Soulmate_to_Enemy #পর্ব_৩০

0
2

#Soulmate_to_Enemy
#পর্ব_৩০
লেখনীতে: #মিফতাহুল_জান্নাত_জেমিম

ঢাকা ডিবি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুম। দেয়ালজুড়ে টাঙানো পোর্টের ম্যাপ, অস্পষ্ট কিছু সিসিটিভি ফুটেজ আর লাল কালিতে গোল করা ‘Z’ অক্ষরটি তাকে যেন বিদ্রূপ করছে। নানামি জানলার বাইরে তাকিয়ে আছে, তার চোখে রক্তবর্ণ ক্লান্তি। তার এই একাকী লড়াইয়ে সে আজ বড্ড পরিশ্রান্ত।

হঠাৎ ভারী বুটের শব্দে নানামির ধ্যানভঙ্গ হলো। দরজার কপাট খুলে ভেতরে ঢুকলেন কমিশনার। তার পেছনে এক দীর্ঘদেহী নারী। তার পরনে নেভি ব্লু রঙের ট্যাকটিক্যাল জ্যাকেট, চুলগুলো নিখুঁতভাবে উঁচু করে বাঁধা। চোখে এক ধরণের তীক্ষ্ণ শীতলতা, যা যেকোনো অপরাধীর মেরুদণ্ডে শীতল স্রোত বইয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

“মিস্টার জায়দান,” কমিশনারের কণ্ঠে গাম্ভীর্য। “আপনার টিমের ব্যর্থতা আর ‘Z’-কে ধরতে না পারার খেসারত আমাদের পুরো ডিপার্টমেন্ট দিচ্ছে। তাই হেডকোয়ার্টার থেকে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন উইংয়ের চিফকে পাঠানো হয়েছে। মিট কিরারা হাইজেন। আজ থেকে এই কেসের লিড ইনভেস্টিগেটর ও-ই।”

নানামি ঘুরে দাঁড়াল। তার চোখে বিস্ময় আর কিছুটা বিরক্তি। “স্যার, আমি এই কেসটা এতোদিন ধরে ফলো করছি। নতুন কাউকে মাঝপথে ঢুকিয়ে দিলে কাজের শৃঙ্খলা নষ্ট হবে।”

কিরারা এক পা এগিয়ে এল। তার হাতে থাকা একটি কালো ফোল্ডার সে ধপ করে টেবিলের ওপর রাখল। নানামির চোখের দিকে সরাসরি তাকিয়ে সে খুব শান্ত কিন্তু ধারালো গলায় বলল, “আপনি এতোদিন ধরে যা করছেন তাকে ‘ফলো’ করা বলে না, ওটাকে ‘পিছুটান’ বলে। আপনি জেডকে ধরতে চান না, আপনি জেডের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়েছেন। আর এই আসক্তিই তাকে পালানোর সুযোগ দিচ্ছে।”

নানামির চোয়াল শক্ত হয়ে উঠল। “আপনি আমাকে চেনেন না মিস কিরারা। আমার মেথড,”

“আপনার মেথড সেকেলে,” কিরারা তাকে কথা শেষ করতে দিল না। সে ম্যাপের দিকে আঙুল নির্দেশ করল। “জেড কোনো সাধারণ গ্যাংস্টার নয়। সে একটা ইকোসিস্টেম। সে জানে আপনি কখন কোথায় রেইড দেবেন। কারণ আপনার মুভমেন্ট প্রেডিক্টেবল। আমি গত দুই ঘণ্টায় জেডের গত পাঁচ বছরের সব ডেটা অ্যানালাইসিস করেছি। সে যখনই আপনার সামনে পড়েছে, আপনি গুলি চালাতে এক সেকেন্ড দেরি করেছেন। কেন?”

নানামি নিরুত্তর। কিরারার এই সরাসরি আক্রমণ তাকে অপ্রস্তুত করে দিয়েছে। সে কি করে বলবে যে, জেড কে দেখলেই তার আপন কারো কথা মনে পড়ে! যেন জেডের সাথে তার আত্মার সম্পর্ক।‌তাই তো আজও সে এতোবার ব্যর্থ হচ্ছে।

ওদিকে কিরারা টেবিলের ওপর থেকে একটা মার্কার নিয়ে ম্যাপের ওপর দ্রুত কিছু দাগ কাটল।
“জেড কোনো ব্যক্তি নয়, জেড একটা ব্র্যান্ড। সে আমাদের সিস্টেমের লুপহোলগুলো চেনে। আর আপনি তাকে ধরছেন আইনের বই পড়ে। অপরাধীকে ধরতে হলে আপনাকে আইনের বইয়ের বাইরে গিয়ে ভাবতে হবে,”

