেঁষে হাঁটছে, যেন সে জেনিনের শরীরের বর্ম। নোবারা তাদের পেছনে হাঁটতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছিল পাথুরে রাস্তায়। জেনিন একবার পেছন ফিরে তাকালো, তার চোখে এক মুহূর্তের জন্য উদ্বেগ ফুটে উঠলেও পরক্ষণেই সে ইউজির দেওয়া একটি ফাইল দেখতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
“বস, বায়াররা ভেতরে আছে। রাশিয়ানরা একটু বেশিই ডিমান্ড করছে,” ইউজি নিচু স্বরে বলল।
“ওদের বলে দাও, জেনিন নূরশাদ দর কষাকষি করে না, সে শুধু দাম ঠিক করে দেয়,” জেনিনের উত্তর ছিল সংক্ষিপ্ত এবং ধারালো।
ফ্যাক্টরির ভেতরে প্রবেশ করতেই নোবারার গায়ের লোম খাড়া হয়ে গেল। সেখানে কোনো মেশিন চলছে না, বরং বড় বড় টেবিলে কিছু জিনিস প্যাকেটজাত করা হচ্ছে। নোবারা বুঝতে পারল না এগুলো কী, কিন্তু পরিবেশটা তাকে বলে দিচ্ছে এখানে যা হচ্ছে তা বৈধ নয়। ইউজি নোবারার অস্বস্তি লক্ষ্য করে একটু হাসল।
“ভয় পাচ্ছেন মিস আকারি? আপনার মতো কর্পোরেট কালচারের মানুষদের জন্য এই ধুলো আর লোহার গন্ধ সহ্য করা কঠিন।”
“আমি ভয় পাচ্ছি না,” নোবারা রুখে দাঁড়ালো। “কিন্তু আমার মনে হচ্ছে স্যার এখানে কোনো ভুল কাজ করছেন। একজন সিইও কেন এমন জায়গায় মিটিং করবেন?”
ইউজি জেনিনের কানে গিয়ে কিছু একটা ফিসফিস করল। জেনিন সাথে সাথে থমকে দাঁড়ালো এবং নোবারার দিকে ফিরল। তার চোখের মণি এখন আগুনের মতো জ্বলছে। সে নোবারার খুব কাছে এসে তার দুই বাহু চেপে ধরল।
“আপনার অনেক প্রশ্ন নোবারা। আমি আপনাকে এখানে এনেছি কারণ আমি চেয়েছিলাম আপনি আমার ক্ষমতার পরিধিটা দেখুন। আপনি যদি এখানে থাকতে চান, তবে প্রশ্ন করা বন্ধ করুন। আর ইউজি যা বলবে, তা বিনা বাক্যে পালন করবেন।”
জেনিন নোবারাকে ছেড়ে দিয়ে ভেতরে একটি কাঁচ ঘেরা রুমে ঢুকে গেল যেখানে কয়েকজন বিদেশি বসে ছিল। ইউজি দরজার মুখে দাঁড়িয়ে নোবারার পথ আগলে ধরল।
“ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। আপনি এখানে দাঁড়িয়ে পাহারা দিন, এটাই আপনার আজকের ডিউটি,” ইউজি বিদ্রূপের সাথে বলল।
নোবারা অপমানে সেখানে দাঁড়িয়ে রইল। সে কাঁচের দেয়ালের ওপার দিয়ে দেখল জেনিন খুব গম্ভীরভাবে কথা বলছে। ইউজি মাঝে মাঝে ভেতরে যাচ্ছে, জেনিনের কানে কিছু বলছে, আবার বাইরে আসছে। তাদের এই বিশেষ রসায়ন নোবারার মনে ঈর্ষার আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছে। সে অনুভব করল, জেনিন তাকে তার জগত থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে রেখেছে।
মিটিং চলাকালীন হঠাৎ বাইরে কিছু গোলমাল শোনা গেল। ইউজি সাথে সাথে তার পকেট থেকে একটি ওয়াকিটকি বের করল। জেনিনও ভেতর থেকে সজাগ হয়ে বাইরে বেরিয়ে এল।
“বস, লোকাল গ্যাংরা খবর পেয়েছে। ওরা ইন্টারফেয়ার করার চেষ্টা করছে,” ইউজি রিভলভার বের করতে করতে বলল।
নোবারা পিস্তল দেখে চিৎকার করে উঠল। “স্যার! আপনার লোকের হাতে অস্ত্র কেন? একি হচ্ছে এসব?”