কিরারা তার ল্যাপটপটি খুলল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল জেডের কিছু এনক্রিপ্টেড শিপমেন্টের রুট।

নানামি কিরারার আত্মবিশ্বাস দেখে অবাক হল। এই মেয়েটি কেবল কঠোর নয়, সে অসম্ভব মেধাবী। তার স্ট্রং পার্সোনালিটি পুরো ঘরটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

“তাহলে আপনার প্ল্যান কী?” নানামি কিছুটা নমনীয় হয়ে জিজ্ঞেস করলেন।

কিরারা জানলার পর্দাটা এক ঝটকায় সরিয়ে দিল। বাইরের দিনের আলোয় তার মুখটা আরও দৃঢ় দেখালো। “আমি ইতিমধ্যে পোর্টের সব প্রাইভেট সিকিউরিটি ডিকমিশন করার অর্ডার দিয়েছি। এবার প্রতিটা কন্টেইনার আমার স্পেশাল ফোর্স চেক করবে।”

কিরারা নানামির খুব কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। তার উচ্চতা নানামির প্রায় সমান। সে খুব নিচু স্বরে বলল, “মিস্টার জায়দান, আমি এখানে আপনার বন্ধুত্ব করতে আসিনি। আমি এসেছি জেড নামের এই অধ্যায়টা চিরতরে বন্ধ করতে। আপনি যদি আমার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারেন, তবে ভালো। আর যদি আপনার আবেগ আপনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে আমি আপনাকেও এই কেস থেকে সরিয়ে দিতে দ্বিধা করব না। ইজ দ্যাট ক্লিয়ার?”

নানামি এক মুহূর্ত কিরারার চোখের দিকে তাকিয়ে রইল। সে বুঝতে পারল, কিরারা কেবল একজন পুলিশ অফিসার নয়, সে এক রণকৌশলী শিকারি। তার মধ্যে কোনো দয়া নেই, কোনো পিছুটান নেই।

“ক্লিয়ার,” নানামি ছোট করে উত্তর দিল।

“গুড,” কিরারা তার টিমের দিকে ফিরল। “সামসু! আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে জেডের সব ডামি একাউন্ট ফ্রিজ করো। আর নানামি সাহেব, আপনি আমাকে জেডের সেই সবচাইতে পুরনো ডেরার লোকেশনগুলো দিন যেখানে সে কোনোদিন ধরা পড়েনি। আমি সেখান থেকেই শুরু করতে চাই।”

বাইরে তখন সন্ধ্যা ঘনিয়ে এসেছে, আর ঢাকার আকাশটা যেন এক বিষণ্ণ ধূসর চাদরে ঢাকা। রুমের ভেতরে এসি নানামি আর কিরারা হাইজেন এক রুদ্ধশ্বাস নীরবতায় মগ্ন। কিরারা তার ল্যাপটপের কি-বোর্ডে দ্রুত আঙুল চালাচ্ছে। তার প্রতিটি ক্লিকে জেনিন নূরশাদ ওরফে ‘জেড’-এর অদৃশ্য সাম্রাজ্যের এক একটি গোপন সুতো বেরিয়ে আসছে, অথচ সেই সুতোর শেষ প্রান্তে থাকা মানুষটির কোনো মুখচ্ছবি নেই।

“দেখুন নানামি,” কিরারা পর্দার দিকে ইশারা করল। “জেড কোনো একক মানুষ নয়, সে একটা ফ্যান্টম। এই যে দেখুন, তার বিগত পাঁচ বছরের ট্রানজেকশনগুলো। সবগুলোই হচ্ছে ‘শেল কোম্পানি’র মাধ্যমে।”

একটু থেমে কিরারার আবার বললো,
“কিন্তু মজার ব্যাপার কী জানেন? এই কোম্পানিগুলোর সার্ভার হোস্ট করা হচ্ছে এমন সব দেশে যেখানে আমাদের সাইবার আইন পৌঁছাতে পারে না। কিন্তু জেড একটা ভুল করেছে।”

নানামি কফির কাপে শেষ চুমুক দিয়ে এগিয়ে এল। তার চোখে এখনো সেই পুরনো সংশয়। “ভুল? জেড ভুল করে, এটা বিশ্বাস করা কঠিন।”

কিরারা মৃদু হাসল, তবে সেই হাসিতে কোনো উষ্ণতা ছিল না। “সবাই ভুল করে। জেডও করেছে। সে তার প্রতিটি শিপমেন্টের জন্য একটি নির্দিষ্ট ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবহার করে। আমি সেই ফ্রিকোয়েন্সিটা ক্র্যাক করেছি। সে মনে করে এটা ইনভিজিবল, কিন্তু আমার টিমের তৈরি নতুন অ্যালগরিদম বলছে, আজ রাত বারোটার পর বুড়িগঙ্গা সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত ডকইয়ার্ডে বড় কিছু একটা নামতে যাচ্ছে। আর এবার সে কোনো ডামি পাঠাবে না। এবার তাকে নিজে থাকতে হবে, কারণ ডিলটা সরাসরি রাশিয়ানদের সাথে।”