জেনিন নোবারাকে এক ঝটকায় নিজের পেছনে টেনে নিল। সে রণমূর্তি ধারণ করেছে। “ইউজি, নোবারাকে গাড়িতে নিয়ে যাও। এক্ষুনি!”
“কিন্তু বস, আপনাকে রেখে আমি যাব না!” ইউজি প্রতিবাদ করল।
“এটা আমার অর্ডার ইউজি! ওকে সেফলি ভিলাতে পৌঁছাও। আমি পরিস্থিতি সামলে আসছি,” জেনিন গর্জে উঠল।
ইউজি অনিচ্ছা সত্ত্বেও নোবারার হাত ধরে টানতে লাগল। নোবারা যেতে চাইছিল না, সে জেনিনের জন্য ভয়ে কাঁপছিল। কিন্তু ইউজি তাকে প্রায় জোর করে গাড়িতে নিয়ে এল। জেনিন একা ফ্যাক্টরির ভেতরে রয়ে গেল, তার হাতেও তখন একটি আগ্নেয়াস্ত্র।
গাড়িতে ফেরার পথে নোবারা ফুঁপিয়ে উঠলো। “কে আপনারা?”
ইউজি স্টিয়ারিংয়ে সজোরে চাপ দিল। “আপনি বড্ড দুর্বল নোবারা। জেনিন নূরশাদকে আপনি শুধু একজন দামী স্যুটের সিইও হিসেবে চেনেন। কিন্তু তার যে রূপটা আজ দেখলেন, ওটাই তার আসল পরিচয়। ও এই শহরের সম্রাট। আর আমি সেই সম্রাটের একমাত্র সেনাপতি। আপনি ওর জীবনে একটা মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নন। আজ আপনি জেনিনকে বিপদে ফেলে পালিয়ে আসছেন, আর আমি ওকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে আনতাম যদি আপনি না থাকতেন।”
ইউজির প্রতিটি কথা নোবারার বুকে তীরের মতো বিঁধল। সে বুঝতে পারল জেনিন আর ইউজির সম্পর্কটা কেবল আনুগত্যের নয়, ওটা রক্তের আর বারুদের। নোবারা হিংসে করতে শুরু করল ইউজিকে, তার সাহসের জন্য, জেনিনের প্রতি তার অটুট বিশ্বাসের জন্য। আর ইউজি হিংসে করতে লাগল নোবারাকে, কারণ জেনিন আজ নিজের জীবনের চেয়ে নোবারার নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।
<><><><><><><><><>
নূরশাদ ভিলার রাতগুলো যেন ইদানীং জেনিন নূরশাদের মতোই হয়ে উঠছে, গম্ভীর, রহস্যময় এবং কিছুটা নিষ্ঠুর। কিন্তু আজকের রাতটা অন্যরকম। ড্রয়িংরুমে পিনপতন নীরবতা থাকলেও বাতাসের স্তরে স্তরে যেন বিদ্যুৎ খেলে যাচ্ছে। জেনিন সোফায় হেলান দিয়ে বসে আছে, তার হাতে দামী চামড়ার ফোল্ডারে কিছু গোপন রিপোর্ট। কিছুক্ষণ আগেই ফিরেছে সে, তবে অক্ষত অবস্থায়। তার ঠিক পাশেই ঘাড় বাঁকিয়ে ঝুঁকে আছে উদয় গালিব ওরফে ইউজি। জেনিন যখন কোনো একটা প্যারামিটারে আঙুল রাখছে, ইউজি খুব নিচু স্বরে তার ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