নানামি স্থির হয়ে দাঁড়াল। তার মনে পড়ল পোর্টের সেই রাতের কথা। কুয়াশার ভেতর দিয়ে দেখা সেই ছায়াটা। তার ভেতরটা আবার কেঁপে উঠল। সে আজও জানে না ‘জেড’ আসলে কে, কিন্তু তার ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছে এই রহস্যময় মানুষটি তার জীবনের সবচাইতে বড় ধাঁধা।

“আপনি কি নিশ্চিত কিরারা? ডকইয়ার্ডের এলাকাটা খুব বিপদজনক। ওখানে ড্রোন কাজ করে না, আর জেডের স্নাইপাররা সবসময় উঁচুতে পজিশন নিয়ে থাকে,” নানামি সাবধান করল।

কিরারা তার বেল্টের সাথে বাঁধা হলস্টারটি টাইট করে নিল। তার চোখে এখন এক শিকারি নেকড়ের তীক্ষ্ণতা। “আমি জেডের স্নাইপারদের ভয় পাই না নানামি। আমি ভয় পাই আপনার এই দ্বিধাকে। আজ রাতে আমরা কোনো সাধারণ পুলিশ টিম নিয়ে যাব না। আজ আমার সাথে যাবে ‘ব্ল্যাক উইং’ স্কোয়াড। আমরা ডকইয়ার্ডে ঢুকব না, আমরা ডকইয়ার্ডকে চারদিক থেকে সিল করে দেব। জেড যদি পাখিও হয়, তবুও তাকে আজ ডানা ঝাপটাতে হবে আমার খাঁচার ভেতরে।”

***রাত তখন একটা। বুড়িগঙ্গার কালো জল পচা গন্ধ আর নোংরার আস্তরণ নিয়ে ধীরগতিতে বয়ে চলছে। তীরের ডকইয়ার্ডটি কয়েক দশকের পুরনো। ভাঙা জাহাজের কঙ্কালগুলো অন্ধকারের মাঝে কোনো প্রাচীন দানবের হাড়গোড়ের মতো দাঁড়িয়ে আছে। কিরারা তার টিম নিয়ে পজিশন নিয়েছে উত্তর দিকে, আর নানামি দক্ষিণ দিকের ঝোপঝাড়ের আড়ালে।

নানামির কানে ওয়্যারলেসে কিরারার কন্ঠ ভেসে এল, “টিম এ, পজিশন নাও। সাইলেন্স মোড। কেউ আমার অর্ডার ছাড়া ট্রিগার চাপবে না। আমি চাই জেডকে জ্যান্ত ধরতে।”

ঠিক তখনই একটি কালো স্পিডবোটের ইঞ্জিনের মৃদু গুঞ্জন শোনা গেল। কুয়াশা ভেদ করে বোটটি ডকইয়ার্ডের জেটির কাছে এসে ভিড়ল। বোট থেকে চার-পাঁচজন সশস্ত্র লোক নামল। তাদের সবার পরনে কালো কম্ব্যাট ড্রেস। তাদের মাঝখানে একজন, উচ্চতায় দীর্ঘ, ধীরস্থির পায়ে হাঁটছে। তার পরনে কালো ট্রেঞ্চ কোট, মুখে একটি হাই-টেক মাস্ক যা কেবল চোখ দুটো খোলা রেখেছে। তার দুপাশে দুজন বডিগার্ড, যারা প্রতি মুহূর্তে চারপাশ স্ক্যান করছে।

কিরারা ইশারা করল। সাথে সাথে ডকইয়ার্ডের ওপর থেকে চার-পাঁচটি বিশাল ফ্লাডলাইট জ্বলে উঠল। “হ্যান্ডস আপ! পুলিশ! চারিদিক ঘেরাও করা হয়েছে, পালানোর কোনো পথ নেই!”

কিন্তু জেডের রিয়্যাকশন ছিল অবাক করার মতো। সে ভয় পেল না, দৌড়ে পালালো না। সে শান্তভাবে পকেটে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইল। তার বডিগার্ডরা সাথে সাথে পজিশন নিল।

“মিস কিরারা,” জেডের মাস্কের ভেতর থেকে আসা কণ্ঠস্বরটি যান্ত্রিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে বের হয়ে এল, যা শুনলে মনে হয় কোনো রোবট কথা বলছে। “আপনি বেশ বুদ্ধিমান। আমার ফ্রিকোয়েন্সি ক্র্যাক করা সহজ ছিল না। কিন্তু আপনি একটা বড় ভুল করেছেন। আপনি শিকারিকে ধরার জন্য বাঘের খাঁচায় ঢুকে পড়েছেন। আপনার আসার খবর যে আমি আগেই পেয়ে গিয়েছি!”