নোবারা সিড়ির রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে দেখছিল দৃশ্যটা। তার পরনের শাড়িটা আজ অবিন্যস্ত, চোখেমুখে একরাশ ক্লান্তি আর তার চেয়েও বড় ‘হিংসে’। হ্যাঁ, আজ সে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছে, সে জ্বলছে। ইউজি নামের এই আপদটা আসার পর থেকে জেনিন তাকে যেন স্রেফ আসবাবপত্রের মতো ব্যবহার করছে। জেনিন কথা বলছে ইউজির সাথে, হাসছে ইউজির সাথে, এমনকি চলাফেরা ও করছে ইউজির সাথে। নোবারার মনে হচ্ছে, জেনিনের জীবনের সেই বিশেষ কক্ষটা, যেখানে কেবল নোবারার প্রবেশাধিকার ছিল, সেখানে আজ ইউজি জাঁকিয়ে বসেছে।
নোবারা আর সহ্য করতে পারল না। সে ধুপধাপ শব্দ করে নিচে নেমে এল। তার পায়ের শব্দে জেনিন মাথা তুলে তাকালো না, কেবল ইউজি একবার আড়চোখে নোবারার দিকে তাকিয়ে একটা বাঁকা হাসি দিল। সেই হাসিতে ছিল বিজয়ের অহংকার।
“স্যার, এই ফাইলগুলো সই করতে হবে,” নোবারা জেনিনের সামনে ফাইলটা প্রায় ছুড়ে মারল।
জেনিন ফাইলটা না খুলেই শান্ত গলায় বলল, “ইউজিকে দিয়ে যান। ও চেক করে আমাকে জানালে আমি সই করব।”
নোবারার শরীরের ভেতর দিয়ে যেন একটা আগুনের স্রোত বয়ে গেল। সে জেনিনের চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, “কেন? ইউজি কি আপনার ব্যক্তিগত রোবট? নাকি আপনি নিজের বিচারবুদ্ধি ওর কাছে বন্ধক দিয়েছেন? আমি আপনার পিএ, আমার আনা ফাইলে কেন ও নাক গলাবে?”
ইউজি খুব ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তার লম্বা অবয়বটা নোবারার ওপর এক ধরণের আধিপত্য বিস্তার করল। “মিস আকারি, নিজের কণ্ঠস্বর নিচু করুন। বস এখন একটা ভাইটাল মিশনে আছেন। বস-এর বিচারবুদ্ধি নিয়ে কথা বলার যোগ্যতা আপনার নেই।”
“আপনি মুখ বন্ধ করুন!” নোবারার চোখ দিয়ে জল বেরিয়ে এল রাগে। “আপনি কে? আপনি আসার আগে ওনি…ওনি এমন ছিলেন না। আপনি ওনাকে বিষিয়ে দিচ্ছেন।”
নোবারা জেনিনের দিকে তাকিয়ে প্রায় আর্তনাদ করল, “আপনি কিছু বলছেন না কেন? আপনি দেখছেন ও আমাকে কীভাবে অপমান করছে? আপনি কি সত্যিই ওকে আমার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন?”