কিরারা চিৎকার করে বলল, “বাজে কথা বন্ধ করো জেড! হাত ওপরে তোলো!”

জেড একটু মাথা হেলালো। ঠিক সেই মুহূর্তে ডকইয়ার্ডের পেছন থেকে আরও দশ-বারোটি স্পিডবোট ধেয়ে এল। প্রতিটি বোটে ভারী মেশিনগান মাউন্ট করা। তারা পুলিশের পজিশন লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করল। শুরু হলো এক ভয়ংকর যুদ্ধ।

গুলির গর্জনে বুড়িগঙ্গার পাড় প্রকম্পিত হয়ে উঠল। কিরারা অসীম সাহসে কভার থেকে বেরিয়ে গুলি চালাতে শুরু করল। তার প্রতিটি শট ছিল নিখুঁত। সে জেডের দিকে এগোতে চাইল, কিন্তু জেডের বডিগার্ডরা তাকে আড়াল করে রেখেছে।

নানামি অন্যদিকে ব্যস্ত। সে দেখল জেড খুব ধীর পায়ে একটি ছোট কন্টেইনারের আড়ালে চলে যাচ্ছে। নানামি পিছু নিল। সে কন্টেইনারের কোণায় গিয়ে জেডকে লক্ষ্য করে চিৎকার করল, “থামো! আর এক পা-ও নয়!”

জেড থামল। সে নানামির দিকে ঘুরে তাকালো। মাস্কের আড়ালে থাকা ওই চোখ দুটো… নানামির মনে হলো সে এই চোখ দুটো চেনে। এই চোখের গভীরতা, এই স্থিরতা—কোথায় যেন সে দেখেছে। কিন্তু বারুদের ধোঁয়া আর ফ্লাডলাইটের তীব্র আলোয় তার মাথা কাজ করছিল না।

“এসি নানামি,” জেডের কণ্ঠস্বর এবার কিছুটা নিচু। “আপনি অনেক চেষ্টা করেছেন। আপনার এই সততা আমাকে মুগ্ধ করে। কিন্তু আজ আপনার বন্ধু কিরারা আপনাকে বিপদে ফেলে দিয়েছে।”

জেড পকেট থেকে একটি ছোট রিমোট বের করল। “এই পুরো ডকইয়ার্ডে সি-ফোর বিস্ফোরক সেট করা আছে। আমি যদি এই বাটনটি চাপ দিই, তবে আপনার পুরো টিম এই বুড়িগঙ্গার জলে বিলীন হয়ে যাবে। আপনি কি চান আপনার ক্যারিয়ারের শেষ দিনটি এখানে কাটুক?”

নানামি থমকে গেল। হে জানে জেড মিথ্যা বলছে না। এই মানুষটি যা বলে, তা-ই করে। “কেন জেড? কেন তুমি এই অন্ধকারের পথ বেছে নিলে? তুমি তো চাইলে এই মেধা দেশের কাজে লাগাতে পারতে।”

জেড একটু হাসল, মাস্কের নিচে সেই হাসির শব্দ শোনা গেল না। “দেশ? আইন? ওগুলো দুর্বলদের জন্য। আর জেড দুর্বল দের শাসন করে। বিদায় বন্ধু।”

জেড হঠাৎ একটি স্মোক গ্রেনেড ছুড়ে দিল। চারিদিকে ঘন সাদা ধোঁয়ায় ভরে গেল। নানামি কাশতে কাশতে অন্ধের মতো হাতড়াতে লাগল। যখন ধোঁয়া কাটল, জেটির কাছে আর কেউ নেই। কেবল একটি স্পিডবোটের দূরবর্তী শব্দ ভেসে আসছে।

কিরারা দৌড়ে এল নানামির কাছে। তার জ্যাকেট ছিঁড়ে গেছে, গালে সামান্য রক্তের আঁচড়। সে রাগে কাঁপছে। “পালিয়ে গেল! ও আবার পালিয়ে গেল!”

নানামি মাটির দিকে তাকিয়ে রইল। তার মনে এক বিচিত্র অনুভূতি। জেড তাকে ‘বন্ধু’ বলে ডাকল কেন? আর কেনই বা সে নানামিকে মারল না যখন তার কাছে সুযোগ ছিল?

কিরারা মাটির ওপর পড়ে থাকা জেডের সেই স্পিডবোটের একটি লোগো খুঁজে পেল। সে ওটা হাতে নিয়ে দাঁতে দাঁত চিপল। এবার তো জেড এর আর নিস্তার নেই। কিরার জেডকে ধরবেই বলে পণ করলো আজ।

<><><><><><><><><>

নূরশাদ ভিলার দোতলার জানলা দিয়ে তাকালে ঢাকার রাতের আকাশটাকে আজ অদ্ভুত রকম বিষণ্ণ মনে হয়। মেঘগুলো যেন ছিঁড়ে যাওয়া কাপড়ের মতো ঝুলে আছে। জেনিন আজ ডকইয়ার্ডের ভয়ংকর রেইডের পর এখনো ফেরেনি। ভিলার চারপাশটা আজ অস্বাভাবিক নিস্তব্ধ, এমনকি ইউজিও আজ তার রুমে বন্দি। জেনিন তাকে সাথে না নেওয়ায় ইউজির বড় রাগ হয়েছে। এই নীরবতার মাঝে নোবারা আকারি একা তার বিশাল ঘরে পায়চারি করছে। তার হাতে জেনিনের সেই পুরনো ডায়েরিটা, যা সে অনেক আগে জেনিনের গোপন লকার থেকে উদ্ধার করেছিল।

নোবারা জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো। তার মনে আজ স্মৃতির জোয়ার এসেছে। আজ থেকে পনেরো বছর আগেকার কথা, ঢাকার বিখ্যাত সেন্ট জুড হাই স্কুল। যে স্কুলের বারান্দায় তিন বন্ধুর হাসির শব্দে আকাশ কাঁপত। জেনিন, নানামি আর নোবারা।

নোবারা চোখ বন্ধ করল। সে দেখতে পাচ্ছে কিশোর জেনিনকে, যাঁর চোখে ছিল তুমুল জিদ, যার মেজাজ সবসময় থাকতো সপ্তমে! আর নানামি? সে ছিল সবসময় ন্যায়বিচারের প্রতীক। সেন্ট জুডের মাঠে যখনই কোনো ঝগড়া লাগত, নানামি ছিল তার সমাধানকারী। নোবারা ছিল সেই বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু। জেনিন তাকে গোপনে ভালোবাসত, আর নোবারা জানত নানামির সেই নীরব বন্ধুত্বের গভীরতা। কিন্তু সময় কত নিষ্ঠুর!

সেই তিন বন্ধুর একজন আজ দেশের বড় পুলিশ অফিসার, একজন কুখ্যাত মাফিয়া ‘Z’, আর অন্যজন… অন্যজন এক বিশ্বাসঘাতক প্রেমিকা।

নোবারার চোখের কোণ দিয়ে এক ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ল। সে জানত নানামির কাছে গেলে সে বিচার পাবে, কিন্তু জেনিনকে ফিরে পাবে না। পনেরো বছর আগে যখন জেনিন যখন তাদের মাঝ থেকে বিদায় নিয়েছিল, তখন নোবারা বুঝতে পেরেছিল যে জেনিন আর স্বাভাবিক মানুষের মতো হবেনা। সে চেয়েছিল জেনিনকে তার সেই অন্ধকার থেকে টেনে আনতে। কিন্তু সে একাই কি তা পারত? না। সে অপেক্ষা করেছিল। সে অপেক্ষা করেছিল কখন জেনিন আবার তার সামনে আসবে।

কিন্তু যখন জেনিন ফিরে এল, সে আর আগের সেই কিশোর নেই। সে ফিরে এল রক্ত আর বারুদের গন্ধ নিয়ে। নোবারা কেন নানামির সাহায্য নেয়নি? কারণ সে জানত নানামি পুলিশ হিসেবে জেনিনকে মারবে অথবা জেলে দেবে। আর নোবারা চেয়েছিল জেনিনকে বাঁচাতে। সে চেয়েছিল জেনিনকে এই বিষাক্ত জগত থেকে মুক্ত করতে। কিন্তু আজ সে নিজেই এই পাপের সাগরে হাবুডুবু খাচ্ছে। জেনিন তাকে জীবনের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করে, আর সে সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে জেনিনের সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিচ্ছে। এটা কি ভালোবাসা? না কি অপরাধবোধের এক চরম বহিঃপ্রকাশ?