জেনিন এবার ফাইলটা বন্ধ করল। সে খুব ধীরে উঠে দাঁড়ালো। তার দীর্ঘ শরীরটা নোবারার খুব কাছে এসে থামল। জেনিনের চোখে কোনো রাগ নেই, বরং সেখানে এক ধরণের বিচিত্র উজ্জ্বলতা। সে নোবারার চোখের কোণে টলমল করা জলের ফোঁটাটা দেখল। জেনিন মনে মনে প্রচণ্ড আনন্দ পাচ্ছে। সে পসেসিভ জেনিন নূরশাদ, সে চেয়েছিল নোবারা তার জন্য জ্বলুক, নোবারা তাকে নিয়ে হিংসে করুক। আজ নোবারার এই কান্না, এই ক্রোধ জেনিনকে এক অন্যরকম তৃপ্তি দিচ্ছে। সে বুঝতে পারছে, নোবারা তাকে কতটা গভীরভাবে নিজের বলে ভাবতে শুরু করেছে।
জেনিন নূরশাদ তার পাথুরে হৃদয়ের গভীরে আজ এক বিচিত্র কম্পন অনুভব করছে। সে দেখছে নোবারার সেই লাল হয়ে যাওয়া নাক, অবিন্যস্ত চুল আর অপমানে থরথর করে কাঁপা ঠোঁট। নোবারার এই ‘হিংসে’ জেনিনের কাছে কোনো বিরক্তি নয়, বরং এটি তার জীবনের শ্রেষ্ঠতম পুরস্কার। সে চায় নোবারা এভাবেই তাকে আগলে রাখুক, যেন জেনিন নূরশাদ নামের এই বিষাক্ত মানুষটি কেবল নোবারা আকারি নামক এক নারীর একক সম্পত্তি।
ইউজি যখন আবার কিছু একটা বলতে গেল, জেনিন তার ডান হাতটা সামান্য তুলল। কেবল একটি ইশারায় ইউজি স্তব্ধ হয়ে গেল। জেনিনের চোখের মণি এখন আর ফাইলে নেই, তার পুরো অস্তিত্ব এখন নোবারার ওপর নিবদ্ধ।
“ইউজি, আজকের মতো রিপোর্ট এখানেই থাক,” জেনিনের কণ্ঠস্বর এখন অসম্ভব নিচু কিন্তু ধারালো। “তুমি তোমার ঘরে যাও। আমার কিছু ব্যক্তিগত ‘হিসেব’ মেলাতে হবে।”
ইউজি এক মুহূর্ত থমকে গেল। তার চোখে অবিশ্বাসের ছায়া। “কিন্তু বস, পুলিশের মুভমেন্ট নিয়ে আমাদের এখনই ডিসিশন নিতে হবে,,,”
“ইউজি!” জেনিন এবার তার দিকে তাকালো। সেই শীতল চাউনি, যা ইউজিকে মনে করিয়ে দিল জেনিন নূরশাদ কারো আদেশের দাস নয়। “আমি বলেছি যাও। আমি কথা রিপিট করতে পছন্দ করি না।”
ইউজি দাঁতে দাঁত চেপে নোবারার দিকে একবার বিষাক্ত নজরে তাকালো। তারপর মাথা নিচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। যাওয়ার সময় তার বুটের কর্কশ শব্দ জানান দিয়ে গেল সে কতটা ক্ষুব্ধ। কিন্তু জেনিনের তাতে কিছু যায় আসে না।
ড্রয়িংরুমে এখন কেবল জেনিন আর নোবারা। বৃষ্টির শব্দ বাইরে আরও জোরালো হয়েছে। নোবারা তখনো ওভাবেই দাঁড়িয়ে আছে, তার চোখে জল গড়িয়ে পড়ছে। সে যখন দেখল ইউজি চলে গেছে, সে অভিমানে মুখটা ঘুরিয়ে নিল। তার গাল দুটো রাগে আর অভিমানে ফুলে উঠেছে, ঠিক যেন এক অবুঝ বাচ্চা যার প্রিয় খেলনা কেউ কেড়ে নিয়েছে।
জেনিন এক পা দু পা করে নোবারার দিকে এগিয়ে এল। তার প্রতিটি পদক্ষেপে যেন এক অদ্ভুত মায়া। নোবারা বুঝতে পারল জেনিন তার খুব কাছে, সে দ্রুত সরে যেতে চাইল। কিন্তু জেনিন ক্ষিপ্র গতিতে নোবারার পথ আগলে ধরল।
“সরুন আমার সামনে থেকে! আপনার সেই যোগ্য ইউজিকে ডাকুন, আমার মতো তুচ্ছ পিএ-র সাথে সময় নষ্ট করার দরকার নেই আপনার,” নোবারা অন্য দিকে তাকিয়ে ফুঁসে উঠল।
জেনিন কোনো উত্তর দিল না। সে নোবারার খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো, এতই কাছে যে নোবারার শাড়ির আঁচল জেনিনের স্যুটের বোতামে আটকে গেল। নোবারা সেটা ছাড়ানোর চেষ্টা করতেই জেনিন তার হাতটা চেপে ধরল। জেনিনের আঙুলের স্পর্শে নোবারার সারা শরীরে যেন হাজারটা প্রজাপতি ডানা ঝাপটাতে লাগল!