“জেনিন, আমি আপনাকে ঘৃণা করতে এসেছিলাম,” নোবারা ডায়েরির পাতাগুলো ওল্টাতে ওল্টাতে বলল। “আমি এসেছিলাম আপনার বিনাশ দেখতে। কিন্তু আপনার ওই মায়াবী চোখ আর আমার প্রতি ওই সীমাহীন প্রেম আমাকে প্রতি মুহূর্তে পরাজিত করছে।”

হঠাৎ নিচে গাড়ির টায়ারের ঘর্ষণের শব্দ শোনা গেল। নোবারার হৃদস্পন্দন বেড়ে গেল। জেনিন ফিরে এসেছে। সে দ্রুত ডায়েরিটা লুকিয়ে ফেলে নিজেকে সামলে নিল। আয়নায় একবার নিজের মুখটা দেখে নিল সে—চোখের জল মুছে এক চিলতে ম্লান হাসি ফুটিয়ে তুলল।

কয়েক মিনিট পরেই জেনিন ঘরে ঢুকল। তার পরনের সেই কালো ট্রেঞ্চ কোটটি ধুলোয় ধূসরিত, কপালে সামান্য ঘাম। তাকে দেখে মনে হচ্ছে সে এক বিশাল যুদ্ধ জয় করে ফিরেছে। জেনিনের চোখে সেই চিরচেনা ক্লান্তি, কিন্তু নোবারাকে দেখামাত্রই সেই ক্লান্তি যেন কর্পূরের মতো উড়ে গেল। নোবারার বিশ্বাসঘাতকতা করার খবরটাও যেন জেনিন নিজের মস্তিষ্ক থেকে মুছে ফেলেছে!

জেনিনের একটি অদ্ভুত অভ্যাস আছে। সে যতবারই বাইরে থেকে ফিরে আসে, পৃথিবী গোল্লায় যাক বা তার মাথা থেকে রক্ত ঝরুক, সে সবার আগে নোবারাকে জাপটে ধরবে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না। জেনিন ঘরে ঢুকেই নোবারার সামনে গিয়ে দাঁড়ালো। নোবারা কিছু বলার আগেই জেনিন তাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরল। জেনিনের শরীরের সেই নোনা জল আর বারুদের হালকা ঘ্রাণ নোবারার নাকে লাগল। এটিই জেনিনের সেই নীরব ভাষা, সে বলতে চায়, “আমি বেঁচে ফিরেছি শুধু তোমার জন্য।”

জেনিন নোবারার কাঁধে মুখ গুঁজে দিয়ে প্রায় মিনিট পাঁচেক ওভাবেই দাঁড়িয়ে রইল। নোবারা অনুভব করছিল জেনিনের হৃদপিণ্ডের দ্রুত স্পন্দন। জেনিন ধীরে ধীরে নোবারাকে ছাড়ল, তারপর তার কপালে এক দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিল।

“আপনি কি ভয় পেয়েছিলেন নূরা? ঘুমাননি কেন?” জেনিন খুব শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল।

নোবারা মাথা নাড়ল। “আমি সবসময়ই ভয় পাই। আপনার ফেরার প্রতিটা মুহূর্ত আমার কাছে এক একটি শতাব্দীর মতো মনে হয়।”

জেনিন হঠাৎ নিচু হয়ে নোবারাকে কোলে তুলে নিল। নোবারা হালকা চমকে গিয়ে জেনিনের গলা জড়িয়ে ধরল। জেনিন তাকে নিয়ে জানালার কাছে বিশাল ইজি চেয়ারটিতে গিয়ে বসল। নোবারা জেনিনের কোলের ওপর ছোট বাচ্চার মতো গুটিসুটি মেরে শুয়ে রইল। জেনিন তার চুলের ঘ্রাণ নিতে নিতে ফিসফিস করে কিছু উর্দু শায়েরি আবৃত্তি করতে লাগল, যা কেবল তার জন্যই লেখা।

“Mohabbat ki imtihaan na le aye mere humsafar,
Tere bagair guzar jata hai din, par dhalti nahi ye qahar.”

জেনিন নোবারার হাতটা নিজের গালের ওপর চেপে ধরল। তার চোখের মণিগুলোতে আজ এক ধরণের বিষাদমাখা জ্যোতি। সে আবার বলতে লাগল,
“Teri aankhon mein meri duniya basti hai,
Tu ruthe toh meri saansein thamti hain.
Main rahu na rahu, ye zamaana yaad rakhega,
Meri ishq ki dastaan sirf tujhse hi shuru hoti hai.”

নোবারার বুকটা আজ বড় বেশি ভারী হয়ে এল। জেনিনের এই সীমাহীন ভালোবাসা তাকে এক বিচিত্র যন্ত্রণার মুখে দাঁড় করিয়ে দিল। সে কি স্বীকার করবে যে সে জেনিনের প্রতি দিনকে দিন আরো দুর্বল হচ্ছে! সে তার লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছে!

“জেনিন,” নোবারা ফিসফিস করে বলল। “আপনি যদি কোনোদিন জানতে পারেন যে আপনার এই ‘Z’ পরিচয়টা আমার জন্য কষ্টের কারণ, আপনি কি তবে সব ছেড়ে দেবেন?”

জেনিন নোবারার চিবুকটা ধরে মুখটা উপরে তুলল। জেনিনের হাসিটা ছিল ম্লান কিন্তু গভীর।
“হৃদয়িনী, যেদিন আমি বুঝব যে আমার মৃত্যু আপনাকে শান্তি দেবে, সেদিন আমি নিজের হাতেই নিজের শেষ লিখে দেব। কিন্তু যতক্ষণ আমি আছি, আপনাকে পৃথিবীর কোনো আঁচ লাগতে দেব না।”

জেনিন নোবারার কানের কাছে মুখ নিয়ে আলতো করে কামড় দিল, যা নোবারার শরীরে এক শিহরণ তৈরি করল। জেনিনের এই ভালোবাসাটা উগ্র, কিন্তু তাতে এক ধরণের পবিত্রতা আছে। সে নোবারাকে কোল থেকে নামাতে চাইল না। সে আজ সারা রাত এভাবেই তাকে আগলে রাখতে চায়।

নোবারার চোখের জল জেনিনের শার্ট ভিজিয়ে দিল। সে জেনিনের বুকে আরও শক্ত করে মুখ লুকালো।

নোবারার অপরাধবোধ আজ চরমে পৌঁছেছে। সে সেন্ট জুড স্কুলের সেই জেনিনকে দেখতে পাচ্ছে, যে তার জন্য এখনো আগের মতোই পাগলামি করে!

জেনিন নোবারাকে কোলে নিয়েই বিছানায় শুইয়ে দিল। সে নোবারার পাশে শুয়ে তাকে নিজের বাহুবন্দি করে নিল। জেনিনের নিঃশ্বাস এখন শান্ত।

রাত বাড়ল। জেনিন নোবারাকে বুকে আগলে রেখেই শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল, কিন্তু নোবারা অপলক দৃষ্টিতে জেনিনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। চাঁদের আলোয় জেনিনের সেই কঠোর মুখটা এখন বড় বেশি নিষ্পাপ দেখাচ্ছে। বাইরে মেঘের আস্তরণ চিরে চাঁদের আলো জানলা দিয়ে ভেতরে এসে পড়েছে, যা জেনিনের ধারালো চোয়াল আর শান্ত কপালে এক অপার্থিব রূপ দিয়েছে। জেনিন ঘুমিয়ে পড়েছে, নাহ, একে ঘুম বলা চলে না, এ যেন এক দীর্ঘ যুদ্ধের পর ক্লান্ত যোদ্ধার সাময়িক আত্মসমর্পণ। কিন্তু তার একটা হাত তখনও নোবারার কোমরে শক্ত করে জড়িয়ে রাখা, যেন ঘুমের ঘোরেও সে তার জীবনের একমাত্র ধ্রুবতারাটিকে হারাতে চায় না।

নোবারা আলতো করে জেনিনের কপালে অবাধ্য হয়ে পড়ে থাকা একগুচ্ছ চুল সরিয়ে দিল। তার আঙুল কাঁপছে। এই সেই মানুষ, যার এক ইশারায় মস্কো থেকে ঢাকা, আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রতিটি অলিগলি কেঁপে ওঠে। অথচ এখন, এই নির্জনতায়, সে কতটা অসহায়ভাবে নোবারার সান্নিধ্য খুঁজছে।

নোবারার মনে পড়ে গেল সেন্ট জুড স্কুলের দিনগুলোর কথা। তখন জেনিন ছিল একরোখা, অভিমানী এক কিশোর, যে সারাক্ষণ নোবারার আশেপাশে ঘুরঘুর করত। নোবারা হাসলে সে হাসত, নোবারা কাঁদলে সে পুরো স্কুল মাথায় তুলত। সেই জেনিন আর আজকের এই ‘মাফিয়া ডন’ জেনিনের মাঝে ব্যবধান আকাশ-পাতাল, কিন্তু তার ভালোবাসার তীব্রতা আজ এক চুলও কমেনি। বরং তা এখন এক দানবীয় রূপ নিয়েছে, যা নোবারাকে গ্রাস করতে চায়, আগলে রাখতে চায়।

“কেন আপনি আমাকে এত বিশ্বাস করলেন জেনিন?” নোবারা মনে মনে আর্তনাদ করে উঠল। “কেন আপনি আমাকে আপনার জীবনের প্রতিটি অন্ধকার গলির চাবিকাঠি হাতে তুলে দিলেন? আপনি কি জানতেন না, যে হাত আপনি ভালোবেসে ধরেছেন, সেই হাতই আপনার সাম্রাজ্যের ভিত নাড়িয়ে দিতে পারে?”