“আপনি কি হিংসে করছেন মিস আকারি?” জেনিন খুব নিচু স্বরে তার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করল। তার তপ্ত নিশ্বাস নোবারার ঘাড়ে আছড়ে পড়ছে।
“আমি? আমি হিংসে করতে যাব কেন? আপনি যা খুশি করুন, যার সাথে খুশি থাকুন, আমার তাতে কী?” নোবারা জেদ করে চোখ বন্ধ করে ফেলল, যদিও তার বুকটা তখন কামারের হাপরের মতো ওঠানামা করছে।
জেনিন হাসল। এক দুর্লভ, নির্মল হাসি। সে নোবারার চিবুকটা ধরে নিজের দিকে ফেরালো। নোবারার চোখের কোণে তখনো অশ্রু লেগে আছে। জেনিন তার বুড়ো আঙুল দিয়ে খুব আলতো করে সেই অশ্রু মুছে দিল।
“আপনার এই গাল ফোলানো মুখটা কিন্তু বড্ড সুন্দর নোবারা। আমি জানতাম না আপনি রাগলে আপনাকে পরীর মতো লাগে!”
“মিথ্যে বলবেন না!” নোবারা জেনিনের বুকটা ধাক্কা দিয়ে সরানোর চেষ্টা করল। “আপনি তো ইউজিকে নিয়ে মজে আছেন। ও যা বলছে তাই সই। আমি তো আপনার কেউ নই।”
জেনিন এবার নোবারার দুই বাহু ধরে তাকে দেয়ালের সাথে হালকা করে চেপে ধরল। তার চোখদুটো এখন গভীর কালো সমুদ্রের মতো। “আপনি হিংসে করছেন দেখে আমার আজ কতটা শান্তি লাগছে জানেন? আমার মনে হচ্ছে আমি সত্যিই আপনার কাছে বিশেষ কেউ।”
নোবারা স্তব্ধ হয়ে জেনিনের চোখের দিকে তাকালো। জেনিনের চোখে আজ কোনো শাসন নেই, কোনো রুক্ষতা নেই। সেখানে আছে এক তীব্র ব্যাকুলতা। নোবারার অভিমান এক মুহূর্তের জন্য শিথিল হলো, কিন্তু পরক্ষণেই ইউজির সেই বাঁকা হাসি তার মনে পড়ল।
“তবে ওকে কেন আমার ওপর খবরদারি করতে দেন? কেন আমাকে সবার সামনে ছোট করেন?” নোবারার গলাটা এবার কান্নায় ভেঙে পড়ল।
জেনিন নোবারার কপালে নিজের কপাল ঠেকাল। “কারণ আমি চেয়েছিলাম আপনি অনুভব করুন যে আমি কারোর হতে পারি না, কিন্তু আমি আপনার হয়ে থাকতে চাই। ইউজি আমার জগতের অংশ, কিন্তু আপনি আমার অস্তিত্বের অংশ।”
জেনিন নোবারার হাতটা নিয়ে নিজের হৃদপিণ্ডের ওপর রাখল। নোবারা অনুভব করল জেনিনের বুকের ভেতরে এক প্রচণ্ড দপদপানি। জেনিন নূরশাদ, যে কিনা পাথর বলে পরিচিত, তার হৃদস্পন্দন আজ এতটা অনিয়ন্ত্রিত!