জেনিন ঘুমের ঘোরেই বিড়বিড় করে উঠল, “নূরা… যাবেন না…”

তার কণ্ঠস্বরে এক অদ্ভুত আর্তি। নোবারার মনে হলো তার হৃদপিণ্ডটা কেউ যেন জ্যান্ত ছিঁড়ে নিচ্ছে। সে জেনিনের গালের ওপর নিজের গাল রাখল। জেনিনের শরীরের তপ্ত উষ্ণতা তাকে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে এই মানুষটা রক্ত-মাংসের, সে কোনো পাথরের তৈরি মূর্তি নয়। তারও কষ্ট হয়, সেও বিশ্বাসঘাতকতায় ভেঙে পড়ে। তবুও সেই তাকে জড়িয়ে ধরেই শান্তির ঘুম যায়!

নোবারার চোখের জল জেনিনের গলার কাছে গড়িয়ে পড়ল। সে ভাবছে, সে কি সত্যিই পারবে উপরমহলের হাতে জেনিনের সব গোপন নথি তুলে দিতে? সে কি পারবে জেনিনকে লোহার গারদের ওপারে পাঠিয়ে দিতে? জেনিন তো খাঁচায় বন্দি থাকার মতো মানুষ নয়। সে তো মুক্ত ঈগল, যে নীল আকাশে রক্তিম আভা ছড়িয়ে উড়তে জানে। তাকে বন্দি করা মানে তাকে তিলে তিলে মেরে ফেলা।

নোবারা জেনিনের বুকের ওপর হাত রেখে তার হৃদস্পন্দন অনুভব করার চেষ্টা করল। ধুকপুক… ধুকপুক…। এই প্রতিটি স্পন্দন যেন নোবারাকে ধিক্কার দিচ্ছে। জেনিন তাকে তার ‘প্রতিচ্ছবি’ বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু প্রতিচ্ছবি কি কখনো আসল মানুষের পিঠে ছুরি মারতে পারে?

হঠাৎ জেনিন চোখ না খুলেই নোবারাকে আরও নিবিড়ভাবে নিজের সাথে চেপে ধরল। তার নাক নোবারার ঘাড়ের খাঁজে ঘষতে ঘষতে খুব নিচু স্বরে ফিসফিস করে বলল, “জেগে আছেন কেন নূরা? রাত অনেক হয়েছে।”

নোবারা চমকে উঠল। জেনিন কি তবে ঘুমায়নি? সে কি সব বুঝতে পারছে? নোবারার এই অন্ত দহন কি জেনিনের জানতে পেরেছে! জেনিনের গলার স্বর আজ অদ্ভুত শান্ত, কিন্তু তাতে এক ধরণের বিষাদ মাখানো।

“আমি ভাবছিলাম…” নোবারা কোনোমতে গলা পরিষ্কার করে বলল। “এই সবকিছুর শেষ কোথায় জেনিন? আমরা কি কোনোদিন সাধারণ মানুষের মতো বৃষ্টিতে ভিজতে পারব না? আমাদের কি সারাজীবন এই রক্তের গন্ধ আর বারুদের ধোঁয়ার মাঝেই কাটাতে হবে?”

জেনিন এবার চোখ খুলল। চাঁদের আলোয় তার চোখের কালো মণি দুটো হিরের মতো জ্বলছে। সে নোবারার কপালে এক দীর্ঘ চুম্বন এঁকে দিয়ে বলল, “শহরটা আমাদের হতে পারে নূরা, কিন্তু শান্তিটা আমাদের কপালে নেই। আমি যখন প্রথমবার হাতে রাইফেল তুলে নিয়েছিলাম, সেদিনই আমি শান্তির সাথে বিচ্ছেদ করে ফেলেছি। এখন আমার শান্তি শুধু আপনার ওই দুজোড়া চোখে। যদি কোনোদিন আপনি চোখ ফিরিয়ে নেন, সেদিনই জেনিন নূরশাদের সব সাম্রাজ্য শ্মশান হয়ে যাবে।”

নোবারা আর কথা বলতে পারল না। সে জেনিনের শার্টের কলার শক্ত করে চেপে ধরে তার বুকে মুখ লুকালো। সে বুঝতে পারছে, এই লড়াইটা আর জেনিন বনাম বিশ্বের নয়, এটা এখন নোবারা বনাম নোবারার লড়াই। একদিকে তার আদর্শ, তার ডিউটি, অন্যদিকে তার কৈশোরের সেই প্রথম প্রেম, যা আজ এক প্রলয়ংকরী ঝড়ের রূপ নিয়েছে।

জেনিনের ভালোবাসা সীমাহীন, কিন্তু নোবারার লড়াইটা তার চেয়েও বেশি কঠিন। একদিকে তার কৈশোরের স্মৃতি, অন্যদিকে তার বর্তমানের অপরাধবোধ, এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে তাদের এই রক্তিম প্রেম।

চলবে ইংশাআল্লাহ।।।।।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here