“শুনতে পাচ্ছেন? এটি কেবল আপনার জন্যই এভাবে শব্দ করে। মিস আকারিড় আপনি হিংসে করলে আমার মনে হয় আমি বেঁচে আছি। আপনি রাগ করলে আমার মনে হয় আমি আপনার কাছে ঋণী। আপনি কি সত্যিই চান আমি ইউজির সাথে বেশি সময় কাটাই?” জেনিন খুব আদুরে গলায় জিজ্ঞেস করল।
নোবারা এবার জেনিনের দিকে তাকালো। তার ফোলা গালটা যেন জেনিনের স্পর্শে আরও একটু লাল হয়ে উঠল। সে খুব নিচু স্বরে বলল, “আমি চাই না অন্য কেউ আপনার এত কাছে আসুক। আপনি যখন ওর কথা শোনেন আর আমাকে ইগনোর করেন, আমার ইচ্ছে করে এই ভিলা জ্বালিয়ে দিতে।”
জেনিন হো হো করে হেসে উঠল। সে নোবারাকে নিজের বুকের সাথে খুব নিবিড়ভাবে জড়িয়ে ধরল। নোবারা প্রথমে বাধা দিতে চাইলেও পরে জেনিনের শরীরের সেই চেনা ওমে নিজেকে সঁপে দিল।
জেনিন তার নাকে নোবারার চুলের সেই বৃষ্টির মতো সুবাস নিল। তার মনে হলো, পুরো মাফিয়া সাম্রাজ্যের চেয়ে এই একটি মুহূর্ত অনেক বেশি দামী।
“ঠিক আছে, আজকের পর ইউজি আপনার অনুমতি ছাড়া আমার কেবিনেও ঢুকবে না। আর আপনাকে অপমান করলে আমি ওর জিভ কেটে নেব, খুশি?” জেনিন রসিকতা করল ঠিকই, কিন্তু তার চোখের চাউনি বলল সে এটা করতেও দ্বিধা করবে না।
নোবারা জেনিনের বুকে একটা হালকা কিল মারল। “আপনি বড্ড খারাপ জেনিন। সারাদিন আমাকে কষ্ট দেন আর রাতে এসে এভাবে মানাতে চান।”
“আমি খারাপই তো নোবারা। তবুও আপনি কি আমাকে ক্ষমা করবেন না?”
জেনিন নোবারার কানের লতিতে ঠোঁট ছোঁয়ালো। নোবারার সারা শরীরে একটা শিহরণ বয়ে গেল। সে জেনিনকে আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরল। ড্রয়িংরুমের সেই গম্ভীর পরিবেশটা এখন এক মায়াবী স্বর্গপুরীতে পরিণত হয়েছে।
হঠাৎ সিঁড়ির ওপরে ইউজির ছায়া দেখা গেল। সে অন্ধকার থেকে সবকিছু দেখছিল। তার হাত দুটো মুষ্টিবদ্ধ হয়ে গেল। সে দেখল জেনিন নূরশাদ, যে কিনা কোনোদিন কোনো নারীর সামনে মাথা নত করেনি, আজ সে নোবারার আঁচলে বন্দী হয়ে আছে। ইউজির ভেতরে এক ভয়ংকর প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে উঠল। সে বুঝতে পারল, নোবারাকে জেনিনের জীবন থেকে সরাতে না পারলে এই সাম্রাজ্য ধ্বংস হয়ে যাবে।
চলবে ইংশাআল্লাহ।।।।।।।।।

